এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  বাকিসব  শোনা কথা

  • সত্তর বছর আগের লাভ জিহাদ

    Malay Roychoudhury লেখকের গ্রাহক হোন
    বাকিসব | শোনা কথা | ২০ আগস্ট ২০২৩ | ৪২৮ বার পঠিত
  • 103 | 104 | 105 | 106 | 107 | 110 | 113 | 114 | 119 | 120 | 121 | 123 | 124 | 124 | 125 | 125 | 126 | 127 | 127 | 128 | 129 | 131 | 133 | 134 | 135 | 136 | 138 | 139 | 140 | 141 | 143 | 144 | 145 | 147 | 148 | 149 | 149 | 150 | 151 | 152 | 153 | 154 | 155 | 156 | 157 | 158 | 159 | 160 | 161 | 162 | 163 | 164 | 165 | 167 | 168 | 169 | 170 | 171 | 172 | 173 | 174 | 175 | 176 | 176 | 177 | 178 | 179 | 180 | 181 | 182 | 183 | 184 | 185 | 186 | 187 | 188 | 189 | 190 | 191 | 192 | 192 | 193 | 194 | 195 | 196 | 198 | 199 | 200
    সত্তর বছর আগের লাভ জিহাদ

    ইমলিতলা অন্ত্যজ বিহারি বস্তির ছেলেটা বাঙালি ব্রাহ্মণ পরিবারের, বয়স বারো, কুড়িজনের একান্নবর্তী, ওর বাবা একমাত্র রোজগেরে। ফর্সা, গোলুটাইপ ক্যাবলাটে, পাড়ার বউরা ওর গাল টিপতে ভালোবাসতো।হলেই বা অন্ত্যজ, ওর মা-জেঠিমারা আপত্তি করতেন না। বাড়িতে আয়নাটা উঁচুতে টাঙানো বলে ছেলেটাকে দূরে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে হয়। স্কুলে যাবার সময় ছাড়া তাই ও চুল আঁচড়াতে বিরক্ত হতো। মাছের চেয়ে ওর ভালো লাগতো ডিম খেতে; ছুটির দিনে ওর মা কাঁটা বেছে দিলে ভাপা ইলিশ খেতো, ভাপা ইলিশের ফিকে হলুদ রঙ ওর ভাল্লাগতো। ওকেই পাঠানো হতো হাসের ডিম কিনতে। ব্রাহ্মণ তো ! মুর্গির ডিম নিষিদ্ধ। হাসগুলো পাড়ার নর্দমা ঘেঁটে কী যে খেতো কে জানে; ওই নর্দমায় তো পাড়ার বাচ্চারা হাগতো। পুকুর ছিল না যে মাছ আর গেঁড়ি-গুগলি খেতে যাবে। কুলসুম আপাদের বাড়িতে ডিম কিনতে পাঠাত ছেলেটার মা, হাঁসের ডিম শুধু ওদের পোড়ো বাড়িতেই পাওয়া যেত, বাজারে পাওয়া যেত না।

    ডিম কিনতে যেতো পাড়ার শিয়া মুসলমান পরিবারের দেড়শো বছর পুরোনো খণ্ডহরে। কুলসুম আপাদের বাড়ির সামনের এঁদো গলিতে পুরোনো মসজিদ। মসজিদটারও যত্ন হতো না, চুনকাম হতো না। ছেলেটা পাড়ার সমবয়সীদের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলার সময়ে শিয়া মসজিদে রাখা নামাজ পড়ার চাটাইয়ের পেছনে লুকোতো। ইমাম সাহেব ধবধবে দাড়িতে হাত বুলিয়ে বলতেন, নামাজের সময়ে তোরা খেলতে আসিস নি।

    শিয়া মুসলমান পরিবারটা যখন লখনউ থেকে সোনা-দানা-আশারফি নিয়ে পালিয়ে এসে বাড়িটা তৈরি করিয়ে ছিলেন তখন হয়তো প্রাসাদ ছিল। মসজিদ ঘিরে মুসলমান পরিবারগুলো শিয়া। ছেলেটাকে মুসলমান পরিবারের মেয়ে, যাকে ও কুলসুম আপা বলে ডাকে, গল্প শুনিয়েছিল যে অবধেও বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়েছিল। ওয়াজিদ আলি অবধ হারালেন , লখনউ ছাড়লেন সে বছরেরই কলকাতা গেলেন। আরও অনেকের মতো ওনারা আর পাড়ার শিয়ারা কলকাতা না গিয়ে পাটনায় চলে এসেছিলেন।

    ওদের পরিবারের সবাই মিলে বিড়ি বানিয়ে বিক্রি করতো, হাঁস-মুর্গির ডিম আর হাঁস-মুর্গি, ছাগল আর ভেড়ার ছানা বিক্রি করতো, যারা ছাগল-ভেড়ার বাচ্চা চায় তারা ওদের রামছাগল আর রামভেড়ার কাছে টানতে-টানতে মাদিগুলোকে নিয়ে আসতো। বাড়ির বাসন-কোশন হয় এনামেলের বা অ্যালুমিনিয়ামের। ছেলেটা একদিন দাঁড়িয়ে দেখছিল রামছাগলটা ছাগলি পেয়ে অমন পাগলামি করছে কেন, কুলসুম আপার আব্বু বলেছিলেন, ডিম তো কিনেছিস, এবার বাড়ি যা।

    পুরো নাম কুলসুম আলি শাহ। সাদত আলি খান, যার আসল নাম ছিল মহম্মদ আমিন, তার বংশধরদের রক্ত আছে কুলসুম আপার শিরায়, পাড়ার অন্য শিয়াদের শিরায়। ছেলেটার অবাক মুখের দিকে তাকিয়ে কুলসুম আপা হারেমের গল্প শোনায়।নবাবরা ইরানের নিশাপুরের রাজবংশের লোক ছিলেন। নবাব সাদাত আলি খান অবধ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সৈয়দ বংশের।সৈয়দ বলে বেশ গর্ব কুলসুম আপার। ছেলেটাকে বোঝায়, তোরা যেমন ব্রাহ্মণ, তেমনিই আপারা ইরানি ব্রাহ্মণ। অবধের নবাব পরিবারের হলেও, কুলসুম আপা কুচকুচে কালো, দুই গালে টোল পড়ত, টোলের ভেতরে রোদের, প্রদীপের, লন্ঠনের, চাঁদের আলো ধরে রাখতেন, ঝিকমিক করত, তেল না মেখেও তেল-চুকচুকে গাল। কুলসুম আপা বলতেন ওনার গায়ে কারোর হারেমের কালো মেয়ের রক্ত আছে ; আফ্রিকা থেকে কালো মেয়েদের ধরে এনে মোগল বাদশাহ আর নবাবদের বিক্রি করা হতো।

    কুলসুম আপা ছেলেটাকে ফয়েজ আর গালিবের শায়রি পড়ে শোনাতো, যার কিছুই বুঝতো না ছেলেটা। বরং ওদের পাশে বসে বিড়ি বানানো শিখতে ভালো লাগতো ওর।বিড়ির ডগা গোঁজার জন্য নখ বাড়িয়েছিল ; ছেলেটার মা জিগ্যেস করতে ও বলেছিল, পেনসিলে ভালো লেখা যায় এই নখটা বাড়ালে। মাকে বলা মিথ্যা কথাটা কুলসুম আপাকে বলতে, উনি ছেলেটার থুতনি ধরে চুল আঁচড়িয়ে ওর ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে বলেছিলেন, তোর মুখে মাছের গন্ধ, এতো মাছ খাস কেন তোরা !

    কুলসুম আপার গল্প শুনে ছেলেটা অবাক হয়েছিল যে শিয়া আর সুন্নিরা আলাদা ; ওদের মসজিদ আলাদা ; নামাজ পড়বার কায়দা আলাদা। শিয়া মুসলমানেরা বিশ্বাস করে যে, নবীদের যেমন একমাত্র আল্লাহ নিযুক্ত করেছিলেন, তেমনি নবীদের উত্তরসূরীদের নিযুক্ত করার বিশেষ ক্ষমতাও একমাত্র আল্লাহর। শিয়ারা বিশ্বাস করে যে স্বয়ং আল্লাহ পাক আলীকে মুহম্মদের উত্তরাধিকারী, অভ্রান্ত ও ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে বাছাই করেছিলেন।

    শিয়াদের মতে মুহম্মদ আল্লাহর নির্দেশে গাদীর খুমে আলীকে তাঁর উত্তরাধিকারী হিসাবে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন।আলী ছিলেন মুহম্মদ-এর চাচাতো ভাই, নিকটতম জীবিত পুরুষ আত্মীয় আর তাঁর জামাই তথা ফাতিমার স্বামী। যেখানে বসে কুলসুম আপার বাড়ির সবাই বিড়ি বানাতো সেখানে দেয়ালে সোনালী রঙের উড়ন্ত ঘোড়া টাঙানো আর একটা ছবি যাকে ওরা বলতো কারবালা। কারবালায় যুদ্ধ হয়েছিল। কুলসুম আপারা প্রতিবছর মুহররম মাসে কারবালার যুদ্ধকে স্মরণ করতেন। পয়লা মুহররমের দিন থেকে শুরু করে দশম মুহররমের দিন পর্যন্ত। আসলে ঐতিহাসিক যুদ্ধের কারণে কারবালা বেশি পরিচিত। বীর নাতি ও আলীর ছেলে হোসাইন ইবনে আলী এই কারবালায় শহিদ হয়েছিলেন। মক্কা, মদিনা আর জেরুজালেমের পর শিয়া মুসলমানেরা কারবালাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় জায়গা হিসেবে বিবেচনা করে। কুলসুম আপা এমন কাউকে বিয়ে করতে চাইতেন যে ওনাকে ওই জায়গাগুলোতে তীর্থ করতে নিয়ে যাবে।

    তুমি বলছ তোমাদের পূর্বপুরুষ ইরান থেকে এসেছিল অথচ কারবালা তো ইরাকে ? জিগ্যেস করেছিল ছেলেটা। কুলসুম আপা বলেছিল, ইরাকের কারবালায় ইসলামের নবী মুহাম্মদ এর নাতি হোসাইন ইবন আলীর অল্প কিছু সমর্থক-আত্মীয় আর উমাইয়া খলিফা প্রথম ইয়াজিদ, যার বশ্যতা স্বীকার করতে হোসাইন অস্বীকার করেন, তার বিশাল সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধে হোসাইন এবং তার ছয় মাস বয়সী শিশুপুত্র আলী আল-আসগর ইবন হোসেইনসহ সব সমর্থক মারা গিয়েছিল আর নারী ও শিশুরা বন্দি হয়েছিল।

    এই যুদ্ধ শিয়াদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ। ইশা মসীহ তো ইউরোপে জন্মাননি কিন্তু ইউরোপের বেশির ভাগ লোক খ্রিস্টান। তেমনিই আমাদের মসিহার দেশ ইরাক-ইরান কিন্তু আমরা ইমলিতলায় থাকি। দেখেছিস তো ! আমাদের বাড়ির আর পাড়ার সবাই মাতম করি। দেখেছিস তো, তাজিয়া বেরোয় ? আশুরা বা মহরমের দশম দিনে ইমাম হোসেন শহিদ হয়েছিলেন। তাই ওই দিন তাঁর কবরের প্রতিকৃতি নিয়ে মিছিল করা হয়; কবরের প্রতিকৃতির নামই তাজিয়া।

    উফ, মাতম্‌, দেখি তো প্রত্যেক বছর। তার কত রকমফের! আগুন-মাতম্‌ গনগনে কাঠকয়লার আগুনের উপর দিয়ে হাঁটা, এক বছর তো তোমার আব্বুর পা পুড়ে গিয়েছিল। লোহার শিকল-মাতম, তোমাদের যারা পাড়ায় থাকে রক্তারক্তি হয়ে ফেরে। হাত-মাতম্‌, বুক চাপড়ানো, মহরম মাসে শোকপালন করো। তোমরা মাতম করো, তোমার আব্বু আর ভাই নিজেদের রক্তারক্তি করে ফ্যালে, তাই ওই সময়ে তোমাদের বাড়ি আসতে ভাল্লাগে না, কান্না পেয়ে যায়, বলেছিল ছেলেটা। কুলসুম আপা বলেছিলেন, এখন কাঁদিসনি, আমার বিয়ের সময়ে কাঁদিস। তারপর দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, কেই বা কালো মেয়েকে বিয়ে করবে, বিয়ের জন্য আব্বুকে অনেক টাকা আর গয়না দিতে হবে, আমাদের কাছে কিছুই নেই, কোনো বুড়োর হাতে পড়ব হয়তো, যার দুতিনটে বউ আছে, কমবয়সী চাকরানি চাই।

    একদিন দুপুরে যখন আপার বাড়িতে কেউ ছিল না, উনি ছেলেটার হাত ধরে একটা অন্ধকার ঘরে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন, যে ঘরে ওনাদের হাঁস মুরগি ছাগল ভেড়া থাকত। স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি বলে খালি-গায়ে ছিল, হাফ প্যান্ট একটানে নামিয়ে দিয়ে নিজের চুড়িদারও নামিয়ে নিয়েছিলেন আপা, আর তারপর জড়িয়ে ধরেছিলেন। ছেলেটার হাত নিয়ে নিজের কুঁচকির মাঝে চেপে ধরে নিজেই তাকে ব্যবহার করছিলেন ; তারপর ছেলেটার লিঙ্গ বাঁ হাতে নিয়ে খেলতে-খেলতে নিজের কুঁচকির ভেতরে ঘষা শুরু করেছিলেন। ছেলেটা জিগ্যেস করেছিল, এরকম করছেন কেন। আপা কোনো উত্তর না দিয়ে ঘামছিলেন, কেঁপে-কেঁপে উঠছিলেন। ছেলেটার মনে হয়েছিল আপার শরীরের মধ্যে রেলগাড়ির ঘটাংঘট হলো কয়েকবার।

    ছেলেটার বেশ ভালো লেগেছিল খেলাটা। ডিম কেনার না থাকলেও, আরও কয়েকবার দুপুরে, যখন আপাদের বাড়ির সবাই কোনো কাজে বাইরে, গিয়েছিল অমন ঘষাঘষি খেলতে। দ্বিতীয়বার কুলসুম আপা কবজি ধরে জানোয়ার-ঘরের অন্ধকারে ছেলেটার হাফপ্যান্ট টেনে নামাতেই, ও বলেছিল, আমাকে তাহলে মুরগির ডিম খাওয়াতে হবে, খাইনি কখনও; স্কুলের বন্ধুরা বলে মুরগির মাংসও ভালো খেতে। তোমাদের রান্নাঘর থেকে মাঝে-মাঝে মাংস রাঁধার কত ভালো গন্ধ বেরোয়, মাংস খাওয়াতে হবে, নইলে আর আসব না, হুমকি দিয়েছিল বারো বছরের ড্যাবড্যাবে চোখে।

    ছেলেটার প্যান্টুল ওঢ়নার মধ্যে লুকিয়ে ঘর থেকে বেরোবার সময় আপা বলেছিলেন, তোর বাবা-মা যদি জানতে পারেন যে আমাদের বাড়িতে খেয়েছিস তাহলে তোকে আস্ত রাখবে না। গোবরজলে চান করাবে, পিটুনি দেবে। ন্যাড়া করে টিকি রাখবে তোর। লোকে জানতে পারলে আমার কী হবে ভেবে দেখেছিস ?

    – তুমি আমার প্যান্টুল খুলে নাও জানতে পারলেও পিটুনি খাবো।

    – না না ককখনো বলিস নি কাউকে। আজকেই তোকে মাংস খাওয়াবো, অনেক ঝাল হয় কিন্তু।

    – আগে খাওয়াও।

    – তুই অপেক্ষা কর, এভাবেই দাঁড়িয়ে থাক, আমি এক্ষুনি আনছি।

    ছাগলদের খাবার দেবার সিমেন্টের ছোট্টো চৌবাচ্চার কিনারে ল্যাংটো বসে মাংস খাবার জন্য উৎসুক হয়ে বসেছিল ছেলেটা। ছাগলের বাচ্চাগুলো ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বোধহয় জানতে চাইছিল কেন ও ওদেরই মতন ল্যাংটো।

    আপা অ্যালুমিনিয়ামের দোমড়ানো বাটি করে মাংস এনে ছেলেটাকে দিতে, হাহ-হুহ করতে করতে ল্যাংটো পোঁদে বসে খেয়ে নিয়েছিল ঝাল মাংস। আপা নিজের ছেঁড়া সবুজ চুন্নি দিয়ে পুঁছে দিয়েছিলেন ছেলেটার হাত আর মুখ। বলেছিলেন, যাবার সময়ে রাস্তার মোড়ের কলে হাত আর মুখ ভালো করে ধুয়ে নিস ; মাংস খাবার গন্ধ মুখ থেকে বেরোলে আমিও বিপদে পড়ব। সেই প্রথম গোরুর মাংস খেয়েছিল ছেলেটা। আপার জড়িয়ে ধরার কাজ পুরো হয়ে গেলে নিজের জিভ দিয়েও পুঁছে দিয়েছিলেন ছেলেটার ঠোঁট। ছেলেটা বলেছিল, তোমার গা কী গরম।

    — তুই যখন বড়ো হবি, তখন বুঝতে পারবি।

    – বড়ো হবো না। বড়ো হলে তো তুমি আমার সঙ্গে আর খেলবে না, মাংস খাওয়াবে না।

    – তুই বড়ো হয়ে গেলেও খেলবো; কিন্তু তুই তো আর খেলতে পারবি না। তোকে তখন আসতে দেবে না, আর আমার তো বিয়ে হয়ে যাবে। তুই হলি আমার নাজুক মজনু। তখন তো আর নাজুক থাকবি না; নোংরা মরদ হয়ে যাবি, জাহিল হয়ে যাবি, কাফের, কুফ্র, কুফ্র, কুফ্র।

    শেষবার আপা এত বেশি নিজেকে চেপে ধরছিলেন, বারবার, যে ছেলেটার জ্বালা ধরে গিয়েছিল। নিজের ঠাকুমাকে ছাড়া আর কাউকে কখনও বলেনি জীবনের ওই ঘটনা, লজ্জা করেছে। পাটনা থেকে দেশের বাড়ি, উত্তরপাড়ায়, ঠাকুমাকে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ওকে, ট্রেনে করে হাওড়া। স্কুলের গণ্ডি সবে তখন পেরিয়েছে। জীবনের ওই ঘটনা জানিয়ে নিজেকে হালকা করার এটাই সুযোগ ভেবে ঠাকুমাকে সব বলে ফেলেছিল। যদিও বলে যৌনাঙ্গ ছড়ে যাওয়ার কথা, মাংস আর মুরগির ডিম খাওয়ার কথা। ঠাকুমা ট্রেনে বসে কেবল শুনেছিলেন, এমন মুখ করে যেন কিছুই হয়নি।

    ঠাকুমা বলেছিলেন, যা করেছিস তা আর কখনও কাউকে বলিসনে, আমাকে বলার বলেছিস; অমন লুকোনো পিরিতের খেলা তো ব্যাটাছেলেরা করে। এখেনে তুই হয়ে গেলি মেয়ে, আর ছুঁড়িটা হয়ে গেল ছেলে। বুড়ো মিনসেরা আগেকার দিনে কচি মেয়েদের বিয়ে করে বেধবা করে সগগে চলে গেলে সেসব বেধবারা তাদের দেওর, ভাসুরের ছেলে-টেলেদের দিয়ে অমন পিরিতের খেলা খেলত, বুঝলি। কচি খোকাদের সঙ্গে অমন পিরিত করলে তো আর পোয়াতি হবে না, আশও মিটবে। তোকে দিয়ে মোচরমান ছুঁড়িটা আশ মিটিয়ে নিলে। জীবনে ওসব কথা আর মুখে আনবিনে।

    ছেলেটা যখন লোক হয়ে গেছে, পঞ্চাশ বছর পর, ওই পাড়ায় গিয়ে কুলসুম আপাদের পোড়ো বাড়ির জায়গায় দেখেছিল পাকা বাড়ি উঠেছে। ফ্ল্যাটবাড়ি। মসজিদটা চারতলা উঁচু, সাদা-সবুজ মিনার, একটায় লাউডস্পিকার বাঁধা।যারা হজ করতে যায় তারা গ্রাম থেকে এসে মসজিদে থাকে।

    কুলসুম আপাদের বাড়ি থেকে কালো বোরখা পরা কয়েকজন বউ বেরিয়ে কোথাও যাচ্ছিল। একজন বউ থমকে দাঁড়ালো, ওর দিকে এগিয়ে এলো, তারপর পেছন ফিরে অন্য বউদের সঙ্গে যোগ দিল, তারপর আবার ফিরে এসে বোরখার নকাব তুলে বলল, ‘কুলসুম দাদি আর নেই’। বলে, নকাব নামিয়ে চলে গেল।

    একসময় ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল যাতে আপার সংস্রব থেকে দূরে থাকা যায়, যাতে আর কেটে-ছড়ে না যায় কুঁচকির কাছে। পঞ্চাশ বছর পর আবার কেন দেখার ইচ্ছে হল ! বুড়ি আপা প্রৌঢ় প্রেমিককে দেখে কী বলতেন?
    মনে করতেন কি ওনার সেই ঘেমো উত্তেজিত ঘটাংঘট শরীরের দুপুরগুলো ? হয়তো বলতেন, “কাফের কহিঁকা, জাহিল কহিঁকা, বদজাত কহিঁকা, দিখা তেরা মজনুকা দুম।”
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    103 | 104 | 105 | 106 | 107 | 110 | 113 | 114 | 119 | 120 | 121 | 123 | 124 | 124 | 125 | 125 | 126 | 127 | 127 | 128 | 129 | 131 | 133 | 134 | 135 | 136 | 138 | 139 | 140 | 141 | 143 | 144 | 145 | 147 | 148 | 149 | 149 | 150 | 151 | 152 | 153 | 154 | 155 | 156 | 157 | 158 | 159 | 160 | 161 | 162 | 163 | 164 | 165 | 167 | 168 | 169 | 170 | 171 | 172 | 173 | 174 | 175 | 176 | 176 | 177 | 178 | 179 | 180 | 181 | 182 | 183 | 184 | 185 | 186 | 187 | 188 | 189 | 190 | 191 | 192 | 192 | 193 | 194 | 195 | 196 | 198 | 199 | 200
  • বাকিসব | ২০ আগস্ট ২০২৩ | ৪২৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    উংলি - Malay Roychoudhury
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন