এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দারুণ হুপপ্লবের দিনে 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৭ মে ২০২৪ | ৪৪৯ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৫ জন)
  • উনিজি, মোটাভাই, রাম্মিডিয়া আর ভক্তদের এক্সিকিউটিভ কমিটির মিটিং। একটা নতুন স্লোগান চাই। আচ্ছেদিন তো আর নেই, এবার অন্য কিছু দরকার। মোটাভাইকে জিজ্ঞাসা করাতে সে বলল, নতুন স্লোগান হোক, যাচ্ছে দিন। বেশ মিল আছে।  আরএক মহাপ্রভু বলে, ওরা করেছিল খেলা হবে, আমরা দিই খেলা শেষ? 

    এদের বুদ্ধি দেখলে উনিজির গা জ্বলে যায়। খেলা শেষ আর বেলা শেষ এর মধ্যে কী তফাত? এইজন্যই উনিজি সৃজনশীল কাজে এদের ডাকেননা। শুধু রাম্মিডিয়ার উপর ভরসা করেন। কিন্তু এখানে তারাও ফেল। জিজ্ঞাসা করতে তাদের প্রতিনিধিও মাথা-চুলকে বলে, আমরা তো অজ্জিনাল কিছু করিনা স্যার।

    উনিজি খুব চটে গিয়ে বললেন - তবে কর টা কী? ছোকরা খুব আমতা আমতা করে বলল, ওই দেখেননা, বিদেশী শো টুকে ক্রোড়পতি-টোড়পতি হচ্ছে। আমরা খবরেও তাইই করি। এখানেও সেরকম একটা কিছু করব স্যার? 

    উনিজি পরীক্ষা করার জন্য  বললেন, কর দেখি। ছোকরা এবার একটু উৎসাহ পেয়ে বলল, মাকুদের অনেক জবরদস্ত স্লোগান ছিল। গরম গরম। ওদেরটা টুকব? 

    উনিজি কিছু বললেননা। দৌড় মাপছেন। ছোকরা তাতে আরও উৎসাহ পেয়ে বলল, ওদের একটা স্লোগান ছিল, আমার নাম, তোমার নাম, ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম। ওটাকে বদলে করব, আমার নাম তোমার নাম / জয় শ্রীরাম জয় শ্রীরাম। 

    এরপর আর চুপ থাকা সম্ভব না। উনিজি বললেন, চোপ। এটা কি মামারবাড়ি? সবার নামই রাম হলে আমি কী হব শুনি? 

    ছোকরা শুনে একটু কাঁচুমাচু হয়ে বলে, তাহলে মুলোদের ট্রাই করি স্যার? 

    দৌড় কতদূর দেখতে উনিজি বললেন, কর।

    - ওদের একটা ছিল, কেশপুরকে শেষপুর করে দেব। বেশ জিঘাংসু ব্যাপার আছে একটা। ওটাই ঝেড়ে দিই। আমরা বলব, ফেসবুককে শেষবুক করে দেব। এটা কেমন হবে স্যার?
     
    কেমন আর হবে। ফেসবুককে শেষ করে দেবে বলছে, কোনদিন বলবে হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটি ব্যান। উনিজি গম্ভীর ভাবে বললেন, আরেকটা বল। এটাই তোমার শেষ সুযোগ। দেখি কী পার।

    ছেলেটা একটু হাত কচলে বলল, তাহলে একটা সোজা ট্রাই করি স্যার। ধুপধাপ  ফুলে ছাপ। এট খুব হিট হয়েছিল। আমরা তো সবই জোরে-সোরে করি, তাই ওটা ধুপধাপ করে দিয়েছি। 

    উনিজি এবার প্রচণ্ড রেগে বললেন, ওরে মর্কট, এতে কোন ফুল বোঝা যাবে কীকরে। হিন্দুত্বের ব্যাপারটাই তো নেই। পয়সা দিয়ে যাদেরকে পুষেছি, তারা হয়তো জোড়াফুলে মেরে দিয়ে এল। তখন? 

    রাম্মিডিয়ার ছেলেটার মুখে আর কথা সরে না। উনিজি বললেন, তোদের আইডিয়া খারাপ না, জানিস তো। কিন্তু কোনো ফিনিশিং নেই। ধুপধাপ নয়। ওটা করে দে হুপহাপ ফুলে ছাপ। 

    যেমন কথা তেমন কাজ। পরের দিন রাম্মিডিয়ায় হই হই পড়ে গেল। নতুন স্লোগান "হুপহাপ ফুলে ছাপ"। হেডলাইন হল, "উনিজির মাস্টার স্ট্রোক"। সঞ্চালকরা স্কুপ-নিউজের নাম দিয়ে দিলেন হুপ নিউজ। "ব্রেকিং" এর বদলে পর্দায় লেখা শুরু হল "হুপ"। শিল্পমহলেও নাড়াচাড়া পড়ে গেল। এক বিখ্যাত শিল্পপতি তাঁর ছেলের বিয়ের একশএগারো দিন আগের অনুষ্ঠানে হলিউড থেকে নিয়ে এলেন হুপি গোল্ডবার্গকে। শিল্পসংস্কৃতিতেও তুলকালাম। রূপকলা কেন্দ্রের নাম হয়ে গেল হুপকলা কেন্দ্র। এক হনুমান কলা খাচ্ছে, এই হল তার প্রতীক। রাম্মিডিয়ায় জানা গেল বাংলার বৈষ্ণব আন্দোলনের নেতার আসল নাম ছিল হুপ সনাতন। সেই নিয়ে টিভিতে ঝড় উঠল। বাচ্চারা রুপকথার বদলে পড়তে লাগল হুপকথা, তাদের জন্য তৈরি হল কমিক্স, "ছোটো হুপ"।

    ধর্মের জগতে যা হল, তা তো অকল্পনীয়। নতুন এক পরব চালু হয়ে গেল, যার নাম হুপচতুর্দশী। এতদিন পর্যন্ত বিধর্মীরা তেড়ে লাভ-জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছিল, এবার পাল্টা হিসেবে হুপচতুর্দশীতে তাদের ধর্মস্থানের সামনে লাফালাফি শুরু হল। এর নাম দেওয়া হল লাফ-জিহাদ। আর যারা লাফ দেয়, তাদের নাম হল ল্যাজোদ্ধা। সব চেয়ে বড় ব্যাপার হল হুগলীতে। বলাগড়ের কাছে গুপ্তিপাড়া বলে এক জায়গায় পুরোনো ভাঙা মসজিদের নিচে পাওয়া গেল এক হনুমানের ল্যাজ। হনুমানকে মেরেই ওই মসজিদ তৈরি হয়, জানার পর তৎক্ষণাৎ মসজিদ ভেঙে ফেলা হল। স্বয়ং উনিজি হাজির হয়ে গুপ্তিপাড়ার নাম বদলে করে দিলেন হুপ্তিপাড়া। সেখানে তৈরি হল এক বিরাট হুপমন্দির। পুজোর  নতুন নাম হল হুপাসনা। রাম্মিডিয়ায় দেখানো হল দলে দলে লোকে ল্যাজ লাগিয়ে হুপাসনা করছে। কেউ পড়ছে হুপ চালিসা। কেউ হুপঙ্কর মন্ত্র। পিছনে মন্ত্রপাঠ হচ্ছে, "জয় জগদীশ হরে /  কারো ল্যাজ স্থির থাকে কারো ল্যাজ নড়ে"।

    রাষ্ট্রনেতারাও পিছিয়ে রইলেননা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এক এলাকায় লাভ-জিহাদের উপদ্রব দেখা দিলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পাঠিয়ে দিলেন পূর্বতন স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপকে। ততদিনে অবশ্য তার নাম বদলে করে দেওয়া হয়েছে স্পেশাল প্রোটেকশন হুপ। তারা হেলিকপ্টার,  ড্রোন, ইউএফও ইত্যাদি চড়ে হুপ-হুপ ধ্বনি করে পরমানু বোমা উদ্ধারে নেমে পড়ল। রাম্মিডিয়ায় দেখা গেল, আকাশ থেকে নেমে আসছে গাদা-গাদা রোবট। প্রত্যেকের হাতে তাগা-তাবিজ। মুখে একটাই কথা। হুপ। সঞ্চালক খুব উত্তেজিত হয়ে বলতে লাগলেন, পশ্চিমবঙ্গের বুকে আজ কেবল শোনা যাচ্ছে হুপিং কাশির শব্দ। এতদিন যা উপদ্রব ছিল, আজ তার শেষ, আজ থেকে কেবল হুপদ্রব।

    সব মিলিয়ে দেশে হুপপ্লব দেখা দিল। উনিজি কি এতটা ভেবেই স্লোগান ঠিক করেছিলেন? জানার আর কোনো উপায় নেই। কারণ প্রশ্ন করলে তিনি এখন আর কোনো উত্তর দেন না। শুধু বলেন, হুপ। 






    চিত্রঃ যদুবাবু 
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০৭ মে ২০২৪ | ৪৪৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | 2402:3a80:198f:45d6:878:5634:1232:5476 | ০৭ মে ২০২৪ ০৮:০৩531471
  • কেউ দাড়ি ধরে ঝোলে, কেউ চটি চাটে।
  • আসুন ছড়া লিখি | 2601:5c0:c280:d900:b522:ab77:cc0a:aed5 | ০৭ মে ২০২৪ ০৮:০৫531472
  • আর দীপের তো সারাদিন স্প্যাম করে কাটে।
  • Kishore Ghosal | ০৭ মে ২০২৪ ১১:২৬531476
  • হুপ হুপ হুররে/ সবাই থাক চুপরে।  
    বেশ ভালো লাগল।
     
  • অরিন | ০৭ মে ২০২৪ ১৩:৫৬531482
  •  
    উনিজির মিটিং চলছে ....
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন