• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • মোদির সামনে মিডিয়া নতজানুঃ গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে তথ্যপূর্ণ একটি নিবন্ধ সরিয়ে নিল DNA

    প্রতীক সিনহা লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ০৯ মে ২০১৪ | ১৬৬৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ২০১৪র সাধারন নির্বাচন যে কথাটা সর্বাগ্রে প্রমাণ করল,  তা হল – ভারতীয় মিডিয়ার আর যাই থাক না কেন, মেরুদণ্ড নামক বস্তুটি নেই। নরেন্দ্র মোদির ফ্যাসিবাদি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অওয়াজ তোলার এদের না আছে সদিচ্ছা, না আছে সৎ সাহস। এদের মধ্যে কেউ কেউ তো আবার সক্রিয় ভাবে হাত ও মিলিয়েছেন মোদির সঙ্গে। মিডিয়া হাউস গুলো দিনের পর দিন সাংবাদিকতার নামে যা করে গেছে তা হল – মোদি বন্দনা – মোদির প্রোপাগ্যান্ডা। মোদির বেশ কয়েকটা  "ফিক্সড"  ইন্টারভিউ দেখলে ব্যাপারটা আরো স্পষ্ট হয়। সাজানো লাগে। এই সমস্ত "ফিক্সড" ইন্টারভিউগুলোতে মোদিকে স্নুপগেট বা সাজানো এনকাউন্টার নিয়ে একবারও জবাবদিহি করতে হয় না। থাকে না কোনো প্রতি-প্রশ্ন। তাঁর মুখ নিঃসৃত বাণীই প্রশ্ন কর্তার কাছে ধ্রুব সত্য।


    DNAতে প্রকাশিত গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে একটা নিবন্ধ যখন রাতারাতি ইন্টারনেট থেকে লোপাট হয়ে যায়, তখন মিডিয়ার এই মেরুদন্ডহীনতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার আর অবকাশ থাকে না। কেন উড়িয়ে দিতে হল নিবন্ধটা কে রাতারাতি? নিবন্ধকার শেহজাদ পুনাওয়ালা কংগ্রেসি হলেও নিবন্ধে করা প্রত্যেকটি দাবির সপক্ষে নথি ছিল, বক্তব্যের সাথে তথ্য ছিল। তা থাকা সত্ত্বেও DNAকে কেন সেটা উড়িয়ে দিতে হল? কেনই বা DNA কর্তৃপক্ষকে নতজানু হয়ে মোদিকে তুষ্ট করতে হবে?


    নিবন্ধটি প্রথমে এই URLএ প্রকাশিত ছিল http://www.dnaindia.com/analysis/standpoint-mamata-banerjee-calls-narendra-modi-butcher-of-gujarat-here-are-9-mythbusters-on-2002-post-godhra-riots-1983270। শেহাজাদ পুনাওয়ালার নিবন্ধটি এখানে প্রকাশ করা হল।

     




    যাঁরা হঠাৎ করে গুজরাত দাঙ্গার সত্যকে ভুলে মোদির জনসংযোগ বাহিনী সৃষ্ট কিছু মিথ্যা "মিথ"কে সত্যের আসনে বসিয়েছেন, তাঁদের স্মৃতি ও বিবেকের পুনর্জাগরনের জন্যঃ


    মিথ ১। গোধরা পরবর্তী হিংসাকে নরেন্দ্র মোদির সরকার আয়ত্ত্বে নিয়ে এসেছিলো ২-৩ দিনের মধ্যেই।


    সত্যিঃ যে হিংসালীলাকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে আয়ত্ত্বে নিয়ে আসার কথা বলা হচ্ছে, তা মাত্রাভেদে অন্তত মাস দুয়েকের বেশি সময় ধরে চলে। সময় যত গড়িয়েছে, বেড়েছে মৃত্যু, বেড়েছে ক্ষয়ক্ষতি।


    সূত্রঃ বিচারপতি J.S. Verma র নেতৃত্বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সর্ব শেষ অর্ডার- http://nhrc.nic.in/guj_finalorder.htm


    মিথ ২। গুজরাত পুলিশ দল নির্বিশেষে দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।


    সত্যিঃ "পুলিশের সামনেই মুসলমানেদের বাড়ি ঘর পুড়ছিলো। আমরা কয়েকজন মহিলা পুলিশের কাছে সাহায্যের চাইতে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম কিন্তু পুলিশ আমাদের বল - ভেতরে যা, আজ মুসলমানেদের শেষ সময় উপস্থিত।"


    সূত্রঃ PW219 নং নথি। এই নথি নরোদা পাটিয়া মামলায় ব্যবহৃত হয়। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন মায়াবেন কোদনানি, যিনি কিনা তৎকালীন মোদি সরকারের ক্যাবিনেটের সদস্যা ছিলেন। এই কোদনানিই হত্যাকামী জনতার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।  http://www.cjponline.org/gujaratTrials/narodapatiya/NP%20Full%20Judgmnt/Naroda%20Patiya%20-%20Common%20Judgment.pdf


    মিথ ৩।  গোধরা পরবর্তী হিংসা স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা মাত্র, এতে গুজরাত সরকারের কোনো রকম ষড়যন্ত্র নেই।


    সত্যিঃ দাঙ্গার প্রথম দিনেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা অহমেদাবাদের পুলিশ কন্ট্রোল রুমের দখল নিয়ে নেন। তাঁদের উপরে  স্পষ্ট নির্দেশ ছিল – বিপদগ্রস্ত মুসলমানদের বাঁচানো চলবে না।


    ভোটার লিস্ট দেখে মুসলমানদের চিহ্নিত করে টার্গেট করা হয়।


    সূত্রঃ Report of Human Rights Watch, April 2002, Vol. 14, No. 3(C). http://www.hrw.org/reports/2002/india/India0402-03.htm#P446_77680




    মিথ ৪।  মোদির নিরপেক্ষতার কারনেই মায়াবেন কোদনানি দোষী সাব্যস্ত হন।


    সত্যিঃ “বেস্ট  বেকারি  এবং  নিষ্পাপ  শিশু ও অসহায়  মহিলারা  যখন  পুড়ছিল,  তখন  আধুনিক  নিরোর  দল  অন্য  দিকে  তাকিয়ে  বসেছিল  -  সম্ভবত  দোষিদের  কীভাবে  আড়াল  এবং  রক্ষা  করা  যায়,  সে  কথাই ভাবছিল।”


    “ন্যায়  ও  বিচার   কিছু  “খেলুড়ে   বালকদের”  হাতে  পড়ে  ছেলেখেলায়  পর্যবসিত  হয়েছিলো।  রক্ষক  যখন ভক্ষকে  পরিণত  হয়,  তখন  ন্যায়,  অনুশাসন,  সত্য  বা  বিচার  -  এ  সব  কোনো কিছুরই  আর  কোনো  মানে থাকে  না।  গণ  অনুশাসন  ও  জনহিত  যেন  পরিণত  হয়েছিলো  শহীদ ও শহীদ  বেদিতে।”


    “উপরোক্ত  ঘটনাবলী  থেকে  মনে  হয়  যে  অভিযুক্ত  বিচার  প্রক্রিয়াকে  অযৌক্তিক  ভাবে   ব্যাহত  করতে  চাইছে। এরকমও  মনে  হচ্ছে  যে  অতিরিক্ত  সেশন  জাজ  ও APP (শ্রীযুক্ত  রঘুবীর  পান্ড্যা,  এই  কেসের  সরকারি  আইনজীবি, যিনি  কিনা  তৎকালিন  বিজেপির  সদস্য  ছিলেন  ও  ভদোদরার  ২০ নং  ওয়ার্ডে  বিজেপির  টিকিটে  ১৯৯৬  সালে লড়েওছেন !)  নিজেদের  কর্তব্য  পালনে  কোনোরকম  তৎপরতা  দেখাননি।”


    সূত্রঃ  Supreme Court in Zahira Habibulla H Sheikh And Anr vs State Of Gujarat And Ors on 12 April, 2004 CASE NO.: Appeal (crl.) 446-449 of 2004.

    http://indiankanoon.org/doc/105430/




    মিথ ৫।  মোদি গোধরা পরবর্তী হত্যালীলাকে কখনোই নৈতিক সমর্থন দেননি।


    সত্যিঃ  গোধরা পরবর্তি ঘটনায় নিউটনের তৃতীয় সূত্র আওড়ানোর কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও জিটিভির ফুটেজ দেখানো হলে মোদির কাছ থেকে কোনো প্রত্যুত্তর পাওয়া যায়নি। (Annexure 4A)


    সূত্রঃ Editors Guild Fact Finding Mission Report dated 2002.

    http://www.sabrang.com/gujarat/statement/report.htm#Meeting%20with%20Narendra%20Modi




    মিথ ৬। মোদির একমাত্র লক্ষ্য হল উন্নয়ন। ২০০২ এর দাঙ্গা পরবর্তী সময়তেও ওঁনার ভাষণ কখনো সাম্প্রদায়িকতার বিষ মাখানো ছিলো না।


    সত্যিঃ মোদির নথিভুক্ত ভাষণ “মাসের পর মাস বিরোধিরা আপার পদত্যাগ দাবি করতে থাকে। যখন সত্যিই পদত্যাগ করলাম, তখন ওরা বুঝে পেল না কি করবে। দিল্লি ছুটল ম্যাডামের কাছে। ওরা বুঝতে পেরেছিল যে নির্বাচন কমিশনার লিংডোই ওদের একমাত্র ত্রাতা। কদিন আগে কিছু সাংবাদিক আমায় জিজ্ঞেস করলেন "লিংডো কি ইতালি থেকে এসেছেন?" আমি বললাম, আমার কাছে তো ওনার ঠিকুজি কোষ্ঠি নেই, রাজীব গান্ধীকে জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে। তখন সেই সাংবাদিকেরা জিজ্ঞেস করলো "ওদের মোলাকাত কি কোনো গির্জায় হয়?" বললাম, হতে পারে!


    লিংডো আহমেদাবাদ আর ভদোদরায় এসে আধিকারিকদের সাথে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। গুজরাতিরা কখনো ও ভাষায় কথা বলবে না, আমাদের শিক্ষা দীক্ষা তেমন নয়। তারপর লিংডো বললেন, নির্বাচন হবে না। আমি ওঁকে জিজ্ঞেস করতে চাইঃ এ সিদ্ধান্ত কি উনি সংখ্যালঘুদের সাথে বৈঠক করে নিয়েছেন? সংখালঘুরাই কি ভারতের একমাত্র নাগরিক? সংখ্যাগুরুরা কি কেউ নয়? সংবিধান কি শুধু সংখ্যালঘুদের জন্য? উনি কি একবারও গোধরায় নিহতদের পরিবারের লোকজনদের সাথে দেখা করেছেন? কেন করেন নি? তাঁদের একবারও জিজ্ঞেস করেছেন, পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূল কিনা? কেন? জেমস মাইকেল লিংডো (মাইকেল কথাটির ওপর জোর দিয়ে), গুজরাতের জনতা তোমাকে এ প্রশ্নগুলো করছে।”


    সূত্রঃ http://www.outlookindia.com/article.aspx?217399




    মিথ ৭।   নরেন্দ্র মোদি মার্কিন ভিসার জন্য কখনো আবেদন করেননি।


    সত্যিঃ “The Chief Minister of Gujarat state, Mr. Narendra Modi, applied for a diplomatic visa to visit the United States. On March 18, 2005, the United States Department of State denied Mr. Modi this visa under section 214 (b) of the Immigration and Nationality Act because he was not coming for a purpose that qualified for a diplomatic visa. Modi’s existing tourist/business visa was also revoked under section 212 (a) (2) (g) of the Immigration and Nationality Act. Section 212 (a) (2) (g) makes any foreign government official who “was responsible for or directly carried out, at any time, particularly severe violations of religious freedom” ineligible for a visa to the United States. The Ministry of External Affairs requested that the Department of State review the decision to revoke his tourist/business visa. Upon review, the State Department re-affirmed the original decision.” This decision applies to Narendra Modi only. It is based on the fact that, as head of the State government in Gujarat between February 2002 and May 2002, he was responsible for the performance of state institutions at that time. The State Department’s detailed views on this matter are included in its annual Country Reports on Human Rights Practices and the International Religious Freedom Report. Both reports document the violence in Gujarat from February 2002 to May 2002 and cite the Indian National Human Rights Commission report, which states there was “a comprehensive failure on the part of the state government to control the persistent violation of rights of life, liberty, equality, and dignity of the people of the state.”


    সূত্রঃ ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড মালফোর্ডের বয়ান, ২১ শে মার্চ ২০০৫। http://2001-2009.state.gov/p/sca/rls/rm/2005/43701.htm


    মিথ ৮। বাজপায়ী মোদিকে কখনো  "রাজধর্ম" পালন করার উপদেশ দেননি, কখনো মোদিকে ভর্ৎসনা করেননি।


    সত্যিঃ সে সময়ে রাজ্য সরকার যে নিজের কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছিল, সেই অভিযোগের উত্তরে বাজপায়ী বলেন, তিনি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন। তিনি বলেন "সরকারি কর্মচারি ও রাজনৈতিক নেতাদের নিজের কাজ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা উচিৎ"। আহমেদাবাদের শাহ আলম ক্যাম্পে বাজপায়ী বলেন, "গোধরার ঘটনা নিন্দনীয়,  কিন্তু তারপরে যা ঘটল,  তা এক কথায় উন্মত্ততা।" এক আবেগ বিহ্বল ভাষণে তিনি বলেন, ''উন্মত্ততার জবাব উন্মত্ততা হতে পারে না। সকলের জীবন, সম্পত্তি ও সম্মন রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সরকারেরই..... এখানে ভেদাভেদের কোনো স্থান নেই"।


    সূত্রঃ  বিবিসির রিপোর্ট, ৪ই এপ্রিল,  ২০০১।  http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/1910008.stm




    মিথ ৯।  স্মৃতি ইরানির মতন মোদির সমালোচকেরা আজ যে মোদি ভজনা করছেন, এর পেছনে সুযোগসন্ধানি মনোবৃত্তি নেই।


    সত্যিঃ দিল্লির মুসলিম অধ্যুষিত চাঁদনিচক থেকে সংসদিয় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরে ইরানি কি বলেছেন তা একবার দেখে নেওয়া যাক।

    "গুজরাত নিয়ে কথা হলেই লোকে দাঙ্গার কথা বলে গুজরাতিদের কোনঠাসা করে। তাই অটলজী ও বিজেপির প্রতি আমার সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমি এই পদক্ষেপ নিতে দ্বিধান্বিত নই (মোদির অপসারণের দাবিতে অনশন)"।


    সূত্রঃ  টাইমস অফ ইন্ডিয়া,  ১২ই ডিসেম্বর, ২০০৪।


    http://web.archive.org/web/20140430084943/http://timesofindia.indiatimes.com/india/Tulsi-to-go-on-fast-unto-death/articleshow/956389.cms


    উপরোক্ত তথ্যসূত্র গুলি একত্রিত করতে সময় লেগেছে মাত্র এক ঘণ্টা। ভাবলে অবাক লাগে – যে সকল দুঁদে সাংবাদিক সেদিনের দাঙ্গা নিজেদের চোখে দেখেছেন, তাঁরা কেউ মোদিকে তাঁর আজকের মিথ্যাগুলি নিয়ে চেপে ধরলেন না।  হয়ত বা তাঁরা ও স্মৃতি ইরানির মতই প্রতি রাতে নিজেদের বলেন  "হে রাম".....




    http://www.truthofgujarat.com/indian-media-continues-prostrate-modi-dna-deletes-factual-anti-modi-article-gujarat-riots/   থেকে কৌশিক ঘোষ কর্তৃক অনূদিত ।

     

  • বিভাগ : আলোচনা | ০৯ মে ২০১৪ | ১৬৬৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কমা | 125.187.53.113 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ০৮:৩৩87831
  • ভাবাবেগে আঘাত লাগলে দাঙ্গা হতে পারে বলে লোকের মুখ বন্ধ করার অত্তিতুদে কে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি।

    SC দা ঠিক বলেছেন। আমার ভাবাবেগে আঘাত লাগলে আমি মুখ বন্ধ করে বসে থাকবো কেন, আমি কিছু বলবো তো!
  • SC | 34.3.22.185 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ০৮:৪৭87832
  • বলুন না। কিন্তু আমার মুখ বন্ধ করবেন কেন, আগুন লাগতে পারে বলে।
    হ্ণু, বিজেপি কে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, বেশ করেছেন। ওরা গো হত্যা বন্ধের পিছনে সমর্থন আছে কিনা সেই বুঝে আইন আনুক। বেশ করবে আনলে। আনুক, আমরাও আন্দোলন করব, বলব ওরা ভারতের প্রুরালিস্ম এর বিরোধী। যে জিতবে, তার কথা থাকবে। আমার কোনো আপত্তি নেই এতে।

    আর বিজেপি যদি আইন না আনে, তাহলে আমরা কিন্তু পাঁচিলে দাঁড়িয়ে হাসব। :)
    তবে কোনো ধর্মের পক্ষে আইন আনলে সেটা মনেহয় কোর্ট unconstitutional বলবে, সংবিধানের fundamental প্রিন্সিপালস এর বিরুধ্যে যায় বলে। যাইহোক, আইন আসুক, তখন দেখা যাবে।
  • কমা | 125.187.53.113 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ০৮:৫১87833
  • ঠিক কথা আইন আসুক দেখা যাবে যে জিতবে তার কথা থাকবে। আর আপনার মুখ তো বন্ধ করতে যাইনি খিল্লি করা নিয়ে আমার আপত্তির কথা জানিয়েছি।
  • pinaki | 93.180.243.109 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ০৯:০৭87870
  • অক্ষর কথাটাই ভাবছিলাম। এই ভাবাবেগবাবুদের একটা বড় অংশই (যাঁরা কিনা শাইনিং ভাবাবেগবাবু) আবার যেকোনো উচ্ছেদের সময় মানুষের ভিটে মাটি সংক্রান্ত ভাবাবেগকে 'মেজরিটি' র 'উন্নয়ন'এর স্বার্থে ইগনোর করার জন্য দাঁত নখ বের করবেন। সেই সময় আবার ভাবাবেগ খুব খারাপ জিনিস। এক্কেবারে প্র্যাগম্যাটিক নয়কো।
  • Abhyu | 118.85.90.90 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ১০:২৩87872
  • আচ্ছা রঞ্জনদা, সম্প্রেষণ মানে কি?
  • কল্লোল | 125.241.43.145 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ১০:২৩87834
  • এটা বেশ মজার হচ্ছে। তবে আমারও মনে হয় বিজেপি চরটের কোনটাই করতে পারবে না।
    ১) অভিন্ন দেওয়ানী আইন
    ২) রাম মন্দির
    ৩) গো হত্যা বন্ধ
    ৪) ৩৭০ ধারা অবলোপ

    গুজরাটে তো গোমাংস বিক্কিরি হয়। এটা তো রাজ্য সরকার আইন করে করতে পারে।
    উমা ভারতী করেছিলেন, কিন্তু মধ্যপ্রদেশের একটা এলাকায় - অমরকন্টকে।
    http://www.geocities.ws/prakashjm45/maheshwar.html
    হিম্মত থাকলে সারা মধ্যপ্রদেশে/গুজরাতে/রাজস্থানে/কর্ণাটকে করে দেখাতো।
  • a x | 86.31.217.192 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ১০:৪৭87873
  • অমিতাভর কথাগুলো একদম আমি যা বলতে চাই।
  • Ranjan Roy | 24.96.86.170 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ১২:১২87835
  • এতক্ষণে আলোচনাটা কোন একটা জায়গায় এসেছে। আমার ভাবনাগুলো একটু গুছিয়ে নিই।
    --হ্যাঁ, আমি বলার স্বাধীনতা, আমার আপত্তি প্রকাশের স্বাধীনত( এমনকি, অন্যের সাজ-পোশাক খাওয়া দাওয়া নিয়ে আমার অপছন্দ জাহির করা ইনক্লুডেড) এসবের পক্ষে। কিন্তু তাবলে সিকির বা কারোর( সিকি এখানে প্লেসহোল্ডার) বাপ-মা তুলে গাল দেওয়ার বিরুদ্ধে। মনে হয় sc এখানে আক্ষরিক অর্থে না বলে রেটোরিক্যালি বলেছেন।ঃ))))
    --- কিন্তু একই সঙ্গে অন্যকে ব্যক্তিগত স্পেস দেওয়ার পক্ষে। অর্থাৎ কেউ যদি নিজের ঘরে বসে গরু-শুয়োর-সাপ-ব্যাং খায়, তাহলে তার বাড়িতে ঢুকে জোর করে তার খাবার ফেলে দেব না। তাকে সামাজিক ভাবে তিরস্কার বা দন্ডিত করার কথা ভাবব না।
    --- তাকে বলব -যদি মেজরিটির আপত্তি থাকে পাব্লিক প্লেসে না করতে। যেমন বাড়ি ভাড়া নিতে গেলে কোথাও কোথাও শুনতে হয়-- মাছ্মাংস খাওয়া চলবে না। বুঝুন ঠ্যালা!
    আমি তো গরু-শুয়োর কাঁকড়া সবই খাই। আমি কোথায় যাব? আবার ধনেপাতার গন্ধ সহ্য হয় না বলে আমার খাবারে ওটা না দিতে বলি। বাড়ির সবার ধনেপাতা খাওয়া চলবে না---বলি না।
    --- আজ পাবলিক প্লেসে সিগ্রেট খাওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। ঘরে বসে খাওয়া নয়। মদ খাওয়াও তাই। বাঙালী লিবেরালরা ধূমপান নিয়ে এ পাতাতেই পোচ্চুর রাগ দেখিয়েছেন। কিন্তু মেনে নিয়েছেন।
    --- আজ যদি মোদিজী আইন করে গোহত্যা বা গোমাংস ভক্ষণ ব্যান করেন, মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমি এর বিরুদ্ধে আন্দোলন হলে তাতে সামিল হব!
    --১)BTW, --বাবুর শুয়োরের মাংস নিয়ে কী বক্তব্য? মোদীজি তো জাপান-আম্রিকা সব যাচ্ছেন। কিন্তু ওবামারা এদেশে আসলে কী খাওয়াবেন?
    ২) সবাই নির্দিষ্ট সার্কেলে সেই অনুযায়ী ব্যবহার করে থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে যেসব পানু-জোক শেয়ার করি সেগুলো কি আমার মেয়েদের সঙ্গে বা বাপ-মার সঙ্গে শেয়ার করব?
    কাজেই যেমন আত্মীয়স্বজনের মত বড়গ্রুপে বলা যায় না বলে আমার বন্ধুদের মত ছোট গ্রুপে বলা উচিত নয়-- এটা একটা অন্যায় আবদার। তেমনি পাড়ায় বা গলির মোড়ে বা ট্রামেবাসে মহায়ণ চলবে না বলে সেটা বর্জন করতে হবে --তেমনি ফালতু আবদার।
    ৩) মারামারির আলোচনা বা থ্রেট , ইয়ার্কি করেও, বন্ধ হোক। টিএমসির ক্যাল আজ "চাড্ডি"রা খা্ছে, হাটুরে বা বুদ্ধিজীবি ক্যাল, এ নিয়ে উল্লসিত হবার কারণ দেখিনা। ক'দিন আগে কারা খাচ্ছিল? আজ দিদি ডেকেছেন বলে কি ব্যালান্স হারাতে হবে?
    আলোচনা চলুক! শুধু ভোটে কে বা কারা আজ জিতেছেন সে দিয়ে সত্যাসত্য-উচিত-অনুচিত নির্ণয় হবে না।
    এমন আজ আরো অনেকেই আগে দেখেছেন। এই আজ আবার কাল হবে না এমন কোন গ্যারান্টি নেই।
    " রক্তমাখা অস্ত্র হাতে যত রক্ত আঁখি,
    শিশুপাঠ্য কাহিনীতে থাকে মুখ ঢাকি।"
  • pinaki | 148.227.189.8 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ১২:২২87836
  • না, রামসীতা নিয়ে গুরুর টইতে খিল্লির পরিপ্রেক্ষিতে এরকম খিল্লি না করার অনুরোধ করা যেতে পারে, কিন্তু দাবী করা যায় না। কারণ এক্ষেত্রে এই খিল্লি থেকে আপনি নিজে চাইলেই খুব সহজে নিজেকে বিযুক্ত রাখতে পারেন। কেউ আপনাকে সেই খিল্লি পড়তে বাধ্য করছে না। বা সেই খিল্লি থেকে মজা নিতে বাধ্য করছে না। যেখানে আপনি নিজে চাইলেই আনএফেক্টেড থাকতে পারেন, সেখানে অন্যকে সেই আচরণ বন্ধ করার দাবী আপনি করতে পারেন না। কিন্তু আপনার বাড়ীর পাশে কেউ জোরে মাইক বাজিয়ে রামসীতার নামে খিল্লি করলে আপনি সেটা বন্ধ করার দাবী জানাতে পারেন। কারণ সেটা আপনাকে শুনতে বাধ্য করা হচ্ছে। সেই শোনাকে এভয়েড করতে হলে আপনাকে আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে পরিবর্তন করতে হবে (মানে সব জানলা দরজা বন্ধ করা, বা নিজের বাড়ী ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া, ইত্যাদি)। সেক্ষেত্রে সেটা আপনার সুস্থভাবে বাঁচার অধিকারে হস্তক্ষেপ। গুরুর খিল্লিটা তা নয়। এই দুটোর মধ্যে অনেকখানি তফাৎ আছে। সেটা একটু বোঝার চেষ্টা করুন। আর ধর্মীয়, রাজনৈতিক, জাতিগত - সমস্ত ভাবাবেগেই একটু নিয়ন্ত্রণ থাকা ভালো। বিশেষতঃ যখন সেটা সংখ্যাগুরুর। সংখ্যাগুরুর ভাবাবেগ আর মার্জিনাল বা অপ্রেসড এর ভাবাবেগের মধ্যেও একটা তফাৎ করা উচিৎ। আপনার বা আমার সামনে কেউ কারুর ভাবাবেগ নিয়ে খিল্লি করলে সে যদি ক্ষেপে উঠে খিল্লিকারীকে মারতে যায়, তাহলে আমাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিৎ যে মারতে গেল তাকে বোঝানো, যদি সে মার্জিনাল বা অপ্রেসড কমিউনিটির লোক না হয়। খিল্লীকারীকে বোঝানোটা তার পরে আসবে। আপনারা ঠিক উল্টোটা করছেন। আর তাতে দাঙ্গাবাজরা তোল্লাই পাচ্ছে। প্রায়োরিটিটা চেঞ্জ করুন। খিল্লিকারীদের প্রাথমিক মোটিভেশনটা ভাবাবেগবাবুদের অসহিষ্ণুতা বা রাগ থেকেই আসে। কম রেগে গিয়ে খিল্লিকে সহজভাবে নিন। দেখবেন দুদিন পরে খিল্লীকারীও খিল্লি করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। দুঃখজনক হল, এগুলো লোকে ছোটোবেলাতেই শেখে, স্কুলে পড়তে। কিন্তু পরে ভাবাবেগবাবুদের উস্কানিতে এই বোধগুলো লোকের কমতে থাকে।
  • Ranjan Roy | 24.96.86.170 (*) | ০৭ জুন ২০১৪ ১২:৩৮87837
  • আমরা বাম লিবেরালরা কি সত্যিই বহুত্ববাদে বিশ্বাস করি?
    নাকি আমাদের লাল-রং গেরুয়ার অপর পিঠ?
    নইলে মানতে হবে আমরাও থাকব, গেরুয়াও একটি মতবাদ বা বিচারধারা হিসেবে থাকবে। এ না হলে কিসের বহুত্ব? পাকিস্তান-নেপাল-বাংলাদেশ- শ্রীলংকা পাশাপাশি থাকবে (আড়ি-ভাব সব নিয়েই) আর বিশাল ভারতে নানারকম রং থাকবে না, তা হয় নাকি?
    -- কে কবে চাড্ডিকে কনভিন্স করে বদলাতে পেরেছে! কাজেই ওদের সঙ্গে আলোচনা বৃথা!
    না বস্‌! সে তো এম, এম -এল কাউকেও কনভিন্স করা যায় না! আলোচনা কনভিন্স করার জন্যে নয়, একে অপরকে ভাল করে বোঝার জন্যে।
    যেমন হিন্দু-মুসলিম ইনটেন্সিভ ডায়লগ চাই। কেন? অবশ্যই হিন্দুকে মুসলিম, বা মুসলিমকে হিন্দু করার জন্যে নয়-- একে অপরকে ভালো করে বুঝতে।
    যদি বলেন বুঝের বালের হবেটা কী, তো আমি নাচার।
    বড়জোর বলার চেষ্টা করব যে হিন্দু বা মুসলিম কেউ চাইলেই একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে না।
    এই সত্যটি সার বুঝলে মানতে হবে যে এক ছাদের তলায় দুজনকেই থাকতে হবে, বাঁচতে হবে। তাহলে দরকার একে অপরকে ভাল করে বোঝার মাধ্যমে সহাবস্থানের কমন গ্রাউন্ড খুঁজে বের করা, যাতে একসঙ্গে থাকাটা সহজ হয়।

    একইভাবে বুঝতে হবে যে এই বিশাল দেশে গেরুয়া বা লাল দুয়েরই জায়গা আছে। কেউ কাউকে শেষ করে দিতে পারে না। কাজেই ডায়লগ দরকার। মতবিরোধ লড়াইয়ের পাশাপাশি।
    যদি বলেন যে ওদের আর অত করে বোঝার কিছু নেই। আমরা ওদের হাড়ে হাড়ে চিনি। তাহলে হাতজোড় করে বলব সেই "আমরা-ওরা"তেই আটকে থাকুন। খালি একতা কথা মনে রাখবেন যে যারা এবার মোদি সরকারের জন্যে ভোট দিয়েছে তাদের অনেকেই বাম পরিবারের, বাম সংস্ক্রিতিতে বড় হওয়া ছেলেপুলে।
  • কল্লোল | 125.242.242.48 (*) | ০৮ জুন ২০১৪ ০১:৪০87874
  • সম্প্রেষণ মনে সঠিক মানে(standard) এক্সপ্রেশণ।
  • rabaahuta | 82.209.12.191 (*) | ০৮ জুন ২০১৪ ০৪:২২87875
  • কেসিদার 2014 11:03:23 IST খুবই অবাক হলাম। মহায়ন ফহায়ন শুধু শুধু বাড়ির লোক কেন শেখাতে যাবে, এসব তো পাড়া/কলেজ/রকের ঠেকে শেখে সবাই। ভারতের জনগণের এইটুকু যৎসামান্য ম্যাচুরিটিতো এখনো আছে নাকিঃ)
  • hature | 24.96.81.184 (*) | ০৮ জুন ২০১৪ ০৪:৩১87876
  • কাল বীরভূমে শেখ রহিম নামের এক বিজেপি সমর্থক খুন হয়েছে ,আবার সন্দেশখালী তে তপসিলী আদিবাসী রা গুলি খেয়েছে । এবার ধাঁচে ফেলুন ।
  • SC | 34.3.22.185 (*) | ০৮ জুন ২০১৪ ০৪:৩১87877
  • সব লিবারাল চাদ্দি ও পাঁচিল দের একটা অনুরোধ করব? একটা toi খুলে আলোচনা করা যাক। আমি একটা খুলে দিচ্ছি। এইটা স্ক্রল করতে অবস্থা খারাপ হচ্ছে, আর মোবাইলএ লদ হতে প্রচুর সময় নিছে, তার উপরে মোবাইলে নামগুলো পড়া যাচ্ছে না।
    আসুন, আমরা ঝগড়ার জন্য কোন পাড়ার মোড়ে দাঁড়াব, সেই প্রশ্নে সহমত হয়ে toi তে ঝগড়া করি।
  • kc | 204.126.37.78 (*) | ০৮ জুন ২০১৪ ০৪:৪৮87879
  • না হে হুতো, রকের ভাষা, রকের গল্প যখন রকের বাইরে বেরোচ্ছে গন্ডোগোলটা তখনই লাগছে। তখন দেখা যাচ্ছে এই ম্যাচুরিটিটা রকের বাইরে নেই। যাস্ট নেই। আজকে তুমি বা আমি যদি মহায়্ণ নিয়ে একটা ইউটিউবে স্কিট নামাই আর সেই ভিডিও শেয়ার করতে গিয়ে কোনও গোবেচারা ছেলে যদি তার চারপাশের লোকের দ্বারা ক্যাল খেয়ে হাসপাতালে যায়, তাইলে আমি কিন্তু খুব দুঃখ পাব।
    রকের ভাষাকে সর্বজনগ্রাহ্যের মান্যতা দিওনা। এদিকে দিনকে দিন এই মান্যতার স্পেসটাই কমে যাচ্ছে। নিজস্ব রক, নিজস্ব দেওয়াল, নিজস্ব গেটেড কম্যুনিটির বাইরে আর কিছুতেই ভরসা নাই হয়ে আসছে।

    আমি বোঝাতে পারছিনা। কিন্তু তুমি তো বুদ্ধিমান ছেলে। একটু কষ্ট করে হলেও বুঝে নেবে এই আশায় থাকি। ঃ)
  • rabaahuta | 82.209.12.191 (*) | ০৮ জুন ২০১৪ ০৫:২৩87880
  • কেসিদা, আমি তোমার সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত নই। নিছক চাড্ডি টাড্ডি বলে হাসি ঠাট্টা করে উড়িয়ে দেওয়ার জায়গায় নেই, বিষ অনেকদূর ছড়িয়ে গেছে আমি সেটা বিশ্বাস করি।
    এমনকি রকের ম্যাচুরিটিও বৃহত্তর সমাজে নেই, পরিতাপ। সাবধানতা দরকার, যদিও দ্বন্দ আছে সেই সাবধানতা এই অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দিতে পারে।

    কিন্তু সে যাই হোক, এইটুকু ম্যাচুরিটি অন্তত থাক যে যুবসম্প্রদায় অশ্লীল জোক বাড়ির বা বাইরের যেকোন রকম অভিভাবকদের ছত্রছায়ার বাইরে শিখবে, হে মোর দুর্ভাগা দেশঃ)
  • Ranjan Roy | 24.99.223.187 (*) | ০৮ জুন ২০১৪ ১০:৩৬87881
  • রবাহুত ও কেসিকে ক,
    আরে যেসব জোকস আমরা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে শেয়ার করি তেমনি ওই গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বা হাটুরে লোকজনও শেয়ার করে, ওই লিমিটেড সার্কলে।
    কিন্তু অবশ্যই ওগুলো আমি আমার বাবা-মা-ছেলেমেয়েদের সামনে বা পাড়ার ম্যাঙ্গোপাবলিকের কানের গোড়ায় বলব না, দেবদেবী সম্পর্কিত হোক বা না হোক।
    কাজেই 'পাড়ার মোড়ে বলে দেখুন না নিজেই টের পেয়ে যাবেন-- গোছের আর্গুমেন্ট ধোপে টেঁকে না।
    কিন্তু যাঁরা মনে করেন বা বলতে চান যে সাধারণ ধর্মপ্রাণ পাবলিক দেবদেবী নিয়ে জোকস্‌ করে না, শুধু নাকউঁচু নাস্তিকের দল করে--- সেটা সর্বতো ভাবে ভুল। তারাও করে নিজেদের ক্লোজড সার্কেলে।
    বিশ্বাস হচ্ছে না? একটা নিজের কানে ঘটনাচক্রে শোনা উদাহরণ দিই, প্রথম ও শেষবারের মত, উদ্দেশ্য সাধারণ পাবলিক যে ধর্মীয় ব্যাপারে রামগরুড়ের ছানা নয় বোঝাতে।
    স্থান-- তৎকালীন মধ্যপ্রদেশের অধুনা ছত্তিশগড়ের একটি শিল্পনগরীর উপকন্ঠে গ্রামীণ বাজার। শীতের সকালে হাটে গেছি ছোটভাইকে সঙ্গে নিয়ে। উদ্দেশ্য বউনির সময় গেলে কিছু কম দামে পাওয়া যাবে, ফলে সিগ্রেটের খরচাটা উঠে আসবে।
    দুটো আলুর দোকান। এক বুড়ো ও এক ছোকরার পাশাপাশি। বুড়োর আলুর দোকানের মাল পছন্দ হওয়ায় দু'কিলো কিনে বড় নোট দিলাম। সে মাথায় নোট ঠেকিয়ে বলে উঠলঃ
    -- জয় শংকরজী কৈলাসপতি!
    পাশ থেকে ছোকরা মুখ বেঁকিয়ে উঁচুগলায় ছন্দ মিলিয়ে বললঃ
    -- ল্যাওড়ে মেঁ লাখপতি!
    আমি ভাবলাম -এইরে! সাতসকালে ঝগড়া না লেগে যায়!
    কিন্তু বুড়ো নোটটা হাতবাক্স খুলে গুছিয়ে রাখতে রাখতে মাথা নেড়ে বিজ্ঞের মত বলল-- হাঁ, হাঁ, ল্যাওড়ে মেঁ লাখপতি!
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন