এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে

  • ওরছা

    দীপাঞ্জন মুখোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে | ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ৪২০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলা রাজপুতরা ছিল চান্দেলদেরই মত আরেকটি রাজপুত রাজাদের বংশ , এক বিন্দু রক্ত থেকে যাদের জন্ম বলে বংশের নাম বুন্দেলা। মধ্যযুগে চান্দেলদের পতনের পরে বুন্দেলাদের রাজ্যের এলাকা পরিচিত হয়ে ওঠে বুন্দেলখন্ড নামে। টিকমগড়ের কাছে গড় কুন্দর ছিল বুন্দেলা রাজপুত বংশের রাজধানী। এই সিরিজে মধ্যপ্রদেশের খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ নদী বেত্রবতীর কথা আগেও এসেছে। যমুনার এই উপনদীর ধারেই আছে উজ্জয়িনী ইত্যাদি প্ৰাচীন জনপদ। পনেরোশো সালে রুদ্রপ্রতাপ সিং বুন্দেলা জঙ্গলের মাঝে বেত্রবতী নদীর ধারে ওরছার পত্তন করেন এবং রাজধানী সেখানে সরিয়ে আনেন। ওরছা শব্দের অর্থ গোপন। কালক্রমে নদীর সংস্কৃত বেত্রবতী নামটা বুন্দেলি ভাষায় অপভ্রংশে বেতওয়া হয়ে যায়। 

    রুদ্রপ্রতাপের বড় ছেলে ভারতিচাঁদ অপুত্রক অবস্থায় মারা যান। রাজা হন তার ভাই মধুকর শাহ। আকবরের সঙ্গে মধুকরের যুদ্ধ লেগেই থাকত। আকবর নামা , আইন ই আকবরীর লেখক আবুল ফজল যুবরাজ সেলিমের [জাহাঙ্গীর] রাজা হবার বিরোধী ছিলেন। দাক্ষিণাত্য থেকে ফেরার সময় গ্বলিয়রের কাছে জাহাঙ্গীরের অনুগত আরেক বুন্দেলা রাজপুত বীর সিং দেও তাকে গুপ্তহত্যা করেন। আবুল ফজলের কাটা মাথা জাহাঙ্গীরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মধুকর মারা যাবার পর জাহাঙ্গীর ওরছা শাসন করার দায়িত্ত্ব দিলেন সেই বীর সিং দেওকে। বীর সিং দেওয়ের পর তার ছেলে ঝুঝর সিং রাজা হয়ে আবার তৎকালীন শাহজাহানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন কিন্তু কিশোর ঔরঙ্গজেবের নেতৃত্বাধীন মুঘল সেনাদলের কাছে হেরে গেলেন। দাক্ষিণাত্যের দিকে পালিয়ে যাবার সময় গোলকোন্ডার কাছে গোন্দদের হাতে ঝুঝর সিং মারা যান এবং তারও কাটা মাথা শাহজাহানের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শাহজাহান আবার ঝুঝর সিংয়ের ভাইকে ওরছার সিংহাসনে বসালেন। সতেরশো সালের শেষ দিকে বুন্দেলা রাজধানী আবার টিকমগড়ে সরে যায়।
     
    বর্ষাকালে ভোর পাঁচটার সময় যখন দক্ষিণ এক্সপ্রেস থেকে ঝাঁসি স্টেশনে নামলাম , তখন "আলো ক্রমে আসিতেছে। এ নভোমণ্ডল মুক্তাফলের ছায়াবৎ হিম নীলাভ।" দক্ষিণ এক্সপ্রেস চলে গেল ভোপাল হয়ে হায়দ্রাবাদের দিকে। 
     
    অটোওলারা বলল শেয়ার করে কুড়ি টাকায় ঝাঁসি বাস স্ট্যান্ড চলে যান। সেখান থেকে আবার শেয়ারে ওরছা যাবার অটো পেয়ে যাবেন। সেই মত ঝাঁসি বাস স্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছে দেখা গেল এত ভোরবেলা একটা মাত্র অটোয় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে একজন চেঁচাচ্ছে - "ওরছা ওরছা ওরছা" , আর বাকি রাস্তায় নানারকম বাসযাত্রীদের ভিড়।  
    এত ভোরবেলা সহযাত্রী পাওয়া যাচ্ছেনা বলে আধঘন্টা অটোতেই বসতে হল। এত তাড়াতাড়ি ওরছার টিকিট কাউন্টার খুলবে না বলে আমারও তাড়া নেই।
     
    যাবার রাস্তাটা দুলেনের হলেও চকচকে। দুদিকের উঁচু কাঁটাতার দেওয়া জঙ্গল থেকে একটা বোঁটকা গন্ধ আসছে। একজায়গায় গিয়ে ডানদিকে বেঁকলে ওরছা। না বেঁকে সোজা এগোলে দু তিন ঘন্টা বাদে খাজুরাহো। এখান থেকেও গাড়িতে খাজুরাহো যাওয়া যায়।
     
    ঝাঁসি উত্তরপ্রদেশ কিন্তু ওরছা মধ্যপ্রদেশে। ওই জায়গার ম্যাপটা গোলমেলে খুব। বারবার এই উত্তরপ্রদেশকে ভেঙে এবং মধ্যপ্রদেশের কিছুটা নিয়ে আলাদা বুন্দেলখন্ড রাজ্য তৈরির দাবি উঠেছে। বহুজন সমাজবাদী পার্টির ২০১১ উত্তরপ্রদেশ মন্ত্রিসভায় রাজ্যকে চার ভাগে ভেঙে তার মধ্যে একটা ভাগ দিয়ে বুন্দেলখন্ড তৈরীর প্রস্তাব পাসও হয়েছিল। ২০১৪য় বিজেপি এবং কংগ্রেস উভয় দলই বলেছিল লোকসভায় জিতলে তিন বছরের মধ্যে বুন্দেলখন্ড হবে। এখনো হয়নি। 
     
    ওরছা খাজুরাহোর মতই ছোট মফস্বল জায়গা। আধঘন্টা বাদে অটো নামিয়ে দিল একটা চার মাথায়। ডানদিকে রামরাজা এবং চতুর্ভুজ মন্দির। বাঁদিকে আদাওয়ারা সেতু এবং ওরছা দুর্গ। সোজা গেলে বেতওয়া নদী। নদী পেরিয়ে ওরছা অভয়ারণ্য। অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে রাস্তা চলে গেছে টিকমগড়ের দিকে। ভাড়া চল্লিশ টাকা। দেবার সময় টাকাটা অটোচালক অটোর হ্যান্ডেলে ঠেকিয়ে কপালে ঠেকালেন , তারপর বুকপকেটে ঢোকালেন। এযাবৎ যত জায়গায় অটোতে যাতায়াত করেছি , অন্য কোনও জায়গার অটোচালকদের এটা করতে দেখিনি। দুপুরবেলা ঝাঁসি ফেরার সময়েও একই জিনিস দেখেছি।
     
    বেতোয়া থেকে কাটা একটা খালের [পরিখা] ওপরের আদাওয়াড়া সেতু পেরিয়ে ওরছা দুর্গে ঢোকার কাঠের কান্টিলা দরজা। দরজায় লোহার সুঁচলো শূল বসানো যাতে হাতি দরজা ভাঙতে না পারে।
     
     
    ওরছা কেল্লা খুলবে সকাল সাড়ে সাতটায়। একটা পঞ্চাশ টাকার টিকিট এখান থেকেই কাটতে হয়। ওরছার এই জায়গাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করে মধ্যপ্রদেশ সরকার , ASI নয়। কেল্লা ছাড়াও বেতোয়া নদীর ধারের ছত্রী বা লক্ষ্মী মন্দিরের মত বাকি সমস্ত জায়গায় যেতে গেলেই ওটা দেখতে চাইবে। তাই আদাওয়াড়া সেতু না পেরিয়ে বেতওয়া নদীর ঘাটের দিকে চললাম। দশমিনিট হেঁটে বেতোয়ার ওপরের পাকা সেতুর পাশে ডানদিকে নেমে গেলেই ওরছার ঘাট। 
     
    ঘাট থেকে তোলা বুন্দেলা রাজাদের ছত্রীগুলো। ঘাটে ভোরবেলা স্নান করছে লোকজন। নদীর জল ঘোলাটে। 
     
    ছত্রী [cenotaph] গুলো রাজাদের স্মৃতিচিহ্ন ধরণের বাড়ি , 'নগর' স্টাইলের মন্দিরের কায়দায় বানানো। ভেতরগুলো পুরো ফাঁকা , কোনও সমাধি অথবা বেদী নেই। 
     
    ঘাটের পাশে রুদ্রপ্রতাপ সিংয়ের ছত্রী। এটা ছাড়া বাকি ছত্রীগুলো পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। 
     
    ওরছা ঘাট থেকে বড় রাস্তায় যাতায়াতের পথ। ওরছার বড় রিসোর্টগুলো সব এই রাস্তার পাশে। 
     
    ওরছা দুর্গর পাঁচিল অনেকটা জায়গা নিয়ে ঘেরা হলেও প্রধান দুটো প্রাসাদ - রাজ মহল এবং জাহাঙ্গীর মহল আছে কেল্লার মাঝখানের অল্প উঁচু টিলার ওপর। আর টিলার নিচে ছড়ানো আছে বুন্দেলাদের অনুগামী কিছু পরিবারের বাড়ির অবশেষ অথবা জমি। প্রথমে ভাবলাম ওপরে না উঠে চারদিক ঘুরে দেখা যাক। রাস্তা করা আছে , পিছন দিক দিয়েও পাহাড়ের ওপর ওঠা যায়। 
     
    কিন্তু অচিরেই এই বাড়িগুলোর ভগ্নদশা দেখে খারাপ লাগতে শুরু করল। বাড়িগুলোর বাইরে 'প্রোটেক্টেড মনুমেন্ট'র বোর্ড ঝুলছে অথচ দেওয়াল ধসে যাচ্ছে , স্তম্ভ ধরে লতিয়ে উঠছে গাছ। একেবারে প্রথমদিকে যেমন আছে রাইমন দাউ এবং কেল্লার রসলদারের [আস্তাবলের প্রধান] বাড়ি। তারপর মধুকর শাহর ছেলে রাজপুত্র ইন্দ্রজিৎ সিংয়ের বিশিষ্ট বান্ধবী, কবি এবং সুগায়িকা রাই প্রবীনের মহল। ওরছার রাজকবি কেশবদাস তাকে সমসাময়িক মান্ডুর বাজ বাহাদুরের রানী রূপমতী এবং গ্বলিয়রের রাজা মান সিং তোমারের রাণী মৃগনয়নীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। [এটা বাড়ির সামনের সরকারী বোর্ডে লেখা ছিল] অথচ বাড়িটা বাইরে থেকে শিকল তুলে তালা লাগানো। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় আগাছা বাড়ছে উঠোনে। 
     

    কেল্লার পিছনদিকে তিন দাসী মহলের দিকে যাবার রাস্তা 
     
    তিন দাসী মহল। রাজপ্রাসাদের দাসীরা এই তিনটে বাড়িতে থাকতেন। 
     
    তারপর আছে মুকুটমণি গাউর , বাকাস রাই , হিম্মা হামীর এদের বাড়ীর অবশিষ্ট সমূহ। এরা রাজবংশের অনুগামী এবং নিজেদের বাড়িগুলোকে রাজভবনের অনুকরণে ছোট ছোট ‘জন ভবন’ বানিয়েছিলেন। আঠেরোশোতেতে রাজপ্রাসাদ টিকমগড়ে সরে যাবার পর এসব জায়গা ক্ষুধিত পাষাণ বা তেলেনাপোতা হয়ে গেছে। বাড়িগুলোর উঠোনে আগাছার ভিড়। গরু মোষ আর ছাগল চরছে। দূরে মাঠে মাটি কোপাচ্ছে নর নারী। বাচ্চারা ধুলো নিয়ে খেলছে। মধ্যপ্রদেশ সরকারের পুরাতত্ত্ব বিভাগ কেল্লার এই বাড়িগুলোর ভালোভাবে যত্ন নিচ্ছে না। দরকার হলে তাদের এ এস আইয়ের সাহায্য নেওয়া উচিত।
     
     
    দুর্গের পিছন দিক থেকে জাহাঙ্গীর মহল। জাহাঙ্গীরকে ওরছায় আপ্যায়ন করার জন্য বীর সিং দেওর আলাদা করে নির্দেশ দিয়ে তৈরী করানো এই মহল ভারতের মধ্যযুগের ইন্দো ইসলামিক স্থাপত্য গুলোর মধ্যে অন্যতম।

    জাহাঙ্গীর মহলে ওঠার রাস্তা। 
     
    সামনের উঠোনের দিক থেকে জাহাঙ্গীর মহল। এত সিমেট্রিক প্রাসাদ সত্যি খুব কম দেখেছি।
     
    কেল্লার শিশমহলটা এখন মধ্যপ্রদেশ সরকারের হোটেল।
     
    জাহাঙ্গীর মহলের ভেতরের চত্ত্বর। এই মহলের সবথেকে বিখ্যাত এবং প্রচারিত ছবি। 
     
    পিছন দিকের উঠোন থেকে জাহাঙ্গীর মহল। দেওয়ালের গায়ে একসময় নীল রঙের ছোট ছোট অলংকরণ ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চটে যাচ্ছে। 
     
    মহলের পিছনের উঠোনের তোরণ। 
     
    মহলের চার দিকেই ওপরে ওঠার জন্য উঁচু উঁচু সিঁড়ি আছে। সেরকম সিঁড়ি দিয়ে উঠে এসে দোতলার বারান্দা থেকে উঠোন।  
     
    জাহাঙ্গীর মহলের ছাদ থেকে। এখানেও কার্নিশের গায়ে নীলরঙের বাক্সের সারি। ক্যানোপিগুলোর গায়ে এককালে গাঢ় নীল রঙ ছিল বোঝা যায়। 
     
    পিছনের উঠোনে আয়তাকার উঁচু সিলিং ওয়ালা বাড়িটা উট খানা। কেল্লার সেনাবাহিনীর উটদের রাখা হত। আরো দূরে দেখা যায় বেত্রবতী নদী এবং নদী পেরিয়ে ঘন বন। 
     
    এটাই সেই সুগায়িকা রাই প্রবীনের মহল। ভিতরের উঠোনটা বেশ বড়। 
     
    সামনের দিকে রাজা মহল , আরো দূরে দেখা যাচ্ছে চতুর্ভুজ মন্দির এবং বাঁদিকে বেতোয়া নদীর ধরে ছত্রীগুলো। 
     
    এই মারাত্বক সিমেট্রিক ছবি তোলার অজুহাত ছাড়া জাহাঙ্গীর মহলে আর কিছু নেই। একতলার ছাদে অল্প কিছু অলংকরণ এবং কার্ণিশের কাছে ছোট হাতি , ঘোড়া , সৈন্যদের মূর্তিদের সারি। এতবড় প্রাসাদে ঘরের সংখ্যা খুব কম। বোঝা যায় এটা প্রতিদিন বসবাসের জন্য বানানো হয়নি। অতিথি জাহাঙ্গীরকে জাঁকজমক দেখানোটাই লক্ষ্য ছিল। নেমে এবার সামনের রাজমহলের দিকে এগিয়ে যাওয়া। 
     
    রাজমহল বরং অনেক বেশি সময় এবং জায়গা নিয়ে বানানো। রাজা এবং রাজপরিবারের থাকার জন্য এই মহল বানানো শুরু করেন রুদ্রপ্রতাপ , শেষ করেন মধুকর শাহ। ভেতরে দুটো চত্ত্বর আছে। প্রথমটাকে ঘিরে চারতলা মহল। ভেতরেরটাকে ঘিরে পাঁচতলা মহল। এই মহলের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে বাইরের ঘরগুলোতে ছাদে এবং ভেতরের মহলের ঘরগুলোতে দেওয়ালে করা রঙিন ফ্রেসকো। প্রধাণত বিষ্ণুর দশাবতার , রামায়ণ এবং রাজাদের জীবনযাত্রার গল্প গুলোকে আঁকা হয়েছে বুন্দেলা চিত্রশিল্প ঘরানায়। ফ্রেসকোগুলোর জন্য ক্যামেরার ফ্ল্যাশ মারা বারণ। ছবিগুলোতে বিষয়ের পুনরাবৃত্তি আছে।
     
    রাজমহলের বাইরের দিকের চত্ত্বর। 
     
    বাইরের চত্ত্বরের সিলিংয়ের ছবিগুলি মাঝে মাঝে চলটা খসে পড়েছে অথবা ঝাপসা। 
     
    রাজ মহলের ভেতরের চত্বর। ওই প্রায় অন্ধকার ঘরগুলোর মধ্যেও ফ্রেসকো করা আছে। 
     
    অল্প আলোতে তোলা ভেতরের ঘরের ফ্রেসকো 
     
    রাম সীতা এবং হনুমান। মধুকর শাহর স্ত্রী ছিলেন রামের ভক্ত।  
     
     
     
    নিচের ফ্রেমে বিষ্ণুর কল্কি অবতার 
     
    নীচের ফ্রেমে অনন্ত শয্যায় বিষ্ণু 
     
    এছাড়াও অন্যরকমের কয়েকটা ফ্রেসকো 
     
     
     
    তিনতলা থেকে ভেতরের সিমেট্রিক্যাল উঠোন। দূরে জাহাঙ্গীর মহল দেখা যাচ্ছে। 
     
    সামনে চতুর্ভুজ মন্দির। এবার কেল্লা থেকে বেরিয়ে ওদিকে যাব। 
     
    কেল্লা থেকে বেরিয়ে আবার খালের ওপরের সেতু পেরিয়ে বাঁদিকে অল্প গেলেই আকবরের সময় মধুকর শাহের আমলে অদ্ভুত একমেবাদ্বিতীয়ম স্টাইলে বানানো সেই মন্দির। মন্দিরটা দূর থেকে দেখতে যেরকম লাগছিল , সামনে থেকে কিন্তু অত বড় বলে বোঝা যায় না। 
     
    সামনে থেকে দেখলে পিছনের গোপুরমগুলো ঢেকে যাচ্ছে। এটা ওরছার মন্দির /ছত্রীগুলোর স্থাপত্যকীর্তির একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট। 
     
     
    চতুর্ভুজ মন্দির থেকে পিছনের দিকে এক কিলোমিটার মত হাঁটলে পাহাড়ের ওপর লক্ষ্মী মন্দির। রাস্তার দুদিকের দোকানে অলস মেঘলাবেলার ভিড়। বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে। 
     
    লক্ষ্মী মন্দিরও ষোলোশোতে বীর সিং দেওর বানানো। এর আকারটাও অদ্ভুত সিমেট্রিক্যাল। দুদিকে দুটো ছড়ানো করিডর। 
     
    এই মন্দিরের করিডরের ছাদেও সুন্দর সব ফ্রেসকো আছে। এই ফ্রেস্কো গুলোর অবস্থা রাজমহলের থেকে ভালো। 
     
    রাধা কৃষ্ণের গল্প। মধুকর শাহ ছিলেন কৃষ্ণ ভক্ত।  
     
    রামায়ণের যুদ্ধ 
     
    নানা রকম রঙের ব্যবহার
     
    দুর্গ পরিখার ভেতর রাজকার্য চলছে। পরিখার ওপর অস্ত্রসহ রক্ষীরা। 
     
    রাজমহলের উঠোনে গানবাজনা হচ্ছে। রাজপরিবারের নারীরা দোতলায় বসে দেখছেন। 
     
    মন্দিরের ভেতরের দালান 
     
    পাশের দিক থেকে মন্দিরের ছাদে
     
    সামনে থেকে দেখলে সামনের শিখরটা পিছনের শিখরে ক্যামোফ্ল্যাজ হয়ে যাচ্ছে 
     
    এছাড়াও মন্দিরের ভেতরে পাঁচিলের নীচের দিকগুলোয় চৌকো চৌকো বাক্সে লাল রঙে রাজা রাণীদের অন্তঃপুরের ছবি আছে। 
     
    এরকম 
     
    লক্ষ্মী মন্দিরের দরজা থেকে দূরে রাজমহল , চতুর্ভুজ মন্দির ইত্যাদি। 
     
    এখান থেকে বেরিয়ে আবার ছত্রীগুলোর দিকে চলি। এখন টিকিট আছে বলে ঢুকতে দেবে। 
     
    ছোট বড় মিলিয়ে মোট পনেরোটা ছত্রী আছে বেত্রবতী নদীতীরে। 
     
    সাড়ে এগারোটা নাগাদ ঝাঁসি ফেরার অটোতে উঠলাম। তিনটের সময় গতিমান এক্সপ্রেস ছাড়বে দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিনের জন্য। হাতে সময় আছে বলে ঝাঁসি কেল্লাটা দেখে নেওয়া যাবে। 
     
     
    বর্তমান ঝাঁসী কেল্লা এবং তাকে ঘিরে পুরোনো জনবসতিও বীর সিং দেওর বানানো। তার আগে কেল্লাটা চান্দেল বংশের রাজাদের ছিল। সতেরোশো সালে উত্তরপ্রদেশের ফারুকাবাদের নবাব মহম্মদ খান বাঙ্গাশ বুন্দেলা রাজা ছত্রশালকে আক্রমণ করলে মারাঠা পেশোয়া বাজিরাওয়ের সাহায্যে ছত্রশাল মুঘল সেনাদের পরাস্ত করেন এবং প্রতিদান হিসেবে ছত্রশাল ঝাঁসি তুলে দেন মারাঠাদের হাতে। আঠেরোশোর মাঝামাঝি কাশীর মণিকর্ণিকা তাম্বে ঝাঁসির মারাঠা রাজা গঙ্গাধর রাওকে বিয়ে করেন এবং ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। গঙ্গাধর রাও মারা যাবার পর ডালহৌসী তাদের দত্তক পুত্রকে রাজা মানতে অস্বীকার করে স্বত্ববিলোপ নীতি [ডকট্রিন অফ ল্যাপস] প্রয়োগ করলেন। রাণীকে বার্ষিক একটা ভাতা দিয়ে ঝাঁসীর কেল্লা ছেড়ে চলে যাবার হুকুম দেওয়া হয়েছিল। 
     
     
    ঝাঁসি বাসস্ট্যান্ড থেকে টিলার ওপর কেল্লা যাবার অটো একশো টাকা। যেতে যেতে অটোওলার দাবি ঝাঁসিতে শিল্পাঞ্চল হচ্ছে এবং চাষীরা স্বেচ্ছায় জমি দিচ্ছে। মেট্রোরেল প্রজেক্ট হচ্ছে। ঝাঁসি বদলে যাচ্ছে। আগে কেল্লা ভালভাবে রক্ষনাবেক্ষন হত না, কেন্দ্র থেকে পয়সা যা আসত এখানে মেরে দিত রাজ্য সরকার। এখন ব্যাপার স্যাপার নাকি অনেক উন্নত। 
     
    ১৮৫৭তে বাংলার পদাতিক রেজিমেন্টের বিদ্রোহী সেনাদের একটা দল ঝাঁসিতে ইংরেজদের তৈরী কেল্লা স্টার ফোর্ট দখল করে। ঝাঁসির কেল্লাও তারা হামলা করার হুমকি দিয়েছিল কিন্তু রাণীর থেকে মোটা টাকা পেয়ে চারদিন বাদে বিদ্রোহীরা ঝাঁসি ছেড়ে চলে যায়। কয়েকটা মাস ঝাঁসি ইংরেজশূন্য হয়ে পড়ায় লক্ষ্মীবাঈ আবার রাণীর ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। ঝাঁসিতে পুনরায় ইংরেজদের আগমন রাণী মানতে না চাওয়াতে ১৮৫৮ সালে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জেনারেল হিউ রোজ ঝাঁসি কেল্লা অবরোধ এবং দখল করেন। 
     
     
     
    দুর্গের পাঁচিলটা যথেষ্ট পুরু
     
    পুরু প্রাচীরের ওপর হাঁটার জায়গা 
     
    এই দিক থেকে লক্ষ্মীবাঈ তার দত্তক পুত্র সহ বাদল নামক ঘোড়ার পিঠে চেপে বিখ্যাত ঝাঁপ দিয়েছিলেন। রাস্তায় তাঁতিয়া টোপির সঙ্গে দেখা হবার পর তারা গ্বলিয়র চলে যান। ১৮৫৮ সালে আবার হিউ রোজের সঙ্গে গ্বলিয়রের যুদ্ধে রাণীর মৃত্যু হয়। 
     
     
    এছাড়াও কেল্লাটার ভেতরে আছে রাণীর পাঁচতলা মহল যার নীচের তিনটে মহল সামনে থেকে দেখা যায় না। আমোদ বাগান এবং ফাঁসি দেবার মিনারও আছে। বৃটিশরা কেল্লা দখল করার পর আরো কিছু কনস্ট্রাকশন নিজেদের সুবিধার জন্য বানিয়েছিল। 
     
     
    যেমন এই স্ট্রাকচারটা
     
    শরদিন্দুর দুর্গারহস্যে কামানের নাম ছিল মোহনলাল। আর নিচে যেটা দেখা যাচ্ছে , ঝাঁসি কেল্লার এই কামানটার নাম ভবানীশঙ্কর। 
     
    কড়ক বিজলি বলে ঝাঁসি কেল্লার আরেকটা বিখ্যাত কামান। এটা কেল্লার মূল ফটক দিয়ে ঢুকে সামনের চত্ত্বরেই রাখা আছে। 
     
    [আর দুটো পর্ব বাদে সিরিজের দ্বিতীয় সিজন শেষ হবে] 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ৪২০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সমরেশ মুখার্জী | ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:০৩525403
  • ২০১৭ জানুয়ারিতে সকাল আটটায় ঝাঁসি পৌঁছে, হোটেলে চেক ইন করে, ফ্রেশ হয়ে  বাকি দিনটা আয়েশ করে ঘুরেছি‌লাম কেবল ঝাঁসি ফোর্ট - আর কোথাও যাই নি। সন্ধ্যায় লাইট & সাউন্ড শোতে ওম পুরী ও সুস্মিতা সেনের ভাষ‍্যে শুনেছি‌লাম ঝাঁসি কেল্লার ইতিহাস। সেসব ভুলে গেছি কিন্তু অন্ধকার কেল্লা চত্বরে সেই L&S এর অভিঘাত মনে রয়ে গেছে। অমন আরো দুটি L&S অনবদ‍্য লেগেছিল - দুটি‌ই অমিতাভের ব‍্যারিটোন ভয়েসে - খাজুরাহোতে কাণ্ডারিয়া মন্দির চত্বরে এবং গোলকোন্ডা ফোর্টৈ। কম খরচে ৫০০ এর মধ‍্যে বাজেটে বেড়ানোর টার্গেট করলেও - এগুলো আমি মিস করি না।
     
    সেবার দ্বিতীয়‌ দিন পুরোটা ছিলাম ওর্ছায়। গেছি রাই প্রবীণ মহলের দোতলায়  - বসে থেকেছি চুপচাপ একাকী কিছুক্ষণ - অনুভব করতে চেয়েছি ঐখানে তিনি প্রেমিক যুবরাজের সাথে বিশ্রম্ভালাপ করছেন চাঁদনী রাতে বা প্রেমাস্পদের সামনে পেশ করছেন তাঁর নৃত‍্যসুষমা। আহা! বড় ভালো লেগেছিল। 
     
    শেষ বিকেলে গেছি অভয়ারণ্য‌র অন্দরে পাঁচমাড়িয়া সঙ্গমে। তাই আমি এই লেখাটি‌র সাথে আমি খুব রিলেট করতে পারলাম। মনে মনে ঘুরে এলাম আর একবার।
     
    তবে বুন্দেলা নামের উৎপত্তি জানা ছিল না। আপনার লেখা‌য় জানলাম। 
     
    তখন দেখেছি দিল্লির এক সংস্থা সংরক্ষণের বরাত পেয়ে লক্ষ্মী মন্দিরের অন্দরে সংরক্ষণের কাজ করছি‌লেন। 
  • সমরেশ মুখার্জী | ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:২০525404
  • গেটে শিকল ছিল বলে আপনি রাই প্রবীণ মহলের অন্দরে যেতে পারেননি - সেই আক্ষেপের কিছুটা উপশম করছি আমার ২০১৭তে ভিতরে গিয়ে তোলা ছবির তিনটি এখানে রেখে। ঘোড়স‌ওয়ার বা  সুন্দরী রাই প্রবীণের নৃত‍্যরতা চিত্র অমন মিশমিশে কালো কেন করা হয়েছে - বুঝি‌নি। চিত্রগুলি তখনকার নয় হয়তো, হালে আঁকা হয়েছে বলে মনে হয়
     
  • যোষিতা | 194.56.48.105 | ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১৪:১১525405
  • এই মানুষটা যেমন সুন্দর ছবি তোলে, তেমনি বেড়িয়ে বেড়ায়।
  • | ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১৪:৪১525407
  • আ: দীপাঞ্জন ছবিগুলো ভারি ভাল। 
  • হীরেন সিংহরায় | 2a00:23c7:672e:2001:308a:f428:f06f:1986 | ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:২৩525409
  • আপনার চোখ দিয়ে বুনদেলখনড দেখলাম ! ছবি কথা বলে বর্ননা গুলি অত্যন্ত সুন্দর 
  • kk | 172.58.187.29 | ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:৩৭525414
  • খুবই ভালো লাগলো। বাড়িগুলোর স্থাপত্য এত সুন্দর! আর জাহাঙ্গীর মহলের পেছনে ঐ তোরণের কারুকার্য্য তো অসাধারণ। আর অন্য সবকিছুর মধ্যে আমার সবথেকে ভালো লেগেছে ঐ যে একটা মিনারে লাল রঙের কাজ করা, সেইটা। ফ্রেস্কো গুলোও খুবই ইম্প্রেসিভ। এত সুন্দর সুন্দর কাজ সময়ের প্রকোপে কী ভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভাবলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। এদিকে 'বুন্দেলা'দের, বুন্দেলখন্ডের ইতিহাস পড়লেই আর আমার ক্যাপ্টেন নিমো'র কথা মনে হয় :-)
  • দীমু | 182.69.183.184 | ০১ নভেম্বর ২০২৩ ২৩:২৬525427
  • আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। yes
     
    সমরেশবাবু , সন্ধ্যে অবধি থাকিনা বলে L&S গুলো আমার বারবার মিস হয়ে যায়। জয়পুরের আমের কেল্লার গায়ে এবং লালকেল্লা , এই দুটো L&S আজ অবধি দেখতে পেরেছি। রাই প্রবীনের মত রাজ মহলের একটা ফ্রেসকোরও [এখানেও দিয়েছি] চারজন মহিলাদের মুখ কালো দেখলাম। হয়ত রাজপরিবারের মেয়েদের থেকে নর্তকী বা পরিচারিকাদের আলাদা করে বোঝাতে ওরকম রং ব্যবহার করা হয়েছে। 
     
    যোষিতা , দ - আসলে ছবির বিষয়গুলো খুবই ফটোজেনিক। অন্য যে কেউ মন দিয়ে তুললেও এরকমই আসবে। 
     
    কেকে , মিনার ছাড়াও ওই জায়গাটার কার্নিশের কাছেও লাল রঙের ওপর ছোট ছোট ছবি আঁকা আছে, জুম করলে
    দেখতে পাবেন। আর ছোটবেলায় পড়া বলে ক্যাপ্টেন নিমোও যে বুন্দেলা ছিলেন সেটা আমি ভুলে গেছিলাম। laugh
  • সমরেশ মুখার্জী | ০২ নভেম্বর ২০২৩ ০০:৩৯525430
  • ২০১৭ জানুয়ারিতে ওরছা ভ্রমণে দুটি ছবি বিশেষভাবে মনে রয়ে গেছে। প্রথমটি একটি মিষ্টি শিশুকন‍্যার। তার ছবি তুলছি দেখেও সে নির্বিকার‌ভাবে পূর্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। সে দৃষ্টিতে আগ্ৰহ বা বিরক্তি - কিছুই নেই। ঐ বয়সের শিশুর অমন ভাবলেশহীন চাউনি - খুব কম দেখেছি।  প্রায় সাত বছর বাদে সে এখন অনেকটা বড় হয়ে গেছে। কোথায় আছে কে জানে। কিন্তু তার ঐ খণ্ডমুহূর্তটি আমার ফোল্ডারে রয়ে গেছে। ভাবলে কেমন লাগে।

    দ্বিতীয়‌টি "নেকি কি দীওয়ার" - ওরছা নগরপালিকা আবেদন করেছেন যার যা ব‍্যবহার‌যোগ‍্য অতিরিক্ত বস্তু আছে তা যদি তারা এখানে রেখে যায় তাহলে যার প্রয়োজন আছে সে নিতে পারে। দেখলাম দড়িতে কেউ কিছু পুরোনো জামাকাপড় ঝুলিয়ে রেখে গেছে। হয়তো কেউ নেবে।
     
     
  • দীমু | 182.69.183.184 | ০২ নভেম্বর ২০২৩ ০১:২১525433
  • হ্যাঁ বয়সের তুলনায় বাচ্চাটি বেশ গম্ভীর। দাতব্য বস্ত্রালয়ের চিন্তাটিও ভালো লাগল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন