• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  রাজনীতি

  • জেনোফোবিয়ার ইতিবৃত্ত: প্রসঙ্গ ত্রিপুরা-অসম

    Sumona Choudhury লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | রাজনীতি | ২৯ অক্টোবর ২০২১ | ৪৫৩ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • পর্ব ১
    ক্ষেত্র প্রস্তুত ছিল বহুদিন ধরেই। তাতে ঘৃতাহুতির কাজ করলো সাম্প্রতিক বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হানাহানির ঘটনাক্রম। ঠিক যেমন সিপাহী বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল এনফিল্ড রাইফেল, এবং তারসাথে জড়িত ছিলো বহুদিন থেকে ঘটে চলা নানাবিধ বৃটিশ নিপীড়ন। না, বর্তমান সময়ের ঘটনাবলীর জন্য বৃহত্তর সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ শাসক শ্রেণীর নিপীড়ন হেতু নয়। বরং শাসক দ্বারা এবং শাসকের প্রত্যক্ষ সহায়তায় প্রচার এবং বিস্তার করা জেনোফোবিয়া। একটা গোটা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। বহুদিন ধরে তার জাল বিস্তার করা হচ্ছিল। মিথ্যে, অর্ধসত্য বিভিন্ন খবর এবং তথ্যের সহায়তায়। সংখ্যাগুরু সাধারণের মনে গেঁথে দেওয়ার কাজ চলছিল মুসলমানরাই দেশের সমস্ত সমস্যা এবং জটিলতার জন্য দায়ী। মিডিয়া থেকে সিনেমা সাহিত্য সাধারণ যাপন--সর্বত্র এই একটি বিষয়েই নিষ্ঠাভরে কাজ করা হচ্ছিল। মুসলমানরা জেহাদি, এরা ভারতবর্ষকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, ওয়াহাবিজম প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং আশি শতাংশ হিন্দু জনসংখ্যার দেশে আসলে হিন্দুরাই সংখ্যালঘু এবং মুসলমানদের দেশছাড়া অথবা মেরে দিতে পারলেই হিন্দুদের সংখ্যালঘুত্ব ঘুচবে এদেশে। ভারত আবার জগত সভার শ্রেষ্ঠ আসন লবে। এই বিষয়বস্তু-ই কয়েক দশক ধরে বৃহত্তর জনমানসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অতোদিন যদিওবা আড়ালে আবডালে সে কর্মকান্ড চলছিল, সংঘ রাজনীতির পোস্টার দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তার স্পষ্ট এবং প্রকাশ্যে রূপ সামনে হাজির করা হয়েছে। কোনো রাখ-ঢাক নেই আর। সরাসরি স্পষ্ট উচ্চারণে মন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে মূখ্যমন্ত্রীরা 'মুসলমানরা-ই শত্রু' এ থিওরিতে সিলমোহর দিলেন। সে সিলমোহর দেওয়া থিওরি প্রচারের দায়িত্ব নিল মিডিয়া- যাকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় এ পোড়া দেশে। মিডিয়া কিভাবে জেনোফোবিয়া ছড়ানোর কাজ করে চলেছে বিজেপি-শাসিত উত্তর-পূর্বের দুই রাজ্য ত্রিপুরা এবং বিশেষত অসমে সেটার আলোচনা-পর্যালোচনা পরবর্তী পর্বে করা যাবে। আপাতত উত্তর-পূর্বের এক ছোট রাজ্য ত্রিপুরা জ্বলছে। অসমও জ্বলার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। কিন্তু ত্রিপুরার বর্তমান পরিস্থিতির মতো তার অবস্থান এখনও নয়। শুরুর পর্বে তাই ত্রিপুরার কথা থাক। এবং তা জরুরীও। কেননা যে সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন ত্রিপুরাতে এইমূহূর্তে ছড়াচ্ছে তার খবর কোনো প্রথম সারির মিডিয়া করছে না। এবং সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই। 
     
    বিগত এক সপ্তাহ ধরে ত্রিপুরায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চলছে। এখানে উল্লেখ্য যে ত্রিপুরায় মুসলমান জনসংখ্যা ত্রিপুরার মোট জনসংখ্যার মাত্র সাত শতাংশ। কিন্তু সাত পার্সেন্ট-ই তো বাকি বৃহত্তর সম্প্রদায়কে সংখ্যালঘু বানিয়ে রেখেছে! ভারতকে আফগানিস্তান তৈরী করতে চাইছে! তাই সম্পূর্ণ ছক কষে মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চল বাছাই করে করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে মিছিল করে গিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে। মসজিদ ভাংচুর, দোকানপাট ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং সমাবেশ করে গণহত্যামূলক স্লোগান দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হানাহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অক্টোবরের ১৭/১৮ তারিখ থেকেই। সরকার, প্রশাসন ও মূলধারার মিডিয়া নীরব দর্শক। শুরু থেকেই। শুরুর সেইসব সভা এবং জমায়েতের সময় থেকেই। যেহেতু ত্রিপুরার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বাম-ভোটার এবং সমর্থক, মসজিদ, বাড়িঘর আক্রমণের সাথে সাথে সেইসব অঞ্চলের সিপিআই(এম)-এর পার্টি অফিস গুলোতেও হামলা সংঘটিত করা হচ্ছে। 
     
    দাঙ্গা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে উদয়পুর, কৈলাশহর, ধর্মনগর, পানিসাগর ইত্যাদি অঞ্চলেও। গত ২২শে অক্টোবর ধর্মনগরে প্রবীণ আইনজীবী বাসিত আলির বাড়িতে হামলা করা হয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে।  তছনছ করা হয় সবকিছু। বেশ কিছু মামলার নথিও নষ্ট করা হয়। পানিসাগরে গত ২৬ শে অক্টোবর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে বিশাল মিছিল আয়োজন করা হয়। গণহত্যার প্রকাশ্য প্ররোচনামূলক স্লোগান দিয়ে হামলা করা হয় মসজিদ এবং মুসলমান দোকানপাটে। মসজিদের সামনের একটা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় মসজিদ। নয়-দশটা দোকান আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসন কোথাও ছিল না। একজন সাংবাদিক আগরতলার এক পুলিশ অধিকর্তাকে ফোন করলে তিনি জানান ত্রিপুরার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি মিডিয়ায় কোনো কথা বলতে পারবেন না। ওই সাংবাদিক যেন দিল্লীতে ফোন করে নেয়। অবস্থা যখন সঙ্গীন রূপ নেয় তখন মাঠে নামে প্রশাসন। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। ততোক্ষণে সে রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষের তরফে দাঙ্গা কবলিত অঞ্চলগুলোতে আত্মরক্ষার্থে মিছিল করা শেষ। এবং নিজেদের জান-মাল রক্ষা করতে অঞ্চল পাহারা দেওয়ার দল তৈরী করাও শেষ। সেসব ভিডিও বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষদ্বারা মোবাইল বন্দী হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিউতি আপলোড করা হয়। এবং অধিকাংশ খবরকেই ভুয়ো বলে চাপা দেওয়া হয়ে যায়। কেননা প্রথমসারির কোনো পত্রিকা বা নিউজ চ্যানেলে তো এই খবরগুলো ছিল না। ত্রিপুরার সংবাদপত্র 'দেশের কথা'য় দাঙ্গার কিছু বিবরণী থাকলেও সে পত্রিকার খবর ত্রিপুরার বাইরের কতজন-ই বা পড়েন! তাই গণহত্যার এই ছক তৈরীর খবর বাকি ভারতের কাছে আসে না বা প‍ৌঁছায় না। এমনকি পাশের রাজ্য অসম অব্দিও। যাওবা আসছে সেটা ত্রিপুরা রাজ্যে পরিচিত মানুষজন সুত্রেই। এবং অসমের করিমগঞ্জ জেলা ত্রিপুরার একদম পার্শ্ববর্তী হওয়ার দরুন সে উত্তেজনার আঁচ এই জেলা অব্দিও আসছে। ত্রিপুরার সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটছে। অসমে উনুন তো সাজানোই আছে, জানি না শেষ দেশলাই কাঠিটা ত্রিপুরা হয়ে উঠবে কিনা! 
     
    বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হানাহানির দায় ভারতবর্ষের মুসলমানদের নয়। ত্রিপুরার মুসলমানদের নয়। অসমের মুসলমানদের নয়। পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের নয়। এই সাধারণ কথাটুকু মানুষ যে বুঝছে না, তা নয়। কিন্তু  মানুষকে এমনতর মগজধোলাই দেওয়া হয়েছে যে মানুষ সেটা বুঝেও না বুঝার ভান করে আছে। সাধারণ মানুষ তো কোন ছার, বুদ্ধিজীবী  মহল থেকে শুরু করে শিল্পী সাহিত্যিক সহ মানবতাবাদী বলে পরিচিত মানুষেরাও এক আশ্চর্য নীরবতা বজায় রেখে চলেছেন। 
     
    আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি বাংলাদেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো  সাম্প্রদায়িক হানাহানির বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন সে দেশের সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। সে দেশের রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের দাবীতে একজোট হয়েছেন সেখানকার সুস্থ বোধের বিবেকবান মানুষেরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগ... নোয়াখালি থেকে কুমিল্লা--সর্বত্র প্রতিরোধে পথে নেমেছেন সে দেশের অসাম্প্রদায়িক মানুষেরা। দাঙ্গাকারীদের অ্যারেস্ট করা হয়েছে। চারশো'র অধিক দাঙ্গাকারীর উপর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ধর-পাকড় চলছে। কিন্তু এসব কোনো খবরই অসম এবং ত্রিপুরার মিডিয়া জনসাধারণের সামনে তুলে ধরেনি। বরং বাংলাদেশের দাঙ্গাকবলিত অঞ্চলের ছবি এবং সে দেশের সংখ্যালঘু জনসাধারণের অসহায়ত্বের খবর দিনের পর দিন করে গেছে। এখনও করছে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতি দাঙ্গায় উসকানি দিয়ে গেছে, দিচ্ছেও। বাংলাদেশের ঘটনার পর-পরই এবং এখন অব্দি চলমান বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, হিন্দু সংহতি ক্লাব সহ সবকটা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রকাশ্য সভা এবং গণহত্যায় উসকানিমূলক ভাষণ এবং স্লোগান নিয়ে নিশ্চুপ থেকেছে। প্রশাসনও তাই। রাষ্ট্রীয় মদতে গণহত্যার চিতা সাজানো হয়েছে। যাঁরা বুঝছিলেন এ ছক, তাঁরা প্রকাশ্যে কথা বলেননি। এখনো কথা বলছেন না।  হয়তোবা নিজেদের নিরাপদ জীবন যাপনের স্বার্থে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী পাশের বাড়ির লেলিহান অগ্নিশিখায় যারা নিরাপদ বোধ করেন তাদের বাড়ি আগুনের আঁচ পৌঁছাতে বেশী সময় লাগে না। আগুনের ধর্ম-ই তাই। তাই এখনো যারা অন্ধ এবং বধির সেজে আছেন এই একতরফা জেনোসাইডে, তাদের পালাও অনিবার্য।
     
     
     
    তথ্যপ্রমাণ : ১)
     
    https://mobile.twitter.com/RahulSinhaddk/status/1453525593073467392?t=ZSo9-01VnDVr4lMDL3-dOw&s=08
     
    ২) https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10160055330653826&id=163648403825
     
    ৩) https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=376059290916020&id=100055358573746
     
    ৪) ২৩/১০/২০২১ তারিখের "ডেইলি দেশের কথা" পত্রিকার দুটি খবরের ছবি। 
     
     
     
     
     

     

     
     
     
     

     

    পর্ব ১
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৯ অক্টোবর ২০২১ | ৪৫৩ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • প্রতিভা | 2401:4900:3eec:3797:0:44:91b3:6501 | ২৯ অক্টোবর ২০২১ ০৮:৫৭500375
  • কী ভয়ানক !  আসামকে হিন্দুত্ববাদের সমস্ত ষড়যন্ত্রের আঁতুড়ঘর করা হয়েছে।অবশ্য অন্যত্রই বা রেহাই মিলছে কই! 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:f1a3:df78:67b8:4ba3 | ২৯ অক্টোবর ২০২১ ০৯:১১500376
  • 'বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হানাহানির দায় ভারতবর্ষের মুসলমানদের নয়। ত্রিপুরার মুসলমানদের নয়। অসমের মুসলমানদের নয়। পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের নয়
    - দায় বাংলাদেশের ​​​​​​​সব মুসলমানেরও ​​​​​​​নয়। ​​​​​​​সংখ্যালঘু-দের আক্রমণের প্ল্যান ​​​​​​​যারা ​​​​​​​ছকেছেন, ​​​​​​​যারা ​​​​​​​সরাসরি ​​​​​​​এতে ​​​​​​​জড়িত,  এবং ​​​​​​​যারা ​​​​​​​এই ​​​​​​​হানাহানি ​​​​​​​সমর্থন ​​​​​​​করছেন - দায় ​​​​​​​তাদের।  এদের ​​​​​​​বাইরে ​​​​​​​বহু ​​​​​​​মানুষ ​​​​​​​আছেন বাংলাদেশে, বহু ​​​​​​​মুসলমান ​​​​​​​আছেন, ​​​​​​​যারা অসম্প্রাদায়িক, ​​​​​​​এবং এর ​​​​​​​বিরোধিতা ​​​​​​​করেছেন 
  • Sumona Choudhury | ২৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:৩৬500383
  • @অরণ্য, এর দায় বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমান নাগরিকের নয় বলেই 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' শব্দটি ব্যবহার করেছি বারে বারেই। বাংলাদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সমস্ত মানুষ এই হিংসা হানাহানির বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন, রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের দাবী তুলেছেন ---সে কথাও বিশদে বলা হয়েছে লেখাটিতে। 
     
    অবশ্যই দায় শাসকের। কেননা শাসকের মদত ছাড়া কোনো দেশেই দাঙ্গা হাঙ্গামা জেনোসাইড চলা সম্ভব নয়।  
  • aranya | 2601:84:4600:5410:99cc:ca0f:cf3a:5d29 | ২৯ অক্টোবর ২০২১ ২১:৩৪500394
  • সুমনা, অবশ্যই আপনি লিখেছেন।
    বাংলাদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সমস্ত মানুষের মধ্যে ​​​​​​​যে ​​​​​​​অনেক ​​​​​​​মুসলমান-ও  ​​​​​​​আছেন, এই পয়েন্ট -টা আলাদা করে বলতে চেয়েছি, কারণ মুসলিম-দের শত্রু হিসাবে দেখানোর চেষ্টা তো জারি রয়েছে। 
    ত্রিপুরা-তে যা ঘটছে, খুবই জঘন্য। এই বিজেপি, আরএস এস যেখানেই যায়, পরিবেশ বিষিয়ে তোলে 
  • r2h | 2405:201:8005:9947:440f:9df5:563e:f667 | ২৯ অক্টোবর ২০২১ ২২:৪২500396
  • "দাঙ্গা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে উদয়পুর, কৈলাশহর, ধর্মনগর, পানিসাগর ইত্যাদি অঞ্চলেও। " - ত্রিপুরায় দাঙ্গা হচ্ছে নাকি? 

    যা হচ্ছে তা ন্যক্কারজনক ও জঘন্য, কোন নিন্দাই তার জন্যে যথেষ্ট না। কিন্তু দাঙ্গার গুজব ছড়ানোও কিছু ভালো কাজ না।

    'দাঙ্গার গুজব' লিখে আর ত্রিপুরার ইতিহাসের কুখ্যাততম সময়, জুনের দাঙ্গা মনে পড়লো। উনিশশো আশি।
  • Sumona Choudhury | ৩০ অক্টোবর ২০২১ ২৩:০১500470
  • দাঙ্গা হচ্ছে নাকি মানে?
  • r2h | 2405:201:8005:9947:bd7d:8e05:5183:a22d | ৩০ অক্টোবর ২০২১ ২৩:২৫500471
  • মানে আমি প্রশ্ন করছি, দাঙ্গা হচ্ছে নাকি? 
     
  • r2h | 2405:201:8005:9947:3973:6dc8:c34b:493f | ৩১ অক্টোবর ২০২১ ০০:১৩500473
  • আবারও, যা হচ্ছে আর যা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা ভয়ানক ও যেকোন মূল্যে আটকানো দরকার। কিন্তু যেখানে স্থানীয় খবরের কাগজগুলিতেও দাঙ্গার কোন খবর নেই, এমনকি পার্টির মুখপত্র ডেইলি দেশের কথাতেও উস্কানীমূলক হামলা বলা হচ্ছে, জমিয়ত উলামা হিন্দও বলছে অশান্তি ও ষড়যন্ত্র। হামলা, ষড়যন্ত্র, আর দাঙ্গা এক নয়।
    সেখানে উদয়পুর কৈলাশহর ধর্মনগরে দাঙ্গা - নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র ছাড়া এটা বলা দাঙ্গার গুজবের থেকে বেশি কিছু না। দাঙ্গার গুজব থেকে কিভাবে দাঙ্গা ছড়ায় সেটা আশির জুনে দেখেছি। খুবই ছোট ছিলাম, কিন্তু ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে মনে আছে।
    তাই সব পক্ষেরই দায়িত্ব আছে গণমাধ্যমে লেখার সময় একটু মেপে লেখার।

    ত্রিপুরার খবরের কাগজগুলি খুব একটা প্রোবিজেপি নয়, বিশেষ করে কদিন আগের হামলার পর তো আরোই। দৈনিক সংবাদ মোটামুটি ব্যালেন্সড ইদানীং, তবু বড় প্রতিষ্ঠান, ক্ষমতাকে সামলে চলবে তা ধরে নেওয়া যায়, কিন্তু এর বাইরেও বাম মনোভাবাপন্ন কাগজও আছে কিছু। সেসব কাগজ কোথাও বলছে, ঐ গুরুত্বপূর্ণ জেলা সদরগুলিতে দাঙ্গা হচ্ছে? ডেইলি দেশের কথাও দাঙ্গা বলছে না, যদিও ডেইলিকে আমি বিশাল অথেন্টিক কিছু ধরতে নারাজ, বিশেষ করে এইটা মনে রেখে যে ত্রিপুরার ভয়াবহতম দাঙ্গাটি হয়েছিল বাম আমলে, এবং আজকাল এই জনপ্রিয় কথাটা সবাই জানে যে সরকার না চাইলে দাঙ্গা হয় না। অবশ্যই এই কথা অনস্বীকার্য যে পরবর্তী কালে বাম সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফেরাতে উদাহরণযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে।

    হামলা, অশান্তি, ষড়যন্ত্র - এগুলো ভয়ানক, কিন্তু এগুলোকে দাঙ্গা বলে দিলে একটা বিপুল পরিমান জনতাকে জাতিহিংসায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত ত্রিপুরার সাধারন মানুষ অত্যন্ত সংযত। কোন রকম অত্যুৎসাহী কয়েনেজে সেই সংযম ভেঙে গেলে তার দায় নিতে কেউ আসবে না, সেটাই চিন্তা।
     
  • santosh banerjee | ০২ নভেম্বর ২০২১ ১২:১৭500588
  • এ এমন এক দুর্ভগা দেশে আমাদের বাস (ভারত বর্ষের কথা হচ্ছে) যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অছিলায় অজুহাতে কখনো সোজাসুজি কখনো কৌশলে সঙখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বিষোদগার করেন। তাঁর সহযোগী গৃহ মন্ত্রী তো সোজাসুজি উস্কানি দেন সঙখালঘু দের উৎখাত, মেরে ফেলা এবং নির্যাতনের দাওয়াই দেন। হিংস্র হিন্দু মৌলবাদী সঙগঠন আর এস এস আর নেতাদের , মন্ত্রী দের উস্কানি অনবরত হয়ে চলে , কিন্ত ঐ অসভ্য বর্বর পার্টির চেয়ারম্যান আর পারিষদ জন নিশ্চুপ থেকে এর পরোক্ষ সমর্থনে সামিল হন।অন্য দিকে ? শুভ বুদ্ধির মানুষ , তথাকথিত বিরোধী দল গুলো নিজেদের মধ্যেই দ্বিধা বিভক্ত, আখের গোছানোর জন্য কোলাহল রত।পুরো জাতি টাকে নাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়া আরকি। আমরা ভবিষ্যৎ সময়ে কি হবে ভাবছি। কিন্তু বর্তমান? এখন? ঐ ধর্মের আখাড়া আর কিছু মিথ্যে বাদী দের তৈরী করা ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইস্কুল আর জন মানষের মগজে । পরিত্রাণ? আছে, কেন নেই? খুনী কে খুনী বলা... চোর কে চোর.. দাঙ্গা বাজকে দাঙ্গা বাজ আর বর্বর কে বর্বর বলার সাহস থাকলে সব হয় । তাই, ঐ শুয়োরের বাচ্চারা আসল ব্যাধি ।আর ওদের নির্মূল করলে পালাবার পথ পাবেনা এই মৌলবাদী মূর্খরা। এবং.. পন্থা হলো "" মূরখস্য লাঠঠৌষদ"" । মূর্খদের জন্য লাঠি ই অস্ত্র!! 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন