
কুড়ি-কুড়ি ক্রিকেটের মাঠে টু-পিস-পরিহিতা চিয়ারগার্লরা নাচিতেছে দেখিয়া অকস্মাৎ মরালিটির মেজদার ঘুম ভাঙিয়া গেল। চোখ খুলিয়া মেজদা দেখিলেন খেলাধুলা লাটে উঠিয়াছে। খেলার মাঠে উর্বশী-রম্ভারা শরীর খুলে নাচিতেছে, রেশম ত্বকে পিছলে যাচ্ছে আলো আর স্টেডিয়াম-ভর্তি ভুখা জনতা চোখ দিয়ে গপাগপ রেশমি কাবাব গিলছে। দিকে দিকে অনাচার। সোডোমি। হিপি-হিপিনি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, সমকাম। পাঙ্ক কালচার, নুডিস্ট কলোনি, বিকিনি-বালিকা। দেশ জুড়ে নারীমাংসের মোচ্ছব। ভারতীয় সংস্কৃতির সাড়ে সব্বোনাশ। পাপের পাত্র উপচীয়মান, মানবকুলের আর রক্ষা নাই। ... ...

যদিও ঠিক পাঠ্য পুস্তকের স্টাইলে লেখা নয়, তবু এই বইটি অনেকদিন ধরে সংস্কৃত ও দর্শনের ছাত্রদের পাঠ্য পুস্তক হিসাবে বি এ, এম এ ক্লাসে পড়ানো হয়। বেদের দুটি অংশ। প্রথমটিকে বলা হয় মন্ত্র। পরের অংশটি ব্রাহ্মণ। যাতে রয়েছে (শুদ্ধ) ব্রাহ্মণ,আরণ্যক ও উপনিষদ। প্রচুর ওভারল্যাপিং রয়েছে। মন্ত্র অংশটিকে সংহিতাও বলা হয়। মন্ত্র অংশটি অপৌরেষেয়। যদিও অনেক ঋষি নিজেকে মন্ত্রবিৎ বলেছেন কিন্তু কোরাণের আয়াতের মতন এই মন্ত্রগুলি আবির্ভুত বা দৃশ্য হয়, বেদবাদীদের এরকমই বিশ্বাস। ... ...

বাজারের দরাদরি - রুটি ভাত তরকারি নিয়ে জেরবার হয়ে যাচ্ছি। জিনিসের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গোল্ডেন সিলা বলে একটা সেদ্ধ চাল গত পাঁচ বছর ধরে বাড়িতে আনি - সেটা শুরু থেকে গত বছর পর্যন্ত পঁচিশ টাকা কিলো চলছিল, একদম শুরুতে কিছুদিন হয়তো বাইশেও পাওয়া যেত। শেষ তিন মাসে সেটা লাফ দিলো - পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ আর তারপর সোজা চল্লিশ!! ... ...

ভেড়াদের চাকরী দেবার জন্য জব-পোর্টাল এখনও তৈরী হয় নি বটে, তবে কিছু ভেড়া যে নিয়মিত চাকরী করছে, সম্প্রতি সে খবর পাওয়া গেল। ইটালীর তুরিন শহরের বিভিন্ন অংশে ও পার্কে ঘাস ছাঁটার জন্য দুই পাল ভেড়া নিয়োগ করা হয়েছে। লন-মোয়ার চালিয়ে ঘাস ছঁটতে যা খরচ হয়, দেখা গেছে ভেড়ারা খেয়ে সাফ করলে তার চেয়ে অনেকটা কম খরচে ঘাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও ল্যান্ডস্কেপিঙের কাজ করা যাবে। ANSA জানিয়েছে প্রথম নিযুক্ত ভেড়ার পালটি এপ্রিলের ৩ তারিখ থেকেই Melsino Park এ ঘাস খেতে শুরু করে দিয়েছে। পরবর্তী দলটিও ৭ তারিখ থেকে কাজে লেগে গেছে। ... ...

এই উপাখ্যানের নাম হতে পারত "অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকায়ে যায়" অথবা "মডার্ন এন আর আই মে ভারত কিঁউ ছোড়া"। খুলেই বলি। সে অনেকদিন আগে, জানেন, যখন আমি ইশকুল-টিশকুলে পড়তাম সেই সময় ছিল এন আর আইদের স্বর্ণযুগ। তখন তো আর এখনকার মতন পাড়ায় পাড়ায় এন আর আইয়ের চাষ হতনা। পাড়ায় এক পিস এন আর আই থাকলে পাড়ার ঘ্যামই বেড়ে যেত। শীতকালে এন আর আই পরিবার আসতেন, পাড়ার লোক কলার তুলে ঘুরে বেড়াত। অন্যপাড়ায় গিয়ে রেলা নিয়ে আসত। এন আর আই পরিবারের কর্তা জিনস পরে থলি হাতে বাজারে গিয়ে মহার্ঘ্য চিংড়িমাছ কিনতেন। ... ...

ছোট্ট থেকে শুনে এসেছি। মা কানের কাছে মন্তর পড়ত, যখনই ডাক্তারের কাছে গেছি, ডাক্তারও ঐ একই মন্তর পড়ত, বেশি করে জল খাও, প্রচুর পরিমাণে জল খাও, শরীর ভালো থাকবে, স্বাস্থ্য ভালো হবে। কত বেশি? মোটামুটি আট আউন্স জলভর্তি আট গ্লাস প্রত্যেকদিন। তা হলেই একদম সুন্দর স্বাস্থ্য বজায় থাকবে, রোগব্যাধি সহজে কাছে ঘেঁষবে না। ইহা মার্কেটে কমনলি 8x8 rule নামে পরিচিত। কেবল আমাদের দেশের ডাক্তার নয়, সারা পৃথিবীতেই এই রকম একটা ধারণা চালু আছে। কিন্তু কীসের ভিত্তিতে এই ধারণা? এর কোনও বিজ্ঞানসম্মত এভিডেন্স আছে কি? এত জল খেতেই হবে কেন ভালো স্বাস্থ্য বজায় রাখতে হলে? ... ...

সপ্তাহে চারদিন ভোর চারটে বেজে পনেরো মিনিটে টড ম্যাথিউজের দিন শুরু হয়। এগারো ঘন্টা কাজের পর ছুটি। আধ মাইল দূরের পাহাড়ঘেরা বাড়িতে তখন বেলা পড়ে এসেছে। স্ত্রী লোরি, দুই পুত্র ডিলান আর ডেভিনকে খানিকটা সময় দিতে না দিতেই, সময় ফুরিয়ে আসে। পরবর্তী সাত-আট ঘন্টা টড কাটান অন্য এক জগতে, আক্ষরিক অর্থেই যা মৃতদের দেশ। তাঁর কাজের টেবিলে ছড়িয়ে থাকে নানা আকারের অসংখ্য মানবকরোটির ক্ষুদ্র সংস্করণ, কম্পিউটারের স্ক্রিন জুড়ে অজস্র মুখ-- মর্গে তোলা আলোকচিত্র, স্কেচ, ফরেনসিক রিকনস্ট্রাকশান .... হাজার হাজার মুখ আন্তর্জালে ভেসে উঠতে থাকে। সেইসব মৃত মুখ, যাদের পরিচয় তো দূরের কথা, নামই জানা যায় নি। ... ...

২০০৬ এ দুশ জন, ২০০৭ এ একশ কুড়ি জন, ২০০৮ এ এখনো পর্যন্ত আট জন। গড়ে প্রতিবছরে প্রায় শদেড়েক মানুষের প্রাণ যায় রাজধানীর পথেঘাটে ঘুরে বেড়ানো এই মৃত্যুদূতের হাতে। আরো কতজন যে পঙ্গুত্বের শিকার হয়, কত পরিবার চিরদিনের মত রোজগারী সদস্যকে হারিয়ে পথে নামে তার কোনো লেখাজোখা নেই। "ঘাতক", হ্যাঁ, এই নামেই অভিহিত করেছে দিল্লী হাইকোর্ট দিল্লী পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম অংশীদার ব্লু লাইন বাসকে, আর সাধারণ লোকে এর নাম দিয়েছে "ব্লাডলাইন বাস"। ... ...

পুরাতন বিই কলেজ, অধুনা বেসুতে যা ঘটে চলেছে, তা একই সঙ্গে ট্র্যাজিক এবং হাস্যকর। বেসু যখন জ্বলছে, কর্তৃপক্ষ তখন ডুগডুগি বাজাচ্ছেন। ক্যাম্পাসে রক্তারক্তি চলছে, বাইরে থেকে পেশীশক্তির আমদানি হচ্ছে অবাধে, ক্রমশ: জড়িয়ে পড়ছেন শিক্ষকরাও, আর কর্তৃপক্ষ অতন্দ্র শার্লক হোমসের ন্যায় কে বা কারা "বেসুকে নন্দীগ্রাম হতে দেব না' বলে এসএমএস চালাচালি করছে,তার রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যস্ত। দুইদল ছাত্রের মধ্যে মারপিট হচ্ছে, সমাধানের সহজ উপায় কি? কর্তৃপক্ষের মতে সোজা উপায় হল দশটার সময় হস্টেল শুদ্ধু ছেলেকে ঘাড় ধরে কলেজ থেকে বার করে দাও। বাস ভাড়া করে হাওড়া আর শিয়ালদা স্টেশনে ছেড়ে দিয়ে এসো। এবার নিজের ম্যাও তারা নিজেরা সামলাক ... ...

মারুতি গাড়িতে আছে, আপনার বাড়ির সদর দরজায় আছে, ব্যাঙ্কের লকারে আছে, কিন্তু কখনও ভেবেছেন সদ্যোজাত শিশু চুরি রুখতেও অ্যান্টি থেফট ডিভাইসের ব্যবহার করা যায়? নরওয়ের অসলোর এক হসপিটাল কিন্তু ভেবেছে এই রকম, এবং হসপিটাল বোর্ড যদি সম্মতি দেয় তা হলে এই নতুন "কম-খরচের' যন্ত্র বসানো যাবে প্রতিটি নবজাতকের ক্ষেত্রে, রুখে দেওয়া যাবে শিশু চুরির যে কোনও ঘটনা। ... ...

ছোটনাগপুর মালভূমির পশ্চিমপ্রান্তে যেখানে ছত্তিশগড় আর ঝাড়খন্ড রাজ্য একটা সীমারেখায় মিশেছে, ঠিক সেইখানে পাহাড়-জঙ্গলে ঠাসা একটা চমৎকার অঞ্চল হল আমাদের সরগুজা জেলা। রাজধানী অম্বিকাপুর। এই এলাকা কয়লা ও নানান বনজসম্পদে সমৃদ্ধ। আবার সমুদ্রতল থেকে অনেকখানি উঁচুতে বলে প্রচন্ড গরমেও তেমন জ্বালায়-পোড়ায় না। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও সহজ সরল আদিবাসী জীবনযাত্রা অনেক ভাগ্যান্বেষীকেই হাতছানি দেয়। ... ...

কেরালার কোট্টায়ামের এক মেরীভক্ত হোটেলিয়ার দাবি করেছিলেন সুর্যের দিকে তাকালেই মা মেরীর অলৌকিক ছবি দেখতে পাওয়া যাবে। তা, এমন অলৌকিক ব্যাপার স্যাপারে বিশ্বাস করার জনতার কখনও অভাব ঘটে না, বিশেষত ভারতে। অতএব মা মেরীর অলৌকিক দর্শন পাবার আকাঙ্ক্ষায় দলে দলে লোক পূর্ণদৃষ্টিতে সূর্যের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে। ফল, অন্তত পঞ্চাশজন লোক পাকাপাকিভাবে অন্ধ হয়ে গেছেন। কোট্টায়ামের এক জেলা হাসপাতালে ৪৮ জন ভর্তি হয়েছেন জ্বলে যাওয়া রেটিনা নিয়ে। সেই বিশ্বাসী হোটেলিয়ার আরও দাবি করেছিলেন তাঁর কাছে এক মেরীর মূর্তি আছে যা কাঁদলে চোখ দিয়ে মধুগড়ায়, কেটে গেলে রক্তের বদলে তেল আর সুগন্ধী বেরোয়। সেই কোথায় যেন কোন ধর্মের এক দেবতা শুনেছিলাম শুঁড়ের সামনে চামচে করে দুধ ধরলে চেটেপুটে দুধ খেয়ে নেন। সব ধর্মের অন্ধবিশ্বাসেই কী মিল! ... ...

মেরী লুই বার্কের Swami Vivekanada in America : New discoveries ১৯৫৭ সালে বইটি লেখা হয়। পরবর্তীকালের বিবেকানন্দের জীবনীকারদের কাছে এটি একটি মহামুল্য আকরগ্রন্থ। দীর্ঘ শ্রমে সেই সময়কালের পত্রিকা ও সংবাদপত্র খুঁজে পড়েছেন। যেসব বাড়ীতে বিবেকানন্দ বাস করেছিলেন সেই বাড়ীগুলি খুঁজে বার করেছেন। পড়েছেন ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখা ডায়ারী ও চিঠিপত্র। ... ...

মান ও হুঁশ দুইই যাহার আছে তাহাকেই মানুষ বলে -- এরূপই প্রচলিত ধারণা। কিন্তু যাহার হুঁশ নাই, তাহার কি মান থাকিতে পারে? অথবা যাহার মান নাই তাহার হুঁশ? না: এইবিষয়ে তেমন নির্দিষ্ট কিছুই প্রচলিত নাই। তবে প্রায়শ:ই দেখা যায় হুঁশ না থাকিলে মানও থাকে না। "হুঁশ না থাকিলে' -- বাক্যবন্ধটির বহুবিধ অর্থ হইতে পারে; কিন্তু আমরা ইহার একটি সংকীর্ণ অর্থই এক্ষণে লইব। হুঁশ নাই অর্থাৎ বেহুঁশ, যাহাকে "পাগল' বলিয়াও উল্লেখ করা যাইতে পারে। "বেহুঁশ'গণ সর্ব্বদাই "পাগল' হন না, কিন্তু আগেই বলিয়াছি, অধিক কথনে কাজ নাই, আমরা একটি সঙ্কীর্ণ অর্থই গ্রহণ করিব। ... ...

--বাবা, বাবা, আমি বিট্টুর সাথে পুকুরে যাচ্ছি, সাঁতার শিখতে। -- আচ্ছা যাচ্ছো যাও, কিন্তু মনে রেখো, যদি ডুবে যাও, তা হলে আমি আর এ বাড়িতে ঢুকতে দেব না। ছোটবেলায় আনন্দমেলায় জোক্টা পড়ে বেশ নির্মল আনন্দ পেয়েছিলাম। কিন্তু সত্যি সত্যি যদি কেউ কাউকে এমনতরো হুমকি দেয়, "যদি মরে যাও, তবে কঠিন শাস্তি দেব'? ঠিক এমনটাই ঘটেছে দক্ষিণ ফ্রান্সের এক গাঁয়ে। সে গাঁয়ের নামটা বাঙালি জিভে কেমন উচ্চারণ হবে জানি না, Sarpourenx নাম তার। গ্রামের মেয়র কাউন্সিল অফিসে সম্প্রতি এক অর্ডিন্যান্স জারি করেছেন যে গ্রামের কবরখানায় ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই, তিলমাত্র ঠাঁই নাই। শবদেহে শবদেহে ওভারক্রাউডেড। অতএব যাঁদের গ্রামের কবরখানায় প্লট অ্যালট করা নেই, তাঁদের মরা বারণ। নিচে লেখা: Offenders will be severely punished . ... ...

যে শহরে আমি এখন থাকি তার দুটো নাম আছে। বা বলা ভাল কিছুদিন আগে পর্যন্ত ছিল। পুরানো নামটি শহরের সাবেকি কন্নড়ভাষী জনপদে সেই ষোড়শ শতাব্দী থেকে প্রচলিত ছিল। অন্য নামটিও নয় নয় করে কমদিনের নয়। ব্রিটিশেরা এখানে ক্যান্টনমেন্ট পত্তন করেছিল মোটামুটি দুশ বছর আগে। তাদের পরিশীলিত উচ্চারণবিকৃতির সৌজন্যে নতুন নামটি আস্তে আস্তে প্রচলিত হতে শুরু করে। তাও ওই ক্যান্টনমেন্ট সন্নিহিত অঞ্চল বোঝানোর জন্য। ... ...

'ভোর হবার মুখে আবছা অন্ধকারে ট্যাক্সি এসে হর্ন দেয়। ঘুম অনেক আগেই ভেঙেছিল গায়ত্রীর। সারা রাত বরং ভালো ঘুমই হয়নি তার, এমন এক ঘড়ি ধরে যাত্রার কথা থাকলে চাপা উদ্বেগে যেমন অনেকেরই বার বার ঘুম ভেঙে যায় তেমনই। অন্ধকার থাকতেই স্নান সেরে নিয়েছে সে। সুটকেস আর ব্যাগ তো দু-দিন আগেই গোছানো হয়ে গিয়েছে-গায়ত্রী আর সুধীনের দুটো আলাদা সুটকেস, একটা কিটস ব্যাগ, যার যার নিজস্ব হাতব্যাগ ও কাঁধের ঝোলা। ভোরের বনগাঁ লোকাল ধরবে শিয়ালদা থেকে, সকাল ৫-৩৫ এর গাড়ি।' ... ...

ভারতে কিছু কিছু কমিউনিটির বিয়েতে অত্যধিক খরচাপাতি করার ট্র্যাডিশন আছে আমরা জানি। লাখ লাখ রুপিয়া উড়ে যায় এক রাতের বিয়েতে, তবে এ সব ঘোড়ারোগ কেবল ভারতীয়দেরই নয়। তৃতীয় ও অনুন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই এমন বিয়েতে খরচা করার রীতি আছে। যেমন মেক্সিকো। ওয়েডিং গাউন থেকে শুরু করে, খবরের কাগজের পাতায় প্রত্যেক অতিথি অভ্যাগতদের দ্বারা প্রকাশিত উইশের বন্যা, নিমন্ত্রিতদের আপ্যায়ন, চার্চের খরচ ইত্যাদি মিলিয়ে একটা বিশাল অঙ্কের টাকা সাধারণত কনের বাড়িকেই খরচ করতে হয়। এর পরেও, বর্তমানে প্রতি দশজোড়া বিবাহিত দম্পতির মধ্যে তিনজোড়া দম্পতির মধ্যে ঘটে যাচ্ছে বিবাহবিচ্ছেদ, ১৯৭০ সালেও যেখানে অনুপাতটা ছিল দশজোড়ায় একজোড়া। যেহেতু জীবন থেমে থাকে না, তাই বিচ্ছিন্ন দম্পতিরা আবার প্রত্যেকেই নিজেদের নিজেদের পছন্দসই সঙ্গী / সঙ্গিনী বেছে নেন, এবং চক্রবৎ এই চক্করে আর্থিকভাবে বিশালভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন মেয়েদের বাড়ির লোকই, কারণ বিয়ের সিংহভাগ খরচই তাঁদের পকেট থেকে মেটাতে হয়। ... ...

তিরুবনন্তপুরমের চৌকাঠে সিনেমা পা রাখে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বর মাসে এখানে শীতলহরের প্রচ্ছায়াতেও আসে না শহর। মৌসুমী বৃষ্টির পরে সুতীব্র নীল আকাশ আর উষ্ণ সূর্যতাপে দিনগুলি ক্ষয়ে যায়। আবারও, এই ডিসেম্বরের মাঝামাঝি-ই, সিনেমার উৎসব আসে শহরে। এবারের বারোতম ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অফ কেরালা'র নির্ধারিত দিনগুলি ছিলো সাত থেকে চোদ্দই ডিসেম্বর। ... ...

রঘুনাথ ভালো ছবি আঁকতো। ধূসর পাহাড়, আঁকাবাঁকা নদী, সবুজ মাঠ আর নীল আকাশ বানিয়ে সেখানে একদলা লালপানা সূর্য বসিয়ে দিতো। চায়ের দোকানের ফাইফরমাস খেটে, সময় পেলে ওকে একটু আধটু পড়াতো সোনাদা, দোকানের মালিক। পড়াশোনা কতদূর হয়েছিলো জানা যায় নি। পড়াশোনা করেও তো কতজন গরীব থেকে যায়! তাই রঘু দুবাই চলে গেছে। সেখানে অনেক, অ-নে-ক টাকা। দু-তিন বছর কেটে গেলেই সেখানে সবাই গাড়ি কিনে নেয়, তারপর দামী লেদার জ্যাকেট পরে শাহরুখের মত কায়দা করে হাঁটে। কেন বোকার মত এই ভাগাড়ে পড়ে থাকবে? ... ...