• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • দাঁতে নখে রক্ত, দুই বেড়াল

    Parimal Bhattacharya
    বিভাগ : আলোচনা | ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ | ২৭ বার পঠিত
  • দুয়ারে ভোট, তাই ঝুলি থেকে বেরিয়েছে দাঙ্গার বেড়াল - ১৯৮৪ আর ২০০২। দুই প্রধান দলের মধ্যে তুই বেড়াল না মুই বেড়াল চলছে* - তর্জন-গর্জন আক্রমণ, ক্ষমা চাওয়া-না-চাওয়ার প্রতিযোগিতা।
    ১৯৮৪ সালে দুই শিখ দেহরক্ষীর হাতে ইন্দিরা গান্ধী হত্যা হবার পর দিল্লী ও উত্তর ভারতের কয়েকটি শহরে শিখ নিধন চলেছিল কয়েক সপ্তাহ ধরে। শুধুমাত্র দিল্লীতেই প্রায় তিন হাজার নারী পুরুষ শিশু খুন হয়। গোধরায় করসেবকদের পুড়িয়ে মারার পর গুজরাটে মুসলমান নিধন চলে মাসাধিক কাল। হতাহতের সংখ্যা স্বভাবতই কয়েকগুণ বেশি।
    সংখ্যার বিচার এখানে নগণ্য, পাশবিকতা আর সংগঠিত হিংসায় দুটি দাঙ্গাই একে অপরকে টেক্কা দিতে পারে। তবে এমন বীভৎসতা ভারতবাসী দেখেছে - '৪৬-এ, '৯২-এ, তার মধ্যবর্তী সময়ে, তার আগেও। সম্ভবত যেটা দেখেনি, তা হল দুটি ক্ষেত্রেই সরকারের শীতল সক্রিয় উদাসীনতা। নরেন্দ্র মোদী নিউটনের তৃতীয় সূত্র আউড়ে বিখ্যাত হয়েছেন, রাজীব গান্ধী বলেছিলেন - একটি বড়ো গাছ ধরাশায়ী হলে আশেপাশে অনেক ছোট গাছ চাপা পড়ে।
    ১৯৮৪ সালে ২০০২-এর মতো টিভির নিউজ চ্যানেল ছিল না, তবু দুটি ক্ষেত্রে হিংসার চরিত্রে কয়েকটি মূলগত পার্থক্য রয়েছে। যেমন, গুজরাট ২০০২-এর মতো স্বাধীন ভারতে আগে কখনও এভাবে সাম্প্রদায়িক হিংসার অস্ত্র হিসেবে গণধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নকে ব্যবহার করা হয়নি। গর্ভবতী নারীর পেট চিরে ভ্রূণ হত্যার এত ঘটনাও শোনা যায়নি।
    আরেকটি বড় পার্থক্য রয়েছে। ২০০২-এর রেশ কিন্তু এখনও চলছে। গুজরাটে পাকাপাকিভাবে ঠাই-নাড়া হয়েছে অসংখ্য সংখ্যালঘু মানুষ, তাদের আয় কমে গিয়েছে এক তৃতীয়াংশের মতো, ২০ শতাংশ জীবিকা বদলাতে বাধ্য হয়েছে, প্রতিটি শহরের জনবিন্যাস বিভাজিত হয়ে গেছে এলাকা ও ধর্ম অনুযায়ী। '৮৪-র ক্ষেত্রে তেমন কিছু বলা যাবে না। প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে দিল্লীতে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী ও বিধানসভায় নেতা ও রাজ্য সভাপতি দুজনেই শিখ।
    এখন এটাও হয়তো তেমন প্রাসঙ্গিক নয়। এখন কথা হল, দুই দলই ক্ষমা চাওয়া নিয়ে পরস্পরকে দুষছে, নয়তো সামনের দিকে তাকানোর কথা বলছে।
    ক্ষমা শান্তির বাণী ভারী সুন্দর - '৮৪ বা '০২-এর আঁচ যাদের গায়ে লাগেনি তাদের কাছে। ঘরপোড়া স্বজনহারা মানুষ কিন্তু চায় ন্যায়। ন্যায়ের বিচার।
    গুজরাটে অল্প কিছু অভিযুক্ত শাস্তি পেয়েছে, বেশিরভাগই অধরা। দিল্লীর দাঙ্গায় অভিযুক্ত কোনও বড় নেতারই শাস্তি হয়নি, একজন ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছে, অনেকেই পরবর্তীকালে দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছে।
    'ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই হল আদতে ভুলে যাওয়ার বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই' - বলেছেন মিলান কুন্দেরা।
    ১৯৮৪-র নভেম্বরের এক সন্ধ্যায় গুরপ্রীত কউরের প্যাটেলনগরের বাড়ি থেকে তাঁর শশুর স্বামী দুই দেবরকে টেনে বের করে সামনের চকে পেট্রোলে স্নান করিয়ে পুড়িয়ে মেরেছিল ঘাতকেরা। সেই হত্যার কোনও কিনারা হয়নি আজও। অনেকদিন ঐ জায়গায় কালো পোড়া দাগ ছিল। এখন আর নেই, নতুন টালি বসেছে। কিন্তু গুরপ্রীত এখনও দেখতে পান সেই দাগ।
    আমেদাবাদের গুলবারগ সোসাইটির সামনে সাংসদ এহসান জাফরিকে কীভাবে প্রথমে জীবন্ত হাত পা কেটে, তারপর পুড়িয়ে মারা হয় দেখেছিলেন তাঁর স্ত্রী জাকিয়া। ন্যায়ের আশায় লড়াই করছিলেন এতদিন। কিছুদিন আগে চোখে জল নিয়ে আদালত চত্বর ছেড়ে চলে গেলেন জাকিয়া জাফরি।
    গুরপ্রীত কউরের চোখের জল নুন হয়ে গিয়েছে।

    এই বিষয়ে উর্বশী বুটালিয়া ও হর্ষ মান্দারের দুটি প্রাসঙ্গিক লেখার অংশ রইল নীচের লিংক-এ।
    http://dyanchinama.wordpress.com/

    * http://www.thehindu.com/todays-paper/he-has-walked-the-talk-congress/article5628728.ece
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ | ২৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • | 24.97.223.23 (*) | ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ ০২:৩৮74040
  • করসেবকদের পুড়িয়ে মারা --- নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। গণহত্যা শুরু করার সলতে পাকানো হতেই পারে।

    বাকী অংশে একমত।
    একটা কথা কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছে, ভারতীয় উপমহাদেশে 'দাঙ্গা' জিনিষটা বোধহয় ৪৭ এর দেশভাগ এর পর আর হয় নি। যেখানে যা হয়েছে সেটা মূলতঃ সংখ্যালঘুর উপরে সংখ্যাগুরুর অত্যাচার। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, বর্মা সর্বত্রই তাই। যে যেখানে সংখ্যাগুরুর সে সেখানে সংখ্যালঘুকে মেরে কেটে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
  • Parimal Bhattacharya | 69.93.203.234 (*) | ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ ০৪:০৪74041
  • যেহেতু ট্রেনের কামরায় অসাবধানে আগুণ লেগে দুর্ঘটনা নয়, এবং সমবেত আত্মাহুতির ঘটনাও নয়, তাই 'পুড়িয়ে মারা' কথাটা লেখা হয়েছে, কোনও দিকে আঙুল তোলা হয়নি কিন্তু। এটুকুই বলার।
    "গণহত্যার সলতে পাকানো" - কথাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্মর্তব্য, পোড়া মৃতদেহগুলো আমেদাবাদে নিয়ে এসে মিছিল হয়েছিল।

    দাঙ্গা মানে আসলে "সংখ্যা লঘুর ওপর সংখ্যা গুরুর অত্যাচার" - একমত। উল্লিখিত দেশগুলোর তুলনায় ভারতের ব্যাপারটা একটু বোধহয় প্যাঁচালো কারণ যেহেতু রাষ্ট্রের কোনও ঘোষিত ধর্ম নেই।
  • সিকি | 132.177.59.133 (*) | ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ ০৪:৩০74042
  • পুড়িয়ে মারা হয়েছিল গোধরায়, এর সপক্ষে কিন্তু অনেক সাক্ষ্য পাওয়া গেছিল। নানাবতী কমিশনের রিপোর্টে এই নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আছে। বাইরে থেকে কেরোসিন ঢালা হয়েছিল, আর আগুন লাগানো হয়েছিল বাইরে থেকেই, সেটুকু বোধ হয় প্রমাণিত।
  • Du | 230.225.0.38 (*) | ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ ০৯:৩৪74039
  • গোধরায় করসেবকদের পুড়িয়ে মারার পর - কথাটি এইভাবে ব্যবহার করা সঙ্গত নয় - যেখানে এটি কে বা কারা কেন করেছিল সেটি পরিস্কার নয় এবং এই ঘটনাটিকে দাঙ্গার কারন হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে নরেন্দ মোদীর সরকার।

    বাকী অংশের বক্তব্যের সঙ্গে একমত।
  • objective comment | 131.241.218.132 (*) | ৩০ জানুয়ারি ২০১৪ ০৭:০৮74043
  • "প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে দিল্লীতে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী ও বিধানসভায় নেতা ও রাজ্য সভাপতি দুজনেই শিখ।" এটা কোনো যুক্তি নয় ১৯৮৪ কং দায় কমানোর। তাহলে ২০০২ দায় কমাতে ভাজপা ও বলবে তো ওদের ও সিকান্দার বখত বিদেশ মন্ত্রী ,রাজ্যসভার দলনেতা ছিল , কালাম কে প্রেসিডেন্ট করেছিল । মুজাফফর নগরের পর মুলায়াম দের সেকুলার চিন্হিত করার মানে হয় না ।
  • matamat | 212.191.212.178 (*) | ৩১ জানুয়ারি ২০১৪ ০৬:১৯74044
  • দাঙ্গা ব্যাপার টা খারাপ। কিন্তু পুরোটাই একটা ঐতিহাসিক শৃঙ্খলে বাঁধা
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত