এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • sm | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:১৯63529
  • যাকগে বাঙালি ইগো থেকে, তামিল পাঞ্জাবী অবধি এসেছে। কিছুটা হলেও তো মত পরিবর্তন হল। একচেটিয়া বাঙালি কে গালা গাল টা ঠিক ভালো শোনাচ্ছিল না।
    এনিওয়ে, পে টয়লেট ইউজ করা বাস্তব সম্মত দাবী।
    আবাসনে কমন টয়লেট রাখা তেমন একটি দাবি।
    বিদেশ দেখিয়ে লাভ নেই।
    ওখানে লোক বিদেশি দের পদ লেহন করতে যায়।
    এন আর আই রাই দেশে এসে বেশি বেশি,কাজের লোকের ডিগনিটির বারোটা বাজায়।
  • sm | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:২৫63530
  • আমার বাড়ির হাউজ ফিজিশিয়ান যদি প্রত্যেক বার রোগী দেখতে এসে বাড়ির টয়লেট ইউজ করতে থাকে; তো আমি সেই ডাক্তার পালটাবো বা ডাক্তার বাবুর জন্য ভাল ডাক্তার সাজেস্ট করবো--))
  • amit | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:২৭63531
  • চাড্ডিপনা নানা কিসিমের শাক দিয়েও আর ঢাকা যাচ্ছে না। ভালো।
  • সিকি | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:৩৮63532
  • আহা, এ ঠিক চাড্ডিপনা নয়, এ হল জমিদারি মেজাজ, সেই সত্তরের দশকের শেষে হারিয়ে যাওয়া জমির প্রাক্তন জমিদারেরা, শেষ যাঁদের দেখা গেছিল শীর্ষেন্দুর বিভিন্ন গল্পগাছায়, এখন গুরুর পাতায় দেখা যায়।
  • sm | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:৩৮63533
  • এবার কাজের কথা বলি। মমতা, রেল মন্ত্রী থাকা কালীন ও সরকারে আসার পর, চতুর্দিকে প্রচুর পে টয়লেট তৈরি হয়েছে।
    লোক্যাল স্টেশন গুলো বা বড় রাস্তার মোড় গুলো ঘুরলেই দেখতে পাবেন।
    শুনেছি, মোটামুটি ভাবে পরিষ্কার।
    সর্বোচ্চ দুই থেকে পাঁচ টাকা মতন লাগে।
    অসংখ্য মানুষ, মেইনলি কাজের লোক, মাসী, সব্জি ওয়ালা, ড্রাইভার এরা উপকৃত হয়।
    এদের আলাদা করে লোকের বাড়ির টয়লেট ইউজ করার দরকার বিশেষ পড়ে না।
  • সিকি | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:৪০63534
  • হাওড়া স্টেশনের এক নম্বর লাটফরমে তো সেই ছোটবেলা থেকে হিসি করে আসছি - পয়সা লাগে নি তো কখনও! এখন লাগছে নাকি?
  • lcm | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:৪৮63555
  • চীনের সঙ্গে তুলনা, সাতটি শহরাঞ্চলের ডেটা (২০১৩-২০১৪)



    চীনে এমপ্লয়ারদের একটা ম্যান্ডেটরি ওয়েলফেয়ার দিতে হয় মিনিমাম ওয়েজের ওপরে।
  • sm | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:৫০63535
  • অব্যেশ বদলাও, নয়তো পুলুষ ধরবে--))
  • pi | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:৫২63536
  • মানে এগুলো কেউ মনে করলেও প্রকাশ্যে এভাবে বলতে হয়তো লজ্জা পেত টেত, এখন লোকজনের সেসব বালাইটুকুনও চলে যাচ্ছে।

    এখন গর্ব সে বোলো হাম চাড্ডি হ্যায় এর যুগ, গর্ব করে বলে মানুষ মারার যুগ, গর্ব করেই অন্যদের নিয়ে নাক সিঁটকানো, গর্ব করে ডিস্ক্রিমিনেশন আসতে দেখলে আর অবক্ক হই কেন।

    তবে এনার পরিচয়টা জানা গেলে ভাল হত। পরিচয় লুকিয়ে রাখেনই বা কেন কে জানে। কোন কাজে ইনি কারুর বাড়ি গেলে আর টয়লেটের কোন প্রয়োজন পড়লে এনাকে যদি কেউ কোন কমন টয়লেট দেখিয়ে দিত। খুব খুশি হতাম।

    হ্যাঁ, মানে এইরকম নির্লজ্জ ভাবে এত রিগ্রেসিভ ভাবনা বুক চিতিয়ে বলতে দেখে যুগপত চমকে ও রেগে যাচ্ছি।
  • dc | ২৬ জুন ২০১৮ ০৪:৫৮63537
  • sm এখানে পে টয়লেটের প্রশ্নটাই আসার কথা না। কথা হলো আমার বাড়িতে একজন কাজ করতে আসছেন, এক বেলা বা দুবেলা, প্রতিবার অন্তত এক দেড় ঘন্টা থাকছেন। এই সময়টায় যদি তাঁর দরকার পড়ে তাহলে তিনি আমার টয়লেট ব্যাবহার করবে, এই অধিকার তাঁর থাকা উচিত (বা কাজের শর্ত হিসেবে ইমপ্লিসিটলি থাকা উচিত)। আর যখন তিনি আমার বাড়িতে তাঁর সময় ব্যয় করছেন না তখন তিনি দরকার হলে পে টয়লেট ইউস করবেন, সেটা তাঁর ব্যপার। যেমন ধরুন অফিসে টয়লেট থাকে, সব এমপ্লয়ি সেটা ব্যাবহার করেন। এবার কর্তৃপক্ষ বলতে পারেন আমরা প্রেমিজে টয়লেট রাখবো না, তোমরা ভাই পে টয়লেট ব্যবহার কোর। সেরকম তো কোন অফিসে খুব একটা করে না, তাই না? অন্তত মাঝারি বা বড়ো অফিসগুলোতে (ব্যাগ সার্চানো অফিসে তো প্রশ্নই নেই, সিএমেম লেভেল ফাইভে ঝাড় খেয়ে যাবে)।
  • amit | ২৬ জুন ২০১৮ ০৫:০২63538
  • আর যে চাড্ডিটি একটু আগে মন্তব্য করলেন "ওখানে লোক বিদেশি দের পদ লেহন করতে যায়।", সম্ভবত তিনি নিজে যে কাজ বেশ কবছর করেছেন তার কথাই বলেছেন। তবে সবাইকে নিজের ক্যাটেগরিতে না ভাবলেও চলবে। সবাই এখনো চাড্ডি হয়ে যায়নি।
  • T | ২৬ জুন ২০১৮ ০৫:০৯63539
  • হাগা, হিসু ব্যাপারটা এমারজেন্সী নয়, আদতে একটা শখের ব্যাপার -- এই ব্যাপারটা মানে যাকে বলে চ্রম দিয়েছে। :)) জনতা রেগে না গিয়ে খোরাক নিন বা কমপ্লিট ইগ্নোরান।

    ফর্মালাইজেশনের দরকার অবশ্যই, সেইসঙ্গে স্পেসিফিক রুল বা গাইডলাইন এবং তার এনফোর্সমেন্ট।
    ঠিকে কাজ করেন যাঁরা তাঁদের বাদ্দিয়েও অনেক বাড়ীতেই কমবয়সী ছেলে মেয়েরা কাজ করে (সম্ভবতঃ মেয়েরাই বেশী) রাতদিনের লোক হিসেবে। এইক্ষেত্রে ব্যাপারটা খাওয়া পরা এবং কিছু টাকার বিনিময়ে ফাইফরমাশ খাটার মতন ব্যাপার। এঁরা মূলতঃ 'দেশের বাড়ী' থেকে আসেন, কিছুদিন কাজ করার পর 'সোমত্ত' হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ বিদায় করা হয়। এঁদেরকে বর্তমানে শ্রমিক হিসেবেই দেখা হয় না, বা এঁদের অধিকারের বিষয়ে কিছু সেরকম নেই। এইক্ষেত্রে কী করা হবে? এঁদের অসুখবিসুখের দায়িত্ব বহুলাংশেই মালিকপক্ষ নিতে চান না, রোগ হ'লে সোজা 'দেশের বাড়ী'তে ফেরত এবং রিপ্লেসমেন্ট। এই যে হনুদা গেস কচ্চিলো যে একক দুনিয়ার রোবট এক হও বলে দাবী তুলতে চলেছে, তো এই গ্রুপটা তো প্রায় রোবট ইক্যুইভ্যালেন্টই। খারাপ হয়ে গেলো যন্ত্র বদল করার মতন।
  • sm | ২৬ জুন ২০১৮ ০৫:১০63540
  • ডিসি, আমি তো আগে পোস্ট ভাল করে লিখেই দিলাম। পে টয়লেট যদি আমি ইউজ করি (ধরা যাক,আমি কাজের লোক) তো, আমার পক্ষে সেটাই সুবিধার।
    যদি লোকের বাড়ি কাজ করার সময়, ইমারজেন্সি সিচুয়েশন হয় তো সেই বাড়ির টয়লেট ইউজ করবো। সমস্যা কোথায়?
    আমার বক্তব্য ছিল, যদি পে টয়লেট বা আবাসনে টয়লেট রাখার ব্যবস্থা বেশি থাকে, তবে অন্যের বাড়ির টয়লেট ইউজ করার ঘটনা কমবে। এতে যে কাজের লোক তার সংকোচ ও কম হবে।
    বস্তুত এই সংকোচের জন্যই অনেক কাজের লোক, টয়লেট চেপে রাখে বহুক্ষণ ধরে। এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।
    পাবলিক টয়লেট ও আবাসনে কমন টয়লেট থাকলে সেই সমস্যার কিছুটা সুরাহা হয় বলে আমার ধারণা।
  • dc | ২৬ জুন ২০১৮ ০৫:১৮63541
  • sm আপনার কথা বুঝেছি। তবে ঐ আরকি, পে টয়লেট আলোচনা এখানে কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক। কে কখন পে টয়লেট ইউস করবে সেটা তাঁর ব্যাক্তিগত ব্যপার, তবে কর্মক্ষেত্রে টয়লেট ব্যাবহারে রাইটও স্বীকৃত হওয়া উচিত।
  • PT | ২৬ জুন ২০১৮ ০৫:২৭63542
  • আলোচনা টয়লেটে এসে ঠেকেছে মানে এই বিপ্লবটাও শেষ হল বলে.......
  • amit | ২৬ জুন ২০১৮ ০৫:৪৫63543
  • বিপ্লবের কিছু নেই। আসল কথাটা এটাই যে কাজের লোকেদের পুরোদস্তুর মানুষ হিসেবে গণ্য করাটা এখনো আমাদের মধ্যে আসে নি। তাই আট ভাট বকে যাওয়া। আমাদের বাড়িতে কোনো আত্মীয় এলে বা বন্ধু এলে তারা টয়লেট এ গেলে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু কাজের লোক গেলেই মুশকিল।

    আমি এটাও আমাদের কলকাতার ফ্লাট বাড়িতে দেখেছি লোকজন পোষা কুকুরকে নিয়ে লিফ্ট এ ওঠে, সেই কুকুর লিফট এ হিসি করলে নিজে পরিষ্কার করে না, কিন্তু সেই একই লোক কাজের লোকেদের লিফট উসে করা নিয়ে আপত্তি করে মিটিং এ, নাকি কমন ইলেকট্রিক বিল বেশি আসছে।

    সুতরাং এই রকমের চাড্ডিরা আমাদের মধ্যে বহু বহু আছে। টয়লেট তো একটা বাহানা শুধু, শাক দিয়ে মাছ ঢাকা।
  • sm | ২৬ জুন ২০১৮ ০৫:৪৯63544
  • ডিসি, আমার বক্তব্য কিছুটা বুঝতে পেরেছেন বলে, ধন্যবাদ।
    এই পে টয়লেট যে কি সুবিধা করে দিয়েছে ভাবা যায় না।
    আগে পাবলিক টয়লেট থাকতো,কিন্তু অবর্ণনীয়।
    এখন পে টয়লেট অন্তত ইউজ করা যায়।
    এটা প্রাসঙ্গিক, এই কারণে;ধরুন কোন দূরের গ্রাম থেকে কলকাতায় কাজ করতে আসা লোকজন, ভোরে বাড়ি থেকে বেরোয়।
    টয়লেট করার সময় বা সুযোগ থাকে না, অনেক সময়।
    তারা পে টয়লেট থাকার দরুন অনেক চিন্তা মুক্ত থাকে।
    সংকোচের কথা তো আগেই লিখলাম।
    কারণ টয়লেট ইউজ করার মতন সংকোচ টাও একান্ত ব্যক্তিগত।
  • sm | ২৬ জুন ২০১৮ ০৫:৫৫63545
  • আমিতো দেখেছি বেশির ভাগ এন আর আই, দেশের মাটিতে পা দিয়ে আরো বেশি করে, এই সব উপরি বর্ণিত অসামাজিক কাজ গুলো করে থাকে।
    শুধু মুধু দেশের কথা বা বাঙালি ইগোর কথা বলা হচ্ছিল।
    দেশে এইটা হয়, ওইটা হয়, বাঙালি হ্যান বাঙালি ত্যান ইত্যাদি।
  • amit | ২৬ জুন ২০১৮ ০৬:১৭63546
  • সে তো বটেই। নিজের চোখে গোলাপি চশমা থাকলে অন্য সব কিছু কেই গোলাপি বলে মনে হয়।
  • sm | ২৬ জুন ২০১৮ ০৬:১৯63547
  • আমি তো কাউকে কোন দিন গোলাপী চশমা পরতে দেখ নি --))
  • r2h | ২৬ জুন ২০১৮ ০৮:৩৭63548
  • ধরুন মধ্যবিত্ত রিটায়ার্ড বৃদ্ধ ও অসুস্থ দম্পতি, সীমিত রোজগার, চিকিৎসার খরচ, কিন্তু সহায়কও লাগে, পরিচারক/ পরিচারিকা ছাড়া চলে না... এরকম ক্ষেত্রে কী হবে ভাবি।

    এঁরা গেজেটও কিনতে পারেননা, ডাকতার ওষুধের খরচও কমাতে পারবেননা; পরিচারিকা সঙ্গে রিক্সাচালকের সঙ্গে বাজারে সব্জীওলার সঙ্গে দু দশ পাঁচশো টাকার জন্যে খিটিমিটি করবেন। অবিচার বটে, কিন্তু অবিচারটা শখ করেও সর্বদা আসেনা।

    খুব বিরল তো নয় এমন পরিবার।

    তা বলে ন্যূনতম মজুরী বা বেতনবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কোনভাবেই নই। কিন্তু হাজার রকমের ঝামেলা।

    সরকার নাগরিকের দায় এবং অবলিগেশন বেঁধে দেবে, সরকারের নিজের দায় ও অবলিগেশনগুলি উহ্যই থেকে যায়।

    ব্যাপারটা স্কিলড আনস্কিলডের আদৌ নয়, সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের। কর্পোরেট বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওপর যে অবলিগেশন, ব্যক্তির ওপর তো সেই অব্লিগেশন হতে পারেনা।

    মুশকিল হল ক্ষমতাবান এক্সপ্লয়েট করে, ক্ষমতাহীনের বাটাম। পরিচারক নিয়োগ যাঁরা করেন, তাঁদের মধ্যেও দুরকমই আছেন।
  • স্বাতী রায় | ২৬ জুন ২০১৮ ০৯:১৫63549
  • পাছে "কাজের লোক" খেয়ে ফেলে সেজন্য ফ্রিজে তালা মারার ব্যবস্থা, বাথরুম ব্যবহার করতে না দেওয়া, তাদের জন্য অন্য চালের ভাত রান্না করা, মেপে মেপে তেল নুন বার করে দেওয়া, তাদের লিফটে উঠতে না দেওয়া, রেস্টুরেন্টে গিয়ে বাইরে বসিয়ে রাখা, নাবালিকা কাজের মেয়েকে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে রোজ অফিস যাওয়া সবই দেখেছি।

    আবার প্রত্যেক বছর নিয়ম করে গরমের সময় পাঁচ দিনের জন্য ছুটি নিয়ে দেড়মাস পরে ফেরা ( একুশ বছর ধরে একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ), বাড়িতে অতিরিক্ত লোক এলেই কামাই করা, মাজা বাসনে দিনের পর দিন নোংরা লেগে থাকে, ডাস্টিং করে চলে যাওয়ার পরেও ধুলোদের নিজের জায়গায় গ্যাঁট হয়ে বসে থাকা, গৃহস্থের হারিয়ে যাওয়া দামী শাড়ী বহুদিন বাদে কাজের লোকের মেয়ের গায়ে পড়ে ঘুরে বেড়ান এসবও দেখেছি।

    বাড়িতে দুরঘটনা ঘটেছে, অনেক লোক অথচ রান্নাবান্না করার মন নেই কারোর - তখন অযাচিত ভাবে নিজের বাড়ি থেকে ডিমের ঝোল ভাত এসে খাওয়ানো বা দরকারে বরকে দিয়ে বাড়িতে জারিকেন ভরতি করে খাবার জল পাঠান বা সাত দিনের ছুটিতে যাওয়ার আগে সাত দিনের রান্না করে পই পই করে বুঝিয়ে দিয়ে যাওয়া যাতে বাড়ির কেউ বাইরের খাবার না খায় বা বাড়ির শিশুটি হাসপাতালে ভরতি হলে সকাল বেলা তাড়াতাড়ি হাসপাতালে চলে যাওয়া যাতে রাত-জাগা মা বাড়ি এসে স্নান খাওয়া করতে পারেন সেও দেখেছি।

    আবার সদ্য বিবাহিত মেয়ে বাড়িতে স্বামী পরিত্যক্তা "কাজের লোকের" কথা ভেবে স্বামীর সঙ্গে প্রকাশ্যে কোন রকম ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন না, নেমন্তন্ন বাড়ীতে যাওয়ার সময় "কাজের লোক" এর শাড়ী পরে যাচ্ছেন, যখনও ততটা আর্থিক স্বাচ্ছল্য হয় নি যাতে "কাজের লোকের" জন্য আলাদা গয়নার সেট করিয়ে দেওয়ার, ততদিন নিজের গয়নায় সাজিয়ে তাকে নেমন্তন্ন বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া, সংসারের সব চাবিকাঠিই তাঁর হাতে তুলে দেওয়া যাতে সংসারী মানুষটি সেই সংসার নিয়ে খেলেধুলে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে পারেন, কাজের লোকের জোয়ান ছেলেটিকে আয়ক্সিডেন্ট হওয়াতে ভরতি করান হয়েছে রুবি জেনেরাল হসপিটালে - এও দেখেছি।

    সম্পর্ক হয় দুটি মানুষের মধ্যে - সেজন্য দুপক্ষই সমান দায়ী। আর সম্পরকের একটা অংশ মানসিকতা নির্ভর, অন্য অংশটা স্বাচ্ছন্দ্য নির্ভর। এবং যেহেতু এটি কর্মগত সম্পর্ক, তাই এর একটা বড় অংশ আসে কাজের পারফরম্যান্সের উপর। তবে মানসিকতা এবং পারফরম্যান্সের দুই ই যেহেতু প্রেডিক্টেবল এবং মেজারেবল নয়, তাই তাকে চুক্তিতে বেঁধে ফেলাই ভাল। তবে চুক্তি আর সম্পর্ক এক সাথে থাকবে এমন আশা করা উচিত নয়। সেক্ষেত্রে দুই পক্ষই প্রফেসনাল হন। সেক্ষেত্রে আমিও যেমন স্নান করতে গেলে উনুনে বসান ভাত ঊথলে উঠলে পাশে বাসন মাজতে থাকা মানুষটি ঢাকা উলটে দেবেন এমন আশা করব না, তেমনি শীতের সকালে বাসন মাজা শেষ হলে তিনিও যেন এক কাপ গরম চা তার জন্য টেবিলে অপেক্ষা করবে এমন আশা না করেন, মানে চুক্তিতে যদি সেটি না থাকে। সব দিক থেকে স্বয়ংসম্পুরণ চুক্তি যাতে টারমস এন্ড কন্ডিসনস, নোটিস পিড়িয়ড, একজিট ক্লজ পেলে হয়ত সবারই সুবিধা হবে। কি পাব সেটা যেমন বেঁধে দেওয়া হচ্ছে, কি দেব সেটাও যেন বেঁধে দেওয়া হয়। মানে স্কিল লেভেলের এবং পারফরম্যান্স এক্সপেক্টেসনের কথা বলছি।

    তবে হ্যাঁ অফিসে মিথ্যে কথা বলে ছুটি কখনো নিই নি - আমার বাড়ির কাজের লোকদের কাছেও আমি সেই সততা টুকু আশা করি। এখনো অব্ধি তাঁরা মোটের উপর আমায় হতাশ করেন নি। আশা করব সেটি বজায় থাকবে।

    অনেক কথা লিখে ফেললাম - অনেক গালাগাল খাব জানি। তবু না লিখে পারলাম না।
  • r2h | ২৬ জুন ২০১৮ ০৯:২৪63550
  • লিফটে উঠতে না দেওয়া, বাথরুম ব্যাবহারে আপত্তি, রেস্টুরেন্টে বাইরে বসানো - এই সবই কমন এবং ভয়াবহ অসভ্যতা।

    আর কাজে ফাঁকি নিয়ে কোন বক্তব্য নেই, সেতো অ্যাপ্রাইজালে ধরা পড়বে - অ্যাপ্রাইজাল না হলে তো আর সে কর্মীর দোষ নাঃ)

    মিথ্যে বলে ছুটি নেওয়া নিয়ে - ব্যাক্তিগতভাবে আমি ওতে বিন্দুমাত্র বিচলিতবোধ করিনা, অফিসে আমি যেকোন সময় পুরো নির্মল কনশায়েন্স নিয়ে মিথ্যে বলতে প্রস্তুত!

    অবশ্য মিথ্যেটাতো সরাসরি কায়াহীন কর্পোরেটকে বলা হয়না, কোন ব্যাক্তিমানুষকে বলতে হয়, ঐটা প্রায়শ অস্বস্তিকর আরকি।
  • স্বাতী রায় | ২৬ জুন ২০১৮ ০৯:৫৯63551
  • অ্যাপ্রাইজাল হওয়া, তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক, দুপক্ষের ই ঝগড়া না করে, গলা না তুলে, কান্নাকাটি না করে শান্ত ভদ্র ভাবে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা - এগুলোও আসুক না। সে হলে তো সবারই ভাল। গৃহিণীরাও কথা কাটাকাটির ভয়ে নোংরা বাসন নিজেই ধুয়ে নেওয়ার হাত থেকে বাঁচবেন আবার অকারণে টিক টিক করা গৃহিণীকেও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে পারবেন গৃহকর্মী।

    তবে কথা হল যে বিস্তীর্ণ মানুষদের নিয়ে কথা হচ্ছে, তারা তো আর সবাই কর্পোরেট কর্মী নন - সেই দুই পক্ষকেই এগুলো শেখাবে কে? সরকারী অফিসে চল্লিশ হাজারী বাবুর দুই সন্তানের পড়াশুনার খরচ সামলে, শয্যাশায়ী শাশুড়ীর ধকল সয়ে বাতের ব্যথায় কাতর টেনেটুনে সংসার চালান কলকাতা থেকে বহু দূরে থাকা অরোজগেরে গিন্নী আর অন্য দিকে স্বামী খ্যাদান, কাঁখে কোলে দুটোকে নিয়ে জেরবার হতে থাকা সতের বছরেরে মেয়েটি যে একটা মাথার উপর নিরাপদ ছাত আর দুটো ভাত চায় খালি - তাদের কাছ অবধি নিয়ে যাবে কে এই সব আলোচনা? বা নিয়ে গেলেও তাঁরা কি শুনবেন?
  • r2h | ২৬ জুন ২০১৮ ১০:১৯63552
  • একদম, এই দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফের কথাগুলোতে অত্যন্ত একমত।

    কর্পোরেট আর ব্যাক্তি এম্প্লয়ারের শর্ত এক করতে গেলে বড় ভুল।
  • r2h | ২৬ জুন ২০১৮ ১০:৩১63553
  • আমার মুশকিল কি, এই আলোচনায় নিজের ছোটবেলা থেকে অনেক ব্যক্তিগত মধুর অভিজ্ঞতা মনে পড়ে যায়, কিন্তু এখানে ওসব লিখলে ঐ আনন্দবাজারীয় সম্পর্কের কুম্ভীরাশ্রু টাইপ ব্যাপার হবে, বা ঐরকম একটা আলোচনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে।

    দেখি, কোন অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টই খুঁজে পাই যদি।
  • r2h | ২৬ জুন ২০১৮ ১০:৪৩63554
  • দুর, একটু লিখেই ফেলি, জনগন মার্জনা করবেন। ছোটবেলায় আমাদের দেখাশোনা করতো সন্ধ্যাদিদি। দাঙ্গা যখন শুরু হলো, মায়ের স্কুল, বাবার দাঙ্গা উপলক্ষে মফস্বল, দিনের মধ্য তিরিশবার ট্রাকে করে দাঙ্গাবাজ আর সিআরপিএফ। আমাদের মূলবাড়িটা ছিল দাঙ্গাপ্রবন এলাকায়, আর রান্নাঘর পাশের ব্লকে। তো নদীর ব্রীজে হৈহৈ করা ট্রাক দেখা গেলে সন্ধ্যাদিদি বঁটি দা হাতে আমাদের নিয়ে রান্নাঘরের পেছনে আনারস ঝোপে ঘাপটি মেরে থাকতো। তখন সন্ধ্যাদিদিও নিতান্ত কিশোরী, ঐ বাজারেও নিজের বাড়ি মা ভাইদের সঙ্গে থাকতে চলে যায়নি।

    অবশ্য সন্ধ্যাদিদি একবার বাসে সহযাত্রী সিআরপি জওয়ানের কাছে বন্দুক ধরে দেখার বায়না করেছিল। পরবর্তীকালে সন্ধ্যাদিদি গ্রাম পঞ্চায়েতের মেম্বার হয়; মা দৈনিক সংবাদে চড়িলামে রাজনৈতিক কলহে তিন মহিলা আহত বা আমবাগানের দখল নিয়ে খন্ডযুদ্ধ এইসব খবর খবর পড়লেই উদ্বিগ্ন হয়ে ফোন করতো। সন্ধ্যা দিদি লজ্জা পেয়ে বলতো না না মাসি, অখন আর ইতা করিনা।

    নিতান্তই ব্যক্তিগত গল্প বলে ফেল্লাম আরকি।
  • lcm | ২৭ জুন ২০১৮ ০৩:০২63558
  • ওপরে ৩নং পয়েন্ট থেকে

    ".... কেউই কাজের লোককে খুব খারাপ মাইনে দেন না...." (সূত্র - ফেসবুক)

    ব্যস্‌, তাহলে তো কোনো সমস্যাই নেই।
  • sm | ২৭ জুন ২০১৮ ০৩:৩০63559
  • এটাই আসল পয়েন্ট।প্রত্যেকেই ভীষণ ভাল, বেতন ও দেন খাসা, ব্যাবহার একবারে আত্মীয়র মতন,
    কুনো পব্লেম নাই।
    লিঙ্ক--ফে বু।
  • Ekak | ২৭ জুন ২০১৮ ০৩:৪৩63560
  • কাজের লোক কে সবচে বেশি তোয়াজে রাখেন তারাই, মুলত যাদের ডাবল ইনকাম ফ্যামিলি। এবার মজা হলো এরকম ফ্যামিলিতে সকালের বান্ধা কয়েক ঘন্টা ছাড়া কাজ করা যায় না। অর্থাত কি না একটা হাই ট্যারিফ আওআর ও লো ট্যারিফ আওআরের গপ্পো আছে বাড়ির কাজে।

    অর্থাত আমরা যে তিন হাজার ৪ হাজার মাইনে ওয়ালা কাজ গুলো দেখে ভাবি ওঈ বেসিসে ৮ ঘন্টা হিসেব করে মোট মাইনে ওটা ভুল অন্ক ঃ)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন