• হরিদাস পাল  গপ্পো

  • মেট্রো গল্প

    Mahua Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ১৪ মার্চ ২০২১ | ৩২২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • #মেট্রো গল্প


    #বিশ্বাস করুন


    #মহুয়া দাশগুপ্ত


    বিশ্বাস করুন, মাইরি বলছি। সেই সন্ধ্যে ছটা থেকে এই এঁদো পুকুরধারে বসে মশার কামড় খাচ্ছি আর গলগলিয়ে ঘামছি। অথচ এখন মধুমাস , বসন্তকাল ! আমার প্রেসার সুগার কিচ্ছুটি নেই। কোলেস্টেরল,হার্টের প্রবলেম কিচ্ছু না। অথচ এমন গেরোয় পড়েছি, আমার পা দুটো যেন কেউ আটকে দিয়েছে এই পুকুরঘাটের শ্যাওলায় গদের আঠা মিশিয়ে।  শান্তিতে বসে  মোবাইল  ঘাঁটছিলাম। নির্জন গাছের ছায়ায় বসন্তের হাওয়ায় বেশ একটা ভাব এসে গেছিল। একটা সেলফি নেবো বলে পুকুর আর গাছপালাকে পিছনে রেখে টাইমার অন করে গলাটাকে সারসের মতো করে চোখ মটকে ভাবলাম একটা হাতকে শাহরুখের মতো ভাসিয়ে দিয়ে ফোটোটা তুলি! তখনই কেলোটা হল। শ্যাওলায় পা  পিছলে পুকুরে পড়তেই যাচ্ছিলাম। কোনোমতে হাঁচড়পাঁচড় করে বেঁচেছি। কিন্তু তারপরেই দেখি হাত খালি। মোবাইল নেই। আমার জান বাঁচানোর প্রসেসের মধ্যেই ওটা জলে পড়েছে। একে তো দুটো চ্যাট একসঙ্গে করছিলাম বেশ রোম্যান্টিক ভঙ্গিতে, খেই হারিয়ে গেলো আর জলে পড়েছে মানে স্ক্রিনটাও গেছে। 


    চারিদিক কেমন শূন্য হয়ে গেলো। বিশ্বাস করুন বস , এক পেগও না চড়িয়ে হাউমাউ  করে কাঁদছি। ফোন গিয়ে মন ভেঙে গেছে। হঠাৎ ঘটল সেই আশ্চর্য ঘটনা। সেই কোন ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছিলাম , আপনারাও পড়েছেন । ওই যে সোনার কুড়ুল রুপোর কুড়ুল কেস! জলদেবী যে সত্যিই আছে, আমি জানতাম  না, মানে চোখে দেখার আগে মানতাম না। আমার আকুল কান্নায় সাড়া দিয়ে এঁদো পুকুর থেকে উঠে এলেন জলদেবী। মুখে মাস্ক , হাতে একটা সোনার ফোন। আমি অবাক! পুকুরের তলাতেও করোনা ছড়াচ্ছে নাকি? মনের কথা বুঝে দেবী বললেন,‘ সাবধানের মার নেই আর বড্ড বাজে গন্ধ চারিদিকে , তাই মাস্ক!’বললেন,‘ দেখ তো, এই ফোনটা তোর কীনা!’ লোভে মিটমিট  করেও বললাম,‘ না। ’ এরপর রুপো আর ব্রোঞ্জের দুটো ফোন দেখিয়েও লাভ হল না। আমিও উত্তরপাড়ার রকবাজ ছেলে। এসব ফোনে তো আর লাভলি ডাবলির নাম্বার সেভ করা নেই, আর আমার রোম্যান্টিক চ্যাট! হু হু বাওয়া! ভারচুয়ালি আমি অত বোকা নই। তাই , ঘাড় বেঁকিয়ে ছটা পাঁচ হয়ে বসে রইলাম। অবশেষে এল আমার সেই স্ক্রিন ভাঙা আসল ফোন। আমি ভক্তিতে গদগদ হয়ে ফোনটা হাতে নিয়েই মেসেজ চেক করতে গিয়ে পুরো বোমকে গেলাম। ফেসবুক , হোয়াটস অ্যাপ , ইনস্টাগ্রাম সব হাওয়া। মানে ফোনটা হাতে দেওয়ার আগে চ্যাট ফ্যাট পড়ে সব উড়িয়ে দিয়েছে। মটকা গরম হয়ে গেল। এ কে ? দেবী না পিশাচি? জম্পেশ গালি দেবো বলে চেয়ে দেখি মাস্ক খুলে শয়তানি হাসি হাসছে। কিন্তু গালি দেওয়ার আগেই বিস্ময়ে হতবাক আমি ‘ এখানেও তুমি জীবনদেবতা’ বলার স্টাইলে বললাম,‘ তুমিইইইইই?’  দেখি আমার বছর পনেরোর পুরনো বৌ  মিনু মাস্ক খুলে দাঁড়িয়ে। নাকি দেবীর মুখটা বৌয়ের মতো। সব গুলিয়ে যাচ্ছিল। মিনুর জীবনের নেশা ও পেশা ছিল আমার মোবাইলের চ্যাট পড়া। নেশা কারণ ওর পিটুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে উত্তেজক হরমোন ক্ষরণ হতো আর ও গালি দিতে দিতে কাজ করতো। পেশা , কারণ ওকে চুপ করানোর জন্য আমাকে প্রতিবার পাঁচশো, হাজার টাকা দিতে হত। আমি কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না। সত্যি! 


    ঠিক এইসময় একটা বড়ো ভেঙচি কেটে আমাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মিনু রূপী দেবী বা পিশাচি যাই হোক—মিলিয়ে যাচ্ছিল। আর আমার একটু একটু করে মনে পড়ছিল, গতরাতে মিনুকে দাহ করে শোকপালন করবো বলে এই এঁদো পুকুর ধারে এসে বসেছি। মানে সবাই ভাবছে ,আমাকে বিরক্ত করবে না। আমার গলা শুকিয়ে কাঠ। ফোনটা ফেলে দেবো কীনা ভাবছি। শোঁ শোঁ করে হাওয়া দিচ্ছে আর মিনুর খোনা গলার হাসি মেশানো গান শোনা যাচ্ছে—‘ তুঁ যাঁহা যাঁহা রঁহেগা , মেঁরা সাঁয়া সাঁথ ———’!


    ফোনটা আবার মনে হয় জলে পড়ল।

  • বিভাগ : গপ্পো | ১৪ মার্চ ২০২১ | ৩২২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
গল্প - moulik majumder
আরও পড়ুন
গল্প - moulik majumder
আরও পড়ুন
নীল  - Jeet Bhattachariya
আরও পড়ুন
সবুজ - Jeet Bhattachariya
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • moulik majumder | ১৪ মার্চ ২০২১ ২৩:৩১103669
  • ভালো লিখেছেন

  • jeet | 2409:4060:e9c:2e29:70cb:ac30:6de0:8a59 | ১৭ মার্চ ২০২১ ১২:০৮103822
  • বেশ 

  • keya bagchi | ১৭ মার্চ ২০২১ ২১:৩১103838
  • সরস লেখা। লিখতে থাকুন।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে প্রতিক্রিয়া দিন