এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • গার্হস্থ্য হিংসা আর আমার দেশ

    Prativa Sarker লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৫ মে ২০১৬ | ৮৯৭৮ বার পঠিত
  • আমার ছোটবেলার পাহাড় ঘেঁষা মফস্বলের বাড়িতে একটা প্রাচীন লোহার সিন্দুক ছিল। ডালার ওপর একটা ফ্ল্যাট পদ্মফুল। তার মাঝে সরু একটি নিখুঁত কাটা আয়তক্ষেত্র। চাবিটাও তিনসেরি। মাঝে মাঝে যখন খোলা হতো, মনে পড়তো আলিবাবার খুল যা সিম সিম। ছোঁবার যো ছিল না,ঐ ডালা হাতে পড়লে থ্যাঁতলানো টিকটিকি। শুধু একবার কয়েন, অলংকার,দলিল নামিয়ে পরিষ্কার করার সময় মায়ের লেখা একটা একটা লুকোনো চিঠি আবিষ্কার করেছিলাম। রুলটানা কাগজে গোটা গোটা অক্ষর, প্রাপক আমার বাবা,-----" আমার গায়ের রঙ কালো বলে অনেক লাঞ্ছনা সইতে হয়। আবার মেয়ে হলো, তুমি কি আমাকে আর ভালোবাসবে ! "

    কৃষ্ণবর্ণা এবং কন্যাসন্তানের জননীর কপালে কেন ভালোবাসা জুটবে না তা বোঝার মতো বয়স তখন আমার হয়নি। আজ দেখি আমার মা ভাগ্যবতী, কারণ এই যে কোন একটির জন্য অনায়াসে খুন হয়ে যান মেয়েরা। রোজকার কাগজ তার সাক্ষী। গার্হস্থ্য হিংসায় ডুবে আছে আমার মহান দেশ, যেখানে অলিগলি মুখরিত হয়ে থাকে ভারতমাতার জয়ধ্বনিতে।অথচ আইন আছে, সঙ্গে আইনের মস্ত মস্ত ফাঁকও!
    দুদিকটাই দেখে নিই একটু।

    Domestic Violence Act 2005 নারীকে দিয়েছে তিনটে মূল অধিকার --- সুরক্ষা, শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধতা এবং সংশ্লিষ্ট গৃহে অংশীদারিত্বভিত্তিক বসবাসের অধিকার।

    শুরু হয়েছিল 1961 সালে পণ-নিবারণ আইন দিয়ে। পণ-হত্যার বেশ রমরমা হতে ঠাহর হলো যে এই আইন বাবুরাম সাপুড়ের পোষ্য, দাঁতনখ কিছুই নেই। এর সঙ্গে ছিল "নারীবাদী নেকড়ে"দের (একটি জনপ্রিয় ফেবু গ্রুপের পুরুষভাষ্য) সৃষ্টি করা অবিরাম চাপ। তারই প্রতিফলন দেখা গেল 1972 এ মথুরা রেপ কেসে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের তীব্র বিরুদ্ধতায়।

    বিস্মৃতি গিলে খায় আমাদের, তাই মনে করিয়ে দেওয়া যাক মথুরা নামের দলিত কিশোরীটির কথা। যার নিজের ভাইরা থানায় নালিশ ঠুকেছিল বোনের প্রেমিককে না-পসন্দ হওয়ায়। জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় ডেকে সুযোগ বুঝে মথুরাকে ধর্ষণ করে দুই মাতাল কনেস্টবল। বহু জল গড়িয়ে যাবার পর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় এটি আদৌ ধর্ষণ নয়। মথুরা তো তেমন চেঁচায় নি, বরং প্রেমিক - সঙ্গ অভ্যস্ত সেইই প্রলুব্ধ করেছে বেচারা পুলিশকে, ইত্যাদি।
    দলিতদলনে কেউই কম যায় না, আর নারী তো দলিতেরও দলিত। তবে এই কেস ঘিরে বিপুল হৈচৈ তে লাঞ্ছনার পয়েন্টে আলো পড়ে আর পণ হত্যাকে (dowry killing) ক্রিমিনাল ল' এর আওতায় আনবার জন্য 1983 এ IPC তে section 498A, 1986 এ section 394B ইত্যাদির আবির্ভাব। এই সংশোধনীগুলিই গার্হস্থহিংসাকে ঘরের বাইরে এনে জনগণের খোলা চোখের সামনে একেবারে নাঙ্গা বাস্তব হিসেবে তুলে ধরে।

    গার্হস্থ্য হিংসার মধ্যে পড়ে যে কোন এমন ব্যবহার বা ক্রিয়াকর্ম যা অভিযোগকারীর স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা,জীবন, মানসিক অথবা শারীরিক ভালো থাকবার পক্ষে ক্ষতিকারক। অর্থাৎ শারীরিক, মৌখিক, আর্থিক এবং যৌন নিগ্রহ --সবই এই আইনের আওতায়।
    আরো বিস্তারিত করলে দেখা যাবে এই আইন লাগু হবে যদি ১) অভিযোগকারিণী বা তার সম্পর্কিত লোকজনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কোন পণ, সম্পত্তি, বন্ড ইত্যাদি হাসিল করার চেষ্টা হয়। ২) এই চেষ্টায় যদি মিশে থাকে ভীতিপ্রদর্শন, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। ৩) যে কোন ধরণের ইনজুরি (শারীরিক অথবা মানসিক) ঘটালে।
    অভিযোগকারিণীর সংজ্ঞাও নির্দিষ্ট। তাতে পড়বেন একজন পুরুষের সঙ্গে বসবাসকারী যে কোন মহিলা চার দেওয়ালের মধ্যে যার ওপর চলে ওপরে উল্লিখিত অত্যাচার। এই পুরুষটিকে হতে হবে প্রাপ্তবয়স্ক, হতে হবে অভিযোগকারিণীর সঙ্গে সম্পর্কিত। মহিলাটি যদি স্ত্রী বা লিভ ইন পার্টনার হন তাহলে তিনি পুরুষটির আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধেও অত্যাচারের অভিযোগ জানাতে পারেন।
    এমন নয় যে খোদ অত্যাচারিতাকেই নালিশ জানাতে হবে। আত্মীয়,বন্ধু,প্রতিবেশী, যে কারো যদি প্রত্যয় জন্মায় যে কোন পরিবারে গার্হস্থ্য হিংসা ঘটছে অথবা ঘটতে যাচ্ছে তাহলে তিনি নির্দ্বিধায় তা জানাতে পারেন প্রটেকশন অফিসারকে। এই অফিসারটি হলেন ওই এলাকার থানার কোন মহিলা অফিসার যার নাম প্রটেকশন অফিসার হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে।

    নারীর অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তারাই জানেন মাথার ওপর ছাদ হারানোর ভয় মৃত্যুভয়ের চেয়ে কম নয় অনেক মেয়ের কাছে।বিশেষত যারা গৃহস্থালির বাইরে যাবার সুযোগ পাননি তাদের কাছে। একে তো হরিণা বৈরী আপনা মাসে,তারপর খাবো কি, থাকবো কোথায় ! Domestic Violence Act অভিযোগকারিণীর বাসস্থানে থাকবার অধিকার সুনিশ্চিত করে, তবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। আর এজন্য কোন আইনী দখলিস্বত্ব দরকার হয় না। অর্থাৎ মারধোর করে বাড়ি থেকে বার করে দেওয়া মারাত্মক অপরাধ।

    গার্হস্থ্য হিংসার কেসগুলি দ্রুত ফয়সালার জন্য অভিযোগ করবার তিনদিনের মধ্যে প্রথম হিয়ারিং হতেই হবে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ধার্য সময় ৬০ দিন। এই কাজে সাহায্য করবেন স্থানীয় পুলিশ অফিসার, সার্ভিস প্রভাইডার,ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রটেকশন অফিসার। আরো আছে শেল্টার হোম, চিকিৎসার বন্দোবস্ত। অভিযোগকারিণীর সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। ধর্ম,বর্ণ,জাত দেখা চলবে না।

    তবে ভারতমাতা সর্ষের মধ্যেকার ভুত আর কতো তাড়াবেন! হাজার হাজার কেস পেন্ডিং পড়ে আছে। ৬০ দিন কেন,৬০০ দিনেও ফয়সালা হয়না। বিচারক গুটিকয়, সময় অপ্রতুল। হতভাগ্য প্রধান বিচারপতি শ্যামা শাপমোচনের অশ্রুমোচন ছাড়া আর কিই বা করতে পারেন! ল' ইয়াররা প্রায়ই কথার খেলাপ করে নির্দিষ্ট ডেটে আসেন না। হয় অসুস্থ হন, নাহলে মাতৃস্থানীয়া কাউকে নার্সিং হোমে পাঠান। এছাড়া কোর্টের বিপুল ছুটি অন্য পেশার মানুষের ঈর্ষার কারণ। মনোরঞ্জনের উপাদানও অনেক। সহকর্মী মারা গেলে কর্মবিরতি, তারপরেই হৈ হৈ করে ক্রিকেট খেলতে নেমে পড়া বার বার দেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। দমদমে একটি শেল্টার হোমে যাবার দুর্ভাগ্য হয়েছিল একবার। সাক্ষাৎ রৌরব নরক!

    নিছক কান্নাকাটি ছাড়া বিচারের বাণীর আর কিই বা করার থাকতে পারে যখন গার্হস্থ্য হিংসার প্রধান উৎস marital rape বা বৈবাহিক ধর্ষণকে এই আইনের আওতাভুক্ত করতে খোদ মানেকা গান্ধী ( মন্ত্রী, উইমেন আন্ড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট) এত আপত্তি জানাচ্ছেন। অথচ তামিলনাড়ুর মত বর্ধিষ্ণু রাজ্যেও প্রতি দশজন বিবাহিত নারীর মধ্যে চারজনই দাম্পত্য হিংসার শিকার ( NFHS 4,latest round) !
    আমাদের দেশে নাকি বৈবাহিক ধর্ষণ নেই, কারণ ভারতীয় সমাজ এই বন্ধনকে পূতপবিত্র(sacrament) মনে করে। জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্ক যে ! যদিও এই দৃষ্টিভঙ্গী UN এর Committee on Elimination of Discrimination against Women এর এবং ২০১২ সালে দিল্লী গ্যাং রেপের পর গঠিত J.S.Verma Committee র সুপারিশের ঘোর পরিপন্থী।
    পুরুষ নির্যাতিত হলেও এই আইনের আওতায় আসবেন না। তবে বর্ত্তমানে সিনিয়র সিটিজেনদের নিরাপত্তা দেবার জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়ন হয়েছে।
    যারা এইটে নিয়ে আওয়াজ দেবার তালে আছেন তাদের মনে করাই নারীর ওপর দমনপীড়ন প্রায় তিনহাজার বছরের পুরোনো। Origin of Family, Private Property and the State বইটির পাতা একটু উলটে নিলেই ক্ষোভ প্রশমিত হবে।
    সবাই মিলে ভাবা দরকার এত পুরোনো ক্ষত নিরাময় হবে কোন ওষুধে। দল বাঁধুক সব মুক্তমনা আর শুভবোধসম্পন্নেরা।
    আর হ্যাঁ, লড়াই এর ময়দানে একেবারে সামনের সারিতে থাকুক ঐ নারীবাদী নেকড়েরাই। ওরা যে অনেকেই জীবন দিয়ে বোঝে !
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৫ মে ২০১৬ | ৮৯৭৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • dc | ১৫ মে ২০১৬ ০১:০৫54015
  • যাকলা এখানেও রোজাভা :d
  • Ekak | ১৫ মে ২০১৬ ০১:২৩54016
  • সরকারী সিস্টেমে কে কাকে শাস্তি দেবে ? জাজ নিযোগ নিয়ে স্থগিতাদেশ আছে, নতুন নিযোগ এর অভাবে ঐসব পার্ট টাইম সিস্টেম চলছে। উকিল দের ইউনীয়নবাজি, লবির চোটে আইন ব্যবস্থা বিশ বাওন্জলে। এদেশে শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ে যত বিষোদ্গার হয় উকিল দের লবিবাজি নিয়ে কিছুই হয়না। গরম লাগলে ছুটি, ঠান্ডা লাগলে ছুটি ছুটির আর শেষ নেই। গোটা সিস্টেম টাকে এমন সিনিয়র -জুনিয়র দিপেন্দেন্ট করে রেখেছে যে আইটি দিয়ে পেনিট্রেত করা যাচ্ছেনা। ইন্ডিয়ান জুডিশিয়াল সিস্টেমের পাঁক ঘাঁটতে শুরু করলে আলাদা টই হয়ে যাবে। আর সরকার যদি নিজের আন্ডারে রেখে এর সমাধান করার চেষ্টা করে কোনদিন ই পারবেনা। এত পরস্পরবিরোধী আইন আর এত গন্ডা স্থগিতাদেশ যে নিজেরাই নিজেদের পায়জামায় দড়ি আটকে বসে। যাচ্ছেতাই অবস্থা।
  • সে | ১৫ মে ২০১৬ ০১:২৬54017
  • অতীব খাজা সিস্টেম। এবং অতীব করাপ্টেড লোকজন। দুই মিলিয়ে এমন অবস্থা যে লোকে পারতপক্ষে কোর্টে যেতে চায় না নিতান্ত নিরূপায় না হলে।
  • | ১৫ মে ২০১৬ ০২:২৪54019
  • লেখাটা দরকারী।
    কয়েক বছর আগে পুলিশের এস আই পদের এক মহিলা স্বশুরবাড়ীর অত্যাচারে মারা গিয়েছিলেন। এত অবাক হয়েছিলাম খবরটা পড়ে, পুলিশে কর্মরত-- তিনিও নিজের ওপরে অত্যাচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেন নি!!

    আমি একটু কনফিউজড হলাম একটা ব্যপারে -- সেটা হল একমাত্র বিয়ের পরে বা বিবাহিত নারীদের ওপরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর আক্রমণকেই আইনের ভাষায় 'গার্হস্থ্য হিংসা' বলা হয়? এক্ষেত্রে বিয়ের আগে অল্পবয়সী মেয়েদের ওপরে বিয়ে দেবার জন্য বা এমনি নিছকই মেয়ে বলে যে অত্যাচার হয় সেগুলো কি এর আওতায় আসবে না?

    ঐ উনিশশো ব্রিটিশ আমলের আইন বদলে যুগোপযোগী করার দাবী তো অবশ্যই তোলা উচিৎ জোরেশোরে। সেইসাথেই মেয়েদের আত্মবিশ্বাস ছোট থেকেই গড়ে তোলার ওপরেও জোর দেওয়া উচিৎ। ঘরে ঘরে সেই জিনিষ আসতে বহু দেরী হয়ত বা, অন্তত স্কুলগুলো তো এই ব্যপারটা এনশিওর করতে পারে।
  • pi | ১৫ মে ২০১৬ ০২:২৫54020
  • হ্যাঁ, সিস্টেম খুবই বাজে। তো, এবার সমাধান কী ? আইন নিজে হাতে তুলে নিয়ে কীভাবে কী সমাধান হবে, স্পেসিফিকালি জানতে চাই। উদাহরণ দিয়ে হলেও হবে।
    গুলাবি গ্যাঙ ছাড়া।
  • pi | ১৫ মে ২০১৬ ০২:২৯54021
  • না, বিয়ের আগেও আসে। ১৫ থেকে আসতে তো সার্ভের রেকর্ডে দেখেছি।
    তবে সেখানে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, ছেলেদের উপরেও ভায়োলেন্স অনেক।
    এনিয়ে আমরা কিছুটা বিস্তারিত লিখেওছিলাম।
  • Ekak | ১৫ মে ২০১৬ ০২:৩১54022
  • দেবব্রত বাবু একটু ক্লিয়ার করুন, নইলে বুঝতে পারছিনা যে আইন হাতে তুলে উনি ঠিক করবেন। আমার এমনিতে বোমাবাজি -মারপিট -গুপ্তি চালানো -রকেট লঞ্চার কিছুতেই আপত্তি নেই কিন্তু সেটার ও একটা মডেল থাকা চাই। ঠিক কি করতে চান ?
  • | ১৫ মে ২০১৬ ০২:৩৮54023
  • এঃ একক আবার আমার পুরানো প্রশ্নটা উসকে দিলেন। পশ্চিমবঙ্গের লোকজন কি সাধারণতঃ এইভাবেই ভাবেন যে সব সমস্যার সমাধান হল কিছু লোকে দল পাকিয়ে কাউকে ধরে লাঠি, ছুরি গুপ্তি বন্দুক(!!!) নিয়ে মারা আর তাকে 'জনরোষ' বা জনতা জেগেছে বলে চালানো?

    তাহলে ঈশানের আজকের আবাপ'র লিঙ্কটাও এখানে রেখে দিতে হবে।
  • Debabrata Chakrabarty | ১৫ মে ২০১৬ ০৩:১৯54024
  • উদাহরণ -মানে আইন হাতে তুলে নিয়ে কি ভাবে সমাধান হবে ? মডেল ? এই মডেলের প্রথম স্তম্ভ প্রচলিত আইন ব্যবস্থা punitive approach - মূলত শাস্তি মূলক। আইন আছে আইন ভাঙলে সাজা -চুরি করলে ধরুন ছয় মাস, ডাকাতি করলে ধরুন বছর খানেক বা বেশী ইত্যাদি -এইটাই প্রচলিত সিস্টেম এবং অপরাধ কমানোতে চূড়ান্ত ব্যর্থ। জেলখানা গুলির অবস্থা এবং ওভার ক্রাউডেড অবস্থানে স্পষ্ট তার ওপর জামিনে বাইরে থাকা ইত্যাদি। একক বলছেন " সরকার যদি নিজের আন্ডারে রেখে এর সমাধান করার চেষ্টা করে কোনদিন ই পারবেনা। এত পরস্পরবিরোধী আইন আর এত গন্ডা স্থগিতাদেশ যে নিজেরাই নিজেদের পায়জামায় দড়ি আটকে বসে। " এখন সরকার আইনব্যবস্থা এবং মিলিটারি তো আর প্রাইভেটাইজ করবেনা আর নাগরিকের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে দখলদারি করবে। এখন এই গ্যাঁড়াকল থেকে বেরনোর রাস্তা কি ? দেশে বিপ্লব হয়ে সমাজতন্ত্র হয়ে গেলেও তো নূতন রাষ্ট্র একই কাজ করবে -রাশিয়া উদাহরণ। চিনের মত আইন এসে যেতে পারে আপনি কেবল এক বাচ্চার মা/বাবা হতে পারেন। অর্থাৎ সর্ব বিষয়ে দখলদারি। ঠিক এই প্রচলিত ব্যবস্থার উল্টো রাস্তার নাম

    " restorative এপ্রোচ" অর্থাৎ শাস্তি নয় মীমাংসার পথে অপরাধ কমানো। এই সিস্টেম আমাদের পশ্চিম প্রভাবিত শাস্তিমূলক আইন প্রবর্তনের পূর্বে অধিকাংশ আদিবাসী সমাজে বর্তমান ছিল ১০৬৬ সালে ব্রিটেনে নর্মান আক্রমণের পূর্বে এই সিস্টেম বজায় ছিল " Restorative justice is an approach to justice that focuses on the needs of the victims and the offenders, as well as the involved community. This contrasts to more punitive approaches where the main aim is to punish the offender, or satisfy abstract legal principles.

    Victims take an active role in the process. Meanwhile, offenders are encouraged to take responsibility for their actions, "to repair the harm they've done – by apologizing, returning stolen money, or community service". In addition, the restorative justice approach aims to help the offender to avoid future offences." - এই হোল সিস্টেমের মুল বক্তব্য

    এখন এই গ্রুপে অনেকের রোজাভার উদাহরণ দিলে অ্যালার্জি আছে তবে The South African Truth and Reconciliation Commission এই জাস্টিস সিস্টেমের অন্যতম উদাহরণ। খুব গুরুতর অপরাধ বিনা কমিউনিটি বাকি অপরাধের মীমাংসা নিজেরাই করবে প্রথাগত শাস্তি মূলক বিচার ব্যবস্থার বিপরীতে। একেই বলা হচ্ছে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া। এ কোন ইউটপিয়া নয় বিভিন্ন বই পত্তর লেখা হচ্ছে কেউ কেউ প্রয়োগ করছেন, এমনকি আমাদের দেশেও এইরকম এক প্রস্তাব ছিল -( প্রশান্ত ভূষণের একটি লেখা আছে খুঁজে পেলে দিচ্ছি ) আর রোজাভা বিগত ৫ বছর ধরে এই মডেলেই জনতা নিজেদের বিচার নিজেরাই করছেন। বিস্তারে লেখা যাবে।

    এই যে সিস্টেম যেখানে খুব বেশী হোলে আমরা এই আইনের বদলে ওই আইনের কথা বলতে পারি অথবা কিছু আইনের সংশোধনের কথা কিন্তু আইনের শাসনের নামে এই যে শাসকের আমাদের রাষ্ট্রের নাগরিক নিয়ন্ত্রণ এই বিষয়ে প্রশ্নই করতে পারিনা। - প্রশ্ন করুন ভারতে আইনের শাসনের নামে পূর্ণ অরাজকতা কি যেন একটা উদ্ধৃতি আছে ' জাস্টিস ডিলেড ইস জাস্টিস ডিনায়েড "
  • cm | ১৫ মে ২০১৬ ০৩:২১54025
  • মীমাংসা অর্থাৎ কিনা তিনটে ছাগল আর ভরপেট হাড়িয়া?
  • Ekak | ১৫ মে ২০১৬ ০৩:৪৪54026
  • দেবব্রত বাবু

    কী লিখছেন তার প্রেক্ষিত একটু ভেবে লিখুন। আদিবাসী দের ওই সিস্টেমের সঙ্গে কিঞ্চিত পরিচিত আছি। ওটা সিভিল কেস, তারপর অন্যের জমিতে ছাগল ঢোকানো, ছেলে-বুড়ো দের মারপিট এসব ক্ষেত্রে চলে। এই জেন্ডার ভায়োলেন্স এর ক্ষেত্রে না। যদি চলতো তাহলে ওই যে উত্তর ভারতে -বিহারে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেবার চল হয়েছে ওটাকেও তো রিস্তরেতিভ সিস্টেম বলতে হয় তাই না ? বা মমতার বুদ্ধি মত রেপ ভিকটিম কে টাকা ক্ষতিপূরণ।

    আরেকটা বড় মিসটেক করছেন। জেনেরাল ক্রাইম আর ক্রিমিনাল একটিভিটি থ্রু সোশাল অপ্রেশন কোনভাবেই এক না। চুরি করা -খুন করা এগুলো সমাজের সবার চোখেই ক্রিমিনাল একটিভিটি। এমনকি একজন ক্রিমিনালের চোখেও :) সেখানে শাস্তি কী হবে তার রেস্তরেতিভ মডেল হলে গোটা কমিউনিটি একটা রায় নিতে পারে। যে দোষ করেছে সে তার অফার জানাতে পারে।

    কিন্তু সোশাল অপ্রেশন -জেন্ডার অপ্রেশন মানে হচ্ছে ওই গোটা কমিউনিটি টাই অসুখে ভুগছে। তার ফলেই ক্রিমিনাল একট টা হয়েছে। কাজেই ওদের হাতে সমাধানের দায় ছেড়ে দিলে ওরা মেয়েটাকেই দোষী বলবে। বা ধর্ষণের কেসেও বলবে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মিটিয়ে নাও। এটাই তো গ্রামে গ্রামে হয়। বা উল্টো কেসে এরকমও হতে পারে যে জাস্ট ছেলেটি পাশের গ্রামের বলে মার খেয়ে মরে যাবে। মেয়েটির ইনভলভমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠবেনা। কোনটাই জাস্টিস নয়।
  • dc | ১৫ মে ২০১৬ ০৩:৪৫54027
  • ডোমেস্টিক ভায়্লেন্সের একটা বড়ো কারন জানি ডাউরি সংক্রান্ত বিবাদ। ডাউরির বিরুদ্ধে আরো প্রচার চালানো, সামাজিক পরিবেশ বদলানো, এগুলো নিয়ে কাজ করা যায় কি? বিশেষ করে হিন্দি হার্টল্যান্ডে? (অবশ্য ডাউরি তো সারা ভারতেই প্রচলিত, দক্ষিণেও যথেষ্ট আছে)
  • dc | ১৫ মে ২০১৬ ০৩:৪৯54028
  • কমিউনিটি ভিত্তিক আইনের শাসন তো ভারতে অনেক আছে! সবথেকে ভালো উদাহরন খাপ।
  • dc | ১৫ মে ২০১৬ ০৪:০৬54029
  • গৃহবধূদের ওয়েজ দেওয়া নিয়ে টইতেও একটা সল্যুশান নিয়ে খানিক আলোচনা হয়েছিল, যে ছোট থেকে সিক্ষা দেওয়া ছেলেদের আর মেয়েদের আলাদা কাজ বলে কিছু হয়না, বাড়ির সব কাজ সমান, সবাইকেই সেটা করতে হবে। ছেলে আর মেয়ের এই ইকুয়ালিটির আইডিয়াটা যদি ছোটর থেকেই প্রোমোট করা হয় তাহলেও কি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের সুরাহা হতে পারে? মানে বিয়ে করার সময় আমি মেয়ের সাথে সাথে একগাদা টাকাও পাবো, এই অব্জেক্টিফিকেশানটা কি কমানো যেতে পারে?
  • Debabrata Chakrabarty | ১৫ মে ২০১৬ ০৪:০৬54030
  • খাপ কমিউনিটি ভিত্তিক শাসন বটে কিন্তু তার ভিত্তি প্রাগৈতিহাসিক, অগণতান্ত্রিক এবং সেখানে কোন কোড নেই। এর সাথে যদি নির্দিষ্ট কোড, গণতান্ত্রিক, আধুনিকতার এবং নজরদারির মিশেল ঘটে তাহলে খাপ শুনতে খারাপ লাগলে ৫০ কিলোমিটার দূরের কালো কোট ধারীদের তুলনায় ভালো।
  • Debabrata Chakrabarty | ১৫ মে ২০১৬ ০৪:০৮54031
  • একক বাবু কি ভাবে ধরে নিলেন " প্রেক্ষিত " না ভেবেই লিখে ফেললাম। না শুধু সিভিল নয় সিস্টেম ক্রিমিনাল কেসেও বর্তমান -সে বিষয়ে বিস্তারে পরে লেখা যাবে -।

    " সোশাল অপ্রেশন -জেন্ডার অপ্রেশন মানে হচ্ছে ওই গোটা কমিউনিটি টাই অসুখে ভুগছে" ঠিকই তো তো তার উত্তর আইন দিয়ে সমাধান সম্ভব নয় তার উত্তর আমি প্রথম পোস্টে লিখেছি “ মেয়েরা দল বাঁধুক, নিজেদের রাজনৈতিক দল তৈরি করুক সমস্ত রাজনৈতিক দল কে বাধ্য করুক -হয় আমাদের সমপরিমাণ রাজনৈতিক অধিকার দাও সমস্ত পর্যায়ে অথবা ভোট ভুলে যাও। তবে ঐযে আপনি বললেন ' এত পুরোনো ক্ষত নিরাময় হবে কোন ওষুধে' একটাই ওষুধ “you can’t get rid of capitalism without getting rid of the state, you can’t get rid of the state without getting rid of patriarchy.” পিতৃতান্ত্রিকতার প্রাথমিক ভিত্তি পরিবার ( এঙ্গেলস )। ভাঙ্গা শুরু হউক। জেন্ডার অপ্রেসনের বীজ পিতৃতান্ত্রিকতার মধ্যে আর তা আইনের পথে মীমাংসা করা সম্ভব নয় তার জন্য চাই সামাজিক আন্দোলন, পরিবারতন্ত্র বিলোপ ইত্যাদি ইত্যাদি।

    এখন ভূষণের লেখাটি খুঁজে পেয়েছি যেখানে উনি লিখছেন ঃ- " Originally the Gram Nyayalaya Bill had been envisaged as setting up informal courts at the local level where people could access courts for ordinary disputes without lawyers. Unfortunately that was abandoned and the final law required Gram Nyayalayas to follow the Civil Procedure Code, the Code of Criminal Procedure, etc., defeating in a way, the very purpose of these courts." সুতরাং ভারতে এইরকম এটি প্রচেষ্টা হয়েছিল গ্রাম পর্যায়ে ন্যায়ালয় স্থাপনের।

    লেখাটির লিংক থাকলো Condemning Government Apathy Towards Judicial Reforms http://thewire.in/2016/04/27/condemning-government-apathy-towards-judicial-reforms-31809/ via @thewire_in
  • Ekak | ১৫ মে ২০১৬ ০৪:১২54032
  • "নির্দিষ্ট কোড" মানে বলছেন যে সেটা স্টেট ঠিক করবে ? সেক্ষেত্রে সম্ভব। এই নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছিল। ইন্টারনেট পরিষেবা কাজে লাগিয়ে কিভাবে খাপ ব্যবস্থা কে যুদিশিয়ারির সঙ্গে জোড়া যায়। বেসিক প্রসিডিং লোকাল লোকরাই করবে কোনো অনলাইন জাজ এর উপস্থিতি তে। সেরকম কিছু হলে আপত্তি নেই। এটাও সর্ট অফ প্রায়ভেতায়জেষণ। কিন্তু কবে এরকম হবে জানিনা। কারণ খাপ্গুলো একচুয়ালি পঞ্চায়েত -মোড়ল-রাজনীতি এইসবের আখড়া। কাজেই তারা চায়না ওই লেভেলে আধুনিক কোনো সিস্টেম ঢোকাতে।
  • Debabrata Chakrabarty | ১৫ মে ২০১৬ ০৫:০৭54033
  • নিশ্চয়ই 'কোড' অর্থে নির্দিষ্ট গাইডলাইন। সেটা পরিস্থিতি অনুযায়ী একটু আধটু ফ্লেক্সিবেল হতে পারে। এখন তামিলনাড়ু এবং নাগাল্যান্ড এর সামাজিক অবস্থান সমান নয় সেই কথা ভেবে নমনীয়তার প্রশ্ন। কিন্তু কাউকে চুল কেটে দেওয়া, জুতোর মালা পরানো ডাইনী ঘোষণা এই সমস্ত চলবেনা ওইখানেই নির্দিষ্ট কোডের রোল। আর সত্যিই খাপ মানেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে অগণতান্ত্রিক মূলত গাঁও বুড়োদের সংস্থা। তবে অনেক সামাজিক বিবাদ এমনকি রাজনৈতিক বিবাদ উত্তরভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে খাপ এবং আদিবাসীদের বিভিন্ন কমিউনিটি জাস্টিস সিস্টেম এখনো মেটায় বটে। ৩০ মিলিয়ন পেন্ডিং কেস আর প্রতি বছর ১০ মিলিয়নের ওপর নূতন কেস মেটানোর ক্ষমতা আমাদের বর্তমান বিচার ব্যাবস্থার পক্ষে অসম্ভব। এখন যে কেস তিন বছরে মেটে তা মিটতে ৬ বছর লাগবে। বিনা বিচারে জেলে পচার সময় দীর্ঘাইত হবে। সুতরাং আইন জনতার হাতে দিতেই হবে অথবা জনতা নিজেই নিয়ে নেবে।
  • Debabrata Chakrabarty | ১৫ মে ২০১৬ ০৯:১৮53997
  • যথারীতি ভালো লিখেছেন, তবে আইন দিয়ে তো কিছু হয়না আইন আরেক আইন ডেকে আনে, তার পরে আরেক আইন, এবং আইন মান্য করেও কিছু হয়না তাই আইন হাতে তুলে নেওয়াই কাম্য অথবা এই আইনের বিপরীতে নিজেদের আইন।

    মেয়েরা দল বাঁধুক, নিজেদের রাজনৈতিক দল তৈরি করুক। রোজাভার মেয়েদের মত বন্দুক তুলে না নিলেও 'গুলাবি গ্যাং ' এর মত লাঠি তো নিক। সমস্ত রাজনৈতিক দল কে বাধ্য করুক -হয় আমাদের সমপরিমাণ রাজনৈতিক অধিকার দাও সমস্ত পর্যায়ে অথবা ভোট ভুলে যাও।

    তবে ঐযে আপনি বললেন ' এত পুরোনো ক্ষত নিরাময় হবে কোন ওষুধে' একটাই ওষুধ “you can’t get rid of capitalism without getting rid of the state, you can’t get rid of the state without getting rid of patriarchy.” পিতৃতান্ত্রিকতার প্রাথমিক ভিত্তি পরিবার ( এঙ্গেলস )। ভাঙ্গা শুরু হউক।
  • Debabrata Chakrabarty | ১৫ মে ২০১৬ ০৯:৩০53998
  • @প্রতিভা দিদি আপনাকে গুরু তে স্বাগত। বেঙ্গল ক্লাব বা অন্যান্য অভিজাত ক্লাবগুলির মত এখানে কিঞ্চিৎ ক্লাব কালচার আছে, যদিও জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস'রা কালের নিয়মে ম্রিয়মাণ। আপনি হাত খুলে লিখুন। বদ্ধ কামরার ক্লাব মুক্ত মঞ্চে পরিনত হউক। গুরুর অ্যাডমিন দের সাধুবাদ -প্রতিভা দিদি কে এবং আরও নূতন লেখকদের দল ভারী করছেন বলে।
  • pi | ১৫ মে ২০১৬ ০৯:৩৫53999
  • আইন হাতে তুলে নেওয়া কাম্য !! একেবারেই একমত হতে পারলাম না।

    আর সমপরিমাণ রাজনৈতিক অধিকার দেওয়া বলতে ? সেটা কি ভারতে নেই?

    যাহোক, মূল লেখা প্রসঙ্গে, এই ৬০ দিনে নিষ্পত্তি হওয়া ধার্য হবার পরেও না হওয়া নিয়ে একটু জানতে চাই। মোটামুটি কত সংখ্যক কেসে এই দীর্ঘসূত্রিতা হয়, তার কোন শতকরা হিসেব পাওয়া যাবে ? আর যেখানে ৬০ দিনে নিষ্পত্তি হতেই হবে বলা আছে, সেখানে কোন প্রভিশনে এগুলো ছাড় পেয়ে যায় ? উকিলের এই বারম্বার ডেট ফেইল করার জন্য কোন জরিমানা হয়না ? আর ছুটি বেশির ব্যাপারটাও একটু জানতে চাই।

    পুরুষ নির্যাতিত হলে কোন আইনের আওতায় পড়বেন না ?

    ম্যারিটাল রেপ নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে। ব্যাপারট আইন করে অত সাদা কালোয় নিষ্পত্তি করায় কিছু অসুবিধে থাকতে পারে বলে মনে করি, যাহোক, সেসব কথা সময় পেলে লিখবো কখনো।
  • pi | ১৫ মে ২০১৬ ০৯:৪১54000
  • এই জলসাঘর, ছবি বিশ্বাস, এসব নিয়েও একমত হতে পারলাম না।

    যাহোক, লেখার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হোক। আইন হাতে তুলে নেওয়াকে কি আপনি বিপজ্জনক মনে করেন না ? আর কোথাও লাইন টানবেন ? এই লাইনে আপনাকে গণপিটুনি দিয়ে মারাকেও সমর্থন করতে হবে কিন্তু।
  • Debabrata Chakrabarty | ১৫ মে ২০১৬ ০৯:৫৬54001
  • আইন হাতে তুলে নেওয়া মানে গণপিটুনি নয় তাকে মব ভায়লেন্স বলে। আইন হাতে তুলে নেওয়া অর্থে এই আইন ব্যবস্থা কে প্রত্যাখ্যান যেমত রাষ্ট্র কে এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক আইন প্রবর্তন। যে যাই হউক এই বিষয় স্বতন্ত্র।

    " আর সমপরিমাণ রাজনৈতিক অধিকার দেওয়া বলতে ? সেটা কি ভারতে নেই? " না নেই। ভারতের যে কোন রাজনৈতিক দলের /সংস্থায় নীতিনির্ধারণে নারীদের অবস্থান দেখলেই স্পষ্ট হওয়া সম্ভব।
  • dc | ১৫ মে ২০১৬ ১০:০৮54002
  • হাতে বন্দুক তুলে নেওয়া, লাঠি তুলে নেওয়া এসবের প্রতিবাদ করলাম। এগুলো ভায়োলেন্স বাড়াতে সাহায্য করে, কমাতে না। ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, কয়েকদিন আগেই কোন কাগজে পড়ছিলাম ভারতে বোধায় ৬০-৭০% পরিবারে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ঘটে। এর মধ্যে লাঠি বন্দুক না নিয়ে এলে ভালো হয়।
  • Debabrata Chakrabarty | ১৫ মে ২০১৬ ১০:৩৯54003
  • আমাদের এবং অধিকাংশ দেশের আইন ব্যবস্থা punitive approach । কিছু নির্দিষ্ট আইন ভাঙলে নির্দিষ্ট পরিমাণ শাস্তি - চুরি করলে এত মাসের জেল, ধর্ষণ করলে এতো মাস কিন্তু এই ব্যবস্থা যে অপরাধ কমাতে ব্যর্থ তা প্রমাণিত, দীর্ঘ সূত্রিতা এবং পেন্ডিং কেসের চাপে আমাদের আইন ব্যবস্থা ক্যোলাপ্স করার পর্যায়ে। তার বিপরীতে কনফ্লিক্ট সমাধানের এক ধরনের restorative এপ্রোচ কোন কোন দেশে বর্তমান। আমাদের দেশেও এই বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছিল কিন্তু ওই।

    পাই লিখছেন ' ৬০ দিনে নিষ্পত্তি হওয়া ধার্য হবার পরেও না হওয়া নিয়ে একটু জানতে চাই। মোটামুটি কত সংখ্যক কেসে এই দীর্ঘসূত্রিতা হয়, তার কোন শতকরা হিসেব পাওয়া যাবে ? আর যেখানে ৬০ দিনে নিষ্পত্তি হতেই হবে বলা আছে, সেখানে কোন প্রভিশনে এগুলো ছাড় পেয়ে যায় ?'

    ভারতে জুভেনাইল কেসগুলির ক্ষেত্রেও সুপ্রিমকোর্ট থেকে এইরকম কঠিন নির্দেশিকা বর্তমান -পাইয়ের অবগতির জন্য -পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় জুভেনাইল কোর্টের বিচারক পার্ট টাইম, সকালে ব্যাঙ্কসাল কোর্টে ডিউটি সেরে বিকেল ৪ টের সময় আদালতে আসেন ৫ টায় বাড়ি যান। জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড মেম্বার বিগত এক বছর ধরে নেই। সুতরাং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা ৬০ দিনে নিষ্পত্তি করতে হবে কোন প্রভিশনে ভঙ্গ হয় আশা করি পরিষ্কার।

    দিন কয়েক পূর্বে আমাদের প্রধান বিচারপতি প্রধানমন্ত্রী সমক্ষে এক সেমিনারে বস্তুত ভারতের বিপুল পরিমাণ পেন্ডিং কেস, অপ্রতুল বিচারক এবং সেই কাঠামো বিষয়ে অসহায়তার কথা বলে প্রায় কেঁদেছেন। ভারতে বর্তমানে ৩০ মিলিয়ন পেন্ডিং কেস এবং প্রতিবছর ১০ মিলিয়ন কেস যুক্ত হচ্ছে আমাদের বিচার ব্যবস্থায়। এই ব্যবস্থা কোলাপ্স করতে বাধ্য। হয় নিজেরা কনফ্লিক্ট সমাধানের এক ধরনের restorative এপ্রোচ অনুসরণ করুন না হয় আইনের ভরসায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করুন। ইহাকেই আইন হাতে তুলে নেওয়া বলে। যখন রাষ্ট্র ব্যর্থ তখন জনতাকে নিজেদেরই করতে হবে।

    আইন হাতে তুলে নেওয়া সভ্য শিক্ষিত জনতা ভাবতেই পারেনা ছোটবেলা থেকে স্কুলে দুর্বিনীত বাচ্চা কে গার্জেন কল্ করা থেকে রাস্টিকেট করার মধ্যে দিয়ে বাকিদের আইনের প্রতি আনুগত্যর যে পাঠ পড়ানোর শুরু তা রক্তে এইভাবেই প্রোথিত হয়।
  • সে | ১৫ মে ২০১৬ ১০:৪৯54004
  • খুব দরকারি লেখা। আইনত সমানাধিকার নারীদের নেই। ভারতীয় আইনে মেয়েদের পরোক্ষে পুরুষদের সম্পত্তি হিসেবে গন্য করা হয়। লেখককে সাধুবাদ জানাচ্ছি।
    কোর্টে এত বেশি ছুটি থাকাটাও আইনি ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। উকিলদের ক্ষেত্রেও কেবল শুনানির তারিখ মিস্ করা নয়, অন্যপক্ষ থেকে ঘুষ খেয়ে মামলা দুর্বল করে দেবার ঘটনা থাকে। আরো থাকে আউট অফ কোর্ট সেটেলমেন্টের নাম করে ভুলিয়ে বুঝিয়ে বাঝিয়ে কেস তুলে নিতে চাপ দেওয়ায়। বিবাদীপক্ষ টাকার জোরে ঘুষ দিয়ে কোর্টের পেশকার ও অন্যান্য কর্মচারীদের সাহায্যে ক্রমাগত শুনানির তারিখ পিছিয়ে দিতে থাকে। এর ফলে বাদীপক্ষের ধৈর্য বেশিদিন থাকেনা মামলা চালানোর। তখন বাইরে থেকে চাপ দেওয়া হয় অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে।
    ম্যারিটাল রেপ নিয়ে এখানে অনেকবার লিখে উপহাসের পাত্র হয়েছি। আজ প্রতিভা লিখলেন দেখে আবার সাহস করে প্রসঙ্গটা তুলতে চাই।
    এছাড়া, যারা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স করে থাকে তারা সমাজের যেকোনো স্তরে থাকতে পারে। কদিন আগেই খবরে দেখলাম বছর ষোলো আগে এক "শিক্ষিত" সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তার স্ত্রীকে কন্যাসন্তান প্রসব করবার অপরাধে সন্তানসহ ত্যাগ করে। সেই মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভাল ফল করেছে তাই খবরটা সবার সামনে এল। কিন্তু এধরণের ঘটনা তো অসংখ্য। সবতো খবরে আসেই না।
    আপনি আরো লিখুন।
  • Debabrata Chakrabarty | ১৫ মে ২০১৬ ১০:৫৯54005
  • ভায়লেন্স কমানোর সবথেকে উত্তম উপায় ' কিল খেয়ে কিল হজম করা ' যেরকম টি হয়ে এসেছে। বন্দুক দূর কা বাত গুলাবি গ্যাং এর লাঠি বাহিনীর পন্থাও অবলম্বন করা মহা পাপ। ভায়লেন্স প্রতিরোধ করতে গেলে কনফ্লিক্ট হবেই, আর তাতেই ভবিষ্যতের ভায়লেন্স কমবে। কনফ্লিক্ট এড়াতে একশো আইন আর ভেঙ্গে পরা অসহায় আইন ব্যবস্থা'র ওপর ভরসা করার পরামর্শ মানেই যা চলছে চলুক -মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ার অবকাশ থাকবে হয়ত আহারে এত বিনা বিচারে বন্দী, কি হাল আইনের দেখেছো ? আমাদের এই গ্রুপেই একজন আছেন পুলিশ কে চড় মারার কারনে বিগত ন বছর ধরে কোর্টের চক্কর কাটছেন। সবাই মিটিয়ে নিতে চাচ্ছেন কিন্তু ওই ৩০ মিলিয়ন পেন্ডিং কেসের চাপ।
  • সে | ১৫ মে ২০১৬ ১১:২২54006
  • ক দিলাম লাস্ট পোস্টে
  • pi | ১৫ মে ২০১৬ ১১:২৯54007
  • লজিকটা গুলিয়ে যাচ্ছে। চারটের সময়ে এসে পাঁচটায় চলে যাওয়া নিশ্চয় নিয়ম নয়। নিয়মভঙ্গ হলে তার শাস্তি হয়, শাস্তি না হলে সেই নিয়ে দাবি তোলা যায়, সেই নিয়ে আন্দোলনও করা যায়। মিডিয়ায় ফোকাস করা, নানাভাবে এই ইস্যুকে সামনে আনা ইঃ।
    কোর্টের বেশি ছুটির ব্যাপারটা নিয়েও চাপ দেওয়া উচিত।
    তো, সেটা না ক'রে বিচার হচ্ছে না বলে আইন নিজের হাতে তুলতে হবে ?
    গণপিটুনি আলাদা কীসে তাও বুঝলাম না। কারণ গণপিটুনিকে আপনি বলছেন মব ভায়োলেন্স, অন্য অনেকে বলবেন মব জাস্টিস। এবং সত্যিই ঐ মবকে জিগেশ করে দেখুন, বা একে জাস্টিফাই করা লোকজনকে, বহুজনেই উত্তর দেবেন আইনি রাস্তায় কিছু তো হবেনা, অতএব আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া ছাড়া তো উপায়ান্তর নেই। হাতে বন্দুক, লাঠি তুলে নিয়ে ভায়োলেন্সকে মান্যতা দিলে আপনাকে গণপিটুনিকেও স্বীকৃতি দিতেই হবে।

    যাহোক, প্রতিভাদি তো কোর্টের ব্যাপারস্যাপার নিয়ে ওয়াকিবহাল, তাই এই দীর্ঘসূত্রিতার কোন শাস্তি হতে পারে বা হয় কিনা জানাবে নিশ্চয়।

    আর যেগুলোতে বিচার হয়ে গেছে, তার কনভিকশন রেটও।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন