• বুলবুলভাজা  খবর  খবর্নয়

  • নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - প্রথম কিস্তি

    অনমিত্র রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    খবর | খবর্নয় | ২৬ জুলাই ২০১৮ | ৩৮২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • আজব খবর -১
    ২০১৬ সালে একটি সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র ভারতীয় সেনায় ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ দিতে গেলে সেনা আধিকারিকরা উল্টে তাকে জেলে পুরে দেওয়ার হুমকি দেন। কারণ পদপ্রার্থীর পেশ করা ডকুমেন্টে গন্ডগোল ছিল। ভারতীয় সেনার মতে ভুয়ো ডকুমেন্ট। ব্যারাকপুরের ঘটনা।

    খবর - ২
    ২০১৮ সাল। ওই একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্র ভারতীয় উপকূলরক্ষীবাহিনীতে চাকরি পায়। কিন্তু শেষ অবধি তারা যে চাকরিতে যোগ দিতে পারেনি তার কারণ তাদের পেশ করা সার্টিফিকেট, রেজাল্ট, ইত্যাদির সত্যাসত্য যাচাই অসম্ভব বলে জানিয়ে দেয় উপকূলরক্ষীবাহিনী। অথচ যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ছাত্ররা পড়াশোনা করেছে সেটি কাগজপত্রের হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন। সোনিয়া গান্ধী, মনমোহন সিং, প্রণব মুখার্জীর মতো হেভিওয়েট নেতাদের ঘুরে যাওয়া একটি প্রতিষ্ঠান, গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, মালদা।

    কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে অনশন-আন্দোলনের সুবাদে বেশ কয়েকদিন ধরেই কানে আসছিলো যে মালদা মেডিক্যাল কলেজেও কিছু একটা চলছে। কানে আসছিলো বলার চেয়ে চোখে পড়ছিলো বলা ভালো বরং, সোশ্যাল মিডিয়ায় দু-একটা মন্তব্য দেখা যাচ্ছিলো। কিন্তু বিশদে বোঝা যাচ্ছিলো না কিছুই। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, মেডিক্যাল নয়, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। কিন্তু কলেজ কি বলা যায়? নাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান? নাকি শুধুই কয়েকটি বিল্ডিং যার কোথাও কোনোদিন সঠিকভাবে নিবন্ধীকরণই হয়নি। এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হয়তো পাওয়া যেতে পারতো প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের থেকে, কিন্তু মজার বা ভয়ের ব্যাপার হলো, তাঁরা নিজেরাও এ বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখেন না। ২০১৬ থেকে ধরলে সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা এই নিয়ে তৃতীয় দফায় আন্দোলনে নেমেছে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সদুত্তর তারা পায়নি কর্তৃপক্ষের থেকে। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকাও তথৈবচ।

    GKCIET অর্থাৎ গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। MHRD তথা মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, দুর্গাপুরের অধীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মডিউলার প্যাটার্নে শিক্ষা ও তৎপরবর্তী শংসাপত্র প্রদানের কথা ছিল। মডিউলার প্যাটার্ন হওয়ার ফলে মাধ্যমিকের পর ৬ বছরের মধ্যে একেবারে B.Tech সম্পূর্ণ করে বেরোনোর আশায় অল ইন্ডিয়া এন্ট্রান্স টেস্ট-এর মাধ্যমে প্রথম বছর ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হন। সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রমটি তিন ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগ দু'বছর করে। অর্থাৎ, মাধ্যমিকের পর প্রথম ২ বছর সার্টিফিকেট কোর্স যা ভোকেশনাল কোর্সে উচ্চ-মাধ্যমিকের সমতুল অথবা আইটিআই সমতুল্য ডিগ্রি, দ্বিতীয় ২ বছর – ডিপ্লোমা অর্থাৎ পলিটেকনিকের সমতুল, তৃতীয় ২ বছর – বি টেক ডিগ্রী। এই প্রত্যেক দু'বছরেই পুরোনো ছাত্রছাত্রীরা যে কেউ, যাঁরা সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমাতেই সন্তুষ্ট, কোর্সটি ছেড়ে দিতে পারেন এবং ভর্তি নেওয়া যেতে পারে নতুন ছাত্রছাত্রীদেরও।

    শুরুতে ইনস্টিটিউটের কোনো নিজস্ব বিল্ডিং ছিলনা। ক্লাস হতো মালদা পলিটেকনিক কলেজের কাছে গভর্নমেন্ট টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভিতর ভাড়া করা সরকারী জায়গায়। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণ সম্পূর্ণ করে। মালদার নারায়ণপুরে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন ভারতবর্ষের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড: মনমোহন সিং। উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া গান্ধীও। সেইদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেক বড় বড় কথা হয়েছিল। যেমন কিভাবে এই মডিউলার কোর্সের মাধ্যমে ছাত্রদের দক্ষতার বিকাশ ঘটবে, অথবা কিভাবে অদূর ভবিষ্যতেই GKCIET মালদার প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য হয়ে উঠতে চলেছে M.Tech বা Ph.D-র সোপান, কিভাবে এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা কাজ পেতে পারেন এই প্রতিষ্ঠানেই, ইত্যাদি।

    এরপর ২০১৪ সালে ক্যাম্পাসে নতুন বিল্ডিং-এর উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন ভারতবর্ষের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী। ২০১৪ সালেই ২০১০, ২০১২ এবং যাঁরা নতুন ভর্তি হলেন সেই সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চালু হয় বি.টেক। ২০১৬তে এই ব্যাচটির উত্তীর্ণ হওয়ার কথা ছিল আর গন্ডগোলের সূত্রপাত ঠিক তখনই।

    (ক্রমশঃ)


    পরের পর্ব>>

    তথ্যঋণ: আলমগীর খান এবং সাইন জাহেদী
  • বিভাগ : খবর | ২৬ জুলাই ২০১৮ | ৩৮২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রৌহিন | 670112.203.017812.5 (*) | ২৬ জুলাই ২০১৮ ০৪:৪৯85524
  • খুব জরুরী লেখা। কিস্তিগুলো আরেকটু বড় বিড় হলে আল হয় - এই তথ্যগুলি আমাদের সবার জানা প্রয়োজন এবং দ্রুত। আশা করছি উ-তিন কিস্তিতে লেখাটা সম্পূর্ণ হবে।

    এবং লেখককে অজস্র ধন্যবাদ বিষয়টি সামনে আনার জন্য
  • Ekak | 90045.207.3467.71 (*) | ২৭ জুলাই ২০১৮ ০২:২০85526
  • এক্টু হাত চালিয়ে লেখা টা শেষ করা হোক।
  • Abhijit | 340112.21.782312.60 (*) | ২৭ জুলাই ২০১৮ ০৩:৫৮85527
  • Purota jante chai
  • pi | 7845.29.783412.109 (*) | ২৭ জুলাই ২০১৮ ০৮:৪২85528
  • ছাত্ররা লিখেছে,

    অবস্থানের ১০২ঘণ্টা ডিরেক্টর,রেজিস্টার,কোন শিক্ষকই কলেজে আসছেন না সবাই বাড়িতে বসে মজা করছে।।"
  • Anamitra Roy | 340112.252.786712.9 (*) | ২৮ জুলাই ২০১৮ ০৩:৩৮85529
  • হাত চালাতে আপত্তি নেই, বেশ চালাতে পারি। কিন্তু এতরকম এতো ঘটনা যে সব তথ্য ঠিকঠাক ভাবে জোগাড় করতে এবং ভেরিফাই করতে প্রচণ্ডই অসুবিধা হচ্ছে।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন