• বুলবুলভাজা  খবর  খবর্নয়

  • নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - তৃতীয় কিস্তি

    অনমিত্র রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    খবর | খবর্নয় | ০২ আগস্ট ২০১৮ | ৪০৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ২০১৬ র জুলাই। মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা। তারপরই চলে আসবে এআইসিটিই-র অনুমোদন। এমনটাই বলে গিয়েছিলেন স্টেট্ কাউন্সিলের স্পেশাল অফিসার। কিন্তু প্রায় দু'সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরও যখন এলো না কোনো খবর ফের অনশনে বসতে বাধ্য হলো জিকেসিআইইটি-র কম্পিউটার সায়েন্স এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ১৫ জন ছাত্র। কর্তৃপক্ষ এবার আর ভুল করেনি, কারণ আগে থেকেই ধারণা ছিল আন্দোলন আবার ছড়িয়ে পড়লে কোন জায়গায় যেতে পারে। ফলে তাড়াহুড়ো করে দু'দিনের মধ্যে নিয়ে আসা হয় অ্যাফিলিয়েশনের চিঠি। বৈধতা পায় কম্পিউটার সায়েন্স, সিভিল, কেমিক্যাল এবং সেরিকালচার-এর মতো ডিপার্টমেন্টগুলি। অবশেষে জুলাইয়ের ২১ তারিখ মালদা শহরে আয়োজিত হয় ছাত্রছাত্রীদের বিজয় মিছিল। কিন্তু গণ্ডগোল পিছু ছাড়ে না জিকেসিআইইটি-র।

    প্রথম দফায় অনশন চলাকালীন যখন একের পর এক ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং কোনো সরকারি মেডিক্যাল টিমকে পাওয়া যাচ্ছে না তাদের দেখভালের জন্য সেই অবস্থায় ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এক ব্যক্তি। তিনি প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার আব্দুল রাজ্জাক। তাঁরই উদ্যোগে ডাক্তার আসে জিকেসিআইইটিতে। আন্দোলনের শুরু থেকে তিনি নৈতিক ভাবে ছাত্রছাত্রীদের পাশেই ছিলেন। হঠাৎ শোনা যায় আব্দুল বাবুকে জিকেসিআইইটি থেকে সরিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে এনআইটি দুর্গাপুরে। স্বভাবতই ছাত্ররা এই খবরে ষড়যন্ত্রের আভাস পায়। আবারও তৈরী হয় আন্দোলনের পরিস্থিতি। এনআইটির তৎকালীন ডিরেক্টর শ্রী অশোককুমার দে-র বক্তব্য অনুযায়ী অবশ্য এর সমস্তটাই অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ছাত্রদের আন্দোলনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যেহেতু এনআইটি জিকেসিআইইটি-র মেন্টর সংস্থা তাই কিছু আর্থিক বিষয়ের কাজ সামলানোর জন্য সাময়িকভাবে আব্দুলবাবুকে দুর্গাপুর পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো চক্রান্ত নেই। তবে এই বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে যাওয়া হবে কি হবে না সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসার আগেই ২৮শে জুলাই ছাত্রদের সামনে আসে আবারো একটি নতুন বিষয়।

    অ্যাফিলিয়েশন নিয়ে যে জট ছিল আর সেই জট ঘিরে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তার ফলে ছাত্রদের বেশ খানিকটা সময় নষ্ট হয়েছিল। পরীক্ষা পিছিয়ে যায় প্রায় দু'মাস। ফলে ছাত্ররা চেয়েছিলেন তাড়াতাড়ি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক যাতে তাঁদের বছর নষ্ট না হয়। সেই সময় জিকেসিআইইটি -র নবনিযুক্ত টিচার ইনচার্জ শ্রী শুভাশীষ দত্ত প্রথমে জানিয়েছিলেন ভর্তির বিষয়টি নিয়ে সমস্যার কিছু নেই। মডিউলার কোর্সের স্বাভাবিক নিয়মেই ভর্তির পদ্ধতি সম্পাদন করা হবে। কিন্তু ২৮ তারিখ তিনি জানান যে ভর্তির বিষয়টি তাঁর হাতে নেই। যেহেতু অ্যাফিলিয়েশন প্রদানকারী সংস্থা স্টেট্ কাউন্সিল তাই এবার থেকে তারাই পরীক্ষা বা ভর্তি জাতীয় বিষয়গুলি দেখবে। এরকমটাই নাকি হয়ে থাকে। যদিও সেই সময়কার সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে শিক্ষাক্ষেত্রের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের মতে টিচার ইনচার্জের দাবী সঠিক নয়। পরীক্ষা বা ভর্তির মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানেরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা অ্যাফিলিয়েশন প্রদানকারী সংস্থার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে।

    এরকম বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই আন্দোলন পুনরায় জোরদার হয়। ২৯শে জুলাই সকাল ১১ টা থেকে টিচার ইনচার্জকে ঘেরাও করে রাখেন ছাত্রছাত্রীরা। ঘেরাও চলে রাত অবধি। ঘেরাওতে মূলত সামিল হন সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কোর্সের পড়ুয়ারা। হিসেব অনুযায়ী সার্টিফিকেট কোর্সের ছাত্রদের ভর্তি হওয়ার কথা ডিপ্লোমায় এবং ডিপ্লোমার ছাত্রদের সরাসরি সুযোগ পাওয়ার কথা বিটেক-এ। কিন্তু এই ভর্তির বিষয়টি সুনিশ্চিত করা যাচ্ছিলো না। এছাড়াও বিটেক-এর পাকাপাকি অ্যাফিলিয়েশন মেলেনি তখনও। অস্থায়ী ভিত্তিতে এক বছরের জন্য অ্যাফিলিয়েশন দিযেছিলো এনআইটি দুর্গাপুর। এবিষয়ে রিসোলিউশন-এর কপি দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের অভিহিত করা হলেও জারি করা হয়নি কোনো আদেশনামা। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধন্দে ছিলেন বিটেক-এর ৮০ জন ছাত্র। আরো সমস্যার ব্যাপার, এনআইটির অধ্যাপক ভি কে দ্বিবেদী এতদিন জিকেসিআইইটি-র টিচার ইনচার্জ ছিলেন। এনআইটিতে প্রতিষ্ঠানটির হয়ে প্রতিনিধিত্বও তিনিই করতেন। কিন্তু নতুন ইনচার্জ শুভাশিষ বাবু জিকেসিআইইটি-র অধ্যাপক হওয়ায় ছাত্রদের মনে হতে থাকে যে দুর্গাপুরে মেন্টর সংস্থার কাছে তাঁদের সমস্যাগুলি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা এরপর থেকে আর আদেও হবে কিনা সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। দিনটি ছিল শুক্রবার। সাংবাদিকদের কাছে শুভাশিস বাবু জানান যে তিনি সবে মঙ্গলবারই বিটেক-এর অ্যাফিলিয়েশনের ব্যাপারটি সুনিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে আবেদন জমা দিয়ে এসেছেন। ছাত্ররা তাঁকে সময় না দিলে তাঁর সত্যিই কিছু করার নেই।

    সেইদিন সন্ধের পর ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়।

    প্রথমত ঘেরাও চলাকালীন কিছু ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স-এর ব্যবস্থা করা হয়নি বলে আগে থেকেই ছাত্রদের মনে ক্ষোভ ছিল। তার উপর আবার সন্ধেবেলা ক্যাম্পাসে হানা দেয় অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তি। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের মারধর করা হয়। রাত দশটার সময় ক্যাম্পাসে পুলিশ এলে ছাত্ররা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। পুলিশ আশ্বাস দেয় যে টিচার ইনচার্জ ছাত্রদের দাবী পূরণ করার বিষয়টি দেখবেন। ইংলিশবাজার থানার আইসি ছাত্রদের বুঝিয়ে ইনচার্জকে ক্যাম্পাস থেকে বার করে নিয়ে যান। সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে পুনরায় অনশনে বসে ছাত্ররা পরের দিন থেকে। নারায়ণপুরের মূল ক্যাম্পাসে কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে দেয়। ফলে আন্দোলন সরে আসে পাওয়ার গ্রিড ক্যাম্পাসে। যদিও স্টেট্ কাউন্সিলের নামোল্লেখ না থাকা সূত্র অনুযায়ী সব সিদ্ধান্তই নাকি জিকেসিআইইটি কর্তৃপক্ষেরই হাতে ছিল, ৩১শে জুলাই উত্তরবঙ্গ সংবাদকে দেওয়া তৎকালীন ডিরেক্টর অশোকবাবুর বক্তব্য অনুযায়ী স্টেট্ কাউন্সিল যতক্ষণ না লিখিত ভাবে পরীক্ষা ও ভর্তির ব্যবস্থা তাঁদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ততদিন জিকেসিআইইটি কর্তৃপক্ষের কোনোকিছুই করা সম্ভব নয়। সমস্ত শর্ত মেনে না এগোলে ভবিষ্যতে পুনরায় সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি। আরো জানান, মঙ্গলবার, অর্থাৎ ২৬শে জুলাই পাঠানো চিঠির উত্তর এখনো আসেনি স্টেট্ কাউন্সিল থেকে। MHRD-কেও পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে, কিন্তু তারাও নিশ্চুপ। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে নাকি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে প্রতিষ্ঠানের আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি তত্ত্বাবধানে রাখতে বলে হয়েছে। কিন্তু ডিআইজিরা ফোনে সমস্ত ঘটনা শুনেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। অশোকবাবুর মতে ক্লাস শেষ না হলে পরীক্ষা-র ব্যবস্থা করা সম্ভব নয় কোনোভাবেই। উল্টে ছাত্রছাত্রীরা বেশি গন্ডগোল করলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন যাঁরা ভর্তি হয়েছেন তাঁরাও সমস্যায় পড়বেন। কিছু ছাত্রছাত্রী নাকি তাঁকে ফোন করে ক্লাসে আসবার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাদেরকেও ক্লাসে আসতে দিচ্ছে না।

    ৩১শে জুলাই দিনটি ছিল রবিবার। জিকেসিআইইটি-র ছাত্রদের দ্বিতীয় পর্যায়ের আন্দোলনের তৃতীয় দিন। পয়লা আগস্ট ফেসবুকে প্রকাশ করা ছাত্রদের বিবৃতি অনুযায়ী শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে শুভাশীষ বাবু আর ক্যাম্পাসমুখো হননি। তাঁকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না যে আইসি-র সাথে বেরিয়ে গিয়েছিলেন শুভাশীষ বাবু, তাঁকেও। প্রতিবাদে মালদা-র মানিকচকে দেড় ঘন্টা সেদিন রাজ্যসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়েছিল। পোড়ানো হয়েছিল ইনচার্জের কুশপুতুল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের দিক থেকে কোনো বিবৃতি, যথারীতি পাওয়া যায়নি।

    (ক্রমশ)


    <<আগের পর্ব পরের পর্ব>>

  • বিভাগ : খবর | ০২ আগস্ট ২০১৮ | ৪০৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Anamitra Roy | 340112.252.786712.180 (*) | ০৪ আগস্ট ২০১৮ ০২:৫৩84785
  • প্রায় ৩০০ ঘন্টা হতে চললো অনশনের....
  • pi | 785612.40.9008912.241 (*) | ০৪ আগস্ট ২০১৮ ০৩:০০84786
  • ওরা সামনের হপ্তায় কোলকাতা আসছে। কোলকাতার লোকজন একটু এগিয়ে এলে ভাল হয়।
  • pi | 785612.40.560123.34 (*) | ০৪ আগস্ট ২০১৮ ০৬:১২84784
  • আর হইচই নেই? গণিখানের ছাত্রদের কি ভুলেই গেলেন প্রায় সবাই? ছাত্ররা কিন্তু এখনো লড়ে যাচ্ছে, এখনো তাদের দুর্দশা, দুর্ভোগের অন্ত নেই, আর এ নিয়ে সত্যিই সেই আলোড়ন, ভাইরাল প্রতিবাদ নেই, আপডেট জানানো খবর সেভাবে নেই, আপডেট জানার ইচ্ছাও নেই,সে কি সত্যিই কোলকাতা থেকে অনেক দূরে বলে, তথাকথিত এলিট কলেজ নয় বলে? এই অভিযোগ যে উঠেছিল, তাই তো সত্যি মনে হচ্ছে!

    এ সমস্যা কিন্তু আজকের না। আন্দোলন ও আজকের না। আর হইচই নেই? গণিখানের ছাত্রদের কি ভুলেই গেলেন প্রায় সবাই? ছাত্ররা কিন্তু এখনো লড়ে যাচ্ছে, এখনো তাদের দুর্দশা, দুর্ভোগের অন্ত নেই, আর এ নিয়ে সত্যিই সেই আলোড়ন, ভাইরাল প্রতিবাদ নেই, আপডেট জানানো খবর সেভাবে নেই, আপডেট জানার ইচ্ছাও নেই,সে কি সত্যিই কোলকাতা থেকে অনেক দূরে বলে, তথাকথিত এলিট কলেজ নয় বলে? এই অভিযোগ যে উঠেছিল, তাই তো সত্যি মনে হচ্ছে!

    এ সমস্যা কিন্তু আজকের না। আন্দোলন ও আজকের না। ঘটনাক্রম কালপঞ্জী মেনে না জানলে এই সমস্যার জটিলতা, গভীরতা, ব্যাপ্তি কিছুই ঠিক করে বোঝা বা ধরা যাবেনা।

    যাহোক, ছাত্ররা ৭ তারিখ কোলকাতায় আসছেন। আকাদেমির সামনে সভা।

    #পাশেঅাছিজিকেসিঅাইইটি
  • pi | 785612.40.128912.39 (*) | ০৬ আগস্ট ২০১৮ ০৪:৫৫84787
  • ৩৩০ ঘণ্টা হয়ে গেল। ওরা বলছিল, এত সময় ধরে এত সময় ধরে বাড়ির বাইরে। আর পারছেওনা। বলছিল, মালদা বলে, এলিট কলেজ না বলেই বোধহয় সেরকম কোন হেলদোল নেই। এও বলছিল, আর কিছুদিনের মধ্যে কিছু না হলে আত্মহত্যা ছাড়া গত্যন্তর থাকবেনা অনেকের।

    শুনে মনে হচ্ছিল, এরকম তো হয়েই থাকে। হলে ক'দিন হয়তো একটু খবর হবে, বা হবেওনা। এই ভর্তি কাণ্ড নিয়েই তো কত আত্মহত্যা হয়েছে, কী হয়েছে ?
    ব্যাপমে কত খুন, আত্মহত্যা হয়ে গেল, কী এসে গেল। সে নিয়ে তো কেউ আর কথা অব্দি বলেনা !
  • pi | 785612.40.566712.81 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৮ ০২:২০84788
  • রইল।

    #GKCIET

    "বন্ধু, আমরা মালদহ'র জিকেসিআইইটি কলেজের ছাত্রছাত্রী। অনেকেই এই 'কলেজের' বৈধতার বিষয়ে থাকা সমস্যাটা জানো। যারা জানোনা, তাদের জন্য দু'কথায় বলে নিচ্ছি--

    ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন হওয়া এই কলেজের ঘোষণা ছিল মাধ্যমিকের পর ৬ বছরের একটি কোর্সের শেষে বি.টেক ডিগ্রি দেওয়া হবে, যদিও ২০১৫-১৬ সালে জানা যায় কলেজটি কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায় চললেও কোর্সটির কোনও সরকারি বৈধতা নেই। কলেজে'র ফান্ড সরকার দিলেও কোর্সের স্বীকৃতি তারা দিচ্ছেনা-- এটা ভেবে তোমাদের আশ্চর্য লাগতে পারে। কিন্তু এটাই বাস্তব। বাস্তব এটা যে ২০১০ সালে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ৬ বছর পড়ার পর বিনা সার্টিফিকেটে কলেজ ছাড়তে হয়েছে।

    ২০১৫ সাল থেকে এ'নিয়ে টানা আবেদন, নিবেদন, আন্দোলন, লেখালেখি, দরখাস্ত, অনশন, অবস্থান সব করেও আজও এর সমাধান হলনা। কিছু ছাত্রের জীবন নষ্ট করে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক বহাল তবিয়তে নিশ্চুপ বসে আছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের রাজ্যের রাজ্যপালকে এই বিষয়ে এখনই সমাধানের আবেদন করে দেখা করতে চেয়েছি (সোমবার, ১৩ই আগস্ট, বেলা ১ টায়)। প্রশাসনিক টালবাহানা নিয়ে এক দীর্ঘ পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় আমাদের অনুভব-- আমাদের পাশাপাশি তোমরাও রাজ্যপালকে এ'বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করো-- নইলে তাঁদের ঘুম ভাঙানো যাবেনা। সকলের জ্ঞাতার্থে জানাই বুধবার, ৮ই অগাস্ট বেলা ১১ টায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাসে UGC-এর যে অফিস আছে সেখানে আমরা মিছিল করে যাবো এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে দাবীপত্র দেব ও তার সাথে কথা বলবো।রাজ্যপালের সময় চেয়ে এই দিনই দুপুর ২টো থেকে তোমাদের শহর কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে অবস্থানে বসছি। একটু সময় বার করে অবস্থান মঞ্চে এসো, তোমাদের সমর্থন জানিয়ে যাও। রাজ্যপালের কাছে আবেদনের সই সংগ্রহ করছি, তোমার সই'টিও করে যাও। আমাদের প্রতি কোনও উপদেশ/পরামর্শ থাকলে জানাও। এক কথায় আমাদের অনুভব তোমরা সকলে সক্রিয়ভাবে সমর্থন না জানালে কেন্দ্রীয় সরকার আশ্চর্য এই গাফিলতি/দূর্নীতি করেও চুপ করে বসে থাকবে।

    সংগ্রামী অভিনন্দন সহ:
    সাইন(7679159416), রুমন(9064656041), সুপ্রিয়া( 9064625163), সুজন( 9563732106)"
  • Pi | 785612.40.566712.81 (*) | ১০ আগস্ট ২০১৮ ০৬:৩৮84789
  • AlamagIrer posT

    #অবস্থান_বিক্ষোভের_420ঘন্টা_অতিক্রান্ত..

    আমি বাড়িতে শরির অসুস্থ ও কিছু পারিবারিক ক্ষেত্রে আন্দোলন এর সাথে নেই কিন্তু আমার মন এই আন্দোলন এর সাথে আছে,আমি কখনও ভুলতে পারিনা আমার বন্ধু,ভাই,বোনদের যে কষ্ট দিচ্ছে শুয়োরেরবাচ্চা ডিরেক্টর আলাপাতি ও তার কিছু দালাল শিক্ষক।। এখন অবস্থান বিক্ষোভের 420ঘন্টা।।অনশনের 146ঘন্টা।।

    আমি জানতে পারি আমার এক বোন #অনশনকারী নুজরাত বানু গত মঙ্গলবার অসুস্থ হয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিল।।তখন তাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হসপিটালে ভর্তি করাই।।ডাক্তার বলেছিল সুগার, প্রেসার লেভেল অনেক কমে গেছে।।এখনো তার শারীরিক উন্নতি কিছুই হয়নি।।এখনো সে মালদা মেডিক্যাল কলেজেই ভর্তি।।গতকাল ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা গেছে যে তার মাথায় রক্ত জক হয়েছে সবটাই মানসিক অবসাদ থেকে।।

    আমার বন্ধু ও ভাইরেয়া আন্দোলনের একটা অংশ হিসাবে কলকাতায় অবস্থান,কলকাতার জায়গা জায়গা পথসভা করছে।।

    কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন রাতে ইলেক্ট্রিসিটি কেটে দিচ্ছে।।এই গরমের মধ্যে খুব কষ্টে আন্দোলন চালয়ে যাচ্ছে আমার ভাইয়েরা।। অবস্থান বিক্ষোভ মঞ্চে কখনো বিছা আসছে তো আসছে কখনো সাপ,যা আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।।
  • Pi | 785612.40.566712.81 (*) | ১০ আগস্ট ২০১৮ ০৬:৪৩84790
  • আজ।

  • pi | 785612.40.566712.81 (*) | ১১ আগস্ট ২০১৮ ০৫:৩২84791
  • আমরা, *GKCIET'র আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীরা* আজ (১১ই আগস্ট, শনিবার), সারাদিন যাদবপুর, কলেজস্ট্রীট এবং রবীন্দ্রসদন অঞ্চলে দোরে-দোরে, দোকানে-দোকানে এবং পথচলতি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে আমাদের সাথে ঘটে চলা চূড়ান্ত অন্যায়-অবিচারের কথা তুলে ধরলাম। যে যার সাধ্যমতো অর্থসাহায্য, চাল-ডাল, পরামর্শ এবং স্বাক্ষর দিয়ে পাশে দাঁড়ালেন। কেউ কেউ বললেন *কেন্দ্রীয় সরকার এভাবে জালিয়াতি ও বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে তা তো তোমাদের কথা না শুনলে জানতেই পারতাম না*। সাধারণ মানুষকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই আহ্বান জানানোর অভিযানে আমরা পাশে পেলাম যাদবপুর, প্রেসিডেন্সী, cmc, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের। *পাশাপাশি দুপুরের অস্বস্তিকর ঘামঝরানো রোদ ও বিকেলের মুষলধারার বৃষ্টি মাথায় নিয়েই খোলা আকাশের নিচে আমরা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছি। নুজমুলও এই অবস্থাতেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছে*। এর মাঝেই দুপুরের দিকে পুলিশ এসে একবার শাসিয়ে গেছে। যদিও স্থানীয় থানা এবং লালবাজার - দু'জায়গাতেই আমরা অবস্থানের বিষয়টি জানালেও তারা উপেক্ষা করে গেছেন। এসব কোনো কিছুই আমাদের *ভয় পাওয়াতে পারেনি, পারবেও না*। ইতিমধ্যে *সাধারণ মানুষ যেভাবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন*, তাতে আমরা *প্রত্যেক মূহুর্তে নতুন করে বুকে বল পাচ্ছি*।

    আমরা আগামীকাল দুপুর ২টে থেকে রাত্রি ৮টা অবধি রাণুছায়া মঞ্চেই একটি *সাংস্কৃতিক জমায়েত ও কনভেনশন* করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিক্ষানুরাগী ও গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ হিসেবে আপনি আপনার বক্তব্য, গান, কবিতা, পোস্টার নিয়ে আগামীকালের এই সাংস্কৃতিক জমায়েত ও কনভেনশনে আসুন। আমাদের আবেদন, এই বার্তাটি যতদূর সম্ভব ছড়িয়ে দিন।

    আগেও বলেছি, আবারও বলছি, *'হয় বৈধ সার্টিফিকেট নিয়ে বাড়ি ফিরব, নয় আমাদের লাশ ফিরবে'*
  • aranya | 3478.160.342312.238 (*) | ১২ আগস্ট ২০১৮ ০৩:৫১84793
  • খুবই বাজে হচ্ছে, প্রশাসন যেভাবে এটা হ্যান্ডল করছে।
    এত ন্যায্য দাবী পূরণের জন্য-ও অনশন করতে হয়, এ এক অদ্ভুত ব্যাপার, গভীর দুঃখেরও। এবং এই এতদিনের অনশনে বরাবরই যেটা মনে হয়, ছেলে মেয়ে গুলোর কোন দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ক্ষতি না হয়ে যায়..
    এইসময় কাগজ-টা পড়ি, কোন কভারেজ নেই, কলকাতা থেকে দূরে আর এলিট কলেজ নয় - এই যুগ্ম কারণেই হয়ত। গুরুতেই যা পড়ছি এ সম্বন্ধে
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন