
জাহাঙ্গির বাদশা স্বয়ং লিখে গেছেন বটে বাজরা খিচড়িকে তাঁর দস্তরখওয়ানে বা-ইজ্জত ইস্তেমাল করার কিস্সা-কারণ, কিন্তু মুঘল শাহি পাকোয়ানে খিচুড়ির দাপুটে উপস্থিতি মহামতি আকবরের জমানা থেকেই। কেমন ছিল সেই আকবরি খিচড়ির স্বাদ? খিচুড়ি মহারহস্য সিরিজের এ কিস্তিটি তাই নিয়েই চর্চা, যার কেন্দ্রে আছে মুঘলাই জমানার চালের হালচাল। নীলাঞ্জন হাজরা। ... ...

এক নারীকে পুরোপুরি উলঙ্গ করে তার ওপর নির্যাতন করছে প্রভাবশালী মাস্তানরা। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বড়খাল এর পাশে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার,বাদল ও কালামের নৃশংস নির্যাতনের শিকার এই নারী,বহু বার পায়ে ধরে বাবা ডাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি এই নারীর।তারা খুব নারকীয়ভাবে এই নারীর যৌনাঙ্গ ও সমস্ত শরীরে নির্যাতন করে। যেখানে এই নারীর যৌনাঙ্গে টর্চ লাইট ও হাত ঢুকিয়ে দিয়ে খুব খারাপভাবে নির্যাতন করা হয়েছে,যা ৭১এর বর্বরতাকেও হার মানায়। সম্পূর্ণ ভিডিওটি প্রশাসনের কাছে প্রেরণ করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন পোস্টদাতা। এই একটি ঘটনার বহুমাত্রিকতা আসুন একটু তলিয়ে দেখি, এই সদম্ভ উল্লাসকারী ধর্ষকগুলির বয়স কত? আঠারো থেকে ত্রিশ। পরপর দুটি প্রজন্ম। তারা কেন করেছে এই ঘৃণ্য অপরাধ? আমাদের বিশ্বাসযোগ্য বিশ্বাসকে ভেঙেচুরে, ভাবতে পারেন এই জেনারেশন কাজটি করেছে তাদের ‘পবিত্র দায়িত্ব’ ভেবে! ভাবতে পারেন, নারীটির প্রাক্তন স্বামী তার ঘরে এসেছিল বলে তাকে শায়েস্তা করার ‘পবিত্র দায়িত্ব’ তারা স্বেচ্ছায় তুলে নিয়েছে কাঁধে। ভাবুন, পড়শির বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া স্বেচ্ছাসেবী প্রজন্মের বৌদ্ধিক পতন। ... ...

এমনই এক নির্মম বাস্তবতায় সবশেষ, ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরের বলপাইয়া আদাম এলাকায় পাহাড়ি গ্রামের ভেতরে ঢুকে নয়জন সেটেলার বাঙালি হামলা ও লুঠপাঠ চালায়। এ সময় তারা বাড়ির প্রতিবন্ধী চাকমা মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে। লক্ষ্যণীয়, সেপ্টেম্বরেই খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও মহালছড়িতে দুজন পাহাড়ি স্কুলছাত্রী এবং বান্দরবানে এক ত্রিপুরা নারী ধর্ষিত হয়েছেন, আদিবাসী বলে এ পর্যন্ত কোনো ঘটনারই সুরাহা হয়নি। ওই ঘটনার পর ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের একজন প্রতিনিধি নির্যাতিতা প্রতিবন্ধী মেয়েটির বাড়িতে যান। তিনি দেখেন, মেয়েটির মা বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। আর আহাজারি করে বলছেন, “আমরা কি এদেশের নাগরিক নই? তাহলে কেন আমাদের ওপর এমন অত্যাচার?” সাংবাদিক খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কয়েক বছর আগে বাবা ও ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পাহাড়ের আরো আট-দশটা নির্যাতনের ডামাডোলে প্রতিবন্ধী নারী গণধর্ষনের ঘটনাটিও হয়তো হারিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু এক্ষেত্রে সোচ্চার হয় দেশ। করোনাক্রান্তির ভেতরেই পাহাড়ে তো বটেই, খোদ ঢাকার শাহবাগে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একের পর এক প্রতিবাদী মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। ... ...

অনেকে বলবেন, কেন লোকপ্রসার প্রকল্পের সহায়তা আছে, সরকারি রেশন আছে, বাবুদের দেওয়া রিলিফ আছে, সমস্যা কোথায়? সমস্যাটা হল, পেশাগত কাজ বাবদ আয় কখনোই কোন অনুদানের বিকল্প নয়। তার থেকেও বড় কথা হল, এই মানুষগুলি বাঁচেন তাদের শিল্প পরম্পরাকে ঘিরে। সেটাই তাদের আনন্দ, গর্ব এবং জীবন। নিজেদের ভালোবাসার জিনিসটাকে ধরেই তারা জীবিকার রাস্তা গড়তে চান। তা না করতে পারলে হীনমন্যতা আর মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। আমাদের উন্নয়ন, পরিকল্পনা সবকিছুতেই সংখ্যা একটা বিষয়। কিন্তু যারা দেশ তো বটেই বিদেশের দরবারেও দেশের সাংস্কৃতিক পরম্পরাগুলিকে তুলে ধরছেন; যাদের কাজের সুবাদে ছৌ নাচ ইউনেস্কোর ঐতিহ্যবাহী পরম্পরার আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পেয়েছে; পটচিত্রের নাম জানেন সারা পৃথিবীর শিল্প রসিকরা; তারা কী আর একটু গুরুত্ব আশা করতে পারেন না? ... ...

অনেকে আছেন যাঁরা হয়তো হ্যান্ডলুম ভালোবাসে, কিন্তু প্রথাগত টেক্সটাইলের শিক্ষা নেই। ফলে তারা নিজের অজান্তেই নকল কাপড় বিক্রি করে ফেলে। ২০১৫ সালের একটা ঘটনা বলি, দিল্লির একটি হস্তশিল্প এনজিও-র সাথে প্রদর্শনী করছিলাম। আমার পাশেই এক ব্র্যান্ড তাদের ‘পিচওয়াই’ আঁকা কাপড় ও হস্তশিল্প বিক্রি করছিল। সুন্দর দেখতে বলে বিক্রিও ভালো হচ্ছিল। দুদিন পরে দেখা গেল তারা যা বিক্রি করছে অধিকাংশই ডিজিটাল প্রিন্ট করা। তারা নাথদ্বার থেকে পিচওয়াই শিল্পীদের দিয়ে কিছু ছবি আঁকিয়ে নিয়ে সেগুলোর ডিজিটাল অনুকরণ করে কাপড়ে প্রিন্ট করেছে। জানতে পারার পর এনজিও-র কর্মীরা তাদের স্টলের সামনে ‘ডিজিটাল প্রিন্ট প্রোডাক্ট’ লিখে দিলেও তাতে ক্রেতাদের কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিল না। ডিজিটাল প্রিন্ট করে তারা কীভাবে পিচওয়াই-এর মতো লুপ্তপ্রায় শিল্পের ক্ষতি করছে, তা তাদের শেষপর্যন্ত বলে বোঝানো যায়নি। ... ...

ভারতের কৃষি সমস্যা বুঝতে গেলে আমাদের প্রথম বুঝতে হবে ভারতের কৃষকের সমস্যা। ওপরের টেবল থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের প্রায় ৮৭% কৃষক আংশিক শ্রমিক। আর তাঁদের প্রায় ৩৫% মূলত মজুরির ওপরেই নির্ভর করেন ক্ষুণ্ণিবৃত্তির জন্য। উচ্চতর কৃষকেরও কৃষি বহির্ভূত শ্রম আয় থাকে, কিন্তু তা কায়িকশ্রমের আয় না, মেধাশক্তির আয়। নিম্নতম ৮৭% কৃষকের জমির পরিমাণ দুই হেক্টরেরও কম। পরিবার পিছু গড় জমির পরিমাণ ১.২ হেক্টর, আর মিডিয়ান আরও কম। অধ্যাপক রঙ্গনাথনের রিপোর্টে আমরা আরও দেখতে পাই যে সমাজের কোন বর্ণের হাতে কত জমি আছে আর তাদের পারিবারিক আয় কত। এই দুই তালিকা থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, দরিদ্র কৃষকরা সমাজের কোন স্তরে পড়ে। ... ...

আজকের গণতন্ত্র হল, বেশিরভাগ মানুষকে বেশিরভাগ সময়ের জন্য বোকা বানিয়ে রাখা আর সংখ্যাগরিষ্ঠতার মানদণ্ডে সংসদে অধিষ্ঠিত হওয়া। অনেকে বলতে পারেন, তাহলে সরকার পরিবর্তন হচ্ছে কী করে ? হচ্ছে, কেননা যে পক্ষ যখন সফলভাবে মানুষকে বোকা বানাতে পারছে তখন তার দিকে পালাবদলও হচ্ছে। এখানে বোকা বানানোটা আসল, কে বানালো, কীভাবে বানালো সেটা বড় কথা নয়। মাঝে মাঝে তো সম্পূর্ণ বিপরীত মতাদর্শের দলগুলির মধ্যেও রফা হয়ে যায়, তারা একা না পেরে উঠলে একত্রে বোকা বানানোর পরিকল্পনা করে। এটা কিছুটা ধূমপান-মদ্যপান কিংবা টেলিভিশনের মত ব্যাপার। সকলেই জানে স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর কিন্তু তবুও সেটাই এদেশের জিডিপি নির্ধারক। সকলেই জানে টিভি বোকাবাক্স, তবুও সে সন্ধ্যেবেলার বৈঠকী আকচা-আকচির মধ্যে নিজের সুবিধাবাদের পক্ষ নির্বাচনে আত্মসমর্পণ করবে। বড় মুখ করে বলবে, গণতন্ত্র উদযাপনের এর চেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ আর কী আছে যেখানে বিরোধীরা এসে খোলাখুলি তুলোধুনা করতে পারছে সরকারকে। সে বুঝবেই না, যারা পারছে তাদের মধ্যে সে নিজে পড়ে না। ভাববে না, কেন পড়ে না ? সে শুধু জানে, তার অংশগ্রহণে বিপদ আছে। আর এই নাকচ করতে না পারাটাই আজকের গণতন্ত্রের বৃহত্তম বিপদ। ... ...

শিশিরকুমার দাশ। বহুধা প্রবাহিত তাঁর সাহিত্য-প্রতিভা— ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসচর্চার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম, এ দেশে তুলনামূলক সাহিত্যচর্চার দিশারিদের একজন, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, শিশুসাহিত্যস্রষ্টা, সম্পাদক এবং তরজমাকার। তিনটি গ্রিক নাটকের তাঁর করা তরজমা অনুবাদকলার উজ্জ্বল নিদর্শন। ফিরে পড়লেন লেখক ও শিক্ষাবিদ অমিয় দেব। ... ...

১৯৬৭। ক্যালিফোর্নিয়া। হেনরি মিলার সকাশে দীপক মজুমদার। বাঙালি কবিকে নিজের একটি বই উপহার দিলেন মার্কিন সাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী। বইটি তরজমার চেষ্টা করেছিলেন দীপক মজুমদার। তিন বার। শেষ হয়নি। তিনবারই থেমে গেলেন একটি বাক্যে এসে। কেন? সেই অসমাপ্ত তরজমা-প্রচেষ্টার স্মৃতিচারণে হিরণ মিত্র। ... ...

তরজমার চ্যালেঞ্জ বিচিত্র। বিখ্যাত পোর্তুগিজ সাহিত্যিক রুই জিঙ্ক। তাঁর একটি উপন্যাসের নাম ‘Osso’। শব্দটি প্যালিন্ড্রোম। তরজমার অনুমতি দেওয়ার সময় লেখকের কড়া শর্ত—বাংলা নামটিও যেন প্যালিন্ড্রোম হয়! আবার অন্য এক কেতাবের তরজমাকালে তাঁর শর্ত পোর্তুগিজ ভাষায় সর্বনামের লিঙ্গবিভাজন রীতি যেন বাংলাতেও বজায় থাকে! এমনই নানা সমস্যার কথা আলোচনা করলেন তন্নিষ্ঠ ভাবে জিঙ্কের সাহিত্য বাংলায় তরজমারত পোর্তুগিজ ভাষার শিক্ষক ঋতা রায়। ... ...

ইংরেজিতে জনপ্রিয় বিজ্ঞান বিষয়ক বই অনেক। কিন্তু বাংলায় সেসব বইয়ের তরজমা বিরল। তেমনই একটি বই স্টিফেন হকিং-এর ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফটাইম’। সেই বিখ্যাত বইয়ের বাংলা তরজমা পাঠ ও সেপ্রসঙ্গে বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের বাংলা তরজমার চ্যালেঞ্জগুলি কী আলোচনা করলেন পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়। ... ...

কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল। প্রয়াত হলেন সম্প্রতি। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলা কবিতাকে বাংলা কবিতার দিকে ফিরিয়ে আনার কাজের তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ। দৈবশক্তি ও গুহ্যবিদ্যার প্রতি কবির দুর্মর টানের সঙ্গে তাঁর সকল পাঠক পরিচিত। তেমনই আবার সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে উদ্দীপ্ত তাঁর লেখনী নিরন্তর লিখে গিয়েছে ‘রাজনৈতিক’ কবিতা, জীবনের অন্তিম লগ্ন পর্যন্ত। আগামী দিনে পাঠকের উন্মোচনের জন্য বহুস্তরে তাঁর চিন্তাসূত্র সযত্নে রেখে গেছেন নিজের রচনার ভাঁজে-ভাঁজে। লিখছেন কবি গৌতম বসু। ... ...

হাথরস ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গোটা দেশ আজ অন্ধকারে ডুবে গেছে বলে হাতে টর্চ নিয়ে গোটা দেশে আলো জ্বালানোর বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, 'আমরা নাকি পুজো করতে দিই না, যোগীজি কেন দুর্গাপুজো করতে দিচ্ছেন না? মমতা দি মন্দির, মসজিদ, গীর্জা নিয়ে রাজনীতি করে না। সবাইকে নিয়ে চলি আমরা। ওয়ান নেশন, ওয়ান পলিটিক্যাল পার্টির দিকে এগোচ্ছে। রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে দেশে। ... ...

কালিবাড়ির মোড় পেড়িয়ে বাড়ির রাস্তা ধরতেই আমার আবদার, দাদু রঙিন কাঠি লজেন্স নেবো। মোল্লা দাদুর দোকান থেকে আনারস আঁকা কাগজে মোড়ানো কাঠি লজেন্স হাতে নিয়ে দাদুকে পেছনে ফেলে আমি প্রায় দৌড়ে আমাদের তাঁতঘরের সামনে চলে আসি। ততক্ষণে প্রায় ফাঁকা আইনুল চাচার মোষের গাড়ি। দাদুকে রাস্তার কোণায় দেখা যেতেই আমি কাঠি লজেন্স মুখে পুড়ি, দাদু বস্তা আরোও আছে কিন্তু। আমি দাদুর হাত ধরে বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই বাড়ির উঠোনে মাষকলাই আর সরিষা গায়ে গা লাগিয়ে পড়ে আছে। আর বাটি ভরা মুড়ি, মুড়কি, গুড় নিয়ে আইনুল চাচা লাল বারান্দায় বসে আছে। ঠাকুমা গ্লাস ভরে চা এনে দিতেই আইনুল চাচার লাল দাঁতগুলো ঝিলিক দেয়, মা একটা পান দিয়েন। ... ...

মনে রেখো, এ এমন এক দেশ যেখানে বেশি মেধা দেখাতে যাওয়ার চেয়ে বিপজ্জনক আর কিছুই হতে পারে না। কেউ তোমাকে বুঝবে না। কেউ তোমার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে না। সবাই মিলে তোমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। তোমাকে পিষে দলে ছিবড়া করে দিতে চাইবে। তোমার এমন হাল করবে যে, তোমার নিজের প্রতিই আর কোনো আস্থা থাকবে না। পাগল বা ভিখিরি হয়ে তোমাকে গোটা জীবন কাটাতে হবে। এখানে কম মেধা নিয়ে জন্মানো আশীর্বাদের মতোই... অচ্যুৎ লম্বা হয়ে শুয়ে বাবার পায়ে কপাল ঠেকিয়ে প্রণাম করল। ... ...

সকালের আলোয় নন্দাদেবী, ত্রিশূল অন্নপূর্ণা লালে লাল হয়ে বলে ওঠে, আজ যে হোলি। আমি অমনি শুনতে পাই পাহাড়ে ঢোলের আওয়াজ। দূর থেকে ভেসে আসছে। আজ তেওহার। এখানে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সবাই রং মাখায়। সবাই একজায়গায় জড়ো হয়ে একে অন্যকে রং লাগিয়ে দিচ্ছে। কেউ তোমাকে জোর করে রং দেবে না। হাতে হাতে মিঠাই, আঙুর। মিঠাই-এর কথায় মনে হল, আজ হোলি। ঘরে কিছু মিছু আনিয়ে রাখা দরকার। অবিশ্যি কেই বা আসবে আমার বাড়ি। কিন্তু আয়োজনটি যে সম্পূর্ণ হওয়া চাই। যদি আমায় পড়ে তাহার মনে …। ভালো মিষ্টি কিনতে হলে আলমোড়া যেতে হবে। এই জায়গাটা তো একেবারেই গ্রাম। আলমোড়া বাজারে খিম সিং মোহন সিং রোউতালার দোকান থেকে বালমেঠাই, চকোলেট আর সিঙ্গোরি কিনে আনতে হবে। সিঙ্গোরি ভারী মজার। ... ...

হাওড়ায় এক নতুন জগতের মধ্যে এসে পড়লো যদুগোপাল। এতদিন পর্যন্ত সারিখোল গ্রাম আর নবদ্বীপের বাইরের জগৎ সম্বন্ধে কোন ধারণাই ছিলো না তার, এই তার প্রথম নাগরিক জীবন। শশধর বেদান্তবাগীশের বাড়িটি পাকা, চওড়া রাস্তার উপর ত্রিতল ইমারত। বাড়ির নীচের তলার সামনের অংশে, একেবারে রাস্তার উপর তাঁর দু কামরার চতুষ্পাঠী বা টোল। সাইনবোর্ডে লেখা শশধর শাস্ত্রীয় সংস্কৃত শিক্ষালয়। ঘর দুটোয় দুটো করে দরজা, কোনাকুনি। একটার সামনে দাঁড়ালে অন্যটা পেরিয়ে চোখ যায় না। একটা রাস্তার সঙ্গে সংযোগ করে, অন্যটা অন্দরের সঙ্গে। সেই দরজা পেরিয়ে অন্দরে ঢুকলে দেখা যাবে আরও তিনটে ঘর, সামনে টানা বারান্দা। বারান্দার সামনে উঠোন, পেরিয়ে রান্নাঘর। এই ঘর তিনটের একটা ব্যবহার করা হয় টোলের আবাসিক ছাত্রদের বাসস্থান হিসেবে, টানা চৌকিতে যেখানে শুতে পারে পাঁচ-ছ জন ছাত্র। বাকি ঘর দুটোর মধ্যে একটার ব্যবহার ভাঁড়ার ঘর হিসেবে, যে ভাঁড়ার উল্টো দিকের রান্নাঘরে ব্যবহৃত হয়। ... ...

২০১৭ সালের ঐ রায় কিন্তু মাইনিং কোম্পানিগুলিকে সতর্ক করে দিয়েছিল। ওই বিপুল ক্ষতিপূরণ উঠে এসেছিল কেবল উড়িষ্যার তিনটে জেলা থেকে, তাও শুধুমাত্র লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ আকরিক বেআইনি ভাবে নিষ্কাশনের জন্য। অন্য রাজ্যে অন্য আকরিকের জন্য এই হারে ক্ষতিপূরণ ধার্য হলে সরকারি কোষাগারে কত টাকা জমা পড়ত? এই রায় দেখিয়ে যারা ক্রমাগত বে আইনি খননে ব্যস্ত, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা যেত না? কিন্তু গেরুয়া ভারতে তা না করে অবাধ লুন্ঠনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। আর তা করা হচ্ছে ভীষণ তাড়াহুড়ো করে। যেন এই অতিমারির পর্দা সরে যাবার আগেই ঘোলা জলে মাছ ধরে ফেলতেই হবে। ... ...

আমি কিন্তু বড়ো পত্রিকায় লেখার পক্ষে বিপক্ষে সওয়াল করছিনা। যে সব গুরুত্বপূর্ণ বই প্রতিষ্ঠানের আলো পাইনি, সেই বই যদি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হতো তবে তা খারাপ হয়ে যেত না। অন্য দিকে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত (যদিও খুব কম, বাংলা ভাষায় তো বটেই) বইমাত্রই পড়া যায় না এমনটিও নয়। প্রতিষ্ঠানে সমস্ত লেখকদের লেখার গণতন্ত্র ফিরে আসুক এমন অদ্ভত দাবিও আমি করছিনা। আমি বলছি একটা প্রতিরোধ ব্যবস্থার কথা যা একটি ছোট পত্রিকার লেখকরাই ঠিক করবেন। খারাপ লাগে, যখন রানাঘাটের একটি পত্রিকা, বীরভূমের একটি পত্রিকা কলকাতার চেনা লেখকগোষ্ঠী নিয়েই আত্মপ্রকাশ করে। ... ...

"আমি উচ্চারণ করছি না হর্ষ আমি উচ্চারণ করছি না বিষাদ শুধু ধীর ও অনিবার্য হাতে তোমার বিসদৃশ মাথা ছিঁড়ে ফেলছি" ... ...