• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ভ্রমণ কাহিনী নয় -১

    Prativa Sarker লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০১ নভেম্বর ২০১৮ | ২৩০ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • আমাদের দেশের রাজনীতি পাঁচ হাজার বছরের হারাপ্পান কঙ্কালকেও রেহাই দেয় না। কবর থেকে তুলে নানা পরীক্ষানিরীক্ষার পর যেই দেখে পালে বাতাস লাগছে না, অমনি সব রিপোর্ট চেপে দেয়।
    ধর্মীয় প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার মরীয়া চেষ্টা অথবা দুর্বলের ওপর চূড়ান্ত অত্যাচার যে কোন ধর্মকে মৌলবাদী করে তোলে। সে দুর্বল সংখ্যালঘু অথবা দলিত হতে পারে, মেয়েরাও হতে পারে। আবার কোন সম্প্রদায়ের ওপর রাষ্ট্রীয় মদতে নামিয়ে আনা অত্যাচারও হতে পারে।

    পাঞ্জাবে বীরের জাত সুদর্শন শিখ নারীপুরুষের সান্নিধ্যে এবার ধর্মীয় ভারত দেখবো বলে বেরিয়ে এই উপলব্ধি নিয়ে ঘরে ফেরা।

    নাহলে ধর্ম মেনে চলা সাধারণ মানুষগুলোকে আমার মঙ্গলগ্রহের জীব কোনদিনও মনে হয়নি। যেহেতু স্বপরিবারের আস্তিকতা পার হয়ে নাস্তিকতা নিজের চেষ্টায় অর্জন করেছি, শুধু ধর্মের কারণে কাউকে গাল দেওয়া বা ঘৃণা করা আমার হাস্যকর লাগে। এতোবড় দেশের কোণে কোণে ধর্মপ্রাণ বেশিরভাগই গরীব অসহায় মানুষ, মৌলবাদের দাপট হালে বাড়লেও অনুপাতে অনেক কম, আমার এতো স্পর্ধা নেই তাদের তুচ্ছ জ্ঞান করে অনবরত গালি দিয়ে যাই। বড়জোর তাদের বোঝানোর চেষ্টা করতে পারা যায়, ব্যবহারিক উদাহরণ তুলে ধরা যায়, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সঠিক শিক্ষা প্রসারের চেষ্টা করা যায়, কিন্তু জন্মের সংস্কার টুসকিতে না পাল্টালে জোর করা যায়না, তাচ্ছিল্য করা যায়না । একমাত্র মৌলবাদী সন্ত্রাসী যারা মানুষের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তারা ছাড়া কারো ওপর জোর খাটানো যায় না।

    আমি অমৃতসরের যে রেল লাইন পেরিয়ে ওয়াগা গেলাম দুদিন বাদে সেখানে আমোদলোভী ৬১ জন মানুষ কচুকাটা হয়ে পড়ে রইল। রেলের গাফিলতি না প্রশাসনের দোষ সে চর্চা চলবে, কিন্তু এই মানুষগুলোকে বেশ হয়েছে বলতে পারব না। তারা নীলছবি দেখে দশেরা উদযাপন করেনি, গণধর্ষণের আনন্দ চায়নি, শুধুমাত্র ধর্মীয় লোকাচার পালন করছিল। যে রাবণ সাজে দশ বছর ধরে সেই যুবকটিও ট্রেণের ধাক্কায় মারা গেছে। তাকে আমি ধর্মান্ধ বলে গাল দিতে পারব না।

    এটা বুঝতে হবে বৃহত্তর ভারতে ধর্ম মেক আপের মতো আলগা কোন ব্যাপার নয়, যাপন এবং সংস্কৃতির আরেক নামমাত্র। ধর্মের কুফল বোঝাবার চেষ্টা আর ধর্ম উৎপাটন কোনটা তাদের ক্ষেত্রে কতটা কাজ দেবে সেটা এখনো অপরীক্ষিত । বরং ধর্মকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা খুব চালু। ফেবুর নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে সৌখিন জ্ঞান বৃহত্তর ধার্মিক ভারতের কোন কাজে আসবে বলে মনে হয়না।

    স্বর্ণ মন্দিরে দাঁড়িয়ে এইসব ভাবছিলাম যখন, তখন সচেতনভাবে আমার মাথায় কাপড় ছিল। কারো কোন ভাবাবেগে আলপটকা আঘাতে বিশ্বাস রাখিনা। যদি ঠিক করতাম যাব না, তাহলে যেতামই না। গেছি যখন, তখন আর পাঁচজনের থেকে আমি আলাদা, আমার বাবা অমুক, আমি ধর্ম মানি না, তাই আমি মহান, এইসব স্টেটমেন্ট দেবার জায়গা স্বর্ণমন্দির নয়। এইসবের জন্য ফেবু আছে তো !

    আমি বৈপরীত্য বোঝার চেষ্টায় ছিলাম। আমার সামনে সূর্যালোকে ঝলমল করছে স্বর্ণমন্দিরের চূড়া, অপূর্ব রাগনির্ভর গুরবাণীর সুর ভাসছে আকাশে, অগুন্তি মানুষ পরমপ্রিয়কে পাবার জন্য বিহবল চোখমুখ নিয়ে বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে। লাইন একটু এগোলেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে করসেবকরা খালি হাতে পায়ের ধুলো সাফ করছে পূণ্যার্থীর চলে যাবার রাস্তায়। আমি জলের মধ্যে মাছ হয়ে মিশে গেলাম, তবু অকাল তখতের সামনে দাঁড়িয়ে মনে পড়ে গেল সন্ত্রাসী ভিন্দ্রানওয়ালেকে, অপারেশন ব্লুস্টার যার রাজনৈতিক মদতের বাড়বাড়ন্ত শেষ করেছিল রক্ত আর মৃত্যুর আঁচে।
    আসলে ধর্মচর্চা আর ধর্মীয় সন্ত্রাসের সীমানা মিলেমিশে যায় বার বার। ধর্মের নামে সমস্ত ধর্মোপদেশের বিরুদ্ধাচরণ করাই যেন বীরত্ব। ক্ষমতার লোভ সব তছনছ করে দেয়। উপরন্তু আছে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা যা গুবলেট করে দেয় সবকিছু। সাবধান থাকতে হয় তাই, খুব সাবধান থাকতে হয় !

    আজকের স্বর্ণমন্দিরের কোথাও সেই রক্তের ছিটেফোটা লেগে নেই। ঘি চপচপে হালুয়া প্রসাদের বাটোয়ারা চলছে। একসাথে বসে খাবার এতো বড় লঙ্গর আমি জীবনে দেখিনি। বিশাল সোনার হার্মোনিয়াম বাজছে গুরু গ্রন্থসাহেবের পাশে। গ্রন্থীদের কি সুন্দর সৌম্য চেহারা ! ছড়ানো হাতের মুঠির মতো বিশাল সাদা বাতাসা প্রণামীর বিনিময়ে। যারা রেললাইনে কাটা পড়ল তাদের কেউ কেউ সেদিন পার্থিব বিপদমুক্তির প্রার্থনায় একই লাইনে দাঁড়িয়েছিল না, এমনটা নিশ্চিত করে বলতে পারিনা।
    আনন্দপুরসাহিবেও একই দৃশ্য দেখেছি। নীল পোশাক পরা, সুউচ্চ পাগড়ি মাথায় গর্বিত নিহাং, পবিত্র সেনানী সব। অথচ এইই ছিল ভিন্দ্রানওয়ালের আঁতুড়ঘর। এই ফ্রাংকেনস্টাইন তৈরিতে কাদের মদত ছিল, কেনই বা ছিল সেসব এখন জলের মতো স্পষ্ট। সেই ফাঁদে পা দেবে একজন গ্রন্থী, ধর্মাচরণে পারদর্শী ও ধর্ম শাস্ত্রবিশেষজ্ঞ যে কিনা গুরুবাক্যকে বেদবাক্য বলে জানে, এও বড় আশ্চর্য।
    বার বারই দেখা গেছে সন্ত্রাস সাধারণের জন্য কোন চিরস্থায়ী স্মৃতি, মোহ কিছুই রাখে না ! বরং উল্টো, শান্তিপ্রিয় জনগণ পাঞ্জাবে সুশাসনের খোঁজে সেই কংগ্রেস সরকারকেই নির্বাচিত করেছেন। ছুটন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে ভগত সিংহের গ্রাম দেখান ড্রাইভারসাহেব, কিন্তু একবারও কোন বিতর্কিত নাম উচ্চারণ করেন না।
    তাই ভুল করুন বা ঠিক করুন, ভিন্দ্রানওয়ালের কথা জালিয়ানওয়ালাবাগের মাটিতে দাঁড়িয়ে আর মনে পড়ে না। আমার চেতনা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকেন বীর উধম সিং, রক্তমাখা ঐ দিনটিতে যিনি সমবেত জনগণকে তেষ্টার জল বিলুচ্ছিলেন।
    বাবা মা মারা যাবার পর দাদার হাত ধরে এতিমখানায় এসে উঠেছিলেন উধম। চোখের সামনে হাজার হাজার নিরপরাধ নরনারীর লাশ লুটিয়ে পড়বার স্মৃতি চিরকাল মাথার ভেতর সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন। সুযোগ মিলতেই ইংল্যান্ড গমন আর লন্ডনে জালিয়ানওয়ালাবাগ ম্যাসাকারের সময় পাঞ্জাবের গভর্ণর ডায়ারকে এক বুলেটেই ঝাঁজরা ক'রে ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বদলা নেওয়া। এই ডায়ার কিন্তু গুলি চালাবার হুকুম দেওয়া জেনেরাল ডায়ার নয়। উধম সিং বদলা নেবার আগেই তার দেহান্ত হয়েছিল। তবু এই অসমসাহসিকতা কাঁপিয়ে দিয়েছিল অত্যাচারী শাসকের হাড়মজ্জা। উধম সিংকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল সে অনুতপ্ত কিনা। বীর বিপ্লবী জবাব দেন, আবার সুযোগ পেলে বিদেশী বানিয়াদের আবার গুলিতে ঝাঁজরা করবেন।
    ফাঁসি হয় উধম সিংয়ের। অনেক পরে দেহাবশেষ এনে সংরক্ষিত করা হয় জালিয়ানওয়ালাবাগের মিউজিয়ামে। ঝকঝকে সেই স্বর্ণবর্ণ পিতল-কলসের সামনে দাঁড়িয়ে বড় আক্ষেপ জাগে। এঁদের বলিদানের প্রতি কি সুবিচার করলাম আমরা ! কোথায় সঅনুচর ভগত সিংয়ের অমৃতসর, মান্টোর বিচরণ
    ভূমি, আর কোথায় ধূলিধূসরিত পণ্যমুখর গতানুগতিক অমৃতসর যেখানে জালিয়ানওয়ালাবাগের সংকীর্ণ গেট থেকে বেরিয়েই চোখে পড়ে ম্যাকডোনাল্ডসের বিশাল কাচের বিপণি।
    এই দীন দুনিয়ায় এখন কেউ স্বপ্নও দেখে না। সবার আমোদ এখন ওয়াঘা বর্ডারের যুদ্ধু যুদ্ধু খেলায়।
    এইসবের ক্লাইম্যাক্স কঙ্কাল কান্ডে। যার বয়স আবার পাঁচ হাজার ! সিন্ধু সভ্যতার সেই পাঞ্জাবের কথা বলছি পরের কিস্তিতে।


    পাঞ্জাবে দুটো ব্যাপার আমাকে আশ্চর্য করেছে। এক, স্বাধীনতার পর সিন্ধু সভ্যতার যতো নিদর্শন এধারে পাওয়া গেছে তার প্রায় সবটাই পাঞ্জাব, হরিয়ানা (পরে) এবং গুজরাটের কচ্ছে। বেশিটাই পাঞ্জাব আর রাজস্থানের সীমানায়। কালিবঙ্গান( প্রচুর কালো পাথরের ভগ্ন আস্ত বালা পাওয়া গেছে, তাই এই নাম) , রাখিগঢ়হি, কোটলা নিহাং, আর অতি অবশ্যই রোপার। এই রোপার বা রূপপুরেই আমার আত্মজের বসবাসের কারণে আমাকে এবারে ঘাঁটি গাড়তে হয়েছিল।

    দুনম্বর আশ্চর্য, গোটা ক্ষেত্রটিতে পাওয়া প্রচুর সিন্ধু-মানবের কঙ্কাল। রাখিগঢ়হিতে সাঁইত্রিশ, তো রোপারে এগার। বেশির ভাগই কাত করে sleeping position এ উত্তর দক্ষিণে শোয়ানো। প্রত্যেকটির মাথার কাছে কমবেশি ভাঙা বিশটি মৃৎপাত্র। তাতে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া শস্যবীজ পাওয়াতে মালুম হয় মরণোত্তর জীবনের চাহিদা মেটাবার বন্দোবস্ত থেকে থাকবে। তবে মিশরের পিরামিডের মতো বহুমূল্য দানসামগ্রী দেবার প্রথা ছিল না, এ ব্যাপারে ঐতিহাসিকরা একমত। বড়জোর কোন কোন কবরে রঙিন কর্নেলিয়ান পুঁতির ছেঁড়া মালা, হয়তো প্রিয়জনের জন্য কোন কিশোরীর ভালবাসার শেষ দান।
    সিন্ধু-সভ্যতার
    এই কঙ্কালগুলোর বর্তমান ঠিকানা দিল্লীর ন্যাশনাল মিউজিয়াম। রাখিগঢ়হিতে প্রাপ্ত একটি কঙ্কালের ডি এন এ টেস্ট হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে। তার ফলাফল ঘোষনা করবার কথা ছিল ২০১৭র সেপ্টেম্বর মাসে। কিন্তু মহামান্য ভারত সরকারের বিশেষ আপত্তিতে তা এবছরের সেপ্টেম্বর মাসেও হতে পারেনি। কি সেই আপত্তি, কেন এই গোপনীয়তা তার রোমহর্ষক কাহিনী ফেঁদে বসবার আগে রোপার সম্বন্ধে আর একটু বলি।

    রোপার তার অবস্থানগত সুবিধের জন্য পাঁচহাজার বছর ধরে এক সুপ্রাচীন জনবসতির সম্মান লাভ করে এসেছে। শতদ্রু এখানে নাব্য, সহজে পারাপারযোগ্য। জলবায়ু চমৎকার। বৃষ্টিপাত না বেশি, না কম। আর শিবালিক পর্বতমালার ছায়া গায়ে এসে পড়ে শহরের একপ্রান্তে উঁচু হয়ে থাকা মস্ত প্রাচীন ঢিপির ওপর দাঁড়ালে। পায়ের নীচে যে স্পন্দন কল্পনায় আসে তা শুধু প্রাচীন ও পরিণত সিন্ধু সভ্যতারই নয়,তার পরবর্তী নানা যুগের মিলিত প্রাণপ্রবাহ বয়ে গেছে ঠিক এইখানে, একেবারে মধ্যযুগ অব্দি। ১৯২০সালে এই ঢিপি খনন করা হয়েছিল, প্রাপ্ত নিদর্শন সব প্রদর্শিত হচ্ছে রোপার আর্কিওলজিকাল মিউজিয়ামে। এখনো ঢিপির একেবারে গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে একবিংশ শতকের পাকা বাড়ি, মুখর জনবসতি।আর কি আশ্চর্য, ইরফান হাবিব তাঁর সিন্ধু সভ্যতা (এনবিএ) বইটিতে যেমন বলেছেন ঠিক তেমন বুনো গাধার সংমিশ্রণজাত onager দেখলাম রোপারের রাস্তায়। রাবারের মোটা টায়ার পরানো গাড়ি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। এদেরই বহু পুরনো অস্থি পাওয়া গেছে প্রাচীন বসতগুলিতে, পাওয়া গেছে গরু ভেড়া ছাগলের অস্থিও। আর তা এতো বিপুল পরিমাণে, সিন্ধু-মানব মাংসভুক ছিল এই অনুমান খুব জোরালো।
    ঢিপির ওপর দাঁড়ালে শিবালিক হাতছানি দেয় আগেই বলেছি। পাহাড়ে চিরসবুজ পাইন, শাল,আবলুস,সিসাম এবং আরো উঁচুতে দেবদারু গাছের সমারোহ। কুলু ও সিমলার দূরত্ব এখান থেকে সময়ের মাপে চারঘন্টা। জলপথপরিবহণের কেন্দ্র হওয়ায় রোপার থেকেই পাহাড়ি কাঠ পাঠানো হতো সিন্ধু সভ্যতার কোণে কোণে, এ অনুমান প্রখ্যাত ঐতিহাসিক শিরিন রত্নাগরের ( হরপ্পা সভ্যতার সন্ধানে, এনবিএ)। এটা প্রমাণিত সত্য যে লাহোর থেকে অনতিদূরে মহেঞ্জোদোরোর বাড়ির ছাদে দেবদারু কাঠের সিলিং লাগানো হয়েছিল।

    সিন্ধু সভ্যতায় নানা শিল্পদ্রব্য বানাতে, পুঁতির ভেতর দিয়ে ছ্যাঁদা করতে, অস্ত্রশস্ত্র বানাতে নানা আকারের জটিল তামার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হত। রোপার মিউজিয়ামে এমন অনেক নিদর্শন রাখা আছে। কিছু ছবি দেওয়া হল। শিবালিক পর্বতের নিম্নাংশে তখন তাম্রখনিজ উত্তোলন করা হতো বলে প্রমাণ হয়েছে। সেই তামা রোপারে এনে তাকে গলিয়ে নানা চেহারা দিয়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতো এইরকমই বিশ্বাস ঐতিহাসিকদের। কতটা গুরুত্ববহ ছিল প্রাচীন রোপার তা বুঝতে দেরী হয়না, যদিও এখন তার গর্বের একমাত্র ধন পাঞ্জাব আই আই টি।

    কঙ্কালের ডি এন এ টেস্টে প্রবল ভরসা রেখেছিল হিন্দুত্ববাদীরা। ভারতে চিরকাল হিন্দুরাই রাজত্ব করেছে, এ দেশ কেবল তাদেরই, এইরকম প্রমাণ করা সহজ হয় যদি সিন্ধু-মানবের ডি এন এর সঙ্গে মিল খায় বর্তমানের জাঠ, পাঞ্জাবী, উত্তর ভারতের উচ্চবংশজাতদের। বাস্তবিকপক্ষে সিন্ধু- মানবের কঙ্কালের ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছিল উত্তর ভারতীয় জাঠ ডিএনএ-র সঙ্গে মিল খোঁজবার জন্য। অথচ বিশ্বইতিহাস মোটামুটি একমত, যে যাদের হিন্দুত্ববাদীরা আর্য বলে সেলাম ঠোকে, তারা ককেশিয়ান যাযাবরের জাত, কালক্রমে মধ্য এশিয়া থেকে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে এরা আসে দক্ষিণ এশিয়ায় , এদেরই একদল যায় উত্তর ইউরোপে। এদের সঙ্গেই ঘোড়া আমদানি হয়। তার আগে নগরকেন্দ্রিক সিন্ধু সভ্যতায় ঘোড়ার চিহ্নমাত্র ছিল না। যতো খেলনা, শিল্পকর্ম, হাড়গোড়, সীলমোহরে উৎকীর্ণ পশুমূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে হরাপ্পান ঢিপিগুলিতে তার মধ্যে একটি ঘোড়াও খুঁজে পাওয়া যায় না। আছে এক শৃঙ্গবিশিষ্ট কাল্পনিক জন্তু ইউনিকর্ণ। কিন্তু ঘোড়া নেই।
    চেহারাতেই বা মিল কি ? সিন্ধু মানব বা মানবীর পুরু ঠোঁট, চেপ্টা নাক, চেরা চোখ, যেমন দেখা যায় পুরোহিত রাজা, নৃত্যরতা রমণী বা অন্যান্য মূর্তি থেকে। এদিকে তথাকথিত আর্যবংশ সম্ভূত জাঠরা ও অন্যান্য উচ্চবংশীয়রা খাড়া নাক, উচ্চ ললাট, আয়ত চোখের অধিকারী। তথাকথিত আর্যদের ভাষা সংস্কৃত, এদিকে সিন্ধুলিপি এখনো পড়া যায়নি।

    এই যাযাবররা দক্ষিণ এশিয়ায় পদার্পণ করবার বহু আগেই হারাপ্পান সভ্যতার বিকাশ হয়েছিল। কার্বণ টেস্ট ও অন্য সব পরীক্ষানিরীক্ষা তাইই বলে।

    কিন্তু সে সব যুক্তি হেলায় উড়িয়ে দিয়ে এখন নব্য হিন্দুত্ববাদীদের ওয়ান পয়েন্ট এজেন্ডা হচ্ছে সিন্ধু সভ্যতাকে আর্য বৈদিক সভ্যতা বলে প্রতিষ্ঠা করা। যেন এরাই চিরকাল ভারতের অধিবাসী ছিল, হরাপ্পা মহেঞ্জোদোরোর নগর সভ্যতা এদেরই তৈরি। এরা বলে, আর্যরা আসলে হরাপ্পান হিন্দু, বাইরে থেকে এরা মোটেও আসেনি, সরস্বতী নদী ( সিন্ধু নদ যেন এদের ম্যাপে কখনো ছিলই না) ভিত্তিক এই সভ্যতা বেদপাঠে পুষ্ট এবং সনাতন ধর্মের উৎস। এদের গুরু গোলওয়ালকরের অমৃতবাণী, যা লিপিবদ্ধ আছে Bunch of Thoughts এ, সে অনুযায়ী ভিন্ন জাতিকল্পনা ইংরেজদের বদমাইসি। ওরাই মাথায় ঢুকিয়েছে যে ভারতবাসী কখনোই এক জাতি এক প্রাণ ছিল না। বাইরে থেকে যখন যে এসেছে সে এই দেশে বসতি স্থাপন করে থেকে গেছে। ইসলামধর্মাবলম্বী এবং ইংরেজদের মতো তথাকথিত হিন্দুরাও বহিরাগত একথা মেনে নিতে গোলওয়ারকার সাহেবের বড় কষ্ট। তাই তাঁর মতে সিন্ধুসভ্যতা এবং বৈদিক সভ্যতা এক। সিন্ধু সভ্যতা বৈদিক আর্যসভ্যতারই একটি ধাপ।

    তাই গোলওয়ালকারের চেলাচামুণ্ডারা গুরুর কথাকে মান্যতা দিতে মহা উৎসাহে দেশবিদেশের ঐতিহাসিক এবং বিজ্ঞানীদের ডেকে মহাসমারোহে সিন্ধু-মানবের ডি এন এ টেস্ট করালো ২০১৫ সালে। আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরে অন্তকর্ণের সুরক্ষার ব্যবস্থা করে যে petrous bone তার ভেতর একটি চরম ঘন অংশ আছে। সেখান থেকে যে কোন সময় মানবদেহের অন্য টিস্যুর থেকে ১০০গুণ বেশি ডি এন এ পাওয়া সম্ভব। রাখিগঢ়হির সিন্ধু- মানবের কঙ্কালের এই বিশেষ হাড় থেকেই ডি এন এ সংগ্রহ করা হয়েছে।

    কিন্তু এইবার বাঁধলো বিষম গোল। আন্তর্জাতিক স্তর থেকে যেটুকু খবর চুইয়ে এসেছে তাতে জানা যাচ্ছে
    আর্য জিন বলে যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সেই প্রাচীন ডি এন এর জেনেটিক মার্কার হচ্ছে R1a1. এটি দেখা গেছে ব্রোঞ্জ যুগের তৃণভূমিচারীদের মধ্যে, যারা মধ্য এশিয়ার স্তেপভূমি থেকে উত্তর ভারতে এসেছিল। এদেরকেই আর্য নামে অভিহিত করা হয়। ঐতিহাসিকরা একমত যে এই তথাকথিত আর্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবার পর। এরা পশুপালন করতো, ঘোড়ার ব্যবহার জানত, রথ চালাতো, যুদ্ধকুঠার ব্যবহার করত। রাখিগড়হির কঙ্কালের ডি এন এর সঙ্গে এদের ডি এন এ একেবারেই ম্যাচ করছে না। তাহলে তো এ কঙ্কাল তথাকথিত আর্যবংশোদ্ভূত নয়। কি তবে রাখিগঢ়হির সিন্ধু-মানবের আসল পরিচয়?

    এই কর্মকান্ডের প্রধান বিজ্ঞানী নীরজ রাই বলেন, এই ডি এন এর সঙ্গে মিল রয়েছে দক্ষিণ ভারতের আদিবাসীদের। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে নীলগিরির ইরুলা উপজাতির সঙ্গে। তার মানে, আমরা ছোটবেলায় ইতিহাস বইতে একটি সম্ভাবনার কথা পড়েছিলাম যে সিন্ধুসভ্যতা দ্রাবিড় সভ্যতারই অংশ এবং সম্প্রসারণ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার পাল্লা তো সেইদিকেই ঝুঁকে পড়ছে। হয়তো আদি মানব বিন্ধ্য পেরিয়েই ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা উপমহাদেশে। আবার বহিরাগত আক্রমণের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে পেছোতে পেছোতে ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তার আধিপত্য শুধুমাত্র বিন্ধ্যের ওপারেই বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছে। দ্রাবিড়দের জাতিগত অহংকার এবং বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয়দের সম্বন্ধে অনীহা এই অনুমানকে জোরদার করে।
    R1a1 বা তথাকথিত আর্য জিন কিন্তু বহাল তবিয়তে রয়েছে বর্তমানের জাঠ এবং উত্তর ভারতীয় উচ্চ বংশের মধ্যে। অর্থাৎ স্তেপভূমি থেকে আসা যাযাবরদের বংশগতির বাহক এরা। কিন্তু হরাপ্পান বংশগতির বিন্দুমাত্র চিনহ এরা বহন করেনা। সে চিনহ দিকনির্দেশ করছে দাক্ষিণাত্যের দিকে। সেখানে আদিবাসীরা এই একই ডিএনএ বহন করে নিয়ে চলেছে।

    তাহলে ভারত একটি বিশাল দেশ যেখানে যুগ যুগ ধরে বহিরাগতরা এসেছে এবং শক হুণ দল পাঠান মোগল একই সত্বায় লীন হয়ে গেছে। কোন বিশেষ ধর্ম বা জাতির পৈত্রিক সম্পত্তি নয় এই দেশ। যখন যে এসেছে সে এখানেই থেকে গেছে, সে অর্থে এই দেশ সবার। তবু কি আশ্চর্য, পৃথিবীর সবথেকে উঁচু মূর্তি বানিয়ে আমাদের ঐক্য প্রমাণ করতে হয়, কিন্তু আধিপত্যবাদের কারণে একই সময়ে অবলীলায় চেপে দিই সিন্ধু - মানবের ডি এন এ টেস্টের ফলাফল! অথচ এ দেশে যে সবার সমান অধিকার এটা প্রমাণের জন্য, সবাইকে ঐক্যসূত্রে গাঁথার জন্য আর কোন পাথুরে প্রমাণের দরকার ছিল কি ?
    যদি কোন আদিপুরুষ/ নারী থেকে থাকে ভারতীয়দের, যাকে উৎস বলে সম্মান জানানো বাঞ্চনীয়, ডি এন এ টেস্ট বলছে সে মানুষ দাক্ষিণাত্যের উপজাতি। এই ফলাফল হিন্দুত্ববাদীরা অস্বীকার করবে তাতে আর আশ্চর্য কি !
    যে কঙ্কালের ছবিটি রইল সেটি রোপার সংগ্রহশালা থেকে নেওয়া।
    এই পরীক্ষানিরীক্ষা নিয়ে প্রচুর লেখালিখি হয়েছে। তারও কিছু লিঙ্ক রইল।

    https://www.indiatoday.in/amp/magazine/cover-story/story/20180910-rakhigarhi-dna-study-findings-indus-valley-civilisation-1327247-2018-08-31
  • বিভাগ : ব্লগ | ০১ নভেম্বর ২০১৮ | ২৩০ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Prativa Sarker | 238912.66.1256.174 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:২৩63043
  • P_20181017_112048_vHDR_Auto_1
  • Prativa Sarker | 238912.66.1256.174 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:২৮63044
  • Prativa Sarker | 238912.66.1256.174 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:৩১63045
  • Prativa Sarker | 238912.66.1256.174 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:৩৮63046
  • Prativa Sarker | 238912.66.1256.174 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:৪৪63047
  • Prativa Sarker | 238912.66.1256.174 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:৪৬63048
  • Prativa Sarker | 238912.66.1256.174 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:৫০63049
  • Prativa Sarker | 238912.66.1256.174 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:৫৪63050
  • Prativa Sarker | 238912.66.1256.174 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:০৮63051
  • অর্জুন অভিষেক | 342323.176.4545.224 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৮:১৩63052
  • জালিয়ানওয়ালা বাগে গিয়ে আমি খুব ইমোশনল হয়ে পড়ি। কতবার ঘুরে ঘুরে সব দেখলাম। ওয়াঘা সীমন্তে যাওয়ার পরে বন্ধুরা আমায় নিয়ে ঠাট্টা করলো।
  • অর্জুন অভিষেক | 342323.176.4545.224 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৮ ০৮:১৭63053
  • *সীমান্তে *পথে
  • শক্তি | 238912.66.235612.234 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৮ ০২:৩৭63054
  • অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ---ফেবুর নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে সৌখিন জ্ঞান বৃহত্তর ধার্মিক ভারতের কোন কাজে আসবে না ।--অমোঘ সত্য ।উপলব্ধির প্রয়োজন অনেকেই মানেননা
  • অর্জুন অভিষেক | 238912.66.897812.215 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:১৯63058
  • পুরোটা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
  • অর্জুন অভিষেক | 342323.223.9004512.58 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:৪৯63055
  • ১৯১২- '১৯ Michael Francis O'Dwyer ছিলেন পঞ্জাবের লেফটানেন্ট গভর্নর। সেই সময় Reginald Edward Harry Dyer ছিলেন ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ান আর্মির একজন অফিসর এবং ওইসময়ে সাময়িক ও অস্থায়ী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। জালিয়ানওয়ালা বাগের কাণ্ডের পরে আইন শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায়ের অজুহাতে O'Dwyer অন্যান্য ব্রিটিশ কতৃপক্ষের মত এই ঘটনা সমর্থন করে ফেলেন। কিন্তু এতে তিনি তার নিজের অবস্থানই সংকটময় করে ফেলেন। পরবর্তীকালে নিজের জাতভাইদের সাহায্য তো পেলেনই না, তাকে অবিলম্বে পদ থেকে ছাড়ানো হল ও হত্যাকাণ্ডের মূল ব্যক্তি Dyer এর সঙ্গে তার পদবীর উচ্চারণের মিলে ভারতবাসী তাকেই এই ঘটনার ভিলেন ভেবে ফেলেছিল। নিজের পিঠ বাঁচাতে অনেক খেসারদও দিতে হয়েছিল তাকে। কোণঠাসা হয়ে ছিলেন বাকী জীবনটা।

    উধম সিং যে ওই ১৯১৯ এই জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকাণ্ডের পরে মাটি ছুঁয়ে এর বদলা নেবার প্রতিজ্ঞা করেছিল সেও বোধহয় দুই ডায়ারকে গুলিয়ে ফেলেছিল! উধমের সে সময়কার ডায়রি ঘেঁটে দেখা গেছে সে 'O'Dwyer কে Dyer লিখছে। কারণ ১৯৩৪ এ সে যখন লন্ডনে আসে, তার সাত বছর আগেই Dyer প্রয়াত।

    অবশেষে ১৯৪০ র ১৩ মার্চ লন্ডনের Caxton Hall এ উধম সিংয়ের গুলিতে O'Dwyer মৃত্যুর মুখে লুটিয়ে পড়েন। সেও নাকি সেই দিন বহু বছর বাদে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল

    এই ধরণের হত্যাকাণ্ড গুলোকে আমার কেন যেন এক একটা শিল্পকর্ম মনে হয় এবং হত্যাকারীরা সব শিল্পী।

    O. Henryর short story 'The Last Leaf' র সেই বুড়ো শিল্পীর মত।
  • অর্জুন অভিষেক | 342323.223.9004512.58 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৮ ০৭:৩১63056
  • পঞ্জাব আর বাংলার বেশ মিল। অমিলও আছে খুব স্বাভাবিক ভাবে। এই দুই রাজ্যে স্বাধীনতার বিপ্লবের আগুন জ্বলল। দুই রাজ্যেই কিন্তু আবার বাড়াবাড়ি রকমের ব্রিটিশ পদলেহনকারী চাটুকার ছিল। বাংলায় কোচবিহার, বর্ধমানের রাজারা, সঙ্গে অনেক 'স্যার' 'লেডি' রা। পঞ্জাবে পাতিয়ালা, কপুরথলারা। 'কোহিনূর' টা তারাই ভিক্টোরিয়ার মাথায় পরিয়েছিল (রঞ্জি সিং এর পুত্র দলীপ সিং)। অন্যদিকে যেমন ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকীরা আবার ভগত সিং, উধম সিংয়েরা।

    দুই রাজ্যকেই 'দেশভাগ' এর বলি হতে হল।

    গতকাল মোবাইলে লেখাটা ভাল করে পড়তে পারিনি। আজ পড়লাম। লেখাটা মন ছুঁয়ে যাবার মতই।

    @প্রতিভাদি, ভিন্দ্রানওয়ালাকে সমর্থনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাও দুটো কথা আছে আমার। ভিন্দ্রানওয়ালাকে আজ 'সন্ত্রাসী' ও 'ফ্রাংকেনস্টাইন' বানিয়ে দেওয়া খুব সহজ। পুরোটার জন্যে তাকে কি একা দায়ী করা যায় ? তার যাত্রা তো শুরু কংগ্রেসের হাত ধরেই। আকালি গলকে সায়েস্তা করতে ভিন্দ্রানওয়ালা এনেছিল সঞ্জয় গান্ধী জৈল সিং এর সাহায্যে।

    Bhindranwale received both political and financial assistance from Congress (I) with an objective to destabilize the Akali Dal.

    'অপারেশন ব্লু স্টার' 'সন্ত্রাস' নয়? ৮০ জনের ওপর শিখ পুন্যার্থী মারা যায় যাদের সঙ্গে ভিন্দ্রানওয়ালের 'খালিস্তানী' মুভমেন্টের কোনো যোগই ছিলনা।

    তুমি নিশ্চয় পড়েছ তাও তোমায় পঞ্জাব নিয়ে দুটো বইয়ের উল্লেখ করলাম। Stephen Alter র 'Amritsar to Lahore' আর Tavleen Singh 'Durbar'।

    আচ্ছা, আমাদের দেশের নাস্তিকতার ইতিহাসটাও (বিশেষ করে এই self declared claim ও confession) ঔপনিবেশিক না? আমাদের দেশে নাস্তিকতার ইতিহাসটা জানতে আগ্রহী।
  • Prativa Sarker | 342323.176.4534.74 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৮ ০৮:২৭63057
  • অর্জুন, বিস্তারিত লেখার সুযোগ নেই, কিন্তু তার মধ্যেই কোন ডায়ারকে কি ভাবে উধম সিং মেরেছিলেন, তা ছুঁয়ে গেছি। ভিন্দ্রানওয়ালের ধুমকেতু-উত্থানের এবং নির্মম মৃত্যুর পেছনে কারা সেটাও ইঙ্গিতে বলেছি। চার্বাক দর্শন যে দেশে ছিল সে দেশের নাস্তিকতার ইতিহাস বোধহয় সবটা ঔপনিবেশিক নয়। সে এক আলাদা টপিক।
  • Prativa Sarker | 238912.66.566712.139 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৮ ০২:৩৯63061
  • Prativa Sarker | 238912.66.566712.139 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৮ ০২:৪৪63062
  • Prativa Sarker | 238912.66.566712.139 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৮ ০২:৪৮63063
  • Prativa Sarker | 238912.66.566712.139 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৮ ০২:৫১63064
  • Prativa Sarker | 238912.66.566712.139 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৮ ০২:৫৪63065
  • Prativa Sarker | 238912.66.566712.139 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৮ ০২:৫৯63066
  • শিবাংশু | 5645.249.2378.123 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:২৬63059
  • প্রতিভা,
    ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে ধর্ম, অধর্ম, বিধর্ম, স্বধর্ম, বিশ্বাস, অবিশ্বাস, অস্তি, নাস্তি, অতীব জটিল প্রপঞ্চ। বুঝতে চেষ্টা করি প্রতিটি স্বরূপ নিজস্ব সীমাবদ্ধতায়। লক্ষ মনীষীর ব্যাখ্যার অরণ্যে নিজের পাকদণ্ডিটি খুঁজে নেওয়া। চার দশক তো হয়েই গেলো।এটুকুই বুঝেছি 'ধর্ম' ব্যাপারটা কী তা নিয়ে 'বোঝাবুঝি' সমাজের অনেক উপরতলার ব্যাপার। যারা বস্তুটিকে নিয়ে ফাটকাবাজি খেলে, তাদের কাজে আসে। কিন্তু অজানা 'ধর্মে'র প্রতি অসীম 'আনুগত্য'টি পুথির বাতাস দিয়ে উড়িয়ে দেবার বিপ্লব এদেশে শেষ পর্যন্ত টেকেনি। অওয়ধ থেকে অঙ্গদেশ, কিছু তো চিনি। শিখদের সঙ্গও করেছি আশৈশব। আনুগত্যটিকে নস্যাৎ না করে তাকে যদি সঠিক স্রোতে চালনা করা যেতো, পলিটিসিয়ানদের ভাত মারা যেতো হয়তো, দেশটি বেঁচে যেতো।

    আজকের পঞ্জাবে আপনার অভিজ্ঞতা শোনার কৌতুহল জানিয়ে রাখলুম।
  • Mani Biswas | 340123.87.90012.224 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৮ ০৯:০৬63067
  • টানটান, প্রাঞ্জল একটা লেখা, কী যে ভালো লাগল পড়তে! একটা সর্বজন স্বীকৃত বিষয়কে (আর্য সভ্যতা নয়, সিন্ধু সভ্যতাই ভারতীয় ভূমিপুত্রদের সভ্যতা) যে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীরা, অন্যকিছু প্রমাণের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, এই সব কথা এত অসাধারণ ভাবে উঠে এসেছে লেখাটিতে যেন থ্রিলার পড়ছি। তথ্য আর বিষয় নিয়ে একটা জমজমাট লেখা। খুব খুব ভালো লাগল প্রতিভাদি।
  • Prativa Sarker | 342323.176.7867.134 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৮ ০৯:৩৮63060
  • ধন্যবাদ শিবাংশু। আপনার মন্তব্য সবসময় উৎসাহিত করে।
  • sswarnendu | 2367.202.128912.199 (*) | ০৪ নভেম্বর ২০১৮ ১২:১২63068
  • একটা বিশেষ উপজাতির সাথে DNA র মিল, এত নির্দিষ্ট করে বলার জায়গায় বোধহয় paleo-DNA analysis এখনও যায়নি, সম্ভবত কখনো যাবেও না। সাধারণভাবে উত্তর ভারত দক্ষিণ ভারত division একটা করা যায়, আসলে ANI ( Ancestral North Indian ) আর ASI ( ANcestral South Indian), ডেভিড রেইখ ( David Reich ) এর ২০০৯ এর পাথব্রেকিং কাজ এ উনি এই ডিভিশন ইন্ট্রোডিউস করেন, তারপর সিন্ধু দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে, আরও আরও রিফাইনড হয়েছে অ্যানালিসিস, কিন্তু Y ক্রোমোজোমের একটা মার্কার হ্যাপ্লোগ্রুপ কে এত নির্দিষ্ট একটা জনজাতির সাথে আইডেন্টিফিকেশনের চেষ্টা কেউই করেনি, করার চেষ্টার কোন বৈজ্ঞানিক কারণও নেই।

    " তথাকথিত আর্যদের ভাষা সংস্কৃত, এদিকে সিন্ধুলিপি এখনো পড়া যায়নি।" ভাষার সাথে লিপির কোন কোরিলেশন নেই। তাছাড়া আর্যদের ভাষা সংস্কৃত কথাটাও ঠিক নয়, সংস্কৃত অনেক পরের একটা ভাষা।

    আর দাক্ষিণাত্য বা পুরনো মানেই দ্রাবিড় ভাবারও কারণ নেই। ভারতের অনেকগুলো প্রাচীন জনজাতির ভাষা দ্রাবিড়ীয় নয়, মুন্ডা।

    হরপ্পা কালচার দ্রাবিড় মনে করার অন্য ভাষাগত কারণই আছে খানিক। ব্রাহুই বলে বালুচিস্তানে একটা দ্রাবিড়ীয় ভাষা আছে। ম্যাপ দেখলেই বোঝা যাবে আজকের দ্রাবিড়ীয় ভাষাগুলোর থেকে ভৌগোলিক দূরত্বটা, তাই বালুচিস্তান পর্যন্ত ( মানে বস্তুত পুবের অংশ বাদে বস্তুত গোটা উপমহাদেশ জুড়ে দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠী ছড়িয়ে ছিল এইটা সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা, তাই।
  • Prativa Sarker | 561212.96.455612.197 (*) | ০৫ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:৩২63069
  • ধন্যবাদ স্বর্ণেন্দু যুক্তিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য। ঠিকই, এতো তাড়াতাড়ি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছন যাবে না। কিন্তু যেভাবে এই ফলাফলের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সাউথ কোরিয়ার বৈজ্ঞানিকদের বাদ দিয়ে দেওয়া হলো, তাতে মনে হয় ডাল মেঁ কুছ কালা হ্যায়। গোটা রিপোর্টটা বেরোলে বৈজ্ঞানিকদের ভিউটা পাওয়া যাবে।
    ঠিক লিপি, ভাষা এক নয়। ভাষায় মিল উত্তর ইউরোপ আর দক্ষিণ এশিয়ায়। কারণ উৎস এক। সিন্ধু সভ্যতার লিপিতে অল্প মিল মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে। তাও সেটা কিছু নয়। সংস্কৃত অনেক পরের। আসলে হিন্দুত্ববাদীরা আর্য আর সংস্কৃত এমন মিলিয়ে দেয় ! মেসোপটেমিয়ানরা যাদের মেলুলহা বলতো সেই সিন্ধুসভ্যতার অধিবাসীদের আলাদা মর্যাদা দিতে বড়ই কুন্ঠা এদের।
  • অর্জুন অভিষেক | 341212.21.8967.249 (*) | ১১ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:৪৭63070
  • শিবাংশু বাবুর মন্তব্যটা দারুণ। সমৃদ্ধ হলাম।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত