এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  অর্থনীতি

  • অর্থনীতি ও নোবেল পুরস্কার ২০২২ ৯ম ও  শেষ পর্ব 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | অর্থনীতি | ১০ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৩৩২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৪ জন)
  • অর্থনীতি ও নোবেল পুরস্কার ২০২২

    আমেরিকান সরকারের একটি বিশেষ প্রযুক্তি বিদ্যা আছে- তার নাম টাকা ছাপার কল  ( বা আজকের  ইলেকট্রনিক সমতুল )। তা দিয়ে ইচ্ছেমতন আমেরিকান ডলার বানানো যায় , বিনা খরচায় ।*

    বেঞ্জামিন বেরনানকে
    গভর্নর , ফেডারাল রিজার্ভ নিউ ইয়র্ক

    ২১ নভেম্বর , ২০০২

    কাঁটাকলে অর্থনীতির ক্লাসে পড়েছি অধিক সন্ন্যাসীতে যেমন গাজন নষ্ট তেমনি অধিক নোট ছাপালে অর্থ ব্যবস্থা নষ্ট । আলিপুরের মিনটে  সদ্য ছাপানো করকরে টাকার বান্ডিল নিয়ে আজ সকালের জনতা যদি একটি বিশেষ মাছ কেনার সাধু উদ্দেশ্যে আশু বাবুর বাজারে সাধুখাঁর দোকানে হাজির হয়,  তিনি তৎক্ষণাৎ দাম বাড়িয়ে দেবেন।  বেশি টাকা কম জিনিসকে ধাওয়া করলে যা ঘটে তার নাম মুদ্রাস্ফীতি।
    জিনিসের দাম বাড়ে না, টাকার দাম কমে । এর ফল যে কতটা ভয়াবহ জার্মানদের চেয়ে ভালো কেউ জানে না ( ১৯১৮-১৯১৯  এবং ১৯৪৫-৪৭) , হয়তো জিম্বাবয়ে।  

    তাহলে অর্থবিজ্ঞানী বেরনানকে কেন বললেন আমরা ইচ্ছে মতন টাকা ছাপাতে পারি, কোন অতিরিক্ত খরচা লাগবে না?

    এর উত্তর নিহিত আছে ফেডারাল রিজার্ভ ,  আমেরিকান কংগ্রেস এবং আমেরিকান ট্রেজারির  জোট বন্ধনে।

    সরকারের আয় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আদায় থেকে । ব্যয়ের কোন সীমা নেই । আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হলে কর বাড়িয়ে ঘাটতি মেটাতে হয়।  কিন্তু সে কাজটা বিশেষ জনপ্রিয় হবে কি?  আপনার পাড়ার পুলটা সারানোর জন্য কি আপনি  মুক্তহস্তে সরকারের কর তহবিলে টাকা জমা দেবেন?  দেবেন না।  কারণ আপনি জানবেন না আপনার কষ্টার্জিত টাকা ঠিক কোথায় গেলো । আমেরিকান কংগ্রেসের সদস্যদের নির্বাচনের চিন্তা মাথায় রাখতে হয় –কর বাড়ালে ভোট কেটে যাবে।

    বাজার থেকে ধার দেনা করা যেতে পারে। কিন্তু সেখানে নিয়মিত ভিক্ষা পাত্র নিয়ে দাঁড়ালে ঋণদাতা বেশি সুদ চাইতে পারেন।  অতএব ?

    স্টেজ প্রায় অন্ধকার । সেনেটার ও হাউস অফ রিপ্রেসেনটেটিভরা  চিন্তামগ্ন -   এমন সময় ডান দিকের উইং থেকে আবির্ভূত হলেন ফেডারাল রিজার্ভের  চেয়ারম্যান। বললেন বন্ধুগণ একটা সহজ উপায় আছে । আপনারা হলেন আমেরিকান সরকারের প্রতিভূ। একটা শক্ত পোক্ত কাগজের ওপরে লিখুন বন্ড বা ট্রেজারি নোট – এক বিলিয়ন ডলার ছ মাস বা এক বছর বাদে সুদ সহ দেয়।

    এবারে এই কাগুজে নোটকে ফেডারাল রিজার্ভ আখ্যা দেবে সিকিউরিটিজ অ্যাসেট – এটি একটি অ্যাসেট বা  সম্পত্তি কেন না এর দায় নিচ্ছেন স্বয়ং আমেরিকান সরকার । হাতে যখন একটা অ্যাসেট,  খেরো খাতার বাঁ দিক আলো করে আছে তখন অঙ্ক মেলানোর জন্য ডান দিকে সম পরিমাণের দায় (লায়াবিলিটি) সৃষ্টি করলে তবেই না ডাবল এন্ট্রি বুক কিপিং সম্পূর্ণ হবে ? ফেডারাল রিজার্ভ এবারে সেই অ্যাসেটের কেনা দাম ধরে একটি চেক লিখে   সরকারকে  দেবে । এই চেকটি মানে এক বিলিয়ন ডলার জমা পড়বে সরকারের আপন খাতায়।  সেই খাতা থেকে সামরিক অফিসার , রাঁধুনি,  ড্রাইভার খানসামার বেতন  জমা হবে তাদের নিজের নিজের ব্যাঙ্কে  ( আগের পর্বে ব্যাঙ্ক কিভাবে টাকা সৃষ্টি করে তার বর্ণনা দিয়েছি)  । ফেডারাল রিজার্ভের সই করা এক বিলিয়ন ডলারের চেকটি এবার নয় বিলিয়ন ক্রয় ক্ষমতা আনবে বাজারে । আমার আগের উদাহরণের সঙ্গে পার্থক্য এই যে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে আপনি একটা আসল একশো টাকার নোট জমা দিয়েছিলেন – সেটাকে কুমির ছানা দেখানোর মতন ব্যাঙ্ক অন্তত  নয় গুণ বানিয়েছে । এক্ষেত্রে কেউ কোথাও আসল একটা ডলার অবধি জমা করে নি।   বাজারে অর্থ সরবরাহ নয় গুণ বেড়ে গেলো।

    সাউনড অফ মিউজিকের গান মনে পড়ে ? ক্যাপ্টেন ফন ট্রাপ আর মারিয়া গাইছেন - নাথিং কামস ফ্রম নাথিং, নাথিং এভার কুড **   ( জালতসবুরগে গেলে একবার দেখে নেবেন – সেই কাচের কিওস্ক এখনও রাখা আছে )?  একমাত্র ফেডারাল রিজার্ভ বাহাদুর পারেন শূন্য থেকে শূন্যের উদ্যান বানাতে । বেরনানকে একটু বেফাকে হলেও একেবারে সত্যি কথাটা  বলে ফেলেছেন । সে বছরই  সবে জয়েন করেছেন।   

    তিরিশ বছর বয়েসে তিনি যখন ব্যাঙ্ক বেল আউটের থিসিস লিখছেন , আমেরিকায় গোটা চারেক ব্যাঙ্কের   বেল আউট কাণ্ড ঘটে গেছে । কনটিনেনটাল ইলিনয় সে যাবত আমেরিকায় বৃহত্তম দেউলে ব্যাঙ্ক ( আমার অন্নদাতাও )। এসব  উদ্ধার কর্ম সম্পন্ন হয়েছিলো বেঞ্জামিন বেরনানকের সুপরামর্শ ছাড়াই। তিনি ফেডারাল রিজার্ভের গদিতে আসীন হবার আগে আমরা ইউরোপে অনেক ত্রাণ প্রক্রিয়া দেখেছি । কোথাও সরকার অর্থ সাহায্য করার আগে পুরনো মালিকের মূলধন প্রথমেই বাজেয়াপ্ত করেছে, তারপরে জাতীয়করণ শেষে বিক্রি ( সুইডেন ১৯৯০), কোথাও বা দেশের বড়ো ব্যাঙ্ককে আদেশ দেওয়া হয়েছে ছোট ভাইকে বাঁচাও ( সুইজারল্যান্ড ) কোথাও দীর্ঘদিন সরকারি শাসনে রেখে বিদেশি ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে ( ফিনল্যান্ড ) ।

    পাঠক আপনার ধৈর্যের ওপরে কর বসিয়ে আরেকবার ফিরিয়ে নিয়ে যাই ফেডারাল রিজার্ভ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে । মনে রাখুন এই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠার ড্রাফট  কারা করেনঃ 
    ফ্রাংক ভ্যানডেরলিপ -  প্রেসিডেন্ট , ন্যাশনাল সিটি ব্যাঙ্ক , নিউ ইয়র্ক
    হেনরি ডেভিস           - পার্টনার,  জে পি মরগান

    বেঞ্জামিন স্ট্রং            -  ব্যাংকারস  ট্রাস্ট

    পল ওয়ারবুরগ         -  রোটশিল্ড এবং ওয়ারবুরগ ব্যাঙ্কিং গোষ্ঠীর প্রতিনিধি

    নেলসন অলডরিচ  -   রিপাবলিকান পার্টি হুইপ , চেয়ারম্যান মনিটারি কমিশন , জন
    রকিফেলারের শ্বশুর, চেজ ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্টের বাবা  

    আব্রাহাম অ্যানড্রউ   - সহ সভাপতি, আমেরিকান সরকারি ট্রেজারি

    কোন জনস্বার্থে তার স্থাপনা হয় নি । হয়েছিল নিউ ইয়র্কের কিছু ব্যাঙ্কিং গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে । তার চেহারাটা কি রকম?

    ফেডারাল রিজার্ভ একটি আজকের ভাষায় হাই ব্রিড সংস্থা। আমেরিকান সরকারের এজেন্সি  , তার মালিক কতিপয় বৃহৎ আমেরিকান ব্যাঙ্কিং গ্রুপ।  এঁদের প্রত্যেকের শেয়ার আছে কিন্তু সে শেয়ারের কেনা বেচা বারণ।  মানে ফেডারাল রিজার্ভ বোর্ডের বসে কল কাঠি তাঁরা নাড়তে পারেন  কিন্তু  সে কল কাঠি কিনতে বা  বিক্রি করতে পারেন না ।  তার যে কোন প্রয়োজন ছিল না সেটা বোঝা গেলো ২০০৮ সালের আর্থিক সঙ্কটের কালে ।

    ২০০৬ সালে জর্জ বুশের রাজত্ব কালে গোল্ডম্যান জাকসের সি ই ও হেনরি ( কল মি হ্যাঙ্ক ) পলসন আমেরিকান ট্রেজারি সেক্রেটারি বা  অর্থমন্ত্রী হয়ে সরকারি কাজে যোগ দিলেন।  ষাট বছর বয়েস । তার অর্ধেকের বেশি কাটিয়েছেন গোল্ডম্যানে।  হঠাৎ সে কাজ ছেড়ে সরকারি কাজ ? বেতন নগণ্য , বোনাস শূন্য প্রায় ? দেশপ্রেম ? না, অর্থপ্রেম।

    আমেরিকান সরকারের একটি আইন আছে – বেসরকারি কাজ ছেড়ে কেউ যদি কম বেতনের সরকারি কাজে যোগ দেয় তাঁকে উৎসাহ দেওয়ার মানসে তার  প্রথম বছরে ক্যাপিটাল গেনস ট্যাক্স মকুব । হ্যাঙ্ক পলসেন তৎক্ষণাৎ গোল্ডম্যানের শেয়ার বেচে পাঁচশ মিলিয়ন ডলার বাজারে বেচলেন , অপরিসীম কর বাঁচিয়ে । আমার কখনো মনে হয়েছে অর্থনীতিক দুনিয়ার চেনা বাঁধ ভাঙ্গার ঠিক এক বছর আগে গোল্ডম্যান ছেড়ে ওয়াশিংটনে তাঁর আসাটা একেবারেই কাকতালীয়বৎ নয় – গোল্ডম্যান ততদিনে আমেরিকান ইনসিউরেন্স গ্রুপের কাছে সি ডি ওর ওপরে বিমা কিনেছে । বাজার কোনদিকে ঘুরবে তার আঁচ পেয়েছিলেন কি তিনি?

    পলসনের কিছু বাণী ***

    এপ্রিল ২০০৭ : আমি যেদিকেই তাকাই , দেখি আমেরিকান অর্থ ব্যবস্থা অত্যন্ত দৃঢ় এবং বলিষ্ঠ ।

    আগস্ট ২০০৭ : সাব প্রাইম বাজার এখন আয়ত্তের মধ্যে এসে গেছে। এতো ভালো অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমেরিকায় অনেক  যুগে দেখা  যায় নি
    ( ফরাসি ব্যাঙ্ক বি এন পি সাব প্রাইমের কারণে হেজ ফাণ্ড বন্ধ করেছে ব্রিটেনে নর্দার্ন রক দেউলে)

    জুলাই 2008: আমাদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং শক্ত ।  নিরীক্ষকরা খবরদারি করছেন।  একে সামলানো যাবে ।
    ( দু মাস বাদে লেমান ব্রাদারসের দরোজা বন্ধ হবে ) ।

    নভেম্বর ১৮, ২০০৮: আমরা এ ধরণের টাল মাটাল অবস্থা আগে দেখি নি  ।

    নভেম্বর ২০, ২০০৮ :সরকারের ব্যর্থতা, ভুল পদক্ষেপ এবং খবরদারি সংস্থা গুলির অকর্মণ্যতার জন্যেই আমাদের এই দুরবস্থা।

    আমার এই দীর্ঘ গৌর চন্দ্রিকার একটাই কারণ –আমেরিকান অর্থনীতির বিশাল মন্দার সময়ে তাঁকে হ্যাঙ্ক পলসন যা আদেশ করেছিলেন সেটাই বেরনানকে পালন করেন , তল্পি বাহক বা করণিকের মতন ।  বেরনানকে ব্যাঙ্কিং জগতে কোন গোলযোগের হদিশ পান নি।  ২০০৫ সালের আগস্টে  রঘুরাম রাজন সতর্কবাণী দিয়েছিলেন ,  কানে যায় নি । ২০০৭ সালের আগস্টে ফ্রান্সে ব্রিটেনে স্বল্প মেয়াদি আমানত প্রায় বন্ধ হলো।  এর সঙ্গে ওয়াল স্ট্রিটের জুয়ো খেলার কোন সম্পর্ক তিনি দেখতে পান নি । অনেক খুঁজেও ব্যাঙ্কিং সুপারভিশন, অডিট , ইনসপেকশন নিয়ে বেরনানকের কোন মন্তব্য আমার চোখে পড়ে নি বরং হ্যাঙ্ক পলসন করেছেন।

    তাঁর মতে “  আধুনিক ফাইনানশিয়াল কলা কৌশল নিয়ে অত্যন্ত দক্ষ প্রতিষ্ঠান এবং তুখোড় ব্যক্তিরা কাজ করেন তাঁরা এর সঠিক ব্যবহার জানেন, বোঝেন “ ( নভেম্বর ১৫, ২০০৫) ****

    এই সময়ে ওমাহার সন্ত ওয়ারেন বাফেট বলেছিলেন “ আধুনিক ফাইয়ানশিয়াল কলা কৌশল হলো সার্বিক ধ্বংসের অস্ত্রাগার “ ( ওয়েপনস অফ মাস ডেসট্রাকশন)।     

    ষ্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ব্যাঙ্কিং পাঠশালার কাছে সারা জীবন ঋণী হয়ে আছি।  আবারো আমার গুরু প্রনম্য প্রয়াত সুপ্রিয় গুপ্তের কথা স্মরণ করি – তিনি বলেছিলেন সিংহরায়,  ক্রেডিটের সিদ্ধান্ত নেবেন আজকে এখুনি আপনার কাছে যে তথ্য আছে তার সবটা দিয়ে । তথ্য বাছবেন না।

    বেরনানকে বললেন “ তথ্য অনেক। সব তথ্য কাজের উপযোগী নয় “ ( জুন ৪, ২০০৪)*****

    “ আমাদের ইতিহাসে গোটা দেশে কখনো বাড়ি জমির দাম কমে নি ।  তবে আমার মনে হয় এখন দাম তেমন বেশি বাড়ছে না “ ( জুন ২০০৫ )

    তিরিশের মহা মন্দায় গোটা দেশে বাড়ি জমির দাম কমে সত্তর শতাংশ

    গোল্ডম্যানের হ্যাঙ্ক পলসন  বেছে বেছে ব্যাঙ্ক বেল আউট , বিক্রির হুকুম দিলেন । অল্প দামে মেরিল বিক্রি হলো , বেয়ার স্ট্যারনস , লেমান বন্ধ ।  আমেরিকান  ইনসিউরেন্স গ্রুপ গোল্ডম্যানকে ১৩ বিলিয়ন ডলার বিমার রকম দিয়ে দেউলে হলে হ্যাঙ্ক পলসন সরকারি খাজানা  থেকে তাকে বাঁচালেন । কান টানলে মাথা আসে।  আমেরিকান ইনসিউরেনস বাঁচলে গোল্ডম্যান বাঁচে।

    বেল আউটের গুরু বেরনানকে কোন হিসেবে কাকে বাঁচালেন ? পাঁচশোর বেশি ব্যাঙ্ক বন্ধ হলো দু বছরে – কোলোরাডো নিউ মেক্সিকো ওআইওমিং তাদের নিয়ে কে ভাবে ? নিউ ইয়র্ক তুষ্ট হলে জগৎ তুষ্ট। 

     ওয়াল স্ট্রিট বরাবর ছে । আল ইজ ওয়েল।

    পঞ্চাশ লক্ষ কাজ গেলো।  গৃহহারা হলেন বহু মানুষ  । কোন ব্যাঙ্কারের জেল হয় নি। বোনাসে কমতি হয়েছে মাত্র।

    হ্যাঙ্ক পলসনের আদেশ বেরনানকে ৭০০ বিলিয়ন টাকা  ছাপলেন।  তৎজনিত মূল্য ও কর বৃদ্ধি আমেরিকান নাগরিকবৃন্দ বহন করবেন এখন মুদ্রাস্ফীতি দশের কাছে।

    বিসমার্কের কথা অনুযায়ী ইতিহাসটা দেখে নেওয়া যাক

    ফেডারাল রিজার্ভ সংগঠনের আগে আমেরিকার জাতীয় দেনা ছিল জাতীয় আয়ের দশ শতাংশ , মহা  মন্দার দশকে বিশ শতাংশ । বর্তমানে সেটি ১৩৭ শতাংশ অথবা ৩১, ২৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার ।

    ১৯৯৬। নিউ ইয়র্কের ব্রায়ানট পার্কে একটা  মেলা বসে । সেখান থেকে আমার ছেলে ইন্দ্রনীলকে ( বয়েস তখন আট)  নিয়ে হেঁটে টাইমস স্কোয়ারের হোটেলে ফিরছি।  হঠাৎ  একটা দেওয়ালের দিকে আঙ্গুল তুলে বললে এটা কি , ঘড়ি ?

    একটা ইলেকট্রনিক বোর্ডে অনেক  সংখ্যা লেখা আর সেটা দ্রুত বাড়ছে । দেখে শুনে বললাম বাবা , এটা এক ধরণের ঘড়ি তবে এতে আমেরিকার ধার মাপা হয়! 
     

     
    ১৯৯৬ দেশের ঋণ পাঁচ ট্রিলিয়ন মাত্র -আজ ৩১ ট্রিলিয়ন 
     
    কার্ল মার্কস কবে বলে গেছেন – মুনাফা ব্যক্তিগত ,নুকসান  সামাজিক ক্ষতি ।

    ওয়াল স্ট্রিট বচাও,  দেশ বচাও ।

    রিকসবাঙ্ক তাঁদের শংসাপত্রে জানিয়েছেন  : জনতার সঞ্চিত ধন ও তার লগ্নির মহা মিলন ক্ষেত্র  প্রতিষ্ঠা দ্বারা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি  কর্ম সম্পন্ন করেন  এই সঙ্গে সচেতন থাকা দরকার স্বল্প মেয়াদি জমা নিয়ে  দীর্ঘ মেয়াদি  ঋণ  দিলে আমানতকারীদের টাকা প্রার্থিত সময়ে ফেরত দেওয়া কঠিন-  তাই আমানত বিমার প্রয়োজন  । এই তত্ত্ব  সর্বসমক্ষে উপস্থাপনা করার সম্মানে ডায়মন্ড ডিবভিগ নোবেল স্মৃতি পুরস্কার পেলেন।

    সেই শংসাপত্রে আরও জানানো হলো : উনিশশো তিরিশের মহা মন্দার বিশ্লেষণ করে বেঞ্জামিন বেরনানকে আমাদের বুঝিয়েছেন  ফেডারাল রিজার্ভ অর্থ সরবরাহ নয়  সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে  বহু ব্যাঙ্ক বন্ধ হয়ে যায় - ডায়মন্ড ডিবভিগের নির্দেশিত মিলন ক্ষেত্র শূন্য হয়ে পড়ে । আমানতকারীর সঙ্গে লগ্নি কারকের  এই সম্পর্ক বিনষ্ট হবার কারণে ঋণগ্রহীতাদের বিষয়ে সঙ্কলিত তথ্যাবলি হারিয়ে গেছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ ঋণ দান সম্ভাবনা সীমিত এবং আমেরিকান অর্থনীতির পুনর্জীবন প্রাপ্তি ব্যাহত হয়েছে ।  তাই ব্যাঙ্কগুলিকে সতত সুরক্ষা করা আমাদের কর্তব্য । এই গুরুত্বপূর্ণ নির্ণয়ের জন্য বেঞ্জামিন বেরনানকেকে  নোবেল স্মৃতি পদক দিয়ে বিভূষিত করা হলো।

    সংগঠিত ব্যাঙ্কিং ব্যবসা সাড়ে পাঁচশ বছরের পুরনো ।ডায়মন্ড ডিবভিগের সঞ্চয় ও লগ্নির মিলন মেলা থিওরি এবং বেঞ্জামিন বেরনানকের ব্যাঙ্কিং সুরক্ষা প্রকল্প বিষয়ক বিশ্লেষণ  আমাদের কোন নতুন কিছু শেখায় নি  । সেই  জ্ঞান আহরণ না করেও ব্যাঙ্কিং চলেছে তার আপন উত্থান পতনের বন্ধুর পথ দিয়ে ।

    এতো দিনে রিকসবাঙ্ক তার বিশেষ সম্মান দিলেন বলেই একটু পড়াশোনা করে জানলাম যে নতুন কিছুই জানলাম না।  

    তবে বিশ্বের প্রাচীনতম কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, রিকসবাঙ্কের পণ্ডিতেরা সম্মানিত মানুষ।

    দে আর অনরেবল মেন।

    আমাদের চারপাশের দৈনন্দিন জীবনে যা ঘটে গেছে, ঘটতে থাকে  এবং ঘটতে পারে তার ভেতরে যে গভীর রহস্য নিহিত আছে তার বিশ্লেষণ অর্থনীতি বিজ্ঞানীরা করেছেন বিগত কয়েকশ বছরে এবং করেও যাবেন । এতদ্বারা জগত ও জীবনের কোন কল্যাণ সাধিত হোক আর না হোক।

    এই ব্যবহারিক প্রয়োজন বর্জিত বিশ্লেষণের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিদ্বৎসমাজ সতত প্রস্তুত ।

    ১০ ডিসেম্বর  ২০২২

    সমাপ্ত

    পরিশিষ্ট :

    · *The US government has a technology, called a printing press ( or today, the electronic equivalent, that allows it to produce as may U.S dollars as it wishes at no cost.
    Benjamin Bernanke
    Member of the Federal Reserve Board of Governors
    21 November, 2002

    · **Nothing comes from nothing
      Nothing ever could
      So somewhere in my youth or childhood
      I must have done something good
      Sound of Music

    ·  *** Hank Poulson Quotes
    April 2007
    All the signs I look at, I find US economy is very healthy and robust

    July 2008
     it's a safe banking system, a sound banking system. Our regulators are on top of it. This is a very manageable situation.

    November 18, 2008
    There is no playbook for responding to turmoil we have never faced. We adjusted our strategy to reflect the facts of a severe market crisis always keeping focused on Congress's goal and our goal – to stabilize the financial system that is integral to the everyday lives of all Americans

    November 20, 2008 We are working through a severe financial crisis caused by many factors, including government inaction and mistaken actions, outdated U.S. and global financial regulatory systems, and by the excessive risk-taking of financial institutions.

    **** Ben Bernanke Quotes
    With respect to their safety, derivatives are traded among very sophisticated financial institutions and individuals who have considerable incentive to understand them and use them properly
    Nov 15, 2005
    · Not all information are beneficial
    June 4, 2004
    We’ve never had a decline in house prices on a nationwide basis. So,  I think it is more likely house prices will slow, may be stablise.

    June 2005
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ১০ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৩৩২ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ইঁদুর  - Anirban M
    আরও পড়ুন
    ** - sumana sengupta
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kishore Ghosal | ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:০৩514472
  • "জুলাই 2008: আমাদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং শক্ত ।  নিরীক্ষকরা খবরদারি করছেন।  একে সামলানো যাবে । ( দু মাস বাদে লেমান ব্রাদারসের দরোজা বন্ধ হবে ) ।
    নভেম্বর ২০, ২০০৮ :সরকারের ব্যর্থতা, ভুল পদক্ষেপ এবং খবরদারি সংস্থা গুলির অকর্মণ্যতার জন্যেই আমাদের এই দুরবস্থা"।
    এ তো আমাদের দেশের "জুমলা" কেস। গড়িয়াহাটের রত্নভাণ্ডারের চেম্বারে বসা জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বাণীর মতো...
     
    "কাকের ছানা"র থেকে "কুমীর ছানা" দেখানোটা বেশি অ্যাপ্রোপ্রিয়েট  হবে - কারণ দুটির পেছনেই রয়েছে শেয়ালের ধূর্ততা। 
     
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:e9d4:c9:d69c:da0e | ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:০৩514476
  • দুটি প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে। বোকা প্রশ্ন হয়তো, নিজগুনে ক্ষমা করবেন।
     
    শূন্য থেকে টাকা তৈরী করলেই মুদ্রাস্ফীতি হবে না, সে টাকা যাতে বাজারে ঘোরে তার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ ভেলসিটি অফ মানি বাড়াতে হবে। এখন সেই টাকা যদি ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়, আর ব্যাংকের সিন্দুকে বসে থাকে, তাহলে তো অসুবিধা নাই। এখন ব্যাংক বেইল আউটের সময় এইটা কি হয়েছিল? ফেডের দেওয়া টাকা বাজারে ঘুরেছিল, নাকি ব্যাংকগুলোর সে টাকা দরকার ছিল কনফিডেন্স গেম খেলার জন্য।
     
    এবারে দ্বিতীয় প্রশ্ন। টাকা যদি বাজারে ঘোরেও, তাহলেও মুদ্রাস্ফীতি হবে না যদি অর্থনীতিতে স্পেয়ার বা আইডল ক্যাপাসিটি থাকে। সেক্ষেত্রে স্পেয়ার ক্যাপাসিটি আইডল না থেকে উৎপাদনে ব্যবহার হবে। কেইনস সাহেব যার ওপরে ভরসা করেছিলেন। আমেরিকার অর্থনীতিতে স্পেয়ার ক্যাপাসিটি কি তেমন নেই? একেবারে ডোমেস্টিক স্পেয়ার ক্যাপাসিটি না থাকলেও তো হবে, যদি ইমপোর্ট করা যায়। আর এক্সপোর্টার ডলার নিতে রাজী থাকে।
     
    প্রশ্নের উদ্দেশ্য হল জানা যে কেন 2008র পর তেমন মুদ্রাস্ফীতি হল না, আজ কেন হয়?
  • Amit | 118.208.211.74 | ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:১৩514488
  • দারুন লাগলো সিরিজটা যথারীতি। একেবারেই অন্য ফিল্ডের লোক হওয়াতে আমার বোঝার ক্ষমতা খুবই সীমিত। তবুও সহজভাবে লেখার গুনেই পড়তে ভালো লাগে। 
    ২০০৮ এর পরে পরে ইনফ্লেশন না হলেও ২০১২-১৪ নাগাদ একটু বেড়েছিল দেখাচ্ছে এই চার্ট এ. 
     
    সেটা কি মার্কেটে বেল আউট এর টাকা ঘোরার ইফেক্ট ? তাহলে কোভিদ কালে যেটা দেওয়া হয়েছে সেটার ফল গত এক দু বছরের ইনফ্লেশন ? তফাৎ হলো এক্ষেত্রে টাকাটা সরাসরি কমন লোকের পকেটে ঢুকেছে। ২০০৮ এ সেটা কর্পোরেট এর পকেটে ঢুকেছিলো। 
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৩৩514490
  • টাকাটা গেলো কোথায়, সবটাই কি এদেশে  ? নয় সেপ্টেম্বর ২০০৯ সেনেট সাব কমিটি প্রশ্ন করলে শ্রী বেরনানকে জবাব দিতে অস্বীকার করেন।  একটা বিশাল অংশ অবশ্যই গেছে আমেরিকান ব্যাঙ্কের বিদেশি বন্ড কেনার প্রোগ্রাম ( পিগস এ অনেক আমেরিকান অর্থ আছে) টিকিয়ে রাখতে  এটা দেশের মুদ্রাস্ফীতি তৎক্ষণাৎ ঘটায় নি । ঠিক যেমন ই সি বি কোয়ানটিটেভ ইজিঙ্গের ধাপ্পা দিয়ে পিগস ফাইনান্স করেছে। রিসেসনের খাপ  খোপর ভর্তিতেও গেছে – সেখানে মারজিনাল প্রপেনসিটি টু কনজিউম তত্ত্ব কাজ করে। ।
     
    লম্বা সময়ের জন্য সীমিত মুদ্রাস্ফীতি প্রয়োজন- তবে ২% এর ওপরে আমরা তাকে যেতে দেবো না ( সেনেটে বেরনানকের বিবিধ ভাষণ ) ।

    মুদ্রাস্ফীতির লয়টি বিলম্বিত হয়েছে ( অমিত যার কথা বললেন ) চক্রবৃদ্ধি হারে তার পরিমান ২০১০-২০২০ সালে বেড়েছে ৩৬.৪৭%। ২০১০ সালে ১৭ ডলারের জিনিস কিনতে আজ ২৪ ডলার লাগে।
     
  • Tapan SenGupta | ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:২৫514496
  • অসাধারণ উপসংহার। ... 
    দে আর অনরেবল মেন।
  • Debanjan Banerjee | ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৫৭514500
  • অসম্ভব ধন্যবাদ হীরেনবাবু |
     
    মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বলতে পারি গত একবছর আগে বরানগর বাজারে এক কিলো চিকেন ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এখন সেটাই ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকার ​​​​​​​মধ্যে ঘুরছে | গত মে মাসে একবার আলমবাজার এলাকাতে একসময় ২৬০ টাকা দেকেছি | 
     
    কেন যে হচ্ছে এইসব কে জানে ?
     
    আপনি বরানগরের গর্ব |
     
    কিচুদিন আগে নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দিরের প্রাক্তন ছাত্রদের সম্মেলনে আপনার কথা বললাম | আমি ভীষণভাবে খুশি যে আপনার মতো একজন বরানগরের মানুষ আজকে এতদূর গেছেন এবং এখনো বাঙালির সাহিত্যের জন্য এই এতো সুদূরপ্রসারী কাজ করছেন |
  • যদুবাবু | ১২ ডিসেম্বর ২০২২ ০৬:১০514510
  • একেবারে শেষে এসেই লিখছি। লেখাটা খুব-ই ভালো সে নিয়ে তো আর নতুন করে বলার নেই। দরকারী-ও অবশ্যই, কিছুটা ব্যক্তিগত-ও বটে। ২০০৮-০৯ আমি বার্ক্লেজ ব্যাঙ্কে কাজ করতাম, আমার প্রথম চাকরি, লেম্যান ব্রাদার্সের কোল্যাপস একেবারেই চোখের সামনে দেখা, সে স্মৃতি/ক্ষত টাটকা।  শেষ হয়েছে তাই দুটো একটা কথা বলে যাই। 
     
    ১) আপনার আলোচনা/পর্যবেক্ষণ রেট্রোস্পেকটিভ - ২০০৮-০৯ সালে যা হয়েছিলো তা কেন হয়েছিলো তার কিছু হদিশ অবিশ্যি পেলাম। এবার প্রশ্ন এই যে, এর উপরে ভিত্তি করে আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কিছু ব্রড উপদেশ দিতে পারেন? প্রেডিক্ট করতে বলছি না, সে মনে হয় না সহজ। 

    ২) বেন বার্নানকে-র উপর রাগ নেই, এমন লোক কম। এই সদ্য একটা বই উল্টেপাল্টে দেখছিলাম, "The Lords of Easy Money: How the Federal Reserve Broke the American Economy" -- তাতে লেখকের বক্তব্য ফেডেরাল রিজার্ভ পলিসি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে ইকনমি ধ্বংস করেছে তাই নয়, অসাম্য-ও বাড়িয়েই চলেছে। এই ধরণের আরও একটা অসাধারণ বই, "The Capital Order: How Economists Invented Austerity and Paved the Way to Fascism, ক্লারা মাতেই-এর লেখা। আমাদের-ই সমসাময়িক, ন্যু ইয়র্কে থাকেন। ক্লারা দেখিয়েছেন সেই ইতিহাসের পাতা খুঁড়ে যে এই টেকনোক্র্যাসি আজকের নয়। সেই ১৯৩০-এর পরেও অস্টারিটির ধুয়ো তুলে বারংবার ফ্যাসিজমের পথ-ই প্রশস্ত করা হয়েছে, কারণ যতোবার অস্টারিটি মেজারস নেওয়া হয়েছে, সবথেকে আগে এবং সবথেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সংখ্যালঘুরা, মহিলারা, বিভিন্ন ওয়েলফেয়ার প্রোগ্রাম, আর তাতে ইনইকুয়ালিটি বেড়েছে বই কমে নি। এই টকদুটো রেকো করে গেলাম, কেউ যদি শুনতে চানঃ 
    ছোটো টক (১৬ মিনিট) - 

    বড়ো টক (৫৭ মিনিট) - 
     
     
    ৩) শেষ বক্তব্যটা একটু ছোট্টো সমালোচনা, আশা করি প্রগলভতার অপরাধ নেবেন না। বেন বার্নানকের ভুল বা অপরাধ 'ঐতিহাসিক', ওঁকে নোবেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত মনে হয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর তার থেকেও বড়ো কথা ওঁর মতো লোকের অ্যাকাউণ্টেবিলিটি শূন্য। সেই সব কথা মেনে নিলেও তাতে তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক অর্থনীতিকে মেলানোর প্রয়োজন ক্ষুণ্ণ হয় না। বেশী দূর নয়, আমি গতবছর বা তার আগের বছরের প্রাপকদের কাজ সম্বন্ধেও এ কথা দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যে তাদের কোনোটাই ব্যবহারিক প্রয়োজন থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং উলটো, আবার তাত্ত্বিক ভিত্তি আছে। হয়তো এই ব্যাপারেও একটা স্পেকট্রাম আছে, একেবারে ১/০ নয়। কেউ কেউ সত্যি এমন কিছু করে দেখিয়েছেন যাতে স্পষ্ট দেখা গেলো কোনো একটি জনকল্যাণমুখী পলিসির সত্যিই পরীক্ষিত সুফল আছে, আবার কারুর কাজ হয়তো শুধুই ক্ষমতাশীলদের স্বার্থরক্ষা। 

    পাস্তুর'স কোয়াড্রান্ট মনে করুন। হতে পারে, ঐ নীচের ফাঁকা ঘরে (কাজেও লাগে না, ফাণ্ডামেন্টাল সত্যিকেও উদ্ঘাটিত করে না) খুব ভিড় গাদাগাদি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে বাকীগুলোয় কেউ-ই নেই। এইটুকুই। 


    পুনশ্চ ১ঃ আপনার সাথে কখনো সাক্ষাতে এই ব্যাপারে অনেক আড্ডা দেওয়ার লোভ জানিয়ে গেলাম।
    পুনশ্চ ২ঃ আপনিও বরানগরের? আমিও। :) নরেন্দ্রনাথে ইনফ্যাণ্ট ক্লাস পড়েছি, তারপর বরাকৃমিতে ১-১০। দল বেশ ভারি হচ্ছে আমাদের। রঞ্জনদা, একক, আপনি। 
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:২৭514522
  • অশেষ ধন্যবাদ। আপনি অনেক ভাবান ,  সঙ্গে থাকেন ,মনে বল পাই । আগ্রহ আছে শিগগির এই সম্পর্কিত কিছু নিয়মিত লেখার। এই ধরুন হীরের টুকরো শ্রী বব ! তাঁকে নিয়ে ব্যক্তিগত গল্প আছে ।  দেখি।

    ১) ভবিষ্যতের হদিশ জানা থাকলে তবে তো উপদেশ দেব ! কার্লো পনজি থেকে বারনারড ম্যাডফের মাঝখানে আশি বছরের ফারাক কার্লো পনজি কখনো ইন্টারন্যাশনাল রিপ্লাই কুপন কেনেন নি  ম্যাডফ কখনো সত্যিকারের শেয়ার কেনা বেচা করেন নি – অন্য আরেক দেশে সঞ্চয়িতা জাতীয় চিট ফাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের কাজের কোন তফাৎ নেই। কোন কোন বন্ড অফারিং সার্কুলার দেখে বহু কাল আগে শোনা মিন্টু দাসগুপ্তের প্যারডি মনে পড়েছে – গুল, সবই গুল, তোমার সার্কুলারের পাতায় পাতায় যা লেখা , সে গুল ! একটা উদাহরণ – ১৯৮৫ সালে হ্যারড কেনার সময়ে ক্লাইনওয়রট লেখে আল ফায়েদ এক মিশরীয় জাহাজ কোম্পানি মালিকের পরিবারের উত্তরসূরি । গুল। আত্মরক্ষার্থে আমার ব্যাঙ্কের উৎসাহী অরিজিনেটরদের আমি আকছার বলেছি- তোমার ডিলটা ষাট সেকেন্ডে বোঝাতে পারো ? অনেকদিন বাদে বেয়ারের লেনি ফেদার ( আমাদের ব্যাঙ্কে  যোগ দেন পরে ) শুনে বলেন এরকম অ্যাসিড টেস্ট দরকার। যা বুঝবেন না সে  পথে যাবেন না – এই আমার মন্ত্র।আরমানি সুট পরে কেঊ গুল দিলেই মন্ত্রমুগ্ধ হবার কোন কারণ দেখি না। 

    ২) বেরনানকের ওপরে রাগ নয় – অনেক চেষ্টা করেছি তাঁর মহানতা অনুধাবন করতে । আমার সিঁথি বরানগরের বিদ্যেয় কুলোয় নি । আপনি সঠিক কথা বলেছেন।  মাতাই রাজন রুবানি সবাই তাই বলেন।  তবে আমার একটা বিশেষ বক্তব্য আছে ফেডের অরিজিন নিয়ে- এটি একটি কারটেল।  তিনটি সম্বন্ধিত স্বার্থ – কংগ্রেস , ট্রেজারি , ফেড ( যার আসল মালিক বৃহৎ আমেরিকান ব্যাঙ্ক  গুষ্ঠি )। মুদ্রাস্ফীতি রোধ এবং ডলারের মূল্য বজায় রাখা তার কাজ – ফেড তৈরির পরে ১০০০ ডলারের মূল্য আজ ১২০০০ ডলার । আর কোন সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক মনে পড়ছে না যার মালিকানা ব্যাঙ্কের হাতে- গেম কিপার অ্যান্ড পোচার ! পরে আরও আলোচনা হোক । বেরনানকে কখনো ব্যাঙ্ক সুপারভিশন নিয়ে কথা বলেন নি – কেন ?

    ৩) সকল অর্থনীতিবিদকে আড্ডায় বসে একহাত নেওয়ার দুর্মতি যেন  কোনদিন না হয় ! বরানগরের পাঠশালায়  ( নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দির ১৯৬০-১৯৬৫ -কোন কারণে সেটা বিশেষ ঘটনায় পরিণত হয় ) প্রথম বিদ্যাভ্যাস করি । সিঁথির কাঁটা কলের বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়েছি অম্লান বাবু অরুপদা অসিমদা ডক্টর অলোক ঘোষ রাখাল বাবু ইত্যাদি বরেণ্য মানুষের কাছে । তাঁরা আমাকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছিলেন।  আজো করে যাচ্ছি।  ইকনমিকস চর্চা ক্লাসরুম থেকে বেরুতে পারে না অনেক সময়ে ( আমি ওয়েলফেয়ার ইকনমিকসকে স্বতন্ত্র রাখি )। অর্থনীতিবিদরা ব্যাঙ্কিং করলে কি হতে পারে তার নমুনা অনেক – এই এল টি সি এম এবং দুই নোবেল বিজয়ী মহারথীর খেলা স্মরণ করুন (  মাইরন / শোলস ) । ২০১৮ সালের ব্লগে বেরনানকে ফাইনাসিয়াল মেলট ডাউনের সাব প্রাইম জনিত কোন সমস্যার যোগ দেখতে পান নি। এর জন্যে নোবেল স্মৃতি পুরস্কার ? ইউজিন ফামার কথা মনে করুন ! সর্বশ্রী ডায়মনড / ডিবভিগ  আর তাঁদের ব্যাঙ্ক সম্পর্কিত অমূল্য বাণী ?

    আমায় ক্ষমো হে ক্ষম।

    আর কটা দিন  কপালে লেখা আছে জানি না । একবার আসুন বরানগরে ( জানুয়ারী ২৮- ফেব্রুয়ারী ১৫ কলকাতায় আছি ) । আমার স্কুলের উলটো দিকের চায়ের দোকান ( পুরনো বাস স্ট্যান্ড ) এখনও আছে – কাঠের বেঞ্চে বসে গল্প হবে । গৌরকিশোর ঘোষ একবার আমাদের  সঙ্গে বসেন এবং সেটা আনন্দবাজারে “আমি” পর্যায়ে লিখে ফেলেন
     
  • Ranjan Roy | ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৫৪514572
  • আমি ওই তারিখে কলকাতায় আছি।
    যদি আপনার আড্ডায এন্ট্রি দেন তো  কৃতজ্ঞ থাকব।
    কথা দিচ্ছি, চূপটি করে বসে খালি শুনব।
    একটুও বকবক করে আপনাদের মাথা ধরাব না।
     
    আচ্ছা, বইমেলায় আসছেন কি?
  • হীরেন সিংহরায় | ১৬ ডিসেম্বর ২০২২ ০৩:২৯514575
  •  
    সারা দিন জমা জলের পাইপ গাড়ির কাঁচ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। বিলম্বের জন্য মারজনা চাই! ২৮/১ কলকাতা তারপর ২৯শে মায়া স্পোর্টের খেলা বাসনতিতে। ৩০ থেকে ১৫ অবধি আছি । বই মেলাতে প্রত্যহ। সেখানেই কোথাও বসা যায় প্রতিদিন ।অন্যে সবে বাক্য কবে আপনি নিরুত্তর থাকতে পারেন না। বরানগরে নাহয় যাওয়া যাক কোন দিন । আমার কর্ম হীন অবকাশ। সাড়ে চার দশক খেটে এটি অর্জন করা গেছে! আমার কলকাতার ফোন ৬২৯১৩ ৭০৫৪৮ অথবা হোয়টসএ্যাপ সম্বলিত ফোন +৪৪৭৫৮৭৩১৬১২৪
    ইমেল [email protected]
    অনেক আগ্রহ নিয়ে আসছি । 
  • Ranjan Roy | ১৬ ডিসেম্বর ২০২২ ০৭:৪৩514581
  • বইমেলায় দেখা হচ্ছেই।
    নম্বর সুরক্ষিত করলাম। 
  • যদুবাবু | ১৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:২৩514600
  • এই শীতের ছুটিতে বা বইমেলায় কলকাতা আসা হচ্ছে না, ভেবেছিলাম আসবো কিন্তু বিধি বাম। ভয়ানক আফশোস হচ্ছে, একসাথে রঞ্জন-দা আর হীরেনবাবুর দেখা পেলে একটা অবিশ্বাস্য ভালো ব্যাপার হোতো। তবে এবার না হলেও পরের বার। আপাতত আশায় পকেট ভরি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলি ! 

     
  • Ranjan Roy | ১৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:১৬514603
  • যদুবাবু 
    আগামী বছর থেকে আমি প্রতি শীতকালে নিয়মিত তিন চার মাস কলকাতায় থাকব।
    কাজেই বইমেলায় না হলেও দেখা হবার সম্ভাবনা আছে।
    এবার মার্চ অব্দি থাকব।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন