• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • লোকনাথ ভট্টাচার্য --বাঙালীর বিস্মৄতিচর্চা

    Sakyajit Bhattacharya
    বিভাগ : ব্লগ | ১৩ জুন ২০১৭ | ২৬৭ বার পঠিত
  • সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় লিজিয়ঁ দ্য-নর পাবার পরে কিছু বিদগ্ধ জনের আলোচনাতে প্রসঙ্গ হিসেবে এনার নামটিও উঠে এসেছে। কারণ ইনি ছিলেন আমাদের সেরিব্রাল ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতিনিধি, যাঁর লেখা রবীন্দ্রনাথের পর সবথেকে বেশি ফরাসী ভাষায় অনুবাদ হয়েছে, এবং ইংরেজি ভাষাতে অনুবাদ না হবার দরুন অ্যাংলোসেন্ট্রিক বাঙালী তাঁকে মনে রাখেনি। অথচ তিনিও সৌমিত্র-র মতই ফরাসি সরকারের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন।

    লোকনাথ ভট্টাচার্য্য (1927-2001) ছিলেন সেই বিরল হয়ে আসা সেরিব্রাল ধারাটির প্রতীক, যিনি বাংলা ভাষায় লিটল ম্যাগাজিনে গদ্য লিখেছেন এবং ফরাসি ভাষায় কবিতা লিখেছেন। চিন্ময় গুহ তাঁকে অভিহিত করেছিলেন 'ভাটপাড়ার উজ্জ্বলতম বিদ্রোহী সন্তান' হিসেবে। শান্তিনিকেতন এবং অক্সফোর্ড হয়ে সরবোর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতে পিএইচডি করেন। কুড়ি-টির বেশি কবিতার বই লিখে ফরাসি ভাষার অন্যতম কবি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁকে নিয়ে এখনো নিয়মিত ঐ দেশে চর্চা হয়। ক্রিস্তিয়াঁ ল্য মেলেক লিখেছেন রনে দোমাল, শার্ল দ্যুই, ক্রিস্তিয়াঁ গাবরিয়েল ও লোকনাথ ভট্টাচার্যকে নিয়ে একটি বই, ‘Le Vent immobile’ (‘স্তব্ধ হাওয়া’)। ২০০১ সালে মার্ক ব্লাঁশে লোকনাথকে নিয়ে ‘লোত্র্‌ রিভ’ থেকে প্রকাশ করেন একটি সম্পূর্ণ সাহিত্যজীবনী। সেই সিরিজে আর যাঁদের নিয়ে বই আছে, তাঁরা হলেন— পাউল সেলান, ওক্তাভিও পাস, সিলভিয়া প্লাথ ও অ্যালেন গিন্‌স্‌বার্গ। ১৯৯৯ সালে ফরাসি সরকার তাঁকে ‘কমান্ডার অফ আর্ট্‌স্‌ অ্যান্ড লেটার্‌স্‌’ উপাধিতে ভূষিত করে।

    আবার সেই লোকনাথই বাংলা ভাষায় একের পর এক অবিস্মরণীয় লেখা লিখে গেছেন। কলেজবেলাতে তাঁর 'বাবুঘাটের কুমারী মাছ' পড়ে তড়িদাহত হয়েছিলাম। কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের এরকম সিম্বলিক ইন্টারপ্রিটেশন দেশি-বিদেশি সাহিত্য মিলিয়ে আর পড়িনি। (এখনো মার্গারেট অ্যাটউডের হ্যান্ডমেইড'স টেল পড়া হয়নি ) গঙ্গাবতরণ তারপর পড়া। এবং নাটক, "ঠাকুর যাবে বিসর্জন", যার লেয়ারে লেয়ারে আততায়ীর মত লুকিয়ে আছে নতুন চমক, নতুন নতুন অর্থ, অতর্কিতে সামনে এসে বিভ্রান্ত করে দেবে পাঠককে। অন্তর্চারী এই লেখক সারাজীবন এই বাংলায় প্রচারের আলো থেকে একটু আড়ালেই থেকে গেলেন।

    লোকনাথ ভট্টাচার্য্য হন, বা কৃষ্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য, অথবা বিমলকৃষ্ণ মতিলাল-- আন্তর্জাতিক শিল্পসাহিত্য দর্শনের মেধাচর্চায় এনারা যা-ই অবদান রেখে যান না কেন, স্বাভাবিকভাবেই বাঙালী এঁদের মনে রাখে নি। বাঙালী কোনো এক সময়ে বাবুঘাটের কুমারী মাছ পড়েছিল হয়ত। এখন সে 'পোস্ত' দেখে। বই পড়ে চেতন ভগত এবং স্মরণজিত। দানবদের যুগ শেষ। টিরিয়ন ল্যানিস্টার সর্বশক্তিমান, কারণ ইহা বিজ্ঞান।
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৩ জুন ২০১৭ | ২৬৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • kihobejene | 83.189.88.246 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ০৪:৩৫60327
  • Bhalo laglo .. bhordoloker sombondhe jaantam na ... sundor lekha .. duto question: end-er khoncha tar ki dorkar chilo? ami ekhono posto dekhi ni ... kintu bangali posto dekle khoti ki? second question: tyrion lannister er shonge tulona tao bujlam na; Tyrion is fictional character but is a fan favorite (i am biased - my favorite character in Games of Thrones) - how does a pop culture reference relate to the rest of the article? apni to buddhidipto lekhen - katha khatni korei lekhen - tahole shortcut nicchen keno?
  • h | 184.79.160.147 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ০৫:৪৪60328
  • কিন্তু আঁতেল রা যদি পপুলার কে খোঁচা না দেয় কে দেবে? কারণ পপুলার কালচার তো আঁতেল দের খোঁচা দিয়ে অসংখ্য ক্লাসিক লিখে ফেল্লো, সাইনফিল্ড, ফ্রেন্ড্স, একটু কায়দা করে বিগ ব্যাং থিয়োরী এবং এর তো কোন কমতি নেই। দেওয়া নেওয়া তো থাকবেইঃ-)))))))))))))))))))))
  • অভিষেক | 52.110.160.159 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ০৫:৪৭60329
  • এনার করা সার্ত্রের আত্মজৈবনিক লেখার বাংলা অনুবাদ - শব্দ পড়ার সুযোগ হয়েছিলো..সমৃদ্ধ হয়েছিলাম। ভাটপাড়ার কুমারী মাছ পড়ার ইচ্ছা থাকলো। নিবন্ধ লেখককে ধন্যবাদ কত অজানা কথা তুলে আনার জন্যে।
    গ্যালো বছর বিমলকৃষ্ণের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গোলপারক রামকৃষ্ণ মিশন ইন্সটিটিউট অফ কালচারে গায়ত্রী এক স্মারক বক্তৃতা দিয়েছিলেন। পরে কখনও সেই নিয়ে বলার ইচ্ছা থাকলো।
  • অভিষেক | 52.110.160.159 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ০৫:৪৯60330
  • আহ! বাবুঘাটের জায়গায় ভাটপাড়া লিখে ফেল্লো হাতখানা! চিন্ময় দেয় উপাধিতে মশগুল ছিলো মগজ!
  • kihobejene | 83.189.88.246 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ০৭:০৭60331
  • @h: khoncha to obooshoi thaakbe; Kintu continuity bole to ekta bapar ache - Friends, Sienfield, BBT - shobgulori prai shob episode dekha ... khoncha deoa ba bango korar ekta sequence to aahce ... ami shakyjit'er lekha te etai bolchilam je reference to Posto or Tyrion seems way out of the flow ... chondril to khoncha mere lekhe .. shuru theke shesh porjonto habij gabij reference thaake .. seta somossha noi .. amar mone hoyechilo ei article ta je seriousness niye cholchilo - last duto line-e hotath out of flow hoye geche
  • h | 184.79.160.147 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ০৭:৪২60338
  • Kই হবে জেনের কথা এবার বুঝতে পেরেছি। আনে শাক্য অরেক্তু লম্বা কঈ অন্কে দিন ধরে পপু কে খোচ দিতে হোবে, তইলে কিছুদিন পোরে সয়ে জাবেঃ্‌]])))))))
  • i | 134.169.5.154 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ০৯:০৮60332
  • ইউরোপে বাংলা সাহিত্যের গবেষক ও অনুবাদক হিসেবে ফ্রাঁস ভট্টাচার্য্য সুবিদিত। ওঁর সঙ্গে চিন্ময় গুহর একটি সাক্ষাৎকার পড়ি ২০১৫ য়। সেখান থেকে একটু তুলে দিচ্ছি।
  • i | 134.169.5.154 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ০৯:২৭60333
  • ....
    প্রঃ লোকনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা হল কবে, কোথায়?
    উঃ প্যারিসের কাছে গ্রেৎস শহরে কোনও এক রোববার ১৯৫৪ সালে।ততদিনে আমার মা ভারতীয় দর্শন সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি শুনেছিলেন, রামকৃষ্ণ মিশন থেকে স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দকে ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছে। লোকনাথ ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসে এসেছিলেন সংস্কৃতে পি এইচ ডি করতে । ওর সুপারভাইজার ছিলেন প্রথমে প্রখ্যাত ভারততত্ত্ববিদ লুই র‌্যনু, পরে তিনি জাপানে চলে গেলে জাঁ ফিলিওজা।
    প্রঃ দু'জনেই কিংবদন্তি!
    উঃ নিশ্চয়ই! তার আগে লোকনাথ শান্তিনিকেতনে দু বছর পড়াশোনা করে এসেছিল। সে সুন্দর রবীন্দ্রসংগীত গাইত, তাই স্বামীজী তাকে লাঞ্চে ডাকতেন, যাতে সে সকলকে বরঞ্চ অধিকাংশ ভারতীয় ছাত্রের মতই বামপন্থী ছিল।সেভাবেই গ্রেৎসের রামকৃষ্ণ মিশনে তার সঙ্গে পরিচয়। মা'রও লোকনাথকে পছন্দ হয়েছিল, সুদর্শন ছেলে, ফরাসি বলে, বুদ্ধিমান, সংস্কৃতিমান.. বাংলায় কবিতা লেখে। ফরাসি সাহিত্য বাংলায় অনুবাদ করেছে বোদল্যের, র‌্যাঁবো.. আমরা দুজনেই প্রেমে পড়লাম।এক বছর পর ঠিক করলাম আমরা বিয়ে করব।
    .....
  • i | 134.169.5.154 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ০৯:৪২60334
  • ....
    প্রঃ চাকরির ব্যাপারে লোকনাথকে নেহরু সাহায্য করেছিলেন না?
    উঃ (হেসে) হ্য়্যঁ। লোকনাথ সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট নিয়ে যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে চায় নি। পন্ডিত নেহরুর পরিচিত এক ফরাসি সাংবাদিককে আমার মামা চিনতেন। তিনি সুপারিশ করায় আমি পার্লামেন্টে ওঁর সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেলাম। নেহরু এক ভারতীয়র সঙ্গে এক ফরাসি তরুণীকে দেখে একটু অবাক হলেন হয়তো! বললাম, লোকনাথের একটা চাকরি দরকার। জিগ্যেস করলেন, প্যারিসে কি পড়েছেন। 'সংস্কৃত' শুনে বিরক্ত হলেন, 'ধ্যাৎ! আর কিচু?' এথনোলজি শুনে একটু স্বস্তি পেলেন। টি এন কলকে ডেকে বললেন, এই ভদ্রলোক ইস্ট ফ্রন্টিয়ার ডিভিশনে ট্রাইবালদের নাচ গান প্রোমোশন করবেন।
    লোকনাথ শিলংএ দু'মাস ছিল। তার কাজ ছিল নাগা ট্রাইবালদের মধ্যে সংগীত ও নৃত্যের রক্ষণাবেক্ষণ। নেফার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ ভেরিয়ার এলউইনের সঙ্গে সে কাজ করে। আমি ফরাসি বলে আমায় ' ইনার লাইন' পার হতে দেওয়া হত না।
    প্রঃ কিছুদিন পরে উনি পন্ডিচেরিতে চাকরি পেলেন?
    উঃ হ্যাঁ, পন্ডিচেরি সরকারের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার হিসেবে। শান্তিনিকেতনের অনিল চন্দ তখন বিদেশ দপ্তরে উপমন্ত্রী। তাঁর কাছ থেকে জানতে পারি পন্ডিচেরিতে ঐ পদটি খালি আছে। লোকনাথ ইন্টারভিউ দিয়ে পাশ করে।....
  • i | 134.169.5.154 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ১০:১৫60335
  • ....
    প্রঃ আপনি আর লোকনাথবাবু একটা ফরাসি - বাংলা অভিধানও লিখেছিলেন, না?
    উঃ হ্যাঁ। একটা ছোট অভিধান। পরে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সঙ্গে চন্দননগরের ওগ্যুস্তঁয়া ওঁসা র বাংলা ফরাসি শব্দকোষ (১৭৮৪) সম্পাদনা করি।
    ...
    প্রঃ গবেষণার পাশাপাশি অক্লান্তভাবে করেছেন অনুবাদের কাজ। এমনটা বাংলা সাহিত্যের জন্য বিশেষ কেউ করেন নি।
    উঃ দুটৈ একসঙ্গে করেছি, করে চলেছি। আমি চেয়েছি ফরাসিরা বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে অন্তত একটু ধারণা করতে শিখুক। .... আমি বঙ্কিমের 'কপালকুন্ডলা' আর 'আনন্দমঠ' অনুবাদ করেছি, তারাশঙ্করের 'রাইকমল'। লালন ফকিরের কিছু গানও অনুবাদ করেছি, জীবনানন্দের বেশ কয়েকটি কবিতা... বিষ্ণু দে, সমর সেন, শক্তি চট্টোপাধ্যায়।
    প্রঃ লোকনাথ ভট্টাচার্য্যের 'ঘর'...
    উঃ হ্যাঁ, 'ঘর'। ওর কয়েকটি উপন্যাসও, যা ফ্রান্সে প্রকাশিত হয়েছে।
    ......
    প্রঃ ফরাসি কবি এবং কবিতা পাঠকদের কাছে লোকনাথ ভট্টাচার্য্যের একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। স্বয়ং আঁরি মিশো তাঁর কবিতার ভক্ত ছিলেন। আপনি যদি কিছু বলেন...
    উঃ ওর কবিতার ধরনটা র‌্যাঁবোর 'নরকে এক ঋতু'র মতো। ওর গদ্যকবিতা ভাবাবেগ আর সস্তা রোমান্টিকতাকে বর্জন করতে পেরেছিল। সেই লেখাগুলি গভীরভাবে দর্শনিক। যদিও লেখাগুলি একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবন ও অভিজ্ঞতার কথাই বলে। আবার এমন কিছু বলতে চায়, যা বলা যায় না, যা অব্যক্ত। কিন্তু বলার চেষ্টা করা উচিত। তারা আজকের পৃথিবীতে মানুষের কথা বলে।
    প্রঃ আর উপন্যাস?
    উঃওর উপন্যাসগুলো মানবসম্পর্কের ভেতর দিয়ে মানবজীবনের বহু স্তর, জটিলতাকে আবিষ্কার করতে চায়। সেগুলো ভারতীয় দর্শনে সম্পৃক্ত, কিন্তু সেই সঙ্গে আধুনিউক। মানব মানবী একটা কিছু খুন্জছে, যা তারা পাবে না-সুখ এবং নিশ্চয়তা।.... 'গঙ্গাবতরণে লোকনাথ একটা আশার কথা শুনিয়েছে, একটি বৃত্তের শেষে আর একটি বৃত্ত জেগে ওঠে, কোনও কিছুই চিরকালের মত শেষ হয় না। 'অশ্বমেধ' দৃশ্যমান আর অস্পষ্ট স্মৃতির জঙ্গলে এক কাব্যিক ও দার্শনিক ভ্রমণ। একটি লেখায় লোকনাথ এক হারিয়ে যাওয়া নারীর কথা বলে, যে হারিয়ে গিয়েছিল, সে ফিরে আসে ছায়ার ভেতর, একটি কথাকলি নাচের আলো অন্ধকারের খেলায়....
  • i | 134.169.5.154 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ১০:১৭60336
  • এইটুকুই থাক।
    এইটুকুই লোকনাথ ভট্টাচার্য সম্পর্কিত ছিল।
  • i | 134.169.5.154 (*) | ১৪ জুন ২০১৭ ১০:২৮60337
  • ১৪ঃ৫৭ র পোস্টে কিছু শব্দ বাদ পড়ে গেছে-
    পড়তে হবে-
    সে সুন্দর রবীন্দ্রসংগীত গাইত, তাই স্বামীজী তাকে লাঞ্চে ডাকতেন, যাতে সে সকলকে গান শোনাতে পারে। সে ভক্ত ছিল না বরঞ্চ অধিকাংশ ভারতীয় ছাত্রের মতই বামপন্থী ছিল।
  • Sakyajit Bhattacharya | 52.109.130.63 (*) | ১৫ জুন ২০১৭ ০৫:২১60339
  • বহু গড়িমসির পর গেম অফ থ্রোনসের প্রথম সিজনটা দেখেছি। যেটুকু মনে হল--

    গেম অফ থ্রোনসে টিরিয়ন ল্যানিস্টারের চরিত্রটা নবজাতক এনলাইটেন্ড বুর্জোয়াদের প্রতিনিধি। সামন্তযুগের দৈত্যাকার ওথেলো বা ম্যাকবেথ, যাদের উত্থান পতনের সাথে সাথে এক একটা সাম্রাজ্যের ওঠা পড়া নির্ধারিত হয়, তাদের পাশে নবজাতক বুর্জোয়া, যে টাকা এবং লজিক (এবং সেইজন্যেই, টাকার লজিক) ছাড়া কিছুই বোঝে না, তারা চরিত্রে বামন ছিল। প্রসংগত, সকলে যখন যুদ্ধ করে টিরিয়ন বই পড়ে, তার সিনিসসিজম এবং ড্রাই হিউমার জানিয়ে দেয় যে অন্তে একটা অ্যাপোক্যালিপ্স অপেক্ষা করে আছে । ব্রেশট একবার বলেছিলেন যে শেক্সপিয়ারের চরিত্ররা কখনো ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের কেরানি হতে পারে না। এবং ইতিহাস দেখিয়েছে, সম্ভবত মার্ক্সের ভাষাতেই, যে বামনেরা দৈত্যদের যুদ্ধে হারিয়ে দিল। তো, সব সিজন না দেখে আর কিছু বলতে পারব না, তবে এটুকু মনে হচ্ছে যে আল্টিমেটলি টিরিয়ন ল্যানিস্টার, জন স্নো এবং ব্র্যান স্টার্ক টিকে যাবে। ডোয়ার্ফ, ক্রিপল এবং বাস্টার্ডের হাতে চলে যাবে পৃথিবী শাসনের ভার, এবং অভিজাত সামন্তপ্রভুদের রক্তে একসময় রাস্তা ধুয়ে যাবেই, এটা ইউরোপের বুর্জোয়াশ্রেণির ভবিতব্যই ছিল।
  • শিবাংশু | 55.249.72.98 (*) | ১৫ জুন ২০১৭ ০৭:৫২60340
  • লোকনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে পরিচয় কিশোর বয়সে।বছর চল্লিশ আগে। র‌্যাঁবোর অনুবাদ, নরকে এক ঋতু। 'বাবুঘাটের কুমারী মাছ' ওঁর বিখ্যাততম লেখা। পাঠক হিসেবে আমার তাঁকে তৃতীয়মাত্রার লেখক মনে হয়েছে। আঁতেল-পপুলার ইত্যাদি মাত্রার বাইরে। পাঠককে ভোলানো বা চমকানোর কোনও প্রয়াস কখনও দেখিনি ওঁর লেখায়। একটা মনস্ক পবিত্রতা থাকতো যা লিখেছেন তার মধ্যে। 'i'য়ের সংযোজিত ফ্রাঁস ভট্টাচার্যের স্মৃতিচারণটি খুব প্রাসঙ্গিক হয়েছে।
  • Rabaahuta | 233.186.62.44 (*) | ১৫ জুন ২০১৭ ০৮:৪৮60341
  • "জিগ্যেস করলেন, প্যারিসে কি পড়েছেন। 'সংস্কৃত' শুনে বিরক্ত হলেন, 'ধ্যাৎ! আর কিচু?' এথনোলজি শুনে একটু স্বস্তি পেলেন। " - এই জায়গাটা পড়ে মজা পেলাম!
  • | 116.210.223.63 (*) | ১৮ জুন ২০১৭ ০৩:০৫60342
  • হ্যান্ডমেইড্স টেল একটা মারাত্মক বই। সম্প্রতি সোসেন মানে সোনালীর স্ট্রং রেকমেন্ডেশানে পড়লাম। আচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম বেশ কয়েকদিন।

    বাবুঘাটের কুমারী মাছ ইংরিজিটাই পড়েছিলাম বেশ অনেকদিন আগে।
  • h | 117.77.106.77 (*) | ২২ জুন ২০১৭ ০১:২৪60343
  • আমি এগুলো একটাও পড়িনি। অনেক ধন্যবাদ রেকোর জন্য।
  • PT | 213.110.242.23 (*) | ২২ জুন ২০১৭ ০২:২২60344
  • এই তথ্যগুলো এখনে থাক । কত নামই তো জানা ছিলনা!!

    লেজিয়ঁ দ ’নর পুরস্কারের প্রাপক কারা ?
    ‘এই সময় ’-এ (১০ -০৬) একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পড়ে জানলাম , সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ফরাসি সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান লেজিয়ঁ দ ’নর (Legion d’Honneur) পুরস্কার পেয়েছেন৷ কোথাও কোথাও লেখা হয়েছে সৌমিত্রই প্রথম ভারতীয় অভিনেতা যিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন৷ যদিও ‘এই সময় ’-এ তেমন কিছু সরাসরি লেখা হয়নি , তবুও আমার মতো সাধারণ পাঠক এই ধারণায় বিভ্রান্ত হয় যে সৌমিত্রই এই পুরস্কারের প্রথম অভিনেতা প্রাপক৷ সব বাঙালির মতো এই খবরটি আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয় হলেও , একটা খটকা রয়ে গেল৷ আবছা ভাবে মনে পড়ল শাহরুখ , অমিতাভও তো এই সম্মান পেয়েছেন৷

    কার কাছে যাব , সিধু জেঠা তো বেঁচে নেই৷ কথায় আছে ‘যা নেই পেটে তা আছে নেটে ’৷ গুগল , উইকি , অন্যান্য পত্রপত্রিকা ও বই ইত্যাদি ঘেঁটে জানা গেল উল্লিখিত দু’জন বলিউড অভিনেতা ছাড়া নন্দিতা দাস , শিবাজি গনেশন , ঐশ্বর্য রাই ও কমল হাসানও (সকলেই অভিনেতা , এখন তো কাউকে আর অভিনেত্রী বলা যাবে না ) লেজিয় দ ’নর পেয়েছেন৷ বলা দরকার , এই পুরস্কারের পাঁচটি গ্রেড বা ডিগ্রি আছে , গ্র্যান্ড ক্রস , গ্র্যান্ড অফিসার , কম্যান্ডার , অফিসার ও নাইট , উচ্চতম থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতম৷ একজন লেজিয়ঁ সম্মান প্রাপক কয়েক বছর উন্নততর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ উচ্চতর সম্মান পেতে পারেন , যেমন একজন নাইট কয়েক বছর পর অফিসার হয়ে যেতে পারেন বা অফিসার কম্যান্ডার হতে পারেন৷

    সম্রাট নেপোলিয়ন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কার (১৯ মে , ১৮৯২ ) প্রথমে শুধু ফরাসিদের জন্যে নির্দিষ্ট ছিল পরে বাইরের দেশও এর অন্তর্ভুক্ত হয়৷ সর্বোচ্চ পুরস্কার প্রথমে গ্র্যান্ড ইগল ছিল , পরে তা গ্র্যান্ড ক্রস হয়৷ অমিতাভ ২০০৭ -এ যে সম্মান পেয়েছিলেন তা ছিল অফিসার (৪র্থ স্তরের )৷ শাহরুখ ২০১৪ -তে নাইট (পঞ্চম স্তরের ) এবং বাকিরাও নাইট৷ সত্যজিত্ বা সৌমিত্র কোন ডিগ্রির পুরস্কার পেয়েছেন ‘এই সময় ’-এ তার উল্লেখ নেই , যদিও বলা হয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান৷

    সত্যজিত্ পেয়েছিলেন কম্যান্ডার যা কিনা একজন শিল্পীর জন্যে সর্বোচ্চ ফরাসি পুরস্কার৷ সৌমিত্রও পেয়েছেন কম্যান্ডার৷ সেই হিসেবে তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেতা যিনি একজন শিল্পীর জন্যে নির্ধারিত এই সর্বোচ্চ ফরাসি সম্মান পেলেন৷ উইকি মতে উনি তেত্রিশতম ভারতীয় এবং পঞ্চম বাঙালি যাঁরা এই পুরস্কার পেয়েছেন৷ বাকিরা পণ্ডিত রবিশঙ্কর , বিকাশ চন্দ্র সান্যাল ও দুর্গাচরণ রক্ষিত৷ তবে নেট থেকে পাওয়া তথ্য সব সময় নিখুঁত হয় না৷ বাঙালি চরিতাভিধান থেকে জানা গেল চন্দননগরবাসী লেখক ও ইতিহাসবিদ হরিহর শেঠ ১৯৩৪ -এ Chevalier de I’order National de la Legion d’Honneur অর্থাত্ Knight পান যার উল্লেখ গুগল বা উইকিপিডিয়াতে নেই৷ এই প্রসঙ্গে বলা দরকার আর এক চন্দননগর নিবাসী দুর্গাচরণ রক্ষিত এই পুরস্কারের সর্বপ্রথম বাঙালি তথা ভারতীয় প্রাপক (১৮৯৬ ) ৷

    গোপাল বিশ্বাস , ঢাকুরিয়া
    http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=32652&boxid=144751977
  • | 116.193.245.181 (*) | ২৬ জুন ২০১৭ ০৫:০৮60345
  • বোধি, হ্যান্ডমেড'স টেল কিন্ডল কপি লাগলে বোলো। পাঠিয়ে দেব।
  • h | 212.142.106.76 (*) | ২৭ জুন ২০১৭ ০১:২৩60346
  • domu, thank you. At the the moment there are two shameful things I can confess to:-))))I have Atwood's book, read about it in detail but never actually read it. The other thing is I can't even remember I ever heard of Loknath Bhattacharya s bangla classic, now imagine the amount of mouthful I got at home when I confessed on both accounts at home. Bhalo jhar khelam:---)) loknath er boita banglay kothay pete paari??
  • h | 212.142.106.76 (*) | ২৭ জুন ২০১৭ ০১:২৩60347
  • domu, thank you. At the the moment there are two shameful things I can confess to:-))))I have Atwood's book, read about it in detail but never actually read it. The other thing is I can't even remember I ever heard of Loknath Bhattacharya s bangla classic, now imagine the amount of mouthful I got at home when I confessed on both accounts at home. Bhalo jhar khelam:---)) loknath er boita banglay kothay pete paari??
  • অর্জুন অভিষেক | 233.223.144.26 (*) | ২২ মে ২০১৮ ০৮:০০60348
  • লেখক লিখেছেন লোকনাথ ভট্টাচার্য 'সংস্কৃতে পি এইচ ডি' করেছেন। উনি বাংলা ভাষার ছাত্র ছিলেন না?

    লোকনাথ সহধর্মিণী ফ্রসে ভট্টাচার্যও বিশিষ্ট গবেষিকা ও অনুবাদিকা। কৃত্তিবাসী রামায়ণ ফরাসীতে অনুবাদ করেছেন। 'বইয়ের দেশ' এ চিন্ময় গুহের নেওয়া একটি সুদীর্ঘ সাক্ষাৎকার আছে ফ্রসে ভট্টাচার্যের।

    সম্ভবত উনি এখনও আছেন এবং পণ্ডিচেরীতে থাকেন।

    লোকনাথ ভট্টাচার্যের রচনাবলী কি প্রকাশিত হয়েছে?
  • অমিত চক্রবর্তী | 202.142.68.234 | ০১ জুন ২০২০ ১৭:৫৫93873
  • অসাধারণ !

  • Moumita Mitra | 122.162.241.251 | ০২ জুন ২০২০ ০৮:৫০93880
  • ঋদ্ধ হলাম। এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়  আলোকিত হয়ে উঠল এই প্রবন্ধে। সেই সঙ্গে সাক্ষাৎকারটিও তেমনই ধন্যবাদার্হ।  

  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত