• বুলবুলভাজা  খবর  টাটকা খবর  বুলবুলভাজা

  • পৌষমেলা বা পার্বণ, যে নামে ডাকো

    গুরুচণ্ডা৯
    খবর | টাটকা খবর | ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ | ৮৬২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • বিশ্বভারতী পাঁচিল তুলেছে। প্রত্যক্ষে এক পাঁচিল দেখা যাচ্ছে, আরও অন্যান্য পাঁচিল অনুভবের। বিশ্বভারতী এবার পৌষমেলার আয়োজন করছে না। কারণ হিসেবে তারা করোনা দেখিয়েছে। এদিকে অতিমারীর আবহে সেই শান্তিনিকেতনেই হয়ে গেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহের কর্মকাণ্ড। আশ্রম সব দেখে। দেখছে। দেখছে যে, এই পরিস্থিতিতেও, কাঁধ চওড়া করে ফেলা যায়, দায়িত্বের কাঁধ। সে দায়িত্ব পাঁচিল ভাঙার। ৭ পৌষ থেকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ আয়োজিত পৌষমেলা হচ্ছে না বটে, কিন্তু বাংলা সাংস্কৃতিক মঞ্চ আয়োজন করেছে সমান্তরাল এক কর্মসূচির। পৌষমেলার নির্ঘণ্ট মেনে, অমিত শাহের করে যাওয়া সভাস্থলেই সে আয়োজন। এ আয়োজন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ আর বিজেপি, দু পক্ষের চোখে চোখ রাখবে। রাখছে।

    ওরা মরা ডালে ফুল ফোটাচ্ছে।



    ৭ পৌষ দিনটা আগে ছিল ব্রাহ্মদের, তারপর ক্রমে আঁতেল হয়ে প্রায় আম বাঙালির ঘরে যখন ঢুকে পড়বার উপক্রম, সে সময়েই চলে এল করোনা। আর অমিত শাহ। এই দুই আতঙ্ক তথা বিপত্তিকে আংশিক ভাবে পরাজিত করা গেল। সৌজন্যে- বাংলা সাংস্কৃতিক মঞ্চ।

    কথা হয়েই গিয়েছিল, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এ বছর পৌষমেলার আয়োজন করবে না। কারণ করোনা। দূরত্ববিধি মানতে হবে, জমায়েতে অসুখের আশঙ্কা বাড়বে, এমনই সব যুক্তিজাল ছিল। স্থানীয় শিল্পীরা কোন আতান্তরে পড়বেন বা না-পড়বেন, সে সব কর্তৃপক্ষের বিবেচ্য নয়, সে দেশ জোড়া লকডাউনের সময়েই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে সভা হল। অমিত শাহের। সেখানে কয়েক হাজার মানুষের জমায়েতও হল। আদিবাসী মানুষের সঙ্গে মাখামাখিও নাকি করে ফেললেন এক সময়ের গুজরাটের তড়িপার, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।



    যে মাঠে অমিত শাহের সভা হয়েছিল, সে মাঠটির জন্য বেশ কিছুদিন আগেই আবেদন করে রেখেছিল বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ। ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা মাঠ চেয়েছিল। বিকল্প এক উদ্যোগের জন্য।

    অমিত শাহের সভার পর প্রথম কাজের দিনে, ২১ ডিসেম্বর তাদের মাঠ ব্যবহারের লিখিত অনুমতি দেয় বীরভূম জেলা পরিষদ। হাতে সময় দু দিন। তারই মধ্যে ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে ২৩ থেকে ২৫ পৌষ পার্বণ অনুষ্ঠিত হবে ওই মাঠেই। যা কার্যত ছোটখাট এক পৌষ মেলাই বটে।



    মঞ্চের তরফ থেকে জানান হয়েছে, ৭৫-৮০টি স্টল তৈরি থাকবে মাঠে। যোগ দেবেন সারা বীরভূমের হস্তশিল্পীরা। সারা দিন ধরে চলবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তাতে যোগ দেবেন লোকশিল্পীরাও। বাউল-ফকিরি-কীর্তন গানের পাশে থাকবে রবীন্দ্রগীতিও।

    মঞ্চের পক্ষ থেকে তন্ময় জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে আশ্রমিকদের মধ্যে থেকেও বিপুল সাড়া পাওয়া গিয়েছে, তাঁরা যোগ দিতে চান এই পার্বণে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে রাজি হয়েছেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য সবুজকলি সেন। অনেক আশ্রমিকই এই উদ্যোগে দু হাত তুলে সাড়া দিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে মঞ্চের তরফ থেকে।



    অন্যান্য বছর পৌষমেলার নির্ধারিত মাঠ আকারে বড় হয়, সেখানে স্টল হয় প্রায় ৫০০-র মত। মেলার আয়োজন সেক্ষেত্রে লাভজনক হয়ে ওঠে, যেহেতু অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে মেলা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। এ বার কিন্তু তেমন হচ্ছে না। যাঁরা স্টল দিচ্ছেন, তাঁদের থেকে কোনও টাকা পয়সা দিতে হবে না। আয়োজনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা মূলত ক্রাউডফান্ডিংয়ের উপরেই এ ব্যাপারে নির্ভর করছেন। প্রায় চার লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে এই আয়োজনে। অতিমারীজনিত প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের জন্য স্টলগুলির মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব তো রাখা হচ্ছেই, একইসঙ্গে উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে স্যানিটাইজার ও মাস্কের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

    এবারের স্টলের সংখ্যা জায়গার জন্য যেমন কম, তেমনই ঝাড়াই-বাছাইও হচ্ছে। প্লাস্টিকের খেলনাজাতীয় দ্রব্যের কোনও স্টল থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। হস্তশিল্পী যাঁরা, যাঁরা অন্যান্য বছরগুলিতে পৌষমেলার অপেক্ষায় থাকেন, তাঁদের কিছু সংগতিসাধন এ পার্বণের অন্যতম উদ্দেশ্য।



    তবে সর্বাপেক্ষা বড় চমক সম্ভবত বাসুদেব দাস বাউল। অমিত শাহের সভায় গান গেয়েছিলেন তিনি দিন কয়েক আগে। তাঁর শাপমুক্তি ঘটবে। অমিত শাহদের কর্মসূচির সম্পূর্ণ বিপ্রতীপ এই পার্বণ, যেখানে হিন্দি-হিন্দু সংস্কৃতির আগ্রাসনের প্রতিস্পর্ধী বাংলার সংস্কৃতির উদযাপন হতে চলেছে, সেখানে গান গাইবেন বাসুদেব। থাকবে আদিবাসীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও।

    অন্য বছরগুলিতে পৌষমেলার গেট তৈরি হয় বোলপুর স্টেশন থেকেই। প্রতিস্পর্ধী কর্মসূচিতে তার ব্যত্যয় হচ্ছে না। স্টেশন থেকে শুরু করে পার্বণ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত মোট চারটি গেট তৈরি হচ্ছে। যে নামেই ডাকা হোক, ৭ পৌষ থেকে মানুষের সমাগমের পরিসরটি থেকে এ বছর বঞ্চিত না করার ধুলোমুঠির এই প্রচেষ্টার জন্য বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ ধন্যবাদার্হ থাকছেন নিঃসন্দেহে। তাঁদের প্রত্যাশা, সমমনস্করা, যে যেভাবে পারবেন, পাশে থাকবেন, সাংস্কৃতিক সংহতিতে থাকবেন।

  • বিভাগ : খবর | ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ | ৮৬২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • :|: | 174.255.130.19 | ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ ০৮:৫০101307
  • "তারই মধ্যে ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে ২৩ থেকে ২৫ পৌষ পার্বণ অনুষ্ঠিত হবে ওই মাঠেই।" 


    ২৩-শে পৌষ ​​​​​​​তো ​​​​​​​বহু ​​​​​​​দেরী। প্রায় মাঘ মেলার সময়। ​​​​​​​পৌষ ​​​​​​​মেলার সময় ​​​​​​​তো ​​​​​​​৭ই ​​​​​​​পৌষ! ​​​​​​​

  • :|: | 174.255.130.19 | ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ ০৮:৫৪101308
  • আচ্ছা এইবার -- বুঝেছি ২৩ থেকে ২৫ ডিসেম্বর উৎসব. পৌষটা পার্বনের সঙ্গে পড়তে হবে। তারিখের সঙ্গে না। 

  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.1.180 | ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১১:১৯101324
  • ছবি গুলো আসে নি। বা আমি অন্তত দেখতে পাচ্ছি না। 

  • Pinaki | 136.228.209.41 | ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১৫:৩৪101327
  • লোড হতে একটু সময় লাগছে। সেজন্য মনে হয়। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন