• বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি  বুলবুলভাজা

  • হিন্দির হাতে বাংলা বিপন্ন: বাঙালি কি নির্দোষ?

    প্রতীক
    আলোচনা | রাজনীতি | ২০ এপ্রিল ২০২১ | ১৬১৪ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • প্রত্যেকটা নির্বাচন কিছু ইস্যু নিয়ে প্রবল আলাপ আলোচনা বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি করে আর কিছু ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন সেইভাবেই একটা উত্তেজনার বিষয় আড়চোখে লক্ষ্য করে, মুখ ফিরিয়ে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই এবারের নির্বাচন এত কিছু নিয়ে এত বেশি উত্তাপ, কদর্যতা, হিংসার উদ্রেক করেছে যে এই বিষয়টা যদি অষ্টম দফা পর্যন্তও নির্বাচনী ইস্যু না হয়ে ওঠে, তাহলে হয়ত আপাতত ভালই হয়। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে ইস্যুটাকে আর পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

    বিষয় বাঙালির উপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া। ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স। আর সেখানেই কিনা সরকারি ফতোয়া জারি হয়েছে কাজকর্মে যতদূর সম্ভব হিন্দি ব্যবহার করতে হবে। উচ্চশিক্ষায় যুক্ত বাঙালিদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন। বাঙালিকে নিজ দেশে পরবাসী করে দেওয়ার চক্রান্ত; বাংলার ভাষা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পিত আক্রমণ --- এইসব অভিযোগ উঠেছে। সংস্থার গবেষকরা তাঁদের মত করে প্রতিবাদ করেছেন। সংস্থা বেগতিক দেখে নিজেদের আদেশের অন্যরকম ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।১ এদিকে আবার শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস থেকে রবীন্দ্রনাথের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, প্রতিবাদের মুখে ফেরত আনা হয়েছে। নির্বাচনের পরেই আবার রবীন্দ্রনাথ উধাও হবেন কিনা তা সময় বলবে। তাঁর প্রতিষ্ঠা করা বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে তো এখন নিশ্চিন্তে বলা চলে “সে মন্দিরে দেব নাই”। বিশ্বভারতীর চতুর্দিকে পাঁচিল তুলে বসুধাকে খণ্ড ক্ষুদ্র করেই উপাচার্য সন্তুষ্ট নন, তিনি নাকি বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়ে যাবেন।২

    এই ঘটনাগুলো দীর্ঘ মেয়াদে পশ্চিমবঙ্গের বা সারা পৃথিবীর বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে যতই ক্ষতিকর হোক, শতকরা নব্বই জন বাঙালির ভাবিত না হলেও চলত। আজকাল মহেন্দ্রলাল সরকার নামটা শুনলে কেউ কেউ আনন্দবাজার গোষ্ঠীর মালিকদের আত্মীয় বলে সন্দেহ করে, আর রবীন্দ্রনাথের পদবি বহুকাল হল তাঁর নামকে অতিক্রম করে গেছে। ফলে ঘরে একখানা ছবি ঝুলিয়ে দিলেই ল্যাঠা চুকে যায়। কিন্তু এসবের পাশাপাশি এমন কিছু ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে, যেগুলো উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান গবেষণা বা শিল্প সাহিত্যের সাথে দৈনন্দিন সম্পর্কহীন ছা পোষা মধ্যবিত্তেরও ঘুম কেড়ে নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ঘটনাগুলো সংখ্যায় এখনো বেশ কম, হয়ত সোশাল মিডিয়ার যুগ না হলে খুব বেশি লোক জানতেও পারত না। কিন্তু লক্ষণ হিসাবে ভাল নয়। কদিন আগেই ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রোহিত মজুমদার নামে এক বাঙালি যুবক অভিযোগ করলেন, বড়বাজার অঞ্চলে ব্যবসার কাজে এসে বেশ কিছু হিন্দিভাষী লোকের হাতে তিনি হেনস্থা হন এবং হিন্দি বোঝেন না বলে তাঁদের বাংলায় কথা বলতে অনুরোধ করায় তাঁকে বলা হয় বাংলা বলতে হলে বাংলাদেশে চলে যেতে হবে।৩ প্রায় একই সময়ে এক যুবক ফেসবুকেই ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করেন হুগলী জেলার হিন্দমোটরে এক হিন্দিভাষী নাকি তাঁকে বাড়ি ভাড়া দেননি আমিষাশী হওয়ার অপরাধে। এ পর্যন্ত প্রকাশ পাওয়া সবচেয়ে কুৎসিত অভিযোগ উঠেছে কোন্নগরে। হোলির দিন অবাঙালি যুবকরা জোর করে ঘরে ঢুকে বাঙালি মহিলাকে নাকি রঙ মাখিয়েছে। প্রতিবাদ করায় এবং হোলি বাঙালিদের উৎসব নয়, বাঙালিরা দোল খেলে বলায় নাকি উত্তর এসেছে নেমপ্লেটে লিখে রাখা উচিৎ যে বাঙালি। এবং ২ তারিখের পর মজা দেখানো হবে।৪

    কোন্নগরের ঘটনায় এফ আই আর দায়ের করা হয়েছে। হুমকির কথাটা সত্য হোক আর না হোক, সোশাল মিডিয়ায় কিন্তু সত্যিই এমন ভিডিও ঘুরছে, যেখানে হিন্দিভাষী কয়েকজন লোক আঙুল নেড়ে চোখ রাঙিয়ে বলছে ২ তারিখের পর বাঙালিদের দেখে নেওয়া হবে, কারণ “পশ্চিমবঙ্গে এবার আমাদের সরকার হচ্ছে।” এখানে আমরা কারা --- সে ভারী কঠিন প্রশ্ন। এখন অব্দি দেশে যেটুকু সাংবিধানিক নিয়মকানুন অবশিষ্ট আছে, তাতে সরকার কোন দলের বা জোটের হয়। বাঙালির সরকার বা অবাঙালির সরকার হয় বলে তো জানি না। তবে রোজ কত কি ঘটে যাহা তাহা। সব কি আর জানি? সত্যি কথাটা এই, যে অতীতে যে জায়গাটা হুগলী শিল্পাঞ্চল ছিল সেখানে বা কলকাতার বেশকিছু অঞ্চলে মধ্যবিত্ত বাঙালিরা নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় প্রায়শই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে শিগগির এমন একদিন আসবে যখন হিন্দিভাষীরা তাঁদের উপর ছড়ি ঘোরাবেন। বাঙালি বাংলাতেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে যাবে, সংস্কৃতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। এই আতঙ্কই চলতি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বহিরাগত তত্ত্বে উঁকি মেরেছিল। কিন্তু সম্ভবত হিন্দিভাষী ভোটারদের সংখ্যা ফেলে দেওয়ার মত নয় বলে ও তত্ত্ব নিয়ে বেশি কাটাছেঁড়া করা হল না।

    রাজনৈতিক দলগুলো উপর্যুক্ত ঘটনাবলী নিয়ে মাথা না ঘামালেও, বাংলা পক্ষের মত সংগঠন কিন্তু বীর বিক্রমে মাঠে নেমে পড়েছে। “গুটখাখোর” জাতীয় কিছু সগর্ব জাতিবিদ্বেষী শব্দাবলী তাদের হাতিয়ার। যেন বাঙালিরা কেউ গুটখার ধারে কাছে যায় না, অথবা গুটখা খেলেই যে কোন মানুষ আক্রমণাত্মক, বাঙালি বিদ্বেষী, ধর্ষণোদ্যত পুরুষে পরিণত হয়। শুধু তা-ই নয়, এদের ফেসবুক লাইভগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ঠিক যেভাবে হিন্দুত্ববাদীরা মুসলমানদের একগাদা সন্তান, তাই তাদের রাজনৈতিক দলগুলো তোষণ করে বলে বক্তৃতা দিয়ে থাকে; বাংলাপক্ষের নেতৃবৃন্দও সুযোগ পেলেই হিন্দিভাষীদের সন্তানের সংখ্যা বাঙালিদের চেয়ে বেশি, তাই তাদের রাজনৈতিক দলগুলো তোষণ করে --- এসব বলে থাকেন। বেশিক্ষণ সেসব বক্তৃতা শুনলে মনে হয় ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ নামক হিন্দি ছবির বাংলায় ডাব করা প্রিন্ট দেখছি, যার নাম ‘বাঙালি বিপন্ন’।

    বাঙালি যে বিপন্ন তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহের অবকাশ নেই। যা রটে তার কিছু তো বটে। তাছাড়া কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেবল বাংলায় হচ্ছে তা নয়, সারা ভারতে চলছে। কিন্তু কোন পক্ষের উগ্রতাকে শিরোধার্য না করে এই বিপন্নতার কারণ খুঁজতে গেলে বাঙালির পক্ষে একগাদা অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠে আসে।

    পৃথিবীতে এমন কোন ভাষা সংস্কৃতি নেই যাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব অন্য ভাষার লোকেরা নিয়েছে। কেনই বা নেবে? এমন ভাষাও পাওয়া যাবে না, যা বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্যবহার করেন অথচ অনেকেই ব্যবহার যে করেন তা স্বীকার করতে কুণ্ঠিত বোধ করেন। এই অনন্য গুণটি পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি গত দুই-তিন দশকে আয়ত্ত করেছে। শহর ও মফস্বলের সম্পন্ন বাঙালি এখন ছেলেমেয়েকে কেবল ইংরেজি মাধ্যমে পড়িয়ে সন্তুষ্ট নয়, দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে রাখে হিন্দি। বাংলা নৈব নৈব চ। দুনিয়া অনেক বদলে গেছে, ভাল করে ইংরেজি জানা না থাকলে চাকরি বাকরি পাওয়া যাবে না --- এ যুক্তি অনস্বীকার্য। কিন্তু হিন্দি লিখতে পড়তে শেখা বঙ্গসন্তানদের কী করে কোটিপতি হতে সাহায্য করবে তা বোঝা দুষ্কর। হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলোতে কর্মসংস্থানের অবস্থা পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় খারাপ বৈ ভাল নয়; দিল্লী, মুম্বইতে থেকে কাজকর্ম করতে হলে হিন্দি বলতে পারাই যথেষ্ট। সেটুকু আমাদের সোনার ছেলেমেয়েরা হিন্দি সিনেমার দৌলতে যথেষ্ট ভাল আয়ত্ত করে ফেলে। তবু ২০১৭ সালে যখন তৃণমূল সরকার ঘোষণা করল প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা পড়াতেই হবে, সম্ভ্রান্ত বাঙালি বাবা-মায়েদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। দার্জিলিঙের গোর্খা, নেপালি, ভুটিয়া, লেপচা বা দক্ষিণবঙ্গের আদিবাসীরা এর প্রতিবাদ করলে কারণ বোঝা যায়। হিন্দি বা ইংরেজির মত বাংলাও তাঁদের মাতৃভাষা নয়। তাঁদের কেন এই ভাষা শিখতেই হবে? কিন্তু কলকাতা ও তার আশপাশের বাঙালির যে উষ্মা প্রকাশ, তা হিন্দিভাষী হয়ে ওঠার দুর্মর আকাঙ্ক্ষা ছাড়া আর কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব কি? তা এই যখন ইচ্ছা, তখন আর “ওরা আমাদের টিকতে দেবে না” --- এই চিন্তা করা কেন? দোল কথাটা তো এমনিও ভুলেই গেছেন, হোয়াটস্যাপ করেন ‘হ্যাপি হোলি’। তা এবার থেকে না হয় হোলিই খেলবেন।

    সম্প্রতি চেন্নাইয়ের এক অনুষ্ঠানে ঘোষিকা হিন্দিতে কথা বলায় ভারত বিখ্যাত এ আর রহমান৫ মুচকি হেসে আপত্তি জানিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেছেন। ভিডিওটা দেখে মনে পড়ল, বছর দুয়েক আগে হংস মধ্যে বক যথা বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের এক বৈঠকে হাজির হয়েছিলাম। সেখানে তাঁরা আলোচনা করছিলেন হিন্দুত্ববাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে বাংলাকে কী করে বাঁচানো যায়। সকলেই একমত হলেন যে ওঁদের কিছু করার নেই। রাজনৈতিক কর্মীদের সরকারে এসে বাংলার অর্থনীতির হাল ফেরাতে হবে, তাহলেই সংস্কৃতি বাঁচবে। বাংলায় লিখে পুরস্কারপ্রাপ্ত এক সাহিত্যিক জোর দিয়ে বললেন, প্রয়োজন না থাকলে নিজের সন্তানকে তিনি বাংলা পড়াবেন না। আরেক বিপ্লবী সাহিত্যিকও তাঁকে সমর্থন করলেন। এই কারণেই তামিলনাড়ুর তামিলরা বিপন্ন নয়, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি বিপন্ন। মনে রাখা ভাল, রহমান মোটেই তামিলপক্ষের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নন। ভারতের বেশিরভাগ লোক বরং তাঁকে চিনেছে তিনি হিন্দি ছবিতে কাজ করেছেন বলেই। কিন্তু তিনি বোঝেন কোথায় সীমারেখা টানতে হয়। তার চেয়েও বড় কথা, নিজের ভাষা সংস্কৃতির প্রতি শিল্পী হিসাবে তাঁর যে দায়িত্ব তা তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন না।

    অনেককাল আগে থেকেই বাঙালি ভদ্রসমাজ ইংরেজি ভাল করে শিখলেই হবে, বাংলা এলেবেলে --- এই তত্ত্ব চালু করে বিরাট অংশের বাঙালির থেকে নিজেদের আলাদা করেছেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর বড় সাধ ছিল বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা হবে। সে প্রয়াসে বহুকাল আগেই জল ঢালা হয়ে গেছে, কারণ বাঙালি বিদ্বানরা নিজে শিখতে পারলেই যথেষ্ট হল মনে করেন। বিদ্বানের সংখ্যা বাড়িয়ে কী লাভ? এইভাবে বাংলা ক্রমশ কেবল শিল্প, সাহিত্যের ভাষায় পরিণত হয়েছে। এখন উল্টে তারই বিরুদ্ধে অভিযোগ “কোন কাজে লাগে না তো।” যেন যুগ বদলের সাথে সাথে কাজের ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার পরিবর্তন করা, নতুন পরিভাষা, নতুন শব্দ তৈরি করা অন্য ভাষার লোকেদের কাজ ছিল। সে যা-ই হোক, কথা হচ্ছে কাজে লাগে না বলে সাধারণ চাকুরিজীবী মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত যখন নিজের সংস্কৃতিকে বাতিলই করে দিয়েছেন তখন আর ভয় কী? ছেলেমেয়েকে বাংলা বই পড়ানো দূরে থাক, বাংলা টিভি চ্যানেল পর্যন্ত দেখতে বারণ করেছেন। তা কেন্দ্রীয় সরকার আর আপনার হিন্দিভাষী প্রতিবেশীরা যদি বাংলা বলাটুকুও বন্ধ করে দেন, সে তো ভালই, তাই না?
    আসলে এত দিনে মাথায় ঢুকেছে যে শক্তিশালী জাতিবিদ্বেষী যখন মারতে আসে তখন স্রেফ নামটা দেখেই মারে। “জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না” বললে তখন রেহাই পাওয়া যাবে না। তাই আপ্রাণ জাতি পরিচয় তুলে ধরে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা। তবে বাঙালির সে চেষ্টাতেও ফাঁকিবাজির ছাপ স্পষ্ট। আক্রমণের লক্ষ্য বড়বাজারের বিহারী ঠেলাওয়ালা থেকে কোটিপতি ভুজিয়াওয়ালা পর্যন্ত সকলেই। অথচ নিজের ভুলে যাওয়া ভাষা সংস্কৃতিকে নতুন করে জানার চেষ্টা নেই। ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে চলা হিন্দুরাষ্ট্র আগামী দিনে হয়ত আইন করে সমস্ত সরকারি কাজে হিন্দি ভাষা ছাড়া অন্য ভাষাগুলোকে ব্রাত্য করে দেবে। তখন নির্ঘাত বাঙালির প্রতিরোধ হবে বিহারী গোয়ালার থেকে দুধ না কেনা, উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা সবজিওয়ালাকে বয়কট করা ইত্যাদি। আমরা পশ্চিমবঙ্গের ভদ্রলোকেরা জানি, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে “কম্পিটিশনে” পিছিয়ে পড়তে হয়। বরাক উপত্যকা বা বাংলাদেশের বাঙালিদের মত বোকা হাঁদা নই যে ভাষার জন্যে প্রাণ দিতে যাব।

    বাংলা ছবির টাইটেল কার্ড, যা আজকাল বাংলা হরফের চেয়ে রোমানে বেশি লেখা হয়, অনতিবিলম্বেই দেবনাগরীতেও লেখা হবে। কারণ বাঙালি শিল্পীর মত সুবোধ প্রজাতি ভূভারতে নেই। ওঁরা ছটপুজোয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ছুটি দেয় কেন সে প্রশ্ন করেননি, এ রাজ্যে হঠাৎ হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের কী প্রয়োজন তাও জিজ্ঞেস করেননি। রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, রামমোহন, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্রদের পাশে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কোন সংস্কৃতির লক্ষণ, সে নিয়েও তাঁরা ভাবেননি। সুতরাং আশা করা যায় কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে কেবল ভক্তিমূলক আর পুরাণাশ্রয়ী হিন্দি ছবি দেখানো হলেও তাঁরা আপত্তি করবেন না। এমনিতেও আজকের চিত্রতারকাদের অনেকেই বাংলা বলেন শেক্সপিয়রের মত।

    পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং বিপ্লবী সাহিত্যিকরাও নিশ্চয়ই হিন্দিতে লেখা শিখে নেবেন। বাংলার আর মার্কেট কই? হিন্দি লেখার মার্কেট গোটা ভারত।


     

    তথ্যসূত্র
    ১। https://www.telegraphindia.com/west-bengal/calcutta/indian-association-for-the-cultivation-of-sciences-climbdown-on-hindi-after-protest/cid/1810549
    ২। https://thewire.in/education/visva-bharati-vice-chancellor-in-fresh-row-over-leaked-audio-clip
    ৩। https://www.facebook.com/100000786783881/posts/3841532379216284/?d=n
    ৪। https://www.facebook.com/BanglaPokkhoHooghly/videos/813827019481916
    ৫। https://www.instagram.com/p/CM3_bzEFc6R/?utm_source=ig_web_button_share_sheet

     

  • আরও পড়ুন
    বার্ড - Sambaran Sarkar
  • বিভাগ : আলোচনা | ২০ এপ্রিল ২০২১ | ১৬১৪ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • চণ্ডাল | 2409:4070:2c81:ae24:55d5:bcd0:5a4a:72c9 | ২১ এপ্রিল ২০২১ ১৭:০৮104981
  • আমরা বাঙালি। হিন্দুরাষ্ট্রের হিন্দুস্থানী হিন্দি আমাদের ভাষা নয়। আমাদের ভাষা যদি আমরা হারিয়ে ফেলি তবে তা হবে আমাদের একটা বড় বিপর্যয়। যদি তা রুখতে হয় তবে দরকার বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাংলা পক্ষ আসুক,এরকম আরো সংগঠন আসুক। দুর্গ গড়ে উঠুক আমাদের ঘরে ঘরে। রুখে দাও হিন্দুস্থানী সাম্রাজ্যবাদ - যে সাম্রাজ্যে বাঙালির মর্যাদা ক্রীতদাসের চেয়ে বেশি কিছু নয়।

  • Prabir Biswas | ২১ এপ্রিল ২০২১ ১৮:০১104988
  • অন্তত  রাজ্য সরকার তো তার অভ্যন্তরীণ সমস্ত অফিসিয়াল চিঠি চালাচালি নোটসিট এগুলো তো বাংলাতে করতে পারে। 2003-04 মহাকরণে এমন এক প্রচেষ্টা হয়েছিল তার পর আবার সেই ইংলিশ।

  • Anindita Roy Saha | ২১ এপ্রিল ২০২১ ১৯:০১104993
  • লেখাটাতে চাবুকের জোর। তবু কি মগজে ঢুকছে ?  কোনো সংগঠন বা সরকার নয় , মানসিকতার পরিবর্তন দরকার প্রতিটি  বাঙালীর যারা ''কান খুলে শুনে নেয়'' , আত্মসমীক্ষা  করার সময় নিজেকে ''ছান বিন'' করে , কোথাও থেকে 'চলে আসে' না বরং ''এসে যায়'' , জীবনে ''ঝেলে'' যায়। এমনি শব্দের ব্যবহারের তালিকা এক অসীম গুণোত্তর শ্রেণী। হিন্দি মুলুকে  থাকি তো , স্বজাতির এই হিন্দি-প্রেম দেখে বড়ো বেদনা বোধ হয়। 

  • santosh bondopadhyay | 223.29.193.35 | ২১ এপ্রিল ২০২১ ১৯:২৫104995
  • আরে দাদা ।...কেলানো ছাড়া কোনো রাস্তা নেই I যত গুটকা পার্টি আছে , মাথায় করে কলা আর যাবতীয় ফল নিয়ে ""চ্যাটের"" পুজো করতে গঙ্গায় যায় ... শালা  হাগতে মুততে পর্যন্ত জানেনা এখন এদের ওষুধ হচ্ছে রাম প্যাদানী !! তবে মেও ধরবে কে  ??এখানেতো আমরা গনেশ পুজো হনূমান চালিসা , রামনবমী এইসব গো বলয়ের পুজো আর্চাতে বেশ মজে আছি !!বাচ্চারা এখন হিন্দি ভাষায় কথা বলে , বাংলা বললে হাঁ করে তাকায়।.. মুম্বাই জগতের কত গুলো মদ্যপ দুশ্চরিত্র উলঙ্গ বিলাসী লোক আমাদের আইডল , এমতাবস্তায় মেও ধরার লোক পেতে অসুবিধে হবে!! নাহলে ওই শুওরের বাচ্চাদের একমাত্র দাওয়াই হলো কেলানো !!!!

  • Ranjan Roy | ২১ এপ্রিল ২০২১ ২০:৫২104999
  • ফের শুরু করেছেন? কে ক্যালাবে আপনি? 

  • শহুরে বাবু | 103.102.116.193 | ২২ এপ্রিল ২০২১ ০৬:৪৪105007
  • এই লেখাগুলোর এখন আদৌ কী প্রয়োজন জানি না । এসব নিয়ে অনেক কথা হয়েছে তো । বাঙালি  কি নির্দোষ - বলে একগাদা উদাহরণ - কাদের উদাহরণ? না শহরের বাবু বিবিদের । এই গ্রুপকে তো দুটো সেট এ পুরোপুরি রাখা যায় । এক, আবাল জনতা, হালকা মুসলিম বিদ্বেষ, পিজ্জাহাট এর কুপন স্পেশালিস্ট । দুই, বিশ্বমানব । পাশের রাজ্য থেকে আসা ছাত্র এই রাজ্যের লোকের ট্যাক্সের টাকায় চলা ইউনিভার্সিটি ভর্তি করলে সমস্যা নেই, কারণ তাদের ছেলেমেয়ে আম্রিকা যাবে পড়তে । কই এখানে মালদার সেই মেয়েটার কথা নেই তো যে হিন্দি জানে না বলে টাউনের শপিংমল থেকে বরখাস্ত হলো । বাংলা অক্ষরজ্ঞান থাকা যে লোকটা ব্যাংকে গিয়ে বাবুবিবিদের কাছে হাতজোড় করে হিন্দি/ইংরেজিতে লেখা উইথড্রয়াল স্লিপ ফিলাপ করার জন্য - তার কথা কই?


    বাংলাপক্ষ একটা বাস্তব সংগঠন । বায়বীয় ফেবু সংগঠন না । তাদের বিদ্বেষ ছড়ানো সাপোর্ট করতেই হবে এমনটা বলছি না । কিন্তু ভাষা তো ভৌগোলিক বা আরো ফান্ডামেন্টাল একটা মার্কার । সেটা দিয়ে এগ্রেসিভ জাত বলা হচ্ছে । আমি তো প্রচুর বড়লোক ডিগ্রিধারী নর্থ ইন্ডিয়ানকে চিনি যারা অল্পপরিচিত লোককেও কীভাবে বউকে বিছানায় নিজে ঢিট করে সেটার টিপস দেয় ।বাঙালি মুসলিম, পয়সাওয়ালা, এই সেটে কজনের অনেক বউ থাকে? কজনের দুটোর বেশি বাচ্চা? আমার দেখা 90% হিন্দিভাষী, পয়সা ও শিক্ষা নিরপেক্ষভাবে, পাশ দিয়ে মেয়ের বয়সী কেউও হাফপ্যান্ট পরে গেলে - রান্ডি কা বহত গর্মি হ্যায় । মেরা চলতা তো ইহাপে হি...... বলতে শুনেছি । 


    হিন্দু খতরে মে হাই - 75% হিন্দু কটা মুসলিম সংস্কার পালন করে?? আর শহরের বাঙালি কুল সাজার জন্য হিন্দির পা চাটে না? খতরা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে??


    ভাষা হিসেবে বাংলা উঠে গেলে আমার সমস্যা হবে না তেমন । ওই আমার মেয়েটা সুকুমার পড়তে পেলো না গো মার্কা কান্না জুড়বো বড়জোর । কিন্তু আমার বাবলের বাইরের বাঙালি? বাংলার ওপর  যাদের পেটের ভাত নির্ভর করছে? সেই বাঙালি মালদার মেয়ে? ওর কী হবে?

  • guru | 146.196.47.107 | ২২ এপ্রিল ২০২১ ২১:২৬105022
  • প্রতীকের বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত ও প্রাসঙ্গিক | কিন্তু সত্যি কথা বলতে গেলে আসলে বাংলাদেশের মানুষের বাংলা ভাষার ওপর যে মমতা ও অহংকার বোধ আছে সেটি এপার বাংলার মানুষের নেই | তারা নিজের ভাষার জন্য লড়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে কিন্তু পশ্চিম বঙ্গের বাঙালির গত একশো বছরে কোনো কৃতিত্ব নেই | এই জাতি আসলে নিজেদের বাঙালি বলে কোনো গর্ববোধ করেনা | অসম , নাগাল্যান্ড , পাঞ্জাব বা কাশ্মীরের মানুষ যেইভাবে নিজেদের ভাষা ,সভ্যতার জন্য হিন্দি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে সেটা এখানকার মানুষ পারলোনা তাই ইতিহাসের নিয়মেই তাদের টিকে থাকার কোনো অধিকার নেই |

    এখানে শেখ মুজিবের মতো কোনো নেতাও নেই | শেখ মুজিবের ভাষা আন্দোলনের এবং পরবর্তীকালীন ছয় দফা দাবি ও মুক্তিযদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিহারি অনুপ্রবেশ বন্ধ করা | এখানে কোনো রাজনৈতিক দলেরই এই রকম কিছু করার ক্ষমতা নেই বরঞ্চ পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব বিহার করার আরএসএস এর চক্রান্ত্যের পক্ষে সবকটি দল আছে | পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের এখন যেকরে হোক পশ্চিমবঙ্গে বিহারি অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে একজোট হয়ে কাজ করা |      

  • বাগানবাহক | ২৩ এপ্রিল ২০২১ ২১:৫১105067
  • রাখো তো মশাই।  


    হিন্দি আর বলিউড পুরো ছড়িয়ে গেছে। আর সেটার জন্যে (আমার মতে ১০০% দায়ী) বাংলার পপুলার কালচারের  কলকাতা কেন্দ্রিকতা। কলকাতাকে জোর করে ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে, বলাই বাহুল্য,  বাকি বাংলা রিজেক্ট করবে। করেওছে।

    পপুলার পশ্চিম বাংলার কালচারের একটা খুব বড় ব্যাপার (যদিও very much under wraps) হল The upper-caste-upper-class-kolkata-centric-ization of popular culture. 

    সমসাময়িক একটা মডার্ন বাংলা সিনেমা বলো, যেটা কলকাতা বা তার আশেপাশের শহরতলীর চরিত্রদের -দের না নিয়ে বানানো। বর্ধমান? নদীয়া? দার্জিলিং? আসানসোল / দুর্গাপুর? নৈব নৈব চ 

    দার্জিলিং এর লোকজন নিয়ে কিন্তু দারুন ভালো সিনেমা হয়েছে - বাংলায় নয়, হিন্দিতে - Barfi.

    আসানসোল বা তার আশেপাশের লোকজন নিয়ে দারুন ভালো সিনেমা হয়েছে - বাংলায় নয়, হিন্দিতে - Gangs of Wasseypur.

    দুর্গাপুর এর লোকজন নিয়ে জঘন্য বাজে সিনেমা হয়েছে - বাংলায় নয়, হিন্দিতে - Goonday.


    Net Net তুমি যদি একটা ছাড়া বাকি সবকটা সাব-কালচার কে পুরো undermine করো, subjugate করো, হেয় করো, টিটকিরি করো --- আবার তারপর আশা করো যে তারাই বাংলা বাংলা করে ধেই ধেই নাচবে। কেন নাচবে? বাংলা তো তাদেরকে reject করেই দিয়েছিলো।

  • Ramit Chatterjee | ২৫ এপ্রিল ২০২১ ০৯:৩৫105130
  • বাঙালি নিজে নিজের ভাষার, সংস্কৃতি র কোনো গুরুত্ব দেয়না, নিজের কাছে অসৎ তাই আজ এই অবস্থা। আন্দোলন ওপর থেকে সবসময় শুরু করতে হবে তার কোনো মানে নেই, গ্রাউন্ডলেভেল থেকে নিজে কাজ শুরু করুন। দিনভর বাংলায় কথা বলুন, এবং শুদ্ধ বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করুন। ঝেলা, জিন্দেগি, এসব বাদ দিন। পাড়ার দোকানে গিয়েও যদি বিহারী বা গুজরাটির দোকান হয়  বাংলায় কথা বলুন, শপিং মলেও তাই। বাাচা দের বাাঙলা বই পড়তে,   শুনতে  উৎসাহ  দিন। ফাংশনে বাংলা গান গান, সাা রে গাা মাা পা, বাংলা  টি ভি র বর্ষষবরণের  অনুুুষ্ঠানে কেন পর পর  হিন্দি গান চলে প্রশ্ন  তুলুন।

  • বাগানবাহক | ২৫ এপ্রিল ২০২১ ১৩:০১105150
  • আমার মনে হয় এই 'শুদ্ধ বাংলা' জিনিসটা একটা অবান্তর জিনিস - ভাষা জঙ্গম, নতুন নতুন শব্দ তার মধ্যে ঢুকবে, তাকে সমৃদ্ধ করবে, তাকে সময়ের সাথে আধুনিক করবে।   'শুদ্ধ বাংলা' জিনিসটা উচ্চবর্গ-উঁচুজাত-কলকাত্তাই-আঁতলাদের মৌরসীপাট্টারই রকমফের। ওপার  বাংলায় তো ভাষায় একগাদা নতুন শব্দ ঢুকছে ঢুকেছে - তাতে মন্দ নয়, ভালোই হয়েছে বোধয়।  


    আমার মামারা জ্যাঠারা ভাইয়েরা এখনো কথা বলেন স-দোষের সঙ্গে, 'জিন্দেগী' তো আমাদের সীমান্ত-অঞ্চলের প্রায় সবাই বলতো। আমার মা কোলকাতা-অনুরাগী ছিলেন, তিনি বলতেন না।  আমাদের কথ্য ভাষা ছিল সীমান্ত-বাংলা : কিছুটা আজকালকার সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষীর মতন।  কিন্তু বাংলায় গলদ ছিল না -  গড়গড় করে বাংলা বলতাম। লিখতাম।  


    যখন প্রথমবার কলকাতা এলাম - কী অপদস্থ, কী অপদস্থ !  " স্কুল ম্যাগাজিনে লিখবি?  হাহা, এই জায়গাটা একটু পড়ে শোনা , বেশ একটু খোরাক হবে" . আমি তখন নিতান্তই ভীরু কমপ্লেক্সে-ভোগা কিশোর কিংবা সদ্যযুবক। বছরতিনেকের মধ্যে  কলকাতা ছেড়ে পালিয়ে বেঁচেছিলাম।


    এই জায়গাটা একটু বেশিমাত্রায় ব্যক্তিগত হয়ে গেলো বোধয়, মাফ করবেন।  

  • r2h | 49.206.14.58 | ২৫ এপ্রিল ২০২১ ১৩:১৬105151
  • ব্যক্তিগত হতে পারে, তবে এটা খুবই সত্যি।

    ত্রিপুরায় জনজাতি পরিবারগুলি থেকে আসা ছেলে মেয়েদের কথার টান উচ্চারন নিয়ে হামেশা বাঙালীরা উত্যক্ত করে। এটা একটা বড় কারন, অনেক সময়ই অভিজাত জনজাতি পরিবারগুলি, তথা রাজপরিবারের আত্মীয়স্বজনরা ছেলেমেয়েদের অবাংলাভাষী রাজ্যে পড়তে পাঠিয়ে দেয়, এবং তারপর তারা হিন্দি ইংরেজিতে চোস্ত হয়ে ফেরে; বাংলা তো আগেই তাঁদের বিদ্বিষ্ট করেছে।

    আবার এইসব বাঙালী ছেলেমেয়েরাই তারপর কলকাতা গিয়ে কলকাতার লোকেদের কাছে তাদের পূর্ববঙ্গীয় টান, অশুদ্ধ উচ্চারন নিয়ে হ্যাটা খায়।

    কাল একটা ব্যাপার হলো। আমার মেয়ে অনাবাসীদের আয়োজিত একটা অনলাইন আবৃত্তি অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করছিল, সঞ্চালিকা ওর পরিচয় করাতে গিয়ে বললেন, ও কিন্তু আমাদের মত কলকাতার নয়, ওর মা বাবা ত্রিপুরা থেকে এসেছে, ওদের উচ্চারন হয়তো একটু অন্যরকম। এবার এতে আমি আহা দেখো কি ইনক্লুসিভ বলে আল্হাদে আটখানা হব, না ডিস্টিংক্ট ত্রিপুরা অরিজিন নিয়ে গর্বিত হব, না ব্যাপারটাকে উৎকট প্যাট্রনাইজিং হিসেবে নেবো, না একটা বাচ্চা যে কথা বলতেই শিখেছে দেশের বাইরে তার উচ্চারনে তার মা বাবার জন্মভূমির টান কতটা থাকতে পারে তার স্যাম্পল সার্ভে করবো - কিছু বুঝতে না পেরে মাথা চুলকোতে লাগলাম।

  • বাগানবাহক | ২৬ এপ্রিল ২০২১ ২০:৪০105206
  • ধন্যবাদ r2h, মনের কথাটাই বলেছেন। আমি হয়তো উৎকট প্যাট্রোনাইজিঙই ধরতাম। তবে কিছুটা গর্বিতও হতাম .


    আমার ছেলে একেবারেই খোকা এখন, ব্যাঙ্গালোরের স্কুলে দ্বিতীয় ভাষা বাংলা নিয়ে পড়ে - ব্যাঙ্গালোরে হাতে গোনা দুয়েকটি স্কুলে এই সুবিধেটা আছে ।  তৃতীয় ভাষা কন্নড়  - যে মাটিতে বড় হচ্ছে , সে মাটির ভাষাও প্রাথমিক কিছুটা জানা উচিত। ছেলের উচ্চারণ ন্যাচারালি কলকাতার বাংলা ভাষাভাষীদের মতন নয়, আর সেটা সম্ভব-ও নয়। 

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন