এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  অর্থনীতি

  • অর্থনীতি ও নোবেল পুরস্কার ২০২২

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | অর্থনীতি | ১৭ নভেম্বর ২০২২ | ৫২৬ বার পঠিত
  • অর্থনীতি ও নোবেল পুরস্কার ২০২২
     
    পর্ব ৫
     
    দুই । বেরনানকে ও বেলুনওলা
     
    গাঁয়েতে এয়েছে এক কেরামতি সাহেব কোম্পানি
    কত তার ঢ্যাঁড়া কারা- মানুষ না পিপীলিকা
    যা রে যা দ্যাখগা খেলা হরির নাচন আর ভাঁড়ের কেরদানি 
     
    হাসন রাজার বাড়ি 
     
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়  
     
    দশ পনেরো বছর আমাদের জার্মানি বা ইংল্যান্ডের  বাড়িওলা ছিল যথাক্রমে ড্রেসনার ব্যাঙ্ক এবং কুটস ব্যাঙ্ক।  তাদের কাল এবং প্রাপ্য পূর্ণ হলে হাতে এলো এক দিস্তে  দলিল পত্র যা এতদিন ছিল মালিকের বা  ব্যাঙ্কের দেরাজে। এবার সে মালিকানা আমাতে অর্শায়। তাঁরা ছিলেন  উত্তমর্ণ আমি অধমর্ণ।  ঋণ যাকে দিয়েছেন তার হাঁড়ির খবর রেখেছেন তাঁরা । কখনো ই এম আই দেওয়ার অসুবিধে হলে  -  ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের করুণা  ভিক্ষা করেছি।  কেউ পুলিশ বা পেয়াদা পাঠান নি।
     
    সঠিক ইতিহাস অনুযায়ী আমেরিকান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় উত্তমর্ণ /অধমর্ণের এই বন্ধন  বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে গত শতাব্দীর সাতের  দশকে। ফ্রাঙ্কফুর্ট প্রবাস কালে এর একটা আবছা আভাস পেয়েছিলাম কনটিনেনটাল  ইলিনয়  ব্যাঙ্কের সহকর্মী  শিকাগোর বিয়াত্রিস রামিরেজের কাছে। বিয়াত্রিস ছিলো আমাদের ব্যাঙ্কের ভ্রাম্যমাণ রাষ্ট্রদূত  (রোভিং অ্যামবাসাডর) । যদিও সেই ১৯৮১ সালে আমাদের জীবনে ইমেল ( ইনটারনাল, নাম ছিল আইরিস মেল) আবির্ভূত হয়েছে , তবু ইউরোপ এশিয়া মিলিয়ে আটটি  ব্রাঞ্চের সঙ্গে মানবিক যোগাযোগ রাখা, একটা সফট টাচ দিয়ে  শিকাগোর বার্তা ফ্রন্টের কর্মীদের পৌঁছে দেওয়া / তাদের কথা শিকাগো পৌঁছে দেওয়া ছিল তার কাজ।   বিয়াত্রিস একদিনের মিটিঙে বললে শোনা যাচ্ছে বাড়ি বন্ধকের ব্যবসা কেবল খদ্দের  এবং ব্যাঙ্কের মধ্যে  সীমাবদ্ধ থাকবে না । অনেক মর্টগেজকে জুড়ে বন্ড বানানোর চেষ্টা হচ্ছে । বন্ডের ক্রেতা প্রতি মাসে যে সুদ পাবেন সেটা ওই ই এম আই থেকে আসবে আর বাড়ির ধার যেদিন শোধ হবে সেদিন আসল ফেরত।  শিকাগোর লা সাল স্ট্রিটে বসেও আমরা নিউ ইয়র্কের খবর রাখি! তবে আমাদের মতে এখানে দুটো সমস্যা -  আজ একজন, এক  পরিবার সে বাড়িতে বাস করে, ই এম আই দেয় , কাল সে  বাড়ি বিক্রি করে দিতে পারে অথবা সুদের হার কমে গেলে অন্য ব্যাঙ্কের কাছে গিয়ে কম হারে রি ফাইনান্স খোঁজে।  তার মানে সেই মর্টগেজের ধারাবাহিকতা বা তার সুদ থেকে আয় দুটোর পেছনেই জিজ্ঞাসা চিহ্ন দেখা দেয়। আরেকটা মিস ম্যাচ - লোকে পনেরো বিশ পঁচিশ বছরের মর্টগেজ নেয়, যা শুনছি বেশির ভাগ বন্ডের আয়ু দশ বছরের। বোকেনহাইমার লানডস্ত্রাসের মিটিং রুমে এক শীতের বিকেলে সেটা অলস তাত্ত্বিক আলোচনা মাত্র থেকে গিয়েছিল।  খানিকটা বুঝলাম  হয়তো তবু বিনি খরচায় অনাবশ্যক জ্ঞান একটু  বাড়ল ।
     
    লন্ডন আসার পরে বাজারে এ নিয়ে হইচই শোনা গেল। সলোমন ব্রাদারস নামক একটি অংশীদারি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ট্রেডার স্টিভেন জোসেফ ( তার ভাই ফ্রেড ড্রেকসেল বারনহামের সি ই ও, যেখানে মিলকেন ছোট ব্যবসার পরিত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন ) এবং বব ডাল,  সেই  যুগান্তকারি আবিষ্কারের পরম পিতা, রীতিমত মাঠে নেমে পড়েছেন।  সে খেলার রুল বুক নিম্নরূপ –
     
    আজ ব্যাঙ্ক আমাকে ধার দিলো বাড়ি কেনার জন্য ।  কাল তারা সেই ঋণ  বেচে দিলো আমার সম্পূর্ণ অজানা অচেনা কোন প্রতিষ্ঠানকে ( যেমন সাত হাত ঘুরে আমার ফ্লোরিডার বাড়ির শেষ মালিকের নাম ওয়েলস ফারগো যাদের কোন সাইনবোর্ড এই রাজ্যে দেখা যাবে না )। এই নবীন ক্রেতা কিনলো আরও অনেক বাড়ি , অনেক মর্টগেজ – সে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া , অ্যারিজোনা , ক্যালিফোর্নিয়া যেখানেই হোক।  ইট কাঠ  সিমেন্টের বাড়ি  হলেই হলো । এবারে ধরুন এই ওয়েলস ফারগো ফোন করলো সলোমনের স্টিভেনকে  - ‘ স্টিভ, হ্যাভ আই গট এ ডিল ফর ইউ ! এক কোটি ( দশ মিলিয়ন ) ডলারের বান্ডিল তৈরি । তোমরা আমাদের কেনা দাম দিয়ে মালিকানা সহ বন্ড বানাতে পারো ‘। স্টিভ উড়ে আসে লস এঞ্জেলেস।  তৈরি হয় একটি  বন্ড  তার আসল পাওয়া যাবে দশ বছর বাদে। এর   ভেতরে গোঁজা আছে হাজার হাজার বাড়ির ঠিকানা, ক্রয় মূল্য , মাসিক সুদের পরিমাণ- কোন বাড়ির মর্টগেজ দশ কারুর তিরিশ বছরের।  এই বান্ডিলের একশ , দুশ,  হাজার টুকরো করে সলোমন বেচে লগ্নিকারকদের কাছে ।  সেই লগ্নি যারা করলেন তাঁরা জানেন এ বন্ড শুধুই কাগজ নয়, এর পেছনে আছে একটা বাড়ি বা ফ্ল্যাট  সেখানে মানুষজন বসবাস করেন, শিশুরা  খেলে । ঠিক কোথায় , কোন শহরে,  কোন পাড়ায় সেটা না জানলেই বা কি । বছর দুই বাদে লুই রানিয়েরি নামের এক ইতালিয়ান /আমেরিকান এই বিভাগের হাল ধরেন। মর্টগেজ ব্যাকড সিকিউরিটি নামক জাদু কি ছড়ি বা মানি মেকিং মেশিন নামে  যে স্ফুলিঙ্গটি জ্বলে উঠলো , প্রায় তিরিশ বছর বাদে সেই  অগ্নিকাণ্ডে ওয়াল স্ট্রিটের চোখ মুখ ঝলসে যাবে।
     
    তবে  এতো বড়ো কর্মকাণ্ডের কৃতিত্ব এক প্রতিষ্ঠান বা দু জন মানুষকে  দেওয়া হয়তো সমীচীন হবে না ।
     
    স্মরণ করতে হয় জাঙ্ক বন্ড বা  আবর্জনা স্বরূপ কাগজ বিক্রির পিতা মাইকেল মিলকেনকে ।  তিনি কাজ করতেন ড্রেকসেল বারনহাম ল্যাম্বারট নামক ওয়াল স্ট্রিট ফার্মে।  মিলকেন বললেন  বড়ো বড়ো কোম্পানিকে ধার দিতে, তাদের বন্ড  হাটে বাজারে বিক্রি করতে সিটি চেজ মরগান পা বাড়িয়েই আছে । কিন্তু লস এঞ্জেলেসের রুটিওলা বা আলবুকারকির টুপিওলাকে ধার দেবে কে ? ব্যাঙ্কের চৌকাঠে পা দেবার আগেই  দারোয়ান তাদের দূর করে দেবে।  ছোট খাটো সামান্য ব্যবসাতে দু পয়সা লাগানোর মতন কিছু ছোট পকেটের ইনভেস্টর হয়তো আছেন । তাদের খোঁজ করা যাক । মিলকেন এই অপরিচিত ব্যাপারীদের নিয়ে গেলেন পরিচিত জনতার নিওন লাইট শোভিত সভাকক্ষে।  মিলকেনের সৃষ্টিকে উন্নত নাসা আরমানি সুট পরা ম্যানহাটানের ব্যাংকার জাঙ্ক বন্ড নাম দিয়ে তাদের আপন স্থান নির্দেশ করে দিলেন। ।  
     
    এবার এক ধাপ এগিয়ে , ১৯৮৭ সালে মিলকেন একাধিক জাঙ্ক বন্ডের যে মালা সাজালেন  তার নাম কোল্যাটারালাইজড লোন অবলিগেশান – একটা ঋণ নয়, ইনভেস্টর কিনছেন একটি ঋণের গুচ্ছ , তাতে সাজানো নানা রকমের ঋণপত্র – নিউ ইয়র্কের চায়ের দোকান বা ডেলি , লস এঞ্জেলসের রেসের বুকি , সান্টা মনিকার  গ্রিন ফারমাসি ( বুঝ গুণী যে জান  সন্ধান)  ! স্বাভাবিক ভাবেই সুদের হার আকাশছোঁয়া ।  লগ্নিকারক খুশি – হোয়ার  ডু আই সাইন? মাইকেল মিলকেন দেখালেন একটা দুটো ঋণ নয়, যে কোন ঋণের সমষ্টি দিয়ে তৈরি একটা বিশাল প্যাকেট বেচা যায় – যতক্ষণ খদ্দের জোটে । খরিদ্দার প্রভুর সমান , কে না জানে ।
     
    কিছু অঘটন ঘটল।  শেয়ার বাজারে মন্দা । সোমবার ১৯শে অক্টোবর ১৯৮৭ ডাউ জোনসের  যে অধঃপতন  হল তা ছাড়িয়ে গেলো ইতিহাসের সবচেয়ে কালো দিনকেও (   ২৯ অক্টোবর ১৯২৯ )।  খানিক খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলার পরে নয়ের দশকে আবার জুয়োর দান  লাগলো -নতুন খেলার নাম ইনটারনেট বা ডট কম বুম। নাটের গুরু অ্যালান গ্রিনসপান  এবং তাঁর সুযোগ্য সাগরেদ বেঞ্জামিন বেরনানকের সামনেই ডট কমের বুদবুদ ফাটলো শতাব্দীর শেষ পাদে। উনিশশো  তিরিশের মহা মন্দার পণ্ডিত বেরনানকে  তাঁর গুরুকে বললেন, প্রভু , সেবারের ভুল ফেড যেন আর না করে !  গুরু বললেন, তথাস্তু।  শেয়ার বাজারের নব সঞ্জীবনীর সন্ধানে সত্বর সুদের হার অর্ধেক করা হলো ।
     
    লগ্নিকারকরা পড়লেন ফাটা বাঁশের মাঝে – ব্যাঙ্কে জমা রাখলে মেলে স্বল্প সুদ , শেয়ার বাজারের হাল সুবিধের নয়।
     
    অতঃ কিম?  
     
    মন্দা কাটিয়ে আমেরিকান অর্থনীতি সেরে উঠছে , লোকের আয় বাড়ছে – ফল স্বরূপ বাড়িঘরের চাহিদাও। হার্ভার্ড হোয়ারটনের মতো বাণিজ্য বিদ্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  নানান বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে জুয়া খেলাটাও শিখেছেন ওয়াল স্ট্রিটের উজ্জ্বল তারকারা।  ফাইনানশিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং ( এককালে এর  নাম ছিল অ্যালকেমি) দ্বারা সোনাতে সোহাগা মেশালেন – সোনার নাম  হাজার বাড়ি বন্ধকের সমষ্টি ( মর্টগেজ ব্যাকড সিকিউরিটি) , নতুন সোহাগার নাম  হরেকরকমবা ঋণের জামানত ( কোল্যাটারালাইজড লোন অবলিগেশান) । মিলকেন  বলেছিলেন ছোট হতে পারে কিন্তু  কোন ব্যবসা বা ঋণ  তুচ্ছ নয় , জাঙ্ক বলিয়া কোরো না হেলা। সলোমনের রানিয়েরির খাতায় ছিল মর্টগেজের সমারোহ । ঋণ রইল বাড়ি বন্ধক দ্বারা সুরক্ষিত,  সুদ এলো ই এম আই থেকে । এবার সকল অধীর লগ্নিকারকের শিরে  যে পুষ্প বর্ষিত হলো তার নাম  জামানত কৃত মর্টগেজ সমষ্টি (কোল্যাটারালাইজড মর্টগেজ অবলিগেশনস ) ।
     
    কাল পূর্ণ হলে এই পুষ্প দেখা দেবে অগ্নিবৃষ্টি রূপে।
     
    ফেডারাল রিজার্ভের প্রভু গ্রিনসপান  এবং গভর্নর বেরনানকে জনগণকে পরামর্শ দিলেন, বাজারে মর্টগেজ মিলছে অঢেল , যদিও সুদের হার পরে বাড়তে পারে আপাতত তা অত্যন্ত সুলভ ( Adjustable Rate Mortgage, ARM), নিয়ে নিন বন্ধুগণ।  বিলম্বে মোয়া মেলে না ।* এই সুদের হার যে পরদিন বা পরের মাসে বেড়ে গিয়ে আপনার সংসারের বাজেটে  বিশাল ফুটো করে দিতে পারে সে বিষয়ে এই অর্থনীতিবিদ কোন ইঙ্গিত দিলেন না ( তৎকালে সুদের হার ১%) ।
     
    লেমান, গোল্ডম্যানের সেই বন্ড বিক্রির সাফল্য দেখে অত্যন্ত চমৎকৃত হয়ে  দুই অর্থনীতি পণ্ডিত গ্রিনসপান  / বেরনানকে ঘোষণা করলেন বাণিজ্যের ঝুঁকি আর কিছু ঋণদাতা ব্যাঙ্কের ঘরে সীমাবদ্ধ নেই। সে  ঝুঁকি বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে **। ওই দেখ আমেরিকান অর্থনীতির প্রভাত  উদয় !
     
    ২০০৫ সাল নাগাদ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যঙ্কের বিলিটার স্ট্রিটের অফিসে লগ্নির আশায় এলেন  আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিঙের কতিপয়  মহারথী।  সহযোগীর সঙ্গে বসে আমি প্রথমবার সি এম ও র সঙ্গে পরিচিত হই – বক্তারা বোঝালেন কিভাবে বিভিন্ন রকমের মর্টগেজকে একত্রিত করা হয় । এই ধরুন আপনি একটা সরু উঁচু মর্টগেজের বাকসো  কিনছেন । একেবারে ওপরের তলায় আছে নিউ ইয়র্কের ফিফথ এভিনিউএর দশটা ফ্ল্যাট, তার নিচে আছে ব্রনকসের একশো বাড়ি , একেবারে তলায় আছে ডেট্রয়েটের দু  কামরার বাড়ি ।  স্বভাবিক ভাবেই ওপরের  অংশ কিনলে আমরা পাবো কম সুদ , নিচেরটা কিনলে বেশি । তবে ভেবে দেখুন সবগুলো কি একই সঙ্গে অনাদায়ী হয়ে যেতে পারে ? প্রোবাবিলিটি কি বলে ? কোন ব্যাঙ্ক কবে কোথায় কাকে কি দেখে বাড়ি কেনার ঋণ দিয়েছিলেন?  আজ তাঁরা কি জানেন সেই সব ঋণের বিকিকিনি হচ্ছে লন্ডনের বিলিটার স্ট্রিটে ?  জানেন না , জানতে চান না।  কেন না  মর্টগেজ দেওয়ার দু দিনের মধ্যেই ব্যাঙ্ক ম্যানেজার সেই টাকা পেয়ে গেছেন এই বন্ড নির্মাতাদের কাছ থেকে। এখন খুঁজছেন আরও বাড়ির ক্রেতা। যে কোন ঋণের সবচেয়ে জরুরি এবং বিবেচ্য বিষয় – ঋণের ঝুঁকিটি – অন্যের হাতে তুলে দিয়ে  তিনি সানন্দে নিদ্রা যেতে পারেন।
     
    সাব প্রাইম সঙ্কটের বিষয়ে  কিঞ্চিৎ আলোচনা এখানে করা আবশ্যক কারণ বেঞ্জামিন বেরনানকের নোবেল স্মৃতি পুরস্কার তাঁর  বেল আউট করে ব্যাঙ্কিংকে  বাঁচানোর সম্মানে  দেওয়া হয়েছে । প্লেনের অগ্নিসংযোগ কর্মটি কে বা কারা করেন সেটি কি বেরনানকের নজরে পড়েছিল ?  নানান অর্থনীতিবিদ কঠিন থেকে কঠিনতর  মডেল বানিয়ে  আমাদের চমৎকৃত করে থাকেন কিন্তু  সামান্য কয়েকজন দেশের অর্থনীতির বা প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন ***। বেরনানকে এক বিরল অর্থনীতিবিদ যিনি সেই সুযোগ পেয়েছিলেন । তাই আমার প্রশ্ন -  হাওয়াই জাহাজের মেশিন যখন গোলযোগে পড়ে তখন তিনি কি তা লক্ষ করেছিলেন না আগুন লাগলে পরে প্যারাসুট বিতরণ  করে সম্মানিত হলেন?
     
    রঘুরাম রাজন মাত্র চল্লিশ বছর বয়েসে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের মুখ্য অর্থনীতিক নিযুক্ত হয়েছিলেন । এই পদে তিনিই  প্রাচ্যের প্রথম মানুষ। ডক্টরেটের থিসিসে তিনি দেখিয়েছিলেন ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে দক্ষতা বাড়ে না ঋণগ্রহীতার সঙ্গে ঋণদাতা ব্যাঙ্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটি জরুরি (১৯৯৬) ।
     
    আঠারো বছর যাবত ফেডারাল রিজার্ভের নেতৃত্ব দেওয়ার পরে অ্যালান গ্রিনসপানের  বিদায়ী সভায় (জ্যাকসন হোল,  ওয়াইওমিং , ২৭শে আগস্ট ২০০৫ )  আমেরিকান ব্যাঙ্কিং  ব্যবস্থার ওপরে রঘুরাম রাজন একটি অসামান্য পর্যবেক্ষণ পেশ করেছিলেন ।  উদ্ধৃতির দৈর্ঘ্যের জন্য আগাম ক্ষমা চেয়ে তার অংশ বিশেষ এখানে তুলে ধরা আবশ্যক মনে করি ***
     
    “ ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার সম্পর্কটি একান্ত অন্তরঙ্গ । কিন্তু আজ সেই সব ঋণ হাটে বাজারে বিক্রি হচ্ছে,  প্যাকেটে করে । বাবা মাকে যেমন জিজ্ঞেস করা হয় , আপনি কি আপনার ছেলে মেয়েরা এখন কোথায় ? তেমনি ব্যাঙ্কারদের প্রশ্ন করি, আপনি কি জানেন আপনার ঝুঁকি এখন কোথায় বাস করছে ? এককালে ঋণ  ছিল ব্যাঙ্ক কেন্দ্রিক -খারাপ ঋণের জন্য ম্যানেজারের শাস্তি হয়েছে।  আজ ধার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি বেচে দিয়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার হাত  ঝেড়ে ফেলে ।  ঋণের স্বাস্থ্য দেখে কে ?  বন্ড প্যাকেজ মারফত মর্টগেজের  ট্রেডিঙে অংশ নেয় হেজ ফাণ্ড, মিউচুয়াল ফাণ্ড ইত্যাদি নানান চেহারার প্রতিষ্ঠান যাঁদের কোন নিয়ন্ত্রক নেই । তাঁদের  লক্ষ্য ফি আদায় করা । কোন দায়িত্ব আছে কি ? এইসব ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজারের বেতন ও বোনাস নির্ধারিত হয়  ঋণের স্বাস্থ্য  দিয়ে নয়, ত্রৈমাসিক লাভের ওপরে। আমার ধারণা এঁরা সব সময়ে ঝুঁকির প্রকৃত চেহারাটি লগ্নিকারকের সামনে পেশ করেন না, খোঁজেন আরও বেশি সুদ এবং ফি  যার ফলে কাগুজে ধনবৃদ্ধি ( অ্যাসেট বাবল ) এবং তার বিনাশ  অবশ্যম্ভাবী “ ।  
     
    রঘুরাম রাজনের এই ভাষণের তীব্র সমালোচনা হয় । একটা রমরমা বাজারে তিনি ঠাণ্ডা জলের জলের বালতি নিয়ে হাজির হয়েছেন।  আমেরিকান  ট্রেজারি দপ্তরের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, বিল ক্লিনটনের অর্থনীতিক পরামর্শদাতা  এবং হার্ভার্ডের ২৭তম প্রেসিডেন্ট  বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ল্যারি সামার বলেন রঘুরাম রাজন একজন  পথভ্রষ্ট মানুষ ( মিসগাইডেড ) । গ্রিনসপান দর্শকের আসনে প্রস্তরীভূত চেহারা নিয়ে শোনেন । রাজনের ভাষণকে বেরনানকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন । টেলিভিশনে দফায় দফায় তাঁর হেনস্থা করা হয় -  লাডাইট আখ্যায় ভূষিত হন তিনি । ফক্স নিউজের দুর্ধর্ষ বাণিজ্যিক  অ্যাংকর নিল কাভুটো মনে করেছিলেন রাজন  আমেরিকান অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণটা  বুঝে উঠতে পারেন নি  । রাজন বিরোধীদের তালিকা অতীব দীর্ঘ ।
     
    বেঞ্জামিন বেরনানকে সেই সময়ের অর্থনীতিকে মহান সংযমী বাজার ( গ্রেট মডারেশন ) বলে অভিহিত  করেছিলেন – মুদ্রাস্ফীতি আয়ত্তের মধ্যে, অর্থনীতিক উন্নয়ন অব্যাহত , বেকারত্ব অতি সামান্য – এ সবই এক সফল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিফলন । এইসঙ্গে তিনি ভাগ্যকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন ।
     
    অশনি সঙ্কেত তিনি দেখতে পান নি কারণ তিনি দেখতে চান নি ।
     
     
    নভেম্বর ১৬, ২০২২
     
    ক্রমশ :
     
     
    · * More homeowners should consider taking out adjustable-rate-mortgages(ARMs) where the interest rate adjusts itself to the current interest in the market : Alan  Greenspan Feb 23, 2004
    · ** The development of our paradigms for containing risk has emphasized dispersion of risk to those willing, and presumably able, to bear it. If risk is properly dispersed, shocks to the overall economic system will be better absorbed and less likely to create cascading failures that could threaten financial stability: Alan Greenspan 2004
     
    · *** Myron Scholes/ Robert Merton – LTCM
    · ****Something as intimate as credit risk is now being traded with strangers. In fact, in the same way as parents are asked "Do you know where your children are?", bankers nowadays are asked "Do you know where your risks are held?". The tendency towards arm's length transactions has been termed "disintermediation" because it involves moving away from traditional bank-centered ties : Dr Raghuram Rajan speech at Jackson Hole, Wyoming, 27 August 2005 

     
  • আলোচনা | ১৭ নভেম্বর ২০২২ | ৫২৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:fd34:7f61:cd98:dc46 | ১৮ নভেম্বর ২০২২ ০৩:৪৩513859
  • অর্থাৎ এই সিডিও চালু করে পারভার্স ইনসেনটিভ চালু করা হল। এখন যে কোন ব্যাংক ম্যানেজার বলতে পারে, দেল‍্যুজ, কিন্তু আমার পরে।
     
    ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স লেবারের ফানজিবিলিটি খোঁজে। কিন্তু তার জন্য ডোমেন নলেজের গুরুত্ব হ্রাস হয়। পারভার্স ইনসেনটিভ সহজে তৈরী হয়। এরকম একটা কথা আমার মনে হয় মাঝে মাঝে।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৮ নভেম্বর ২০২২ ০৫:১৪513860
  • তার আরেক নাম  ডিসইনটারমিডিয়েশন!  বা আইরিশ খেলা , পাস দি পার্সেল !! 
  • মোহাম্মদ কাজী মামুন | ১৮ নভেম্বর ২০২২ ২৩:৩৯513871
  •  ''খরিদ্দার প্রভুর সমান , কে না জানে ।''
    '' হার্ভার্ড হোয়ারটনের মতো বাণিজ্য বিদ্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  নানান বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে জুয়া খেলাটাও শিখেছেন ওয়াল স্ট্রিটের উজ্জ্বল তারকারা।''
    ''বাণিজ্যের ঝুঁকি আর কিছু ঋণদাতা ব্যাঙ্কের ঘরে সীমাবদ্ধ নেই। সে  ঝুঁকি বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে ''
    ''কেন না  মর্টগেজ দেওয়ার দু দিনের মধ্যেই ব্যাঙ্ক ম্যানেজার সেই টাকা পেয়ে গেছেন এই বন্ড নির্মাতাদের কাছ থেকে। এখন খুঁজছেন আরও বাড়ির ক্রেতা। যে কোন ঋণের সবচেয়ে জরুরি এবং বিবেচ্য বিষয় – ঋণের ঝুঁকিটি – অন্যের হাতে তুলে দিয়ে  তিনি সানন্দে নিদ্রা যেতে পারেন।''
    ''তাই আমার প্রশ্ন -  হাওয়াই জাহাজের মেশিন যখন গোলযোগে পড়ে তখন তিনি কি তা লক্ষ করেছিলেন না আগুন লাগলে পরে প্যারাসুট বিতরণ  করে সম্মানিত হলেন?''
    ''ডক্টরেটের থিসিসে তিনি দেখিয়েছিলেন ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে দক্ষতা বাড়ে না ঋণগ্রহীতার সঙ্গে ঋণদাতা ব্যাঙ্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটি জরুরি (১৯৯৬) ।''
    ''বাবা মাকে যেমন জিজ্ঞেস করা হয় , আপনি কি আপনার ছেলে মেয়েরা এখন কোথায় ? তেমনি ব্যাঙ্কারদের প্রশ্ন করি, আপনি কি জানেন আপনার ঝুঁকি এখন কোথায় বাস করছে ?''
    অসাধারণ লেখা। শুধু জানলামই না উপভোগও করলাম। সামনের পর্বগুলিও পড়ার প্রত্যাশা থাকলো। 
     
    "অশনি সঙ্কেত তিনি দেখতে পান নি কারণ তিনি দেখতে চান নি ।"
    তিনি চান নি,তা বেন বার্নানকের বইটি পড়লে কিন্তু মনে হয় না। ওখানে তিনি ল্যারি সামারসদের উপর এক হাত নিয়েছেন। 
  • হীরেন সিংহরায় | ১৯ নভেম্বর ২০২২ ০১:০৩513873
  • ঠিক কথা। কিন্তু বেরনানকের বইগুলি ছাপাখানার মুখ দেখেছে অগ্নি কান্ডের অনেক পরে ( Courage to Act , First Responders, Financial Crisis and it's Lessons) । চোর পালালে বুদ্ধি বাডে। যে জতুগৃহটি তৈরী হচ্ছিলো সেটিকে তিনি সুরম্য প্রাসাদ মনে করেছিলেন। সেটাকেই আমি অশনি সংকেত বলেছি। পরবর্তী পর্বে আরো । 
    আরেকটা কথা - আগুন লাগলে কাকে বাঁচাবেন 
    কাকে পুডতে দেবেন সেটার সিদ্ধান্ত কোনো অর্থনীতি বিদ সুলভ ছিলো না। 
    আড্ডায় যোগ দিন!!
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:4f23:71bb:1eb1:9984 | ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২০:১৯514121
  • পরের কিস্তি আসুক।
  • ইসে মানে .... | 117.194.73.182 | ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২০:৪৩514123
  • "ডট কমের বুদবুদ ফাটলো শতাব্দীর শেষ পাদে"।
     
  • ইসে মানে .... | 117.194.73.182 | ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২১:২৬514124
  • আচ্ছা হীরেনবাবু রাগ করার আগে বলে দিই, লেখাটা খুব ভালো হচ্চে। ২০০৮ বা ৯ সালে ক্রুগম্যান সাহেব  নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটা দামড়া সম্পাদকীয়  লিখেছিলেন এই নিয়েই, বারনানন্কে- রাজন-সামার্স  এই বিতন্ডা নিয়ে  । অবশ্য কু লোকে বলে যে, ২০০৮ এর মন্দা না এলে ক্রুগম্যানকে নোবেল কমিটি অবহেলা করেই যেতো। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন