এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  অর্থনীতি

  • অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ২০২২ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | অর্থনীতি | ০৫ নভেম্বর ২০২২ | ৭৬৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ২০২২

    প্রথম পর্ব

    বাস্তবে কোন কর্মকাণ্ড সফল হলেও যতক্ষণ না তত্ত্ব দিয়ে  সেটি প্রমাণিত হচ্ছে , অর্থনীতিক সেটির বিষয় সংশয় পোষণ করে থাকেন  – ওয়াল্টার হেলার *

    ট্রেনের জানলার বাইরে তাকিয়ে জটায়ু  ওরফে লালমোহন বাবু একটি নিরীহ প্রশ্ন করেছিলেন  ‘ উট কি খায় ?’

    প্রায় সেই ভাবে আমাদের আলোচনা চক্রে  অরূপ জানতে চাইলে – ‘ ব্যাঙ্ক কি করে?’

    অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তনীদের  মধ্যে কথা হচ্ছিল এ বছরে অর্থনীতিতে নোবেল ( আক্ষরিক অর্থে সম্মানীয় ) পুরস্কার প্রাপ্ত তিন মহারথীদের নিয়ে : ডগলাস  ডায়মন্ড ,  ফিলিপ ডিবভিগ এবং বেঞ্জামিন শালোম বেরনানকে । এঁদের কাজগুলি ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত, প্রায় চল্লিশ বছর পূর্বে সম্পন্ন।

    ১৮৯৫ সালে মৃত্যুশয্যায় লিখিত উইলে আলফ্রেড নোবেল এই বাসনা প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁর মৃত্যুর পরে নিজ  জীবৎকালে সঞ্চিত অর্থ ও তা থেকে ভবিষ্যতে অর্জিত সুদ ব্যবহার করে সেই সব মানুষকে যেন পদক ও অর্থ দ্বারা  সম্মানিত করা হয় যারা বিগত বছরে পদার্থ বিদ্যা,  রসায়ন,  চিকিৎসা শাস্ত্র , সাহিত্য এবং শান্তির ক্ষেত্রে মহতী কর্ম করেছেন। ১৮৯৬ সালে তিনি দেহ রক্ষা করেন। নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯০১ সাল থেকে। নোবেল একসঙ্গে তিন জনের বেশি মানুষকে দেওয়া যায় না – ব্যতিক্রম শান্তি পুরস্কার।


    বারুদের ব্যবসা করে প্রভূত আয় করলেও অর্থনৈতিক বিজ্ঞানের চর্চা ও উন্নয়নের ব্যাপারে  আলফ্রেড নোবেলের আগ্রহ ছিল বলে জানা যায় না। নোবেল কমিটি এই পুরস্কারের  স্থাপনা করেন নি । প্রায় সত্তর বছর বাদে , ১৬৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত  সুইডেনের রিকসবাঙ্ক ( পৃথিবীর প্রাচীনতম কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ) তাদের তিনশ বছরের পূর্তি উৎসবে ঘোষণা করেন তাঁরা আলফ্রেড নোবেল পুরস্কার সংস্থাকে কিছু অর্থ দান করবেন । সেই অর্থ ও তার সুদ দিয়ে নোবেল সংস্থা যেন প্রতি বছর এমন মানুষদের নির্বাচিত ও সম্মানিত করেন যারা অর্থনীতিতে  কোন বিশেষ অবদান রেখেছেন। আলফ্রেড  নোবেলের অর্থ বা অভিলাষে এটির সূচনা হয় নি তাই এই  পুরস্কারের  সঠিক নাম :  আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে প্রদত্ত সভেরিগেস রিকসবাঙ্ক পুরস্কার।  
     


    এটি নোবেল পুরস্কার নয়, নোবেলের স্মৃতিতে প্রদত্ত পুরস্কার।  ১৯৬৯ সালে এর সূচনা । প্রথম বিজেতা নরওয়ের রাগনার ফ্রিশ  এবং হল্যান্ডের ইয়ান টিনবেরঘেন (  কাঁটাকলে অধ্যয়ন কালে এই শেষোক্ত পণ্ডিতের পুস্তকের মর্ম উদ্ধার করতে প্রভূত কষ্ট পেয়েছি)।

    এবারের  তিন নোবেল বিজেতা কাজ করেছেন ব্যাঙ্ক  নিয়ে। আমরা সবাই সেই প্রকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত । ইচ্ছেয় বা অনিচ্ছেয় কোন না কোন ব্যাঙ্কের দরোজা মাড়িয়েছি। তাহলে এই নোবেল বিজেতাদের থিওরি  আমাদের মতো  সাধারণ মানুষের বোধগম্য হওয়া উচিত। যদিও কিছু অর্থনীতির অধ্যাপক  ক্লাসরুমের বিশাল বোর্ডের এমুড়ো থেকে ওমুড়ো অবধি কঠিন অঙ্ক কষে এমন তত্ত্ব প্রতিপন্ন করেন যা আম জনতা কেন ক্লাসের ছেলেমেয়েরা অবধি বুঝে ওঠে না অথবা তার বিশেষ ব্যবহার আমাদের প্রাত্যহিক  জীবনে কদাচিৎ হয়ে থাকে। বিদ্বৎ সমাজ উদ্বাহু হয়ে অবশ্যই ধন্য ধন্য করে থাকেন।  অগত্যা আমরাও করি।  তবে এ বারের ব্যাপারটা ব্যাঙ্ক নিয়ে যা আমরা চিনি,  জানি,  ব্যবহার করি ।

    প্রথমে ডায়মন্ড / ডিবভিগ।  তাঁরা ঠিক কি বললেন সেটা আমাদের মতো যারা ব্যাঙ্কের কাউনটারের উলটোদিকে কাজ করেছি তারা বোঝবার চেষ্টা করি ।  আমরা কি সঠিক কাজ কর্ম করেছি এতো দিন ? না নতুন কিছু শিখে মনুষ্য জাতির সুরাহা করার সময় এসেছে ?

    রিকসব্যাঙ্কের মানপত্র জানায় :  ডগলাস ডায়মন্ড ও ফিলিপ ডিবভিগ তাঁদের মডেলের দ্বারা আমাদের বুঝিয়েছেন ব্যাঙ্কের প্রকৃত করনীয় কাজ  আমানতকারী  এবং ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে সেতু বন্ধন করা । ব্যাঙ্কের হলঘরে  দু পক্ষ সমবেত হয়-  আমানতকারী  অর্থ সরবরাহ করেন, ঋণগ্রহীতারা কাগজপত্রে সই সাবুদ করে সেটি গ্রহণ করে থাকেন।  ব্যাঙ্কের অফিসাররা এই মিলন  মেলার আয়োজন করেন, চা কফি খাওয়ান। প্রসন্ন বদনে ঘটনাবলি অবলোকন করেন । ডায়মন্ড / ডিবভিগ জানান সেই ব্যাঙ্কার  ঠিক অনুধাবন করলেন  না যে এইখানে একটি সমস্যার উৎপত্তি হলো  । টাকা যারা জমা রাখেন তাঁরা স্বল্প মেয়াদ খোঁজেন – কার কখন কোন প্রয়োজন হয় তার ঠিক নেই । পত্নীর নেকলেস বা  নতুন গাড়ির দাবি আকস্মিক হতে পারে। কিনতে টাকা লাগে।

    অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা মধ্য বা  দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ নিয়েছেন । তাঁরা সকালের হাটে  চন্দননগরের কলা কিনে জগু বাবুর বাজারে বেচে ক্যাশ আদায় করেন না। কল কারখানা চালান । সেখান থেকে লাভ হলে  তবেই  ঋণ ফেরত দেওয়া যেতে পারে।এখন স্ত্রীর নেকলেস বা গাড়ি কেনার জন্য সব টাকা যদি আমানতকারী  তুলে নিয়ে চলে যান তাহলে ব্যাঙ্কের খাজানা শূন্য হয়ে যেতে পারে । তার চেয়েও খতরনাক – যদি কোন আমানতকারী  ঘুণাক্ষরেও বুঝে ফেলে তাদের জমা টাকা দিয়ে দেবার পরে ব্যাঙ্কের সিন্ধুকে মা ভবানী তাহলে সে তার আপন টাকার থলিটি বগলদাবা করে বাড়ী ফেরার  পথে  অন্য মানুষজন, পাড়া পড়শি বা পাবে এক গেলাসের ইয়ারকে বলে ‘ এই ব্যাঙ্কের হাল খারাপ ,  জানলে। আমি তো কোনমতে আমার টাকাটা উদ্ধার করেছি।  তোমরা এবার নিজের রাস্তা দেখে নাও। পরবর্তী চিত্রনাট্য: সকাল থেকেই ব্যাঙ্কের হলঘর লোকে লোকারণ্য।  সবাই জমা টাকা তুলতে চায় । অতো  টাকা ব্যাঙ্কের ঘরে নেই ।  এদিক ওদিকে সাহায্য খোঁজে।  অপারগ হলে দরোজা বন্ধ করে বাইরে নোটিস মেরে দেয় । ব্যাঙ্ক ফেল ।

    আমার ছেলে মেয়েদের সঙ্গে আমি একাধিকবার জুলি অ্যানড্রুজের অসাধারণ ছবি মেরি পপিনস দেখেছি । দুষ্টুমি করছিল বলে ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের চৌহদ্দিতে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের ছেলের হাত থেকে টাপেন্স কেড়ে নেওয়া হলে সে চিৎকার করে বলে , গিভ মি ব্যাক মাই মানি ‘। দূর থেকে সেই কথা শুনে কাউনটারের সামনে দাঁড়ানো দুই মহিলা বলেন ‘  দেখেছ , ব্যাঙ্কের  কাছে বোধ হয় টাকা নেই ।  এই বাচ্চা ছেলেটির টাপেন্স  দিতে পারছে না । এখুনি সব ক্যাশ তুলে নিই ‘।  

    ক্রমশ সেই রব দূর থেকে দূরে ছড়িয়ে পড়ে । কাতারে কাতারে লোক জমায়েত হয় তাদের সঞ্চয়ের কড়ি তুলতে । ব্যাঙ্ক ফেল করে।

    ১৯৮৩ সাল নাগাদ তাঁদের গবেষণা পত্রের শেষ ধাপে  ডায়মন্ড / ডিবভিগ আমাদের জানালেন  লোকে টাকা জমা রাখে স্বল্প মেয়াদে সেটাও আবার কবে তুলে নেবে তার ঠিক নেই ।  তাদের আটকানো যাবে না । অন্য দিকে ব্যবসাদাররা লম্বা সময়ের জন্য ধার নেয় । হঠাৎ টাকার দরকার বলে তাদের কাছ থেকে চাওয়া যাবে না। ল অফ কনট্রাকট সে পথে বাধা সাধে । জমা টাকা আর দেওয়া টাকার মধ্যমণি হয়ে  বসে থাকা ব্যাঙ্কের শিরে সংক্রান্তি।

    অতঃ কিম?

    টাকা যে জমা রেখেছে  তার কাছ থেকে নিয়মিত প্রিমিয়াম আদায় করে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে সব টাকার সুরক্ষা বিমা করা হোক। আমানতকারী  সুদ তো পাচ্ছেই , আপন লগ্নির স্বাস্থ্য রক্ষার্থে সে প্রিমিয়ামের ব্যয় বহন করুক।  ব্যাঙ্কের ভল্ট শূন্য হলে পর  কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে এই বিমার শর্ত মাফিক টাকা চাওয়া হবে । লোকে বিমা তো এই জন্যেই করায় । গাড়ি রোজ রোজ চোট খায় না। ন মাসে ছ মাসে যদি ধাক্কা লাগায় তখনই তো আমরা বিমা কোম্পানির দুয়োরে হত্যে দিয়ে থাকি।  আমানতকারীর  টাকা তোলার উটকো ঝামেলাকে বাঁচিয়ে ব্যাঙ্ক চালু রাখার এই শ্রেষ্ঠ উপায়।

    এই আখ্যান শুনে অরূপ বললে ,’  ব্যাঙ্কে তো অনেক দিন ছিলেন। এ সব জানতেন ? ব্যাঙ্ক কি করে ? ‘

    ডায়মন্ড / ডিবভিগের সঙ্গে  পরে  মোকাবিলা করা যাবে । আপাতত আমার বিদ্যে বুদ্ধি ঝালিয়ে অরূপের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি।

    এক সময়ে সিটি ব্যাঙ্কের লুইশাম (লন্ডন) এবং ইস্তানবুলের শিক্ষা কেন্দ্রে  কখনো সখনো তরুণ ছাত্র ছাত্রীদের পাঠ নিয়েছি। খানিকটা হয়তো কেতাবি বিদ্যে , বাকিটা  প্রতিদিনের পথের ধূলায় চেনা  জানা । সেটা এখনও কাজে লাগে। ।

    ব্যাঙ্ক টাকার কারবারি। আমার স্কুলের সহপাঠী চিন্ময় কলেজ শেষ করে তার বাবার আলুর কারবারে যোগ দেয়।  গ্রাম থেকে সস্তায় আলু কিনে পোস্তার বাজারে সেই আলু একটু বেশি  দামে বেচে। । স্ট্র্যানড রোডে আলু পোস্তায় ঢুকতেই প্রথম দোকান  তাদের।  খুব কাছ থেকে দেখেছি । বিশাল গদির ওপরে বসে আড্ডা দিয়েছি,  বিরামবিহীন মাটির ভাঁড়ের চা সহ।

    ব্যাঙ্ক সেই  রকম কম দামে টাকা যোগাড় করে বেশি দামে বিক্রি করে। কিন্তু চিন্ময়ের আলুর ব্যবসার সঙ্গে সিটি ব্যাঙ্কের বিজনেস মডেলের দুটো বিরাট তফাৎ আছে।

    প্রথমত চিন্ময়ের লোকজনকে গ্রামে গ্রামান্তরে ঘুরে ঘুরে আলু কিনতে হতো । আপনি নিজে হেঁটে এসে ব্যাঙ্কে টাকা দিয়ে যান । মনে রাখবেন আপনি ব্যাঙ্কে  টাকা জমা করেন না । আপনি  ব্যাঙ্ককে  ধার দেন  আর আপনাকে যৎ সামান্য সুদ দিয়ে ব্যাঙ্ক সেই টাকাটা অধিক দরে অন্য মানুষকে , ব্যবসায়ীদের ধার দেয় । চিন্ময় যখন শেওড়াফুলি থেকে আলু কেনে, সেটার মালিকানা তাতেই অর্শায় ,  যাকে আমরা আউটরাইট সেল বলি । ব্যাঙ্ক যখন মিষ্টি হেসে ভালো সুদ দেবার ছলে আপনার টাকাটি ভল্টগ্রস্ত করে, সে টাকা কিন্তু কখনোই ব্যাঙ্কের নয়, আপনারই থেকে যায়।  তবে ওই সুদের আশায় আপনি আপনার ধনের সাময়িক মালিকানা হারালেন ( ব্যাঙ্ক ডুবলে চিরতরে – গ্রিস সাইপ্রাসের কিছু বন্ধুজনের যা হয়েছে ) । আপনার ধার দেওয়া টাকা নিয়ে এবার ব্যাঙ্কের বেওসা শুরু হবে। ব্যাঙ্ক যে কাকে , কোন ব্যবসায়ে,  কোন পরিমাণ সুদে  ধার দিচ্ছে আপনি জানবেন না । দেওয়া ও নেওয়ার সুদের হারের যে পার্থক্য সেটাই ব্যাঙ্কের মুনাফা।

    দ্বিতীয় পার্থক্যটি আরও মনোরম । চিন্ময়  শেওড়াফুলি থেকে যে এক কুইনটল আলু কিনেছে, সেটাই সে পোস্তায় সমাগত ব্যাপারীদের বেচে।  তার লাভ  কেনা ও বেচা দামের ব্যবধানে। ব্যাঙ্কের হাতে আছে একটি জাদু কি ছড়ি । সেই ছড়ি বুলিয়ে ব্যাঙ্ক আপনার জমা দেওয়া একশো টাকাকে  নশো টাকা বানিয়ে ফেলতে পারে।  বরানগরের স্কুলে ক্লাস  নাইনে সুখময় দত্ত সার আমাদের পড়িয়েছিলেন –ব্যাঙ্ক কিভাবে টাকা সৃষ্টি করে ( হাউ ডু ব্যাঙ্কস ক্রিয়েট মানি)। ম্যাজিকটি এই প্রকারের: আপনি যে একশো টাকা খাজাঞ্চির কাউনটারে রেখে এলেন সেটি যথা সময়ে মাটির গভীরের কোষাগারে প্রবেশ করবে । ব্যাঙ্কে সেই একশো টাকা জমার খাতায় ডেবিট রূপে দেখা দিয়েছে – কারণ খুব সহজ এটি ব্যাঙ্ক আপনার কাছ থেকে উধার নিয়েছে। আপনি ব্যাঙ্কে প্রবেশ করার আগে অবধি সে খাতা ছিল শূন্য।

    ব্যাঙ্ক তার অভিজ্ঞতা থেকে জানে আপনি আজ সোমবার যে  টাকা ব্যাঙ্কে জমা বা ধার দিলেন সেটি সামনের শনিবারে রেসের মাঠে উড়িয়ে দেবেন না । মাসে দু মাসে বড়জোর দশ টাকা তুলবেন ।  এটা আপনার সঞ্চয় ।  গৃহিণী শ্যেন দৃষ্টি রাখেন । তাহলে ব্যাঙ্কের হাতে পেন্সিল নয় , রইল ধরুন নব্বুই টাকা। এ টাকা ব্যাঙ্ক শ্যাম বাবুকে ধার দিতে পারে । ব্যাঙ্ক এও জানে শ্যাম বাবু নব্বুই টাকা পেয়েই সেটা খরচা করবেন না।  কখনো  দশ বিশ টাকা তুলবেন।  অতঃপর ব্যাঙ্ক আরেক বকরা ধরবে।  মগনলালকে আশি টাকা ধার দেবে খাতায়। পি সি সরকারের ওয়াটার অফ ইন্ডিয়ার মতন টাকা সৃষ্টি হতে থাকে। 

    আপনার সেই একশো টাকা থেকে গড়পড়তা  নশো টাকা তৈরি হয়ে থাকে। পরীক্ষিত সত্য। মনে রাখবেন , যে টাকা আপনি হাতে করে খাজাঞ্চির টেবিলে রেখেছিলেন সেটি আসল টাকা । বাকি আটশো কাগুজে , ফানি মানি । তা দিয়ে বাজারি ক্রয় ক্ষমতা ( পারচেসিং পাওয়ার ) বাড়ল । ব্যাঙ্কের  এই খেলাটা নব্বুই মিনিট বা কুড়ি ওভারের নয় – চলতে থাকে যতক্ষণ না সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রেফারি হুইসল বাজাবেন।  

    এখন আপনার টাকার ওপরে সুদ দিতে গেলে কিছু মুনাফা আদায় করতে হবে না ?  উঁচু হারে ধার দিলে তবেই না মুনাফা বৃদ্ধি? সে হার যে  ব্যবসায়ী দেবে তার  আপন ব্যবসায়ে ঝুঁকির পরিমাণ নিশ্চয় বেশি । আপনি জানলেন না কোন ঋণগ্রহীতার সঙ্গে ব্যাঙ্ক কি চুক্তিতে যাচ্ছে । ব্যাঙ্কে জমা টাকার পাসবুকটিকে বালিশের তলায় রেখে আপনি নিদ্রা যান।

    সর্বশ্রী ডায়মন্ড / ডিবভিগ ব্যাঙ্কের হলঘরটিকে  আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতার মিলনমঞ্চ আখ্যাত করেছেন -  দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে । আমাদের আপন অভিজ্ঞতায় এই দু পক্ষের ঈদৃশ মিলন তো দেখি নি । অভাগা আমানতকারী কখনোই জানতে পারেন না তাঁর কষ্টার্জিত ধন কোন ব্যবসায়ের শ্রী বৃদ্ধি করছে কেনই বা ব্যাঙ্ক তার ইচ্ছেমত তাকে তার টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবে না ?

    তুলসীদাস বলেছিলেন: বিধাতার কি বিচিত্র লীলা। গোয়ালা দুধ বিক্রি করে বাড়ি বাড়ি । শুঁড়ি কোথাও যায় না।  তার দোকানে লোক এসে হাজির হয় । ভাবুন একবার ! চিট ফাণ্ড ছাড়া  আর কোনো ব্যবসার কথা মনে করতে পারেন  যেখানে  মানুষজন বাড়ি বয়ে টাকা ধার দিয়ে যায় ? জানতেও চায় না সে টাকা যাচ্ছে কোথায় ?   

    ক্রমশ :

    সবিনয় নিবেদন:

    ·       আপনি যে একশ টাকা  ব্যাঙ্কে দিলেন সেটা নগদে বা নোটে হতে হবে এমন কথা নেই।  ব্যাঙ্কে আপনার উপস্থিতিও জরুরি নয়,  অন লাইনে পাঠাতে পারেন। আমি নগদের দৃষ্টান্ত ব্যবহার করেছি সরলীকরণের                কারণে।

    ·       যতটুকু বুঝেছি ডায়মন্ড / ডিবভিগ মডেল বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক ভিত্তিক । এর বাইরে শুধু ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক নয়, ছায়া ব্যাঙ্কিং সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। পরবর্তী পর্বে সেগুলি দেখব ।

    ·  * An economist is a person who, when he finds something working in practice, wonders if it works in theory: Walter Heller, Chair of US Council of Economic Advisers (1961-64)
  • আলোচনা | ০৫ নভেম্বর ২০২২ | ৭৬৪ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    থ: ! - Bitan Polley
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০৫ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৩৭513471
  • নতুন সিরিজ। বেশ চলুক। 
  • Debanjan Banerjee | ০৫ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৪৬513475
  • অসাধারণ হীরেনবাবু | ঘটনাচক্রে আজকেই আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে নিজের একাউন্ট খুললাম | আপনি আমার মতো লোকদের জন্য এব্যাপারে আরো লিখুন | কোনো ব্যাংকে টাকা রাখার সময় আমরা শুধু সেটি কত হারে সুদ দেয় সেটি দেখি | এইছাড়াও আরো কিছু কি দেখা উচিত ?
  • কিশোর ঘোষাল | 2405:201:8007:1091:542d:43c4:796f:2411 | ০৬ নভেম্বর ২০২২ ০০:২৬513490
  • চোখ খুলে দিচ্ছেন... দারুণ। 
  • হীরেন সিংহরায় | ০৬ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৫০513515
  • আপনাদের সকলকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। অর্থনীতি পড়ে ব্যাংকিং করেছি। দুটোই ধোঁয়াটে মনে হয়। তাই জ্ঞানীদের বোকার মত  মত প্রশ্ন করে  জবাব  খুঁজছি ।
     
     
  • Asish kumar Sinharay | ০৬ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৪৪513523
  • ওয়েবমিনারের দিন মন দিয়ে শুনছিলাম। 
  • Debanjan Banerjee | ০৬ নভেম্বর ২০২২ ২১:৫১513550
  • হিরেনবাবু আপনি আবার ওয়েব মিটিং করলে একটু লিংক দিয়ে দেবেন প্লিজ 
  • হীরেন সিংহরায় | ০৬ নভেম্বর ২০২২ ২৩:২৫513557
  • অবশ্যই দেবো। সবার জন্য উন্মুক্ত আমাদের বৈঠক। আপনার মোবাইল বা ইমেল দিয়ে দেবেন। 
  • S | 2405:8100:8000:5ca1::43:4bb0 | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ০৪:২৪513565
  • "পুরস্কারের  সঠিক নাম :  আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে প্রদত্ত সভেরিগেস রিকসবাঙ্ক পুরস্কার।"
    -- এইটা পুরস্কারটির বর্তমান নাম। এই নামের বহুবার অল্প বিস্তর পরিবর্তন হয়েছে।

    "যদিও কিছু অর্থনীতির অধ্যাপক  ক্লাসরুমের বিশাল বোর্ডের ...... অবশ্যই ধন্য ধন্য করে থাকেন।  অগত্যা আমরাও করি।"
    - তবুও অর্থনীতি সম্বন্ধে প্রায় সকলেই বা কিছুক্ষেত্রে অনেকেই কিছু কিছু বক্তব্য (সে ঠিক ভুল হোক) রাখতে পারে। অন্য হার্ড সায়েন্সের ক্ষেত্রে তো সেটাও সম্ভব না।

    "আপনার সেই একশো টাকা থেকে গড়পড়তা  নশো টাকা তৈরি হয়ে থাকে। পরীক্ষিত সত্য।"
    - এইটার কোনও লিন্ক, পেপার কিছু আছে? আমার মনেহয় ব্যাখ্যাটা একটু আলাদা। সেটাই একটু চেক করতাম।

    আর ম্যানুফ্যাকচারিং, ট্রেডিং, টেকনলজি, ব্যাংকিং এই ব্যবসাগুলো আলাদা প্রকারে। আজকাল যাকে বিজনেস মডেল বলে। একাধিক ছোট-বড় পার্থক্য আছে।

    এটি আসল নোবেল নয় বলে যে প্যাঁকটি দেওয়া হয়, সেটার সমস্যা হলো সেটা দুদিকেই ব্যবহার করা হয়। আজকে বার্ণেনকে পেয়েছে বলে আমি আপনি এই বলে ব্যাপারটা হালকা করবো। কয়েকদিন আগে ব্যানার্জিবাবু বা তাঁরও আগে সেনবাবুর ক্ষেত্রে অন্যদল এই একই উপায় নিয়েছিলো। আর এই প্রাইজটির সঙ্গে সেই থিওরি বা পুরস্কারপ্রাপ্তের রাজনৈতীক জনপ্রিয়তা ইত্যাদি জড়িত আছে বলে যে দোষারোপ করা হয়, নোবেল কমিটি আসল পুরস্কারগুলোর ক্ষেত্রেও সেই কাজ দায়িত্ব নিয়ে করে দিয়েছে।
  • হীরেন সিংহরায় | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১১:১৮513568
  • শ্রী স

    অশেষ ধন্যবাদ আমার লেখা পড়ছেন বলে। সবিনয় নিবেদনে বলেছি আমার লেখাটি অতিরিক্ত সরলীকরণের দোষে দুষ্ট ।

    (১)  দুটি পদকের ছবি দিয়েছি।  প্রথমটিতে  আলফ্রেড নোবেলের আবক্ষ চেহারা এবং জন্ম মৃত্যুর বছর ১৮৩৩-১৮৯৬।   সেখানে নোবেলের পুরোনাম লেখা নেই ( Alfr.)।  দ্বিতীয়টিতে লেখা আছে Sveriges Riksbank till Alfred Nobels minne 1968 সুইডিশ till ইংরেজির to এবং minne অর্থ স্মৃতিতে: সুইডিশ রিকসবাঙ্ক থেকে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে ১৯৬৮  । পদকটি ১৯৬৮ সালের ছাপ বহন করে চলেছে প্রথম দিন থেকে । পদকের চেহারা অপরিবর্তিত সেদিন থেকে ।

    (২) “যদিও কিছু অর্থনীতির …..আমরাও করি” : বড়ো কষ্ট করে ছ বছর অর্থনীতির ক্লাস করেছি এটি সেই বেদনার প্রকাশ নিতান্ত পরিহাসের ছলে । বলা বাহুল্য পদার্থ বিদ্যার মতন অর্থনীতি কোন অভ্রান্ত বিজ্ঞান নয়।

    (৩) “আপনার সেই...পরীক্ষিত সত্য “ – প্রায় ষাট বছর আগে বরানগরের স্কুলে যা পড়ানো হয়েছিল তা আজ ইনটারনেটের সর্বত্র পাবেন । positivemoney.org দেখতে পারেন How do banks create money

    (৪) জীবনে কোন কিছুকেই ঠিক সিরিয়াসলি নিইনি: আমার বন্ধুর আলুর ব্যবসা দিয়ে ব্যাঙ্কিং এবং অন্য ব্যবসার পার্থক্য বোঝানোর চেষ্টা করেছি , অতি সরলীকরনে ।  যেমন আর কোন ব্যবসা তার কাঁচামালের ওপরে জাদুই ছড়ি  ঘুরিয়ে মাল ন গুণ করতে পারে না ।

    অপরাধ নেবেন না । অর্থনীতিশিক্ষার দৌলতে করে খেয়েছি । প্রতি অধ্যাপকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।  কাউকে খাটো করার দুঃসাহস আমার যেন কখনো না হয় ।  নোবেল তাঁদের চিন্তার ফসলের ,কাজের পুরষ্কার । সে কাজ সর্বজনের কাজে লাগতে হবে এমন মাথার দিব্যি তাঁরা দেন নি।  দেওয়ার কথাও নয়।  
     
  • S | 2405:8100:8000:5ca1::4f:27fd | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১২:১২513571
  • উত্তরের জন্য ধন্যবাদ।

    ১৯৯৪ এর প্রেস রিলিজ বলছেঃ Bank of Sweden Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Nobel, আবার এইবছরেরটি হল Sveriges Riksbank Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Nobel। এইভাবে নামটি বহুবার বদলেছে। প্রাইজ মানির পয়সাটা বোধয় আসে সুইডেনের সেন্ট্রাল ব্যান্ক থেকে, আনলাইক আলফ্রেড নোবেলের উইল। আর পুরস্কারটি রয়াল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস থেকেই দেওয়া হয় একই অনুষ্ঠানে। তাই অন্তত আমার মতে এই পুরস্কারটি যতটা না দোষে দুষ্ট, এটির সমালোচনাগুলো তার থেকে বেশি সমস্যার। তাই একটু সাবধান হতে হয় আরকি।

    আর ফিজিকাল থেকে সব সায়েন্সই তো বদলাচ্ছে। কত নতুন গ্যানগম্যি এসে পুরোনোগুলোকে ভুল প্রমাণ করেই চলেছে। লোকে বলে ইট'স নট রকেট সায়েন্স। আমি বলি সেইজন্যই তো আরো কঠিন। রকেট সায়েন্স তো বোধয় অনেক বেশি ডিটারমিনিস্টিক।

    https://www.nobelprize.org/prizes/economic-sciences/1994/press-release/

    https://www.nobelprize.org/prizes/economic-sciences/2022/summary/
  • S | 2405:8100:8000:5ca1::32:aee1 | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১২:১৮513574
  • "How do banks create money" সেটা তো জানি। আপনিও বুঝিয়েছেন। কিন্তু নয় গুন কোথায় হয় সেইটার লিন্ক চাইছিলাম।
  • হীরেন সিংহরায় | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৩:০৬513579
  • শ্রী স
     
    Sveriges Riksbank  এর আক্ষরিক অনুবাদ Bank of Sweden । নামটি কোথায় বদলেছে ?
    আমি আমার নিবেদনে লিখেছি  তাদের ব্যাঙ্কের তিনশ বছর পূর্তি উপলক্ষে রিকসবাঙ্ক এই পুরস্কারের প্রতিষ্ঠা করে , অবশ্যই আপন গ্যাঁটের পয়সায় এবং নোবেল কমিটিকে জানায় – এই পুরস্কারের নির্বাচন আমরা করব , আপনারা এটি অন্য নোবেল পদকের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে বিতরণ করবেন । এখানে কোনো সমালোচনার দোষ বা স্থান নেই। অন্য পাঁচটি নোবেল পুরস্কার আর অর্থনীতির পুরস্কারের ইতিহাসটা আলাদা – শ্রী নোবেল এটির স্থাপনা করেন নি যেহেতু তাঁরই নামে ,  সম্মান একই।
     
     এখানে অবিশ্যি একটা  ব্যতিক্রম আছে – শান্তি পুরস্কার স্টকহলমে নয়, ওসলোতে দেওয়া হয় সেটা অন্য গল্প
     
    ব্যাঙ্ক কিভাবে ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে থেকে তা  নিয়ে positivemoney.org এ একটি ভিডিও উপস্থাপনা পাবেন।  সেখানে চমৎকার ব্যখ্যা করা আছে, একটি ঘড়ি কেনা নিয়ে । প্রতি ক্ষেপে দশ শতাংশ বাড়ে এই হিসেবে ন গুণ ধরা হয় , যা আমরা শিখে এসেছি । তবে বর্তমানে QE র কারণে তার মাল্টিপল আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নিয়ে বিশদ আলোচনার সময় এসেছে .
     
  • S | 2405:8100:8000:5ca1::50:ac80 | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৩:২০513581
  • ১৯৮২ঃ The Royal Swedish Academy of Sciences has decided to award the 1982 Alfred Nobel Memorial Prize in Economic Science to Professor George Stigler, University of Chicago, USA,

    ১৯৮৩ঃ The Royal Swedish Academy of Sciences has decided to award the 1983 Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Nobel to Professor Gerard Debreu, University of California, Berkeley, USA,

    আবার ১৯৮৪ঃ The Royal Swedish Academy of Sciences has decided to award the 1984 Alfred Nobel Memorial Prize in Economic Sciences to Professor Sir Richard Stone, University of Cambridge, United Kingdom,

    এই সময়গুলোতে ব্যান্ক অব সুইডেনের নাম থাকতো না নামে।
  • S | 193.142.146.213 | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৪২513582
  • বুঝেছি ঐ ১ বাই রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট রেশিও আর কয়েকদিন আগেও যেহেতু আমেরিকাতে রিজার্ভ রেশিও ১০% ছিলো, সেই ধরে হিসাবটা করা হচ্ছে।
  • হীরেন সিংহরায় | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৪:১৭513584
  • না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ রেশিও তার মানদন্ড নয়। এককে নয় করার অংক ব্যাংকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ওপর আধারিত। থামব রুল। 
     
     
  • Debanjan Banerjee | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৫০513585
  • হিরেনবাবু 
     
    আমার মোবাইল নম্বর +91-9831636194
     
    ইমেইল [email protected]
     
    আপনার গল্পের বৈঠকের অপেক্ষাতে রইলাম |
     
    আফ্রিকা ও অর্থনীতি নিয়ে আপনার গল্পগুলি শোনার বড়ো আগ্রহ |
  • হীরেন সিংহরায় | ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৫:২৮513586
  • ইমেল চেক করুন । পেলেন কিনা দেখি 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন