• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ভালো থেকো ঋতুদা

    Kallol Lahiri লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ৩১ মে ২০১৮ | ২৭০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • একাদশ শ্রেনীর পড়ার চাপটা তখন একটু বেশি। পুজোর পরেই পরীক্ষা। এদিকে আনন্দবাজার পুজো বার্ষিকীতে বেরিয়েছে নতুন এক লেখকের চিত্রনাট্য। মাঝপথে থামিয়ে তাই একটুও ভূগোল পড়তে ইচ্ছে করছে না। মা-মেয়ের সম্পর্কের টানা পোড়েনে জমে উঠেছে অন্দর। দুটো হাত এক বাড়ির নির্বান্ধব পুরীতে এগিয়ে আসছে একে অপরের কাছে। আমি তন্ময় হয়ে আছি চিত্রনাট্যের নিবিড় পাঠে। ‘ঊনিশে এপ্রিল’ শেষ হচ্ছে আমার শরতের এক মন কেমনের রাতে। তারও অনেক পরে বালীর রবীন্দ্রভবনে ভিড়ে ঠাসা হলে ছবিটা যখন দেখেছি তখোনো জানি না জীবনে বেশ কিছুবার নানা কারণে এই ছবির নির্মাতার সাথে আমার দেখা হবে। তখনও জানি না, কোনো এক পরিচালকের বাড়ির নাম হতে পারে ‘তাসের ঘর’। তখনও জানি না আমি এই পরিচালকের সাথে তারই শেষ ছবির চিত্রনাট্যের অনুলেখক হবো। গোটা চারটে দিন খুব কাছ থেকে দেখবো একটা মানুষকে। যার সকাল শুরু হয় ভোর বেলা। যে উৎকন্ঠায় থাকে “কল্লোল আজ আসবি তো তুই?” কিম্বা যে কারণে অকারণে আমাকে খোঁচা দিয়ে বলে, “তোরা আর কি বুঝবি টেলিভিশন রাইটার কোথাকার।” গায়ে ফোস্কা পড়তো আমার। একটু আধটু ঝগড়া করিনি সেটাও বলতে পারবো না। বানান ভুলে প্রায় তিতি বিরক্ত ঋতুদা একটুও বুঝতে চাইতো না, অনর্গল বলে যাওয়ার সাথে টাইপের কিছু ভুল থাকতে পারে।
    “থামবি তুই? তোর গোড়াতেই গলদ।”
    আমি বলতাম বেশ। তাহলে ডেকেছো কেনো আমাকে?
    “নে, তাড়াতাড়ি লেখ। এই শোন...ক্ষিদে ক্ষিদে পাচ্ছে কি? চুরমুড় খাবি? আমাদের এখানে একটা লোক দারুন চুড়মুড় বানায়।”

    ফেব্রুয়ারির শীত। সোয়েটারের ভেতর দিয়ে একটু একটু কামড়াচ্ছে। তার মধ্যে একবার এসি চালিয়েছে। আর দুবার পাখা। দুপুরে খাওয়া হয়েছে খিচুরী, বেগুনভাজা, মাছ ভাজা, ঘি, আর সঙ্গে আছে চাটনী। নিজেই বেড়ে দিয়েছে আমার প্লেটে। নিজেই বারবার জানতে চেয়েছে “আর কিছু খাবি?” আর আমি দেখছি আমার সামনে একাদশ শ্রেনীর এক ছাত্র পরীক্ষার পড়ার নাম করে রাত জেগে পড়ছে ঊনিশে এপ্রিল চিত্রনাট্য। আমি দেখেছি কি উৎসাহ নিয়ে ঋতুদা পড়েছে আমার লেখা প্রথম মেগা সিরিয়াল ‘অপরাজিত’র প্রথম বারোটা এপিসোড। আর যীশু নীলাঞ্জনাকে বলেছে... “ডাকবি একবার কল্লোলকে। দেখবো ছেলেটাকে একবার...”।

    আমরা গেছি। আর শুধুই বকে গেছে আমাকে। কী করে তুই এই ভুলটা করলি? এতো ছটফট করিস কেনো? আরও মন দিয়ে লিখতে হবে। “দেখ এই চরিত্রটা যদি এমনভাবে হয়...”। ঋতুদার সাজেশান আমরা নিইনি তেমন। কিন্তু সামনে থেকে সেই প্রথম দেখেছিলাম ভাষার প্র্তি তার দক্ষতা। অগাধ নিষ্ঠা। মুখে বলে বলে নিমেষে সিকোয়েন্স নির্মাণের মুন্সিয়ানা। আর অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা। কিন্তু এই গল্পের আগেও একটা রিল গোটানোর গল্প আছে। সেটাও আমার কাছে কম প্রাপ্তির কিছু নয়।

    জীবনের প্রথম চাকরীর ইন্টারভিউটা দিতে গিয়েছিলাম ইন্দ্রানী পার্কের ‘তাসের ঘর’ নামের বাড়িটায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবে মাত্র তখন চলচ্চিত্রবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়ে নানা দিকে ঘোরাঘুরি করছি কাজের সন্ধানে। অনেককে বলেছি। মাঝে মাঝেই জ্বালাতন করছি প্রিয় শিক্ষদের। চাকরীর আবেদন নিয়ে সংবাদপত্র থেকে শুরু করে ঘুরে বেড়াচ্ছি ছোট ছোট প্রোডাকশান হাউজ গুলোতে। কিন্তু কিছুতেই কিছুর সুযোগ মিলছে না। অনেকে ফ্রিতে লিখিয়ে নিচ্ছেন অনেক কিছু। কেউ কেউ ছাপছেন সেই লেখা। কিন্তু পয়সা কোথায়? ঠিক এমনি এক সময়ে যখন আমার ফিল্ম স্টাডিজটা লোকের কাছে ফিল্ড স্টাডি হবার উপক্রম একটা আশা সূচক ফোন পেলাম আমার প্রিয় শিক্ষক মৈনাকদার কাছ থেকে। বলাবাহুল্য সেই নব্বই দশকের শেষের দিকে মোবাইল ছিল না। ছিলনা ফেসবুক। একটা এস এম এস করে পালটে দেওয়া যেত না জীবনের সিদ্ধান্ত। যাইহোক, মৈনাকদা জানালো ঋতুপর্ণ লোক খুঁজছেন তাঁর নতুন টিভি চ্যানেলের জন্য। আমি যেন যোগাযোগ করি। কিন্তু ঋতুপর্ণর সাথে যোগাযোগ? সেটাই বা মফস্বলে বালীর মতো জায়গায় থাকা কারো পক্ষে কী করে সম্ভব? মৈনাকদাই সব ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সময় ঠিক ছিল সকাল সাতটা ইন্দ্রানী পার্কের বাড়ি। ভোর সাড়ে চারটের সময় রওনা দিয়েছিলাম মনে আছে। ঠিক পৌনে সাতটার সময় তাঁর বাড়ির সামনে। আর ঠিক সাতটার ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে ডাক পড়লো নীচের বসার ঘরে। বাড়ির কোনো এক সহযোগী এসে দরজা খুলে দিল। সেই সকালেও এক আধো আলো...আধো অন্ধকারের ঘরের মধ্যে দেখলাম সামনে বসে আছেন পরিচালক। ততদিনে দেখা হয়ে গেছে হীরের আংটি। ঊনিশে এপ্রিল। দহন। বাড়িওয়ালীর পোস্ট প্রোডাকশান চলছে। আমাকে বসতে বলে খবরের কাগজে মন দিলেন তিনি। মুখে মাখা আছে ফেসিয়ালের আনুষাঙ্গিক কিছু। একটু অদ্ভুত লাগলো। মিনিট পাঁচেক চুপচাপ বসে থাকলাম। পরিচালক খবরের কাগজ পড়লেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন এর আগে আমি কোনো কিছু কাজ করেছি কিনা। আমার না বলাতে উনি খুব একটা উৎসাহ দেখালেন না। আমার বাড়ির দূরত্ব নিয়ে সন্দিহান প্রকাশ করলেন। ওঁর ধারনা হলো আমি বালী থেকে কলকাতায় কাজ করতে পারবো না। সময়ে আসতে পারবো না। কিন্তু ওকে বোঝাতে চাইলাম না একটুও...আজও আমি সময়ে এসেছি...এই এতো সকালে। যাইহোক কাজটা আমার হলো না।
    কিন্তু সেই আমিই যখন আবার বছর সাতেক পরে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উতসবের সিগনেচার ছবির নির্মাণের বরাত পেলাম বন্ধু বিক্রমজিতের সাথে, মাত্র একমিনিটের একটা জার্নির চিত্রনাট্য করতে গিয়ে মনে পড়লো এক একা হয়ে যাওয়া বাড়িওয়ালীর কথা। ঠিক তখনি মনে হলো...যে ধারাবাহিকতায় পথের পাঁচালী থেকে শুরু করেছি আমরা সেই ধারাবাহিকতায় ঋতুদাকে দিয়ে শেষ করবো আমাদের জার্নি। ২০০৭ সালে আমার হাতে তখন মুঠো ফোন। ঋতুদার নম্বর জোগাড় করতে অসুবিধে হল না। একটা এস এম এস করে রাখলাম। আপনার বাড়িওয়ালীর কয়েকটা দৃশ্য চাই। একঘন্টার পরে নিজেই ফোন করলো ঋতুদা। ওটা পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ অনুপম খেরের সাথে ঋতুদার ঝগড়া। দেবে না প্রযোজক ব্যবহার করতে। অগত্যা আমরা ঠিক করলাম চোখের বালী দিয়ে শেষ করবো আমাদের সিগনেচার ছবি। সেই ছবির টুকরো পেতে আমাদের কোনো অসুবিধে হয়নি। সহজে পাওয়া গিয়েছিল। না ঋতুদার সাথে দেখা করতে হয়নি। যেতে হয়নি তার বাড়িতে। কোথাও যেন এই ছবিটা দেখে একটা এস এম এস পেয়েছিলাম ভালো হয়েছে গোছের।

    তারও অনেক পরে। প্রায় বছর চারেক পরে...আমি যখন লেখা লেখির জগতে আরো বেশি প্রবেশ করতে চলেছি। আমার চাকরীর সত্ত্বা...আমার তথ্যচিত্র নির্মাণের সত্ত্বা যখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। সেই সময়কার স্টার জলসার শুভঙ্কর আর দীপজয় যখন ঠিকই করে নিয়েছে আমাকে দিয়ে আর কিছু না হোক একটু আধটু মেগা সিরিয়াল লেখানো যাবে। ঠিক সেই সময় আবার আমার ডাক পড়লো সেই ইন্দ্রানী পার্কের বাড়িতে। এবার সকাল সাতটা নয়। সকাল আটটা। এবার আমি একা নই সঙ্গে যীশু ও নীলাঞ্জনা সেনগুপ্ত এবং দীপজয়। দেখা করার আয়োজনের সূত্র কিছুদিনের মধ্যেই যে সিরিয়ালটা সম্প্রচারিত হতে চলেছে তার সম্বন্ধে আলোচনা। আর যিনি এই সিরিয়ালের লেখক তার সঙ্গে পরিচয় করা। অপরাজিতর চিত্রনাট্য পড়ে ভালো লেগেছিল শুনেছিলাম ঋতুদার। কিন্তু আমার সামনে কোনোদিন কিছু বলেননি। সেদিন আমার সঙ্গে একটাও কথা বলেননি। আমিও না। শুধু ভুল গুলো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এবং বেশ প্রকট...আর প্রখর ছিল সেই সমালোচনা। কয়েকটা জিনিস মানতে বলেছিলেন। মনে আছে রাগ করে একটাও মানবো না বলে ঠিক করেছিলাম। ফিরে এসেছিলাম মুখ গোমড়া করে বাড়িতে। সলতে পাকানোর গল্পতে যার আলোচনা আগেই সেরে নিয়েছি।

    একবছর চলেছিল অপরাজিত। একটা পুরষ্কার পেলাম। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য। পরের দিন ঘুম থেকে ওঠার পর পেলাম ঋতুদার শুভেচ্ছা বার্তা। আর তার ঠিক কয়েকমাস পরে আমাকে অবাক করে দিয়ে একটা ফোন। ব্যোমকেশ নিয়ে একটা ছবি করবো ভাবছি। তুমি লিখবে আমার সাথে? প্রথমে হ্যাঁ বলিনি ঋতুদাকে। না বলেছিলাম। কারণ জলসা মুভিজে আমি তখন প্রমো এবং কনটেন্ট রাইটার। ঋতুদা বললো কার কাছ থেকে পারমিশান আনতে হবে আমাকে বলো। শেষপর্যন্ত কারো কাছ থেকে পারমিশান জোগাড় করতে হয়নি। বলেছিলাম মাত্র তিনদিন আমার হাতে সময় আছে। আপনি লিখতে পারবেন তো? বলেছিলেন আমি না...আমরা লিখবো। বেশ...। সরস্বতী পুজোর দিন...মাঘের শীত গায়ে মেখে আমি আবার ঋতুদার বাড়ির সামনে ঠিক সকাল সাতটায় নয় বেলা দশটায় কলিং বেল টিপলাম। আর প্রথম গিয়েই ঋতুদার বসার ঘরে ঢুকে দেখতে পেলাম সব জানলা খোলা। শীতের রোদ ঠিকরে পড়ছে ঋতুদার নানা রকমের দামী এ্যান্টিক জিনিস থেকে। সেই চোখ ধাঁধানো আলোর মধ্যে বসে আছে ঋতুদা। বিড়বিড় করে মনে মনে কী বলছে আর লিখছে তার প্যাডে। আমাকে দেখতেই বললো...বাহঃ...একদম সময়ে এসে গেছিস? এই নে...আমার প্যাড আর কলম আজ থেকে তোর। ছ্যাঁক করে উঠেছিল কথাটা শুনে। আমি একটু সরে এসে বললাম আমি বহুদিন পেনে লিখিনা। টাইপে অভ্যস্ত। শুনে মনে হল খুশি হল লোকটা। বাহঃ তাহলে আমরা রোজ...একটা করে প্রিন্ট নিতে পারবো। লেখা শুরু হলো আমাদের। ঋতুদা বলে...আমি লিখি। লেখা থামিয়ে আমার কাছে জানতে চায়। আমার মতামত বললে লক্ষ্য করি পছন্দ করছে না লোকটা। খালি বলছে আমি টেলিভিশন রাইটার। তাহলে আমাকে কেন? একদিন যখন ল্যাপটপ ছেড়ে উঠে পড়েছি...তখন সব কিছু ঢাকা দেওয়ার জন্য বললো চুরমুড় খাবি? আমি অবাক...দুপুরে ওই অতো কিছু খাবার পরে চুরমুড়? সকালেই তো দেখলাম পেটে ইনজেকশান নিচ্ছে। আমি খাবো না বলাতে...জোর করলো না। নিজের জন্য আনালো। সেদিন আর লিখলাম না আমরা গল্প করলাম। ব্যোমকেশ আর অজিতকে নিয়ে বারবার বললাম উড়িষ্যার জঙ্গলে যে রাজবাড়িটা পাচ্ছো সেখানে যাও। ঋতুদার আপত্তি ছিল সব কিছুতে। ছিল গরমে ভয়। এক রুক্ষ অরণ্য ছিল কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে। আমার কাছে জানতে চাইতো এই যে ব্যোমকেশ...একে তুই কেমন করে দেখছিস? বলতো নিজের ব্যোমকেশের কথা। চোরাবালি গল্পটাকে দুমড়ে মুচড়ে পালটে দিয়েছিল। মূল গল্পে যে রানী এক লাইনে ছিলেন। সেই রানী হলেন ঋতুদার ছবিতে প্রধান চরিত্র। পাখি শিকার আমি লিখবো না জেদ ধরেছিলাম। তোমার ব্যোমকেশ আর অজিত ঠ্যা ঠ্যা করে পাখি শিকার করবে...এ কেমন বোকা বোকা সব জিনিস। উত্তরে বলেছিল বুঝছিস না...সময়টা দেখ...। তোরা না আজকালকার টেলিভিশন রাইটাররা সব মুখ্যু...। তবুও...শেষ পর্যন্ত পাখি শিকার থাকে নি। চিত্রনাট্য যত শেষের দিকে যেতে শুরু করলো আমাদের চারপাশে বইয়ের সংখ্যা বাড়তে লাগলো। অনেক রেফারেন্স...অনেক মানুষকে ফোন...পোষাকের ডিটেল নিয়ে লিখতে লিখতে ঋতুদা কথা বলতো। এক-একটা চরিত্র অভিনয় করে করে ডিটেলে লিখতো। এর আগে এ্যাডাপ্টেশান নিয়ে অনেক পড়তে হয়েছে। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন। সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের সম্পর্ক ‘কী’ তা নিয়ে অনেক গুরু গম্ভীর বই আছে। সাহিত্য থেকে পরিগ্রহণের সেই তাত্ত্বিক আলোচনা থেকে সরে এসে যখন হাতে কলমে কোন এক বিখ্যাত পরিচালকের সাথে কাজ করলাম, দেখলাম আকাশ পাতাল তফাত থেকে যাচ্ছে অনেক কিছুতে। এখন যখন চিত্রনাট্যের কর্মশালা নিয়ে থাকি বিভিন্ন জায়গায়, সাহায্য করে ঋতুদার সাথে কাজ করার ওই কয়েকটা দিন।

    তবে শেষের দিনের ঝগড়াটা ছিল বানান ভুল নিয়ে। তাড়াতাড়ি অভ্রতে টাইপ করতে গিয়ে অনেক কিছু বানানের গন্ডগোল হয়। বলেছিলাম সব ঠিক করে দেবো। ঋতুদা শোনেনি। গোড়ায় যে ছেলের গলদ...তাকে নিয়ে তিনি পথ চলবেন কী করে? সত্যান্বেষীর প্রথম ড্রাফট দিয়ে তাই আর ফিরে তাকায়নি ইন্দ্রানী পার্কের বাড়ির দিকে। পয়লা বৈশাখে একটা এস এম এস এসেছিল। “নতুন বছরের অনেক আদর”। তারপর ৩০ শে মে। সবাই বললো ঘুমের মধ্যেই চলে গেছে মানুষটা। তার সাথে নাকি সবার খুব কাছাকাছির সম্পর্ক ছিলো। বেশিরভাগ লোক কান্না কাটি করলো। অফিসে বসে দেখলাম। আর মনে পড়লো ইন্দ্রানী পার্কের বাড়িতে দোতলার বসার ঘরের জানলার কাছটা। একটা লোক চুপ করে বসে আছে। বারবার হাতড়ে দেখছে মোবাইল। কেউ কি ম্যাসেজ পাঠালো তাকে? আমার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলো এতো চুপচাপ থাকিস কী করে তুই? কেউ ফোন করে না তোকে? প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে আবার জানলার দিকে তাকায় ছোট করে চুল কাটা লোকটা। বিড়বিড় করে বলে এবার গরমটা যদি খুব বেশি পড়ে তাহলে কাজ করতে খুব অসুবিধে হবে। দেখতো...তোর পাশের ফোনটা কি বাজছে? এগিয়ে দিই মোবাইলটা। হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে ঋতুদা। না বাজছে না। আমাকেও অনেকক্ষণ কেউ ফোন করেনি। যাক মরুক...ভুলে যাওয়াই ভালো।

    এখোনো আমার ফোনে ঋতুদার ফোন নাম্বারটা আছে। ডিলিট করিনি। গুগুলের চ্যাট বক্সে পেন্ডিং আছে রিকোয়েস্ট।

    মরলেই ভুলে যাওয়া যায় না...এই লেখাটাই হয়তো তার প্রমান ঋতুদা...।
    যেখানেই থাকো ভালো থেকো...।
    অনেক আদর...।
  • বিভাগ : ব্লগ | ৩১ মে ২০১৮ | ২৭০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩১ মে ২০১৮ ০২:৫৯62482
  • ইন্টারেস্টিং। আরো লিখুন না, নানা অভিজ্ঞ্তা।

    আর এই নিয়ে বড় করে লিখবেন কখনো? মানে অই অহিজ্ঞ্তা, কোথায় কী বদলে গেল।

    'এর আগে এ্যাডাপ্টেশান নিয়ে অনেক পড়তে হয়েছে। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন। সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের সম্পর্ক ‘কী’ তা নিয়ে অনেক গুরু গম্ভীর বই আছে। সাহিত্য থেকে পরিগ্রহণের সেই তাত্ত্বিক আলোচনা থেকে সরে এসে যখন হাতে কলমে কোন এক বিখ্যাত পরিচালকের সাথে কাজ করলাম, দেখলাম আকাশ পাতাল তফাত থেকে যাচ্ছে অনেক কিছুতে। এখন যখন চিত্রনাট্যের কর্মশালা নিয়ে থাকি বিভিন্ন জায়গায়, সাহায্য করে ঋতুদার সাথে কাজ করার ওই কয়েকটা দিন।'
  • বিপ্লব রহমান | 113.231.161.74 (*) | ০৪ জুন ২০১৮ ০৫:০২62483
  • ঋতুপর্ণকে নিয়ে লেখা সহজ কথা নয়। আপনার সৌভাগ্য আপনি তার সান্নিধ্য পেয়েছেন, স্নেহ পেয়েছেন। তার চেয়ে বড় কথা, আপনি তাকে নিয়ে কি সাবলীল লিখতে পারেন!

    খুব ভাল হয় গুরুতে যদি তাকে নিয়ে একটি ধারাবাহিক লেখেন। এই লেখাটি তো সারৎসার হিসেবে খসড়া রইলোই!

    আর পরে সম্ভব হলে একটি আস্ত বই।
    --
    আপনার “গোড়া নকশাল” ঢাকার “বিদিত” প্রকাশনীর মিন্টু দাকে আনতে দিয়েছি তিন কপি, নিজেরেই জন্য।

    মিন্টুদাকে ফোন করতে নিজেই বললেন, লেখককেও চিনি, ভাল লোক! চিন্তা করবেন না, সামনের সপ্তাহেই কলকতা লোক যাচ্ছে, বই পেয়ে যাবেন। :)

    শুভেচ্ছা
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত প্রতিক্রিয়া দিন