• হরিদাস পাল  গপ্পো

  • # মেট্রো গল্প

    Mahua Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ১৮ নভেম্বর ২০২০ | ১৫১ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ভ্রম


    মহুয়া দাশগুপ্ত


    পলাশ সেন একালের বেশ নাম করা লেখক। ছোটোগল্প লিখে বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। এদেশে তো বটেই বিদেশেও তাঁর লেখার খুব চাহিদা। পরিচালকরা তাঁর গল্প থেকে চিত্রনাট্য তৈরি করছেন। তাঁর টল, ডার্ক,হ্যান্ডসাম চেহারা আর সেন্স অফ হিউমারের জন্য তিনি লেডি কিলারও বটে!ফেসবুকের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাটেও আজকাল তাঁকে যখন তখন ঘিরে ধরে ভক্তবৃন্দ। তাই আজকাল তিনি গাড়িতে ছাড়া চলাফেরা করেন না। বিভিন্ন সাহিত্য সভায় আজকাল তাঁর ডাক পড়বেই। পলাশ বেশ উপভোগ করেন তাঁর এই ঝলমলে উপদ্রবগুলি। 


       মেয়েটির নাম আম্রপালি। এত শক্ত নাম বলে আদর করে সবাই ওকে আম্মো বলে। এই ইন্টারনেট যুগেও ওর বই পড়তে ভালো লাগে। প্রিয় লেখক অবশ্যই পলাশ সেন।ও যেদিন থেকে জেনেছে যে পলাশ সেন ওর ক্লাস মেট সোনালির পিসতুতো দাদা,সেদিন থেকে সোনালিকে ফুচকা খাওয়াচ্ছে। শুধু একবার দেখা করানোর জন্য। কাজটা অতো সোজা নয়। কারণ,পলাশ  কারোর সাথে মিট করে না।কিন্তু হঠাৎ  করেই সুযোগটা এলো। সোনালির ঠাম্মার নব্বই বছরের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসেছিল আম্মো। আর এসেছিলেন পলাশ সেন। সঙ্গে দুই ছেলে রোহিত আর রৌনক। ‘স্ত্রী নন্দিনীর সঙ্গে বেশ হেসে হেসেই কথা বলছে তো’—সোনালিকে ঠেলা দিয়ে বলল আম্মো। তারপর নিজের মনে বলল,‘কিন্তু লাস্ট দুটো উপন্যাসে তো বৌয়ের সাথে হিরোর সম্পর্ক ভালো ছিল না। আর অ্যাতো বড়ো বড়ো দুটো ছেলে?কোনো লেখাতেই তো লিড ক্যারেকটারের ছেলে নেই। ‘পাতা ঝরার মরশুম’ আর ‘মোহিনী’তে মেয়ের বাবার কষ্ট লেখা আছে। তাছাড়া ,গায়ের রঙটা এত কালো?সব হিরোরা তো ফর্সা  ফর্সা—’এত কিছু ভাবতে ভাবতে মাথা গুলিয়ে গেল আম্মোর। সোনালিকে ধাক্কা দিয়ে বলল,‘তোর দাদাটা খুব মিথ্যেবাদী। ’সোনালি যে কথাটা সোজা পলাশ সেনকে বলে দেবে তা কি আম্মো জানতো?আর বিখ্যাত লেখক পলাশ অনেক প্রশংসা পেয়েছেন জীবনে।‘মিথ্যেবাদী’কথাটা একেবারে টাটকা,নতুন!তাই মেয়েটির সঙ্গে দেখা না করে পারলেন না। ভয়ে ভয়ে সামনে এলো আম্মো। পলাশ সেন অল্প হেসে বললেন,‘কি পড়ো?’আম্মো বলার আগেই সোনালি  বলে উঠলো,‘ইঞ্জিনিয়ারিং,মেকানিক্যাল। ’আম্মো ঢোক গিলে অনেক সাহস করে বলল,‘আপনার লেখা গল্প,উপন্যাসও পড়ি। ’অল্প হেসে পলাশ বললেন,‘আর আমি মিথ্যেবাদী কেন?’আম্মো অনেক ভেবে বলল,‘আপনার লেখা পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছিল—’যা যা মনে হয়েছিল তা বলার পর লেখক পলাশ সেন জানতে পারলেন নিজের সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য। যেমন,তিনি অসম্ভব সুন্দর,তবে তাঁর বাঁ গালে একটা কাটা দাগ আছে,স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়,তবে উনি মাঝে মাঝে স্ত্রীর সঙ্গে পাহাড়ে বেড়াতে যান। তাঁর একটি মেয়ে আছে ,যার নাম মখমল। এছাড়াও,তিনি গত বছর হনলুলুতে শিকার করতে গিয়েছিলেন ইত্যাদি ,ইত্যাদি। কিছুক্ষণের নীরবতার পর পলাশ সেন বললেন,‘তোমার সব অনুমানই মোটামুটি ভুল, একটি ছাড়া। সেই একটি হল আমি মিথ্যাবাদী । ’আম্মোর সরল মুখের দিকে চেয়ে হেসে বললেন,‘আমরা যারা লিখি,তারা সামান্য ঘটনাকে অসামান্য করে প্রকাশ করি। বুঝলে?তাই টর্চের আলো চাঁদ হতে পারে অথবা হাওড়া হয়ে যায় হনলুলু। তুমি পাঠক। তাই তোমার কল্পনাও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কিন্তু আমার পরের লেখায় হিরো মারা যাচ্ছে।তাই আমারও একটা ফাঁড়া তো রয়েই যাচ্ছে। কী বলো?’আম্মো এক গাল হেসে অটোগ্রাফ নিয়ে চলে গেল। আর পলাশ সেন সেদিন রাত্রে এক অাশ্চর্য স্বপ্ন দেখলেন। 


      দেখলেন,লম্বা সাদা দাড়িওয়ালা,জোব্বা পরা এক বৃদ্ধ ঘরময় পায়চারি  করছেন আর কী যেন বলছেন!ঘুমের মধ্যেই পলাশ স্পষ্ট শুনতে পেলেন বৃদ্ধটি বলছেন,  ‘কবিরে খুঁজোনা তাঁহার জীবন চরিতে।'


    ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে মাথা নাড়ালেন লেখক পলাশ সেন।

  • বিভাগ : গপ্পো | ১৮ নভেম্বর ২০২০ | ১৫১ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
আরও পড়ুন
রাজা - Tapas Das
আরও পড়ুন
ভগীরথ - Vikram Pakrashi
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন