এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  গপ্পো

  • ইঁদুর 

    Anirban M লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ০৩ মার্চ ২০২৪ | ৪৬৭ বার পঠিত


  • সকালে উঠে মশারি সরিয়ে নামতেই চোখ গেল সামনে রাখা টেবিলের দিকে। আর যেতেই মাথাটা গরম হয়ে গেল অবিনাশবাবুর। কাল একটু রাতের দিকে মাসকাবারি মুদির জিনিসপত্র ডেলিভারি দিয়েছিল। তুলে রাখার ইচ্ছে হয় নি বলে টেবিলের ওপর সব রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সানলাইট সাবান ছিল, মশলা, তেল আর তার সঙ্গে পাঁচ কেজি চাল। বাকি সব ঠিক থাকলেও চালের প্যাকেটের প্লাস্টিক কুটিকুটি করে কাটা, চাল ছড়িয়ে আছে টেবিলের ওপর যার কিছুটা মেঝেতেও গড়িয়ে নেমেছে। ইঁদুর! কদিন ধরেই টের পাচ্ছিলেন অবিনাশবাবু ঘরে কিছু একটা ঢুকেছে। খুটখাট আওয়াজ, চোখের কোণ দিয়ে দুচারবার দেখেও ছিলেন কী যেন একটা সাঁৎ করে সরে গেল। কিন্তু পাত্তা দেন নি। আজ বুঝতে পারলেন সেটা ভুলই হয়েছিল। মশারি সরিয়ে খাটে খানিকক্ষণ থম মেরে বসে থাকেন অবিনাশবাবু। জানলা দিয়ে বাইরে তাকান। দিনের আলো ফুটেছে সবে, দুচারটে সাইকেল আর মর্নিং ওয়াকার বেরিয়েছে রাস্তায়। আজকাল আর বেশিক্ষণ ঘুমতে পারেন না অবিনাশবাবু। ঘুমের ওষুধ খেলেও ভোরের দিকে ঘুম ভেঙ্গে যায়। বিশেষ করে সুমিতা চলে যাওয়ার পর। সুমিতা – তাঁর স্ত্রী।  অবিনাশবাবু দেওয়ালের দিকে তাকান। ঘড়িতে পাঁচটা বাজে প্রায়। বিছানা থেকে উঠে প্রথমে চোখেমুখে জল দেন প্রথমে। তারপরে রান্নাঘরে ঢোকেন অবিনাশবাবু। ইলেক্ট্রিক কেটলিতে জল চড়িয়ে মিটসেফের দ্বিতীয় তাকের দিকে হাত বাড়ান অবিনাশবাবু। ওখানে চা-পাতা আছে। গত প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ওখানেই থাকে চায়ের পাতা। সেই সুমিতা বিয়ে হয়ে এবাড়িতে আসা থেকে। তার আগে কী অন্য কোথাও থাকত চা পাতা? অবিনাশবাবু জানেন না। সত্যি কথা বলতে কী এই চল্লিশ বছরে অবিনাশবাবু জানতেনও না চা-পাতা কোথায় থাকে। জানলেন বছর খানেক আগে যখন সুমিতার সেরিব্রাল অ্যাটাক হল। বাড়িতেও ফিরেছিল মাস দুয়েক পরে। বাঁদিকটা প্যারালিসিস হয়ে গেছিল। মাসখানেক পরে আবার স্ট্রোক। সব শেষ। তারপরেই আস্তে আস্তে সব জেনেছেন অবিনাশবাবু – মিটসেফের কোন কোণায় চা-পাতা থাকে, বাড়িতে কোন ব্র্যান্ডের গরম মশলা আসে, বাড়ির রান্নার লোক দীপা কত মাইনে পায় – সব।

    চা বানিয়ে নিয়ে অবিনাশবাবু বারান্দায় বসলেন। আস্তে আস্তে আলো ফুটছে। একটু বাদে সুকুমার যাবে। সুকুমার তাঁর ছোটবেলার বন্ধু। সকালে হাঁটতে বেরোয়। অবিনাশবাবু কোনকালেও মর্নিং ওয়াক করেন না। সুমিতা চলে যাওয়ার পরে শুরু করেছিলেন সুকুমারের সাথে। কিন্তু সেই দলে আরো অনেক বুড়ো আছে যারা সারাক্ষণ ওষুধ আর অসুখ নিয়ে আলোচনা করে। অন্য বুড়ো লোকেদের মত অবিনাশবাবুকেও ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু রোগের আলোচনা তাঁর ভালো লাগে না। অবিনাশবাবু তাই হাঁটা ছেড়ে দিয়েছেন। বারান্দায় বসে থাকেন সকালটায়। যাওয়া আসার পথে সুকুমারের সাথে কথা হয়। এই ভালো। আজ সুকুমারের সাথে দেখা হলে ইঁদুরের ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে হবে।



    সকাল আটটা। দীপা রান্নাঘরে কাজ শুরু করেছে। অবিনাশবাবু গুটিগুটি বাজারের দিকে পা বাড়ান। সুকুমারের সঙ্গে কথা হয়েছে। ও বলল একটা ওই কেকের মত দেখতে জিনিস পাওয়া যায়, মাউস-কিল বা এরকম কিছু নাম। ওইটা প্যাকেট থেকে বের করে রেখে দিলেই হবে। ইঁদুর খাবে আর মরবে। অবিনাশবাবু বাজারে ঢুকেই সোজা সিদ্ধেশ্বর ভান্ডারের দিকে হাঁটা দিলেন। এই দোকানের মালিক সুনীল তাঁর অনেককালের চেনা। জিনিস কেনার থেকেও বড় হল সুনীলের সঙ্গে একটু গল্পগুজব। দোকানে গিয়ে দেখলেন সুনীল নেই। ওর বড় ছেলে পানু বসে আছে। পানুর ভালো নামটা অবিনাশবাবু মনে করতে পারেন না। সুরঞ্জন কী? দোকানে ঢুকে অবিনাশবাবু জিজ্ঞেস করেন, “বাবা কোথায় পানু?” “বাবার শরীরটা ভালো নেই কাকু। এখন ক’দিন বসবে না”। খদ্দের সামলাতে সামলাতে উত্তর দেয় পানু। “কী হয়েছে?” চিন্তিত মুখে প্রশ্ন করেন অবিনাশবাবু। “ওই প্রেশারটা এখন ওঠানামা করছে। আপনার কী লাগবে কাকু?” দোকানে এখন ভালই ভিড়। বোঝা যায় পানু এই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় না। “ওই বাড়িতে একটু ইঁদুরের উপদ্রব শুরু হয়েছে। সুকুমার বলল মাউস-কিল না কী একটা পাওয়া যায়। আছে নাকি?” পানু দোকানে নতুন নতুন বসছে। বিশেষ কিছু জানে না। ও দোকানের পুরোন কর্মচারি বিশুকে জিজ্ঞেস করল, “বিশুকাকা, মাউস-কিল আছে নাকি?” বিশু মাথা নেড়ে বলল, “ও এখন সাপ্লাই নেই। পরের সপ্তাহে পাওয়া যেতে পারে”। “তাহলে পরের সপ্তাহেই দেখি। পানু, বাবাকে সাবধানে থাকতে বল”। এই বলে অবিনাশবাবু সিদ্ধেশ্বর ভান্ডার থেকে বেরোলেন। বেরিয়ে আরো দু-একটা দোকানে খোঁজ করলেন অবিনাশবাবু। কিন্তু একই উত্তর পেলেন – সাপ্লাই নেই। পরের সপ্তাহে আসতে পারে। আরো কিছু এটা সেটা কিনে অবিনাশবাবু যখন বাড়ি ফিরলেন তখন সকাল প্রায় দশটা।

    বাড়ি ফিরে একটু টিভি চালিয়ে বসেছিলেন অবিনাশবাবু এমন সময় ফোন। ছেলে ফোন করেছে। ছেলে ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে কোথাও একটা থাকে। এখন তাদের রাত। এই সময় ছেলে ফোন করে মাঝে মাঝে। যোগাযোগ বলতে এখন এটুকুই। অবিনাশবাবুকে নিয়েও গেছিল একবার। সুমিতা তখন বেঁচে। সুমিতাও গেছিল। ছেলে, বউ, নাতির সংসারে ভালোই লেগেছিল গিয়ে। কিন্তু ওই সাজানো গোছানো মার্কিন গ্রামে এক-দু সপ্তাহের পরেই হাঁপিয়ে উঠেছিলেন দুজনেই, কলকাতায় ফিরে দুজনেই হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন। সুমিতা মারা যাওয়ার পরে শ্রাদ্ধ-শান্তির কাজ করতে ছেলে এসেছিল। কাজ সেরে ফিরেও গেছে। তারপর সপ্তাহে তিনদিন করে ফোন করে নিয়ম করে – শুক্র, সোম আর বৃহস্পতিবার। কখনো বাদ যায় না, কখনো অন্যদিনও ফোন আসে না। সুমিতা থাকতে ছেলে ফোন করলে অনেক কথা হত। সুমিতাই কথা বলত বেশী।  কিন্তু অবিনাশবাবুর আজকাল আর কথা বলতে ভালো লাগে না। বলার মত কথা তেমন খুঁজে পান না। তিনি বোঝেন তাঁর ছেলে একটা অন্য জগতে থাকে। সেখানে সে ভালো আছে। কিন্তু অবিনাশবাবুর সেই জগৎ নিয়ে বড় একটা  আগ্রহ নেই। সত্যি বলতে কী সুমিতা চলে যাওয়ার পরে অবিনাশবাবু কোন কিছু নিয়েই আর আগ্রহ পান না। তবুও ছেলে ফোন করায় অবিনাশবাবু কথা বলেন। একথা সেকথার পরে অবিনাশবাবু ইঁদুরের কথাটা বলেন। সেটা শুনে ছেলে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ে। বলে, “কলকাতায় এক্সটারমিনেটর এজেন্সি পাওয়া যায় না? যারা বাড়ি এসে রোডেন্ট মেরে দিয়ে যায়”। অবিনাশবাবু এসব কিছুই জানেন না। বাড়িতে ইঁদুর মারতে লোক আসে এ তাঁর ভাবনার বাইরে। উনি বললেন, “ সেসব জানি না। তবে সুকুমার বলছিল মাউস-কিল বলে কি একটা পাওয়া যায়। সেটায় ইঁদুর মরে। কিন্তু বাজারে পেলাম না। বলল সাপ্লাই নেই”। ছেলে তাই শুনে সমাধান পাওয়া গেছে ভেবে আশ্বস্ত হল। বলল, “দাঁড়াও। অনলাইনে কিনে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তুমি ফোনটা রাখো। আমি দেখছি”। অবিনাশবাবু ফোন রেখে দিলেন। খানিকক্ষণ পরে  ছেলে আবার ফোন করে জানালো কেনা হয়ে গেছে। বিকেলের মধ্যে চলে যাবে। অনলাইনে একটা দুটো প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই একটু বেশিই কিনে পাঠিয়েছে।
     অনলাইনে অর্ডার করা মাউস-কিল এল বিকেল ছটার কিছু পরে। একশটা মাউস-কিলের একটা লম্বা ছড়া। পুরোন সিনেমায় বন্দুকের গুলির বেল্ট যেমন হত, অনেকটা সেরকম। প্রায় গোটা দশেক মাউস-কিল প্যাকেট খুলে, বাড়ির বিভিন্ন কোণায় ছড়িয়ে অবিনাশবাবু যখন ঘুমোতে গেলেন তখন রাত প্রায় দশটা।



    পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙ্গল ছ’টার সময়। আগের দিন ইঁদুর কখন মরবে এই চিন্তায় ঘুম আসছিল না। তাই একটা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। ঘুম ভাঙতে তাই একটু দেরিই হয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠে, চা খেয়ে অবিনাশবাবু লাশ খুঁজতে বেরোলেন – ইঁদুরের লাশ। সেভাবে কিছু চোখে পড়ল না। অবিনাশবাবু ঘুরে ঘুরে বাড়ির বিভিন্ন কোণায় ছড়িয়ে রাখা মাউস-কিল জরিপ করতে লাগলেন। সবই অক্ষত। যেন ইঁদুর জানে এসব তাকে মারার আয়োজন। সে এসবে মুখ দেয় নি। ইঁদুরের লাশও নেই কোথাও। অবিনাশবাবু কোথাও কিছু দেখতে না পেয়ে একটু হতাশ হয়েই টিভি চালিয়ে দেখলেন টিভি চলছে না। অবিনাশবাবু ফোন করলেন পাড়ার ইলেক্ট্রিশিয়ান মন্টুকে। মন্টু খানিকক্ষণের মধ্যে এসে আবিষ্কার করল ইঁদুর তাঁর টিভির তার কেটে দিয়েছে। মন্টু তার জোড়ার পর টিভি চালু হল। কিন্তু ইঁদুর, মাউস-কিল এই সব গল্প শুনে মন্টু বলল, “ ওই সব মাউস-কিল এখন ইঁদুররা খেয়ে হজম করে ফেলছে কাকু। আপনি কানাইকে চেনেন? ভ্যানে সব্জি বিক্রি করে। বাজারে তো অনেক ইঁদুর। ও ইঁদুর মারার জন্য স্পেশাল বিষ আনে। ওইটা আলুর চপে মিশিয়ে দিন। খাবে আর মরবে”। অবিনাশবাবুর কথাটা মনে ধরল। কিন্তু কানাই ভোরের দিকে ভ্যানে সবজি নিয়ে যায়। আজ চলে গেছে। আবার কাল কানাইকে পাওয়া যাবে। মন্টু চলে যাওয়ার পরে অবিনাশবাবু টিভি নিয়ে বসলেন। টিভিতে যে কী দেখবেন বুঝতে পারেন না। আজকাল নিউজ চ্যানেল আর মেগা সিরিয়ালে বিশেষ ফারাক নেই। এখন তিনি নিউজ চ্যানেল চালিয়েছেন সেখানে কিছু লোক কালকের একটা বাস অ্যাকসিডেন্টের ঘটনা নিয়ে প্রবল চেঁচামেচি করছে। অবিনাশবাবু চ্যানেল ঘোরালেন। এবার পুরোন সিনেমার চ্যানেল। সঞ্জীব কুমারকে দেখতে পেলেন। কী সিনেমা তাতে অবিনাশবাবুর খুব আগ্রহ নেই। কিন্তু বাড়িতে টিভিটা চালিয়ে রাখলে ঘরের মধ্যে একটু সাড়াশব্দ থাকে। নইলে খুব ফাঁকা লাগতে থাকে অবিনাশবাবুর। এমন সময় ছেলের ফোন আসে। আজ ফোনের দিন নয়। অবিনাশবাবু একটু অবাকই হন। ফোন করে ছেলে বলে, “এক্সটারমিনেটর খুঁজে পেয়েছি বাবা। দ্য রেডি কিলারস নামের একটা কোম্পানি। গুগলে ফাইভ স্টার রেটিংস। আমি কল করেছিলাম। তোমার নাম্বার দিয়েছি। ওরা তোমাকে ফোন করে বাড়িতে আসবে। সব দেখে টেখে একটা এস্টিমেট দেবে। তারপর আমি এখান থেকে অনলাইনে পে করে দেব। তোমাকে ভাবতে হবে না”। ছেলে ফোন কেটে দেয়। ফোন রেখে অবিনাশবাবু টিভির পর্দায় চোখ রাখেন। হেলেন নেচে নেচে গাইছেন, “ আজ কী রাত, কোই আনে কো হ্যায় রে বাবা…”।

    দ্য রেডি কিলারের ছেলেটি যখন আসে তখন বিকেল প্রায় পাঁচটা। ছেলেটির মধ্যে কিলার ভাব একেবারেই নেই। অবিনাশবাবু কথা বলে জানতে পারেন তার নাম প্রশান্ত। বাংলায় অনার্স করেছে। এক সময় একটু আধটু কবিতাও লিখেছে। কিন্তু ইদানিং ইঁদুর, আরশোলা, ছারপোকা ইত্যাদি মারে। প্রশান্ত কীসব যন্ত্রপাতি বের করে পুরো বাড়ী ঘুরে ঘুরে দেখল। দেখে টেখে জানাল, “স্যার, ইঁদুর তো আছেই। এমনকি  ইঁদুরের ফ্যামিলিও থাকতে পারে। সেটা কিন্তু খুব ডেঞ্জারাস। এটা পুরোটা করতে হাজার পাঁচেক মত লাগবে। তাতে ইঁদুর, আরশোলা, ছারপোকা সব মেরে দেব। কিন্তু আপনাকে স্যার একদিন অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে হবে। আমরা আপনার ছেলেকে সব এস্টিমেট ইমেল করে দেব”। এইসব বলে প্রশান্ত বিদায় নিল। অবিনাশবাবুর ভুরু কুঁচকে রইল বেশ কিছুক্ষণ। টাকাটা বড় কথা নয়। কিন্তু অন্য বাড়িতে তিনি যাবেন না। অন্য একটা ফ্ল্যাটও আছে ছেলের। সেখানে গিয়ে থাকাটা সমস্যা নয়। কিন্তু কেন যাবেন অবিনাশবাবু? যাবেন না উনি। ছেলেকে এক্ষুণি সেটা জানিয়ে দেওয়া দরকার। অবিনাশবাবু ফোন হাতে নেন।



    কানাইকে ধরবেন বলে অবিনাশবাবু আজ বেশ সকাল সকালই উঠেছেন। কানাইকে ধরে বিষের খবর নিতে হবে। এই তালে সকালে সুকুমারের সঙ্গেও দেখা হয়ে যাবে হাঁটতে যাওয়ার পথে। কাল দেরিতে। সকাল ছটা নাগাদ কানাই-এর দেখা মিলল। কানাইকে সবটা খুলে বলার পর ও বলল, “কিচ্ছু চিন্তা করবেন না মেসোমশায়। বাজারে মাছ কাটে মদনকে চেনেন তো? ওর কাছেই বিষ থাকে।  বাজারে সবাই ওর থেকেই কেনে তো। আপনি ওকে বলবেন কানাই পাঠিয়েছে। ও আপনাকে দিয়ে দেবে। সবাইকে দেয় না, বুঝলেন তো? কে আবার কখন সুইসাইড করে নেয়। সে আরেক ঝঞ্ঝাট। এক পুরিয়া, পঞ্চাশ টাকা মত পড়বে”। অবিনাশবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “কাজ হবে তো বাবা?” “দুশো পার্সেন্ট গ্যারান্টি মেসোমশায়। মদনের বিষে বড়, বড় মেঠো ইঁদুর মরে ফৌত হয়ে যাচ্ছে! আর এতো বাড়ির নেংটি! তবে আলুর চপে মেশাবেন। চপটা ওরা ভালো খায়”। কানাই-এর সাথে কথা শেষ করে আরো বেশ খানিকক্ষণ বারান্দাতেই বসে রইলেন। ঘরে টিভিটা একটু জোরেই চালিয়ে রেখেছিলেন যাতে আওয়াজটা বারান্দা থেকেও পাওয়া যায়। দীপার আসার সময় হয়ে গেছে। ওকে গেট খুলে দিয়ে একেবারে ঘরে ঢুকবেন বলে ভাবলেন অবিনাশবাবু। হঠাৎ দেখলেন গলির ওদিক থেকে সুকুমারের ছেলে পল্টন আসছে। পল্টনকে দেখে অবিনাশবাবুর মনে পড়ল আজ সুকুমারকে মর্নিং ওয়াকে যেতে দেখেন নি। পল্টনকে দেখে অবিনাশবাবু হেঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “হ্যাঁ রে পল্টন, তোর বাবা আজ মর্নিং ওয়াকে গেল না? সব ঠিক আছে তো?” পল্টন শুকনো মুখে বলে, “বাবার কাল রাতে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল জেঠু। কাল রাতেই হসপিটালে নিয়ে গেছিলাম। এখন আইসিইউ তে। ২৪ ঘন্টা না কাটলে কিছু বলা যাচ্ছে না”। পল্টন চলে যায়। অবিনাশবাবু একটু মন খারাপ নিয়েই ঘরে চলে আসেন। বসে থাকেন খানিকক্ষণ। সুকুমার অবিনাশবাবুর থেকে দু-এক বছরের ছোটই হবে। চলে যাওয়ার জন্য এই বয়স তো খুব কম কিছু না। তাও বন্ধুর মৃত্যু সম্ভাবনা অবিনাশবাবুকে ধাক্কা দেয়। সুমিতার মৃত্যুর আগে পরে অবিনাশবাবুর সমবয়সী বন্ধু, আত্মীয় বেশ কয়েকজন চলে গিয়েছে। আগে এইসব খবরে খানিকটা ভয়ই করত। কিন্তু সুমিতার মৃত্যুর পরে এইসব খবর পেলে মনে হয় কেন তিনি নন? অবিনাশবাবু চলে যেতে চান। কিন্তু চাইলেই তো সব হয় না। এইসব ভাবতে ভাবতে   দীপার যাওয়ার সময় হয়ে যায়। দীপা চলে গেলে অবিনাশবাবু বাজারের উদ্দেশ্যে হাঁটা দেন। মদনের থেকে বিষ নিতে হবে। আলুর চপ অবশ্য বিকেলের আগে হবে না। কিন্তু আজকাল তো চারদিকে মোমো, রোল, চাউমিনের দোকান। আলুর চপের দোকান কী এখন আছে পাড়ায়? খুঁজতে হবে।



    আলুর চপ পাওয়া গেছিল শেষ পর্যন্ত। একটু খুঁজতে হয়েছিল। কিন্তু পাওয়া গেছিল। আলুর চপে বিষ মিশিয়ে সারা ঘরে ছড়িয়ে রেখে অবিনাশবাবু শুতে গেছিলেন প্রায় রাত এগারোটায়। সকালে উঠে দেখলেন আলুর চপ ছড়িয়ে রয়েছে সারা বাড়িতে, যেমন রেখেছিলেন তেমনই। ইঁদুরের চিহ্ন নেই। একটু হতাশ ভাবেই চা বানিয়ে বারান্দায় চা নিয়ে বসলেন অবিনাশবাবু। রাস্তায় একটা দুটো লোক বেরোচ্ছে। কাউকেই চেনেন না অবিনাশবাবু। সুকুমার হাসপাতালে। অবিনাশবাবুর হঠাৎ মনে হল দশ বছর আগেও রাস্তায় অনেক চেনা লোক দেখতে পেতেন তিনি। কিন্তু আজকাল আর তেমন পান না। যাদের চিনতেন তারা হয় মারা গেছে বা অসুস্থ, বাড়ি থেকে বেরোয় না আর। অল্প বয়সিরা সবাই চলে গেছে দেশ, রাজ্য বা শহর ছেড়ে। অবিনাশবাবু আজকাল আর চারপাশটা চিনতে পারেন না, তাঁকেও কেউ নিশ্চয়ই চেনে না। ভাবতে ভাবতে ঘরে এসে টিভি চালালেন। কেউ কিছু কথা বলছে টিভিতে। সেসব শোনার উৎসাহ নেই অবিনাশবাবুর। উনি একটু অন্যমনস্ক ভাবেই ইঁদুর নিয়ে ভাবতে বসলেন। ইঁদুররা কী কোথাও চলে যায়। না কি বাস্তুসাপের মত বাস্তু ইঁদুর বলেও কিছু হয়। এই যে ইঁদুর, এ কী অনেকদিন ধরে আছে? সুমিতা কি জানতো এর কথা? না কী নতুন ইঁদুর? বাড়ী খালি দেখে ঢুকে পড়েছে। অবিনাশবাবু ইঁদুর মারার প্ল্যান ভাবতে লাগলেন। অনেকদিন পর একটা করার মত কাজ পেয়ে উত্তেজিতই বোধ করতে লাগলেন অবিনাশবাবু। প্রথমেই ভাবলেন যে ইঁদুরকে খাওয়ানোর অভ্যেস করাতে হবে। হয়ত হঠাৎ করে খেতে দিচ্ছেন বলে ইঁদুর সন্দিহান হয়ে উঠছে। তাহলে আগে অন্য কিছু খাইয়ে খাইয়ে অভ্যেস করাতে হবে। তারপর মনে হল ইঁদুর কী খায় এটাও তো জানা দরকার। সব মানুষ কি আলুর চপ ভালোবাসে? তাহলে সব ইঁদুর যে আলুর চপ খাবে তারই বা কী  মানে আছে? ঠিক করলেন আজ রাতে বিভিন্ন ধরণের খাবার দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু প্রথমেই বিষ নয়। আগে দেখতে হবে ক’দিন ইঁদুর কী খায়? তারপর কদিন গেলে বিষের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
     
    সন্ধেবেলা অনেক রকম খাবার কিনে বাড়ি ঢুকলেন অবিনাশবাবু। রোল, মোমো, আলুর চপ তো ছিলই। অবিনাশবাবু ঠিক করলেন একটু বাড়ির ভাত,ডাল, পালং শাকের ঘন্টও রেখে দেখবেন। সেই মত বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন খাবার রাখা শুরু করল। বলা বাহুল্য, সব রোল বা চাউমিন এই কাজে লাগল না। অবিনাশবাবু ঠিক করলেন পরের দিন দীপাকে দিয়ে দেবেন। ওর একটা  বাচ্চা ছেলে আছে। সে খেয়ে নেবে নিশ্চয়ই। এই কাজ করতে করতে ছেলে ফোন করল। সাধারণত দেশের রাতে সে ফোন করে না। ছেলে ফোন করে জানাল সে আরো অনেক টাকার কোন নতুন চাকরিতে জয়েন করবে। এক্ষুণি ইমেল পেলো তাই বাবাকেই প্রথম জানাচ্ছে। অবিনাশবাবু অন্য সময় হলে হয়ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন। কিন্তু আজ তিনি অন্যমনস্ক। একটু হ্যাঁ-হুঁ করে ফোন রেখে দিয়ে ভাবতে বসলেন বাড়িতে ঠিক কটা জল বেরোনোর পাইপ আছে আর তার মধ্যে কোন কোনটা দিয়ে ইঁদুর ঢুকতে পারে। অথবা সে যদি বাড়িতেই থাকে তাহলে কোথায় সে প্রথম খাবার খুঁজতে আসবে?

    ৬ 

    নতুন প্ল্যানের পর দিন সাতেক কেটে গেছে। এর মধ্যে সুকুমার মারা গেছে আর ছেলের ফোন আরো কমে গেছে। নতুন চাকরির ব্যস্ততা বোধ হয়। কিন্তু অবিনাশবাবু এর মধ্যে জেনে ফেলেছেন তাঁর বাড়ির ইঁদুর সুক্তো খেতে সবচেয়ে ভালোবাসে। অবিনাশবাবু গত সাত দিন ধরে একটা খাতায় লিখে রেখেছেন বাড়ির ঠিক কোন জায়গায়, কী খাবার রাখলে ইঁদুর খেয়ে নেয়। খাতায় লেখার জন্য উনি ইঁদুরের একটা নামও দিয়ে রেখেছেন – ইন্দু। ইন্দু মেয়েদের নাম হয়। ইঁদুর যে মেয়েই তা অবিনাশবাবু জানেন না। নাম নিয়ে বেশী ভাবেন নি আসলে। ইঁদুর থেকে ইন্দু চট করে চলে এসেছিল।

    আজ অবিনাশবাবু সুক্তোয় বিষ মিশিয়ে রাখবেন রান্নাঘরের পাশের প্যাসেজে। উনি দেখেছেন ওখানে খাবার রাখলে ইন্দু আগে খায়। তাছাড়া ইন্দু ওখানে যদি খেয়ে মরে তাহলে সহজে পরিষ্কারও করা যাবে। দীপা অনেকটা সুক্তো রান্না করে গেছে। ফ্রিজ থেকে বের করে অল্প মাইক্রোওয়েভ করলেন অবিনাশবাবু। ইন্দু একদম ঠান্ডা খাবার পছন্দ করে না। আগে একবার তাড়াহুড়ো তে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে রেখে দিয়েছিলেন অবিনাশবাবু। ভেবেছিলেন ইন্দু নিশ্চয়ই শেষরাতে আসে, তার আগে খাবারের ঠান্ডাটা কেটে যাবে। ইন্দু সেদিন খাবার মুখে তোলে নি। আর রাগ করে অবিনাশবাবুর পাপোশটা কুটিকুটি করে রেখে গেছিল। খাবার একটু গরম করে ভালো করে বিষ মেশালেন অবিনাশবাবু। মিশিয়ে রেখে দিলেন রান্নাঘরের পাশের প্যাসেজে। রেখে, মশারি টাঙ্গিয়ে শুয়ে পড়লেন।

    অবিনাশবাবু রোজ ঘুমের ওষুধ না খাওয়ার চেষ্টা করেন। তাই প্রথমেই শোওয়ার সময় ওষুধ খান না। অনেক সময় এমনিই ঘুম চলে আসে। যেদিন আসে না সেদিন ঘুম থেকে উঠে ওষুধ খান। আজ শুয়ে বুঝতে পারলেন ঘুম আসছে না। নানারকম এলোমেলো চিন্তা আস্তে থাকে মনে। সুক্তোর কথা মনে আসে প্রথমেই। অবিনাশবাবুর মা সুক্তো খেতে ভালবাসতেন। ওনার মা-বাবা এদিকে এসেছিলেন ওপার বাংলা থেকে – দেশভাগের সময় । অবিনাশবাবুর জন্ম এদিকে আসার বছর কয়েক পরে। প্রথমে অবিনাশবাবুরা থাকতেন বাঘাযতীনের কলোনি এলাকায়, ভাড়া বাড়িতে। এখন যে বাড়িতে অবিনাশবাবু থাকেন, সেটা অবিনাশবাবু তৈরি করেন চাকরি পেয়ে। গড়িয়ার দিকে। অবিনাশবাবুর বাবা, অবিনাশবাবুর জন্মের কয়েক বছরের মধ্যে মারা যান। অবিনাশবাবুর ভাইয়ের তখন এক বছর বয়স। ওনার মা একা হাতে ওনাদের দুই ভাইকে মানুষ করেন। মা মারা যান নতুন বাড়ি তৈরি হওয়ার আগেই। ভাইও চলে গেছে আজ পাঁচ বছর হল। মা শুক্তো খেতে ভালবাসত। বলত শুক্তো হলেই নাকি ওনার একথালা ভাত খাওয়া হয়ে যায়। মাছ-মাংস লাগে না। অবশ্য তখন মাছ, মাংস খাওয়ার সামর্থ্যও ছিল না অবিনাশবাবুদের। হঠাৎ ইন্দুর কথা মনে হল অবিনাশবাবুর। ইন্দুরও কী বাচ্চা আছে? তাদের জন্য খাবার নিতে আসে সে? নাকি ইন্দুও তাঁরই মত, কোথাও কেউ নেই তাঁর? সে কি জানে যে তাকে মারার জন্য এতদিন ধরে পরিকল্পনা করে চলেছে একটা মানুষ? তার বাচ্চারা কী বসে থাকবে তাদের মা কখন খাবার নিয়ে আসবে তার জন্য? নাকি কারো কিছু যায় আসে না ইন্দু চলে গেলে? এসব আবোলতাবোল ভাবতে ভাবতে গলার কাছটায় একটা কান্না দলা পাকিয়ে ওঠে অবিনাশবাবুর। ঠিক কেন সেটা অবিনাশবাবু বুঝতে পারেন না। তবু কেমন ঘোরের মতই তিনি মশারি তুলে উঠে পড়েন। সব আলো জ্বালিয়ে দ্রুত পায়ে ছোটেন রান্নাঘরের পাশের প্যাসেজের দিকে। গিয়ে স্বস্তির শ্বাস ছাড়েন – ইন্দু আসে নি এখনো। রান্নাঘর থেকে ঝাঁটা আর প্লাস্টিকের বেলচা দিয়ে বিষ মেশানো শুক্তো তুলে ফেলে দেন। তারপর জায়গাটা ধুয়ে দেন ভালো করে। বিষের পুরিয়া টয়লেটে খালি করে ফ্লাশ করে দেন। তারপর ফ্রিজ খুলে শুক্তো বের করে আবার মাইক্রোওয়েভে গরম করেন, রান্নাঘরের পাশের প্যাসেজে সেটা রেখে শুয়ে পড়েন। তারপর খুব দ্রুতই ঘুমে তলিয়ে যান, ওষুধ ছাড়াই।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • গপ্পো | ০৩ মার্চ ২০২৪ | ৪৬৭ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    বটগাছ - Anirban M
    আরও পড়ুন
    লাইক-ইট - Anirban M
    আরও পড়ুন
    বর্ম - Anirban M
    আরও পড়ুন
    প্লাবন - Anirban M
    আরও পড়ুন
    উপকণ্ঠ - Sarthak Das
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • :|: | 174.251.162.96 | ০৩ মার্চ ২০২৪ ০৯:০৭528989
  • বাঃ!
  • ইন্দ্রাণী | ০৩ মার্চ ২০২৪ ১১:৪২528991
  • ভালো লাগল গল্পটি।
    হত্যার ইচ্ছা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে মায়ায়। পশ্চাৎপটে একাকীত্ব, বিষাদ, স্মৃতি।
  • বর্ণালী | 2402:3a80:1968:b19:578:5634:1232:5476 | ০৩ মার্চ ২০২৪ ১২:৫৯528999
  • খুব ভালো 
  • Sukanya | 103.220.208.60 | ০৩ মার্চ ২০২৪ ১৮:০২529009
  • দারুন লাগলো !
  • | ০৩ মার্চ ২০২৪ ১৮:৩৬529010
  • খুব ভাল লাগল। 
  • Xy | 2409:408c:8501:98b1::1a65:18b0 | ০৪ মার্চ ২০২৪ ০৭:০০529018
  • আমারো ভালো লাগলো।
    আনেকদিন পরে মনে হোলো একটা গল্প পড়লাম, যাতে একটা গল্প আছে।
    আর নিজের বয়্সটা বেশী বলে রিলেট ও করতে পারলাম অবিনাশের সাথে
  • সমরেশ মুখার্জী | ০৪ মার্চ ২০২৪ ০৮:২০529019
  • ইন্দ্রাণী গল্পের সার কথাটি বলে দিয়েছেন।
    একদম সহমত।
    নিস্কৃতি‌র পরিবর্তে সহাবস্থান মেনে নিতে ঘুম চলে আসে ওষুধ ছাড়াই।
    ভালো লাগলো লেখা‌র সহজ ভঙ্গি।
  • রঞ্জন রায় | 2401:4900:7088:de46:4b17:d614:ff56:cd1b | ০৪ মার্চ ২০২৪ ২৩:৩০529034
  • অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়ের ছোটগল্প এবং ইকনমিকস্  নিয়ে প্রবন্ধ--সবই চমৎকার। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন