• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • আধা ব্যক্তিগত ডায়েরী

    সুকান্ত ঘোষ
    বিভাগ : আমাদের কথা | ২৯ মার্চ ২০২০ | ৮৪৪ বার পঠিত
  • কিছু আধা-ব্যক্তিগত কথা বার্তা। নানা সময়ে লিখেছিলাম বা এখনো লিখে চলেছি। দোটানায় আছি এগুলো এখানে দেওয়া বেমানান হবে কিনা। এই লেখার সাথে অনেক ছবি জড়িয়ে থাকার কথা - এবং সেই ছবি বেশীর ভাগই অমৃতার। তাই নিয়েও কুন্ঠা যে সব ছবি এখানে দিলে কেমন লাগবে! লোকজন এই থ্রেড-টি কেমন ভাবে নেবেন তার নির্ভর করবে এটি কতখানি এগুবে।
    ++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
    শুটিং এর নেপথ্যে
    ----------------------------------
    আজকে রবি ঠাকুরের জন্মদিন, আর কালকেই মডেলিং শুটিং এর গল্প হচ্ছিল। তাই এটাও লিখে রাখা যাক। অমৃতার কাছেই আমি প্রথম ‘বাচিক শিল্পী’ নামটি শুনি – স্বাভাবিক ভাবেই সেটা খায় নাকি গায়ে দেয় সেটা বুঝতে পারি নি। ব্রততী নিজেও প্রথম জীবনে বোধহয় বাচিক শিল্পী ছিলেন না – তখন কেবল কবিতা আবৃত্তি করতেন। পরে পরে কালের নিয়ম মেনে তিনি ‘বাচিক শিল্পী’-তে পরিণত হন। এবং তারও পরে কবিতা আবৃত্তি এক ইন্ডাষ্ট্রি হয়ে ওঠে। অনেক কবিকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি যাঁরা কবিতা আবৃত্তির নাম শুনলে নাক শিটকান – কেন জানি না, ব্যখ্যা চাইলে বলেন কবিতা নাকি নষ্ট হয়ে যায় আবৃত্তির মাধ্যমে! যেন তার আগে কবিতা ফ্রীজের ভিতরে অবস্থান করে টাটকা থাকত! আমার কিন্তু কবিতা আবৃত্তি ভালো লাগে, মানে ভালো করে আবৃত্তি করতে পারলে আর কি। বিয়ের পর কবিতা আবৃত্তি শুনেছি কারণে – অকারণে। স্নানের ঘরে থেকে শুরু করে রান্না ঘরে – বা বিকেলের বারান্দায় কিংবা বাগানে। জিজ্ঞেস করলে বলত প্র্যাকটিস না থাকলে ভুলে যাবে নাকি।

    অদ্ভূত জায়গাতেও কবিতা শুনেছি – ফিলিপিন্সের সাগাদা অঞ্চলে পাহাড়ের উপর এক কাঠের বাড়িতে রাত নেমে এলে – ইলেক্ট্রিকের আলো নেই – চাঁদ ছড়িয়ে দিয়েছে জোছনা – আমি শুনছি কবিতা, শুভ দাশগুপ্তর লেখা। আবার হ্যালং-বে তে মাঝরাতে নৌকা নোঙড় গেড়েছে সেই পাহাড়গুলির মাঝখানে – আমরা ব্যলকনিতে বসে আছি – সামনে গোলাপ ফুল আর আমৃতা অবৃত্তি করছে, সেবার রবি ঠাকুর। গ্রীসদেশের স্যান্টোরিনি দ্বীপের সেই কালো পাথরের বীচে খুব ভোরে হাঁটতে হাঁটতে ভূমধ্যসাগরের বুক থেকে টুপ করে সূর্যের উঠা দেখতে দেখতেও কবিতা।

    আবৃত্তি শুনতে তো ভালো লাগতই, আরো চমক লাগতো যে পাতার পর পাতা কবিতা মনে রেখে আবৃত্তি করে যেতে পারে দেখে! বিশেষ করে রবি ঠাকুরের কবিতা – ওই যে ছেলে জলে ডুবে গ্যাছে বা যাচ্ছে, কে কাকে গ্রাস করে নিচ্ছে সেই নিয়ে একটা বিশাল কবিতা আছে না – সেটা শোনাবার জন্য পাবলিকের কাছ থেকে আবদার আসত মাঝে মাঝেই। সেই একবার কে বলল, ‘কালের যাত্রা’ নাকি নাম দিয়ে রাজা-র কবিতা আবৃত্তি আর শ্রাবণী সেনের গান মিক্স ম্যাচ করে এক অ্যালবাম হবে আর তার একটা ভিডিও শুটিং হবে দীঘাতে – সেটা করতে হবে পুজোর সময় বাড়ি গিয়ে। বিদেশ থেকে বছরে একবার বাড়ি গিয়ে আমি পরাত পক্ষে পুজোর সময় নিমো ছেড়ে বের হই না। সেবার ব্যালেন্স করে ঠিক হল লক্ষী পুজোর পর শুটিং হবে। আমি, অমৃতা, পিন্টু, আইভি সবাই গেলাম – রথ দেখা কলা বেচা দুই হবে বলে। পিন্টু হল গিয়ে আমার বাচ্চা বেলার বন্ধু – এখন সে মেকাপ আর্টিষ্ট এবং জটিল হেয়ার স্টাইলিষ্ট। পিন্টু থাকার জন্য মেকাপ এবং হেয়ার স্টাইল নিয়ে ওকে কোনদিন চিন্তা করতে হয় নি – অবশ্য অমৃতা নিজেও মেকাপ বা হেয়ার স্টাইল খুবই ভালো পারত। তবে বলতে কি মেকাপ দরকার হত না বেশী কিন্তু টাইম খেয়ে নিত চুল বাঁধা – ধৈর্য্য পরীক্ষার জন্য এর থেকে ভালো টাস্ক আর কিছু হতে পারে না। আর আইভি সে দিন প্রায় অমৃতার পি এ-এর কাজ করছিল।



    নিমো থেকে বেরোবার সময় অমৃতা মাকে বলল একটা পিতলের লম্প-টাইপের কিছু লাগবে। অভীক না কার যেন চিঠি কে যেন রাতের বেলা লম্ফর আলোয় পড়বে। মা বলল সে পিতলের লম্প এখন কোথায় পাওয়া যাবে – ইনভার্টার এসে সব ভুলিয়ে দিয়েছে। তবে বলার পর চিলেকোঠার ঘর থেকে খুঁজে পেতে পিতলের লম্ফ এল। সেই দিয়েই দীঘায় হোটেলের ঘরে অভীকের চিঠি পড়া হল।

    একদিন তো বিকেলে শুটিং হল – আমি আর কি করি। শুটিং টিমের দু-তিন আঁতেলের সাথে ছোঁয়া লেগে ফোসকা পরে গেল। আমি দূরে ঝাউবনের পাশে বালির ঢিবিতে বসে বসে মজা দেখতে লাগলাম – শুটিং-এ ভাই কোনই মজা নেই, বড়ই বিরক্তিকর কাজ। বিড়ি খেতে খুব ইচ্ছা করছিল, কিন্তু বিড়ি খাই না বলে খেতে পারলাম না। ডাইরেক্টর দেখলাম হাতে খাতা নিতে ঘুরছে – সিনেমার শুটিং হচ্ছে না, কিন্তু তাই বলে তো আর ফ্যাশনে অবহেলা করা যায় না। কিস্যু বুঝতে পারলাম না - ব্যাকগ্রাউন্ডে রবিন্দর সংগীত চলবে আর অমৃতা এদিকে ওদিকে ঝাউ গাছের পাশে পাশে ঘুরবে, এই নিয়ে এতো চিন্তা ভাবনার কি আছে কি বুঝলাম না। শালা এই করে গোটা বিকেল, সন্ধ্যে কেটে গেল। রাতের দিকে বললাম আমি আর শুটিং দেখতে পারব না, এর থেকে একটা ভালো ঘুম জরুরী। আমাকে আবার বলা হল – কাল খুব ভোর ভোর উঠে প্রথম প্রভাতে কাছের কোন তালবনে নাকি শুটিং হবে। এটা শোনার পর আমার জ্বর চলে এলো – আমি যেতে পারলাম না ফলতঃ, মেকাপ আর্টিষ্ট এবং পি এ গেল সাথে – আমি ঘরে খুব ঘুমোলাম। সেই দিনও এদিক ওদিক শুটিং করে কাটল – তার পরে ফিরে আসা।

















    আমার খুব সন্দেহ ছিল যে সে ভিডিও অ্যালবাম আদৌ বেরোবে কিনা।, আর বেরোলেও এতো জটিল জিনিস কেউ বুঝবে কিনা! আমাকে ভুল প্রমাণিত করে, এক সময় সেই অ্যালবাম বেরোলো।



    ওর প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত গায়িকা শ্রাবণী সেন – তাঁর গলাতেই অমৃতার ভিডিও। আজকের দিনে মনে পড়ে গেল –

    [ক্রমশঃ]

    ++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

    একটুকরো তুমি আছো ওদের সাথে
    --------------------------------------------------------------------

    প্রতিটা সুন্দরের গল্প থাকে
    গল্প থাকে সুন্দরীর
    তারই মাঝে হয়ত আমি বলে ফেলি
    এসো
    ছবি না তুলে আমরা বৃষ্টির শব্দ শুনি!

    এইভাবেই বিকেলের নরম রোদে ওরা
    শেষ বেলার সূর্য মুখে নিয়ে
    তোমার সাথে থাকতে চায়
    কেমনে ফেরাবে তুমি?

    বা সকালের কাঁচ রঙা আলোর
    ছায়া পড়েছে যেখানে
    সেইখানে ওরা কুন্ঠিত চোখে
    তোমাকে দেখে

    হাসির প্রশ্রয়ে
    আরো ছবি তোলা হয়
    একটুকরো তুমি থেকে যাও ওদের সাথে

    সুন্দরের প্রতি আকর্ষণ আমার এখনো স্বাভাবিক বলেই মনে হয় – মনে হয় এ যেন অভিযোজনের ফল, আমাদের জিন লব্ধ পাওনা যা মাঝে মাঝে অস্বীকার করতে চাওয়া হয় জোরদার। আমি সেই অস্বীকারের প্রয়োজন দেখি না – আর অমৃতার সাথে ঘুরে ঘুরে আমি দেখেছি আমার দলে আরো অনেকেই আছে!

    নানা দেশ ঘুরেছি একসাথে আর মানুষের মনে যে সুন্দরের প্রতি এখনো একটু পক্ষপাতিত্ব আছে তার প্রমাণ পেয়েছি বারে বারে। সেই পক্ষপাতিত্ব ভালো না খারাপ সে বিচারে আর কি হবে ! বরং নানা সময়ে আমি সেই পক্ষপাতিত্ব অজান্তেই হয়ত একটু উপভোগও করে ফেলেছি! ইউরোপের দেশ গুলিতে মানুষের প্রাইভেসীর সংজ্ঞা আলাদা – তাই বেড়াতে গিয়ে অনেকে অমৃতাকে ঘুরে ফিরে দেখলেও, সাথে ছবি তোলার বিশেষ কেউ অনুরোধ করে নি। কিন্তু অন্য ভাবে পেয়েছিল মুগ্ধতার প্রকাশ।

    সেই যে প্রাগ শহর থেকে কিছু দূরে উষ্ণপ্রস্রবণের শহরে এক বৃদ্ধা রাস্তার পাশে বসে হাতে গড়া কৃষ্টাল হার বিক্রী করছিলেন – অমৃতাকে বেশ খানিকক্ষণ দেখছিলেন আড়চোখে, দাম দেবার সময় ভাঙা ইংরাজীতে বললেন তোমার সুন্দরী গার্লফ্রেন্ডের জন্য বাড়তি দশ ভাগ ছাড়! এতে আমার চাপ বেড়ে গেল – কারণ অমৃতা এর অর্থ করল যে সেই জায়গায় ভারতীয় সৌন্দর্য্যের মনে হচ্ছে কদর আছে, অন্য কোথাও এমন কদর কেউ দেবে কিনা কে জানে, তাই আরো হার/গহনা কেনা হোক! দশ-দশ পার্সেন্ট করে ছাড় পেয়ে ছাড়ের টাকায় আরো বেশী গহনা কেনা যাবে। অকাট্য যুক্তি!

    ভেনিসের সেন্ট মার্ক স্কোয়ারে পাশের দোকানগুলিতে সেই বিখ্যাত ইতালিয়ান পালক দেওয়া মাস্ক কিনতে গিয়েও সুন্দরী ছাড়! আমরা রোমের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে একটু বিশ্রাম নেবার জন্য একটা জিলাটো/আইসক্রীমের দোকানে ঢুকেছি, দোকান তখন একটু ফাঁকা – আমরা বাঙলায় কথা বলছি দেখে সেই দোকানের কর্মচারীটি এগিয়ে এল, বাঙলাদেশের ছেলে, অনেক গল্প হল – তার রেখে আসা বউ, ছোট্ট ছেলের গল্প। ওঠার আগে দাম দিতে গেলে, সেই ছেলে দাম নিল না, বলল, “ভাবী, আমার তরফে না হয় এটা ট্রীট রইল – বেশ কয়েকদিন পর বাংলায় কথা বললাম”। তখনো ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ চালু হয় নি, উপমহাদেশে ফোন কল বেশ খরচা সাপেক্ষ ছিল।

    পর্তুগালের লিসবনে সেই বিখ্যাত স্কোয়ারের পাশের গাইড বুকের রেকমেন্ড করা রেষ্টুরান্টে খেতে গেছি – রিজার্ভেশন ছিল না। গিয়ে দেখি সব টেবিল বুক – কিছু টেবিলে রিজার্ভড লেখা। যা হয় আর কি, যা পাওয়া যায় না, সেটাই বেশী করে পেতে ইচ্ছে করে – অমৃতার মনে খুব দাগা লাগল জায়গা না পেয়ে, আমি বলছি, চলো অন্য কোথাও গিয়ে খাই! আমাদের বাংলা কথা শুনে এক ওয়েটার এগিয়ে এল, “দিদি, বাঙালী নাকি”? সে ছেলেও বাংলাদেশের – লিসবনে অত বাংলাদেশী আছে আমার জানা ছিল না। একটা টেবিল থেকে রিসার্ভড লেখা কার্ডটা উঠে গেল – আমরা পেয়ে গেলাম প্রাইম সীট। এমনকি খাবারও সিলেক্ট করতে হল না, সেই ছেলেই রেষ্টুরান্টের বিখ্যাত ডিস গুলি রেকমেন্ড করে দিল।

    প্যারিসের মমার্তে অমৃতার পোর্টেট এঁকে দিয়েছিল তুলনায় কম মূল্যে সেই আর্টিষ্ট। তবে অনেকেই সেখানে ব্যবসা করার মনোভাবে আঁকতে যায়, পোর্টেট এঁকে দেওয়া এক ব্যবসাই – ফলতঃ অমৃতার নিজের পোর্টেট পছন্দ হল না, আমারও হল না। সেই ছবি এখনো আছে কোথাও ঢুকে।

    এই ভাবেই সমস্ত ইউরোপ জুড়ে গল্প আছে সুন্দরের। কিন্তু তুরস্কের ইস্তানবুল বেড়াতে যাবার পর থেকে দূরের সুন্দরের মুগ্ধতা সঙ্গে ছবি তোলার আবদারে পরিণত হল। আমি তখন প্রথমে ঠিক খেয়াল করি নি – কিছু দিন যাবার পর বুঝতে পারলাম এর মূল কারণ হল বলিউডি হিন্দী সিনেমা। তুরস্কে হিন্দী সিনেমা প্রবল জনপ্রিয় – অমৃতাকে অনেকেই সিনেমার নায়িকা ভাবত (আর আমাকে নায়িকার বডিগার্ড বা সেকেট্রারী টাইপের কিছু) । প্রথম দিন বিকেলে বাজারে বেড়াতে গিয়ে এক ভদ্রমহিলার অনুরোধ দিয়ে শুরু সাথে ছবি তোলা।



    এর পর আমরা যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এলাম, তখন ছবি তোলার আবদার আরো বেড়ে গেল – হেন কোন দোকান নেই যেখানে দোকানের মহিলা মালকিন ঘুরে ফিরে অমৃতা-কে বিউটিফুল বলত। আমার মনে হয় অমৃতাও নিজে ব্যাপারটা বেশ মজা করেই উপভোগ করত। মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াতে বলিউডি সিনেমা প্রবল জনপ্রিয়। মালয়েশিয়াতে একবার (জায়গাটা ঠিক মনে পড়ছে না) হোটেল থেকে বেরোবার সময় সিকিউরিটি গার্ড (তখন মুখ চেনা হয়ে গেছে কিছু দিন থাকার পর) অনুরোধ করল তার অনেকদিনের ইচ্ছে নিজের মোপেডের পিছনে এক সুন্দরী মহিলাকে চাপিয়ে ঘোরে! ফলতঃ অমৃতাকে রাখতে হল সেই অনুরোধ।



    কাম্বোডিয়া, তাইওয়ান, ফিলিপিন্স – সব জায়গাতে বেড়াতে গিয়ে এক অভিজ্ঞতা। তাইওয়ানে একজায়গায় আমরা ছিলাম একটা ফ্যামিলি রান হোটেলে – তো সেদিন খুব ঠান্ডা পড়েছিল, আমরা যা শীতের পোষাক নিয়ে গিয়েছিলাম সেটাতে এঁটে উঠছিল না। সকালে আর কোথায় সোয়েটার কিনতে যাব – সেই হোটেলের মালকিন প্রায় জোর করে তাঁর জ্যাকেট-টা অমৃতাকে পড়িয়ে দিলেন। সাথের ছবিটি তখন তোলা – এই মনে হয় একবারই অমৃতার ছবি পাওয়া যাবে যেখানে ড্রেস ঠিক ম্যাচিং ছিল না!



    এর পর ইন্দোনেশিয়াতে বালি, বাংদুঙ, যোগজাকার্তা-তে বেড়াতে গিয়ে বললে বিশ্বাস করবেন না, লোকে লাইন দিতে লাগল অমৃতার সাথে ছবি তোলার জন্য। সেই সময় ওদের টিভি তে রামায়ণ-মাহাভারত সিরিয়াল চলে বিশাল জনপ্রিয় হয়েছিল এবং বেশীর ভাগ কম বয়েসী ছেলে-মেয়েদের বদ্ধ ধারণা ছিল যে ওরা কোন এক হিন্দী সিনেমা/সিরিয়ালের নায়িকার সাথে ছবি তুলছে! আমাদের গাড়ির ড্রাইভার রসিকতা করে আমাকে বলল, “স্যার আপনি যদি এক ডলার করে সাথে ছবি তোলার জন্য চার্জ করেন, তা হলে আপনার বেড়ানোর খরচ অনেকটা উঠে আসবে”। সাথের ছবি গুলো অনেকগুলি ইন্দোনেশিয়াতে তোলা।





















    অমৃতা বলত, “বুঝলে, মাঝে মাঝে অ্যাটেনশন পেতে বেশ ভালোই লাগে, বাড়িতে তো আর আলাদা করে মনোযোগ দিলে না!” আমি আর কি বলি! একটু হাসি ছাড়া এমন সময়ে কিছু বলতে নেই!

    [ক্রমশঃ]

    ++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

    তুমি কি শাড়ি ভালোবাস? – জটিলতা?
    ----------------------------------------------------

    ফেসবুকে দেখলাম শাড়ির ছবি দিয়ে কি সব একে ওকে ট্যাগ করার খেলা চলছে – এই খেলায় যে অমৃতা বাদ যেত না সেটা বলাই বাহুল্য। তাই ভাবলাম এই লেখাটা শেয়ার করে দিই এই ফাঁকে।

    গতকাল এক পরিচিতার সাথে কথা হচ্ছিল – তিনি ও তাঁর স্বামী দুই জনেই ডাক্তার, ছেলেরা উচ্চশিক্ষিত, এখন বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করে সুপ্রতিষ্ঠিত। কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কাজ কর্ম কেমন চলছে। উত্তরে তিনি জানালেন যে, এই সব ডাক্তারি-হাসপাতাল আর ভালো লাগছে না, এখন তিনি নিজের অনেকদিনের ‘ড্রিম প্রোজেক্ট’ নিয়ে ভাবছেন। অনেক দিনের ইচ্ছা যে তিনি এক শাড়ীর লাইন/চেন্ খুলবেন এবং তাই এখন তিনি টেক্সটাইল ট্রেইল নিয়ে ব্যস্ত আছেন এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি করে। স্বাভাবিক ভাবেই অমৃতার কথা চলে এল, তিনি আক্ষেপ করলেন যে অমৃতা থাকতে একটা ডিজাইন পার্টনার এবং শাড়ির মডেল পেয়ে যেতেন সাথে!

    শাড়ির কথা শুনে কত কিছু মনে পড়ে গেল! শাড়ি আমার পোষাক হিসাবে খুব প্রিয় – মনে হয় এক আভিজাত্য লেগে আছে যেন শাড়ির সাথে। এত ভালো লাগত যে সেই কবেই শাড়ি পরা নিয়ে কবিতা লিখে ফেলেছিলাম -

    “তুমি কি শাড়ি ভালোবাস, জটিলতা?
    তুমি কি পাখি ভালোবাস – বেদনা?
    যাদের কাজল আছে
    আমার চোখে তারা রামধনু
    জানি তুমি বৃষ্টি ভালোবাস, কুয়াশা”।

    শাড়ির সাথের সেই জটিলতা বরং নতুন কিছু খুঁজে পাবার প্রতিশ্রুতি, নতুন কিছু ফিরে দেখার আহ্বান বরাবরের। চোখের কোনের সাথে কাজলের, আর কাজলের সাথে শাড়িও জড়িয়ে গেছে অঙ্গাঅঙ্গি আমার দেখায় বা অতর্কিতে না-দেখার। অমৃতা আরো অনেক কিছুর মত শাড়িও খুব ভালোবাসত – সেতো প্রায় অনেক মেয়েই বাসে! তবে আমার মনে হত শাড়ির থেকেও শাড়ি পরা যেন সে উপভোগ করত বেশী – সেইতো মাথার বেণী, খোঁপার চুল, হাতের চুড়ি, গলার হার, গালের টোল মিলে মিশে যাওয়া।

    একসাথে ভাবতে ভাবতে, দেখতে দেখতে শাড়ি নিয়ে আমার যা জ্ঞান সঞ্চিত হয়েছে তাতে করে ছেলেরা তো কোন ছাড়, অনেক মেয়েও ফাণ্ডাতে পাত্তা করতে পারবে না। অমৃতার কেনা সব শাড়িতেই আমার অবদান প্রচুর – না, মানে ফান্ডিং এর কথা বলছি না, শাড়ির পছন্দের কথাই বলছি। তারপর অসংখ্য ছবি তুলেছি শাড়ি পরিহিত অমৃতার। আর বউয়ের শাড়ির কুঁচি ধরে দেয় নি কোন না কোন সময় এমন বাঙালি ছেলে পাওয়া মুশকিল!

    তবে শাড়ির সমস্যা কি আর নেই! কথায় বলে সুতো আর জুতো – এই দুই জিনিসের দামের কোন মা-বাপ হয় না। আগে শুধু শোনা ছিল – এখন অনুভব করি – আর তার পিছনে আমার পিসির ছেলে অর-দা র অবদান প্রচুর। সে ‘ঘোষ ছিট মহল’ থেকে ব্যবসা শুরু করে এখন মিনি শিল্পপতি। ফেসবুকে দেখলাম বিজ্ঞাপন দিয়েছে ১৫০ টাকার শাড়ি বিক্রি করছে বলে, আগে এলে আগে পাবে। আমি ভাবলাম বুঝি লস করে বিজ্ঞাপন দেবার জন্য ছাড়ছে মাল – ওমা, আমাকে বলল, এতে লাভ কম তবে, বিক্রী প্রচুর বেশী। সে গ্রামে প্রাসাদ সম গাব্দা বাড়ি করে, দু-চারটে আরো দোকান খুলে এখন গুড়াপ বাজারে ফ্ল্যাট ইত্যাদি করে এলাহি ব্যাপার। তাহলে আপনি লাভ ভাবুন! আর ভাবুন এ ছেলে এক কালে গীটারে রবীন্দ্র সংগীত বাজাতো!

    আর একটা কথা, শড়ি শুধু তো কিনলেই হয় না – সেটা সবচেয়ে সোজা কাজ। শাড়ি পড়তে জানতে হবে, আর তার পরে আছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, সেই শাড়ী ক্যারি করা। হেলা ফেলা জিন্স পড়লেও তা চলে যায়, কিন্তু ন্যালাক্ষ্যাপা করে শাড়ি পড়লে কেমন যেন লাগে। মনে হয় যেন শাড়িত্বের অবমাননা হচ্ছে। আমি লিখেছি কখন যেন

    “নতুন ভাবে দ্যাখার জন্যই তো
    ছেড়ে ফেলা ওই চেনা গন্ধ।
    এই তো দাঁড়িয়ে আছি আমি
    ছবি তুলে নাও সচেতনে
    সেই ছবি হোক পোষাকের
    আর অচেনা গন্ধের”

    তোমার সমস্ত শড়ি পরা ছবিতেই চেনা গন্ধ লেগে আছে – সাথের ছবিগুলি শেষের কয় বছরের তোলা নিতান্তই ঘরোয়া ভাবে। সে শাড়ি পরতে ভালোবাসত, আর আমার শাড়ি পরা তার ছবি তুলতে।





















    [ক্রমশঃ]

    ++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

    আঁকার খাতা
    -----------------------———-

    এখনো পর্যন্ত না খুলে উঠতে পারা প্রায় চল্লিশটা প্যাকিং বাক্স-র একটা খোলা হল আজ। আর আমাকে অবাক করে সেই খাতাটা বেরিয়ে এল – অনেক দিন ধরে খুঁজছিলাম। অমৃতার আঁকার খাতাগুলির মধ্যে তার প্রিয়তম।

    আমষ্টারডাম শহরে যদি শনিবার দেখতে যান আনা ফ্যাঙ্ক মিউজিয়াম, তাহলে আনা ফ্যাঙ্কের বাড়ির সামনের প্রিন্সেনগ্রাগ্ট ক্যানালের অপর দিকে আর একটু এগিয়ে গেলেই সেই বিখ্যাত স্যাটারডে মার্কেট পেয়ে যাবেন। যথারীতি টুরিষ্ট ভরা সেই মার্কেট। তবে স্থানীয় লোকেরা যে যায় না তা নয়, কিন্তু গিয়েই টুক করে যা কেনার কিনে নিয়ে চলে আসে। কি নেই সেই মার্কেটে? ফল, ফুল, চীজ, চকোলেট, সব্জী, জামা কাপড় থেকে শুরু বই, অ্যান্টিক, রেকর্ডের দোকান সবই আছে।

    অমৃতার সাথে অনেক সময় কাটিয়েছি এই মার্কেটে ঘুরে ঘুরে – এমনি একদিন ঘুরতে ঘুরতে পেয়ে গিয়েছিলাম সেই ডাচ লোকটিকে যে নিজের হাতে খাতা, ডায়েরী ইত্যাদি বানাতো – হ্যান্ড মেড পেপার থেকে শুরু করে চামড়ার মলাট অবধি। ডাচেদের সৌন্দর্য্য বোধ প্রখর – তাই বেশীর ভাগ ডায়েরীর মধ্যেই কেমন যে একটা আভিজাত্য ফুটে বেরোত। আপাত সাধারণ, কিন্তু নজর কেড়ে নেওয়া।

    সেই লোকটার কাছ থেকেই অমৃতা কিনেছিল এই ডায়েরীটা। তার পর সে ব্যবহার করত ডায়েরীটা নানা জনের পোর্ট্রেট আঁকার জন্য - যখন মন চাইত। বেশীর ভাগ পেন্সিলে, কিছু মোম প্যাষ্টেলে।

    আজ আবার খুঁজে পেয়ে গেলাম দেড় বছর প্যাকিং বক্সে লুকিয়ে থাকা ডায়েরী, হাতের ছোঁয়া এবং পেন্সিল স্কেচগুলো ।













    [ক্রমশঃ]

    ++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

    গোধূলির কাব্য
    --------------------

    তারপরে জানি না - কি হয় নীল সৈকতে
    যদিও বলেছিলে ক্ষণিক দাঁড়ালে
    স্পষ্ট দেখা যাবে বহুদূর।
    আমি সেই দিকেও চোখ রাখি
    জিজ্ঞেস করি চেনা জনে
    খবর রাখে কি তারা আকাশ রাঙানোর?

    বাস্তবে আকাশের রঙ বড় চেনা
    তুমি আসমানী বল
    আমি দেখি নিয়তই
    দূরত্বের সাথে কেমন পালটে যায়
    চেনা রঙ।

    এমনি সময়ে
    কথাও হোক নাহয় সযতনে
    তোমার খুনসুটি মুছে দিক
    জলের শব্দ আর নীল সৈকত

    আমাদের একটা আস্ত সমুদ্র ছিল – ছিল সমুদ্র সৈকত। ঘরে থেকে বেরোলেই ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ শুনতে পেতাম ঝাউগাছের তলায় আর কখনও কখনও প্রবল তাপদগ্ধ অলস দুপুর কাটাতে কাটাতে বারান্দায় বসে অপেক্ষা করতাম বিকেলের ভেজা বালির। আমি অফিস থেকে ফিরে এসে বলতাম তৈরী হয়ে নাও – অমৃতা প্রস্তুতি নিয়ে বের হত নানা রকম লোশন মাখিয়ে হাতে পায়ে, ‘সান-ফ্লাই’ থেকে রক্ষা পাবার জন্য

    আমরা তখনও কেবল দুজন মাত্র। হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই ঢেউ পেরিয়ে পেরিয়ে – কখনও দেখা হয়ে যায় পাশের বাড়ির কুকুর নিয়ে ঘুরতে বেরোনো মালকিনের সাথে, কখনও দেখা হয় কাঁকড়া খুঁজতে আসা সেই স্থানীয় লোকেদের সাথে। কখনও দেখি এক পুরো পরিবার চিঙড়ি মাছ ধরছে জাল দিয়ে ছেঁকে – বাচ্চাদের উৎসাহ অবশ্যই মাছ ধরার থেকে জলে হুটোপুটিতেই বেশী। এক সময় গোধূলি নেমে আসে – এত রঙ আমরা আর কোথাও দেখি নি। জলের সাথে ভেসে আসা কাঠের গুঁড়ির উপর বসে সূর্যের ডুবে যাওয়া দেখি। ঢেউ দেখি – শব্দের সাথে মিশে যায় দিগন্তে আকাশের শত রঙ।





    ধর আজকে মেঘ করেছে – এমন মেঘের ফাঁক দিয়েও আলো চুঁইয়ে পড়বে জানি অনভ্যাসের আলতা পায়ে। লাল মুছে নিয়ে যাবে ক্রমাগত আর ফিরে না আসা ঢেউ। আমি তখন দূরে ছোটার ক্লান্তি নিয়ে তাকিয়ে আছি একে একে জ্বলে ওঠা জলের ওধারে জাহাজের আলোর দিকে। আলো স্পষ্ট হয়ে আসে, ঢেউ এগিয়ে এসেছে অনেক – আমরা হাতের আঙুল নিয়ে খেলতে খেলতে ফিরে আসি কাঠের বাড়িতে।





    অমৃতা খুব সাজতে ভালোবাসতে, আর ভালোবাসত রাতের নির্জনতা। রাত জেগে ছবি আঁকা, কবিতা লেখা- – আর গুণ গুণ গান। আমার অফিসের তাড়া পরের দিনের সকালের – রাতের বৃষ্টির শব্দ গায়ে মাখিয়ে বাইরের বারান্দায় অমৃতা। বেশী রাতে ঘুমাতে যেত বলে, খুব ভোরে উঠতে পারত না সে। তাই ব্রুনাইয়ের বেশির ভাগ ভোর ছিল আমার একার – ভোরের ঢেউ ভেঙে সূর্যের উঠা অমৃতা খুব একটা দেখতে পায় নি। তাই আমাদের একান্ত সাথী ছিল আরো বেশী করে পড়ন্ত বিকেল।

    ও সাজতে খুব ভালোবাসত – মাঝে মাঝেই আমরা হাঁটতে যেতাম ক্যামেরা নিয়ে আর অমৃতা একটু সেজে নিত সমুদ্রের সাথে ছবি তুলবে বলে। আমি অনেক অনেক তার সমুদ্রের সাথে ছবি তুলে দিয়েছিলাম। আবার সেই কম্পিউটার ঘাঁটতে ঘাঁটতে পেয়ে যাই এমন কিছু ফোটো শ্যুটের ছবি।





    শাড়ির উড়তে থাকা আঁচলে দেখি সমুদের রঙ – সাদা পোষাকেও সে যেন গায়ে মাখিয়ে নিয়েছে আমার প্রিয় নীল, আমাদের প্রিয় সৈকত।

    [ক্রমশঃ]
  • বিভাগ : আমাদের কথা | ২৯ মার্চ ২০২০ | ৮৪৪ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • Sma Sohel | 162.158.94.25 | ২৯ মার্চ ২০২০ ০৩:১৯91852
  • অমৃতাবৌদি শান্তিতে থাকুন।
  • সুকি | 172.68.167.15 | ২৯ মার্চ ২০২০ ০৯:৪৪91856
  • সমা সোহেল - লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
  • i | 108.162.250.74 | ২৯ মার্চ ২০২০ ১০:৩৭91859
  • সুকান্ত,
    ভালো কি মন্দ মন্তব্য করা যায় না সবখানে। চুপ করে থাকতে হয় কখনও।
    পড়ছি। পাঠকের ভালোবাসা আপনাকে ঘিরে থাকবে।
    লিখে চলুন।
  • একলহমা | 162.158.187.72 | ২৯ মার্চ ২০২০ ১০:৪৩91860
  • i | 108.162.250.74 | ২৯ মার্চ ২০২০ ১০:৩৭
    সহমত।
  • | 162.158.50.254 | ২৯ মার্চ ২০২০ ১১:৩৯91865
  • পড়ছি। লেখো।
  • শিবাংশু | 162.158.167.147 | ২৯ মার্চ ২০২০ ১২:২০91869
  • হয়তো পড়েছি আগেও। আবার পড়লুম। অফুরন্ত এক যাত্রার গল্প ...
  • সে | 162.158.150.21 | ২৯ মার্চ ২০২০ ১২:৫২91872
  • অসাধারণ।
  • সে | 162.158.150.21 | ২৯ মার্চ ২০২০ ১৩:০৫91873
  • নিমো গ্রামের গল্পগুলোর সঙ্গে এই ব্যক্তিগত লেখাগুলোর তফাৎ হচ্ছে যে এগুলোতে সুকি একজন লেখক নয়, সে একজন প্রেমিক। এই লেখাগুলো প্রচণ্ড রকমের প্রেমের লেখা।
  • ? | 162.158.166.36 | ২৯ মার্চ ২০২০ ১৫:৩০91874
  • ভালো থাকবেন, পুত্রের জন্য, অমৃতার স্বপ্নপূরণের জন্য আপনার ভালো থাকা জরুরী।
  • সুকি | 172.68.167.87 | ২৯ মার্চ ২০২০ ২২:০৬91878
  • একলহমা, ইন্দ্রাণী-দি, দমু-দি, শিবাংশু-দা, '?' - সবাইকে ধন্যবাদ।

    আপনাদের মতামত শুনে মনে হচ্ছে এই লেখা এবং ছবি খুব একটা বেমানান হচ্ছে না গুরু-র এই থ্রেডের জন্য। তাহলে লিখতে থাকি কিছু এমন।
  • একলহমা | 162.158.187.162 | ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৩০91881
  • তোমার-ই লেখা থেকে দেখি কবিকে
    "একপাতা ভালোবাসা লেখা
    অর্ধেক ভিজে যাওয়া পাইনের বনে
    শরীর পেরিয়ে আসা মনে
    যতটুকু চোখ পড়ে থাকে
    দেহ ভাঙা এক রাশ থৈ থৈ জলে
    ততটুকু সবুজ পিছলে পরে নীলে
    বড়ো মনে পরে সুখ
    ওরা কাছে এলে,
    যতটুকু সবুজ পিছলে যায় নীলে”।
    (প্রিয় সুকি, তুমি করে ডাকলাম, ইচ্ছে করল বড়ো )
  • সুকি | 172.68.167.45 | ৩০ মার্চ ২০২০ ০৯:০৯91883
  • একলহমা, আমি তো মনে হয় বয়সে ছোটই হব আপনার থেকে। তুমি বললে কোন অসুবিধা নেই - আপনি শুনতেই বরং কেমন লাগে।
  • সুকি | 172.69.134.50 | ০১ এপ্রিল ২০২০ ২০:২৭91950
  • একটু যোগ করলাম -
  • b | 162.158.50.219 | ০১ এপ্রিল ২০২০ ২১:২৩91951
  • একলহমা | 162.158.187.142 | ০১ এপ্রিল ২০২০ ২১:৩১91952
  • দেখেছি, চুপ করে বসে থেকেছি।
  • সুকি | 162.158.165.173 | ০৪ এপ্রিল ২০২০ ১৯:২৪92019
  • এটাতে টুকটাক যোগ হতে থাক -
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত