• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • তিন পদের ব্যঞ্জন 

    Muhammad Sadequzzaman Sharif লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৮ জুন ২০২১ | ৫৯১ বার পঠিত
  • তিন পদের ব্যঞ্জন!
    আব্বা তখন সুস্থ। আম্মা মারা যাওয়ার পরে কোন একটা সময়ে আমি আর আব্বা বাড়িতে একলা। আমি আর আব্বা মিলে রান্না করি। মেজপা তরকারি পাঠায়। আমরা নিজেরা এইটা সেইটা করি। আমার কথা হচ্ছে যে কয়দিন নিজেদের রান্না করে খেতে হয় সেই কয়দিন কোনমতে চালায় দেওয়া। কিন্তু আব্বার মনোভাব অন্য রকম। তিনি কোনোমততে বিশ্বাসী না। তিনি পরিপূরণ খাবার চান। আমি ডাল ভাত রান্না করে আব্বাকে বললাম, ডাল আর ভাত রান্না করছি, ফ্রিজে মেজপার দেওয়া তরকারি আছে, চলব না? আমি ভাবছি আমি এত কষ্ট করে রান্না করছি, তিনি বলবেন চলবে মানে দৌড়াবে! কিন্তু তিনি দেখি কিছু বলছেন না! আমি অবাক হয়ে আকাশ থেকে পড়লাম! উনি আর কী করতে বলছেন আমাকে? জিজ্ঞাস করলাম, দুইজনের তো চলবেই, আর কী করব? আব্বা বললেন একটা ভাজি ভর্তা কিছু হইলে ভাল হইত! আমি বললাম কেন? এইটা দিয়াই তো হব! উনি দেখি মানতেই পারছেন না। উনার একটা ভাজি ভর্তা লাগবেই! বললেন, বেগুন থাকলে বড়া কর, না হলে আলু সিদ্ধ দিয়া ভর্তা কর, তুমি তো ভুল করছ, ভাতের ভিতরেই যদি আলু দিয়া দিতা তাইলে এখন বাড়তি পেরেশানি হইত না আর! আমি বুঝেই উঠতে পারছিলাম না উনি জিদ করে কেন এমন করছেন। বললাম, দুই একদিনের জন্য শুধু তরকারি আর ডাল দিয়া খাওয়া যাব না? আজকের এক বেলা না হয় চলুক, কালকে দুপুরে করবনে কিছু একটা? উনার উত্তর হচ্ছে না, খাওয়া যাবে না! আমি রাগে গজগজ করতে করতে কী জানি করে ছিলাম মনে নাই। উনি তৃপ্তি করে খেয়েছিলেন তা মনে আছে। আমি পরে জিজ্ঞাস করলাম কাহিনী কী? কোনমতে চালায় দিলে কী সমস্যা হত? উনি বললেন তিন পদ ছাড়া খাওয়া হয় না উনার! তিন পদ লাগবেই! আমি যেন অবিশ্বাস্য রূপকথা শুনলাম। উনি তিন পদ ছাড়া খাইতে পারেন না। কোনদিন খান নাই। এইটা আমি বা আমরা কেউ খেয়ালই করি নাই কোনদিন। আম্মা এই ডিপার্টমেন্ট চালাত। তিনি হয়ত জানতেন। আমি হুট করে হয়ে যাওয়া রাঁধুনি কি আর জানতাম এই গভীর রহস্য! পরে মেজপাকে বলার পরে উনি বললেন কয়েক পদ দিয়া খাওয়ার অভ্যাস জানা ছিল কিন্তু তিন পদ না হলে খাওয়াই হবে না এইটা জানা ছিল না!
    আব্বা অসুস্থ হওয়ার পরে বেশ কয়েক মাস আমি আর আব্বা একলা একলা ছিলাম বাড়িতে। কেউ নাই। আব্বা বিছানায় পড়ে আছেন। আমি রান্না করি, খাওয়াই। মেজপার দুই মেয়ে পালটাপালটি করে এসে তরকারি দিয়ে যায়। মেজপার যেহেতু তিন পদের কাহিনী জানা হয়ে গেছে তাই টিফিন বাটিতে করে বেশ কয়েক পদ খাবার হাজির হয়। আমি ভাত রান্না করি, ডাল রান্না করি, সকালের নাস্তা বানাই, রাতের খাবার তৈরি করি। কিন্তু তিন পদ খাওয়া লোকটার ততদিনে খাওয়া কমে গেছে। কোনমতে একটা কিছু দিয়ে অল্প কিছু হলেই খাওয়া শেষ! আমি এবার উনার তিন পদের তথ্য দিয়ে প্যাচ দিলাম। বললাম, না, তিন পদ দিয়া খাওয়া ছাড়া খাওয়া হয় নাকি? উনি হাসেন। বলেন, হ হ, এখন কত কথা বলবা! রোজি খাবার পাঠাইছে বুঝি? আমি বলছি না, এগুলা বলে কাজ হব না। খাবার কই থেকে আসছে তা এখানে বিচার্য না, আপনে তিন পদ ছাড়া খান না, এইটা আপনেই বলছেন আমাকে, এখন তিনটা পদ দিয়াই খাইতে হব। উনি মানলে তো! বহুত খাইছি জীবনে বুঝছ! এখন রেজেকে যা আছে তাই খাইতে হব! বলেই পাকিস্তান থাকা কালে কোথায় কী খাইছেন, ঢাকা বিমান বাহিনীর পার্টিতে কবে কী খাইছেন, আম্মার কোন রান্নাটা দারুণ হইত, কোনটা মুখে লেগে রইছে এখনো এই সব আলাপে চলে যেতেন। আমি বুঝতাম আজকের মত আর খাওয়া হল না উনার।
    আমের মৌসুমে আব্বা আম খাওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকত। আম খাওয়ানো হত। উনি ভাল আমের একটা সংজ্ঞা দিতেন। যে আম দুধে দিলে দুধ জমে না ওইটা ভাল আম! অনেকবার শুনছি উনার মুখে এই তত্ত্ব। একদিন আমি বললাম, এইটা ভুল কথা আব্বা! উনি আকাশ থেকে পড়লেন, ভুল? ক্যামনে? আমি বললাম আপনাদের সময়ে হয়ত এই এক যুক্তি দিয়াই ভাল খারাপ বুঝে যেতেন কিন্তু এখন তেমন বুঝার সুযোগ নাই। আম ঠিক মত পরিপক্ব হয় নাই, জোর করে পাকায়া আম বিক্রি করে এখন। কামড় দিলে আঁটিতে দাঁত বসে যায়, খেতে পানসে লাগে। এই আম নিশ্চয়ই দুধে দিলে দুধ জমে যাবে না, কিন্তু এই আম কে কোনমতেই ভাল আম বলা যাবে? উনি চুপ করে থেকে চিন্তা করে বললেন আসলেই ঠিক কথা এইটা। আম ব্যবসায়ীদের উর্বর মস্তিকের কারণে আমরা এখন যে ধরনের আম খেয়ে বোকা হয়ে যাই উনারা হয়ত তেমন হতেন না। তখন টক আম আর মিষ্টি আম এই দুই ধরন ছিল হয়ত, তাই উনার এই ধারনা হয়েছিল। এখন টক মিষ্টির ছাড়া আরও হরেক রকমের স্বাদের আম পাওয়া যায় বাজারে। আম খাওয়ানো গেলেও মুশকিল হত কাঁঠাল নিয়ে। উনি কাঁঠালেরও খুব ভক্ত। এদিকে গরমে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এই গরমের মধ্যে কাঁঠাল খাওয়ালে কী থেকে কী হবে কে জানে! বললাম, আব্বা কাঁঠাল খাওয়া যাব না, যে গরম পড়ছে, এই গরমে কাঁঠাল খাইলে খবর আছে। আব্বা পাস ফিরে শুইতে শুইতে বললেন, হ, তোমার জন্য তাইলে শীতের দিনে কাঁঠাল ধরতে হব গাছে! তখন আইন্না দিও, খামুনে! আমি বেক্কল হয়ে গেলাম!
    আব্বাকে নিয়ে একলা থাকার সময়টা আব্বা অসুস্থ হয়ে থাকার পুরো তিন বছর দশ মাস সময়ের মধ্যে অন্যতম সেরা সময় ছিল আমার। বারান্দায় বসায় দিতাম। উনি নানান দিক নির্দেশনা দিতেন আমাকে, ওই গাছের গোরায় একটু পানি দেও, এইখানে একটু পানি দেও, পাখিরা খাবে, গোসল করবে! আমি বলতাম, আল্লার দুনিয়ায় পাখির গোসলের জায়গার অভাব? আমি এইখানে পানি না দিলে গোসল হব না পাখির? উনি বলতেন হব, তবে তাতে তোমার কোন অবদান থাকব না, এই যা! আমি পানি দিতাম। আরেকদিন মাটির নিচে কি জানি একটা মাথা উঁচু করে রয়েছে, ওইটা উনার চোখে পড়ছে। ওইটা কী? আমি কী জানি ওইটা কী? বললাম আমি। কিন্তু কাজ হল না, ওইটা তুলে আনো! হুকুম হয়ে গেছে, তুলে না এনে গতি নাই। তুলে আনলাম, কী জানি একটা আবর্জনা জাতীয় কিছু ছিল। উনি হতাশ হয়ে বললেন, ধুর! আমি ভাবছি অন্য কিছু! লেবু গাছটা মরে গেল কেন এই চিন্তা সম্ভবত মারা যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত করে গেছেন। কেউ না বলে চুরি করে লেবু নিছে বুঝছ? এই জন্য লেবু ধরা বন্ধ হয়ে গেছে! আমি এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিলাম। চুরি করলে লেবু গাছ মাইন্ড করে নাকি? উনি হা হা করে হাসি দিয়ে বললেন, তুমি বুঝবা এগুলা, দেও, পিঠটা একটু চুলকায় দেও!


    একলা থাকার সময়ে একদিন একটা দুঃসাহসিক কাজ করে ফেলছিলাম। আব্বাকে একা একা গোসল করাই ছিলাম। প্যারালাইসড রোগীকে একলা একলা গোসল করানো অকল্পনীয় একটা কাজ। আমি কী মনে করে বাথরুমে নিয়ে দিলাম পানি ঢেলে। সাবান দিয়ে আবার পানি দিয়ে গোসল শেষ করালাম। এবার কাপড় পরিবর্তন। এগুলাও সমস্যা নাই, দুই একজন মিলে যখন গোসল করাইছি তখনো কাপড় পরিবর্তনের কাজ আমিই করতাম। বাথরুম থেকে তুলে এনে হুইল চেয়ারে বসাতামও আমিই। কাজেই কোন সমস্যা হল না, উনাকে নিয়ে আবার বিছানায় শুয়ে দিয়া বুঝলাম কী কাজ করছি একটা! বললাম, আব্বা, এইটা কি ঠিক হল? আব্বা অবাক, ঠিক হব না কেন? বললাম যদি কোন বিপদ হইত, পা পিছলা যেতে পারত, আপনেরে নিয়া আমি সহ পরে গেলে কী একটা কেলেঙ্কারি হইত বুঝতেছেন? আব্বা উনার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে বললেন, কিছু হইছে? হয় নাই তো! অযথা ওই চিন্তা করে মাথা গরম করছ কেন? গরমের মধ্যে গোসল করে আরাম হইছে আমার, এইটা চিন্তা কর!
     
    সকালে মাঝে মধ্যে ফুফু আসত। আব্বা আর আমার নাস্তা বানায় দিত। আব্বা বলত, জয়নবরে বল যে ও যেন আমাদের সাথে নাস্তা করে। আমি বলতাম, ফুফু, আব্বা আপনেরে নাস্তা করতে বলছে। উনি করতে চাইতেন না। আব্বা কান খাঁড়া করে শুনতেন যে ফুফু না করছে। দিতেন তখন একটা ধমক, তোরে আমি কইছি নাস্তা করতে, তুই নাস্তা করবি, তুই শরীফরে আবার কী কস! কেস ডিসমিস! এই ধমক খাওয়ার পরে নাস্তা করে না এমন কে আছে তখন? প্রাচীনপন্থী আব্বা মানুষকে খাওয়াতে পছন্দ করতেন। কেউ আসছে, আর কিছু খাবে না এ হতেই পারে না। এখন বাড়িতে মানুষ দুইজন, একজন বিছানায় পড়ে রইছেন, যারা আসছেন তারা রোগী দেখার জন্যই আসছেন, আমার দুর্দশা দেখার জন্য আসছেন। এখন তাদের যদি আমার চা বানায় খাওয়াতে হয় তাইলে আরেক বিপদ না? যারা আসত তারা বুঝত। কিন্তু আব্বা নির্বিকার, শরীফ চা বানাও, ওদের চা দাও! আরে! সময় নাই অসময় নাই চা বানায় খাওয়াব মানুষকে? হ, বানাও চা! কেউ কেউ আমার পেরাশানি বুঝে আরে না, আমরা চলে যাচ্ছি এখনই, চা বানাতে হব না তোমার বলে উঠে পড়ত। আমি মনে মনে খুশি হইতাম। পরে আব্বাকে ধরতাম, বলতাম, আব্বা, এইটা কোন কথা হইল? সবাইকে যখন তখন চা বানায় খাওয়াইতে হব? আব্বা আমার সমস্যা বুঝলেন। বুঝে বললেন, এক কাজ কর, ফ্লাক্সে চা বানায় রাখ। মানুষজন আসবেই, তুমি খালি ফ্লাক্স থেকে চা কাপে দিবা, পারবা না? চা তবু খাওয়াইতেই হব! আমি দুই একদিন পরে আব্বাকে বললাম, আব্বা, চা বন্ধ। রোগী দেখতে এসে কেউ চা খায় না। রোগী দেখতে আসবে, রোগী দেখবে, দেখে চলে যাবে। কোন চা আপ্যায়ন নাই। আব্বার কথা উল্টো, বলেন, আরে, শহীদের শ্বশুর শাশুড়ি আসছে তাদের আর কিছু না হোক চা দিবা না? আমি বললাম না, দিব না। উনারা জেনেই আসছেন যে বাড়িতে কী পরিস্থিতি, এই সময়ে উনাদের চাপ্যায়ন না করলে উনারা কিচ্ছু মনে করবে না, আর মনে করলেও কিছু করার নাই। আমরা ঠিক স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নাই এখন, এইটা সবাইকে বুঝতে হবে। সবাই বুঝত, কিন্তু যাকে বুঝাইতে বলতাম কথা গুলো তিনিই বুঝতেন না। আবার কেউ আসলেই শরীফ চা দেও উনাদের! বলে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেন! একটু কী মিটিমিটি হাসিও দিতেন?
    খাওয়া দাওয়া খুব কমে গেল উনার। আমি সকালে নুডুলস, পাস্তা বানাই, দুইজনে মিলে খাই। আব্বা আর আমার এই দিক দিয়ে দারুণ মিল। দুইজনেরই দিনের পর দিন এই সব খেয়ে পার করতে কোনদিন কোন সমস্যা হয়নি। দুপুরে অল্প একটু ভাত, একটু তরকারি, ব্যস। রাতে আবার হয়ত নুডুলস বা দুধে ভিজিয়ে অটস।আরেকটা খাবার আমাদের দুইজনের খুব পছন্দ,। পাউরুটি দিয়ে ফ্রেঞ্চ টোস্ট! আমিই বানাতাম। দিলেই চোখের তারায় খুশি ঝিলিক দিয়ে উঠত উনার। যখন দেওয়া যাবে তখনই চলবে। রাতের খাবার কতদিন এই জিনিস দিয়ে পার করে দিছি! দিলেই ঝামেলা শেষ! মজা করে খেয়ে নিতেন তিনি। কিন্তু ঝামেলা ছিল অন্য জায়গায়। চা খাইতে হবে এবং এইটা নিয়ে কোন কথা বলাও যাবে না। অসুস্থ মানুষ, তাই আমি রাত জাগতাম। কখন কী দরকার পরে তাই জেগে থাকতাম। উনি ডাক দিলেন আর আমি ঘুমের কারণে যদি না শুনি তাহলে কী হবে? এই চিন্তা থেকে আব্বা অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই আমি রাত জাগা শুরু করি। আড়াইটা তিনটার দিকে ঘুমাতে যেতাম। কিন্তু এতে ভবি ভুলবার নয়, তিনি সাড়ে সাতটার মধ্যে ডাকাডাকি শুরু করে দিতেন। চা দিতে হবে উনাকে! এইটাও অভ্যাস হয়ে গেল আমার। চা দিয়ে আবার চোখ বন্ধ করতাম একটু। এরপর উঠে সকালের নাস্তার আয়োজন। বিকালে আবার চা। মাঝে দুপুরে বায়না করা শুরু করল চায়ের জন্য, আমি কঠোর হস্তে দমন করে ছিলাম সেই আবদার। সন্ধ্যার পরে আর চা দেওয়া হবে না এইটা উনি মেনে নিতেই পারতেন না। আব্বা মারা যাওয়ার আগেরদিন, শরীর খুব দুর্বল, বসে থাকতে পারছেন না। আমি উনাকে বসিয়ে পিছনে বসেছি, আমার বুকে উনার পিঠ রেখে ধরে রেখেছি। কেন? উনি চা খাবেন একটু। কিন্তু সেই চাও খেতে পারছিলেন না। উনার মুখে তীব্র কষ্টের অভিব্যক্তি ফুটে উঠছে, শরীফ, চা খাইতে পারছি আমি...
     
    আমি এই সব মাথায় নিয়ে ঘুরি এখন। এখন কেউ চা খেতে দিলে মনে পরে, কেউ চা না সাধলে মনে পরে, অসময়ে চা খেতে খেতে মনে পরে, কেউ দুই পদ দিয়ে খেতে দিলে মনে পরে, কেউ কয়েক পদ দিয়ে খেতে দিলে মনে পরে, মিষ্টি আম খেতে মনে পরে, পানসে আম খেতে মনে পরে, অল্প একটু পানিতে পাখিকে গোসল করতে দেখলে মনে পরে, ভাল খাবার খেলে মনে পরে, দই মিষ্টি খেলে মনে পরে, সফট ড্রিংক্স খেতে খেতে মনে পরে, মনে পরে বৃষ্টি হলে, মনে পরে প্রচণ্ড গরমে, তীব্র শীতে। মানুষটা নাই হয়ে গেছে, কথা গুলো শুধু মনে পরে, অবাক হয়ে আরে কউ কী! এইটা তো জানতাম না বলাটা মনে পরে, ফোকলা হাসিটা মনে পরে, হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে পানি বের করে ফেলাটা মনে পরে। আমি এখন এগুলা মাথায় নিয়ে ঘুরি...
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৮ জুন ২০২১ | ৫৯১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | 2601:84:4600:5410:39ca:d359:dbef:432a | ০৮ জুন ২০২১ ২৩:৩৫494758
  • আব্বার ওপর ভালবাসা, লেখার প্রতি ছত্রে 


    আমার বাবা-ও বিছানায় পড়ে ছিলেন শেষ কয়েক বছর। আমি বিদেশে, কিছুই করি নি তার জন্য, অল্প ওষুধ, প্রেসার ম্যাট্রেস - এ সব পাঠানো ছাড়া। দাদা করেছে, সে বাবার সাথে ছিল। 


    প্রায় ৩০ বছর হয়ে গেল, বাবা মারা গেছেন। দেশে ফিরে না যাওয়ার, তার সাথে সময় না কাটানোর কষ্ট এখনো কুরে খায় 


    ভাল থাকবেন, শরীফ ভাই। 

  • kk | 97.91.195.43 | ০৮ জুন ২০২১ ২৩:৪৬494760
  • ভালো লাগলো আপনার লেখা। বিশেষ করে শেষ পরিচ্ছেদটা খুবই ভালো লাগলো। আমিও এখন এগুলা মাথায় নিয়ে ঘুরি।

  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ০৯ জুন ২০২১ ০০:৪২494762
  • @aranya , মন খারাপ করবেন না। আসলে একেকজনের একেক রকমের প্রেক্ষাপট। আমি নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ ছিলাম। সংসারে ঢুকি নাই, এমন কী একটা প্রেম পর্যন্ত করি নাই। তাই আমি একেবারে ঝাড়া হাত পা ছিলাম। কারো কাছে আমার কোন দায়বদ্ধতা ছিল না। তাই আমি অমন করে পারছি। আমি বই পড়ে, সিনেমা দেখে দিন পার করে দিতে পারি, দিনের পর দিন ঘরের বাহিরে না গিয়ে থাকতে পারি। এগুলা আমাকে সাহায্য করছে। আমি বলতাম এই দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেই আমি হয়ত এমন করে বড় হয়েছি। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে এখন। সব তো শেষ।কিন্তু এখনো তো আমার ওই অভ্যাস রয়ে গেছে। যা একসময় গুণ বলে মনে করতাম তা এখন আমার জন্য বড় দোষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনমতেই কোন কাজকামে ঢুকতে পারছি না। আমার দ্বারা কোনদিন আর কোন কাজ হবে কিনা তাও জানি না। একটা কিছু তো হবেই তবে অনেক কিছু হওয়ার ছিল তা আর বোধ হয় হবে না। আমি যাকে আমার জীবনের এক মাত্র লক্ষ্য মনে করেছিলাম সেই কাজ আমার ফুরিয়ে গেছে। এখন বুঝতেছি এর বাহিরে জীবন রয়েছে, আমি যার জন্য এখন আর প্রস্তুত না। যাই হোক, যেটা বলছিলাম, যার যার পথ আলাদা। তাই কষ্ট পাওয়া কিছু নাই। অপ্রাসঙ্গিক আলাপ করে ফেলছি সম্ভবত! 

  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ০৯ জুন ২০২১ ০০:৪৪494763
  • @kk,  ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল। ভাল থাকবেন। 

  • aranya | 2601:84:4600:5410:8aa:6ee9:caca:fda5 | ০৯ জুন ২০২১ ০২:৩৬494768
  • শরীফ, আপনার আব্বা চলে গেলেন, খুব বেশি দিন তো হয় নি। কিছু কাজ আপনি নিশ্চয়ই করবেন, নিজের জন্য, অন্যের জন্যও


    বাবা পারকিনসন ডিজিজে ভুগছেন, আমার দু-তিন বছর বয়স থেকেই। বিছানায় পড়লেন, আমি তখন আমেরিকায় কলেজে, দাদা ডাক্তার, বাবার দেখাশুনো করবে বলে বিদেশ গেল না, কলকাতায়ও নয়, ছোটবেলার মফস্বল শহরেই প্র‌্যাকটিস শুরু করল - ওর সাথে আপনার মিল পাই , বাবার জন্য ভালবাসা, কর্তব্যের দিক থেকে 


    বাবা যেহেতু ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ, শয্যাশায়ী হলেও ৬৩ বছর বয়সে হঠাৎ মারা যাবেন, বুঝতে পারি নি। অনেকটা সেই দস্যু মোহনের মত  ব্যাপার, 'কোথা হইতে কী হইয়া গেল'। 


    যাচ্ছি, যাব করে আমার আর দেশে ফেরা হল না 

  • Ranjan Roy | ১০ জুন ২০২১ ১৬:০৫494805
  • ভালবাসার  এবং স্মৃতিমেদুরতার গল্প। আমাদের সকলের মধ্যেই এমন কিছু একান্ত ব্যক্তিগত কষ্টের গল্প জমে আছে। হয়ত কখনও লিখব, হয়ত। সবার গল্প আলাদা, শরীফভাইয়ের একেবারে আলাদা। তবু, কোথাও একটা কমন যোগসূত্র আছে।


    ভালো থাকবেন শরীফ ভাই।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন