এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  SIR

  • নথিপত্রের সংকট, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, জনগণের আস্থা – লোকনীতি সমীক্ষার সারাংশ

    যদুবাবু
    আলোচনা | SIR | ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৭৭৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)


  • ২৯শে মার্চ এই সময় পত্রিকায় অনির্বাণদা, অর্থাৎ, অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়, চমৎকার একটি প্রবন্ধ লিখেছে, শিরোনাম "ভারতীয় গণতন্ত্র শুধুমাত্র সচ্ছ্ল মানুষদের জন্য?"। অনির্বাণদার মূল প্রতিপাদ্যর সাথে আমি একমত, এবং সেটা এই যে, "কোনও চক্রান্ত না থাকলেও নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়বে গরীবের", এবং সেটাই পড়ছে।

    আমি একমত কারণ আমাদের বা অন্যদের বিশ্লেষণেও এই এক-ই কথা ধরা পড়েছে বারংবার, যে এই এস-আই-আর প্রক্রিয়া আসলেই আমাদের যাবতীয় কাঠামোগত বৈষম্যকে আরও একটু বাড়িয়েই তুলবে, সুবিধাবঞ্চিত, উপায়হীন, ভাগ্যতাড়িত মানুষকে আরও একটু ঠেলে দেবে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। নিবিড় সংশোধনীর অন্তিম মূল্য কী তবে আরও বেশি অসাম্য? আরও বিভেদ?

    কিন্তু এই যে বহু বহু মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি কোপে হারাবেন তাদের সংবিধান-স্বীকৃত অধিকার, তারা কারা, এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে কোনদিকে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের উপর তাদের আস্থা? এই সব প্রশ্নের আংশিক উত্তর আছে লোকনীতি-সিএসডিএসের ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের সমীক্ষায়। সার্ভের কভারেজ মাঝারি বলেই মনে হয় — অসম, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লি — এই ছয়টি রাজ্যের ৩,০৫৪ জন নাগরিক। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৫.৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৪.৫ শতাংশ মহিলা, এবং ০.১ শতাংশ অন্যান্য লিঙ্গ পরিচয়ের।

    সমীক্ষাটি দীর্ঘ, কিন্তু মূল বার্তাটি বেশ স্পষ্ট, মোদ্দা কথায়, এস-আই-আরের ফলে ভোটাধিকার হারানোর বিপদ সবার সমান নয়। সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক অংশটি, দরিদ্র, বৃদ্ধ, নিরক্ষর, পরিযায়ী, অথবা গ্রামীণ ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এবং, বিগত কয়েকটি বছরে কমিশনের প্রতি জনআস্থা ভয়াবহভাবে কমে গেছে, যে কমার হার সব রাজ্যে সমান নয়। পুরো সমীক্ষার তথ্য আমার হাতে নেই। আমি শুধু হাতে পাচ্ছি, লোকনীতির সাইটে প্রকাশিত এক-একটি প্রশ্নের সংক্ষিপ্তসার, এবং দ্য হিন্দু পত্রিকায় দুটি রিপোর্ট। এর মধ্যে কয়েকটি বেছে নিয়েছি আমি, যদিও সবকটিই প্রণিধানযোগ্য।

    নথিপত্রের অভাব: সংখ্যায় বাস্তবতা

    আধার কার্ড কী নাগরিকত্বের অথবা ভোটাধিকারের প্রমাণ? অর্থাৎ, শুধু আধার থাকলেই কাউকে ভোটাধিকার দেওয়া হবে? এইটি এস-আই-আর প্রক্রিয়ার অন্যতম বিতর্কিত প্রশ্ন, এবং এই যে বিপুল জটিলতা, এর কারণ হয়তো এই যে আধার প্রক্রিয়ার মাঝপথে যোগ হয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির নথি হিসেবে এবং সেটাও বিতর্কিতভাবে। আধার ও অন্যান্য নথি কাদের আছে, কাদের নেই, সেই প্রশ্নে যাওয়ার আগে একবার চট করে ঘটনাক্রম দেখে নিলে সুবিধে হবে পরম্পরা বুঝতে। যাকে বলে প্রথমে আসুন ক্রোনোলজি সামঝিয়ে।

    বিহারের এস-আই-আর প্রক্রিয়ায় ইসিআইয়ের মূল তালিকায় ১১টি নথি ছিল, আধার তার মধ্যে ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আধারকে ১২তম নথি হিসেবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয় ইসিআইকে। কিন্তু ইসিআই স্পষ্ট করে জানায়, আধার শুধু পরিচয় পত্র, নাগরিকত্ব বা ডোমিসাইলের প্রমাণ নয়। এবার আসুন পশ্চিমবঙ্গে। নভেম্বর ২০২৫ থেকে আধার আনুষ্ঠানিকভাবে ১২টি নথির একটি, কিন্তু দ্য রিপোর্টার্স কালেক্টিভের আয়ুষী করের তদন্ত অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে ১২টি নথির একটি হলেও, বাস্তবতা একেবারেই অন্য গপ্পো। শুনানি শুরুর পরে সিইও মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন যে আনম্যাপড ভোটারদের আধারের পাশাপাশি তালিকার আরেকটি নথিও দিতে হবে। এই নির্দেশ লিখিত ছিল না, সোজাসুজি বলবৎ করা হল সফটওয়্যারে। ই-আর-ও-রা দেখলেন শুধু আধার আপলোড করার অপশনটিই সফটওয়্যার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। পরে নাকি সেই ফিচার আবার ফিরে আসে। অর্থাৎ আধারের গ্রহণযোগ্যতা প্রক্রিয়া চলাকালীন কমপক্ষে একবার কার্যত বাতিল করা হয়েছিল লিখিত আদেশ ছাড়াই, software toggle-এর মাধ্যমে।

    নির্বাচন কমিশন বা শীর্ষ আদালত আধারকে নথি হিসেবে মান্যতা দিতে যে নারাজ বা নিমরাজি, সেইটা বোধহয় মোটামুটি পরিষ্কার। এই যেমন ২৭শে নভেম্বরের একটি খবরে পড়ছি, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের প্রশ্ন, "কিছু সুযোগসুবিধা পাওয়ার জন্যই আধার তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র র‍্যাশনের জন্য একজন ব্যক্তিকে আধার দেওয়া হয়েছে বলেই তাঁকে ভোটার বলে গণ্য করা হবে?"

    যাই হোক, এবার কথা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের দাবি কতটা যুক্তিসঙ্গত? নথি কী সব শ্রেণির কাছে সমানভাবে আছে, বা থাকে?

    লোকনীতির সমীক্ষা বলছে, প্রায় সবার কাছেই আধার কার্ড আছে, এই সমীক্ষার উত্তরদাতাদের ৯৯.২ শতাংশর কাছে। কিন্তু সরকারি জন্মশংসাপত্রের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। মাত্র ৩৪ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাদের কাছে সরকার-স্বীকৃত জন্মশংসাপত্র আছে, আর ৫১.৬ শতাংশ জানিয়েছেন তাদের কাছে এরকম কোনো নথিই নেই। যাদের কাছে জন্মশংসাপত্র নেই, তাদের মধ্যেও আবার ৭২.৮ শতাংশ বলেছেন এটি কখনও তৈরিই হয়নি। পারিবারিক স্তরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মাত্র ১৮.৫ শতাংশ পরিবারে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকল সদস্যের কাছে জন্মশংসাপত্র আছে। প্রায় অর্ধেক পরিবারে (৪৯.৪%) কেবল কয়েকজন সদস্যের কাছে এটি আছে, এবং ২৩.৯ শতাংশ পরিবারে কারো কাছেই নেই। জাতিভিত্তিক বৈষম্যও প্রকট। পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণ শ্রেণির প্রায় পাঁচজনের একজনের (২২%) পাসপোর্ট থাকলেও তফশিলি জাতি (SC) ও তফশিলি উপজাতির (ST) মধ্যে এই হার যথাক্রমে মাত্র ৫ ও ৪ শতাংশ। সরকারি জন্মশংসাপত্র আছে তফশিলি জাতির মাত্র ২৫ শতাংশের কাছে, আদিবাসীদের ১৩ শতাংশের কাছে, সাধারণ শ্রেণির ৪০ শতাংশের তুলনায়। অর্থনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র: নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে এই হার মাত্র ২৩ শতাংশ, যেখানে উচ্চবিত্তের ৫৩ শতাংশ।


    ছবি ১। অর্থনৈতিক শ্রেণি অনুযায়ী সরকারি জন্মশংসাপত্রের প্রাপ্যতা।

    ভোটার তালিকা যাচাইয়ের জন্য জন্মশংসাপত্র, মাধ্যমিক সার্টিফিকেটসহ নির্দিষ্ট নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত? এই প্রশ্নে উত্তরদাতারা বিভক্ত। ৪৩ শতাংশ মনে করেন এটি যুক্তিসঙ্গত নয়, ৩৫.১ শতাংশ সম্মত, এবং ২১.৯ শতাংশ নিশ্চিত নন। এই প্রক্রিয়া কঠিন হবে কিনা? এই প্রশ্নে ৩৭.৬ শতাংশ বলেছেন "অত্যন্ত কঠিন" এবং আরও ৩১.৯ শতাংশ বলেছেন "কিছুটা কঠিন"। অর্থাৎ সত্তর শতাংশের কাছাকাছি উত্তরদাতা মনে করেন এই প্রক্রিয়া তাদের পক্ষে সহজ হবে না।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কারা? এই প্রশ্নে উত্তরদাতারা বৃদ্ধ (৪২.৩%), নিরক্ষর (৪১.৫%), দরিদ্র (৪০.৫%), গ্রামীণ জনগণ (২৬.৪%) এবং পরিযায়ীদের (২২.২%) সবচেয়ে বেশি বিপন্ন বলে চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ, বিচারাধীন হওয়ার ঝুঁকি যে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক অংশের সবচেয়ে বেশি, এ কথা সবাই জানেন, এবং নথিপত্রের এই সংকট কোনো ব্যক্তিবিশেষের অবহেলার ফল নয়, বরং কাঠামোগত বৈষম্যের প্রতিফলন।

    ছবি ২। জন্মশংসাপত্র বাধ্যতামূলক হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

    এর সঙ্গেই দেখুন, আমাদের বিশ্লেষণ। নিরক্ষরতার এবং সংখ্যালঘু জনঘনত্বের হারের সাথে কীভাবে বিচারাধীন হার বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। যদিও, এর পরেও ভোটের ব্যবধানের সাথেও আন্তঃসম্পর্ক থেকে যাচ্ছে, তবে সে অন্য প্রসঙ্গ, অন্য আলোচনা।


    ছবি ৩। পশ্চিমবঙ্গে নিরক্ষরতার হার ও বিচারাধীন হারের সম্পর্ক।


    অনাস্থা?

    এ তো গেল, কাদের উপর কোপ পড়বে, তার কিছু পূর্বাভাষ। সমীক্ষার আরেকটি অন্যতম অস্বস্তিকর প্রশ্ন, সাধারণ মানুষ কী তবে ভরসা হারিয়ে ফেলবেন নির্বাচন কমিশনের উপর? এর উত্তরটাও রীতিমত উদ্বেগজনক, এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা তার-ই ফল কি না এ প্রশ্নও থেকেই যায়।

    উত্তরগুলো এইরকম। লোকনীতির সমীক্ষার মাত্র ২৭.২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা কমিশনের প্রতি "অত্যন্ত আস্থাশীল" যে সকল যোগ্য ভোটার তালিকায় থাকবেন। ১৬.২ শতাংশের "বিশেষ আস্থা নেই" এবং ৯.২ শতাংশের "কোনো আস্থাই নেই"। "কমিশনকে সামগ্রিকভাবে কতটা বিশ্বাস করেন?" এই প্রশ্নে ২৮.৬ শতাংশ "অনেকটাই বিশ্বাস করেন", ৩৭.৪ শতাংশ "কিছুটা বিশ্বাস করেন", কিন্তু ১২.৮ শতাংশ "বিশেষ বিশ্বাস করেন না" এবং ৯ শতাংশ "মোটেই বিশ্বাস করেন না"। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৬.৬ শতাংশ উত্তরদাতা নির্বাচন কমিশনের অস্তিত্ব সম্পর্কে আদৌ অবহিত নন।

    ছবি ৪। নির্বাচন কমিশনের প্রতি উচ্চ আস্থা: রাজ্যভিত্তিক তুলনা (২০১৯–২০২৫)।


    রাজ্যভিত্তিক তথ্য আরও বিস্ময়কর এবং তীক্ষ্ণ, তবে মনে রাখতে হবে যে লোকনীতির সমীক্ষার স্যাম্পল সাইজ বিশেষ বড় না হওয়ায়, রাজ্যের ক্ষেত্রে ছবিটা সত্যের কতটা কাছাকাছি সেটা নিয়ে সামান্য সন্দিহান থাকা যেতেই পারে। যাইহোক, সমীক্ষায় বলছে, উত্তরপ্রদেশে ২০১৯ সালে যেখানে ৫৬ শতাংশ মানুষ কমিশনের প্রতি উচ্চ আস্থা প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে ২০২৫-এ তা নেমে এসেছে ২১ শতাংশে। পশ্চিমবঙ্গে, ২০২৫ সালে, মানে এই নরকযন্ত্রণা শুরু হওয়ার আগে ততোটা কমেনি। ৪৮% থেকে ৪২%, খুব বেশি কমেনি। ২০২৬ বা তার পরে করলে এই শতাংশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেইটা দেখার ব্যাপার।

    ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা ও ইভিএম বিতর্ক

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৮২.৪ শতাংশ উত্তরদাতা ভোট দিতে পেরেছেন। যারা ভোট দিতে পেরেছেন তাদের মধ্যে ৭.৯ শতাংশ কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা ছিল ভোটার তালিকায় নাম খুঁজে না পাওয়া (৩২.৩%) এবং ইভিএম ত্রুটি (২৫.৩%)। ইভিএম-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উত্তরদাতারা বিভক্ত। ৩৫.৭ শতাংশ পুরোপুরি বিশ্বাস করেন যে ইভিএম সঠিকভাবে ভোট নথিভুক্ত করে, কিন্তু ১০.২ শতাংশ মোটেই বিশ্বাস করেন না। ৫৩ শতাংশ মনে করেন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের চাপে কাজ করছে।
    শেষ প্রশ্ন। এস-আই-আর কি জাল, ভুয়ো ভোটার সাফ করে দেবে? কী বলছে লোকনীতির সমীক্ষা? ৪৯.৬ শতাংশ মনে করেন এটি ভুয়া ও ডুপ্লিকেট ভোটারদের সরাতে সাহায্য করবে। কিন্তু প্রায় সমান সংখ্যক (৪৪.৭ শতাংশ) উদ্বিগ্ন যে এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটাররাও তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন।

    এই প্রশ্নটিই দিয়ে আমাদের যতি বা ইতি টানা উচিত এই লেখার।

    নথিপত্রের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে নাগরিকের উপর চাপিয়ে দিলে, যেখানে রাষ্ট্র নিজেই এই নথিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে কি গণতন্ত্র সুরক্ষিত? দরিদ্র, বয়স্ক, নিরক্ষর ও প্রান্তিক মানুষদের ভোটাধিকার রক্ষা করা কী গণতন্ত্রের কাজ নয়? সুস্থ নির্বাচনী ব্যবস্থার মাপকাঠি নয়?

    তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে লেখা আরিস্তোতলিয়ান (মতান্তরে সিউডো-আরিস্তোততলিয়ান) প্রায় ৯০০টি জীবন/দর্শন সংক্রান্ত প্রশ্ন-সম্বলিত একটি কোশ্চেন ব্যাঙ্ক পাওয়া যায়, যার নাম প্রব্লেমাতা। সেই প্রব্লেমাতায়, সেই কবেকালে, আরিস্তোতল বলছেন, "better to acquit a 'wrong-doer' than to condemn an innocent person"... রাশিবিজ্ঞানের পরিভাষায় যে কোনো পরীক্ষণযোগ্য প্রস্তাবনা, অর্থাৎ হাইপোথিসিস টেস্টিং-এর দুইরকম ভুল হতে পারে, এদের পারিভাষিক নাম, টাইপ ওয়ান এবং টাইপ টু এরর। আমরা যদি এই এক-ই কাঠামোয় নির্বাচনী এস-আই-আর-কে দেখি, তবে বলা যায়, যে একজন প্রকৃত প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অ্যালগোরিদমের ভুলে বাদ যান, তাহলে সে আমাদের টাইপ ওয়ান, আর যদি ভুয়ো ভোটার ধরা না পড়ে, তাহলে সে আমাদের টাইপ টু এরর। এই দুটোর মধ্যে কোন ভুলটি নিয়ে আমাদের বেশি চিন্তার দরকার — এর উত্তর আছে ঐ আরিস্তোতলের বইতে, এর উত্তর আছে সভ্য দেশের আইনি পরিভাষায়, "ইনোসেন্ট আনটিল প্রুভেন গিলটি", অর্থাৎ, আইনের বা ন্যায়ের মূল লক্ষ্য এই হওয়া উচিত যেন কোনো নির্দোষ লোক শাস্তি না পান, কোনো প্রকৃত নাগরিক ভোটাধিকার বঞ্চিত না হন, কোনো নীরোগ মানুষের উপর অকারণে রোগের চিকিৎসা না হয়।

    নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাবানেদের এই টাইপ ওয়ান ও টু এররের সম্যক ধারণা আছে কী না, থাকলেও ঐ ব্ল্যাক-বক্স অ্যালগোরিদম তা আদৌ মানে কি না, এইসব প্রশ্ন সহজ হলেও, উত্তর অজানা।





    তথ্যসূত্র:

    ১) সুহাস পালশিকর, সঞ্জয় কুমার, সন্দীপ শাস্ত্রী ও কৃষাণ সিনহা। "How document deficits may risk disenfranchising the poor, eroding trust in the Election Commission।" The Hindu, ১৭ আগস্ট ২০২৫।

    ২) লোকনীতি-সিএসডিএস, "Documentation and Trust in the Voter Verification Process Study 2025।"

    ৩) আয়ুষী কর। "How ECI Tailored the Voter Registration in West Bengal 'As it Deemed Fit'।" The Reporters' Collective, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। https://www.reporters-collective.in/trc/voter-registration-in-wb-as-it-deemed-fit




    পরিশিষ্ট - প্রবন্ধে উল্লিখিত বিভিন্ন তথ্যের সারণী

    বিঃদ্রঃ সংখ্যাগুলি শতকরা হারে, পূর্ণাঙ্কে। একাধিক উত্তর প্রদানের সুযোগ ছিল। সূত্র: The Hindu / লোকনীতি-সিএসডিএস।


    Table 1: জাতিভিত্তিক নথিপত্রের প্রাপ্যতা


    নথিতফশিলি জাতি (SC)তফশিলি উপজাতি (ST)অন্যান্য অনগ্রসর জাতি (OBC)সাধারণ
    আধার কার্ড৯৮৯৯১০০৯৯
    প্যান কার্ড৫৮৮৩৭৯৯০
    পাসপোর্ট১৬২২
    দশম শ্রেণির সার্টিফিকেট৪৬৫১৬৪৭২
    ডোমিসাইল সার্টিফিকেট৪৮৪৪৫৪৫৬
    জাতি সার্টিফিকেট৫৮৮০৬১৩২
    NRC নথি৯৫৯৯৯৬৯৫
    বন অধিকার সার্টিফিকেট
    পারিবারিক নিবন্ধন সার্টিফিকেট৩৩২৬৩৩২৮
    জমি/বাড়ি বরাদ্দ সার্টিফিকেট৩১৫৯৪১৫১
    সরকারি পরিচয়পত্র বা পেনশন অর্ডার২৮৪৩৩৭৪২
    ১৯৮৭ সালের আগে ইস্যু হওয়া সরকারি পরিচয়পত্র১৬


    Table 5: অর্থনৈতিক শ্রেণিভিত্তিক নথিপত্রের প্রাপ্যতা



    নথিদরিদ্রনিম্নবিত্তমধ্যবিত্তউচ্চবিত্ত
    আধার কার্ড৯৯১০০৯৯১০০
    প্যান কার্ড৬৬৮০৮৯৯৫
    পাসপোর্ট১০২১৪৭
    দশম শ্রেণির সার্টিফিকেট৩৯৬১৭৯৯১
    ডোমিসাইল সার্টিফিকেট৩৫৫২৬২৭৪
    জাতি সার্টিফিকেট৪১৫০৫৩৬১
    NRC নথি৯৮৯৪৯৬৮৮
    বন অধিকার সার্টিফিকেট
    পারিবারিক নিবন্ধন সার্টিফিকেট২৪৩২৩২৪০
    জমি/বাড়ি বরাদ্দ সার্টিফিকেট৪২৪৩৪৭৪৩
    সরকারি পরিচয়পত্র বা পেনশন অর্ডার৩৬৩৫৪৩৪৪
    ১৯৮৭ সালের আগে ইস্যু হওয়া সরকারি পরিচয়পত্র১৩১৬১৮



    Table 6: অর্থনৈতিক শ্রেণিভিত্তিক জন্মশংসাপত্রের প্রাপ্যতা


    জন্মশংসাপত্রদরিদ্রনিম্নবিত্তমধ্যবিত্তউচ্চবিত্ত
    হ্যাঁ, আছে২৩৩০৪৩৫৩
    আছে, কিন্তু সরকারি কর্তৃপক্ষ থেকে নয়১১১২১২
    না, নেই৬১৫৫৪৩৪০



    Table 7: অর্থনৈতিক শ্রেণি অনুযায়ী ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে পরিবারের সদস্যদের জন্মশংসাপত্রের প্রাপ্যতা


    পরিবারের ১৮+ বয়সী সদস্যদের জন্মশংসাপত্রদরিদ্রনিম্নবিত্তমধ্যবিত্তউচ্চবিত্ত
    হ্যাঁ, সবার আছে১২১৬২২৩৩
    হ্যাঁ, কিন্তু কেবল কয়েকজনের৪৪৪৯৫৫৫৩
    কারোর নেই৩৫২৬১৭১০



    Table 11: জন্মশংসাপত্র বাধ্যতামূলক হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কারা


    শ্রেণিশতকরা হার
    নিরক্ষর৪২
    বৃদ্ধ৪২
    দরিদ্র৪১
    গ্রামীণ জনগণ২৬
    পরিযায়ী২২
    মুসলিম১৫
    তফশিলি জাতি
    তরুণ ভোটার
    তফশিলি উপজাতি
    অন্যান্য অনগ্রসর জাতি
    কেউ না



    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৭৭৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৩739734
  • এই পুরো প্রক্রিয়াটাই এমন পম্যান করে শয়তানি যে প্রান্তিক মানুষজনকে প্রথমে ভোটার লিস্ট এবং পরে জনজীবন থেকে বাদ দেবার পৈশাচিক চক্রান্ত। ঠিক যা যা আমরা অনুমান করেছিলাম সেইরকমই মুসলমানরা, মহিলারা, পরিযায়ী শ্রমিকরা এবং ভাড়াটেরা প্রচুর পরিমাণে বাদ গেছেন। অসহ্য লাগছে মানুষগুলোকে দেখলে।
     
    দ্রি টাইপ মানুষেরা নিশ্চয়ই খুবই খুশী হয়েছেন।
  • | ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৩739735
  • *প্ল্যান
  • Debasis Bhattacharya | ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২০739736
  • তথ্যবহুল, স্বচ্ছ এবং জরুরি লেখা
  • যদুবাবু | ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:২২739741
  • অমিতাভদা, দেবাশিস-দা, অ্যালবার্টবাবু - থ্যাঙ্ক ইউ।

    দ-দি, ঠিক-ই লিখেছো। এটা প্ল্যানড-ই বটে।
  • Somenath Guha | ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৮739763
  • খুব জরুরি লেখা। ধন্যবাদ
  • Tania Basu Dutta | ১১ মে ২০২৬ ১৩:৩০740613
  • প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি খুব সুন্দর ভাবেই।
     
    ( মনে হচ্ছে ওই জন্মশংসাপত্র আছে নেই করেই এখানে এতগুলো মানুষের নাম বাতিল পড়েছে, দশমশ্রেণীর সার্টিফিকেট তো এরা অনেকেই দেখাতে পারেনি ...ওরা বলেছিলো। ....এই নিয়ে চরম বিরক্তি ... " মেরা আধার, মেরা পরিচয় " নামক ধাপ্পাবাজি করে এখন এইসব .... ) নাম তো বাদ পড়ছে হুড়মুড়িয়ে কিন্তু কিসের ভিত্তিতে ?
     
    ঠিকই বলেছেন অমিতাভদা, , সহজবোধ্য এবং সত্যিই সুন্দরভাবে উপস্থাপিত .
  • এখন যা চলছে... | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ৩০ মে ২০২৬ ২৩:০৭740932
  • Yogendra Yadav’s post on X:

    “I did not to go to the Supreme Court today to hear its order in the SIR case.

    “As a litigant in this case, and as someone who was given the honour of addressing the court, I should have been hopeful, anxious, or at least curious. I was not. The case was decided long ago. We were only waiting for the transcript and its fine print.

    “The course of this case was settled in August last year. Having heard arguments against SIR for three days, the court moved away from examining the constitutionality of SIR and effectively converted itself into a Consumer Forum, focused on grievance redressal and arbitration, rather than constitutional principles.

    “The case was effectively decided when the apex court allowed the ECI to rush through the Bihar elections without first deciding the matter, and without requiring the ECI to rectify even the most glaring defects in post-SIR rolls.

    “There was little left of this case once the ECI proceeded with the second and then the third phase of SIR, while the Hon’ble Court leisurely heard arguments about its constitutionality. SIR had become a fait accompli. Any remaining doubt disappeared when the Hon’ble judges observed in open court that no one would be allowed to obstruct SIR.

    “The final nail in the coffin of this petition was hammered during the hearing of another petition before the same Bench, when an Hon’ble judge remarked that millions denied their right to vote need not fret, since they could vote in the next election. At that moment, the court abdicated its constitutional responsibility.

    “Shorn of legalese, the simple truth is that the highest court of a constitutional democracy has already authorised the disenfranchisement of millions of citizens—at least 59 million so far, could go up eventually to 100 million.

    “It was inconceivable that the court would now declare SIR unconstitutional and annul all post-SIR elections. The lawyers were waiting for the the exact legal reasoning deployed to arrive at a conclusion that was already known. Such legal gymnastics did not interest me. Some friends were looking for some crumbs in the hope that the court might at least wish to save face, if not save the voters. Eventually that too did not happen. Polite noises apart, the Court has handed over a carteblac to the ECI to do what it pleases with the voters list.

  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ৩০ মে ২০২৬ ২৩:১১740933
  • একই ব্যপার অন্নপূর্ণা স্কিম নিয়েও শুরু হয়েছে, কারন বিজেপির সরকারগুলো এক্সক্লুশানিস্ট বাই ডিজাইন হয়। বিজেপি শাসিত সবকটা রাজ্যেই প্রান্তিক মানুষদের এমনভাবে হয়রনি করা হয় যে লাস্ট অবধি অনেকে বাদ পড়েন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

SIR
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন