এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • শাসক  ও  কবিতা

    Malay Roychoudhury লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৩৯৫ বার পঠিত
  • 103 | 104 | 105 | 106 | 107 | 110 | 113 | 114 | 119 | 120 | 121 | 123 | 124 | 124 | 125 | 125 | 126 | 127 | 127 | 128 | 129 | 131 | 133 | 134 | 135 | 136 | 138 | 139 | 140 | 141 | 143 | 144 | 145 | 147 | 148 | 149 | 149 | 150 | 151 | 152 | 153 | 154 | 155 | 156 | 157 | 158 | 159 | 160 | 161 | 162 | 163 | 164 | 165 | 167 | 168 | 169 | 170 | 171 | 172 | 173 | 174 | 175 | 176 | 176 | 177 | 178 | 179 | 180 | 181 | 182 | 183 | 184 | 185 | 186 | 187 | 188 | 189 | 190 | 191 | 192 | 192 | 193 | 194 | 195 | 196 | 198 | 199 | 200
    শাসক ও কবিতা

    মারিও ভার্গাস য়োসা ঠিকই বলেছেন যে, ‘‘একনায়করা সাহিত্যকে ভয় পায়।’’ সাদ্দাম হোসেনের রূপক ‘জাবিবাহ এবং রাজা’ থেকে শুরু করে তুর্কমেনিস্তানের একনায়ক সাপারমুরাত নিয়াজভের ‘রুহনামা’ পর্যন্ত, স্বৈরাচারী ব্যক্তিত্বের সাহিত্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল। তাই সর্বগ্রাসী শাসনের ক্ষুদে কর্মীরা, যাদের মধ্যে কেউ কেউ পাণ্ডুলিপিগুলোকে কাঠবিড়ালির মতন গর্তে লুকিয়ে রাখে। লেখকদের প্রতি অত্যাচারীদের ঘৃণার একটা অনুমান হল যে ব্যাপারটা কেবল ব্যবহারিক উদ্বেগ হিসাবে নয়, বরং প্রচণ্ড ঈর্ষার ক্রোধ থেকে আংশিকভাবে আসে। বিরক্তি, নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষুদ্রতা এবং হিংসা অনেক একনায়কের লেখার মূলে রয়েছে, তবে সমস্ত ক্ষেত্রেই শৈল্পিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সম্ভবত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যা স্বীকার করতে হবে তা হল শব্দের তীব্র এবং বিপজ্জনক শক্তি। জীবনে ভালো বা মন্দ সবকিছুই ভাষার মাধ্যমে শুরু হয় । প্রতিটি গণ-অত্যাচারের সূচনা করা হয়েছে বাক-বিতণ্ডার মাধ্যমে। স্পষ্টতই সাহিত্য বিপজ্জনক হতে পারে, স্পষ্টতই ভাষা মস্তিষ্ককে পুনর্নির্মাণ করতে পারে, স্পষ্টতই শব্দ ‘‘শুধুই শব্দ’’ নয়। ব্যাপারটা কবি-লেখকদের প্রতি অত্যাচারী শাসকদের শত্রুতার মূলে রয়েছে। তারা সকলেই জাদুকর, যারা নতুন বিশ্বের নির্মাণে শব্দ এবং বর্ণনা ব্যবহার করে। যেখানে অত্যাচারী একনায়ক এই দক্ষতাগুলো ক্ষতিকারক শক্তির সেবায় ব্যবহার করে, কবি-লেখক সেই একই সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে প্রতিরোধ করেন। আমরা গণতন্ত্র, অত্যাচারী, স্বৈরশাসক এবং স্বৈরাচারী নেতাদের কেবল তাদের কাজ নয়, তাদের কথার মাধ্যমেও হাড়ে-হাড়ে জানতে পারি।

    এডমাণ্ড স্পেনসার দাবি করেছিলেন যে মানুষের বেঁচে থাকা উচিত ‘‘প্রেমের জন্য, অন্য কোনো পুরস্কারের জন্য নয়”। স্পেনসার একজন সৈনিক ছিলেন যিনি আর্থার গ্রে, ১৪ তম ব্যারন গ্রে ডি উইল্টন, আয়ারল্যান্ডের এলিজাবেথের লর্ড ডেপুটির অধীনে কাজ করতেন। যখন ছন্দ আর কবিতা নিয়ে ভাবতেন না, তখন তিনি ১৫৮০ সালে, স্মারউইক অবরোধে, আত্মসমর্পণকারী সৈন্যদের গণহত্যা করিয়েছিলেন। ছয়শো সেনাকে তাঁর সামনে কচুকাটা করা হয়েছিল। স্পেনসারকে কিলকলম্যানে জমি "উপহার দেওয়া" হয়েছিল, যে নীতি পরবর্তী শতাব্দীতে উত্তর আমেরিকাকে ধ্বংস করেছিল। ১৫৯৬ সালে কবি এডমাণ্ড স্পেনসার ‘আয়ারল্যান্ডের বর্তমান রাজ্যের একটি দৃশ্য’ শিরোনামে একটা পুস্তিকা লেখেন। স্পেন্সার লিখেছিলেন ‘‘আয়ারল্যান্ড হলো ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের একটি রোগাক্রান্ত অংশ, এটিকে প্রথমে নিরাময় এবং সংস্কার করা উচিত,’’ আর তার জন্য আইরিশ সংস্কৃতি এবং গ্যালিক ভাষা নির্মূল করা দরকার, স্থানীয়দের প্রোটেস্ট্যান্টবাদে ধর্মান্তন্তরিত হতে বাধ্য করা উচিত। কবি স্পেনসারের ভুত আজও আয়ারল্যাণ্ডের রক্তক্ষয় করে চলেছে।

    স্বৈরশাসকরা তাদের শৈল্পিক হতাশাকে রাজনীতিতে প্রয়োগ করে। হিটলার, 'কথ্য শব্দের জাদু শক্তি'-র বিরুদ্ধে ‘নন্দনতাত্ত্বিক সাহিত্যিকদের তরল স্ফীতি’-র জন্য অগ্রাধিকার ঘোষণা করা সত্ত্বেও, একবার নিজেকে ভিয়েনিজ বোহেমিয়ান কল্পনা করেছিলেন। গোয়েবলস, যিনি প্রচারের শিল্পরূপটি নিখুঁত করেছিলেন, অভিব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যসহ একটি উপন্যাস লিখেছিলেন, আর প্যারিসে-শিক্ষিত পোল পট ছিলেন ভেরলেনের প্রতীকবাদী কবিতার ভক্ত। সবাইকে দেখাবার জন্য যে তিনি একজন বড় মাপের কবি মুসোলিনি নিজের টেবিলের ওপর দাঁতে-ভার্জিল-হোমার প্রমুখের বই খোলা অবস্হায় রাখতেন, যখনই কোনো বিশিষ্ট বিদেশি নেতা বা কবি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। তাঁর নিজের কবিতায় সমাজতান্ত্রিক যৌবনের আদর্শবাদ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, আর জ্যাকোবিনিজমের পতনের জন্য শোক প্রকাশ করে কবিতা লিখতেন।

    কবিতা হল পরিমার্জিত শিল্প, সূক্ষ্মতা এবং সংবেদনশীলতার সমার্থক। অদ্ভুত মনে হয় যে কবিতা বর্বরতার উদযাপনও হতে পারে, এবং অত্যাচারীদের প্রিয় জনার। কিন্তু প্রাচীনকাল থেকে আধুনিকতা পর্যন্ত, আধুনিকতার পরও, স্বৈরশাসকরা কবিতা লিখতে অনুপ্রাণিত হয়েছে – সান্ত্বনা, ঘনিষ্ঠতা বা গৌরবের খোঁজে, দুর্নাম মেটাতে হয়তোবা। তাদের কবিতা লেখার প্রয়াস, ক্ষমতার প্রকৃতি, কবিতার স্থায়ী আবেদন এবং শৈল্পিক ব্যাখ্যার বিপদ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে। অত্যাচারী-কবির নমুনা হল রোমান সম্রাট নিরো একজন বোকা, আত্ম-করুণাময় প্রদর্শনবাদী, যার অবমাননাকর শাসন তার কবিতা লেখার ঘাটতিকে প্রতিফলিত করতো। নিরোর ইতিহাসবিদ, ট্যাসিটাস আর সুয়েটোনিয়াস লিখেছেন যে রোম নিরোর কবিতার কারণে যেমন যন্ত্রণায় ভুগতো তেমনই তার উল্টোপাল্টা নীতির দ্বারা। নিরো হয়তো ভেতরে-ভেতরে ভাবতো যে তার অত্যাচারের অপরাধগুলোকে জনসাধারণ মাফ করে দেবে তাকে একজন বড়ো কবি মনে করে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি একজন অত্যাচারীর কবিতার গুণগত মান বিচার করতে পারি? একনায়করা তাদের মতাদর্শ ঢুকিয়ে দেয় স্কুল কলেজের সিলেবাসে পছন্দের উপন্যাস, কবিতা এবং প্রবন্ধগুলো মাধ্যমে।

    লক্ষ লক্ষ মৃত্যুর মুখে পাঠানোর আগে, জোসেফ স্তালিন ছিলেন একজন সেমিনারি ছাত্র যাঁকে ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা প্রভাবিত করেছিল। সম্ভবত হুইটম্যানের প্রতি ঋণের কারণে, ১৮৯৫ সালে আইভেরিয়া জার্নালে ‘‘সোসেলো’’ ছদ্মনামে প্রকাশিত স্তালিনের কবিতাগুলোতে ছিল দেশপ্রেম এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য। একটিতে তিনি চাঁদকে “কাজবেক পর্বতে ঘুমপাড়ানি গান গাইতে’’ আর “মাতাসমিন্দার পাহাড়েরউচ্চতা মাপতে’’ অনুরোধ করেন। তরুণ স্তালিন জর্জিয়ান ভাষায় কবিতা লিখতেন - এমন এক ভাষা যা, যেখানে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, অর্থোডক্স সেমিনারিতে, নিষিদ্ধ ছিল। তাঁর কবিতায় হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণযুগের জন্য রোমান্টিক হাহুতাশ পাওয়া যায়। বেনামে প্রকাশিত, স্তালিনের কবিতা তখনকার বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হতো আর জর্জিয়ান ধ্রুপদী সাহিত্যের উদাহরণ হিসাবে সংকলিত হয়েছিল। স্তালিনের কবিতাগুলো জর্জিয়ান সাহিত্যের প্রতিনিধিত্বমূলক উদাহরণ হিসাবে ‘‘ব্রেজনেভের দিন পর্যন্ত’’ সংকলনগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল । অক্টোবর বিপ্লবের প্রথম দিকের দিনগুলো ছিল নান্দনিক নিরীক্ষায় সমৃদ্ধ। কিন্তু স্তালিনের ওপরে ওঠার সাথে-সাথে, সেই সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রচারমূলক সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদ প্রচারের জন্য পরিত্যাগ করতে হয়েছিল। তবুও গ্রেট পার্জের সময়, যখন লক্ষাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছিল তখন তিনি জর্জিয়ান জাতীয় মহাকাব্য, শোটা রুস্তাভেলির ‘দ্য নাইট ইন দ্য প্যান্থারস স্কিন’ অনুবাদ করার জন্য গুলাগ থেকে একজন ভাষাতাত্বিককে মুক্তি দিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। অনুবাদের কাজ হয়ে গেলে স্তালিন অনুবাদককে কারাগারে ফেরত পাঠানোর আগে জিগ্যেস করেছিলেন অনুবাদটা ঠিক হয়েছে কিনা।

    স্তালিনের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারী, ইউরি আন্দ্রোপভ, আমলাতান্ত্রিকতার সঙ্গে রোমান্টিসিজম মিশিয়ে কবিতা লিখতেন। কেজিবি প্রধান হিসাবে, তিনি ভিন্নমতাবলম্বীদের নিপীড়ন করায় বেশ নাম করেছিলেন আর হাঙ্গেরির বিদ্রোহকে ভাঙতে পেরেছিলেন। একই সময়ে আন্দ্রোপভ স্ত্রীকে প্রেমের কবিতা লিখে পাঠাতেন।

    মাও জে দঙ, একজন শাসকের কলম-এবং-তলোয়ার আদর্শকে মূর্ত করেছিলেন, অর্থাৎ সামরিক ক্ষমতার (উ) এর সাথে সাংস্কৃতিক ক্ষমতার (ওয়েন) কে মিশিয়ে একতার ভিত্তি তৈরির তত্ব । মাও সাম্রাজ্যিক ঐতিহ্যকে অতিক্রম করার জন্য এই মিশেলকে উপযুক্ত মনে করেছিলেন, আর ১৯৩৬ সালের একটি কবিতায় উল্লেখ করেছেন যে সম্রাটরা সাহিত্যিক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তিনি তাদের একজন। মাও সহস্রাব্দের ধ্রুপদী চীনা কবিতায় পারদর্শী ছিলেন, বিশেষ করে লি বাও-এর মতো তাং রাজবংশের মহান ব্যক্তিরা, লং মার্চ এবং রেড আর্মির নানজিং দখলের মতো ঘটনাগুলির সময় তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জুড়ে গানগুলো লেখা হয়েছিল। তার সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা, ‘‘তুষার’’ ১৯৩৬ সালে জাপানি আক্রমণ এবং চিয়াং কাই-শেকের জাতীয়তাবাদীদের সাথে গৃহযুদ্ধের মধ্যেই লেখা হয়েছিল। মাও তাঁর জীবন জুড়ে কবিতা লিখে গেছেন, এমন এক জীবন যা ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ থেকে ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুকে পাত্তা দেয়নি। মাও-এর কবিতা আঙ্গিকের দিক থেকে গোঁড়া আর থিমের দিক থেকে ধ্রুপদী, যে ঐতিহ্যকে তিনি নিজেই ঘৃণা করতেন। ‘চারটি পুরাতন’ (সংস্কৃতি, রীতিনীতি, অভ্যাস, ধারণা) ধ্বংস করার জন্য তাঁর নিজস্ব হুকুম সত্ত্বেও, মাও পুরানো শৈলীতে লিখতেন, এমনকি যখন একে অভিজাত এবং সেকেলে বলে নিন্দা করা হচ্ছিল তখনও। মাওয়ের কবিতার প্রতি আগ্রহ প্রমাণ করে যে শৈল্পিক চেতনা মোটেই জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতার রাজনীতির গ্যারান্টি নয়। ১৯৬৬ সালে, রেড গার্ডস তাদের ‘লিটল রেড বুকের’ পরিপূরক হিসেবে ২৫টি কবিতার একটি সংকলন নিজেদের সঙ্গে রাখতো; কবিতাগুলো মাও জে দঙের লেখা।

    জোসেফ গোয়েবলস একবার তাঁর একটা উপন্যাস প্রকাশের জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন আর নিজের লেখা নাটকগুলো মঞ্চস্হ করার ব্যবস্হা করেছিলেন, কিন্তু হিটলারের প্রচার মন্ত্রী হওয়ার পরে সমস্ত শিল্প ও সাহিত্যিকম কাজের জন্য তাঁকে হিটলারের অনুমোদন নিতে হতো। নাৎসি আন্দোলনে যোগদানের আগে, গোয়েবলসের সাহিত্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট প্রার্থী ছিলেন। ১৯২১ সালে ‘মাইকেল’ শিরোনামে একটি তিন-পর্বের আত্মজীবনীমূলক ‘বিল্ডুংসরোমান লিখেছিলেন। নায়ক যখন বিশ্বযুদ্ধ থেকে মিউনিখে ফিরে আসে, একজন সুন্দরী তরুণীর প্রেমে পড়ে। উপন্যাসে নায়ক রুশ বলশেভিক, গ্যেটে আর দস্তয়েভস্কি সম্পর্কে দীর্ঘ, বিক্ষিপ্ত বিভ্রান্তিকর তর্কাতর্কি চালিয়ে যায়।

    'বসনিয়ার কসাই' নামে খ্যাত কবি রাডোভান কারাদজিচ ৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পরে যুদ্ধের সময় নিজেকে এমন ভয়ঙ্কর শক্তিধর হিসেবে দেখা দিয়েছিলেন যে স্লাভোয় জিজেক বলেছিলেন যে যুদ্ধাপরাধী লোকটা ‘‘কাব্যিক-সামরিক কমপ্লেক্স’’ এর অংশ। হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে, ‘‘বসনিয়ার কসাই’’কে স্রেব্রেনিকার গণহত্যায় তার ভূমিকার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছিল। তার আদেশে ‘‘প্রতিটি সক্ষম দেহের পুরুষদের’’ খুন করা হয়েছিল। ক্রোয়াট এবং বসনিয়ানদের উপর তার গণহত্যার আগে, কারাদজিচ প্রাথমিকভাবে একজন কবি হিসাবে পরিচিত ছিলেন, একটি কবিতায় লিখেছিলেন যে ‘‘আমার বিশ্বাসে কিছুই নিষিদ্ধ নয়’’। তিনি তার সন্ত্রাসের রাজত্বের সময় এবং তার পরবর্তী বছরগুলো লুকিয়ে বেড়াতেন। রাশিয়ান জাতীয়তাবাদী লেখক এডুয়ার্ড লিমোনভের সাথে সেই শহরের অবরোধের সময় সারাজেভোকে উপেক্ষা করে একটি পাহাড়ে একটি কবিতা পাঠের পর কারাদজিচ বেসামরিক এলাকাগুলোতে বোমা ফেলেছিলেন। রুশ জাতীয়তাবাদী কবি এডুয়ার্ড লিমোনভকে নিজের কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন যাতে তিনি খুনোখুনির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন । কারাদজিচের কবিতার বেশিরভাগ অংশ জাতীয়তাবাদী কিংবদন্তি গড়ার প্রয়াস। বসনিয়ার কবি সেমেজদিন মেহমেডিনোভিচ, যিনি কারাদজিচকে সারায়েভোর সাহিত্যিক আড্ডার সময় থেকে জানতেন, বলেছেন যে কারাদজিচের কর্মকাণ্ডের ফলে লোকটা নিজের জীবন আর সাহিত্য দুটোকেই ধ্বংস করেছেন, কারণ নব্বইয়ের দশকের সারায়েভোতে একটা লাইব্রেরি ‘‘আর বইয়ে ভরা বাড়ি ছিল না। ছিল পোড়া বইয়ের ধ্বংসাবশেষ।’’

    ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনিও কবিতা লিখেছেন। তাঁর ফার্সি কবিতা সুফি দ্রষ্টা রুমি আর হাফেজের চেতনায় উদ্বুদ্ধ, যদিও রাষ্ট্রের শাসনের ব্যাপারে রুমি আর হাফেজ সম্পূর্ণ অনুপস্হিত।কবিতাগুলো আয়াতুল্লাহকে একজন রহস্যবাদী হিসাবে প্রকাশ করে। বিপ্লবী তেহরানে ফিরে আসার আগে আয়াতুল্লাহ প্যারিসীয় শহরতলির একজন সুশিক্ষিত বাসিন্দা ছিলেন, যখন কিনা তেহরান শহরটা মহাজাগতিকতায় ইউরোপের রাজধানীগুলির প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। প্রকৃতপক্ষে, আয়াতুল্লাহর এই শহুরে হাবভাবই ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর মতো পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীদের ভাবতে প্ররোচিত করেছিল যে অত্যাচারী শাহের বিরুদ্ধে ইরানের বিপ্লব একটি সত্যিকারের জনগণের বিদ্রোহ হবে। তিনি যে ফিরে ফতোয়া জারি করবেন, অন্য কবিদের সেন্সর করবেন, মহিলাদের জেলে পুরবেন তা আঁচ করেননি প্যারিসের দার্শনিকরা। লোকটির মধ্যে কবি এবং অত্যাচারী উভয়ই মাঝে মাঝে সেই দৃষ্টিকোণে একীভূত হন যাকে কীটস বলেছেন ‘‘নেতিবাচক ক্ষমতা’’, একই মনের মধ্যে অসংলগ্ন দ্বন্দ্বগুলিকে সামলাতে সক্ষম। এটি এমন একটি দক্ষতা যা শিল্প সৃষ্টির জন্য মগজকে উৎসাহ যোগায় কিন্তু সেইসাথে বিরোধিদের গুমখুন করতে আর জেলে পুরতে কোনো অনুশোচনা যোগায় না।

    অনেক খামখেয়ালি স্বৈরশাসকের মতোই, মুয়াম্মার গাদ্দাফির আচরণ তার সংঘটিত নৃশংসতাকে ঢেকে দিতে পারে, যেমন ব্যক্তিগতভাবে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, জাতিদের লোপাট আর সন্ত্রাসবাদ। গাদ্দাফির পরীক্ষামূলক পরাবাস্তববাদী ছোটগল্প সংকলন 'এসকেপ টু হেল' তাঁর সর্বগ্রাসী ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক জানালা খুলে দেয় - মহাজাগতিকতার ঘৃণা। শহুরে স্থান সম্পর্কে লিখতে গিয়ে, গাদ্দাফি বলেছেন যে শহরটিকে বর্জন করতে হবে কারণ এটি ‘‘আপনাকে আপনার চেহারা পরিবর্তন করতে এবং আপনার মূল্যবোধগুলিকে প্রতিস্থাপন করতে বাধ্য করে, আপনাকে অন্যের শব্দ শুনতে বাধ্য করে। আপনি তাদের নোংরা নিঃশ্বাস নিতে বাধ্য হন।’’

    অগাস্টো পিনোশের মৃত্যুর পর, আবিষ্কৃত হয়েছিল যে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম লাইব্রেরিগুলির মধ্যে তাঁর গ্রন্হাগার ছিল, যেখানে তিনি যত লোককে নির্যাতন করেছিলেন তার চেয়ে বেশি বই ছিল। তাদের কাব্যিক অনুষঙ্গ নির্বিশেষে, স্বৈরশাসকরা কবিতার বিপদ বুঝতে পারে, এই কারণেই তাদের শাসনামলে কবিরা নিয়মিতভাবে কারারুদ্ধ, নির্যাতন, খুন বা নির্বাসিত হন। জেনারেল অগাস্টো পিনোশের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ১৯৭৩ সালে পাবলো নেরুদা মারা যান। তাঁর প্রাক্তন চালক ম্যানুয়েল আরায়া দাবি করেছেন যে তিনি আসলে সিক্রেট সার্ভিসের বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন। নেরুদার দেহাবশেষের নতুন পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে যে তিনি ক্যান্সারে মারা যাননি।

    ১৯৫৯ সালে বিদ্রোহীরা ফুলজেনসিও বাতিস্তাকে উৎখাত করার পর ফিদেল কাস্ত্রোর বিজয় পৃথিবীর সব ভাষার লেখকরা বাহবা দিয়েছিলেন। কাস্ত্রোর পাঁচ দশকের শাসনে, তিনি জোরালোভাবে লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের প্রচার করেছিলেন – পুরস্কার দেয়া, সাহিত্যের অনুষ্ঠান করা এবং কিউবাতে ঘুরেবেড়াবার অনুমতি দিতেন। অথচ কাস্ত্রো একই সঙ্গে নামকরা লেখকদের কিউবায় এনে প্রশংসা কুড়োচ্ছিলেন আবার নিজের দেশের লোকেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছিলেন, পত্রিকা ও সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ১৯৭০ এর দশকে, কিউবার ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি প্রস্তাব করার জন্য স্থানীয় লেখকদের কারারুদ্ধ করার এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করার পরে, কাস্ত্রোর বেশিরভাগ খ্যাতনামা সাহিত্যিক প্রশংসক তাঁদের অনুমোদন প্রত্যাহার করতে আরম্ভ করেন। অ্যালেন গিন্সবার্গ একটা ব্যাপার জেনে চটে গিয়েছিলেন যে পুলিশ কিউবার বিটনিকদের তাঁর সাথে কথা বলার জন্য আর আঁটসাঁট ট্রাউজার পরার জন্য গ্রেপ্তার করছে, যা সরকার রাজনৈতিক বিদ্রোহের সাথে সমতুল্য বলে মনে করছিল। একদিন সকাল ৮ ২৫ শে, গিন্সবার্গের দরোজায় আচমকা ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে তোলা হয়; তাঁকে সুটকেস গুছিয়ে নিতে বলা হয়, কাউকে ফোন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি আর সোজা বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে বিমানে চাপিয়ে দেয়া হয়। সেই বছরের শেষের দিকে, সরকার ম্যানুয়েল ব্যালাগাস নামে একজন তরুণ কবিকে, যার সাথে গিন্সবার্গ চিঠিপত্র বজায় রেখেছিলেন — বিপ্লবকে হেয় করার জন্য এবং গিন্সবার্গকে "সামাজিক তথ্য" পাঠানোর জন্য চার বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। জাঁ পল সার্ত্রে কিউবা সম্পর্কে বলেছিলেন – “ফিদেল এবং বিশেষ করে চে-এর সাথে আমাদের আলোচনা খুব অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। কিন্তু তা বেশিদিন টেকেনি। অদক্ষতা আড়াল করার জন্য দমন-পীড়ন তাই ব্যাপক হয়ে ওঠে। বিপ্লবীরা অবশ্যম্ভাবীভাবে একই অপরাধের জন্য দোষী হয় যাকে তারা উৎখাত করে। যারা আপনার সাথে একমত নন তাদের আপনি গ্রেপ্তার করা আরম্ভ করেন আর জেলে পাঠানো আরম্ভ করেন।” কাস্ত্রো সময়ের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, রেনাল্ডো অ্যারেনাস, গোপন পুলিশ দ্বারা আটক হন, কারারুদ্ধ হন।তিনি বেনামে কিউবা ছাড়তে বাধ্য হন। অ্যারেনাস, একজন ছিলেন চাষি, যিনি বিদ্রোহের সময় কাস্ত্রোর গেরিলা সেনাবাহিনীর হয়ে বাতিস্তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, একটি স্মৃতিকথা লিখেছেন, ‘বিফোর নাইট ফলস’ (১৯৯২), যাতে তিনি একজন মুক্তচিন্তক হিসাবে তাঁর নিপীড়নের কথা বর্ণনা করেছেন। কাস্ত্রোর শাসনামলের ঘটনা একত্রিত করে, অ্যারেনাস কাস্ত্রোর শাসনকে বাতিস্তার একনায়কত্বের অত্যাচারের চেয়ে "এমনকি কঠোর" বলে বর্ণনা করেছেন। ফিদেল কাস্ত্রো কিউবার ইতিহাসে পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ব্যাপক ধরপাকড় আরম্ভ করেন। ১৮ মার্চ, ২০০৩-এ, ফিদেল কাস্ত্রো তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে যেকোনো আন্দোলনকে দমন করার জন্য কিউবা জুড়ে অভিযানে অনেক লেখক, কবি, গ্রন্থাগারিক এবং গণতন্ত্রপন্থীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। রাউল রিভেরো, বিপ্লবী কিউবান সাংবাদিক এবং কবি যাঁর শেষ পর্যন্ত মোহভঙ্গ হয়েছিল এবং ফিদেল কাস্ত্রোর কমিউনিস্ট একনায়কত্বকে ভিন্নমতকে দমিয়ে রাখার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন, বিদ্রোহের অভিযোগে জেলে বন্দী হন। রিভেরোকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রায় এক বছর একটা ছোটো, জানালাহীন ঘরে বন্দী ছিলেন এবং বাইরের কারও সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। কিউবার কবি হেবার্তো হুয়ান প্যাডিলা ফিদেল সরকারের সমালোচনা করার জন্য কারারুদ্ধ হয়েছিলেন। যদিও প্যাডিলা শুরুতে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবকে সমর্থন করেছিলেন, তবে ১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে তিনি প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করতে শুরু করেন এবং ১৯৭১ সালে তিনি কিউবান সরকার কর্তৃক বন্দী হন। ১৯৮০ সালে প্যাডিলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়ে, যেখানে তিনি বেশ কয়েকটি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং বিপ্লবী কিউবায় তাঁর জীবন সম্পর্কে একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস প্রকাশ করেছিলেন, En mi jardín pastan los héroes (১৯৮১); নায়করা আমার বাগানে চারণ করছে। আরমান্দো ভাল্লাদারেস পেরেজ, কিউবান কবি। কিউবার ভিন্নমতাবলম্বী আন্দোলনে জড়িত থাকার জন্য রাজনৈতিক বন্দী ছিলেন। ১৯৬০ সালে, তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর বিরোধিতা করার জন্য কিউবার সরকার কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। শুরুতে তিনি কাস্ত্রোর সমর্থক ছিলেন। ১৯৮২ সালে তাঁর মুক্তির পর, তিনি কিউবান সরকারের হাতে তার কারাবাস এবং নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে একটি বই লিখেছিলেন।

    হুয়ান গেলম্যান, আর্জেন্টাইন কবি যিনি পুরো ল্যাটিন আমেরিকা এবং স্পেনে একজন প্রধান সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ১৯৭০ এবং ৮০ এর দশকে আর্জেন্টিনা শাসনকারী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তাঁর মেয়েকে অপহরণ ও নির্যাতন করেছিল সামরিক শাক। খুন হন তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ। এবং তাদের সন্তান, গেলম্যানের নাতনিকে তুলে নিয়ে গিয়ে দত্তক দিয়ে দেয়া হয়েছিল। গেলম্যান শেষে ২০০০ সালে খোঁজ পান। বন্দী কবিদের সাম্প্রতিক তালিকা বেশ দীর্ঘ আর বৈচিত্র্যময় – ডারেন তাতুর, ট্রান ডুক থাচ, স্টেলা নায়ানজি, আহনাফ জাজিম, ইলহান কমাক, আশরাফ ফায়াদ প্রমুখ।

    হোসে মার্তি, তার অব্যাহত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে, ১৮৭৯ সালে কিউবা থেকে স্পেনে নির্বাসিত হন। সেখান থেকে তিনি ফ্রান্সে, তারপর নিউ ইয়র্ক সিটিতে যান এবং ১৮৮১ সালে ভেনিজুয়েলায় যান, যেখানে তিনি রেভিস্তা ভেনেজোলানা ("ভেনিজুয়েলান রিভিউ") প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পত্রিকার রাজনীতি ভেনেজুয়েলার স্বৈরশাসক আন্তোনিও গুজমান ব্লাঙ্কোর পছন্দ হয়নি আর মার্তি সেই বছর নিউইয়র্ক সিটিতে ফিরে যান।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    103 | 104 | 105 | 106 | 107 | 110 | 113 | 114 | 119 | 120 | 121 | 123 | 124 | 124 | 125 | 125 | 126 | 127 | 127 | 128 | 129 | 131 | 133 | 134 | 135 | 136 | 138 | 139 | 140 | 141 | 143 | 144 | 145 | 147 | 148 | 149 | 149 | 150 | 151 | 152 | 153 | 154 | 155 | 156 | 157 | 158 | 159 | 160 | 161 | 162 | 163 | 164 | 165 | 167 | 168 | 169 | 170 | 171 | 172 | 173 | 174 | 175 | 176 | 176 | 177 | 178 | 179 | 180 | 181 | 182 | 183 | 184 | 185 | 186 | 187 | 188 | 189 | 190 | 191 | 192 | 192 | 193 | 194 | 195 | 196 | 198 | 199 | 200
  • আলোচনা | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৩৯৫ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    কবিতা  - Suvankar Gain
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন