• হরিদাস পাল  বইপত্তর

  • পুস্তকালোচনা — ছায়াসপ্তক — কর্ণ শীল

    AritraSudan Sengupta লেখকের গ্রাহক হোন
    বইপত্তর | ২৫ মার্চ ২০২১ | ১৪১৭ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • #পুস্তকালোচনা — #ছায়াসপ্তক — #কর্ণ_শীল



    বই = ছায়াসপ্তক
    লেখক = কর্ণ শীল
    প্রকাশক = boiChoi publiCation
    পৃষ্ঠা সংখ্যা = ১২৮
    মুদ্রিত মূল্য = ১৬৬ টাকা (প্রথম সংস্করণ)



    ———————————————————————————————————————


    প্রথমেই জানিয়ে রাখি যে, বইটি স্বয়ং লেখকের কাছে উপহার হিসেবে পাওয়া।

    ১) আবার ফিরব আমি (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অপু-কাজল-এর প্যাস্টিশ) — কাজল তার বাবার সাথে এসেছে ইচ্ছামতীর কাছে যেখানে তাদের পুরোনো বাড়ি ছিলো। তারপরে তাদের কেমন অভিজ্ঞতা লাভ হয় সেই নিয়েই এই কাহিনীটি।
    এই কাহিনীটিতে বেশ ছোট হলেও স্মৃতিমেদুর করে তোলে।

    ২) বাঘের মন্তর (তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত তারানাথ তান্ত্রিক-এর প্যাস্টিশ) — দক্ষিণবঙ্গের এক গ্রামে বাঘের হানা, এদিকে শিকারী জমিদারের উপর অমঙ্গলের ছায়া দেখতে পায় তারানাথ। এরপরে কী হলো, এই অলৌকিক কাহিনীটিতে সেটাই বিবৃত।
    এই কাহিনীটি ভালো আর এতে থাকা চমকটিও দুর্দান্ত।

    ৩) ভয়াল দেবতার মন্দির (সত্যজিৎ রায় রচিত শম্ভুচরণ বসু-এর ফ্যান ফিকশন) — তান্ত্রিক দানবিক এক শক্তি জেগে উঠে পৃথিবীতে নানা ধ্বংসাত্মক কাজ করে চলেছে, যাকে থামানো উপায় আছে তিব্বতের এক গুম্ফার পুঁথিতে। শম্ভুচরণের নাতি নিত্যশরণ রায়ের উপর এই কাজের ভার পড়েছে। এরপরে সেই ভয়ঙ্কর অপদেবতার সাথে কেমন লড়াই হলো, সেটা এখানে লেখা হয়েছে।
    এই কাহিনীটির বিষয় ও লেখার ধরন সত্যজিৎ রায়ের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও কাহিনীটি সুখপাঠ্য।

    ৪) কোকিলা (সত্যজিৎ রায় রচিত শম্ভুচরণ বসু-এর ফ্যান ফিকশন) — নষ্টচন্দ্রের রাতে শম্ভুচরণের দুই ছেলে এবং তাদের ঘরে মানুষ হওয়া রামখেলাওন চুরি করতে বেরিয়ে ঝামেলায় পড়ায় রামখেলাওনের ডাকে কোকিলা নামের একটি অলৌকিক শক্তি তাদের কীভাবে সাহায্য করলো এবং এই কোকিলার অতীত এই গল্পে জানানো হয়েছে।
    এই কাহিনীটি লেখার কায়দা কিছুটা লীলা মজুমদারের লেখা ছোটগল্পের কথা মনে করায়।

    ৫) মহাভারতে ঘনাদা (প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত ঘনশ্যাম দাস-এর প্যাস্টিশ) — মহাভারতের যুগে চীন থেকে ভারতের দিকে পারমানবিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার কাহিনী ঘনাদা জানিয়েছেন এখানে।
    এখানে পারমাণবিক অস্ত্রের বৈজ্ঞানিক বর্ণনায় (ভরের ব্যস্তানুপাতিক বৃদ্ধি) ভুল হয়েছে, প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখায় এই ধরনের ভুল কিন্তু থাকতো না। আর প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা মহাভারতে ঘনাদার যে কাহিনীগুলি আছে তার থেকে লিখনশৈলী কিছুটা ভিন্ন।
    এরপরেও এটাকে প্যাস্টিশ হিসেবেই ধরা যায়! কারণ চরিত্রের আচরণ বা লেখনশৈলী ঘনাদার বাকি কাহিনীগুলিকেই অনুসরণ করেছে।

    ৬) ঈশ্বর ও সম্রাট (কথাসরিৎসাগর এবং সিংহাসন দ্বাত্রিংশিকায় উল্লিখিত রাজা বিক্রমাদিত্য ও বেতাল-এর ফ্যান ফিকশন) — শতরত্ন ভোপালে গিয়ে এক অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয় এবং ঈশ্বর তপাদার নামের এক ব্যক্তি তাকে রাজা বিক্রমাদিত্য বলে মনে করে। হঠাৎ বিক্রমাদিত্যের পুনর্জন্ম কেন হলো তা জানতে এই কাহিনীটি পড়তে হবে।
    এই গল্পটি বেশ ভালো।


    ৭) ঝুটো নাকছাবি (তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত তারানাথ তান্ত্রিক-এর প্যাস্টিশ) — বাংলায় প্রবল বন্যার বর্ধমান জেলার পঞ্চপলাশি গ্রামে দুর্গাপুজো হওয়া একরকম অসম্ভব হয়ে উঠেছে, সেই গ্রামের সুশীলচন্দ্র বসুর অনুরোধে তারানাথ তান্ত্রিক সেখানে গিয়ে পুজোর জোগাড় করতে থাকলেন। বোধনের আগেই দুর্গার নাকছাবি চুরির অভিযোগে গ্রামের নতুন আসা একজন ঢাকি ধরা পড়লো। এরপরে কী হলো সেটা নিয়ে এই গল্প।
    অলৌকিকতার অভিনিবেশ থাকলেও এই গল্পটি মন খারাপ করে দেয়।

    প্যাস্টিশ (Pastich) রচনার ক্ষেত্রে মূল লেখার রীতি এবং চরিত্রের আচরণ অনুকরণ করেই লিখতে হয় যাতে সেই লেখাটি ঐ কল্প জগতের একটি অংশ হিসেবেই প্রতীয়মান হয়। অন্যদিকে, ফ্যান ফিকশন (Fan Fiction)-এ চরিত্রগুলির নাম একই থাকলেও রচনাশৈলী বা চরিত্রগুলোকে লেখক নিজের মতো বানিয়ে নিতেই পারেন। অর্থাৎ, সব প্যাস্টিশই ফ্যান ফিকশন কিন্তু সব ফ্যান ফিকশন প্যাস্টিশ নয়। তাই, প্যাস্টিশ লেখা একটি কঠিন কাজ হিসেবে ধরা যায়, কারণ এই ক্ষেত্রে মূল লেখকের লেখার ধরন এবং তার সৃষ্ট চরিত্রের ব্যবহার হুবহু ফুটিয়ে তুলতে হয়। ফলে লেখাটি ভালো হলে তার কৃতিত্ব সাধারণত যায় মূল লেখকের কাছে, আর খারাপ হলে যিনি প্যাস্টিশ লিখেছেন তার প্রতি পাঠকেরা বিরূপ হয়। এটি নতুন লেখকের কাছে অতটা বিপজ্জনক না হলেও যার কিছুটা অন্তত লেখক-পরিচিতি আছে, তার পক্ষে এই রকম লেখা একদিকে তার খ্যাতিতে নতুন কিছু যোগ করতে না পারার আশঙ্কা তৈরী করে; অন্যদিকে, লেখার মান একটু এদিক-ওদিক হলেই তার পাঠকদের চটিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বৈকি। কিন্তু কর্ণ শীল এই পরীক্ষায় নেমে তাতে উত্তীর্ণ হয়েছেন বলেই আমার মনে হয়েছে। কাজেই, বইটির নাম ছায়াসপ্তক রাখা সার্থক হয়েছে বলেই আমার মনে হয়েছে। অন্য পাঠকদের কেমন লাগবে সেটা জানার প্রতীক্ষায়।

    বইটি নিয়ে একটা অনুযোগ এই যে, পড়ার আগে জানা মুশকিল যে কোন লেখাটি কীসের ছায়া অনুসারে লিখিত। এইটা পরবর্তী সংস্করণের অন্তত সূচিপত্রে উল্লেখ করলে ভালো। এছাড়া বইয়ের শুরুতে দুইটি ভূমিকা আছে যার প্রথমটি উদয়াদিত্য সোম এবং দ্বিতীয়টি ঋজু গাঙ্গুলি লিখিত। এই দুটির উল্লেখও সূচিপত্রে নেই।

  • বিভাগ : বইপত্তর | ২৫ মার্চ ২০২১ | ১৪১৭ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন