এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • পোষা ভূত ও ভয়াল তান্ত্রিকদের কথা - ৮

    Sudip Ghoshal লেখকের গ্রাহক হোন
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৯৬ বার পঠিত
  • | | | | | | |
    ৩৫

    পিসেমশাই বললেন, আমার জীবনের গল্প না বললে আমার পরিবেশ ও বড় হয়ে ওঠার কাহিনী জানতে পারবি না। আমি আজ তান্ত্রিক হলেও সাধারণ ঘরের ছেলে। সংস্কৃত নিয়ে পড়াশুনা করেছি। আমাদের পূর্বপুরুষ বংশ অনুক্রমে কালীসাধক। সাধনায় আমাদের মদ, মাংস, নারী সবই প্রয়োজন। বায়ুরূপ যোনীতে প্রকৃতিরূপ লিঙ্গ স্থাপিত করে স্তম্ভন প্রক্রিয়ায় বির্যধারণ করতে হয়।কিছুলোগ পাকামি মারতা হ্যায় লেকিন পারতা নেহি। খুব কঠিন ব্যাপার হ্যায়। রতন বললো, বেশ ওসব বুঝি না। আপনার ছোটবেলার গল্প বলুন। পিসেমশাই বললেন, এমনি এমনি নেহি হবে কিছু খাওয়াতে হবে। আমি তিনজনের জন্য ছটা সিঙারা নিয়ে এলাম বাজার থেকে। পিসেমশাই  এলে এমনিতেই মা চা করে আনেন। আমার ঘর আলাদা। এঘরে ভিড়ভাট্টার ব্যাপার নেই। পিসেমশাই এবার গল্প শুরু করলেন।

    ভূতের গল্প শোনেনি বা ভয় পায়নি এমন মানুষের সংখ্যা কমই আছে। আমার নিজের জীবনে দেখা একটা গল্প তোমাদের বলতে ইচ্ছে করছে। আমি তখন বিল্বেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার বন্ধু ছিল অনেক। তার মধ্যে সর্দার ছিলো বিশু। এখন যার কথা বলবো তার নাম অলক।বাড়ি তার কোমডাঙ্গা। স্কুলে যত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো তার প্রধান দায়ীত্বে থাকত আমাদের দলের প্রধান বিশু। আর কান টানলেই মাথা আসে। হাত বাড়ালেই বন্ধুদল হাজির। বিশু মানেই আমরা সবাই। আমাদের বন্ধুরা এই পরোপকারী নির্ভিক নেতার ভক্ত।
    স্কুলে ঠিক হলো এবার রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠান হবে সন্ধ্যাবেলায়। নাটক,আবৃত্তি,গান সব হবে। হষ্টেলের ছেলেরা বললো,বিশুদা তোমাকে থাকতে হবেই।বিশু বন্ধুদের কথা ভেবে বললো,আমাদের বাড়ি অমেকদূর।প্রায় চার ক্রোশ দূরে।হেঁটে আমরা যাওয়া আসা করি
    দিনেরবেলা বলে সম্ভব।
    মাষ্টারমশাই বললেন,বিশু তুমি আর তোমার দলবল থাকবে। তোমাদের ছাড়া অনুষ্ঠান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। প্রয়োজনে রাতটা হষ্টেলে কাটাবে।
    বিশু বললো,তাই হবে স্যর। অসুবিধা হবে না। তবে রাতে থাকা যাবে না।
    ----কেন? কি এমন রাজকাজ আছে তোমার?

    ----স্যর, আমার গ্রামের ডোম পাড়ার তিন বুড়ির কাছে আমি রাতে থাকি। তাদের সুবিধার জন্য রাতে আমি কোথাও থাকি না।

    মাষ্টারমশাই বিশুকে চেনেন, জানেন। চোখের জল আড়াল করে বললেন, বেশ তাই হবে।

    তারপর চলে এলো ২৫শে বৈশাখ। দিনের বেলা বলা হলো সকলের বাড়িতে। দুপুরে ঘুমিয়ে নিলাম সবাই।তারপর সকলকে সঙ্গে করে বিশু চললো স্কুলে।কোমডাঙ্গার অলক চলে এলো আমাদের সঙ্গে। আলপথে হেঁটে চলে এলাম কাঙরা গাবা। সেখানে একটা কাঁদর।তার পাশে একটা ঝুড়ি নামা বটগাছ।দিনের বেলাতেই জায়গাটা অন্ধকার। বিশু বললো আমি রাতে ফিরবো। তোরা হষ্টেলে থেকে যেতে পারিস। আমি বললাম,না আমরা সবাই বাড়ি ফিরবো। বিশু বললো, তাই হবে।

    তারপর কাঁদর পেরিয়ে চলে এলাম হেঁটে স্কুলে। তারপর কাজ শুরু হলো। বিশু ঘোষকের ভূমিকায়।বড় সুন্দর অনুষ্ঠান পরিচালনা করে বিশু। প্রথমে লীলা উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করলো,আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে"। তার  পর সভাপতি নির্বাচন।প্রদীপ প্রজ্জ্বলন,প্রধান অতিথি বরণ হলো।সকলে কবিগুরুর গলায় মালা দিলেন। তাঁর সম্বন্ধে দু চার কথা বললেন। 
    আমি বললাম,সভাপতি নির্বাচন আগে করলে হত না। বিশু বললো,জানি সব জানি। তবে কি জানিস,আমার প্রিয় কবির জন্মদিনে গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজো করার মত তাঁকে আগে বরণ করলাম। বাংলার মাষ্টারমশাই বললেন,তুই বিশু যাই করিস আমাদের ভালো লাগে। চালিয়ে যা।তারপর নাটক হতে হতে রাত দশটা বেজে গেলো।বিশু তাড়াতাড়ি স্যারের হাতে দায়ীত্ব দিয়ে আমাদের কাছে চলে এলো। হষ্টেলে খাওয়া হলো। তারপর বেড়িয়ে পড়লাম বাড়ির উদ্দেশ্য।

    আমরা দুটো হ্যারিকেন এনেছিলাম।রতন বললো,বিশু হ্যারিকেন দুটো জ্বালিয়ে নি। বিশু বললো,অনেকটা পথ। দুটো হ্যারিকেন একসাথে জ্বালাস না। একটা হলেই হবে। আমি সামনে থাকবো। আর সাপ খোপ আছে। সবাই পা ফেলবি পরিষ্কার জায়গায়।
    তারপর বিশু সামনে আর আমরা পিছনে। বেশ দ্রুত হাঁটছি আমরা। খিড়কি পুকুর,বটতলার মাঠ,তেমাথার মাঠ পেরিয়ে আমরা চলে এলাম কাঙরা গাবায়। এখানে একটা কাঁদর আছে। ছোটো নদীর মত। এবার পার হতে হবে। আমরা গামছা পড়ছি এমন সময় দেখলাম অলক প্যান্ট জামা পরেই জলে নামছে। বিশু বললো,অলক তুই সাঁতার জানিস না। পাকামি করিস না।
    বিশু ছুটে গিয়ে অলককে ধরতে গেলো আর সঙ্গে সঙ্গেই এক বিকট হাসি অলকের মুখে। যে অলক সাত চরে রা কাড়ে না সেই অলক ভূতুড়ে হাসি হাসতে হাসতে কাঁদরের জলের উপর দিয়ে হেঁটে পার হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো। আমি বললাম,বিশু অলক কই? বিশু বললো,এই কাঙরা গাবায় ভূত আছে। এসব তার কাসাজি। শুনে রতন ও আমি বু বু করতে লাগলাম ভয়ে। বিশু বললো,চল ওপাড়ে গিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ি যাই। আমরা কাঁপতে কাঁপতে জল পার হয়ে ছুটে চলে গেলাম অনেক দূরে। বিশু বললো,হ্যারিকেন দুটো ফেলে এসেছি। চল নিয়ে আসি। আমরা বললাম,বিশু তোর পায়ে পড়ি বাড়ি চল। হ্যারিকেন চুলোয় যাক।

    তারপর বিশু ও আমরা অলকের বাড়ি গেলাম। বাড়ি যেতেই ওর বাবা বাইরে এলেন। বিশু বললো,কাকু অলক ফিরেছে। কাকু বললেন,না তো।সে কোথায় গেলো। বিশু সব ঘটনা খুলে বললো।কাকু বললেন,চলো আমরা সবাই থানায় যাই। সেখানে একটা খবর দেওয়া দরকার। আমি জানি কাঙরা গাবায় তেনারা থাকেন। রাতে তোমাদের যাওয়া ঠিক হয় নাই গো।

    থানায় মেজবাবু সব শুনে বললেন,কাল সকাল অবধি অপেক্ষা করুন। দেখা যাক লাশ পেলেই সব বোঝা যাবে।
    বিশু বললো,ও মরে নি। হাওয়ায় উড়ে গেছে। মেজবাবু বললেন,ঠিক আছে। সব কথাই শুনে রাখলাম। দেখা যাক এটা নিশি ভূতের কাজ কি না?
    থানা থেকে বেড়িয়ে আমরা সবাই অলকের বাড়িতে থাকলাম আর বিশু চলে গেলো তার নিজের কাজে।ও বললো,সকালবেলা আমি আপনার বাড়ি চলে আসবো কাকু। আপনি চিন্তা করবেন না। নিশি ভূত কাউকে প্রাণে মারে না।
    এই বলে সে চলে গেলো ডোম পাড়ার বুড়িমার কাছে।
    কাকু বললেন,বিশু ঠিক বলেছে। আমার অলক ঠিক ফিরে আসবে।
    তখন কোনো মোবাইল ছিলো না। ল্যান্ড ফোন দু একটা বাড়িতে ছিলো। বিশু সকলের বাড়ি গিয়ে বলেছিলো,ওরা সবাই অলকের বাড়িতে আছে।কাল দুপুরের খাবারের নিমন্ত্রণ করেছেন কাকু।বিকেলে সবাই চলে আসবে।

    আমরা সবাই রাত জেগে গল্প করে কাটিয়ে দিলাম। অলকের বাবা লিকার চা করে খাওয়ালেন। ধীরে ধীরে পূব আকাশে সূর্য উঠলো।সব ভয় সরে গিয়ে আলো ফুটে উঠলো।

    সবাই আমরা উৎকন্ঠা নিয়ে বসে আছি। কখন আসবে বিশু। ঠিক সকাল দশটায় পুলিশের গাড়ি চলে এলো গ্রামে। আমরা সবাই অবাক হয়ে দেখলাম পুলিশের গাড়ি থেকে নামছে অলক। এর মধ্যে বিশুও হন্ত দন্ত হয়ে আমাদের কাছে এসে বললো,যাক কাকু, অলক এসে গেছে। মেজবাবু কাকুকে বললেন,এটাই আপনার ছেলে অলক তো?
    ---- হ্যাঁ স্যার।
    ----আমাদের থানার আশেপাশে ঘুরতে দেখে ওকে নিয়ে এলাম। আমাদের স্থির বিশ্বাস ছিলো এটা অলক। ওর মুখে সব কিছু শুনলে বুঝতে পারবেন ওর সমস্যা। যাই হোক, আমরা আসি।
    পুলিশের গাড়ি চলে গেলো। প্রায় দুঘন্টা হলো অলক ঘুমিয়ে আছে। দুপুর একটায় ওর ঘুম ভাঙ্গলো।বিশু জিজ্ঞাসা করলো,তোর কি হয়েছিলো বল তো অলক?
    অলক বলতে শুরু করলো তার অলৌকিক কাহিনী।

    সে বললো,আমরা সবাই যখন কাঙরা গাবায় কাঁদর পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি তখনই আমাকে খনা গলায় নিশি ভূতটা বললো,কি রে তোর বাড়ি গিয়ে ডাকলাম। সাড়া পেলুম না। তাই গন্ধ পেয়ে এখানে এলাম। চল আমার সঙ্গে তোকে হাওড়া ব্রীজ দেখিয়ে আনি। আমি বললাম,এই রাতে বন্ধুদের ছেড়ে আমি হাওড়া যাবো না। নিশিটা বললো,যা বলবো শুনবি।তা না হলে উঁচু থেকে ফেলে দেবো।আমি আর ভয়ে কথা বলিনি। নিশি আমাকে উড়িয়ে নিয়ে গেলো হাওড়া ব্রীজে। আমি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। তারপর যখন নিশিটা আমাকে নিচে নামালো তখন জ্ঞান এলো। নিশি বললো,কেমন লাগছে। কি খাবি বল। তারপর আবার বললো,গঙ্গার জলে সাঁতা কাটবি নাকি?
    আমি বললাম,আমি সাঁতার জানি না।
    নিশি বললো,আমি থাকলে ওসব কিছু দরকার হয় না। এই বলে আমাকে ওপর থেকে গঙ্গার বুকে ঝুপ করে ফেলে দিলো।তারপর জামাটা মুঠো করে পুুতুলের মত তুলে নিয়ে ওপরে এলো।আমি ভাবলাম, আমার জীবনের শেষ দিন আজকে। নিশি মনের কথা জানতে পেরে বললো,আমরা প্রাণে মারি না কাউকে। শুধু ঘুরে বেড়াই।কাজ করি। তারপর দিনের আলো ফুটতেই নিশিটা পালিয়ে গেলো।

    আমি দেখলাম একজন ভদ্রলোক আমার হাতে একশো টাকা দিলেন। তিনি বললেন,তোমাকে দেখে তো ভালো ছেলে মনল হচ্চে।তা তুমি এখানে কেন?
    আমি বললাম, আপনি বিশ্বাস করবেন না আমার কথা। আমাকে নিশি ভূতে এখানে এনেছে।
    ভদ্রলোক বললেন,আমি বিশ্বাস করি। তুমি সাবধানে যাবে।
    আমি বললাম,আমাকে কাটোয়ার ট্রেনে চাপিয়ে দেবেন।
    ভদ্রলোক বললেন,নিশ্চয়। ভোর চারটে পাঁচের ট্রেনটা পাবে চলো।
    আমি তার সাথে চলে গেলাম। তিনি বললেন,মর্নিং ওয়াকে এই পথেই আমার আসা যাওয়া। তাই তোমার সঙ্গে দেখা হলো। যাও আর কোথাও নাববে না। সোজা বাড়ি চলে যাও।
    অলক বললো,বুঝলাম অনেক ভালো লোক কলকাতায় আছেন। তারপর ট্রেন থামলো থানার কাছের স্টেশনে। সেখান থেকেই পুলিশ আমাকে ধরে আর এখানে নিয়ে আসে।
    অলক আবার বললো,আমি আরও একটু ঘুমোবো। কাকু বললেন,ভাত খেয়ে নে। অলক বললো,পরে খাবো।
    অলক খেলো না বলে বিশু ও আমরা না খেয়ে চলে এলাম।কাকু আর জোর করেন নি।

    ৩৬

    পিসেমশাই বললেন, ইতিহাসে পড়েছি এই গল্পটা। ইতিহাস মিছে কথা বলে না।
    রতন ফোড়ং কাটলো, ফিস ফাস কথা কয় পুরোনো দেওয়ালে। আমি বললাম, চুপ কর না...

    তারপর পিসেমশাই মুখে এককুচি কি একটা নিলেন। ওটা কাউকে বলেন না। তারপর শুরু করলেন কাহিনী। 

    কালীঘাট পার্কের পিছনে নির্জন ফাটক দিয়ে ঢুকলে বিরাট সমাধিস্থল দেখা যায়।টিপু সুলতানের আত্মীয়দের সমাধিস্থল রয়েছে। টিপু সুলতান জাহাজে করে ফরাসি অস্ত্রশস্ত্র আনিয়েছিলেন।শেরালিঙ্গট্রমের যুদ্ধে টিপু মারা যান। ব্রিটিশ সৈন্য অনেক বেশি থাকার জন্য টিপু যুদ্ধে হেরেছিলেন। টিপুর দুই ছেলে আনোয়ার শাহ্ আর গোলাম মহম্মদ শাহ শিক্ষিত ও রুচিবান মুসলমান ছিলেন।

    কলকাতার সতীশ মুখার্জি রোডের আশেপাশে এক বিরাট জনবসতি গড়ে উঠেছে। অফিসের কাজে বিকেলবেলা আমি আর অজয় একটা লজে ঘর ভাড়া করে থাকলাম। আজকের রাতটা কোনোরকমে কাটিয়ে তারপর আগামীকাল অফিসের কাজ সারা যাবে। এই মনে করে আমরা হোটেল থেকে বিরিয়ানি আনালাম। অজয়ের খুব প্রিয়। 

    খাওয়া দাওয়া হয়ে যাওয়ার পরে ঠিক  রাত বারোটার সময় অফিসের ফাইল রেডি করে আমরা শুতে গেলাম।আমার আজকে ঘুমোতে ইচ্ছে হলো না। এক স্বর্গীয় চাঁদের আলোয় আজকের রাতটা আরও সুন্দর হয়ে উঠেছে।

    হঠাৎ আমি দেখলাম সমাধিস্থলের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে আলখাল্লা পরিহিত এক মূর্তি। আজ সন্ধ্যাবেলায় লজের দারোয়ান বলছিলো,রাতে শুয়ে পড়বেন বাবু। এদিকে বারান্দায় আসার প্রয়োজন নেই।

    তারপর আমি অজয়কে ডেকে তুললাম। অজয় বললো,এ নিশ্চয় গোলাম মহম্মদ শাহের অতৃপ্ত আত্মা। চারদিকে বট, অশ্বত্থের ঝুরি নেমেছে। আমাদের ভয় লাগছে না তবু হাড়ের ভিতর দিয়ে একটা ঠান্ডা অনুভূতি খেলে চলেছে।

    আমরা দুজনে একবার এক প্রত্যন্ত গ্রামের পোড়ো বাড়িতে দু রাত কাটিয়েছি। ভ্রমণ আমাদের রক্তে মিশে আছে। সুযোগ পেলেই অফিসের কাজে হোক কিংবা ছুটিতে আমরা ঘুরতে চলে যাই বাংলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। এই বাংলার বাতাসে মিশে রয়েছে ঐতিহাসিক অনেক কান্ড যা খুঁজলে এক মহাভারতের আকার নেবে।সেখানে আমরা এই আল্খাল্লা পরিহিত সুলতানের সাজ দেখেছিলাম। হয়ত এর সঙ্গে তার কোথাও মিল আছে। 

    খোঁজ নিয়ে জানলাম টিপু সুলতান একবার শিকারে এসে এই জঙ্গলে আস্তানা গেড়ে এই বিরাট সৌধ তৈরি করেছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে গ্রাম। গ্রামের সমস্ত সুযোগ সুবিধা সুলতানের দয়ায় হয়েছিলো।রাস্তাঘাট,হাট,মাঠ সর্বত্র এক উন্নয়নের জোয়ার ছিলো। তারপর কালক্রমে এই পুরোনো বাড়ি ভগ্নাবশেষে পরিণত হয়েছে।আমি আর অজয়পেরে ধীরে কবরের আশেপাশে ঘুরতে লাগলো।তারপর নর্তকি এলো,গান,বাজনা হলো।জানলা খুলে আমরা দুজনেই অই দৃশ্য দেখে ভয়ে কম্পমান,এই যুগে নবাব এলো কোথা থেকে। হঠাৎ কি করে গজিয়ে উঠলো নৃত্যশালা। ভয়ে আমরা দুজনেই  কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই। সকালে উঠে দেখলাম, ফাঁকা জায়গা। কোথাও কিছু নেই। তাহলে এটা নিশ্চয়  কোনো ভূতের কারসাজি। অই মাঠের কাছে বয়স্ক লোকদের জিজ্ঞাসা করে জানলাম,এখনও নবাব প্রতি রাতে নৃত্য আর সংগীতের মেহফিল বসান নিয়মিত।
    পিসেমশাই আবার বলতে শুরু করলেন, পাড়ায় একটা সুন্দরী মেয়ে ঘুরে বেড়ায় কয়েকদিন ধরেই। এত সুন্দরী মেয়ে এপাড়ায় আছে বলে তো মনে হয় না। রমেন বলল, চায়ের দোকানে চা পান করতে করতে। তার বন্ধু বিমান একটু নারীঘেঁষা পুরুষ। সে বলল, আহা মেয়েটাকে বিছানায় কেমন মানাবে বল তো?  মেয়েটি ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, আমি রাজি। যাব তোমার সঙ্গে। রমেন বলল, এত  দূর থেকে আপনি কি করে কথা শুনলেন।মেয়েটি বলল, আমি শুনতে পেলাম। তাই বললাম। বিমান বলল, আমিও রাজি। চল আমার সঙ্গে।
    রমেন বলল, যাস না। জানি না শুনি না। মেয়েটাকে নিয়ে তুই চললি বিছানায়?  বিমান একা। অকৃতদার সে। বাড়ি ফাঁকা। বেশ আয়েস করে বলল, চল সুন্দরী তোমার কোন অভাব রাখব না।রমেন পরের দিন রাতে বিমানের বাড়ি গেল। বিমান চায়ের দোকানে আসে নি। হয়ত সুন্দরীর পাল্লায় পরে সব ভুলে গেছে।

    রমেন বিমানের বাড়ি ঢোকার আগেই একটা বাদুড় ডানা ঝটপট করে বেরিয়ে গেল বিমানের বাড়ি থেকে। সে দেখল, বিছানায় বিমানের রক্তাক্ত দেহটা পড়ে। পুলিশকে ফোন করল সে। পুলিশ এসে দেখল, বিমানের ঘাড়ের কাছে দুটো দাঁতের দাগ। গলার নলিতে কামড়ে কে  যেন নলি ছিঁড়ে নিয়েছে।

    সুন্দরী মেয়েটা গুরুগুরু করে আজও বেড়াচ্ছে। রমেন দেখল চায়ের দোকানে  পাশে এসে বসে দশবার দাঁত বের  করে হাসছে।

    রমেনেরর সন্দেহ হলো এই মেয়েটাকে বিমান নিয়ে গিয়েছিলো। অথচ বিমানের রক্তাক্ত দেহ বিছানায় পড়ার সময় তাকে তো দেখা যায়নি।সুন্দরী মেয়েটি  সোম কে বলল, যাবে নাকি তুমি বিমানের মত? 
    রমেন ছুটে পালাতে চাইলো। কিন্তু ছুটতে পারল না। পা দুটো যেন আঠার মত আটকে গেছে।রমেনের বিরক্তিকর মুখ দেখে মেয়েটি আর কিছু বলল না। সে  আরেক জনকে বললো যাবে আমার সঙ্গে। সোম ভাবল, মেয়েরা এত নির্লজ্জ হতে পারে? কেউ ভাবতে পারিনি। তবু সেই ছেলেটি বলল,হ্যাঁ যাব। সুন্দরী বলল, আমি রাতে দেহ ব্যবসা করি। লজ্জা করলে হবে বলো নাগর?
    সোম আহ্লাদিত হল। সে বলল, আমার গাড়ি আছে পার্কিং জোনে। চল গাড়ির ভিতরে যাই।আবার সকাল হলে সোমের রক্তমাখা দেহ পরে থাকতে দেখল সবাই। রমেন থানায় ফোন করে বলল, সোম একটা মেয়ের সঙ্গে রাতে ছিল। মেয়েটিই খুনী মনে হয়।আজ রাতে পুলিশ সদলবলে চায়ের দোকানে বসল সিভিল ড্রেসে। রমেনের কাছে মেয়েটি এল। সে রমেনকে বলল,এবার তোমার পালা। চল আমার সঙ্গে।রমেন কাঁপতে শুরু করল। পুলিশ সক্রিয় হল। মেয়েটিকে ধরে নিয়ে চলে গেল থানায়। রাতে বন্দি হল সে।
    পরের দিন সকালে আই সি দেখলেন, গারদের মেঝেয় পড়ে আছে একটা মরা বাদুড়।

    পিসেমশাই ভয়ংকর ভৌতিক কাহিনীও বলেন। তাকে অনেক জায়গা যেতে হয়। সেইজন্য তার স্টক ফুরোয় না। পাশপর বাড়ির অজয় আজ তার মোটর বাইকের চাবিটা খুঁজে পাচ্ছে না। সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খোঁজার পরে দেখলো একটা লোক দোতলার ঘরে সিলিং ফ্যানে ঝুলছে। তার পকেট হাতড়ে খুঁজে পেলো বাইকের চাবিটা। আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে। আজকে রিয়াকে নিয়ে মায়াপুর যাবে। গতকাল রিয়াকে সন্টুর বাইকের পিছনে দেখে পাগল হয়ে গেছিলো। মরতেও গেছিলো। আজ চাবিটা নিয়ে ছুটে চলেছে রিয়ার কাছে। সন্টুর আগে তাকে পৌঁছতে হবে প্রেমিকার কাছে। আজ বেশ হাল্কা লাগছে নিজের শরীরটা। অজয় মনে মনে ভাবলো,প্রেম বেশ জটিল ব্যাপার। রিয়াকে আজ গাড়িতে চাপিয়ে বেশ মজা করে ঘুরে বেড়াবে। মানুষ ছাড়া গাড়িটা চলতে দেখে অনেকে ভয়ে পালিয়ে গেলো। রিয়া আর সন্টু দেখলো,বাইকটা ছুটে আসছে তাদের দিকে ঝড়ের গতিতে...পিসেমশাই বললেন, আমার ঘরের জানালা থেকে আরোহীবিহীন মটর সাইকেল দেখেই বুঝেছিলাম, মালে গিঁট আছে... 

    আমার ফোনটা বেজে উঠল। কানে ঠেকাতেই কর্ণ বিদারক কান্না। এই শুনছো, আমি স্টেডিয়ামে আছি। তুমি চলে এস।  পিসেমশাই বললেন, প্রেম করতাম তখন আদৃজার সঙ্গে।   তড়িঘড়ি স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখি অনুপমের কোলে আদৃজা। অনুপম দৃশ্য। 
    কি রে তোর রমার  খবর কি?  অনুপম কুকুর দাঁত বের করে বললো, আমি আদৃজাকে ভালোবাসি।রমা আমার অবসরের সঙ্গিনী। ভ্যালেনটাইন্স ডে তে সত্যিটা জেনে যা। আদৃজা আমায় মোবাইলে কল করে ডাকলে কেন,আমি বললাম আদৃজাকে। তাকে আমি ভালোবাসতাম। আদৃজা কোনদিন আমাকে সত্যিটা বলে নি। আদৃজা বললো, তুমি একবার বললে আমার মা বাবা রাজী হবে আমাদের বিয়েতে।  আমি অনুপমকে বিয়ে করতে চাই। তুমি তো আমাকে ভালোবাসো, তাহলে এইটুকু স্বার্থত্যাগ করতে পারবে না?  প্লিজ আমার জন্য, প্লিজ... আমি সম্মতি দিয়ে আদৃজার বাড়ি গেলাম।  বাড়ি গিয়ে কাকিমা আর কাকুকে ডেকে বললাম, অনুপম ভালো চাকরি করে। আদৃজার বিয়েটা ওখানেই দিন। আমার কথা শুনে কাকু আর কাকিমা কাঁদতে শুরু করলেন। আমি বললাম, কি হলো। কাঁদছেন কেন?  কাকু বললেন, ওরা দুদিন আগে আমাদের বলেছিলো। কিন্তু আমরা রাজী না হওয়ায় ওরা নিজেরাই বিয়ে করেছে আর... 
    আর কি?  বলুন?  আজ ওরা দুজনেই শান্তিতে শুয়ে আছে শ্মশানে। বিয়ে করলো তো মরল কেন? 
    কাকু বলল, আমাদের  শাস্তি  দেবে বল, এরা তো আচ্ছা  আহাম্মক, আমি একটা টোটো ভাড়া করে শ্মশানে গেলাম। তখন ইলেকট্রিক চুল্লিতে সব শেষ। হঠাৎ চুল্লীর ওপারে আদৃজাকে দেখতে পেলাম।সিঁদূর ঢেলে সিঁথি সাজানো । দারুণ লাগছে । ঠিক মা মা ভাব। সে বলছে, কি গো। আমার বাবা মা রাজী হলো অনুপমের সঙ্গে বিয়েতে?  হবে না জানতাম । এবার আমরা ভালভাবে সংসার করব। আত্মার মিলনে আমাদের সংসার।
    আমার চোখকে বিশ্বাস  করতে পারলাম  না,আমি নিজেইম।আর আদৃজার  প্রশ্নের আমি কোনো উত্তর খুঁজে পেলাম না...এই ভৌতিক ঘটনাটি আজও আমি  ভুলতে পারি নি...পিসেমশাই চোখ মুছে বললেন, তখনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমি মহাতান্ত্রিক হব। তারপর আর বিয়ে করি নি। এখনও প্ল্যানচেট করলে রাতে আদৃজা আসে, কথা বলে।রতন বললো, এই হলো আসল প্রেম। তাহলে..,রতন খুব বেয়াড়া। দেহ সম্পর্কের কথা জানতে চাইছিলো। আমি বললাম, যতই হোক পিসেমশাই হন আমাদের। আদৃজাকে আমরা পিসি বলতাম। সেই থেকে পিসেমশাই বলি এনাকে। আসল নামটা কেউ জানে না ভাই। 
    পিসেমশাই বললেন, স্বপ্ন হল ধারাবাহিক কতগুলো ছবি ও অবচেতন মনের চিন্তার সমষ্টি যা ঘুমের সময় মানুষের মনের মধ্যে আসে। ভূতেরও হতে পারে।

    রতন জিজ্ঞেস করে, স্বপ্নে ভূত দেখলে পালাতে পারি না।

    পিসেমশাই বলেন, ভূত সম্পর্কে বা অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করলে তা মনের এক গভীর স্তরে মজুত থাকে। এগুলো নিছক  কল্পনা হতে পারে, অবচেতন মনের গোপন কথা হতে পারে, বা অন্য কিছুও হতে পারে, বয়স অনুযায়ী ভাগ করা বেশ কষ্টকর। সাধারনত মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখে, তবে সবগুলো মনে রাখতে পারে না।স্বপ্নের অর্থ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন লোক ভিন্ন ভিন্ন মতামত পোষণ করেছে যা সময় এবং বিষয়ের  মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে। অনেকেই স্বপ্ন সম্পর্কে ফ্রয়েডের মতকে সমর্থন করেন যে স্বপ্ন মূলত মানুষের গোপন ইচ্ছে এবং আবেগগুলির বিস্ফোরণ । 

     রতন বলে এক এক সময় দেখি কেউ আমাকে তাড়া করেছে। আমি এক পা এগোতে পারছি না। আঠার মত আটকে যায় পা। 

    পিসেমশাই বলেন অন্যান্য মতগুলোতে সুপারিশ করা হয়েছে যে স্বপ্ন স্মৃতি গঠন,  এবং মাথার ঘিলু সক্রিয় করতে সাহায্য করে । প্রায় কয়েক হাজার বছর আগে হরপ্পায় স্বপ্ন সম্পর্কে যে  রেকর্ডগুলি পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো  কাদামাটি দিয়ে তৈরি  ছিল। গ্রিক  যুগে মানুষ বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্নগুলি এক বা একাধিক দেবতার কাছ থেকে বা মৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আসা বার্তা যা প্রধানত ভবিষ্যদ্বাণী হিসাবে গণ্য করা হতো । কিছু কিছু বুদ্ধিমান লোক স্বপ্নের চর্চা করত ।উনিশশো  দশকের প্রথম দিকে দার্শনিক ফ্রয়েড মনোবিশ্লেষণের মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খলা বিকাশ করেছিলেন তাছাড়া স্বপ্নের তত্ত্ব ও তাদের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ব্যাপকভাবে লিখেছিলেন। তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেছিলেন গভীরতম আকাঙ্ক্ষা এবং উদ্বিগ্নতা প্রকাশের মাধ্যমকে অবলম্বন করে যা প্রায়ই দমনমূলক শৈশব স্মৃতি বা আচ্ছন্নতা সম্পর্কিত । অধিকন্তু, তিনি বিশ্বাস করতেন যে বস্তুগতভাবে তার স্বপ্নের বিষয়টি অবশ্যই যৌন উত্তেজনা মুক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার জন্য একটি মানসিক কৌশলকে বিকশিত করেছিলেন, ধারাবাহিক নির্দেশ দিয়েছিলেন যা আমাদের স্বপ্নে প্রদর্শিত চিহ্নকে বুঝতে সাহায্য করবে । আধুনিক যুগে স্বপ্নকে অবচেতন মনের একটি সংযোগ হিসাবে দেখা হয় । তারা স্বাভাবিক থেকে অসাধারণ  রহস্যের উদ্ভট এর পরিসীমা নির্ধারণ করেছেন । স্বপ্ন বিভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে । 

    রতন বলে ,  স্বপ্ন অনেকরকমের হয়।  উত্তেজনাপূর্ণ, জাদুকর, মর্মান্তিক, সাহসিক,  যৌন উত্তেজক হতেও পারে । স্বপ্নের ঘটনাগুলি সাধারণত যিনি স্বপ্ন দেখেন তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে ।  কিছু স্বপ্ন আছে যেখানে স্বপ্নদর্শক আত্ম সচেতনতার পরিচয় দেয়। মাঝে মাঝে স্বপ্নের মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে সৃজনশীল চিন্তাধারার উদ্রেক হতে পারে যার ফলে সে অনুপ্রেরণাও অনুভব করতে পারে। আবার ভয়ও পেতে পারে। এমনকি স্বপ্নে দেখা ভৌতিক ঘটনা অনেকসময় বাস্তবে ঘটে যায়।আমি বললাম, কি সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার। তাহলে আমিও তো মাঝে মাঝে ভূত দেখি স্বপ্নে।পিসেমশাই বললেন, সে দেখতেই পারিস। কারণ আমরা তিনজন বেশির ভাগ সময় ভূত,প্রেত নিয়ে আলোচনা করি। সেগুলো মনের তৃতীয় স্তরে জমা হয়। তারপর স্বপ্নের মাধ্যমে অনুভূতিগুলো প্রকাশ পায়। পিসেমশাই বললেন, ছোড়ো ভূতকা বাতে, আভি কফি বানাও। পয়লে সরবত পিলাও কিছু খানাপিনা হোক রতন..,পিসেমশাই এর জগাখিচুড়ী হিন্দী শুনতে সকলের ভাল লাগে। 

    আমার বন্ধু মিলু আজ কলকাতা থেকে ফিরেছে। ফিরে প্রথমেই আমার সঙ্গে দেখা। আমি বললাম, মিলু কেমন আছিস
    মিলু বললো, ভালো আছি তুই কেমন আছিস 

    আমি বললাম ভালো আছি তবে... 

    কথাটা বলতে না দিয়ে মিলু  আমাকে বলল জানিস আশীষের সঙ্গে দেখা। গল্প  করতে করতে এলাম।

    আমার শোনার আগ্রহ বেড়ে গেল প্রথমে আমি বললাম আশীষ কি বলল 
    -সকলের খবর নিল বাদাম খেলাম 
    তুই খেয়েছিস কিন্তু আশীষ খেয়েছে কি না?  আশীষ   না খেয়ে পকেটে রাখল,  বললো পরে খাবো।
     আর কি বলল আশীষ
    মিলি বলল, সে বলল ভেলোরে গেছিলাম আমার হার্টের অবস্থা ভালো নয়, বড়জোর আর কয়েকদিনের অতিথি আমি এই পৃথবীর। 

    আমি বললাম, কদিন বলেছিল না কয়েকঘন্টা বলেছিলো, মনে আছে।

    - না তা মনে নেই তবে তুই এরকম গোয়েন্দার মতো প্রশ্ন করছিস কেন বুঝতে পারছি না। 

    আমি বললাম তুই আগে জল-টল খা।তারপর বলব। বন্ধু জল খেলো।

     তারপর বলল বল কি খবর আছে আপডেট।

    আমি বললাম আশীষ আজ ভোর পাঁচটায় মরে গেছে। আমার কাকু মরে গেছেন বলে শ্মশানে যেতে পারিনি। আমার অশৌচ চলছে। 
    বন্ধু বলল তাহলে আমি কার সঙ্গে এলাম ট্রেনে চেপে ছিলাম আমি আটটার সময় এখন দুপুর 12:00 টা। তাহলে এই সময়টা আমি বন্ধুর আশীষের সঙ্গে আসিনি।

     আমি বললাম চল তো তোকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই তোর মানসিক অবস্থা কেমন উনি বলে দেবেন।

     বন্ধু এলো। ডাক্তারের মুখের উপর প্রথমেই মিলু বললো আমি কি পাগল হয়ে গেছি ডাক্তারবাবু? 

     ডাক্তার বাবু বললেন, পাগল রা সকলকে পাগল ভাবে নিজেকে ছাড়া। তুমি পাগল হলে এই প্রশ্নটা করতে পারতেনা। ডাক্তারবাবু আরো বললেন, 'আমি কি আমি কি পাগল হয়ে গেছি' এ প্রশ্ন যিনি নিজেই নিজেকে করতে পারেন মনোবিদদের মতে তিনি ততক্ষণ পাগল নন।  বন্ধু বলল পুরো ঘটনাটা ডাক্তারবাবুকে।

    তিনি   পুরো ঘটনাটা শুনে   বললেন পৃথিবীতে এমন কিছু বিষয় এখনো আছে যার কোনো ব্যাখ্যা নেই। তর্ক পরে হবে।  সব রহস্যের সমাধান হয় না। ভগবানের অস্তিত্ব থাকলে ভূতের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব কিছু নয়। আলোকে তো অন্ধকারে চিনতে পারি বেশি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কুলকিনারা করতে পেরেছে বিজ্ঞান? মহাকাশের কতটুকু জানতে পেরেছে মানুষ? 

    মিলুকে নিয়ে আমরা চলে আমি চলে গেলাম গ্রামে । আমার কাকুর শ্রাদ্ধ আগামীকাল। সারাদিন বাড়িতে।

    আত্মা প্রকট হয় তার পরের রাতে। বললেন জেঠু,তোমার কাকু মরে গেছে। তাই বাড়ির দোষ হয়েছে। কাটাতে হবে। তান্ত্রিকের ফর্দমত কিছু কিনে আমরা পরের দিন চলে গেলাম শ্মশানের কালী তলায়।
    সেখানে তান্ত্রিক জেঠু সাধনা শুরু করলেন। এখন রাত দশটা বাজতে চলেছে আগের দিন থেকে একটা মড়ার মাথা আর্জেন্ট রাখা ছিল। মড়ার মাথার খুলি খেতে শুরু করল। কাটারি দিয়ে সেই জিওল মাছের টুকরো। তান্ত্রিক কাটারি করে কাটছেন মাছ। আর মড়ার মাথাকে দিচ্ছেন যেন মানুষের মতো খাচ্ছে।  সেইমড়ার মাথা কাঁচা  মাছ কচকচ করে খাচ্ছে। আমরা বড় ভয় পেলাম।

     তান্ত্রিক জেঠু বললেন ভয় নেই আমি আছি। তবে আত্মা যখন বাড়ি ছাড়বে তোমাদের ছোটখাটো একটা অনিষ্ট হবে। বাড়ি এসে শুনলাম  কথা ঠিক, আমাদের বড় আম গাছের ডাল ভেঙে টালির চাল ভেঙে পড়েছে।আমার বাবা বললেন, যখন ভয়ের অনুভূতি প্রথম টের পাচ্ছি, মনে হচ্ছে বুক ধড়ফড় বেড়ে গেছে, অস্থির লাগছে, বমি বমি ভাব হচ্ছে, মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে।
    জেঠু বললেন,  দেরি না করে দ্রুত ব্রিদিং রিলাক্সেশন করুন। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন, বুকের ভেতর সমস্ত খালি জায়গা বাতাসে ভরে ফেলুন, দমটা অল্পক্ষণ আটকে রাখুন, তারপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে পর পর তিনবার করুন।ভূতের ভয় থেকে বেড়িয়ে আসতে ভূত এবং ভয় নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, সত্যি ভূত বলে কিছু রয়েছে কি না? না কি আপনি অজানা কোনো কারণে ভয় পাচ্ছেন? আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ কখনো ভূত দেখেছে কি না? ক্ষতি হলে তার কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে? উত্তরগুলো খুঁজে নিয়ে ভাবুন আদৌ ভয় পাওয়ার কোনো কারণ রয়েছে কি না।এসব নিয়ে চিন্তা করব আমরা।

    বাবা  বললেন আপনি তো ডাক্তারের মত কথা বলছেন।  ভূত, আত্মা এই বিষয়গুলোকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়। ভয়ের সিনেমা, নাটক আমাদের মধ্যে ভূত ও আত্মা সম্পর্কে ভয় তৈরির সাহায্য করে।

    জেঠু বললেন, আমরাও প্রথামত চিকিৎসা করি।তারপর যেখানে  এর শেষ তখন তন্ত্র শুরু। তাই যদি এ ধরনের সিনেমা, নাটক দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তবে এই ধরনের নাটক, সিনেমা, গল্পের বই এড়িয়ে চলুন।ভয়কে জয় করতে ভয়ের বিষয়টি সরাসরি মোকাবিলা করতে হয়। আপনি হয়তো ভূতের ভয়ে রাতে একা থাকতে ভয় পান, ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাখেন- এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে রাতে একা থাকা শুরু করুন। ভাবুন, পৃথিবীতে কত মানুষ একা থাকে। ভূত তাদের আক্রমণ না করলে আপনাকে করবে কেন? আপনার সঙ্গে তো ভূতের বিশেষ কোনো শত্রুতা নেই। প্রথমে আলো জ্বালিয়ে একা ঘরে থাকার অভ্যাস করুন। প্রথমে কষ্ট হবে তারপরও চেষ্টা করুন। প্রথমদিন পারলে নিজেকে নিজে ধন্যবাদ দিন, ছোট পুরস্কার দিন। এভাবে একা থাকায় অভ্যস্ত হলে একা ঘরে আলো নিভিয়ে থাকার পদক্ষেপ নিন। এভাবে ধীরে ধীরে ভয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন ভয়  থেকে মনটাকে অন্য দিকে সরিয়ে দিতে গান শোনা, টিভি দেখা, গল্পের বই পড়ার মতো নিজের ভালোলাগার কাজগুলো করুন।   জানালার দিকে তাকালে ভয় হলে জানালা খুলে রাখুন। জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বাইরে দেখুন। জানালার দিকে চোখ পড়লে চোখ বন্ধ না করে তাকান। কিন্তু বার বার তাকিয়ে কিছু রয়েছে কি না সেটি চেক করা থেকে বিরত থাকুন।নিজেকে বলুন যতবার শব্দ শুনে বা আওয়াজে ভয় পেয়েছি, বা বাইরে যা দেখেছি তাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছি।ভূত নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা মনে হলে ভাবুন যা ভাবছেন তা যদি সত্যি হয় তবে কি হবে? সবচেয়ে খারাপ কী হতে পারে? এমন হবার আশঙ্কা কতটুকু?যখন ভয় পাচ্ছেন তখন যা ভেবে ভয় পাচ্ছেন তা কাগজে লিখে ফেলুন, লেখা শেষে কাগজ কুটিকুটি করে ছিঁড়ে ফেলুন বা পুড়িয়ে ফেলুন।ভাবুন ভূত বা আত্মা আপনার মতোই। তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোনো প্রমাণ নেই যে ভূত কারো কখনো ক্ষতি করেছে।অনেক সময় ছোটবেলা থেকে ভূত সম্পর্কে শোনা গল্প আমাদের মনে ভূত সম্পর্কে একটি ভয়ঙ্কর ছবি তৈরি করে। এতে আমাদের মাঝে ভয় তৈরি হয়। অনেক সময় বড় হওয়ার পরও তা থেকে যায়। তাই বাচ্চাদের সঙ্গে এ ধরনের গল্প না করার চেষ্টা করুন।ভয় থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য নিজেকে যথেষ্ট সময় দিন।নিজের আগের সফলতার কথা চিন্তা করুন। মনে করুন আগে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, কীভাবে বের হয়ে এসেছিলেন। এটা আপনার মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে।নিজেকে বলুন, ‘ভয়ের কাছে পরাজিত হবো না। ভয় আসতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। আমি জানি ভয়টা অমূলক। তাই ভয় পাবার কিছু নেই। বরং ভয় দূর করতে যা যা করা দরকার করব।ভূত নিয়ে যেসব কমেডি সিনেমা রয়েছে সেগুলো দেখুন। ভয়ের সময় মনে করার চেষ্টা করুন ভয়ের সিনেমাগুলোতে ভূত কী কী করার চেষ্টা করে এবং প্রাণ খুলে হাসুন।কোনো বিষয় নিয়ে মজা করলে সে বিষয়ে ভয় দূর করা সম্ভব। ভূত বিষয়ে অন্যের সঙ্গে বেশি বেশি গল্প বলুন, মজা করুন।অনেক সময় ভূতের ভয়ের সঙ্গে মানসিক অসুস্থতাও যুক্ত থাকতে পারে। সেখানে ছোটখাট পরামর্শ মেনে চললেই তা দূর করা সম্ভব হবে না। তাই নিজে নিজে ভূতের ভয় দূর করতে না পারলে মনো-চিকিৎসক, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নিন।ভূতের ভয়টা যেহেতু রাতেই হয়, তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে শিথিল থাকতে পারেন এমন কিছু করুন। ঘুমের সময় অল্প আলো জ্বালিয়ে ঘুমান। সিলিং বা জানালায় ঝুলন্ত কিছু থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন, যাতে রাতের বেলা এগুলো থেকে ভয় না তৈরি হয়।ভূত আসলে কী হবে?আমি এভাবেই ভয় কাটিয়েছি।এখন ভয় আমাকে ভয় পায়। 

    বাবা বললেন, এই ভয় থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আপনার শরণাপন্ন হলাম আমরা।

    জেঠু বললেন,ভাল করেছেন। প্রয়োজনে পাবেন। আমি সিদ্ধ তান্ত্রিক। আমার কাছে পেঁচো কানাভুলো র মত পিশাচরা পাত্তা পায় না। 

    মিলু বললো বাপরে বাপ। কি কুক্ষণে বেরিয়েছিলাম কলকাতা থেকে। বেরিয়ে দু দুটো ভূতের পাল্লায় পড়ে জীবন একেবারে নাজেহাল।

    মিলুর মেসবাড়িতে একমাস পরে বেড়াতে গেলাম মেনু আরো অনেকে সেখানে থাকে আসিস এখানে থাকতো পরে অন্য জায়গায় দোকান করেছে ঝুলু বলল জানিস কয়েকদিন ধরেই আমাদের এখানে একটা উপদ্রব শুরু হয়েছে কেউ একজন মশারী টাঙ্গানো পরে গভীর রাতে মশারী ছেড়ে দিচ্ছে আবার দড়ি বেঁধে সকলে পাহারা দিচ্ছি কিন্তু ঘুমিয়ে পড়লে আবার দড়ির খুলে দিচ্ছে তো মহা মুস্কিল হলেও গতকাল আমাদের রান্না করা খাবার উল্টে পড়েছিল তাহলে মেম্বাররা কেউ নিশ্চয়ই করবে না কারণ খাবার তো সবাই সবার খাবার খেতে পাবে না তাহলে কেউ নিজের খাবার ফেলে দেবে না আমি বললাম তাহলে আবার সেই আমাদের পুরুষতান্ত্রিক জেঠুকে ডাকা হোক তিনি নিশ্চয় কিছু একটা ব্যবস্থা করবেন তাকে খবর দেওয়া হল তিনি আসছেন ট্যাক্সি ভাড়া করে খরচ আমরাই দেব  

    কিন্তু তিনি যখন মেসবাড়িতে এলেন তখন বিকেল চারটে বেজে গেছে আমি বললাম যে তুই এত দেরি হল কেন যেতে বলছে না রে বাবা আর বোলো না ভৌতিক কোন কাজের সমাধান করতে গেলেই আমাকে সমস্যায় পড়তে হয় মাঝপথে টায়ার পাংচার হয়ে গেল তারপর আবার ড্রাইভার এর শরীর খারাপ তাই বলছে আমি তো ভালোই ছিলাম কিন্তু রাস্তায় এরকম হচ্ছে কেন তারপর ড্রাইভারকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো দেরি হয়ে গেল এই জন্যই আমি দেখলাম তান্ত্রিক মন্ত্র বলেছেন কথার ফাঁকে ফাঁকে সারারাত্রি নিমন্ত্রণ বাড়িতে ঢুকেই তিনি বললেন এই বাড়িতে ভৌতিক একটা ব্যাপার আছে 

    তিনি বললেন দেখো তো তোমাদের ঘরের অন্য তাকে কোনরকম গহনা আছে কিনা খুঁজে খুঁজে পাওয়া গেল একটা পিতলের আংটি মিনু বলল এটা তো আসি শান্তি ও যখন ইমেজ বাড়িতে থাকত তখন বেকার ছিল পিতলের আংটি টা ওর খুব প্রিয় ছিল হয়তো খুঁজে বেড়ায় সে যুবক ছিল তার কোনো ইচ্ছে পূরণ করতে পারেনি এই আংটি তার খুব প্রিয় ছিল আর সে ভালোবাসতো যে মেয়েটিকে তাকে সবাই আমরা চিনি 

    ঝুনু বলল সমরে বোন সুধা। সুদা তো আশিস মরার কয়েকদিন পরেই বিয়ে করে কানপুর চলে গেল পুরুষ বললেন তোমরা শোনোনি সুদা গতকাল কানপুরে রোগে ভুগে ভুগে মরে গেছে তান্ত্রিক বলল এই সুযোগে আমি এখানে একটা হোম যজ্ঞ করব তাহলে আসিস আত্মা এই আংটি নিয়ে উধাও হবে হয়তো মিলিত হবে শুধু আত্মার সঙ্গে সেখানে তো দেহের কোন ব্যাপার নেই শুধু আত্মার মিলন 

    তারপর তান্ত্রিক শুরু করলেন যোগ্য সবাইকে বললেন তোমরা সবাই বস এখানে কেউ নড়াচড়া করবে না তাহলে সাধনার ব্যাঘাত ঘটবে প্রায় একঘন্টা আমরা সবাই শান্তি প্রার্থনা করছিলাম আশিসের আত্মার জন্য তবে তার পরের দিন থেকে মেসবাড়িতে আর কোন উপদ্রব হয়নি আমাদের বন্ধুদের গ্রুপ এখনো আছে আমরা সময় পেলে একসঙ্গে বেড়াতে যাই খাওয়া-দাওয়াও করি রাতে মেসবাড়িতে। ভূতের গল্প শোনেনি বা ভয় পায়নি এমন মানুষের সংখ্যা কমই আছে। আমার নিজের জীবনে দেখা একটা গল্প তোমাদের বলতে ইচ্ছে করছে। আমি তখন বিল্বেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার বন্ধু ছিল অনেক। তার মধ্যে সর্দার ছিলো বিশু। এখন যার কথা বলবো তার নাম অলক।বাড়ি তার কোমডাঙ্গা। স্কুলে যত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো তার প্রধান দায়ীত্বে থাকত আমাদের দলের প্রধান বিশু। আর কান টানলেই মাথা আসে। হাত বাড়ালেই বন্ধুদল হাজির। বিশু মানেই আমরা সবাই। আমাদের বন্ধুরা এই পরোপকারী নির্ভিক নেতার ভক্ত।

    স্কুলে ঠিক হলো এবার রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠান হবে সন্ধ্যাবেলায়। নাটক,আবৃত্তি,গান সব হবে। হষ্টেলের ছেলেরা বললো,বিশুদা তোমাকে থাকতে হবেই।বিশু বন্ধুদের কথা ভেবে বললো,আমাদের বাড়ি অমেকদূর।প্রায় চার ক্রোশ দূরে।হেঁটে আমরা যাওয়া আসা করি
    দিনেরবেলা বলে সম্ভব।
    মাষ্টারমশাই বললেন,বিশু তুমি আর তোমার দলবল থাকবে। তোমাদের ছাড়া অনুষ্ঠান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। প্রয়োজনে রাতটা হষ্টেলে কাটাবে।
    বিশু বললো,তাই হবে স্যর। অসুবিধা হবে না। তবে রাতে থাকা যাবে না।
    ----কেন? কি এমন রাজকাজ আছে তোমার?

    ----স্যর,আমার গ্রামের ডোম পাড়ার তিন বুড়ির কাছে আমি রাতে থাকি। তাদের সুবিধার জন্য রাতে আমি কোথাও থাকি না।
    এই বিশু কিন্তু পিসেমশাইএর বেষ্ট ফ্যান। পিসেমশাই বলেন, বিশু আমার বন্ধু। আমার বন্ধু। বন্ধু হওয়ার জন্য কোন বয়স ধার্য করা নেই। আট থেকে আশি, বন্ধুর মুখে হাসি। পিসেমশাই সময় পেলে দু একটা ছড়াও লেখেন। এই বিশু পিসেমশাইকে খুব ভালো ভালো মুখরোচক খাবার খাওয়ায়। কখনও বিরিয়ানি কখনও এগরোল এনে খান আমাদের সঙ্গে। 
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | | | | | | |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক প্রতিক্রিয়া দিন