এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  দেখেছি পথে যেতে

  • উদয়পুর

    দীপাঞ্জন মুখোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ২২ জুলাই ২০২৩ | ৫০৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • বর্ষাকাল। অবনীন্দ্রনাথের রাজকাহিনীর দেশ। মেবার এক্সপ্রেস ধরে হজরত নিজামুদ্দিন থেকে মথুরা, কোটা, চিত্তোরগড় হয়ে উদয়পুর সিটি স্টেশনে ভোরবেলা নামা গেল। মোটামুটি বারো ঘন্টা লাগে।  স্টেশন থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রথমেই বুঝতে অসুবিধা হয় এটা রাজস্থান। উদয়পুর যথেষ্ট পরিষ্কার শহর। অবশ্য বর্ষাকালে সকালবেলা গেছিলাম বলেও মনে হয়। আর সর্বত্র একটা ধূপের গন্ধ বাতাসে ভাসে। 


    উদয়পুরের সকাল 
     
    তেরোশো বছর আগে মেবার রাজ্যের প্রবর্তন করেছিলেন বাপ্পা রাওয়াল। সেই সময় প্রায় ছ শো বছর ধরে এই রাজ্যের রাজধানী ছিল চিত্তোরগড়। আলাউদ্দিন খলজির চিত্তোর আক্রমণের পর বাপ্পা রাওয়ালের বংশ শেষ হয়ে যায়। তারপরে হাম্মির সিং চিত্তোর কে খলজীদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেন এবং 'রানা' খেতাবটা ব্যবহার করতে শুরু করেন। তিনিই বর্তমান মেবারের সিসোদিয়া রাজপুত বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তখনও অনেক বছর চিত্তোরই এই রাজ্যের রাজধানী ছিল। চিত্তোরের ওপর আবার মুঘলদের আক্রমণ শুরু হওয়াতে উদয় সিংহ উদয়পুর শহরের পত্তন করেন। 

    আকবর মেবার রাজ্য দখল করতে মুঘলদের অনুগত আমেরের [বর্তমান জয়পুর] রাজা মান সিংকে পাঠিয়েছিলেন, যার সঙ্গে মেবারের রানা প্রতাপের হলদিঘাটের যুদ্ধ হয়। মুঘলরা জিতলেও রানা প্রতাপ পালিয়ে আত্মগোপন করেন। মান সিংকে দায়িত্ত্ব থেকে সরিয়ে আকবর নিজে উদ্যোগী হয়ে উদয়পুর শহর এবং কুম্ভলগড় দুর্গ দখল করেন। এরপর বাংলা বিহার দখল নিয়ে আকবর মেতে থাকার সুযোগে রানা প্রতাপ ধীরে ধীরে আকবরের পাঠানো আবার মুঘল সেনাপতিদের পরাস্ত করে মেবার পুনরুদ্ধার করতে থাকেন। মৃত্যুর সময় তিনি তার বংশধর অমর সিংকে বলে যান মুঘলদের বশ্যতা কখনো স্বীকার না করতে। এরপর বারবার সালিম [জাহাঙ্গীর] মেবারের ওপর আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত অমর সিং খুররামের [শাহজাহান] সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেন। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ঠিক হয়েছিল মেবার রাজপুতরা আর কখনো চিত্তোরে ফিরে যাবেন না। চিত্তোরের দুর্গ তাই আজকের দিনেও রাজবংশ দ্বারা পরিত্যক্ত। সেখানে ছাদগুলো সমস্ত ভেঙে পড়েছে , শুধু দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে আছে। চিত্তোরগড় সম্ভবত এশিয়ার সবথেকে বড় জায়গা নিয়ে তৈরী দুর্গ। ওখানে বিজয়স্তম্ভ, কীর্তিস্তভ ইত্যাদি আছে। চিত্তোরগড়ের ভেতরে অনেক মানুষ পাঁচ হাজার বছর ধরে নিজেদের বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন।  মেবারের আর একটা নামকরা দুর্গ কুম্ভলগড় আছে আরাবল্লী পাহাড়ের ওপর। উদয়পুর এলে অনেকে গাড়ি নিয়ে এই তিনটে জায়গা - চিতোর , কুম্ভলগড় আর হলদিঘাটিও ঘুরে আসেন। 

    উদয়পুরে এত সবুজতার কারণ পিচোলা এবং ফতেহ সাগর এই দুটো হ্রদ। পিচোলা হ্রদের মাঝখানে একটা দ্বীপে আছে জগ মন্দির। গরমকালে রানারা ওখানে গিয়ে থাকতেন, এখন সেটা একটা পাঁচতারা এবং যথেষ্ট দামী হোটেল। আর একটা দ্বীপেও 'লেক প্যালেস' বলে একটা হোটেল আছে , সেটা টাটাদের। মূল রাজপ্রাসাদেরও ক্যাম্পাসের  ভেতরে দুটো বাড়ি হোটেল হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। 

    শুধু মেবার নয়, বহু পুরোনো রাজপুত বংশের [যোধপুর, বিকানের, জয়সলমের ইত্যাদি] বর্তমান উত্তরাধিকারীরাই হোটেল ব্যবসায় আছেন। তাদের পূর্ব পুরুষদের প্রাসাদগুলোকে তারা পরিণত করেছেন পাঁচতারা হোটেল এবং সংগ্রহশালায়। যে 'প্রিভি পার্স'র শর্তে এইসব রাজ্যগুলো স্বাধীন ভারতে যোগ দিয়েছিল, ইন্দিরা গান্ধী সেই 'প্রিভি পার্স' বন্ধ করে দেবার পর এটাই তাদের বর্তমান আয়ের পথ। এছাড়াও রাজনীতি তো আছেই, জয়পুরের মহারাণী লোকসভায় বিজেপির সক্রিয় সাংসদ। রাজবংশ ছাড়াও রাজস্থান জুড়ে বহু পুরোনো হাভেলির মালিকরা এখন হোমস্টের ব্যবসায় যুক্ত। হাভেলিগুলোকে সংস্কার করে পর্যটকদের 'মিনি রয়্যাল এক্সপিরিয়েন্স' দিচ্ছেন তারা। 

    তবে রাজস্থান পর্যটকদের জন্য খুব সুখকর জায়গা নয়। পুরো রাজস্থান আর আগ্রা জুড়ে নানারকম  স্ক্যাম চলে। রাজস্থানে আপনি অটোতে বা ক্যাবে উঠলেই বলবে দোকানে নিয়ে যাব, পথেই পড়বে। কোনো টাকা লাগবে না। ভালো না লাগলে দোকানে গিয়ে কিনবেন না। দোকানে কিনলে বলবে পার্সেল করে দেওয়া হবে, তারপর আপনার কাছে কোনো পার্সেল আর এসে পৌঁছবে না। কলাপাতার শাড়ি আর পশমিনা শাল, কম্বল, চাদর । অরিজিনালিটি প্রমাণ করতে আপনার সামনেই পশমিনাতে দেশলাই কাঠি জ্বালিয়ে গন্ধ শোঁকাবে, এরকম সব নাটক। বিদেশী আর প্রবাসী ভারতীয় পেলেই মুরগি করে। বলবে আগ্রায় এসেছেন , দুশোটাকার একটা কলাপাতার শাড়ি তো নিয়ে যান। আর স্ক্যাম চলে রাজপ্রাসাদগুলোর ভেতরে , গাইড আর কালেক্টর্স আইটেমের। দক্ষিণ ভারতের মাইসুরুতেও এরকম মাইসুরু সিল্কের শাড়ি আর চন্দন কাঠের নানারকম জিনিসের লোকঠকানো ব্যবসা চলে।
     

    উদয়পুরের কেন্দ্রস্থল চারমাথার মোড় 
     
    যাইহোক, সকাল আটটার সময় হাঁটতে হাঁটতে উদয়পুরের প্রধান কেন্দ্রে এসে উপস্থিত। এখানে একটা চার মাথার মোড়ে আছে জগদীশ মন্দির। সেখান থেকে একদিকে গেলে গঙ্গোর ঘাট, একদিকে রাজপ্রাসাদ, আর একদিকে ঘন্টাঘর। জগদীশ মন্দির প্রায় চারশো বছর আগে মেবারের রানারাই বানিয়েছিলেন। মরু গুর্জ্জর ​​​​স্থাপত্যের নিদর্শন এই মন্দিরের গায়ে সূক্ষ শিল্পের কারুকাজ করা আছে। 
     

     

     

    জগদীশ মন্দিরের স্থাপত্য এবং কারুকাজ 
    প্রাসাদ সাড়ে নটার সময় খুলবে বলে হাঁটতে হাঁটতে আরো উত্তর দিকে চলে গেলাম। গঙ্গোর ঘাটের পাশেই বাগোরের হাভেলিতে সন্ধ্যেবেলা ধরোহর নাচ হয়। এটা রাজস্থানের একটা লোকনাচ যেখানে মেয়েরা মাথায় কলসি বসিয়ে নাচেন। আর একটা সংগ্রহশালা আছে, এত সকালবেলা সেটা খোলেনি। তাই গঙ্গোর ঘাটেই ঢুকে পড়লাম। 
     

     

     
    গঙ্গোর ঘাটে পায়রাদের দলবল 
     

    গঙ্গোর ঘাট থেকে লেক প্যালেস
     

    উড়াল 
     

    উদয়পুরি স্থাপত্য ঘরানা 
     
    পিচোলার ওপর দুটো সেতু চাঁদ পোল ইত্যাদি আছে। গঙ্গোর ঘাট থেকে আরো ওপরের দিকে উঠতে থাকলে সাত্তা পোল। গঙ্গোর ঘাট থেকে বেরিয়ে সাত্তাপোল ধরে পিচোলা হ্রদ পেরিয়ে উত্তরের ফতেহ সাগর যাবার রাস্তা ধরলাম।  হেঁটে পনেরো মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায়।
     

    পিচোলার ওপরের পোল 
     

    ফতেহ সাগর 
     
    সাইকেল ভাড়া নেবার অ্যাপের স্ট্যান্ড থেকে সাইকেল ভাড়া নিয়ে একঘন্টা ধরে পুরো হ্রদটাকে প্রদক্ষিণ করে আসতে পারেন। এরকম সাইকেল চালানো তামিলনাড়ুর কোড়াইকানালের হ্রদেও আগে একবার করেছিলাম। 
     
    এখানে একটা ছোট টিলার ওপর মোতি [মুক্তো] মহল ছিল অনেকদিন আগে। সেখানে অনেকটা জায়গা নিয়ে ঘিরে এখন একটা পার্ক বানানো হয়েছে। প্রবেশমূল্য একশো কুড়ি টাকা। আর আছে রানা প্রতাপ এবং চেতকের মূর্তি। এই পার্কের নানা জায়গায় ছড়ানো আছে রানা প্রতাপের সেনাপতি , মন্ত্রীদের মূর্তিও। একটা ছোট সংগ্রহশালায় আছে মেবারের সব দুর্গ , হলদিঘাটি আর রাজপ্রাসাদের বড় বড় মডেল। রানাদের নানারকম পোর্ট্রেট।   
    মতিমহলের অল্প ধ্বংসস্তুপ রেখে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এখন সন্ধ্যেবেলা আলো শব্দের প্রক্ষেপণ চলে [লাইট এন্ড সাউন্ড শো]। আগে জয়পুরের আমের দুর্গের গায়ে এরকম শো দেখেছি।
     
    টিলায় ওঠার জন্য পিছন দিক দিয়ে শর্টকাট সিঁড়ি সিঁড়ি করা আছে। আর বাস বা গাড়ি যাবার জন্য সামনে দিয়ে আছে চওড়া খাড়াই রাস্তা। সকালবেলা চাতালটা পরিষ্কার করা হচ্ছিল। অসাধারণ ভিজে ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছিল। 
     

    রানা প্রতাপ এবং চেতক। সূর্য্যের মধ্যে রানার মুখ স্বাধীন মেবার রাজ্যের প্রতীক ছিল। 
     
     

     
     

     
     

     
    সবুজের সমারোহ। দূরে বৃষ্টিভেজা আরাবল্লী। 
     
    ফতেহ সাগর হ্রদের দ্বীপের মধ্যে উদয়পুরের সৌর মানমন্দির। এটা দেখে মনে পড়ল , রাজপুত রাজাদের জ্যোতির্বিদ্যার প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল। জয়পুরের রাজা জয় সিং ভারত জুড়ে পাঁচটা যন্তর মন্তর তৈরী করেছিলেন। 
     
     
    ফতেহ সাগর মিনি মেরিন ড্রাইভ। সঙ্গে একোয়ারিয়াম। 
     
     
    নেমে এসে আবার প্রাসাদের দিকে ফিরে এলাম একটা অটোতে। প্রাসাদে ঢোকার প্রবেশমূল্য তিনশো টাকা। ভেতরে সিসিটিভি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা খেয়াল রাখছে। প্রাসাদের ট্যুর একমুখী। একটি নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে ঢুকে পূর্বনির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যান্য পথ বা দরজা শিকল তোলা। 
     

     
     

     
     

     
    গাইড নেওয়া বেকার। ভুলভাল বকে, তাড়াতাড়ি আপনাকে ঘুরিয়ে আরেকজনকে ধরতে চায়। তার থেকে চাইলে অডিও গাইড ভাড়া নিতে পারেন। একটা ক্যাসেট প্লেয়ার আর হেডফোনের মত দিত, মাইসুরুতে দেখেছিলাম। এখানেও সেই ব্যবস্থা আছে, হয়ত ক্যাসেট প্লেয়ারের বদলে এখন মোবাইলে কিছু একটা। দুশো টাকা ভাড়া মনে হয়, মানুষ গাইডের থেকে কম। 

    প্রাসাদে ঘুমক্কড় প্রথমেই শুরু হয় সালেহ খানা [অস্ত্রাগার] এবং তার নানারকম অস্ত্রের সংগ্রহ দিয়ে। কাতার / জামাধার গুলো হচ্ছে পাঞ্চ ছোরা আর সাজানো আছে একগাদা তোপিদার পিস্তল , তোদাদার পিস্তল এবং তোদাদার বন্দুক।
     

     
    প্রাসাদটা নানারকম মহল আর চকে বিভক্ত। একেকটা চক একেকজন রাজা বানাতেন এবং থাকতেন [ যেমন অমর মহল বানিয়েছিলেন রানা অমর সিং ]। এভাবে ধীরে ধীরে যুগে যুগে প্রাসাদটা বড় হয়েছে। রাজপুত প্রাসাদগুলোর একটা বৈশিষ্ট হচ্ছে - ছাদটা খুব নীচু। সবজায়গায় মাথা বাঁচিয়ে চলতে হয়। এরকম গুঁড়িসুড়ি মেরে থাকার মত জায়গা কেন বানাতেন জানি না। চকগুলোর মধ্যে আছে  মোর চক, মানেক চক। 

     চকগুলোতে সুন্দর সুন্দর কাঁচের কাজ বা দেওয়ালে ছবি আঁকা। এগুলো সবই যে পাঁচশো বছরের পুরোনো তা নয় , পরবর্তীকালে নানা শিল্পীদের দিয়ে রিস্টোর করানো হয়েছে। 


     

     

     

     

     
    উদয়পুরি ঘরানায় আঁকা অনেক ছবি রাখা আছে প্রাসাদের চকগুলোর ভেতরে। এমনকি একজন গাইড দেখলাম এক বিদেশী দম্পতী এবং তাদের ছেলেকে ভাঙা ভাঙা স্প্যানিশ ভাষায় সেসব বোঝাচ্ছেন। ভদ্রলোক জুম করে এক রানার মুখের ছবি তুলতে ব্যস্ত। 
     
    প্রাসাদের জেনানা মহল, ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের মত। এখানকার লক্ষ্মী চকে বিয়ে ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো হত। দুটো মানেক স্তম্ভ রাখা আছে। রাজপুত বিয়েতে এই স্তম্ভগুলো নানা আচারের কাজে লাগে। আর ভান্ডার চকে প্রাসাদের রান্নাবান্না হত।
     
    একজায়গায় 'খেলাকনিয়া'র সরঞ্জাম রাখা আছে। জেনানা মহলের মেয়েরা এবং বাচ্চারা সময় কাটানোর জন্য সতরঞ্জ ইত্যাদি খেলত। কড়ি দিয়ে চৌপার খেলা হত। 
     

    কড়ির সঙ্গে খেলা 
     
    উদয়পুরের কাছেই শ্রী একলিঙ্গজী মন্দিরের আশপাশ থেকে উদ্ধার করা কিছু মূর্তিও প্রাসাদের সংগ্রহশালায় রাখা আছে। সেগুলোর মুখ ঘষে গেছে, হাত কাটা, মাথা কাটা। 
     

     
     

    বিষ্ণুমূর্তি 
     
     

    প্রাসাদের ভেতরের 'রাই অঙ্গন' কিছু দোকানের স্টলকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। 
     
    প্রাসাদ দেখা হয়ে গেলে বেরিয়ে ঘন্টাঘরের রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে খাবার দোকান খুজছিলাম। কিন্তু ঘন্টাঘরকে ঘিরে সবই সোনা রুপোর দোকান। অলংকার বেচাকেনা চলছে। আবার ওখান থেকে ফিরতে ফিরতে জগদীশ মন্দিরের রাস্তায় একটা খাবার জায়গা পেলাম। নিরামিষ থালি। ৩টে ঘি দেওয়া রুটি, একমুঠো ভাত, পাঁচমিশালি সবজি, পনির, ডাল, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা। আর একটা রাজস্থানি থালি ছিল - ডাল বাটি চুরমা ওয়ালা। 
     

    উদয়পুরের ঘন্টাঘর 
     
    হাতে সময় আছে বলে আরেকবার পিচোলা পেরিয়ে অম্বরাই ঘাটে ঢুঁ মারলাম যেখান থেকে লেক প্যালেস এবং জগ মন্দির দেখা যায়। পিচোলাতে যত্র তত্র বোটিং বারণ। বোটিং করতে গেলে আপনাকে আলাদা টিকিট[কুড়ি টাকার] কেটে রাজপ্রাসাদের ঘাট থেকে নৌকাতে উঠতে হবে। সেই মোটর নৌকা পুরো পিচোলা হ্রদে আপনাকে সফর করাবে অথবা জগ মন্দির বা লেক প্যালেসে নিয়ে যাবে বুকিং থাকলে। সন্ধেবেলা অম্বরাই ঘাটের মন্দিরে আরতি ইত্যাদি হয়। এছাড়াও সূর্যাস্তের সময় পুরো সোনার মত ঝকমকে রাজপ্রাসাদের আলোছায়া পিচোলার জলে পড়ে,  সেই ছবি তোলার জন্য অনেকে এখানে আসেন। 
     

    অম্বরাই ঘাট থেকে লেক প্যালেস এবং জগ মন্দির  [ঢাকা পড়ে গেছে]
     

    অম্বরাই ঘাট থেকে উদয়পুর রাজপ্রাসাদ 
     

    অম্বরাই ঘাট থেকে প্রাসাদের উল্টোদিকে পাহাড়ের ওপর সজ্জনগড় মনসুন প্যালেস। 
     
    ছটার ফিরতি মেবার এক্সপ্রেস ধরতে অটো নিয়ে স্টেশনে ফিরে এলেম। এইসব বড় স্টেশনে বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে করতে প্রায়ই এক দৃশ্য দেখি। বহু মানুষ চাদর মুড়ি দিয়ে প্ল্যাটফর্মের মেঝেতে বা বেঞ্চে শুয়েবসে ঘুমে ঢোলেন। সমস্ত দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেন [রাজধানী, শতাব্দী এসব ছাড়া] স্টেশনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে, লোকোমোটিভের ভোঁ শুনলেই তারা জেগে উঠে এক একটা কাঁধের রংচটা ব্যাগ নিয়ে দৌড়তে শুরু করেন জেনারেল কামরাগুলোর দিকে। 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ২২ জুলাই ২০২৩ | ৫০৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb91:87b:8018:3273:c433:e14b:52e8 | ২২ জুলাই ২০২৩ ২২:৪৯521558
  • ছবিগুলো অসম্ভব সুন্দর। লেখাও ভালো লাগলো।
  • দীমু | 182.69.179.140 | ২৩ জুলাই ২০২৩ ২২:৩০521632
  • ধন্যবাদ কেকে। ছবি মোবাইলেই তোলা। 
  • Suvasri Roy | ২১ মে ২০২৪ ১৪:১৭532070
  • ভালো লাগল। যেতে ইচ্ছা করছে। ডাল বাটি চুরমার কথা একটু বললে ভালো লাগত। একটা কথা- দম্পতি বানানটা টাউপো হয়ে গেছে।
     
    শুভেচ্ছা রইল।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:1900:fe23:2ecb:2e2 | ২১ মে ২০২৪ ১৪:২৬532073
  • ছবিগুলো অসাধারন ভালো লাগলো, বিশেষ করে পাহাড় আর জলের ছবিগুলো। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন