এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • পোষা ভূত ও ভয়াল তান্ত্রিকদের কথা - ৪

    Sudip Ghoshal লেখকের গ্রাহক হোন
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৭৪ বার পঠিত
  • | | | | | | |
    চন্ডীদাসের মত ছিপ ফেলে বিপিন মাছ ধরা দেখছে ফাতনার কথা ভুলে। বাউরি বৌ গুগুলি আর  ঝিনুক ধরছ জলের তলা থেকে। তার সুডৌল স্তন ঝুঁকে পরেছে জল ছুঁয়ে। জল কখনও সখনও রসে ডুবিয়ে দিচ্ছে যুবতী হৃদয়। বিপিন দেখছে ভিজে নিতম্ব ফুটে উঠেছে  খাজুরাহের ছবির মত। বিপিন ভাবছে ঝিনুক, গুগুলির জীবন বাউরি বৌকে স্বামী সোহাগী করে তুলেছে কোমল দেহসৌষ্ঠবের মাধ্যমে। পুকুরের পাড়ে গাছ গাছালির স্নেহচ্ছায়া। এই দুপুর হয়ে উঠেছে বসন্তমায়া। কোন এক অদৃশ্য মায়ায় বৌ মাঝে মাঝে তাকায় বিপিনের দিকে। কেউ কোথাও নেই। দুপুরের অবসর বাউরি বৌ ধরে শামুক, ঝিনুক। অলস স্বামীর খপ্পরে পরে জীবনে তার লড়াই প্রকট হয়ে উঠেছে। বিপিন বেকার যুবক। তাই ছিপ নিয়ে বসে এই সময়ে বাউরিবৌকে দেখার লোভে। সুন্দরী বাউরি বৌ ভোলে না এই বসন্তসময়। কি বর্ষা, কি শীত বা গ্রীষ্ম দুজনের বসন্তসময় কেড়ে নিতে পারে না। আজ বিপিন জলে নেমেছে। বাউরিবৌ কাপড় ঝেড়ে জলে ধুয়ে নিচ্ছে। দুজনেই ডুবে আছে আকন্ঠ শীতল জলিয় আবরণে। জলের নিচে চলে জলকেলি। একটা পানকৌড়ি ডুবে ডুবে   মাছ ধরার কৌশল দেখায় দুজন প্রেমিক প্রেমিকাকে। ছিপ ডাঙায় তুলে দেখল বিপিন একটা বড় রুই ধরা পড়েছে বড়শিতে। বাউরিবৌ সোহাগী আঁচলে তুলে নেয় বিপিনের প্রেম।      যে ছেলেটা পূর্ণিমা পুকুরের জ্যোৎস্না ভিজে চাঁদ হওয়ার স্বপ্ন দেখতো সে চাঁদ ছুঁতে পারেনি।সমস্ত যোগ্যতার ফানুস সে উড়িয়ে দিয়েছিলো ঘাসের শিশিরে,বাতসের খেলায়।হেলায় সে হয়েছিলো ফাঁকা মাঠের রাজা।আলপথের মাটির গন্ধে তার যোগ্য সম্মানের ঘ্রাণ নিতো প্রাণভরে।সমস্ত চাওয়া পাওয়ার বাইরে অনুভূতির জগতে তার আসা যাওয়া।বন্ধু বলতো,তোর ধনী হতে ইচ্ছে হয় না?ছেলেটিসে বলে, তার আপন জগতে সে শুধু রাজা নয়, সম্রাট।তাই সে অবহেলায় যাপন করতো সাধারণ জীবন।সে জানে তার মত ধনী কমই আছে।বাতাসের রেণু,আকাশের হৃদয় আর সবুজের হাতছানিতে সে ছুটে চলে যেতো।সেখানে গিয়ে সে কথা বলতো আপন মগ্নতায়।তার কথাগুলো হয়ে যেতো কবিতার পান্ডুলিপি..কাটোয়া থেকে ট্রেনে চেপে নবদ্বীপ যেতে গিয়ে ভূতের পাল্লায় পড়েছিলাম। ইন্টারসিটি ধরে যাচ্ছিলাম।    একবার প্রয়োজনে বাথরুমে  ঢুকলাম। ঢুকেই চোখ দুটি স্থির হয়ে গেলো আমার। পা নাড়াতে পারছি না। দেখলাম একটা ছোটো ভূতের বড় মানুষের মত বড় বড় দাঁত। দাঁত কেলিয়ে হাঁসছে। ভয়ে বুকের লাবডুব  এত জোরে হচ্ছে যে নিজেই শুনতে পাচ্ছি।কোনোরকমে বাইরে এলাম। অন্যান্য যাত্রীদের বললাম। তিনজন বাথরুমে ঢুকলো।কিছু দেখতে না পেয়ে রেগে গিয়ে বললো,রাতে কি খেয়েছিলেন?  গ্যাস হয়েছে।যত পাগল, ছাগল নিয়ে কারবার।যান নিজের কাজে যান।  আমি আবার একবার ঢুকলাম ভিতরে। দেখলাম  ভূতটি সেইরকমই হাঁসছে। দেখে আমার পিত্তি জ্বলে গেলো। রাগে বলে বসলাম,এত ভিতু কেন?পালিয়েছিলি কেন? ভূতটা সঙ্গে সঙ্গে আমার গালে এক চড় মেরে জানালার ফাঁক গলে লাফিয়ে পড়লো।ভূতের কি অপরিসীম ক্ষমতা।   পরে জেনেছি আমি অজ্ঞান হয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। ফলে গন্তব্যে না গিয়ে হাওড়া চলে গেছিলাম । আমার ঘুম ভাঙলো হাওড়া স্টেশনে। বাথরুমে নোংরা পরিবেশে শুয়ে থাকতে দেখে অনেকে বাথরুমে ঢোকে নি। হয়ত লাশ মনে করেছে। একটা ঝাড়ুদার বললো,পাগল কাঁহিকা। নিকালো শালা। বাথরুমমে শোতা হ্যায় চুতিয়া। তখন থেকেই আমাকে ভুতে ধরেছিল তারপর এই লাইনে কাটা পড়লাম ভুতের জন্য। চিনু বলেছিল মধু বা স কন্ডাকটার। খড়ের চাল ফুটো। মাটির ঘর। মাটির মানুষ। তবু তার অবসর সময়ে সে পড়ে। তার আশা পড়াশোনা করে সে বড় হবে। কালো কালো অক্ষরগুলো তার চোখে আলো জ্বালে। সে চলে যায় অন্য এক জগতে। আশায় আশায় বাড়ে তার বয়স। বাড়ি থেকে বলে, এবার বিয়ে থা করে নে। ভালো আয় করিস। তোর আর চিন্তা কিসের?  মধু বলে, না বিয়ে করলেই সব শেষ। পড়াশোনা, আশা সব শেষ হয়ে যায় সংসারের জালে। সে জাল কেটে বের হওয়া কঠিন ব্যাপার। কোনোকালে কেউ পারে নি। মহাপুরুষ হলে আলাদা ব্যাপার।মধু ভাবে অবসর সময়ে, সংসারে সং সেজে দিবারাতি নিজেকে ঠকিয়ে  কোন ঠিকানায় ঠাঁই হবে আমার ।নিজেকে নিজের প্রশ্ন কুরে কুরে কবর দেয় আমার অন্তরের গোপন স্বপ্ন । জানি রাত শেষ হলেই ভোরের পাখিদের আনাগোনা আরম্ভ হয় খোলা আকাশে । আমার টোনা মাসিকে  টোন কেটে অনেকে অভিশাপ দিতো । আমি দেখেছি ধৈর্য্য কাকে বলে । আজ কালের কাঠগোড়ায় তিনি রাজলক্ষ্মী প্রমাণিত হয়েছেন । কালের বিচারক কোনোদিন ঘুষ খান না । তাই তাঁর বিচারের আশায় দিন গোনে  শিশুর শব, সব অবিচার ,অনাচার কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেবে আগামী পৃথিবীর ভাবি শিশু প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি। অপেক্ষায় প্রহর গোনে নিজের অন্তরের প্রদীপ শিখা জ্বালিয়ে । সাবধান খুনীর দল ,একবার হলেও অন্তত নিজের সন্তানের জন্য শান্ত পৃথিবী রেখে যা । ঋতু পরিবর্তন কিন্তু তোর হত্যালীলায় বন্ধ হবে না নির্বোধ ।শান্ত হোক হত্যার শাণিত তরবারি ।নেমে আসুক শান্তির অবিরল ধারা। রক্ত রঙের রাত শেষে আলো রঙের নতুন পৃথিবী আগামী অঙ্কুরের অপেক্ষায়।শিউলি শরতের ঘ্রাণে শিহরিত শরীর। শিউলি নামের শিউলি কুড়োনো মেয়েটি আমার শৈশব ফিরিয়ে দেয়।মনে পড়ে পিসির বাড়ির শিউলি গাছটার তলায় অপেক্ষা করতো ঝরা ফুলের দল। সে জানত ফুল ঝরে গেলেও তার কদর হয় ভাবি প্রজন্মের হাতে  । সে আমাদের ফুল জীবনের পাঠ শেখায়।  মানুষও একদিন ফুলের মত ঝরে যায়। । শুধু সুন্দর হৃদয় ফুলের কদর হয়।   বিদেশে ষাট বছরেও মানুষ স্বপ্ন দেখে। নিজেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরখ করার সুযোগ মেলে।  কত বসন্ত এল গেল। মধুর এখনও শীতসময়। ঝরা পাতার সময়ে সে মগ্ন হত  সরব পাঠে। পাড়ার বন্ধুরা বলত, বুড়ো বয়সে পাঠশালায় পড়াশোনার ভিমরতি। এ ঘোড়া ঘুরে ঘাস খাবে না। মধুর মন খারাপ হত। বই গুটিয়ে বসে পড়ুত মাটির বারান্দায়। একটা পায়রা দেখত সে। একটা একটা করে কাঠি সংগ্রহ করে বাসা বুনত। প্রথমে কাঠিগুলো ঠোঁট থেকে পড়ে যেত। আবার সে চেষ্টা করত। এইভাবে পায়রাটি সফল হত তার কাজে। মধু ভাবত, সে মানুষ। প্রাণীজগতের শ্রেষ্ঠ জীব। তাহলে, একটা পাখি যদি পারে সে পারবে না কেন?  সে শক্ত দড়িতে হৃদয় বেঁধে লেগে পড়ত কাজে। পড়াশুনা করত মনযোগ দিয়ে।সকাল হলেই বেড়িয়ে পড়ত কাজে। কাঁধে বাস কন্ডাকটারের ব্যাগ। বাসে কত বিচিত্র অভিজ্ঞতা হত। কেউ কেউ অসম্মানও করত। ভাড়া না দিয়ে নেমে পড়ত। বলতে গেলে ভয় দেখাত। মধু মনে মনে পড়ার বিষয়গুলো মনে মনে আউড়াত। অনেকে বলত, ছেলেটা পাগল নাকি?  একমাত্র গাড়ির খালাসি জানত তার বিষয়টি। সে মধুর বন্ধু। সে বলত, তোর কাজের চাপ হলে আমাকে বলবি। আমি তোকে সাহায্য করব। বাসের ভিতরে বাসস্টপে সে পড়ত মাঝে মাঝে। মধু পড়াশোনা করে যখন, সে শুনতে পায় আলোর আগমনী সংগীত। আর কেউ শুনতে পায় না। আলোময় চোখে আশার আলো দেখতে দেখতেই সে বিভিন্ন পরীক্ষায় বসে। হয় না। বিফলতাগুলো তার আশার আলো নেভাতে পারে না। বিফল হতে হতে সেএকদিন আই এ এস পরীক্ষায় সফল হল। চারিদিকে ঢাকের কাঠি পড়তে লাগল। শুধু প্রশংসার বন্যা। কিন্তু মধুএ বন্যায় হারিয়ে যাওয়ার ছেলে নয়। বিফলতাগুলো তার মনের তার শক্ত করে বেঁধেছে। সহজে তা ছেঁড়া যাবে না

    ১১

    পিসেমশাই বলছেন, মনোজের আত্মার মনে পড়ছে  মাষ্টারমশাই দীনেশবাবু সাদাসিধা মনের মানুষ। একটা সাধারণ প্যান্ট জামা পরে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ট্রেনে তার নিত্য যাওয়া আসা। ট্রেনে যাওয়ার সময় অনেক বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ হয়। তারা হাসি মস্করায় ব্যস্ত থাকে। দীনেশবাবু নিজে জানালার এক কোণে বই নিয়ে বসে পড়েন। তিনি নিজেও অনেক বই লিখেছেন। কলকাতার নামীদামী প্রকাশনা থেকে তাঁর লেখা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তাতে তার কোনো অহংকার নেই। ছাত্র ছাত্রীদের কি করে ভালভাবে প্রকৃত মানুষের মত মানুষ করা যায়, এই নিয়ে তাঁর চিন্তা। শিক্ষকতা শুধু পেশা নয় তার সঙ্গে মিশে থাকে বাড়তি দায়ীত্ববোধ। তিনি এইকথা ভাবেন মনে মনে। কি করে সর্বোত্তম সেবা প্রদান করা যায়, এই নিয়েই দিনরাত চিন্তাভাবনা করেন।  স্কুলে পৌঁছান। ঘন্টা পড়ে প্রার্থনা সভার। জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার পরে শুরু হয় ক্লাস। ক্লাসে গিয়ে তিনি কোনোদিন চেয়ারে বসেন না। ছাত্রদের কাছে গিয়ে সমস্যার সমাধান করেন। পড়াশোনার কাজে সাহায্য করেন। স্টাফরুমে বসেন। তারপর কুশল বিনিময়ের পরে তিনি চলে যান ক্লাসে। কোন ক্লাস ফাঁকা আছে রুটিন দেখলেই জানতে পারেন। কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেই তাঁর ক্লাসে চলে যান নিয়মিত। টিফিনে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সময় কাটান। সদাহাস্যময় দীনেশবাবু নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন সারাদিন। স্কুল থেকে ফেরার পরে নিজের লেখা নিয়ে বসেন। কোনোদিন ভাষাসদনে যান। সেখানে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটান। তারপর বাজার সেরে বাড়িতে ঢোকেন।আমার মা বলেন, ভাল লোকের কোন পারফিউম লাগে না। তাদের গা থেকে আপনা আপনি চন্দনের সুগন্ধ পাওয়া যায়। মা আরও বলেন, ভরা কলসি টগবগ করে না।জ্ঞানী লোক কথা কম বলেন। তাঁরা প্রচারবিমুখ হন। দীনেশবাবু এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কথা কম বলেন কিন্তু কর্মি লোক। লোকের ভাল ছাড়া মন্দ ভাবেন না কোনোদিন। তাঁর স্বভাব দেখলেই সকলের ভাল লেগে যায়। দীনুবাবুও এই ধরণের লোক। দীনেশবাবুকে মা আদর করে দীনুবাবু বলেন। তিনি সকালে নিমকাঠির দাঁতন ব্যবহার করেন। জনশ্রুতি আছে, বারোবছর নিমকাঠির ব্যবহারে মুখে চন্দনকাঠের সুবাস হয়। কথা বললেই নাকি চন্দনের সুবাস বেরোয়। শুনে অনেকে নিমকাঠির ব্যবহার করেন। কিন্তু মা বলতেন, শুধু নিমকাঠির ব্যবহার নয়, তার সঙ্গে মানুষকে ভালবাসতে হয়। কারও অমঙ্গল কামনা করতে নেই। মিথ্যা কথা বলতে নেই। তাহলেই মানুষের মুখে সুগন্ধ হয়। এমনকি দেহের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। মানুষ তো দেবতার আর এক রূপ। দীনেশবাবু ছুটির দিনগুলোতে ফুটপাতের অসহায় লোকগুলোর জন্য হোটেল থেক ভাত তরকারি কিনে, প্যাকেটে ভরে তাদের হাতে  দেন। তাঁর ইচ্ছে আছে গরীব লোকগুলোকে প্রত্যেকদিন একমুঠো করে  মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার।তিনি সংসারী লোক। তাই এগোতে হবে ধীরে ধীরে।তিনি জানেন,  এসব কাজে সবদিক চিন্তাভাবনা করে এগোতে হয়। তিনি ভাবেন, সামাজিক, আর্থিক, আইনগত সমস্ত  দিক দেখে তবেই কাজে নামা প্রয়োজন। আজ সকাল সকাল দীনেশবাবু ছেলেকে ডেকে তুললেন ঘুম থেকে। ছেলেকে বললেন, পড়তে বোসো বাবু। সকালে পড়া মুখস্থ হয় ভাল। ছেলে বলে, বাবা তোমার মুখ থেকে চন্দনের সুন্দর গন্ধ পাচ্ছি । দীনেশবাবু বলেন, ও তাই নাকি?  তোমার মুখেও তে সুন্দর গন্ধ।রাস্তায়, স্কুলে যেখানেই দীনেশবাবু যাচ্ছেন সকলের মুখেই এক কথা,দীনুবাবু আর একটু কথা বলুন। আপনার মুখে চন্দনের সুবাস। বসুন বসুন। সকলের আদরে তিনি  নিজেও যেন চন্দনের সুবাস অনুভব করছেন। আদরের আতিশয্যে তিনি খুশি। একটি শিশু দৌড়ে তাঁর কাছে এল চন্দনের সুবাস নিয়ে। দীনুবাবু শিশুটির  কপালে একটা চন্দন সুবাসের চুমু এঁকে দিলেন সস্নেহে.... বাসস্টপেজেই  অতনুর বাড়ি। রাত বাড়লে বাসস্টপেজ একটা আমোদের জায়গা হয়ে যায়। অন্ধকারে শুয়ে থাকা কিশোরী থেকে বুড়ি ভিখারির পাশে শুয়ে পড়ে মাতালের দল। তারা তো জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি খায় না। শুধু একগ্রাস ভাত জোগাড় করতেই তাদের দিন কেটে যায়। তারপর রাতচড়াদের বাজার। কেউ ওদের মালিক নয়। বাজারি মাল দরিয়া মে ঢাল। ঠিক এই পদ্ধতিতে পৃথিবীর  আলো দেখেছিল অতনু। কে তার বাপ সে জানে না। আর জন্মদাত্রী ফেলে দিয়েছিল বাসের ছাদে। সেখানে শকুনের মত ওৎ পেতে থাকে হায়েনার মত ভয়ংকর  অমানুষের দল। তারা অনাথ ছেলেমেয়েদের নিয়ে বড় করে। বড় হলে চুরি বা ভিক্ষা করে তারা যে টাকা আয় করে তার বৃহৎ অংশ নিয়ে নেয় হায়েনার দল। না খেতে পাওয়ার প্রবাহ চলতেই থাকে। এর থেকে মুক্তি পায় না অনাথ শিশুরা।অতনু এখন বেশ স্মার্ট, বুদ্ধিমান। সে নিজের চেষ্টায় মেকানিকের কাজ শিখে নিয়েছে। মাথা উঁচু করে চলা ছেলেদের সকলেই সমীহ করে। অতনু চুরি করে না, ভিক্ষাও করে না। সে বলে, হাত পা আছে। খেটে খাব। আর তোদের যা পাওনা মিটিয়ে দেব। সে বলে হায়েনার দলকে, বেশি ঘাঁটালে আমাকে, দেব শালা খালাস করে। আমার বাঁধন শক্ত বে। ওসব মাস্তানী তোর পকেটে রেখে দে।যতই হোক শয়তানদের সাহস কিন্তু বেশি হয় না। অতনু একটা দল করেছে ছেলে মেয়েদের। সে বলে, শালা, কোন শালা রাতে খারাপ কাজ করতে এলে একসঙ্গে আ্যটাক করব। ওদের দৌড় বেশিদূর নয়। অতনু থাকতে আর অনাথের দল বাড়াতে দেব না বাসস্টপে। এই এলাকা এখন নতুন প্রজন্মের। ওরা আমাদের বড় করেছে তাই ওদের পাওনাটুকু দেব।হায়েনার দল সাবধান হয়ে গেছে। এখন আর অনাথ বাচ্চা কম পায় এইস্থানে। অতনুর বিরুদ্ধে কাজ করে ওরা অনেকবার ঠকেছে।অতনুর দলবল দেখে ওরা অন্য জায়গায় ডেরা বাঁধে। অতনু সকলকে নিজের পরিবারের সদস্যের মত দেখে। এই পরিবারের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সুনীতা। সে পাশের পাড়ায় থাকে। চিনু তার আদর্শ। কিন্তু চিনুর বংশ ভালো।   সে সমাজসেবী। চিনু দেখেছে মারামারি বা লড়াই করে জেতার থেকে ভালবাসার জোর বেশি। ভালোবেসে কথা বললে শয়তানও বশ হয়ে যায়। এখন সে একদম আনন্দে থাকে। এলাকার লোকজন তাকে ভালবাসে।সুনীতা ভাবে, চিনুদা এত বড় মন  পেল কোথা থেকে।সকলের উপকারে ছুটে যায় চিনু। হাসপাতাল,শ্মশান যেখানে যার প্রয়োজন  প্রথমেই ডাকে তাকে। সুনীতা ভাবে, সে কি চিনুর প্রেমে পড়েছে। সবসময় চিনুকে দেখতে পায় খাতায়, জলে, দেওয়ালে, আয়নায়। তবু চিনুকে বলতে সাহস হয় না। যদি রেগে যায়। যা ব্যক্তিত্ব ছেলেটার, শ্রদ্ধা হয়। সুনীতা সবসময় এখন এইসব ভাবে।চিনু বলে তার বন্ধুকে, আমি তো বোকা। ভদ্র সমাজে আমার স্থান হবে না। আমি কি চিরদিন বোকা থেকে যাব।  নীতা  গ্রামের বাড়ি যাবে। সে পরিবারের সঙ্গে বাসস্টপে এসেছে ব্যাগপত্তর নিয়ে। সুনীতাকে দেখে চিনু কাছে এল। মা বললেন, সুনীতার মুখে তোমার কথা শুনেছি। আজকে তোমাকে ছাড়ছি না। আমাদের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি পুজো দেখতে চল। চিনু বলল,আমি পুজোবাড়িতে আমার স্থান হবে?  সুনীতার মা বললেন, কে বললো তুমি বোকা। তুমি আমাদের পরিবারের একজন হলে। আমরা আছি, চল। অতনু তার সঙ্গিদের বললো, আমি পুজোয় গ্রামে যাচ্ছি। তোরা সাবধানে থাকিস।গ্রামের পুজোবাড়িতে আরতির বাজনা বাজছে। ধুনোর গন্ধে পুজোবাড়ি মাতোয়ারা। আর একটু পরেই ধুনুচি নাচ শুরু হবে।সুনীতা ধুনুচি নাচ নাচছে। ধুনোর গন্ধে চিনু খুশি। একটা শিহরণ তার শিরায় শিরায় প্রবাহিত হচ্ছে। সুনীতার চোখ তার দিকে। সুনীতার মা চিনুকে হাত নেড়ে হাসিমুখে ডাকছেন। সুনীতার মায়ের মুখটা ঠিক দুর্গা প্রতিমার মত। তার চোখের দিকে তাকিয়ে অতনু এই প্রথম বলে উঠলো, মা, মা গো...।চিনুু বুুুড়ো হল। 

    ১২

    চিনু মরে গেল তারপর সে দেহের কাছেই তার আত্মা ঘুরঘুর করতে লাগলো মনে প্রথমে দেও ছাড়তে চায়না তা তারপর ধীরে ধীরে যখন বুঝতে পারে নিজের শরীর হালকা হয়ে গেছে তখন ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসে তখন বুঝতে পারে সে শরীর ছাড়া। চিনুর অবস্থাও মনের মত হয়েছে মানুষ যখন ট্রেনে কাটা পড়ল সে বুঝতে পারেনি সে মনে করছে বেঁচে আছে কিন্তু তার আত্মা তখন বেরিয়ে এসেছে দেহকে দেখে ভাবছি দেহটা ওখানে পড়ে কেন তাহলে নিশ্চয়ই আমার মরন হয়েছে তাই আয়েশা আক্তার দেখছেন চিনুর শরীর।তিনি ডেথ সার্টিফিকেট দিলেন। কেউ কেউ কাঁদল।
    এইগুলো আমার চিন্তা করছে মায়া ছাড়তে পারছেনা সে অনেকক্ষণ ঘুরঘুর করছিল দেহের আশেপাশে ট্রেন তার প্রতি বারবার চলে গেছিল কিন্তু আর কিছু হয়নি একবারই হয়েছে আত্মার মরন হয় না আর তাই সে বেঁচে আছে এবং অপেক্ষা করছে আজব ডাক্তার এখন কিছুক্ষণ অন্তত কয়েক ঘন্টা থাকবে তারপর হয়তো আসবে।এই পর্যন্ত অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত হয়ে অনেকেই ফিরে আসেন। নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স-লব্ধ মানুষের একটা বড় অংশ এমন সাক্ষ্য বহন করে। তাঁরা অনেকেই জানিয়েছেন, তৃতীয় স্তরে কোথাও একটা চয়েস রাখা হয়। চৈতন্য মহাচৈতন্যে লীন হতে পারে আবার ইচ্ছে করলে ফিরে আসতেও পারে। জীবন অথবা মৃত্যু এই ‘চয়েস’-এর উপরেই নির্ভর করে। যিনি ফিরে আসতে চান, তিনি তৎক্ষণাৎ ফিরে আসেন। যিনি আসতে চান না, তিনি ‘মৃত্যু’ প্রাপ্ত হন। এই অবস্থাকে অনেকে স্বপ্নে বা আবিষ্ট অবস্থাতেও প্রত্যক্ষ করেছেন। ধ্যানযোগেও এই যাত্রা করেছেন অনেকেই। তাঁদের প্রত্যেকের দেওয়া বিবরণেই কিন্তু এই আখ্যানটি কমন।
    আমাদের সবার চৈতন্যই মহাচৈতন্যের অংশ। কিন্তু দেহ আমাদের সেই বোধ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। তথাকথিত মৃত্যুর পরে সেই দূরত্ব লুপ্ত হয়। শুরু হয় আমাদের ‘নিজস্ব’ যাত্রা।     

    অনেকে বলছে নানা বয়স হয়েছে ঠিকই গেছে কষ্ট পেত না হলে এই বয়সে মরে যায় ভালো গো। তা না হলে খুব কষ্ট হতো আর কান্নাকাটি করোনা।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | | | | | | |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন