• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • "বিষাদবৃক্ষ" : এক বিষাদ পাখির স্মৃতিকথন

    Nahar Trina
    বিভাগ : আলোচনা | ১৩ মে ২০২০ | ১৯৩ বার পঠিত
  • "ভাগ হলো মাটি, ভাগ হলো জল
    ভাগ হলো ছেঁড়া কাঁথা কম্বল,
    ভাগ হয়ে গেলো মানুষের মাথা
    কান্নার ধ্বণি চির স্তব্ধতা।
    আরতির শাঁখে আযানের টান,
    সাত নাড়ি ছিঁড়ে উঠে আসা গান
    ভাগ হলো।"

    ক্ষমতা লিপ্সু রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতায় আসীন হবার তাড়াহুড়োয় রেডক্লিফের কলমের ধারে কাটা পড়লো ভারতবর্ষ। রাতারাতি পালটে গেল কোটি মানুষের ভাগ্যরেখা। দেশের স্বাধীনতার নামে পরাধীন মানবিকতার এমন নজির মানব ইতিহাসে খুবই বিরল! এই বিপন্ন পরিস্থিতির ফাঁদে আটকে পড়া মানুষের হতাশা, ক্ষোভ কিংবা ভেসে যাওয়ার কাহিনির প্রতি ক্ষমতার রাজনীতিতে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা মানুষদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকার কথা নয়। ধর্ম আর মানুষই যাদের ক্ষমতা হাসিলের দাবার ঘুটি, তাদের কাছে এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনার কথা উপেক্ষিত থাকারই কথা। বাস্তবে হয়েছিলও তাই। ১৭ আগস্ট ১৯৪৭, ভারত-পাকিস্তান বাউণ্ডারি কমিশনের চেয়ারম্যান সিরিল রেডক্লিফ(Cyril Radcliffe) সীমানা নির্ধারণ রেখা(রেডক্লিফ লাইন) প্রকাশের আগেই তড়িঘড়ি ভারত ছাড়েন। যাবার আগে তার সৎ ছেলের উদ্দেশ্যে এক চিঠিতে বলেন, "আট কোটি অসন্তুষ্ট মানুষ আমার সন্ধান করবে। আমি চাইনা তারা আমাকে খুজে পাক”(সূত্রঃ তের মাসের সূর্যকিরণ/লেখকঃ আজিজুল জলিল)। রেডক্লিফের নকশা অনুযায়ী দেশ ভাগ হলেও তাঁকে কতটা দায়ী করা যৌক্তিক আমরা নিশ্চিত নই। কেননা ১৭৫,০০০ বর্গমাইলের বিশাল একটা দেশকে ভাগ করার জন্য যথেষ্ট উপকরণ সরবরাহ না করে, তাকে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল মাত্র ৫ সপ্তাহ। ভূমিকে দু'টুকরো করে ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয় নেহেরু ও জিন্নাহর নেতৃত্বে। যে নেতৃত্ব ক্ষমতায় গিয়ে রাতারাতি উদ্বাস্তু হয়ে পড়া এসব সাধারণ মানুষের কথা মনে রাখার বিষয়ে না দেখিয়েছেন সততা, না সহমর্মিতা।

    'পাকিস্তান কায়েম করার সময় ..নিম্নবিত্ত নিম্নবর্গ তথা নিম্নবর্ণের মানুষদের সমর্থনের জন্য মুসলিমলীগ এক অভিন্ন স্বার্থের কথা বলেছিল। লাঙ্গল যার জমি তার এমন 'নারা' লাগিয়েছিল,' যা পরবর্তীতে বিস্মৃতির খপ্পরে চলে যায়। কোনো পক্ষের নেতারা বিশেষত মুসলিগপন্থীরা " This land is your land/This land is my land/ This land was made for you and me/You got to believe that." এমন উক্তিকে কাজে প্রতিষ্ঠা করে দেখাতে পারেননি। বলাই বাহুল্য দেশভাগের কুফল ভোগ করতে হয় অন্তত কোটিখানেক সাধারণ মানুষকে।

    নিজের সাতপুরুষের ভিটেবাড়ি আর জন্মস্থানচ্যুতির সেই নির্মম ইতিহাস নিয়ে যেসব কাহিনি লেখা হয়েছে তার মধ্যে মিহির সেনগুপ্তের "বিষাদবৃক্ষ" যেন কিছুটা আলাদা। "আমাদের সাহিত্য এবং সমাজবিজ্ঞান এমন একখানা গ্রন্থের জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিল"- বইয়ের ফ্ল্যাপে উদ্ধৃত এই কথাগুলোকে শুরুতে অত্যুক্তি মনে হবে হয়ত। কিন্তু বইটি পড়া শেষে পাঠক অনুভব করবেন কথাটা মর্মে মর্মে কতটাই সত্যি। যদিও ছক মেনে গুছিয়ে লেখক তাঁর চিন্তাভাবনা গুলোকে ধারাবাহিকভাবে হয়ত লিখেননি। পরের কথা আগে, আগের কথা পরে এসে গেছে। তবে এতে করে লেখার সাবলীলতা খুব একটা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে হয়নি। অবশ্য লেখক নিজেও সেকথা স্বীকার করেছেন অকপটে। "পুরোনো কথা বলার এই মুশকিল, কথা ক্রমবিন্যাসে আসে না।" পুনারাবৃত্তিও হয়ত এই বইয়ের সামান্য একটি ত্রুটি, তবে বইটির গুরুত্ব বিবেচনায় এনে পাঠক চাইলেই তা আগ্রাহ্য করতে পারেন।

    “বিষাদবৃক্ষ” মূলতঃ আত্মজৈবনিক লেখা। মিহির সেনগুপ্ত যাকে 'কালচারাল এনথ্রোপলজি বলার চেষ্টা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বইটির পরিসর ১৯৫১/৫২ থেকে ১৯৬১/৬২ দশ বছর সময়কালে বিস্তৃত। শুরুতেই লেখক তাঁর জন্মস্হান বরিশালের ঝালকাঠির কেওড়া গ্রামের প্রান্ত বেয়ে বয়ে চলা খালটির সাথে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেন। যাকে সেসময় স্হানীয় ভাষায় 'পিছারার খাল' নামে অভিহিত করা হতো। সেই পিছারার খাল দিয়ে দক্ষিণের মহাল থেকে আগত নৌকা এবং তার মাধ্যমে আনা সামগ্রীর বর্ণনায় জানা যায় মিহির ছিলেন সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী পরিবারের সন্তান। যে পরিবারের আভিজাত্য ছিল তৎকালীন আর দশটা ভূস্বামী পরিবারের আদল মাফিক আড়ম্বরপূর্ণ। লেখকের ভাষায়, "বাড়ির আভিজাত্য তখন তিনতলার ছাদ ছাড়িয়েও প্রায় বারো হাত উঁচু্।"

    পিছারার খালের উপর দিয়ে সময় গড়িয়ে যাবার সাথে সাথে চারপাশে ঘটে যেতে থাকে নানান সামাজিক উত্থান পতনের ঘটনা। যার নীরব সাক্ষী খাল পাড়ের জোড়া রেইনট্রি। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের জটিলতা আজীবন পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বসবাস করা মানুষগুলোর বুকে কুটিলতার জন্ম দেয়। যার পরিণতিতে নগেন মশাইয়ের অবাধ উঠানে শৈশবের হাডুডু খেলার লোনতা ১, লোনতা ২ এর ডাকে সাড়া দেবার মুখগুলো ক্রমশঃ কমে যেতে থাকে। বলা হতে থাকে পাকিস্তান মুসলমানদের দেশ, হিন্দুদের জন্য হিন্দস্তান!

    ৫০ এর দাঙ্গা বরিশালে খুব বেশী প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও পরবর্তীতে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে হিন্দু সম্পত্তি দখল, সরাসরি হত্যায় না গিয়ে মেয়েদের সম্মানহানি সহ নানান বিভীষিকা ছড়িয়ে হিন্দুদের সম্পত্তি সস্তায় কিনে তাদের দেশ ছাড়া করার যে পরোক্ষ অজাচার শুরু হয়, তার ভয়ে সম্পদের ভার মুসলমান তালুকদারদের হাতে গচ্ছিত রেখে রাতারাতি ভারত পাড়ি দেয়া বক্সিবাবুদের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকার মুখেও মিহিরের পরিবার সহ আরো কিছু পরিবার জন্মভূমির মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। মিহিরের বুড়ি পিসিমায়ের দেখা 'সপপন্' যেন তাদের তখনো আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছিল, "...হিন্দুস্তান পাকিস্তান বেয়াক ভাগাভাগি মিডইয়া গেছে। বেয়াক কিছুই আবার আগের ল্যাহান। গোলায় ধান, পুহইরে মাছ, গাছে ফলফলাদি..."

    এদিকে কোনো রকম পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না রেখে মধ্যস্বত্ব প্রথার বিলোপ, পরিবারের কর্তাদের বিশেষতঃ মিহিরের বাবার সংসার বিষয়ে নিদারুণ উদাসীনতা, জ্যাঠামশাইয়ের শঠতা ইত্যাদির সম্মিলিত আঘাতে মিহিরের পরিবারে নেমে আসে অশেষ দুর্গতি। যার বর্ণনা দিচ্ছেন লেখক এভাবে, "সামন্ত বিক্রমের নাভিশ্বাসের কারণে তাঁদের(পরিবারের কর্তাগণ) রুচিরও বিকৃতি ঘটতে শুরু করেছে। বাড়ির ছেলেমেয়েদের কোনও ব্যাপারেই তাঁদের চিন্তা ভাবনা নেই। শিক্ষা তো দূরস্থান। তাঁদের দুটো জিনিসই তখন আছে। একটি অতি প্রাচীন ধ্বংসোন্মুখ অট্টালিকা এবং সেই অট্টালিকার প্রতিটি ইটের খাঁজে সাজানো এক কিংবদন্তির আভিজাত্য। কত কঠিনভাবেই না সেই সময় আমরা এই মিথ্যে আভিজাত্যের মূল্য দিয়েছি, সে ইতিহাস বর্ণনা দুরুহ।"

    দুরূহ সে ইতিহাস বর্ণনার চেষ্টায় মিহির যেন জোড়া রেইনট্রিতে বসে থাকা রূপকথার ব্যাঙমার মত এক বিষাদ পাখি। পরম মমতায় যিনি হৃদয় খুঁড়ে বেদনাময় অতীতকে পাঠকের সামনে হাজির করেছেন। সে অতীত কথনে ব্যক্তিগত সুখ দুঃখের পাশাপাশি উঠে এসেছে ক্রমশঃ পরিবর্তিত সমাজ, তার আচার আচরণ। রাজনৈতিক নেতাদের গোপন কলকাঠির যোগসাজশে সমাজে ঘটতে থাকা বিশৃঙ্খলতার উৎকট স্বরূপ। বাংলা ভাষা তথা সাহিত্যকে হিন্দুয়ানি মুক্ত করার একরোখামি, যা থেকে খোদ কবি নজরুলও রক্ষা পাননি। নজরুলের কিছু কবিতার হিন্দুয়ানী শব্দও পাল্টে দেয়া হয়েছিল। তাছাড়া গ্রামীণ নানান পালা পার্বণ, আচার অনুষ্ঠানের বিলুপ্তি। ধর্মভিক্তিক নানান আনন্দ অনুষ্ঠানে অন্যধর্মের মানুষের অবাধ অংশগ্রহনের পথে বাধা দেবার প্রথা চালু, ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে একজন সংবেদনশীল দর্শকের মত মিহির বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছেন। যা বইটিকে সমৃ্দ্ধ করেছে।

    বইটির সূচনাকালে হিন্দু মুসলমানদের মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্কের যে সৌহার্দ্যরূপ দেখে মুগ্ধ হতে হয়, শেষ দিকে পৌঁছালে সম্পর্কটা এমন কুৎসিত অমানবিকতায় রূপ পায় তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না এদেশে সংখ্যালঘুদের জন্য কী কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তখন। এই যে সম্পর্কের অধঃপতন বা পরিবর্তন তার পেছনে কাজ করেছে পাকিস্তানের তৎকালীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। কেননা বইয়ের সূচনাকাল ১৯৫২ দেশ ভাগের বেশ কয়েক বছর পরের ঘটনা হলেও তখনো সংখ্যালঘু হিন্দুদের বৃহৎ অংশ দেশত্যাগের কথা ভাবেনি, যেমন মিহিরের নিজের পরিবার। অতঃপর "পাকিস্তান শুধু মুসলমানের দেশ, হিন্দুদের হিন্দুস্থান" – এই মানসিকতা একটা রাজনৈতিক মহল থেকে সুকৌশলে প্রবেশ করানো হয়েছিল মুসলমানদের একটা অংশে। সেই সময় সুযোগসন্ধানী মুসলমানদের একটা অংশ নানানভাবে হিন্দুসম্পত্তি গ্রাস করার মানসিকতায় প্রতিবেশীদের সাথেও ঝামেলা পাকাতে থাকে। যেটাকে শুধু ঝামেলা বললে ঠিক বোঝানো যায় না। একটা পরিবারের সম্পদ গ্রাস প্রক্রিয়া শুরু হয় সম্ভ্রম লুণ্ঠনের মাধ্যমে। যে অঞ্চলের মানুষ শত বছর ধরে জমিজমার দাঙ্গা হাঙ্গামা কিংবা ডাকাতি রাহাজানিকে ভয় পায়নি, সেই এলাকার মানুষ সম্ভ্রম লুণ্ঠনের ভয়ে সাতপুরুষের ভিটে ছেড়ে পাড়ি দিতে শুরু করে অচেনা এক দেশে। যে দেশের সাথে ধর্ম ছাড়া আর কিছুর সাথে তার পরিচয় নেই।

    “বিষাদবৃক্ষ” বিষয়ে, স্পষ্ট করে বলতে গেলে লেখক বিষয়ে আরেকটি কথা না বললেই নয়। একজন লেখককে ধর্মের উর্ধ্বে রেখেই সব সময় তাঁর সৃষ্টিকে উপভোগ করার চেষ্টা করি। সেখানে কে হিন্দু, কে মুসলিম বা খ্রিস্টান বাছবিচারের প্রশ্ন আসে না। তবুও এর আগে এ বিষয়ে যে দু'একটা বই পড়বার সুযোগ হয়েছে, সেখানে লেখককে কোন একটা পক্ষের বক্তার ভূমিকা পালন করতে দেখেছি। ‘বিষাদবৃক্ষ’ যেন এ থেকে অনেকটাই মুক্ত। এখানে লেখক অকপটে দুই ধর্মের মানুষ, তাদের আচার বিধি কর্মপদ্ধতির আলোচনা/ সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। ইসলাম ধর্মের আচার বিধি সম্পর্কে লেখকের জ্ঞান, আন্তরিকতা যেমন পাঠকের দৃষ্টি এড়াবে না, একইভাবে হিন্দু ধর্মের নানান দেখানেপনা, নিজ পরিবারের অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বর ইত্যাদি নিয়ে বলতে দ্বিধাগ্রস্থ হতে দেখা যায়না। দ্বিধাহীনভাবেই মিহির তাই লিখতে পারেন " ..দোষে গুণে আমরা উভয় সম্প্রদায়ই তুল্যমূল্য। কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে, বরাবর আমরা একে অন্যকে দুষে আসছি। কেউই কখনও নিজেদের দোষের পসরা নিয়ে বলিনি, দেখ ভাই এই আমাদের দোষ, এগুলোকে তুচ্ছ করে এসো আমরা ভালোয় মন্দে বাঁচি, এবং এই দোষগুলোর সংশোধন করি। না, আমরা কদাপি এরকম সুবুদ্ধিতে পরিচালিত হইনি। না হিন্দুরা, না মুসলমানেরা।"

    "বিষাদবৃক্ষ" ৪৭ পরবর্তী বরিশাল অঞ্চলের একটি খণ্ডিত স্মৃতিচিত্র হলেও এটি মূলত সেই সময়কার সমগ্র পূর্ববাংলার সামাজিক চিত্রের এক অসামান্য দলিল। পিছারার খাল, আর সেই খাল পাড়ের জোড়া রেইনট্রি বিষাদবৃক্ষে মিহিরের স্মৃতির হাত ধরে বার বার ফিরে এসেছে। প্রত্যেক মানুষই হয়ত আজীবন তার শৈশবকে খুঁজে ফিরে নানান ছুঁতোয়। মিহির সেনগুপ্ত একই সাথে তাঁর শৈশব এবং জন্মস্হানকে খুঁজে ফিরেছেন। যে দেশের আলো হাওয়ায় একজন মানুষের বেড়ে ওঠা, চাইলে তাকে হয়ত স্বভূমি ত্যাগে বাধ্য করা যায়। কিন্তু একজন জীবন্ত মানুষের বুকের ভেতর নিরন্তর বয়ে বেড়ানো স্মৃতির ভাণ্ডারে হাত দেবার সাধ্য পৃথিবীর কোন ক্ষমতাশালী শাসকই রাখেন না। মিহির তাই বার বার পিছারার খাল বেয়ে চলে আসতে চান তাঁর নাড়ীপোতা গ্রামে। রেইনট্রির শাখায় শাখায় আটকে থাকে তাঁর শৈশব কৈশোরের দুঃখ জাগানিয়া দিনরাত্রির গল্পগুলো। সেই পিছারার খাল কিংবা জোড়া রেইনট্রি হয়তবা আজ আর নেই। কিন্তু লেখক মিহির সেনগুপ্তের বিষাদবৃক্ষে তাদের অক্ষয় তুমুল সহবাস।
    ----------
    পোস্টে ব্যবহৃত কবিতার লাইনগুলো সৈকত কুন্ডু’র 'দেশ' কবিতা থেকে নেয়া।
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৩ মে ২০২০ | ১৯৩ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • একলহমা | 162.158.187.186 | ১৩ মে ২০২০ ১৩:০৫93281
  • ভাল রিভিউ।  

  • বিপ্লব রহমান | 162.158.165.143 | ১৩ মে ২০২০ ১৮:০২93289
  • মিহির সেনগুপ্তের কালচারাল এন্থ্রোলজি "বিষাদবৃক্ষ"র পাঠ প্রতিক্রিয়া ভাল লাগলো।  বেশ পাকা হাতের লেখা। 

    বইটি এপারে কী ভাবে পাব? প্রচ্ছদ শিল্পী, প্রকাশকাল, প্রকাশক, দাম, সম্ভব হলে প্রচ্ছদ -- ইত্যাদি লেখায়  যোগ করলে সোনায় সোহাগা হতো। 

    আর দেখুন,  লাখো কোটি মানুষের প্রাণ সংহারী,  অশেষ দুঃখ-কষ্টের কারণ দেশবিভাগ না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না।  কি আয়রনি!! 

    উড়ুক               

  • বিপ্লব রহমান | 162.158.165.143 | ১৩ মে ২০২০ ১৮:০৭93290
  • পুনশ্চঃ ইচ্ছে হলে ওপরে সর্বডানে "ব্যবহারকারীর খুঁটিনাটি"তে গিয়ে নিজের নামটি বাংলায় করে নিতে পারেন। শুভ        

  • কল্লোল | 162.158.50.219 | ১৩ মে ২০২০ ২৩:০৩93293
  • মিহিরের এই বইটি একট গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ইতিহসকে ধরে রেখেছে। দেশভাগের ঠিক পরেকার পূর্ব বাংলার হাল হকিকৎ। এই সময়কাল নিয়ে লেখা খুব একটা হয় নি, বিশেষ করে পূব বাংলার সংখ্যালঘুদের দৃষ্টিকোন থেকে। সেই হিসাবে এটি এক অসামান্য দলিল।
  • বিপ্লব রহমান | 162.158.166.124 | ১৪ মে ২০২০ ০৬:৫৭93299
  • "Indrani | 202.128.112.254 | ০৫ জানুয়ারি ২০০৬ ১৯:০৬451144

    মিহির সেনগুপ্তর লেখা বিষাদবৃক্ষ গতবছর আনন্দ পুরস্কার পেয়েছে; বইটির প্রকাশক সুবর্ণরেখা, দেড়শো টাকা দাম।
    মলাটে লেখা আছে,' বিষাদবৃক্ষ একখানি শক্তিশালী এবং বিষাদময় আত্মস্মৃতি যা এই উপমহাদেশের এক ভয়াবহ সময়ের প্রতিবিম্বিত দর্পণমাত্র।''

    পুরনো টইয়ে পেলাম। এরপর ইন্দ্রাণীর দীর্ঘ আলোচনা। সে-ও খুব ভাল।  কল্লোল দা'ও সেখানে  আলোচনা করেছেন দেখছি। আরও অনেক মতামত আছে। ধন্যবাদ আই     

  • b | 162.158.165.207 | ১৪ মে ২০২০ ০৯:১১93302
  • কল্লোলদাকে দেখে ভালো লাগছে।
  • Nahar Trina | 98.227.19.5 | ২১ মে ২০২০ ০৮:৫৩93520
  • নানা ঝুট ঝামেলায় মন্তব্যের উত্তর দিতে দেরী হলো বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। দাদাই, বিপ্লবদা, কল্লোলদা, আই, ইন্দ্রানীসহ অন্য যারা পড়েছেন সবাইকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

    দাদাই(একলহমা), তোমাকে এখানে দেখে খুব ভালো লাগলো। লেখাটা পড়েছো জেনে ভালোলাগা হাতে পায়ে বাড়লো :)

    বিপ্লবদা, আপনার পরামর্শ মতো ওগুলো জুড়ে দেবো। 'এপাড়ে' বলতে কী বাংলাদেশ বুঝিয়েছেন? বইটা আজিজ সুপার মার্কেটে খোঁজ করে

    দেখতে পারেন। বাংলা নামকরণের পথ বাতলে দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    কল্লোলদা, আপনাকে আমার পোস্টে পেয়ে দারুণস্য দারুণ ভালো লাগলো। আপনার মতামতের সাথে সহমত পোস্ট পড়বার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

    আই,  পুরোনো পোস্টে চোখ বুলিয়ে এলাম। সময় করে সবটা(মন্তব্যসহ) পড়বো নিশ্চয়ই। নতুন-পুরোনোর সহাবস্হানের ব্যবস্হা করে ভালো করেছেন- সবগুলো একক্লিকে পাওয়া যাবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    বি, আপনাকে দেখেও ভালো লাগলো। ধন্যবাদ জানবেন।

  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত