• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • আপনি কি আদর্শ তৃণমূলী বুদ্ধিজীবি হতে চান?

    Sakyajit Bhattacharya লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৭ মে ২০১৮ | ৭৬৫ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • মনে রাখবেন, বুদ্ধিজীবি মানে কিন্তু সিরিয়াস বুদ্ধিজীবি। কথাটার ওজন রয়েছে। এই বাংলাতে দেব অথবা দেবশ্রী রায়কে যতজন চেনেন, তার দুশো ভাগের এক ভাগও দীপেশ চক্রবর্তীর নাম শোনেননি। কিন্তু দীপেশ বুদ্ধিজীবি। কবির সুমন বুদ্ধিজীবি। তো, বুদ্ধিজীবি হতে গেলে নিচের কয়েকটা শর্ত আবশ্যিকভাবে পূরণ করতেই হবে।

    ১। আপনার একটা বাম অতীত থাকা আবশ্যিক। সে নক্সাল হোক, অথবা সিপিআই(এম) বা তৃতীয় ধারা। মনে রাখবেন, তৃণমূল অথবা বিজেপি চিন্তার রাজ্যে এতই মেরুদণ্ডহীন যে এরা আনঅ্যাপোলজেটিক ভাবে কোনওই দক্ষিণপন্থী বুদ্ধিজীবির জন্ম দিতে পারে নি। আপনাকে আগে বাম হতে হবে, এবং সেই বামপন্থা ভাঙিয়ে আপনাকে পরের স্টেপগুলো এক এক করে পূরণ করতে হবে।

    ২। হাতে এক মাস সময় নিন। এর মধ্যে প্রাণপণে উইকিপিডিয়া ও গুগল সার্চ এঞ্জিন ব্যবহার করে কয়েকটা জিনিস জেনে নিন। কাকে বলে সাবঅলটার্ণ। কাকে বলে শ্রেণি। কাকে বলে জাতি। নিম্নবর্গের কী কী ধর্ম এই বাংলায় ছিল তার একটা লিস্ট জেনে নিন। ভুলেও যেন সাবঅলটার্ণ তত্ব নিয়ে খুঁটিয়ে জানতে যাবেন না ! তাহলে কিন্তু আপনি তৃণমূল থাকবেন না, শিক্ষিত হয়ে যাবেন ! কাজেই ওই ঝুঁকি নেবেন না একদম। বদলে কয়েকটা জার্গন মুখস্থ করে নিন। 'ভদ্রলোক', 'গ্রাম সমাজ', 'প্রান্ত' (ভাল হয় ইংরেজি হিসেবে 'মার্জিন' বললে, বেশি ওজন পাবে), 'কাল্ট', 'বর্ণহিন্দু', 'রণজিৎ গুহ' ইত্যাদি। আসল বইগুলো যেহেতু আপনি পড়ে বুঝবেন না, তাই কলিম খানের মেড ইজি গুলো পড়ে ফেলুন। মনে রাখবেন, তৃণমূলী ব্যাকরণের জগতে উনিই বামনদেব চক্রবর্তী।

    ৩। এরপর আসবে প্রয়োগের পালা। এই কাজটা অপেক্ষাকৃত সহজ। আপনাকে চোখ বুজে যে কোনও অসভ্যতাকে তাত্বিক ভিত্তি দিতে হবে। সেটা করতে গেলে প্রথমেই দুখানা বাক্য মুখস্থ করে নিন। "গত চৌঁতিরিশ বছরে ভদ্রলোকের দাপট ছিল। সেই উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দাপট গুঁড়িয়ে দিয়ে আপাতত অন্ত্যজদের উত্থান ঘটছে"। ব্যাস, এবার এটাকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সর্বত্র প্রয়োগ করুন। ভোটের সময়ে বুথ দখল হচ্ছে? বেশ হচ্ছে। দখল করা হচ্ছে গ্রামীণ সাবঅলটার্ণদের স্বার্থে, কারণ এতদিন পঞ্চায়েতে ছিল ভদ্রলোক শ্রেণির প্রাধান্য। বিরোধী প্রার্থীকে ধর্ষণ করে খুন করা হচ্ছে? নিম্নবর্গের জমে থাকা ক্ষোভ যদি এভাবে বার্স্ট করে, আমরা ভদ্রলোকেরা জাজ করবার কে? তিন মাসের শিশুকে তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী আছড়ে মারল? এই শিশুটি বড় হয়ে উচ্চবর্ণের তল্পিবাহক হত। তাই তাকে খুন করে গ্রামীণ নিম্নবর্গের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার রাস্তা পরিষ্কার করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ৪। এই প্রয়োগের আবশ্যিক অঙ্গ হিসেবে অতি অবশ্যই শিক্ষা, সভ্যতা, রুচি ইত্যাদি জিনিসগুলিকে আত্বিক আক্রমণ করতেই হবে। মানে, ধরুন শহরের শিক্ষিত মানুষ যদি তৃণমূলী জমানাতে উষ্মা প্রকাশ করেন, তাঁকে অতি অবশ্যই উচ্চবর্ণের আলোকপ্রাপ্ত বাবু শ্রেণি হিসেবে দাগিয়ে দিতে হবে। এটাও প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা ছোটলোকদের ঘৃণা করেন। সভ্যতাকে চিহ্নিত করতে হবে পুঁজিবাদের অভিশাপ হিসেবে। রুচি-কে চিহ্নিত করতে হবে বর্ণহিন্দু মানসিকতা হিসেবে। এবং পাড়ায় পাড়ায় তৃণমূলী জলসা, কলেজ অনুষ্ঠানে মেয়েদের নাচিয়ে পয়সা ছোঁড়া, 'টুনির মা' ইত্যাদিকে সাধারণ গরীব মানুষের প্রকৃত সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দরকার পড়লে ফোক কালচার, সাংস্কৃতিক আধিপত্য বা এমন কি গ্রামশি ইত্যাদি নেমড্রপ করা যেতে পারে। কিন্তু খবরদার, ভুলেও এসব রেটরিককে খুঁটিয়ে পড়তে যাবেন না। তাহলে কিন্তু আপনি তৃণমূল থাকবেন না, শিক্ষিত হয়ে যাবেন !

    ৫। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডল এবং আরাবুল ইসলামকে সহজ সরল গ্রাম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা করবার সেরা উপায় হল বামফ্রন্ট রাজত্বে ভদ্রলোকদের যেভাবে আধিপত্য বেড়েছিল এবং তারা যেভাবে মুসলিম ও নমঃশূদ্র বিরোধী ছিল, সেটাকে প্রচার করা। সকালবেলা উঠেই খালি পেটে বীজমন্ত্রের মত পাঁচবার আওড়াবেন 'মরিচঝাঁপি'। এতে কাজ দিতে পারে। আর সেই সঙ্গে, 'অশিক্ষিত' , 'অমার্জিত', 'অভদ্র', 'রুচিহীন' এসব শব্দবন্ধ শুনলেই আপনার আবেগ যেন ভেতর থেকে উথলে ওঠে। সেই সব মূঢ় ম্লান মূক মুখে ভাষা পৌঁছে দেবার জন্য আপনার শহুরে শিক্ষিত মনন হয়ে উঠুক এ যুগের হোয়াইট সেভিয়ার। মনে রাখবেন, এই তৃণব্যবস্থায় যে যত বেশি পড়াশোনা করে সে তত বেশি বর্ণহিন্দু ভদ্রলোক হয়।

    ৬। এত কঠিন টাস্ক দেখে ঘাবড়াবেন না। বাজারে আপনার কাজ সহজ করে দিতে এসে গেছে আরেক জন। তার নাম বিজেপি। মমতাকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য আপনি বিজেপি-র জুজু দেখিয়ে যান। যেখানে পারবেন দেখান। বিরোধী বাম পার্টির কর্মীদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে? তৃণমূলকে সমর্থন করুন নাহলে এক্ষুনি বিজেপি এসে যাবে। পঞ্চায়েতের টাকা, একশো দিনের কাজ, চিটফাণ্ড সমস্ত কিছুর কোটি কোটি টাকা লুটে পুটে খেয়ে অনুব্রত আরাবুল নামক নব্য কুলাক শ্রেণির জন্ম হয়েছে? তৃণমূলকে সমর্থন করুন নাহলে এক্ষুনি বিজেপি এসে যাবে। তৃণমূল কংগ্রেস নিজের ভোটব্যাংক সুরক্ষিত করতে রামনবমীর মিছিল বার করে দাংগা বাধিয়েছে? তৃণমূলকে সমর্থন করুন নাহলে এক্ষুনি বিজেপি এসে যাবে। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবার পর তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় গ্রামে গঞ্জে আরএসএসের শাখা, স্কুল, হিন্দু সংহতির অফিস হুহু করে বেড়ে গিয়েছে? পার্লামেন্টে বিজেপি-র বিরুদ্ধে আনা নো-কনফিডেন্স মোশন ভেস্তে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ওয়াক আউট করবার ফলে? তৃণমূলকে সমর্থন করুন নাহলে এক্ষুনি বিজেপি এসে যাবে। পঞ্চায়েত ভোটে নির্মমভাবে খুনোখুনি বোমাবাজি আর হত্যা ধর্ষণের মাধ্যমে রাজ্যে গণতন্ত্র নামক ধারণাটিই এই মুহূর্তে কোমাতে চলে গেছে? তৃণমূলকে সমর্থন করেও আর লাভ নেই, কারণ তাদের হাত ধরে বিজেপি অলরেডি এসেই গিয়েছে।

    ৭। আর ওপরের সমস্ত তত্বকে সুগারকোট করবার জন্য আপনার হাতের কাছে রয়েছে মার্ক্সবাদ । সিপিআই(এম) মার্ক্সকে হত্যা করেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে কমিউনিজমের প্রকৃত প্রয়োগ হচ্ছে। এটাকে আপনি সবথেকে ভাল খাওয়াতে পারেন যদি আপনার নামের পেছনে 'প্রাক্তন নক্সালপন্থী' নামক উপমাটি থাকে। যে কোনও আলোচনার মধ্যে হালকাভাবে গুঁজে দিন 'গোথা প্রোগ্রামের সমালোচনাতে কার্ল মার্ক্স যা যা ইস্যু তুলেছিলেন সেগুলোই যেন নতুন ভাবে অ্যাড্রেসড হচ্ছে কন্যাশ্রী প্রকল্পে"। কিন্তু খবরদার, ভুলেও সেই মার্ক্সের লেখাপত্রের খুঁটিয়ে বিবরণ শোনাতে যাবেন না। ওপর ওপর বলে ছেড়ে দেবেন। না হলেই কিন্তু আপনি তৃণমূল থাকবেন না, শিক্ষিত হয়ে যাবেন !

    ওপরের প্রসেসগুলো ফলো করুন। ফলো করুন। আপণই বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি হিসেবে পরিগণিত হবেন। টিভি চ্যানেলে আসবেন, কমিটির মাথা হবেন, শহীদ মিনারে নেত্রীর চেয়ারের জল মুছিয়ে দেবেন, জয় মমতা স্লোগানে গলা মেলাতে পারবেন। কলাটা মুলোটা যে মিলবে সেসব সকলেই জানে। কিন্তু আরেকটা অদ্ভুত ঘটনা আপনি দেখতে পাবেন। আপনার শারীরিক পরিবর্তন ঘটছে। হ্যাঁ, আপনি রথম প্রথম এগুলোতে একটু অবাক হলেও পরে বুঝতে পারবেন এগুলো খুবই ছোট্ট ও স্বাভাবিক ঘটনা। খুব গরমে আপনি হ্যা হ্যা করে হাঁফাবেন। প্রতিটি নিশুতি রাত্রে আপনার সহমর্মী বুদ্ধিজীবিদের সঙ্গে উচ্চগ্রামে গলা তুলে কারণ ছাড়াই চিৎকার করবার রোগ আপনাকে পেয়ে বসবে। আপনার ঘ্রাণশক্তি খুব তীব্র হয়ে উঠবে। গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারবেন কে মাওবাদী, কে মুসলমান বিদ্বেষী আর কে বিজেপি-র দালাল। এরপর, যেদিন দুপুরবেলা রাস্তার ধারের ল্যাম্পপোস্ট দেখে আপনার ডান পা নিজের অজান্তেই কাঁধের কাছে উঠে যাবে, বুঝবেন আপনি আদর্শ তৃণমূলী বুদ্ধিজীবি হয়ে উঠেছেন। সেই অকুণ্ঠ ভাঁড়ামির নিলাজ কার্নিভালে, কী-ই বা এসে যায়, বিজেপি যদি চলেই আসে? ইয়ে বিজেপি আগার মিল ভি যায়ে তো কেয়া হ্যায়?
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৭ মে ২০১৮ | ৭৬৫ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শমীক সরকারের বক্তব্য | 90.254.154.99 (*) | ২১ মে ২০১৮ ১০:১৫62643
  • সোমনাথের লেখাটা শাক্যর লেখার রেসপন্স বলে সেটাকে নিয়ে কিছু বলা মুশকিল। কারণ প্রত্যুত্তর সবসময়ই যার প্রত্যুত্তর তা দিয়ে নেগোশিয়েটেড। শাক্যর লেখা বা এইজাতীয় লেখার একটা মুশকিল হল, এবং ইদানিং বামপন্থী লেখার মধ্যে যে মুশকিলটা খুব প্রকট -- সেটা হলো, লেখাগুলো মানুষ নামক সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করে না। সমুদ্রের ধারে উপলখণ্ড কুড়িয়েই খালাস। ফলে সেই লেখার প্রত্যুত্তরের লেখাতেও এর ছাপ থাকে। যেমন, এখানেও কিছু আছে। কলিম খানের পদ্ধতি নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু কলিম খানও ইতিহাসের ধারে ধারের উপলখণ্ডগুলো নিয়েই লিখেছেন। তাতে অবশ্য উনার দোষ নেই। দোষ আমাদের দেউলিয়া ইন্সটিটিউশনগুলোর। যেখানে শিবাজী পার্থ রণজিতরা আলো করে থাকেন। সেখানে কলিম খানের ঠাঁই নেই। তার কোনো ছাত্র ছাত্রী নেই। তার কোনো স্কলার নেই। তার কোনো রিসার্চ ফান্ড নেই। আমি কলিম খানের ব্রহ্মপুরের বাড়ি গেছি। ... দ্বিতীয়তঃ, মানুষ যেহেতু শুধু অস্তিত্ব নয়, বাসনারও আধার, তাই, সে অর্ধেক মাটিতে থাকে, বাকি অর্ধেক কল্পনায়। সমাজবীক্ষা মানুষকে যদি মাটিতেও দেখে, তবু সে দেখা অর্ধেক। বাকি অর্ধেককে দেখার কোনো সুবন্দোবস্ত যদি না করা যায়, তাহলে সমাজবীক্ষা খণ্ডিত। এখানে আমি বামপন্থী ইডিওলজিক্যাল লেখা ধরছিই না, কারণ যেহেতু সে ইডিওলজিক্যাল, তাই তার সেভাবে কোনো সমাজবীক্ষাই নেই। ইডিওলজির চশমায় দেখা। ... তৃতীয়তঃ, কল্যাণের আধার রাষ্ট্র। যেমন এই যে মমতা বলল, 'রাজনৈতিক শহীদ'দের দল না দেখে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। রাষ্ট্র কল্যাণের আধার হবে কি হবে না, তা রাষ্ট্রীয় রাজনীতির খুব গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক। রাষ্ট্রীয় রাজনীতি বা ক্ষমতার রাজনীতি বিলকুল বাস্তব এবং সমাজে নিশ্চয়ই তার কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে, তা নাহলে সে থাকতোই না। সমাজের গর্ভে তার পুনরুৎপাদন হয়েই চলে। কিন্তু সমাজের আরেকটা রাজনৈতিক পরিসরও আছে বলে আমার ধারনা। সেটা হলো সক্ষমতার রাজনীতির পরিসর। কল্যাণকে সক্ষমতার রাজনীতির পরিসর তার নিজের নিরিখে দেখবে। যেমন, আন্দোলনের কামদুনিতে ক্ষতিপূরণ প্র্যতাখ্যান করেছিল মৃতার বাবা। বা জগাছার জলা আন্দোলনে প্রতিমাদেবী। ... চতুর্থতঃ সক্ষমতার রাজনৈতিক পরিসরও ভরপুর ভুল করে, ঠিক করে। ভালো করে, খারাপ করে। যেমন ভাঙড় আন্দোলন ভুল আন্দোলন। খারাপ আন্দোলন। যারা আন্দোলন করছে তারাও কমবেশি জানে। কৃষিজমিতে পাওয়ার গ্রিড বা পাওয়ার লাইন -- এহ বাহ্য। ভাঙড়ের মানুষ ভাঙড়েই থাকে না শুধু। তারাও এদিক ওদিক যায়, তাদেরও আত্মীয় স্বজন আছে এদিক ওদিক। এগ্রাম ওগ্রাম। তারা জানে কৃষিজমি দিয়ে পাওয়ার লাইন যায়, গেছে। সারা বাংলা জুড়ে গেছে। কিন্তু এই আন্দোলন সক্ষমতার রাজনীতির পরিসরের সীমার মধ্যে। ক্ষমতার রাজনীতিতে তারাই সাফল্য পায়, যারা সক্ষমতার রাজনীতির পরিসরকে বোঝে, তাকে মান্য করে। ক্ষমতার রাজনীতি দাঁড়িয়ে থাকে সক্ষমতার রাজনীতির ওপরে। ... পঞ্চমতঃ বর্গী এল দেশে-র মেটাফরটা সবদিক থেকে পুনর্বিচার করা দরকার। এই মেটাফরটা নব্বই-এর মেটাফর, যখন বিশ্বায়ন ধেয়ে আসছে। এখন কিন্তু তা নয়। ফলে আত্মপরিচয়ের আংশিকতা ও সীমাবদ্ধতার ওপর না দাঁড়ালে এবন একটা আবেগী ভার্চুয়াল (কোন্দল এবং ভালোবাসা মিলিয়ে মিশিয়ে, প্রেম/দাম্পত্য/সম্পর্ক ইত্যাদির মতো) কে রাজনীতির সঙ্গী না করতে পারলে সমাজের ওপর চেপে বসা বর্গীদের বিলীন করা অসম্ভব। কারণ সে সমাজ, অর্থাৎ, সম্পর্কের জটিল জালিকার সূতোয় সূতোয় ছেয়ে গেছে।

    Somnath Roy
    আরও বড় করে লেখ।
    আমি বর্গি বলতে নাগপুরের আক্রমণকারীর কথা লিখেছি।

    Shamik Sarkar
    হমম। পরাক্রমী টিভি, সোস্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ না থাকলে কিন্তু নাগপুরের আক্রমণের সাইজ আওতার মধ্যে থাকত। এটা আমি এখনও পুরোটা বুঝে উঠতে পারছি না। কেন সিপিএমের ভোটাররা বিজেপিতে শিফট করছে? কেন আদিবাসী আন্দোলন, রাজবংশী আন্দোলন, কুর্মী আন্দোলন, গোর্খা আন্দোলন, চা বাগানের আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন বিজেপিকে ইলেকটোরালি শক্তিশালী করছে? কেন ভাঙড় আন্দোলনের ক্যান্ডিডেটদের বিজেপি সাপোর্ট দিতে পারছে? এইখানে খুব অসহায় এবং বাক্যহারা লাগছে।
  • সন্দীপন মজুমদারের বক্তব্য | 90.254.154.99 (*) | ২১ মে ২০১৮ ১০:১৭62644
  • সোমনাথবাবুর এই লেখাটি বা Shamik Sarkar এর লেখা আমাদের মত আম বাম পাবলিককে খুব ভেবলে দেয় কারণ আমরা তো আবাল‍্য প্রগতির চেনা রাজপথেই হাঁটার কথা ভেবেছি। ইওরোপ টানছি বলে মার্জনা করবেন, উত্তর আধুনিকতাও কিন্তু প্রগতি এবং আলোকদীপ্তির যুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল।এখানে এঁরাও দেশীয় আঙ্গিকে সেই কাজটাই করছেন। উত্তর আধুনিকতাকে যদিও প্রচলিত বামরা সবদেশেই নস‍্যাৎ করতে চেয়েছেন। আমার ব‍্যক্তিগত মত,এটা বামদের কৌশলগত ভুল। সমসময়ে অনেক কিছুকে উত্তর আধুনিকতা ছাড়া ব‍্যাখ‍্যাই করা যায় না। কিন্তু আধুনিকতার অনেক সমালোচনা করেও প্রশ্নটা ওঠে আমি আধুনিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াবো নাকি আধুনিকতার সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো। শিল্পসভ‍্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেলে সেটা প্রথমটার উদাহরণ,টেঁকস ই উন্নয়নের পক্ষে গেলে সেটা দ্বিতীয়টির। তেমনি সব ছাঁচ ভেঙে ফেলার পরও আমি বামদিকেই যেতে পারি। তার প্রস্থানবিন্দুটি অন্তত আমার ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস কখনও হতে পারে না। আপনাদের ক্ষেত্রে ও হতে পারে বলে বিশ্বাস উৎপাদিত হচ্ছে না।
    (২) কলিম খান আমি পড়েছি। প্রথম পড়ায় চমক লেগেছিল,এখন মনে হয় অনেক কিছু ই সরলীকৃত। শব্দ নিয়ে অনেক অর্থের কথা বলেও তিনি নিজেই অনেক সময় একটি সুনির্দিষ্ট অর্থকেই সুবিধেমত বেছে নেন। আর শুধু ভাষার লুকোনো অর্থ দিয়ে ইতিহাস বুঝতে চাওয়াও এক ধরনের খন্ডবাদ। তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক হল,উনি ইতিহাসের এক একটি পর্বকে নস্টালজিক আচ্ছনতার ভিতর দেখেন। তো সে যাই হোক,কৃষি থেকে শিল্প, গ্রাম থেকে শহর এটা সোনামুখ করে মানা বা না মানার প্রশ্ন নয়। এগুলো এমন প্রক্রিয়া যেগুলো চলতে থাকে। কিন্তু এই নিয়ে উচ্ছসিত না হয়ে বরং এই প্রক্রিয়ার ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো টাই কর্তব্য। আর মার্কস নিজেই তো ভেরা জাসুলিচকে লেখা চিঠিতে বলেছেন যে বিশেষ অবস্থায় সামন্ততন্ত্র থেকে সমাজতন্ত্রে যাওয়ার পথ সবদেশেই ইওরোপের পুঁজিবাদী পথ ছুঁয়ে যাবেই তার মানে নেই। তবে কলিম খানের মত মার্কস সামন্ততন্ত্রেই পড়ে থাকার কথা বলেন নি।
    (৩) সোমনাথবাবু প্রশ্ন তুলেছেন কেন সব কিছুতেই গোপন ব‍্যালটের ভোটে গণতন্ত্র অভ‍্যাস করতে হবে। লক্ষ‍্য‍ণীয় ওই এক ই অনুচ্ছেদে পঞ্চায়েতে হিংসা নিয়েও উনি আলোচনা করেছেন। বেশ র‍্যাডিকাল চিন্তা বলতে হয়। আরো কয়েকধাপ এগিয়ে অনেকে তো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র ই উঠিয়ে দিতে বলছেন। অথচ উনি বিরোধীদের মর্যাদা দেওয়ার কথা বলতে পারতেন। গ্রাম সংসদগুলোকে কিভাবে কার্যকরী করা যায় সেই পরামর্শ দিতে পারতেন।
    (৪) স্থানিকতার প্রশ্নে উনি পুকুর রক্ষার সঙ্গে রোজাভা বিপ্লবের গুরুত্বর তুলনা করেছেন। এক অর্থে তুলনাটা ঠিকই। কারণ পাড়ার পুকুরটা টেঁকাতে গেলেও ক্ষমতাশালীদের সঙ্গে লড়তে হয়,রোজাভা বিপ্লব করতে গেলেও। তবে আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজি যখন পাড়ার মুদীর দোকানটাকেও গ্রাস করতে চায় তখন স্থানিকতার কোনো বর্ম তাকে বাঁচাতে পারে না।
    (৫)আপনি ইতিহাসের বিশেষ সময়ে শাসকের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন।আলিবর্দী কর্তৃক বর্গী বিতারণের উপমা টেনেছেন। কিন্তু তাতে আলিবর্দীর সঙ্গে তার প্রজাদের সেইসময়ের অন‍্যান‍্য দ্বন্দ্বগুলো নিরসিত হয়ে যায় না। যেমন বিজেপি জুজু আছে বলে গ্রাম বাংলার সব গরীব কৃষকের জমিতে ঘাসফুল ফোটে নি। সেখানে কিছু লাল পতাকার রঙে মানুষের রক্ত লেগে আছে।একেবারে তৃণমূল স্তরেই।

    Somnath Roy
    ভালো পোস্ট। সময় করে উত্তর দেওয়ার ইচ্ছে আছে। হয়তো, একটো সময় লাগবে, কাল খুব ব্যাস্ত থাকব। আমার আপাতত শুধু এক লাইন 'এগুলো এমন প্রক্রিয়া যা চলতেই থাকে' নিয়ে। মানুষের ইতিহাস অন্তত দশ হাজার বছরের (প্রাক্ ইতিহাস বাদ দিলে), তারও হাজার চারেক বছর আমাদের জানা। তার মধ্যে অনেক হরপ্পা হারিয়ে গেছে কিন্তু। প্রক্রিয়া থেমেছে, উল্টেওছে।

    Sandipan Majumder
    হ‍্যাঁ,উত্তর আধুনিকদের হাতেও ইতিহাসের সরলরৈখিক চলনকে প্রশ্ন বিদ্ধ হতে দেখেছি। মার্কস এইসব আন্দাজ করেই বোধহয় 'দ‍্য হিস্ট্রি অব হিদারটু নোন হিস্ট্রি' বলে রেখেছিলেন। আর সেই পরিসীমার মধ্যে মাঝে মাঝে গোঁত্তা খাওয়া সত্বেও ইতিহাসের একটা মোটামুটি রৈখিকতা দুর্লক্ষ‍্য নয়।ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন।
  • আরও | 90.254.154.99 (*) | ২১ মে ২০১৮ ১০:২৪62645
  • Somnath Roy
    যেকোনও দুটো বিন্দুর মধ্যের রেখাকে বেশ দূর থেকে দেখলে রৈখিকই লাগে। ঐ যে আলিবর্দির কথায় আপনি লিখলেন, বর্গি বাঁচালেও, তাঁর প্রজানিপীড়নের কাহিনি অনুক্ত রাখা হল, সেইটা রৈখিকতার সমালোচনাতেই। কিন্তু, আমার কথা হল, হরপ্পা, ব্যবিলন প্রভৃতি সভ্যতার পতনের ইতিহাস আমাদের দেখায় যে প্রগতির গতি সময়ের সঙ্গে সমান্তরাল নয়। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ অর্থনৈতিক ও ভোগের উপকরণের প্রগতির উল্টোদিশায় সভ্যতাকে হাঁটিয়েছে।

    Somnath Roy
    Sandipanবাবু, আপনার মূল মন্তব্যের উত্তর দিতে দুদিন ধরে চেষ্টা করছি। সময়ের সংকুলান হচ্ছে না। এক এক করেই দেব। কারণ আমার মনে হচ্ছে, আমার নিজের মতটা নিজের বোঝার জন্যেও এগুলোর উত্তর করা জরুরি। আর প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনেও মন দিয়ে এতটা পড়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্যে।

    Somnath Roy
    এইবার- কলিম খানকে Sakyajit টেনেছে। শাক্যর পড়াশুনোর ওপর লোকে ভরসা করে বলে ওর বলা বইয়ের নামগুলো সিরিয়াসলি নেয়। সেখানে এইভাবে কলিম খান মেনশোন করা বস্তুত অন্যায় হয়েছে। কারণ, ও কলিম খান পড়ে নি।
    কলিম খান কিন্তু পুঁজিবাদের বদলে সামন্ত তন্ত্রে পড়ে থাকা দরকার টাইপের কিছু বলেন নি। ওনার একটা প্রতিপাদ্য ছিল যে পুঁজিবাদের অবলুপ্তি চাইলে, পুঁজির উৎপত্তির ইতিহাস জানা দরকার। সেই করতে গিয়ে মার্ক্সের সাজেশন মেনেই উনি ভারতের ইতিহাস দেখেন, যেখানে শ্রমবিভাজনের আদিতম ইতিহাস পাওয়া যায়, পুরাণের বস্তুভিত্তিক ব্যাখা করে।
    এইবার প্রসঙ্গ সামন্ততন্ত্র, কলিম খান স্পষ্ট করে এ নিয়ে খুব কিছু বলেন নি, কিন্তু মার্ক্স এবং মার্ক্সীয় ইতিহাসবেত্তারাও অনেকে স্বীকার করেছেন ভারতে ধ্রুপদী অর্থে সামন্ততন্ত্র ছিল না, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে অবধি। যা ছিল তাকে ফলিত অর্থেও সামন্ততন্ত্র বলা যায় না। কী ছিল সেইটা খুবই ইন্টারেস্টিং। কিন্তু সামন্ততন্ত্র নয়।
    এদিকে পশ্চিম ইউরোপে সামন্ততন্ত্র ছিল বলেই জানা যায়। মার্ক্স যখন এসেছেন তখন পুঁজিবাদ প্রায় এসে গ্যাছে। আর, অনেকেই দেখছন যে পুঁজিবাদে সাধারণ লোকের অবস্থা সামন্ততন্ত্রর থেকেও খারাপ। শাক্য যা বলেছে, এঙ্গেলস লিখছেন এরকম। কার্লাইল বলছেন এর থেকে দাসপ্রথাও বেটার ছিল। ফলে এই প্রাথমিক পুঁজিবাদী ইউরোপে দাঁড়িয়ে অনেক মনীষীর মতন মার্ক্সও পুঁজিবাদের অবসান চেয়েছেন। কিন্তু, আপনি যেরকম লিখলেন সামন্ততন্ত্রে পড়ে থাকতে মার্ক্স চান নি, তাঁর তো সেই অপশনটাই ছিল না। কারণ, সামন্ততন্ত্র তখন অতীত। পুঁজিবাদ থেকে প্রস্থানদিশা দুদিকে হতে পারত। এক প্রাক্‌পুঁজিবাদে ফেরা, দুই নেগেশন অফ নেগেশন করে মার্ক্সীয় মতে উন্নত কোনও ব্যবস্থায় যাওয়া। মার্ক্স দ্বিতীয়টার কথা বলেছেন। এবং ওনার চিন্তাভাবনা আমি যা বুঝেছি, আমার সামান্য পড়ায়, তা হল প্রথমটা অসম্ভব বলেই লিখেছেন।
    দ্বিতীয় পথটা গত দুশ বছরের চেষ্টায় ফাইনালি সাফল্য পায় নি। আজকের বিশ্বপরিস্থিতি যা দেখাচ্ছে, তাতে আগামী দুদশ বছরে পুঁজিবাদ আরও জাঁকিয়ে বসবে, এরকমই বুঝছি। ফলে সাধারণ লোকের অবস্থা আরও খারাপ হবে।
    এইখানে, আমি দেখতে চাইছি, প্রথম পথটার ভায়াবিলিটি আসলে কতটা। প্রাক্‌পুঁজিবাদ বা তার একটা ভার্সনে ফেরা কি সম্ভব? হরপ্পা আর গঙ্গাহৃদি উদাহরণ দেয় সভ্যতার অগ্রগতির দিশা পাল্টাতেই পারে। ম্যান্ডেটরি ট্যাগ Shamik Sarkar

    আর সেইজন্য, মুঘল আমলের ভারত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে, যাকে মার্ক্সও প্রায় অনড় সমাজ বলেছিলেন। আমরা আজকের ভাষায় যেটাকে sustainable সমাজব্যবস্থা ভাবতেও পারি। ভাবতে পারি কী না, সেটাও প্রশ্ন অবশ্য। এখানে Biswendu Nandaকে ট্যাগ করে রাখি। বাকি পরে সময় করে লিখব।
  • সন্দীপন মজুমদারের উত্তর | 90.254.154.99 (*) | ২১ মে ২০১৮ ১০:২৫62646
  • সমাজ সম্পর্কে আপনার একটি অবস্থান আছে যেটাকে সামগ্রিকভাবে প্রশ্ন করার কোনো অভিপ্রায় বা সামর্থ্য আমার নেই। দু একটি সংশয়ের কথা শুধু লিখবো। আমরা সত্যিই ভাবতে পারি প্রজারঞ্জক অর্থনৈতিক ব‍্যবস্থার কথা যা প্রাক পুঁজিবাদী। কিন্তু তার কিছু সুনির্দিষ্ট উদাহরণ চাই। কিভাবে তা মান‍্যতা পেতে পারে একবিংশ শতকে,কীভাবে অভিযোজিত হতে পারে আমাদের বা পরবর্তী প্রজন্মের যাপনে তাও জানতে হবে। বাজার যেভাবে সর্বত্রগামী হচ্ছে, যেভাবে নগরায়ণ হচ্ছে সেই প্রক্রিয়াকে কি থামিয়ে রাখা যাবে?উদাহরণ জমি অধিগ্রহণ যদি বন্ধ ও থাকে( আমি জমি অধিগ্রহণের বিরোধী,বলপূর্বক হলে তো আরো বেশি করে) দেশে কৃষকের সংখ্যা যেভাবে কমছে, জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অংশীদারীত্ব যেভাবে কমছে তাতে আজকের দিনে
    কোনো পশ্চাৎগতি,সদর্থে হলেও ,সম্ভব কিনা জানতে হবে। জানতে হবে আর কোনো দেশে এটা সম্ভব হয়েছে কিনা। কারণ কলিম খানের লেখায় পূরাণ ইতিহাস ছুঁয়েও বারবার বাংলার কথা ফিরে ফিরে যতটা এসেছে, গোটা ভারতের কথা ততটা নয়। অথচ আজ এই খন্ডিত বাংলার ভাগ‍্য গোটা ভারতের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে আছে।
    আমাদের দেশে পুঁজিবাদ সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, কিন্তু বাজার অর্থনীতি গ্রাম পর্যন্ত জাঁকিয়ে বসছে। আধুনিক প্ল‍্যাটফর্ম ক‍্যাপিটালিজম যেমন ফেসবুক, আমাজন,উবার এবং লগ্নি পুঁজি যেমন মিউচ‍্যুয়াল ফান্ড এবং শেয়ার বাজার পরোক্ষে অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ পুঁজিবাদ একটা পরিত্রাণহীন সংকটের মধ্যে প্রবেশ করতে চলেছে। না,এটা কোনো চোঙাফোকা বামপন্থীদের কথা নয়। খোদ পুঁজিবাদী অর্থনীতিবিদদের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশের ভবিষ‍্যৎবাণী। তাই আপনি যেভাবে দ্বিতীয় পথটা গত দুশ বছরের চেষ্টায় সাফল্য পায়নি বলছেন তার সাথে একমত হতে পারছি না। একটা উত্তর পুঁজিবাদী যুগ হয়ত আসছে। সেটা কোনদিকে যাবে মানুষ ই তা নির্ধারণ করবে। সেটা আমাদের মনোমত নাও হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস এখনো তার হাতের তাস দেখানো বাকি রেখেছে।
    ও হ‍্যাঁ,এখানে একটা ব ইয়ের রেফারেন্স দিলাম। পাঁচ লেখকের একজনের ও বামপন্থী বলে সুখ‍্যাতি নেই।
  • cm | 37.62.156.216 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০১:১০62667
  • অ্যাঁ
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০১:৫৯62668
  • দেখেছ দেখেছ, খালি বলে ম্যান!!!! লাগাও বত্রিশ। ঃ-)
  • dc | 132.164.94.87 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০২:১৪62647
  • আহা, প্ল্যাটফর্ম ক্যাপিটালিজম! আরেকটা নতুন ফ্যাক্টর অফ প্রোডাকশন হয়েছে, ডেটা। কদিন আগেই ওঅ্যারে একটা লেখা বেরিয়েছিল।
  • dd | 59.205.217.112 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৩:৪২62648
  • শাক্য, সোমনাথ আর এখন সন্দীপন বাবুর লেখা পড়ে খুবি ভালো লাগছে।

    আচ্ছা, প্রায়ই দেখি কোন এক গর্গের নাম মেনশন করা হচ্ছে? ইনি কে? যদি গুচর ফোরামের লোক হন তাহলে চিনি না, এনার লেখাও পড়ি নি। তাই রেফারেন্সগুলো ধরতে পারছি না।
  • T | 121.65.63.42 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৪:০৫62649
  • গর্গ আইএসয়াই ক্যাল এর প্রফ। বাংলা পক্ষ নামক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা। সমস্ত রকম হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। গর্গর সাফল্য কামনা করি। সকলে গর্গের মতো হও। :)
  • S | 194.167.2.96 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৪:৩১62650
  • হ্যাঁ লেখাগুলো ভালো হচ্ছে। কিন্তু আমার কিছু প্রশ্ন আছে। সিরিয়াস প্রশ্ন করছি, জানার জন্য। একটু বুঝিয়ে দিলে ভালো হয়।

    ১) প্রাক পুঁজিবাদ অবস্থানের মধ্যে কি সামন্ততন্ত্র আসবে না? মানে বললাম যে দাও ফিরে সেই দিন, আর দুম করে (বা ধিরে ধিরে) সামন্ততন্ত্রে গিয়ে পৌঁছলাম। সেটা সম্ভব নয় কেন?

    ২) পুঁজিবাদের জন্ম বোধয় সামন্ততন্ত্রকেই অন্য রুপে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হয়েছিলো। আমার অন্তত তাই মনে হয়েছে। ভুল বললাম? সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে আজকে আমরা যে দেখছি পুঁজিবাদ গনতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল সেটা প্রি-প্ল্যান্ড নয়, বোধয় এক্সপেরিমেন্টের রেজাল্ট?

    ৩) যদি পুঁজিবাদ গনতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয় (যেটা এইমুহুর্তে দেখে মনে হচ্ছে, কোথায় একটা রিপোর্টেও পড়ালাম), তাহলে সেই গণতন্ত্র (লেবার আর কন্জিউমার) বাঁচিয়ে রাখার জন্য সোশাল পলিসি তো নিতেই হবে। সেটা সামন্ততন্ত্রের থেকে বেটার নয় কি?

    ৪) প্ল্যাটফর্ম ক্যাপিটালিজম নিয়ে প্রচুর সন্দেহ আছে। আজকের বাড়বাড়ন্ত বোধয় পোস্ট ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিস/ গ্লোবাল রিসেশন এনভায়রণমেন্টের ফল। পুঁজির ট্র্যাডিশনাল রুটগুলো বন্ধ বা তেমন মসৃণ নয়। তাই উত্তর পুঁজিবাদ আসছে নাকি পুঁজিবাদের খোলসটা বদলাচ্ছে? কারণ ক্যাপিটালিস্টের মুখ বা চরিত্র কিন্তু সেভাবে বদলায়নি।

    ৫) আম্রিগা আর ভারত ক্যাপিটালিজম ডেভালাপমেন্টের একেবারেই ভিন্ন স্তরে রয়েছে। অতেব এক গ্র্যান্ড থিয়োরি দিয়ে বিশ্লেষণ করা যাবে কি?
  • | 144.159.168.72 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৪:৪০62651
  • হরিদাস পালে একটা লেখা ছিল গর্গর, সেই কলকাত এয়ারপোর্টে বাংলায় অ্যানাউন্সমেন্ট হচ্ছে না খালি হিন্দি আর ইংরিজি ইত্যাদি। খুব খানিক তক্কো হয়েছিল তাতে।
  • dc | 132.164.94.87 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৪:৪৬62652
  • আমি আবার ভেবেছি তাতিন গর্গ একজনের নাম!

    তবে দ্যাখেন, প্রাক পুঁজিবাদ স্বর্ণযুগ, সেটা যদি ভারতে পশ্চিমের থেকে আলাদা হয়েও থাকে, তো সেই ব্যবস্থায় ফিরে যাবার একটিমাত্র বাধা আছে।

    ইলেকট্রিসিটি।

    আজ থেকে একশো বছর আগে পৃথিবীর কোথাও ইলেকট্রিসিটি ছিলনা, ভারতেও না। আর ইলেকট্রিসিটি ছাড়া সমাজ অচল, ভারতেও, অন্য সব জায়গাতেও। এবার দেখুন কিভাবে সেই স্বর্ণযুগে ফিরে যাবেন - লোকজনকে বিদ্যুত ছাড়া থাকতে বলবেন নাকি ভারতে যতো বিদ্যুত দরকার হয় সেই বিদ্যুত উৎপাদন করবেন।
  • N-methyl-D-aspartate | 37.63.140.39 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৫:২১62653
  • কে বলে ইলেক্ট্রিসিটি ছিলো না? মহাভারতের আমলে ডেটাকার্ড বা হটস্পট চলতো কী করে?
  • dc | 132.164.94.87 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৫:২৮62654
  • তাও তো বটে। সেযুগে তো দিব্যি নিউরোসার্জারিও হতো। তাহলে অবশ্য সেই রামরাজ্যে ফিরে যাওয়া যেতেই পারে।

    হাওড়া ব্রিজে শীর্ষাসন করতে খারাপও লাগবে না।
  • S | 194.167.2.96 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৫:৩৩62655
  • এখনও এইসব আছে, সেইকালেও ছিলো। কিন্তু সেইকালে ফিরে গেলে মহান মোদিকে পাবোনা তো। তার থেকে এইকালে থাকাই ভালো।
  • | 144.159.168.72 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৫:৩৪62656
  • সেকালে সঅঅব ছিল শুধু লোকের বাঋতে বাত্তুম ছিল না।
  • N-methyl-D-aspartate | 37.63.134.15 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৬:২২62657
  • উঁহু, তেনারা বাইরে অ্যাবান্ডান্ট অর্গ্যানিক ফার্টিলাইজারের বন্দোবস্ত করেছিলেন।
  • Sakyajit Bhattacharya | 52.110.140.13 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৯:০৬62658
  • সমাজবিবর্তনের কোনও গ্র্যান্ড থিওরি মার্ক্সবাদ দেয় না। প্রতিটা সমাজ তার নিজস্ব নিয়মে বিকশিত হয়। তাই পুঁজিবাদেরও কোনও গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ নেই
  • S | 194.167.2.96 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৯:১৮62659
  • ক্যাপিটালিজমের বোধয় কিছু গ্র্যান্ড থিয়োরি আছে। মানে এগুলো থাকতে হবে। ফ্রি মার্কেট, প্রোটেকশন অব প্রাইভেট প্রপার্টি ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন কোনও দেশেই পুরোপুরি ক্যাপিটালিজম অ্যাপ্লাই করা সম্ভব না যদি না সেদেশ মোনাকোর মতন ছোটো আর সবাই বড়লোক দেশ না হয়। তাই সব দেশেই কিছুটা কিছুটা করে ইম্প্লিমেন্ট করা হয়েছে ডিপেন্ডিঙ্গ অন সেখানে কোন দিকের ভার বেশি।

    তবে যারা বইধরে ক্যাপিটালিজম ইম্প্লিমেন্ট করতে চায় সেরকম এক আধজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। এমন সব অবাস্তব কথাবার্তা বলে যে মনে হয় জীবনে কোনওদিন মানব সমাজ দেখেইনি।
  • dc | 132.164.94.87 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৯:২৯62660
  • এরকম আমিও দুয়েকজন দেখেছি। আসলে আদর্শ ক্যাপিটালিজম বা আদর্শ মার্ক্সিসম কোনটাই যে রিয়েল লাইফে হয়না এটা বোধায় অনেকে বুঝতে পারে না।
  • S | 194.167.2.96 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৯:৩০62661
  • প্রোটেকশন অব প্রাইভেট প্রপার্টি - এর মানেটা একদিন লিখবো।
  • lcm | 109.0.80.158 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৯:৩৪62662
  • রিয়েল লাইফে ক্যাপিটালিজ্‌ম্‌ আর কম্যুনিজ্‌ম সম্পুর্ণ বিপরীতধর্মী কনসেপ্ট, একটা উদাহারণ দিয়ে বলি - In Capitalism, man exploits man, in communism exactly opposite.
  • dc | 132.164.94.87 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৯:৩৭62663
  • কিন্তু এই বৈপরিত্য বোঝা সহজ কাজ নয়, এর জন্য কঠিন থিওরি চাই।
  • S | 194.167.2.96 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৯:৩৯62664
  • লসাগুদা আজকাল কিন্তু লোকে বলছে "In socialism, man exploits man. In capitalism, it's exactly the opposite"।
  • lcm | 109.0.80.158 (*) | ২২ মে ২০১৮ ১০:০৬62665
  • দেখো, এই থ্রেডে কত লোক এসেছেন - - - দীপেশ চক্রবর্তী, কলিম খান, হরিপদ বসাক, কালাচাঁদ দরবেশ, কবীর সুমন, গুরুচাঁদ, মমতা ব্যানার্জি, আরাবুল ইসলাম, কার্ল মার্ক্স, আলিবর্দি, অনুব্রত মন্ডল, রনজিৎ গুহ, কৃত্তিবাস, রবীন্দ্রনাথ, এমনকি রাম-ও (রাজ্য সহ) --- কিন্তু ফ্যাতারু-দের বস্‌ নবারুণ এর উল্লেখ নেই। ভাবতে পারো, সাবঅল্টার্ন শব্দটা আছে কিন্তু নবারুণ নেই - বহুত না ইন্‌সাফি হ্যায়...
  • হে হে | 56.165.254.166 (*) | ২২ মে ২০১৮ ১২:৫৭62666
  • সমাজবিবর্তনের কোনও গ্র্যান্ড থিওরি মার্ক্সবাদ দেয় না। প্রতিটা সমাজ তার নিজস্ব নিয়মে বিকশিত হয়। তাই পুঁজিবাদেরও কোনও গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ নেই

    গ্র্যান্ড থিউরির বাপ দিয়েছে...
  • cm | 37.62.134.41 (*) | ২৭ মে ২০১৮ ০৪:৩৬62670
  • আহা, আহা আমার মনের কথাটি গোটা গোটা হরফে লেখা। Proof exists in mathematics and logic but not in science । আরো একধাপ এগিয়ে বলা উচিত অঙ্ক আর লজিকের বাইরে প্রমাণের মানে হয়না। যদিও এ পাতায় আমরা সদা সর্বদা নানারকম প্রমাণে মত্ত। একমাত্র পড়ে থাকে ব্যক্তির অবস্থান।
  • S | 194.167.2.96 (*) | ২৭ মে ২০১৮ ০৫:৫৫62671
  • তাহলে আর কি? গ্লোবাল ওয়ার্মিঙ্গ হচ্ছে, সেটা ডিনাই করা সহজ হয়ে গেলো।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন