• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-১

    Kallol Lahiri
    বিভাগ : আলোচনা | ২৮ আগস্ট ২০১৮ | ২৪ বার পঠিত
  • কুমড়ো ফুলের বড়া

    জানলার কাছে বসন্তের নরম রোদে সার দিয়ে সাজানো আছে কাঁচের বড় বড় বয়াম। মুখ গুলো ঢাকা আছে পরিষ্কার সাদা কাপড়ের ফেট্টিতে। বয়াম গুলোকে বাইরে থেকে দেখলে বোঝা যায় না তার মধ্যে কি রসদ লুকিয়ে আছে। কিন্তু যারা এই বাড়িতে রোজ ভাত খেতে আসে তারা ঠিক জানে। ভাতের পাতে লেবু, নু্‌ন, লঙ্কা দেওয়ার পাশাপাশি উড়ে বামুন ধনঞ্জয় একটু করে শালপাতায় ছুঁয়ে দিয়ে যায় বয়ামের সেই লুকোনো সম্পদ। কামরাঙা, কতবেল, জলপাই কিম্বা কোনদিন পাকা তেঁতুলের আচার। নতুন কাস্টমাররা অবাক হয়ে যায়। আর পুরোনো লোকেরা ভাবে আজ কোনটা পাতে আসবে? শুধু আচারের টানেই না, এই হোটেলে ভিড় লেগে থাকে পুব বাঙলার এক বিধবা মহিলার হাতের রান্না খেতে। ইন্দুবালা কবে যে এই ভাতের হোটেল শুরু করেছিলেন আর কেন করেছিলেন নিজেও ঠিক মনে করতে পারেন না। তবু ভাসা ভাসা ছবির মতো মনে পড়ায় অনেক কিছু। শুধু সেবার যখন কোলের এক মেয়ে আর ছোট্ট দুই ছেলেকে নিয়ে বিধবা হলেন। সেদিন থেকে বুঝতে শুরু করেছিলেন যারা এতোদিন ঘিরে রাখতো তাদের। সুযোগ সুবিধাটা ঠিক মতো আদায় করে নিয়ে যেত তারাই এখন ছায়ার মতো সরে যাচ্ছে। স্বামীর জুয়া আর মদের নেশায় এতোদিন যারা আট-কপাটি পর্যন্ত বিক্রি করার সায় দিয়েছিলো তাদেরও আর দেখা গেল না বড় একটা।

    তখনও খুলনা থেকে মাঝে মাঝে ভাইরা এসে খোঁজ খবর নিয়ে যেত। মা পোঁটলা করে পাঠাতো ভাজা চিড়ে, মুড়ি, বাড়ির সজনের ডাটা, চুইঝাল। তারপর সেটাও বন্ধ হল। যুদ্ধ বাধলো। ভাইদের অনেক দিন কোন খোঁজ পেলেন না। একদিন সকাল বেলায় গাঁয়ের থেকে পালিয়ে আসা এক লোকের কথায় জানতে পারলেন পুড়িয়ে দিয়েছে সব কিছু পাকিস্তানী মিলিটারীরা। মা, ভাই, বোন আর কেউ বেঁচে নেই। এমনকি ভিটে বাড়িটাও। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা যেদিন উড়লো। ইন্দুবালা নীচের ঘর ঝাঁট দিয়ে উনুন ধরালেন। ভাড়ারে চাল ছিল বাড়ন্ত। ছেলে মেয়ে গুলো ক্ষিদের জ্বালায় তারস্বরে কাঁদছিল। পাওনাদার দাঁড়িয়েছিল রাস্তায়। লছমি মাছওয়ালী শেষ বাজারে একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরছিলো। আর থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিল পুরনো দোতলা বাড়িটার সামনে। একটা বছর পঁচিশের মেয়ে সদ্য বিধবার সাদা ধবধপে শাড়িতে এলোচুলে চুপ করে বসে আছে ধরে ওঠা উনুনটার সামনে। উনুনে গুলের আঁচে ফর্সা মেয়েটার মুখ লাল হয়ে আছে। ওদিকে দূরে দাঁড়িয়ে আছে চিল শকুনের মতো পাওনাদাররা। লছমীর যেন কি একটা মনে হয়েছিল সেই মুহূর্তে। একটুও সময় নষ্ট করেনি সে। সোজা এসে দাঁড়িয়েছিল ইন্দুবালার সামনে। গ্যাঁট থেকে আট আনা বার করে মেঝের ওপর রেখে দিয়ে বলেছিল “আজ তোমার বাড়িতে দুটো ভাত মুখে দেব মাজি। কছু মনে করো না। বারোটা পঁচিশের ক্যানিং লোকাল ছুড়ে গেল যে। এখন দুটো পেটে না পড়লে বাড়ি ফিরতে সাঁঝ হয়ে যাবে। আর শলীল চলবে না মাজি”।

    ইন্দুবালা হ্যাঁ না কিছু বলেনি। তাদের খুলনার বাড়িতে অতিথিরা কোনদিন না খেয়ে যায়নি। আজও সে লছমীকে ফেরত পাঠাতে পারলো না। বলতে পারলো না তার ভাড়ারে ফোটাবার মতো চালটুকু নেই। লক্ষ্মীর ঝাঁপিতে এক আনাও নেই যা দিয়ে সে তার দোরে আসা লছমীকে মুড়ি কিনে খাওয়াতে পারে। সাত-পাঁচ না ভেবে একটু কুন্ঠা নিয়েই সে লছমীর দেওয়া টাকাটা আঁচলে বাঁধলো। উনুনে চাপালো এক হাঁড়ি জল। ছোট মেয়েকে দোতলার ঘরে ঘুম পাড়িয়ে এসে বড় ছেলে প্রদীপকে পাঠালো সামনের মুদিখানার দোকানে। খিড়কির দরজা খুলে নিজে বাড়ির পেছনের বাগান থেকে নিয়ে এলো সবে কচি পাতা আসা কুমড়ো শাক, গাছের পাকা লঙ্কা। শাশুড়ির আমলের পুরনো ভারী শিলটা পাতলো অনেক দিন পরে। যত্ন করে ধুয়ে সেই কবেকার প্রাচীন হীম শীতল পাথরটার ওপর রাখলো সর্ষে দানা। শিল আর নোড়ার আদিম ঘর্ষনে খুলনা থেকে পাঠানো মায়ের শেষ সর্ষে টুকু বেটে ফেললো ইন্দুবালা অল্পক্ষণের মধ্যেই। লোহার কড়াইতে জল মরতে থাকা সবুজ ঘন কুমড়োশাকের ওপর আঁজলা করে ছড়িয়ে দিল সর্ষের মন্ড। কয়লার আঁচে টগবগ আওয়াজে ফুটতে থাকলো কচি শাক গুলো। তার নরম পাতা গুলো। সাঁতলানোর ঝাঁঝ ছড়িয়ে পড়লো গোটা বাড়িতে। দোতলার ঘরে খুকু চোখ খুলে হাত পা নেড়ে খেলতে থাকলো। ছোট দুই ছেলে ভাত খাওয়ার বাসনায় থালা নিয়ে এসে বসে পড়লো রান্নাঘরের দরজায়। তখনও লঙ্কা গুলোর গা থেকে ঝাল মিশছে কুমড়ো শাকের হালকা সবুজ মাখো মাখো সর্ষে ঝোলে।

    রান্নার পাট শেষ হলে ইন্দুবালা ওপরের ঘরের তাক থেকে পাড়লেন গতবারের তেঁতুলের আচার। আসন পেতে লছমীকে যত্ন করে খাওয়ালেন। ফেরার সময় পয়সা ফেরত দিতে গেলে লছমী বললো “ এ কিরম বাত হল মাজি? কাল যে আবার খাবো। হর রোজ পয়সা দেব না কি তোমায়? ওটা তুমি রেখে দাও।” লছমী সেই যে গেল পরের দিন ফিরে এলো আরও তিনজনকে নিয়ে। এইভাবে আস্তে আস্তে বাজারের সবাই এসে খাওয়া শুরু করলো ইন্দুবালার নীচের ঘরে। একদিন উড়িষ্যা থেকে এলো ধনঞ্জয়। কেউ তাকে ডাকেনি। কেউ কথা বলেনি। দরজার কাছে শুধু ভাত খাওয়ার জন্য বসেছিল বেচারা। বড় মায়া হয়েছিল তাকে দেখে ইন্দুবালার। ওই বয়সের একটা ভাই ছিল যে তার। খান সেনারা জ্বালিয়ে দিয়েছে নাকি তাকে। আর একটুও মনে করতে চাননি সেসব কথা। অনেকটা ভাত আর ডাল দিলে চেটে পুটে খেয়ে নিয়েছিল সবটা ধনঞ্জয়। ছেলেদের খাইয়ে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করতে এসে ইন্দুবালা দেখেছিলেন সব কিছু সাফ সুতরো। থালা বাটি ধোওয়া। এমনকি মাটির উনুনটা পর্যন্ত সুন্দর করে ল্যাপা। সেই থেকে ইন্দুবালার সংসারে থেকে গেল উড়িষ্যার কোন এক খরা পিড়িত অজ গাঁয়ের ধনঞ্জয়। সিঁড়ির নীচটা সাজিয়ে নিল তার নিজের মতো করে। সামনের কালেক্টর অফিসের বড়বাবু খেতে এসে খুশি হয়ে একটা হলুদ রঙের এনামেল বোর্ড টাঙিয়ে দিয়ে গেলেন। সেখানে জলজল করে লেখা থাকলো ইন্দুবালা ভাতের হোটেল। পুরসভা থেকে লাইসেন্স হলো। দুই ছেলে বড় হল। তারা দিব্য লেখাপড়া করে সুন্দর বিয়ে করে টুপটাপ সরে পড়লো। মেয়ে গেল জামাইয়ের সাথে পাঞ্জাবে, হিল্লিতে দিল্লীতে ঘুরে ঘুরে সংসার করতে। ইন্দুবালা একা থেকে গেলেন তাঁর ভাতের হোটেল নিয়ে।

    একা কেন থাকলেন? তার একটা বিস্তৃত ব্যাখ্যান দেওয়া যেতই। কিন্তু তাহলে এক তরফা ইন্দুবালার কথা শুনলে চলতো না। তার সাথে তার দুই ছেলে এবং এক মেয়ের কথাও শুনতে হতো। চার পক্ষের কথা শুনলে মনে হতো এতো বাঙালীর চেনা গল্প। মা মানিয়ে নিতে পারছেন না ছেলেদের সংসারকে। আর ছেলেরা বলতো মা বড় বেশি নিজের মতো করে চলতে চাইছে। আর কোন কালেই তো মেয়ের বাড়িতে বাঙালি মায়েরা থাকতে খুব আহ্লাদিত হননি। কিন্তু কিন্তু করেছেন। কাজেই মেয়ের দিকের দরজায় অনেক আগেই খিল তুলে দিয়েছেন ইন্দুবালা। যদিও খোঁজ খবর নেওয়া। এসে দেখাশুনো করা এই সবই তারা করেছে। এমনকি মায়ের নিয়মিত ডাক্তারী চেক-আপও। নাতিরাও আহ্লাদ করে নাত বউ নিয়ে আসে। ঠামুনের খবর রাখে। কিন্তু বুড়ি নিজে এইসব জাগতিক মায়ার ছেদো বাঁধনে একটুও আটকা পড়তে চান না। একদিনও ভাতের হোটেল বন্ধ হয়নি লছমীর খাওয়ার দিন থেকে। বন্যা, কলেরা, ডেঙ্গু, দাঙ্গা, কারফিউ কোন কিছুতে ইন্দুবালা ভাতের হোটেলের উনুনে আঁচ নেভেনি। ভাড়ারে বাড়ন্ত হয়নি চাল। পেছনের বাগানের কুমড়ো শাক। আজ ইন্দুবালার বয়েস যখন সাতের ঘর ছুঁয়ে ফেলেছে তখন ছেলেরা মাকে এই ব্যবসা বন্ধ করতে বললে, নিজের হাতে রান্না বান্না না করার ফরমান জারি করলে অশান্তি বাধে কাল বৈশাখীর মতো। ফলে বেশ কিছুদিন মুখ দেখেদেখি বন্ধ থাকে দু-পক্ষের। তখন শিব রাত্রির সলতের মতো বিজয়া, পয়লা বৈশাখের নমস্কারটুকু টিকিয়ে রাখে নাতি-নাতনিরা। আর ইন্দুবালার টিফিন কৌটো ভর্তি থাকে পৌষের পিঠেতে। বর্ষায় ভাপা ইলিশে। গরমের মুড়ি ঘন্টোয়। ধনঞ্জয় সব দিয়ে আসে বুড়ির নাম করা টিফিন কৌটোতে প্রত্যেকের বাড়ি-বাড়ি। পূর্ণিমায় বুড়ির গাঁটে বাতের ব্যাথা বেড়ে যায়। অমাবস্যায় হাঁটতে পারেন না প্রায়। তবু মলম লাগিয়ে গরম জলের শেঁক নিয়ে রান্না করেন ইন্দুবালা। অতোগুলো লোক আসবে। আঙুল চেটে চেটে খাবে। বায়না করবে একটু শুক্তোর জন্য। একটু মাথার মাছের মাথা দিয়ে করা ডালের জন্যে। পরিতৃপ্ত চাঁদপানা মুখ গুলো দেখতেও ভালো লাগে যেন। এদের খাইয়েও সুখ। ইন্দুবালা তাই কোনদিন কোন তীর্থে যাননি। ধম্মো কম্মো করেননি। ঠাকুরের কথামৃতের বানী মনের মধ্যে আউড়ে গেছেন। নারায়ণ সেবা। জীবে প্রেম।

    তবে আজকে পূর্ণিমা, অমাবস্যা গ্রহণের মার প্যাঁচ না থাকলেও পায়ের ব্যাথাটা বড্ড বেড়েছে মনে হচ্ছে ইন্দুবালার। সকালে পাঁজি খুলে আঁতি পাতি দেখেছেন কোথাও কোন বক্র দৃষ্টি নেই গ্রহের। তবুও বাড়ির পেছনের বাগানের সিড়িটা দিয়ে নামতেই হড়কে যাচ্ছিলেন আর একটু হলেই। কবে থেকে ধনঞ্জয়কে বলে যাচ্ছেন ওরে চুন ফেল। একটু নারকেল ঝাঁটা দিয়ে ঘষে ঘষে পরিষ্কার কর। তা কে শোনে কার কথা। থাকতো সেই আগের বয়েস কারো কাজের জন্য তিনি বসে থাকতেন নাকি? ওই দশ কেজি চালের ভাত নিজে করেননি এক সময়? ফ্যান গালার সময় লোক গুলো এসে দাঁড়িয়ে থাকতো জুঁই ফুলের মতো ভাত দেখার জন্য। ওই কাঁড়ি কাঁড়ি ফ্যান টেনে তুলে দিয়ে আসতেন না পাড়ার কুস্তির আখড়ায়। ছেলে গুলো খেতো পরিতৃপ্তি করে। মা শিখিয়েছিল ভাত হল লক্ষ্মী। তার কিছু ফেলা যায় না। কিছু ফেলতে নেই। কত মানুষ ওই ফ্যানটুকু খেয়ে বেঁচে আছে দুবেলা। এইসব বকতে বকতে ইন্দুবালা সিঁড়ি দিয়ে নামেন। খিড়কির দরজা খোলেন। সেখানেই তো সেই শাশুড়ির আমলের একটা ছোট্ট বাগান। একটা আমগাছ। একটা পেয়ারা। একটা লিকলিকে নারকেল গাছ খাড়াই উঠেছে। এইসব ছাড়াও কয়েক ছটাক জমিতে ইন্দুবালা সাজিয়ে নিয়েছেন তার রান্নাঘরে কাজে লাগার মতো টুকিটাকি সবজী। যেন ফকিরের ঝুলি। কিছু না কিছু তুমি পাবেই। প্রচন্ড পা ব্যাথা নিয়ে এতোটা সিঁড়ি ঠেলে বাগানে এসে ইন্দুবালার মন ভালো হয়ে যায়। গোটা বাগান আলো করে ফুটে আছে কুমড়ো ফুল। তার ওপর বিন্দু বিন্দু শিশির। এই ভরা বসন্তে এই সুন্দর সকালে শহরের ইট কাঠ পাথরের মধ্যে ডেকে উঠলো একটা কোকিল। ইন্দুবালা কুমড়ো ফুলের ওপর হাত বোলালেন। কোথা থেকে যেন পুরনো কলকাতার এঁদো গলির দোতলা বাড়ির ছোট্ট বাগান হয়ে গেল খুলনার কলাপোতার নিকানো উঠোন। মাটির উনুনে শুকনো খেজুর পাতার জিরানো আঁচ। আর চাটুর ওপর ছ্যাঁক ছুক করে ভাজতে থাকা কুমড়ো ফুলের মিঠে বড়া। নামানোর সময় ঠাকুমার তার ওপর যত্ন করে ছড়িয়ে দেওয়া অল্প কিছু পোস্তর দানা। বাটি হাতে করে বসে থাকা ছোট্ট ইন্দুবালা আর তার ভাইয়েরা। ঝপ করে একটা সকাল নিমেশে পালটে দিল ইন্দুবালা ভাতের হোটেলের আজকের মেনু। এক ঝুড়ি কুমড়ো ফুল তুলে নিয়ে এসে দোকানের সামনের কালো বোর্ডে চক নিয়ে লিখলেন বুড়ি ভাত, ডাল, কুমড়ো ফুলের মিঠে বড়া, সরষে মাছ, জলপাইয়ের চাটনি। ধনঞ্জয় গাঁক গাঁক করে উঠলো তার দেশওয়ালী ভাষায়। রেগে গেলে বাংলা তার ঠিক আসে না। আলুভাজা হওয়ার কথা ছিল। সরষে মাছের জায়গায় পটল আলু ফুলকপির ঝোল হওয়ার কথা ছিল তা কিনা কুমড়ো ফুলের মিঠে বড়া? ইন্দুবালা কোন কথা কানে তুললেন না। উত্তর দিলেন না। স্নান করে ধপধপে সাদা কাপড়ে রান্না ঘরে ঢুকলেন।

    বেলা যত বাড়তে থাকলো চারিদিকের আকাশ-বাতাস ছেয়ে গেল কুমড়ো ফুলের মিঠে বড়া ভাজার গন্ধে। সামনের মেস বাড়ির ছেলে গুলো আজ বড় তাড়াতাড়ি ভাত খেতে এলো। কালেক্টর অফিসের কেরানীকুল বাড়ি থেকে খেয়ে এসেও দুপুরে চাড্ডি ভাত বেশি খেতে চাইলো। কবেকার খুলনার এক উঠোন রান্না জড়ো হল ইন্দুবালার হোটেলে। সবার খাওয়ার তারিফ যখন তিনি রান্না ঘরের মধ্যে থেকে পাচ্ছিলেন। ছেলে ছোকরা গুলো দিদা বলে এসে যখন জড়িয়ে ধরে, আদর করে চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনি তার সেই পড়ন্ত বেলার হোটেলের সামনে এসে দাঁড়ালো একটা ক্যাব। নেমে এলো যে মেয়েটি সেও প্রায় বছের দশেক পরে ফিরছে কলকাতায়। আর তারও বছর দশেক পরে এই ইন্দুবালা ভাতের হোটেলে। মেয়েটির ছোট করে কাটা চুল, মেয়েটির হাব-ভাব, মেয়েটির পোষাক, তার বিদেশী লাগেজ, কাস্টমারের ভাত খাওয়ার ছন্দ পতন ঘটায়। সবাই হাঁ করে তাকিয়ে থাকে অবাক হয়ে। এই সময়ে এই ছেনু মিত্তির লেনে পরী এলো কোথা থেকে? মেয়েটি সটান গটমট করে এগিয়ে আসে। চোখের রোদ চশমাটা মাথার ওপর তোলে। হেলে যাওয়া ক্ষয়াটে এনামেলের বোর্ডে ইন্দুবালা ভাতের হোটেল তার আমেরিকার প্রবাস জীবনে হারিয়ে যাওয়া বর্ণপরিচয়ে পড়তে অসুবিধে হয় না। দরজার সামনে এক ঘর লোকের মধ্যে অস্ফুট স্বরে ডাকে “ঠাম্মি”।

    ইন্দুবালা তখন যত্ন করে শেষ কুমড়ো ফুলের বড়াটা ভাজছিলেন চাটুর ওপর। অনেক দিনের হারিয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বরে ঘুরে তাকান। তাঁর হাতে বেসনের প্রলেপ। কপালে উনুনের আঁচের বিন্দু বিন্দু ঘাম। সোনালী ফ্রেমের চশমাটা একটু ঠিক করে এগিয়ে আসেন। ভালো করে দেখেন এক পশলা রোদ ঢোকা রান্না ঘরে মেয়েটার মুখটাকে। “নয়ন না”? জড়িয়ে ধরে সুনয়নী তার ঠাম্মিকে। কোন শব্দ যেন আর বেরোতে চায় না তার গলা থেকে। শুধু ফোঁপানো কান্নায় বোঝা যায় ভাঙা ভাঙা কথা। “আমায় একটু তোমার কাছে থাকতে দেবে ঠাম্মি”? ইন্দুবালা কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারেন না। তাঁর বড় ছেলের এই মেয়েটি ঠিক তার মতোই। একরোখা। কারো কথা না শুনে, কাউকে তোয়াক্কা না করে কলেজ টপকে চলে গিয়েছিল বাইরে। কোন এক বিদেশীকে বিয়েও করেছিল মনে হয়। তারপর আর কেউ খবর রাখেনি। মেয়েটা যে এই বাড়ির কেউ ছিল। এই বাড়ির কেউ হয় সে কথা যেন ভুলেই গিয়েছিল সবাই। শুধু নতুন বছরে একটা করে কার্ড আসতো ইন্দুবালার কাছে। ফুল, লতা পাতা, সূর্য দেওয়া। ইংরাজীতে লেখা থাকতো অনেক কিছু। ইন্দুবালা ওগুলো পড়তে পারতেন না। সাজিয়ে রেখে দিতেন দেওয়ালে। সেই নয়ন? “আমাকে ভুলে যাওনি তো ঠাম্মি? সবাই ভুলে গেছে আমাকে। বাবা, ভাই, কাকু, পিসি সবাই”। ইন্দুবালা নাতনির থুতনি ধরে চুমু খান। তাকে শান্ত হয়ে বসতে বলেন রান্না ঘরের ছোট্ট টুলটায়। সামনের টেবিলে শালপাতার থালায় নিজে হাতে ভাত বাড়েন। মাটির গ্লাসে জল দেন। “আমার ঠাকুমা কি বলতো জানিস নয়ন? দুপুরের অতিথি হলো মেঘ না চাইতে জল। তাকে পেট পুরে না খাওয়ালে গেরস্থের অমঙ্গল হবে। মাঠ ভরা ধান হবে না। গোলা ভরা ফসল উঠবে না। মা লক্ষ্মী বিরূপ হবেন। ভিটে মাটি ছাড়া করবেন”। সুনয়নী ডুকরে কেঁদে ওঠে। তার যে ভিটে মাটি কিছু নেই আর। সব গেছে। ইন্দুবালা মেয়ের মাথায় হাত বোলান। মিষ্টি কুমড়ো ফুলের বড়া মুখের সামনে ধরে বলেন “দ্যাখ তো দিদিভাই মনে পড়ে কিনা কিছু”? সুনয়নীর কিছু মনে পড়লো কিনা বোঝা যায় না। তখন সে তার সদ্য ছেড়ে আসা স্প্যানিশ বয় ফ্রেন্ডের বিশ্বাসঘাতকায় ব্যাকুল। কিন্তু ইন্দুবালার মনে পড়লো সুনয়নীর জন্ম হয়েছিল এমনই এক ঝলমলে দুপুরে। সেদিন ছিল বাসন্তী পুজো। তিনি সারাদিন উপোষ করে ছিলেন। বাটিতে ভেজানো ছিল নতুন ছোলা। কুমড়ো গুলো ডুমো ডুমো করে কাটা ছিল। দয়া গোয়ালিনী দিয়ে গিয়েছিল বাড়িতে পাতা ঘি। ইচ্ছে ছিল কুমড়োর ছক্কা রাঁধার। সেদিনও এমন বিকেল হয়েছিল সব কিছু সারতে। বাড়িতে পাতা ঘি আর হিংয়ের গন্ধ ওঠা কুমড়োর ছক্কায় সারা বাড়ি যখন মো মো করছে তখনই খবরটা এলো হসপিটাল থেকে। বাড়িতে কত দিন পর নতুন লোক এলো। নাতনির টানাটানা চোখ দেখে ভেবেছিলেন সত্যি ঠাম্মাই ফিরে এসেছেন বুঝি খুলনার কলাপোতার বাড়ির সব মায়াটুকু নিয়ে। চোখ চিকচিক করে উঠেছিল ইন্দুবালার। বড় আদর করে নাম রেখেছিলেন নাতনির সুনয়নী।

    সন্ধ্যেবেলা ধনঞ্জয় হোটেলে ধূপ দেখাতে এসে দেখলো কালো বোর্ডে লেখা আছে রাতের মেনু। রুটি, কুমড়োর ছক্কা, শিমাইয়ের পায়েস। ধনঞ্জয় আবার খিটখিট করতে পারতো বুড়ির মেনু চেঞ্জ করার জন্য। কিন্তু আজ সে টু শব্দটি করলো না। বরং বটিটা নিয়ে ইয়া বড় একটা কুমড়ো কাটতে বসলো। আর কেউ না জানুক সে জানে বড় নাতনী সুনয়নী চলে যাবার পর থেকে আর একদিনও এই বাড়িতে কুমড়োর ছক্কা রান্না করেননি ইন্দুবালা। (ক্রমশ)

    ঋণ- ঠাম্মা, মনি, দিদা, রাঙা, বড়মা আর মা। এছাড়াও বাংলার সেইসব অসংখ্য মানুষদের যাঁদের হাতে এখনও প্রতিপালিত হয় আমাদের খাওয়া দাওয়া। জিভে জল পড়ার ইতিহাস।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৮ আগস্ট ২০১৮ | ২৪ বার পঠিত
আরও পড়ুন
পি কে - Anjan Banerjee
আরও পড়ুন
বলি! - Tridibesh Das
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • santanu | 7834.29.12900.10 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০১:৫৫63722
  • খুব ভালো,
  • dd | 670112.51.8912.244 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০২:৫০63711
  • চমৎকার।

    তবে যদি সত্যিই উপন্যাস লেখা মনস্থ করেছেন তো কিস্তিগুলো তাড়াতাড়ি আর নিয়মিত দিবেন,প্লীজ। না হলে খেই থাকে না।
  • সিকি | 894512.168.0145.123 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০৪:০৯63712
  • অসাধারণ, কল্লোল, অসাধারণ। অভিবাদন।
  • utpal mitra | 230123.191.231223.178 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০৫:০১63713
  • এটা কিস্তিতে লিখে যন্ত্রনা দেবেন না
    একবারে লিখে ফেলুন
    অসাধারণ
  • b | 562312.20.2389.164 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০৫:২৫63714
  • প্রচন্ড নিরামিষ খিদে পেয়ে গ্যালো এসব পড়ে।
  • dc | 7823.62.6745.24 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০৫:৩০63715
  • কি ভালো গল্প! পড়তে পড়তে এক গামলা জিভের জল ঝরিয়ে ফেললাম।
  • r2h | 785612.119.560112.10 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০৬:০২63716
  • খুব ভালো লাগছে। এটা হোক, নিয়মিত।
  • Suhasini | 90045.206.5612.37 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০৬:২৪63717
  • বসে থাকবো পরের কিস্তির জন্য।
  • শঙ্খ | 2345.110.674512.143 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০৬:৪৬63718
  • বাহ
  • kihobejene | 45.28.89.150 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০৮:৪৫63723
  • Kallol-er onno lekha gulor motoi darun - gora nokshaler por ekta boro lekha expect korechilam onekdin ... taratari kore porlam ... train e ferar somoi tariye tariye porbo arkebar
  • পদ্ম | 122312.242.016712.210 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ০৯:০২63719
  • আহা হাজারি ঠাকুরকে বড্ড মনে পড়চে গো !
  • Kallol Lahiri | 7845.15.347812.229 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ১০:০০63720
  • কুমড়োফুলের বড়ার মতোই স্বাদু লেখা, চমৎকার
    শক্তি
  • Munia | 236712.229.458912.102 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ১১:০৫63724
  • আহা! কি অপূর্ব লেখা!
    পরের পর্ব যেন তাড়াতাড়ি আসে!
    আমাদের এ শেয়ার করছি।
  • | 453412.159.896712.72 (*) | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ১১:২০63721
  • ভারী ভাল।
    একটু তাড়াতাড়ি পরের পর্বগুলো।
  • dc | 232312.174.782312.205 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৮ ০১:২৪63731
  • এই টইটাতে ঝগড়াঝাঁটি না করলেই ভালো হয়। গদামের পোস্টটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় মনে হলো, রজনীগন্ধা তো এখনও অবধি খারাপ কিছু লেখেননি, তাহলে আগ বাড়িয়ে এরকম পোস্ট করার কি দরকার?
  • I | 7845.15.343412.199 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৮ ১০:৫০63725
  • বিয়াপ্পোক মশাই।আপনি তো রান্নাবান্নার করিশ্মতেও কাপুর!
  • রজনীগন্ধা | 232312.163.121212.64 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৮ ১১:৩৭63726
  • মুনিয়াদেবী,
    বাংলাআড্ডা আবার কি ?
  • গদাম | 670112.193.9003423.212 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৮ ১১:৫৪63727
  • এই হ্যাট হ্যাট হ্যাট।।
    ভাগাড়ের শুয়োরটা এসে ভাতের হোটেলে ঢুকে পড়ছে। রজনীগন্ধা নাম নিলেই কি আর ভাগাড়ের বদবু চাপা পড়ে?
  • রজনীগন্ধা | 232312.163.121212.64 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৮ ১১:৫৭63728
  • গদাম শুয়োরের বাচ্চা,
    একটু ভদ্র ভাবে কথা বললেই তো হয় ।
    আমি তো খারাপ কথা বলিনি ।
    নিজেদের নাম গোপন রেখে আক্রমণ করা বন্ধ করুন ।
  • এই | 670112.193.9003423.212 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৮ ১২:১৬63729
  • দেবাশীষ সাহা
    'মুনিয়া' নাম দেখেই লুলচে উঠে এসেছিস তোর সাথে ভদ্রতা। মেয়েদের দেখলেই লোল পড়ে না?
  • রজনীগন্ধা | 232312.163.121212.64 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৮ ১২:৩৪63730
  • প্লিজ অসভ্যতামি করবেন না ।
    মুনিয়াকে কি আমি কুপ্রস্তাব দিয়েছি ?
    আমি কোন অসভ্যতামি করিনি ।
  • এলেবেলে | 230123.142.67900.12 (*) | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৮:২৩63732
  • পড়ছি, দুটো কিস্তিই পড়েছি। এইভাবে কিস্তিবন্দী লেখার ফর্মটাই জারি থাকুক, ক্যালাইডোস্কোপিক এফেক্টটা অক্ষুণ্ণ থাকুক। শুধু 'গ্যাঁট থেকে আট আনা বার করে মেঝের ওপর রেখে' দেওয়া 'লছমীর দেওয়া টাকাটা' হয়ে গেল কীভাবে সেটা নিয়ে সামান্য খটকা রইল।
  • Kallol Lahiri | 236712.158.1290012.149 (*) | ২০ জুলাই ২০১৯ ১১:৩৫63733
  • অনেকদিন পরে কোনো লেখায় টান পাচ্ছি।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত