• বুলবুলভাজা  আলোচনা  স্বাস্থ্য  বুলবুলভাজা

  • কোভিড-১৯ অতিমারী

    রাজা ভট্টাচার্য
    আলোচনা | স্বাস্থ্য | ০২ এপ্রিল ২০২১ | ৫৪৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • প্যান্ডেমিকের বর্ষপূর্তি

    গত এক বছরে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন কোভিড-১৯ অতিমারী বা প্যান্ডেমিকের কবলে। যদিও এই একবছরের মধ্যে চিকিৎসা-বিজ্ঞান কোভিড-১৯-এর একাধিক চমকপ্রদ প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ফেলেছে, যার কথায় পরে আসছি, আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে। এমন পাহাড়প্রমাণ মৃত্যুশিখরে দাঁড়িয়ে কোভিড-১৯ প্যান্ডেমিকের বর্ষপূর্তি উৎসব মানায় না। অতএব গত একবছরে কী কী জানলাম আর কী কী শিক্ষা অর্জন করলাম তারই একটা কালপঞ্জিকা তৈরিই এই লেখার উদ্দেশ্য। আমরা এতদিনে জেনে গেছি যে কোভিড-১৯ একটি ভাইরাসজনিত ভয়াবহ ব্যাধি যা শ্বাসযন্ত্র বিকল করে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। যে ভাইরাসটি কোভিড-১৯ রোগের জন্য দায়ী সেটি একটি নব্য ভাইরাস, নাম নভেল করোনা ভাইরাস। ভাইরাসটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস পরিবাবের, যার টেকনিকাল নাম SARS-Cov-2 (Severe Acute Respiratory Syndrome-CoronaVirus-2)। কোভিড-১৯ বললে যে SARS-Cov-2 বোঝায়না, ভাইরাসঘটিত ব্যাধিটির কথা বলাহয়, তা আমরা জানি। তবু লেখকের এবং পাঠকের সুবিধার্থে প্রথমে বলে রাখা ভাল যে লেখার সরলীকরণের উদ্দেশে SARS-Cov-2 এবং কোভিড-১৯ রোগ দুটোকেই প্রবন্ধে কোভিড-১৯ বলা হয়েছে। পাঠকদের কাছে অনুরধ তাঁরা যেন কোথায় কোভিড-১৯ বলতে ভাইরাস, আর কোথায় কোভিড-১৯ বলতে ভাইরাসঘটিত ব্যাধিটির কথা বলা হচ্ছে তা নিজেরা বুঝে নেন। পাঠকদের ওপর আমার এই আস্থা রয়েছে যে তাঁরা এই দুটির তফাৎ সহজেই করতে পারবেন।

    গোঁড়ামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের সংগ্রাম

    কোভিড-১৯ ভাইরাসটি কী প্রক্রিয়ায় শ্বাসযন্ত্র বিকল করে তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বহুজনে বহুভাবে বহুস্থানে দিয়েছেন। জীববিদ্যা, বিশেষ করে সেল বায়োলজি অর্থাৎ কোষবিদ্যার একজন গবেষক হিসেবে আমি নিজেও ভাইরাসটির কর্মকলাপ নিয়ে বৈজ্ঞানিক পত্রিকায় পুঙ্খানুপঙ্খ আলোচনা করেছি। ইচ্ছে থাকলে পাঠকরা সেইসব লেখা পড়ে নিতে পারেন। আমরা জানি যে কোভিড-১৯এর ভাইরাসটি নভেল, অর্থাৎ মানবদেহের কাছে এই ভাইরাস দর্শন এই প্রথম। ফলে বিবর্তনের হাত ধরে মানবদেহে জীবাণুর বিরুদ্ধে যে স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে, যাকে ইমিউনিটি বলা হয়, তা এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করতে অক্ষম। ভাইরাসটি খামখেয়ালী। কখন কাকে কতটা ঘায়েল করবে, কে বাঁচবে আর কে-ই বা মরবে তা ভাইরাসটিই নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে ৭০-৮০ শতাংশ মৃত্যু পঞ্চাশোর্ধ্ব জনতার, ভাইরাসটি বহন এবং সংক্রমণের ক্ষমতা শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের প্রায় সমান। তরুণ প্রজন্মের সেই ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। ভাইরাসটি জুনোটিক (zoonotic)অর্থাৎ এটি অন্য কোনো প্রজাতির প্রাণী থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে। কোভিড-১৯ ভাইরাসটি বাদুড় জাতীয় প্রাণী থেকে প্যাঙ্গোলিন নামক আর একটি প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রামিত হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এমন ঘটনা যে এই প্রথম ঘটেছে তা নয়। মানবদেহ জুনোটিক ভাইরাসের হামলার মুখোমুখি হামেশাই হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাসগুলি মহামারী বা অতিমারীর রূপ নেয়না। যে যে জুনোটিক ভাইরাস মহামারী বা অতিমারীর রূপ নিয়েছে তার প্রায় বেশিরভাগই রেস্পিরেটরি ভাইরাস অর্থাৎ এই ভাইরাসগুলি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। কোভিড-১৯-এর আগে আরও দুটি নভেল করোনা ভাইরাস অতিমারীর রূপ নিয়েছিল। তাদের একটির নাম SARS-Cov। ২০০২-২০০৩ সালে SARS প্রায় ৮০০ মানুষের প্রাণ হরণ করেছিল। ২০১২ সালে আর একটি নভেল করোনা ভাইরাস, নাম MERS-Cov প্রায় ৮৬২টি মৃত্যুর জন্য দায়ী। একবছরে কোভিড-১৯-এর কবলে মৃত প্রায় ২৭ লক্ষ। আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার যে ২০১৯এর নভেল করোনা ভাইরাসটি SARS বা MERSএর ভাইরাস দুটির তুলনায় কম প্রাণঘাতী। যেখানে SARS এবং MERSএর প্রাণনাশের হার যথাক্রমে ৩৫ ও ১০ শতাংশ, কোভিড-১৯এর ক্ষেত্রে সেই হার মাত্র ১-২ শতাংশ। প্রসঙ্গত বলে রাখা প্রয়োজন যে সাধারণ মরশুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বা যাকে সিসনাল ফ্লু (common or seasonal flu) বলা হয়, সেই ভাইরাসে প্রাণনাশের হার ০.১%। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণের হারও কোভিড-১৯-এর চেয়ে অনেক কম। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের চেয়ে সংক্রমণের হার বেশি হলেও, কোভিড-১৯এর সংক্রমণের হার SARS এবং MERS ভাইরাসের সমতুল্য। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, তবে কোভিড-১৯এ মৃতের সংখ্যা SARS এবং MERSএর তুলনায় সহস্রগুণ বেশি কেন? কারণটা মাল্টিফাসেটেড অর্থাৎ বহুমুখী। বিজ্ঞান এবং ধার্মিক, রাজনৈতিক বা সামাজিক গোঁড়ামির অকারণ লড়াইয়ে অনেকক্ষেত্রে গোঁড়ামির হাতে বিজ্ঞানের সাময়িক পরাজয় ঘটেs। গোঁড়ামির জয় সাময়িক হলেও, এ জয় যে সমাজের বুকে অপরিসীম যন্ত্রণা আর অপূরণীয় সর্বনাশ আনতে পারে তার সামান্য দৃষ্টান্ত সত্যজিৎ রায় তাঁর গণশত্রু ছবিটিতে চিত্রিত করেছেন।
    কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। অন্তে বিজ্ঞানের জয় অবশ্যম্ভাবী। তবু বিজ্ঞানের সত্য আর গোঁড়ামির মিথ্যের এই অসম লড়াইয়ে অকারণে প্রাণ দিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের সকলে যে বিজ্ঞানের পক্ষে লড়েছেন তা কিন্তু নয়। অনেকেই জ্ঞানে বা অজ্ঞানে গোঁড়ামির হয়ে লড়াই করেছেন। এঁদের একজনের নাম হারম্যান কেইন (Herman Cain)। এককালে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট অবশ্য হতে পারেননি। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজ্ঞান বিরোধী কার্যকলাপে সক্রিয় ভূমিকা নেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজ্ঞান বিরোধী কার্যকলাপের কথায় পরে আসছি। হারম্যান কেইন প্যান্ডেমিকে বিজ্ঞান প্রস্তাবিত সবরকম বাধা নিষেধ অগ্রাহ্য করে বিজ্ঞান-বিরোধী মিছিল-সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে থাকেন ছাতি ফুলিয়ে। ২০২০র জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে আক্রান্ত হন কোভিড-১৯-এ। প্রায় একমাস হাসপাতালে কোভিডের সঙ্গে যুদ্ধ চালান এবং অবশেষে পরাজিত হন। জুলাইয়ের ৩০ তারিখ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই যুদ্ধ যদি উনি বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে না করে গোঁড়ামির বিরুদ্ধে করতেন, ফল হয়তো ভিন্ন হতো। হারম্যান কেইনের বিজ্ঞান বিরোধী মুর্খামি কিন্তু কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গোটা পৃথিবী জুড়ে এমন ঘটে চলেছে প্রতিদিন।

    অ্যাসিম্পটমেটিক (asymptomatic) সংক্রমণ

    বিজ্ঞান আর অপবিজ্ঞানের লড়াই যুগান্তকারী লড়াই। একদলের লড়াই জীবন বাঁচাবার, আর এক দলের জীবন কেড়ে নেওয়ার। অপবিজ্ঞানের দলটি অবশ্য “জীবন কাড়ার” একটা গালভরা নাম দিয়েছে;“ব্যক্তি স্বাধীনতা”। এঁদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, “মুণ্ডু গেলে খাবেটা কী?” অবশ্য “ব্যক্তি স্বাধীনতা” খায় না মাথায় দেয়, সে প্রশ্নও রাখা যায়। যাইহোক, মূল গতিপথ থেকে সরে যাবার প্রয়োজন নেই। ফিরে যাই আগের প্রশ্নে। সংক্রমণের হার SARS এবং MERS ভাইরাসের সমতুল্য। তবু কোভিড-১৯এ মৃতের সংখ্যা SARS এবং MERSএর তুলনায় সহস্রগুণ বেশি কেন? আগেই বলেছি কারণটা বহুমুখী। তবু একটা সহজ বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। বিজ্ঞানীদের কাছে কারণটা সহজ হলেও সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টা সামান্য জটিল মনে হতে পারে। কোভিড-১৯এর ভাইরাসটির একটি অভূতপূর্ব বৈশিষ্ট্য আছে। ভাইরাসটি নিঃশব্দে সংক্রমিত হয়, যাকে অ্যাসিম্পটমেটিক (asymptomatic) সংক্রমণ বলা হয়। অর্থাৎ, অনেকেই এই ভাইরাস বহন করে বেড়াচ্ছেন অথচ তাদের কোনও উপসর্গ নেই। ভাইরাস বহনকারীদের তিরিশ শতাংশ (৩০%) অ্যাসিম্পটমেটিক। নিজেদের অজান্তে তারা অন্যদের সংক্রমিত করছেন। সংক্রমিত জনতার কিছু অংশ ভাইরাসের আক্রমণে গুরুতর শ্বাসকষ্টের নির্মম যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরছেন। যারা বেঁচে থাকছেন তাদের মধ্যে আবার ৩০% অ্যাসিম্পটমেটিক। এই অ্যাসিম্পটমেটিক জনগণ অজান্তে আবার সংক্রমিত করছে আর একদল মানুষকে। ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে মৃতদেহের স্তূপ। বোম্বাইয়ের বোম্বেটের পুলক ঘোষালের ভাষায়, “এটা পুরো অংক লালু”! বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অগ্রগামী দেশ অ্যামেরিকায় মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক, প্রায় পাঁচ লক্ষ তিরিশ হাজার (৫,৩০,০০০) মৃত। অ্যামেরিকার পরেই ব্রাজিল। তার পরেই ভারত। এই লেখার সময় পর্যন্ত ভারতে কোভিড-১৯-এর হাতে মৃত প্রায় এক লক্ষ ষাট হাজার (১,৬০,০০০)মানুষ। ইউরোপের পরিস্থিতিও সংকটময়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেরই আক্রান্ত হবার সমান সম্ভাবনা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে ভাইরাসটির আক্রমণে মৃত ব্যক্তিদের অধিকাংশ বয়স্ক। যারা অ্যাসিম্পটমেটিক তাদের সিংহভাগ তরুণ। অ্যাসিম্পটমেটিক তরুণ তরুণীরা নিঃশব্দে বয়ে বেড়াচ্ছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস, যা সুযোগ পেলেই সংক্রমিত হচ্ছে বয়স্ক শরীরে। পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষের এই ভাইরাসের আক্রমণে মৃত্যুর হার পঞ্চাশনিম্নদের চেয়ে চারশো (৪০০) থেকে আট হাজার (৮০০০) গুণ বেশি। এ কথা সহজেই বলা যায় যে কোভিড-১৯এ আক্রান্ত না হলে এঁরা প্রত্যেকে আরও বহুদিন বাঁচতে পারতেন। প্রতিটি কোভিড-১৯-এ মৃত্যু তাই অকালমৃত্যু ছাড়া অন্য কিছু নয়।

    কোভিড ভ্যাকসিনের আবির্ভাব

    সংক্রমক রোগের বীজাণু সাধারণত রোগীর উপসর্গ অর্থাৎ সিম্পটম (symptom) দেখা দেওয়ার পরই অন্যের দেহে সংক্রমিত হয়। SARS, MERS, ইবোলা, এইডসের মত ভয়ংকর সব সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রেও অ্যাসিম্পটমেটিক (asymptomatic) সংক্রমণ প্রায় অসম্ভব। ফলে রোগের উপসর্গ দেখা দিলেই রুগীকে কোয়ারেন্টিন (quarantine), অর্থাৎ অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেই SARS, MERS এবং ইবোলা অতিমারী সংযত করা সম্ভব হয়েছিল। যে পদ্ধতি SARS-MERS-ইবোলার ক্ষেত্রে খাটে, তা অ্যাসিম্পটমেটিক সংক্রমণে খাটবে না। উপসর্গ ছাড়াই যে বেক্তি কোভিড-১৯এর ভাইরাসটি বয়ে বেড়াচ্ছেন এবং অজ্ঞাতে অন্যদের সংক্রামিত করছেন, এই তথ্য প্যান্ডেমিকের প্রথম পর্যায়ে বিজ্ঞানীদের জানা ছিল না। কোভিড-১৯এর ভাইরাসটির অ্যাসিম্পটমেটিক (asymptomatic) সংক্রমণের বিষয় যেদিন বিজ্ঞানীরা প্রথম আবিষ্কার করলেন সেদিন যে তাঁদের রক্ত হিম হয়ে গিয়েছিল তা প্রায় সব বিজ্ঞানীরাই স্বীকার করেন। রক্ত হিম হওয়ারই কথা, কারণ এমন অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার হাতিয়ার বিজ্ঞানের হাতে ছিল না। ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একমাত্র হাতিয়ার ভ্যাকসিন। কিন্তু যে ভাইরাস অজানা তার ভ্যাকসিন তো রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়। একটি কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরি করতে বছরের পর বছর কেটে যায়। আজ কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি অত্যন্ত কার্যকরী কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন আমাদের হাতে পৌঁছেছে। সরকারি এবং বেসরকারি বিজ্ঞান সংস্থার সহযোগিতায় এক বছরের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রস্তুতির এমন সাফল্য বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এই সাফল্যের ইতিহাস উল্লেখ্য বিষয় হলেও সেই ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা এই প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য নয়। প্রবন্ধের প্রধান উদ্দেশ্য পাঠকদের কাছে এই সত্য পরিবেশন করা যে প্রাণঘাতী জীবাণুর সঙ্গে মানব সভ্যতায় সংঘাত এই প্রথম নয়। একশ বছর আগে ১৯১৮-র আর একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস যাকে স্প্যানিশ ফ্লু বলা হয়, এক বছরে প্রায় পাঁচ কোটি (৫০,০০০,০০০)মানুষের প্রাণ হরণ করেছিল। শিশু, বৃদ্ধ, তরুণ, জওয়ান কেউ রেহাই পায়নি ভাইরাসের কবল থেকে। ১৯১৮র ভয়াবহ প্যান্ডেমিকের পর এক শতাব্দী পেরিয়ে গেছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, এবং প্রযুক্তিগত বিদ্যায় অভাবনীয় উন্নতি সত্ত্বেও, স্প্যানিশ ফ্লুএর চেয়ে শতভাগ দুর্বল কোভিড-১৯-এর হাতে এক বছরে সাতাশ লক্ষ (২,৭২০,০০০)মানুষের প্রাণনাশ কি এই প্রমাণ করে যে রক্তপিপাসু প্রকৃতির হাতে মানুষ আজও অসহায়? প্রকৃতি কি সত্যিই লর্ড টেনিসনের (Lord Tennyson) ভাষায়; রক্তাক্ত নখদন্ত নিয়ে হাজির (nature red in tooth and claw)? নাকি বিজ্ঞান প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি সত্ত্বেও মানবিকতার মাপকাঠিতে মানব সভ্যতা আজও সেই প্রস্তরযুগেই পড়ে রয়েছে?

    সামাজিক দূরত্ব বা সোশাল ডিস্ট্যান্সিং মৃত্যুহার প্রায় ষাট শতাংশ কমাতে সক্ষম

    এক বছরের মধ্যে পাঁচ পাঁচটি অসাধারণ কার্যকরী কোভিড-১৯এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে। অ্যামেরিকায় এখন তিন তিনটি ভ্যাকসিন অনুমোদন পেয়েছে। এই তিনটির মধ্যে দুটি প্রায় ৯০% কার্যকর, আর একটি ৭০%। প্রথম দুটি ভ্যাকসিন দুটো ডোজের, তৃতীয়টি মাত্র একটা ডোজের। এমন কার্যকরী ভ্যাকসিন এমন দ্রুততায় সঙ্গে উৎপাদন ভ্যাকসিনের ইতিহাসে অভূতপূর্ব কৃতিত্ব। প্রকৃতির বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের এ এক অসামান্য জয়। তবু প্রশ্ন জাগে, সাতাশ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু কি বিজ্ঞান রোধ করতে পারত? ভ্যাকসিন আবিষ্কার বিলম্বিত হলে কি আরও লক্ষ কোটি প্রাণ বলিদান করতে হতো? এমন বিষণ্ণ প্রশ্ন করে অহেতুক ভ্যাকসিন আবিষ্কারের উদ্দীপনাকে খাটো করার অভিপ্রায় আমার নেই। তবু প্রশ্নটা করতে হবে কারণ এর পরের অতিমারী আরও ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিষেধক ভ্যাকসিন আবিষ্কার সম্ভব নাও হতে পারে। সব প্রাণনাশক সংক্রমক ব্যাধির প্রতিষেধক ভ্যাকসিন যে আছে এমনও নয়। ম্যালেরিয়ার ভ্যাকসিন এখনো অধরা। কিন্তু সামান্য মশারি ব্যবহার ম্যালেরিয়া সংক্রমণ প্রশমনে অত্যন্ত কার্যকরী। এইচআইভি-এইডসের ভ্যাকসিন নেই। কিন্তু কন্ডমের ব্যবহার এবং শিক্ষাব্যাবস্থায় যৌনশিক্ষার অন্তর্ভুক্তি এইচআইভি-এইডস প্রশমনে সক্ষম হয়েছে। ভাইরাল প্যান্ডেমিকের ক্ষেত্রে রুগীকে কোয়ারেন্টিন করে SARS-MERS-ইবোলার মোকাবিলা করেছে বিজ্ঞান। ভ্যাকসিন ছাড়াও সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে যুদ্ধের নানান হাতিয়ার বিজ্ঞানের হাতে আছে। প্রকৃতির হাতে আত্মসমর্পণ বিজ্ঞান করেনি। শুধু অ্যাসিম্পটমেটিক (asymptomatic) সংক্রমণই নয়, কোভিড-১৯এর ভাইরাসটির আরও একটি বৈশিষ্ট্য আছে। ভাইরাসটি সংক্রামক ব্যক্তির কথার সঙ্গে মুখগহ্বর থেকে নিষ্কৃত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জলকণা, যাকে এরোসল বলা হয় তার মাধ্যমে সামনের মানুষটিকে সংক্রমিত করতে সক্ষম। এমন ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিহত করার নানান উপায় বিজ্ঞানীদের জানা ছিল। এক, লকডাউন; দুই, সামাজিক দূরত্ব বজায়; তিন, একটা সামান্য কাপড়ের আবরণ বা মাস্ক দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখা; আর চার, টেস্টিং আর কন্টাক্ট ট্রেসিং। লকডাউন, অর্থাৎ অপরিহার্য কাজকর্ম, ভ্রমণ ইত্যাদি কিছুদিনের জন্য বন্ধ রেখে, আর সোশাল ডিস্টেন্সিং, অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ায় বাধার সৃষ্টি করা। বিজ্ঞানীরা দু রকমের লকডাউনের পরামর্শ দেন; পূর্ণ এবং আংশিক। চিন, বিশেষ করে চিনের উহান প্রদেশ যেখানে কোভিড-১৯এর ভাইরাসটির দর্শন প্রথম মেলে, পূর্ণ লকডাউনের পথ নেয়। এছাড়া ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি কয়েকটি দেশ পূর্ণ লকডাউন বাস্তবায়ন করে সংক্রমণ রোধে সফল হয়। ফলস্বরূপ এই দুটি দেশে কোভিড-১৯এ মৃত্যুর হার এবং সংখ্যা দুইই অন্যান্য সমতুল্য দেশের তুলনায় অনেক কম। লকডাউন আর সামাজিক দূরত্ব বজায়ের সঙ্গে টেস্টিং আর কন্টাক্ট ট্রেসিংও অ্যাসিম্পটমেটিক (asymptomatic) সংক্রমণ প্রতিহত করার আর একটি বৈজ্ঞানিক উপায়। টেস্টিং, অর্থাৎ ভাইরাস দেহে প্রবেশ করেছে কি না তা পরীক্ষা করা। যাঁদের উপসর্গ আছে তাঁদের তো বটেই, যাঁদের নেই তাঁদেরও পরীক্ষা করে ভাইরাস ধরা পড়লে তাদের কোয়ারেন্টিন করা। পরের কাজ এঁদের সান্নিধ্যে যারা যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের শনাক্ত করে তাঁদেরও পরীক্ষা করা। এই পদ্ধতিই কন্টাক্ট ট্রেসিং। জাপান দেশ জুড়ে প্রতিদিন হাজারে হাজারে টেস্টিং এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং করে পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেয়। জাপান সরকার দেশ জুড়ে দক্ষতার সঙ্গে টেস্টিং এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং করলেও পূর্ণ লকডাউন মনোনীত করেনি। এই এক বছরে ভিয়েতনামে মৃতের সংখ্যা ৩৫, নিউজিল্যান্ডে ২৬, আর জাপানে প্রায় ৯,০০০। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অগ্রগামী দেশ অ্যামেরিকা প্যান্ডেমিকের প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি রাজ্যে পূর্ণ লকডাউন মনোনীত করলেও নানান রাজনৈতিক টানাপোড়েনে দেশজুড়ে লকডাউন মনোনীত করেনি। প্যান্ডেমিকের প্রাথমিক পর্যায়ে টেস্টিং এবং কন্টাক্ট ট্রেসিংও নানান প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। পরবর্তী পর্যায়ে টেস্টিং এবং কন্টাক্ট ট্রেসিংএ অ্যামেরিকা উৎকর্ষের পরিচয় দিলেও, ততদিনে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।

    অ্যামেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোভিড-১৯এর ভয়াবহতা সম্বন্ধে অবগত ছিলেন। ট্রাম্প ২০২০-র ফেব্রুয়ারি মাসে জানতেন যে ভাইরাসটি বাতাসে এরোসলের মাধ্যমে সংক্রমিত হচ্ছে। একথা ট্রাম্প স্বনামধন্য সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের কাছে (Bob Woodward) টেলিফোনে স্বীকার করেন। বব উডওয়ার্ড সেই ফোনকল ট্রাম্পের অনুমতি নিয়ে রেকর্ড করে রাখেন যা পরে তাঁর রেজ (Rage) বইটিতে প্রকাশিত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে কোভিড-১৯এর ভয়াবহতা সম্বন্ধে অবগত হওয়া সত্ত্বেও মার্চ মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত ট্রাম্প দেশবাসীকে মিথ্যে কথা বলে চলেন। নিজে আসল সত্য জানা সত্ত্বেও দেশবাসীকে প্রথমে বলেন যে কোভিড-১৯ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। তারপর বলেন এটা সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের চেয়ে বেশি ক্ষতিকারক নয়। বলেন যে গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাকি ভাইরাসটি ম্যাজিকের মত অদৃশ্য হয়ে যাবে। এসব মিথ্যের সঙ্গে জোড়ে লকডাউনের বিরোধিতা। লকডাউনের সঙ্গে পরাধীনতার সম্পর্ক খুঁজে বের করেন। নিজের সরকারের সুপারিশে সম্পাদিত লকডাউনের বিরুদ্ধে নিজেই প্রচার শুরু করেন। মাস্ক পরা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান আরও অদ্ভুত। প্রথমদিকে মাস্ক পরার উপকারিতা নিয়ে বিজ্ঞানমহলে সামান্য দ্বন্দ্ব থাকলেও, তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মার্চ মাসের প্রথম দিকে বিজ্ঞানীরা একমত হন যে মাস্কের চেয়ে কার্যকর প্রতিষেধক আর কিছু নেই। ৬০-৯০% কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পরও সমস্ত বিজ্ঞানীরা একমত যে কোভিড-১৯এর ক্ষেত্রে মাস্ক এখনো সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিষেধক। বিজ্ঞান-বিরোধিতাই বোধহয় ট্রাম্প ও ট্রাম্পের অনুগামীদের একমাত্র অবস্থান। মাস্ক পরার সঙ্গে পুরুষত্বহানির একটা আজব সম্পর্ক তৈরি করে ট্রাম্প। শুরু হয় মাস্ক না পরা ট্রাম্প অনুগামীদের লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ট্রাম্পের বিষাক্ত রাজনীতির শিকার হয় বিজ্ঞান। মহামারীর হাত থেকে বিজ্ঞানের জনগণকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা ব্যার্থ হয়। ফলস্বরূপ আজ অ্যামেরিকায় মৃত্যুর সংখ্যা পৃথিবীতে সর্বাধিক। প্রায় পাঁচ লক্ষ তিরিশ হাজার (~৫,৩০,০০০) মৃত। এই অকালমৃত্যুর সিংহভাগই প্রতিহত করা সম্ভব ছিল। এ বক্তব্য মনগড়া নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক। লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন London Scholl of Hygiene and Tropical Medicine) এবং ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার (University of California, Berkeley) প্রফেসর এবং বায়োস্ট্যাটিসটিকস ও এপিডেমিওলজির চেয়ার (Chair of the Department of Biostatistics and Epidemiology) নিকোলাস জুয়েল (Nicholas Jewell) এবং রিসার্চ ফেলো ব্রিটা জুয়েল (Britta Jewell) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছেন যে ১৬ মার্চের বদলে ২ মার্চ সামাজিক দূরত্ব বা সোশাল ডিস্টেন্সিং নীতি প্রয়োগ করা হলে অ্যামেরিকায় কোভিড-১৯এর প্রথম পর্যায়ের মৃত্যুহার প্রায় ষাট শতাংশ কমাতে পারত। অ্যামেরিকায় ১৬ই মার্চে সোশাল ডিস্টেন্সিং নীতি নিয়োগের নির্দেশ জারি হলেও ২২শে মার্চের আগে তা সারা দেশে কার্যকর করা হয় নি। ২রা মার্চে অ্যামেরিকায় কোভিড-১৯-এ মৃতের সংখ্যা ছিল মাত্র ছয় (৬)। ২০ দিন পর, ২২ মার্চ মৃতের সংখ্যা এক লাফে পৌছয় চারশো তেরোয় (৪১৩)। প্রফেসর জুয়েলের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বলা যেতে পারে যে ২ মার্চে সোশাল ডিস্ট্যান্সিং নীতি প্রয়োগ করা হলে ২২ মার্চ মৃতের সংখ্যা ৪১৩র বদলে ১৬৫ হতে পারত। অর্থাৎ মাত্র দু সপ্তাহ আগে পদক্ষেপ নিলে প্রায় ২৪৮ জন মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল। ডঃ নিকোলাস এবং ব্রিটা জুয়েলের পরিসংখ্যান অনুসারে, দু সপ্তাহ আগে মিটিগেশন, অর্থাৎ প্রশমন নীতি প্রয়োগ করা হলে জুলাই মাসে মৃতের সংখ্যা ৬০,০০০ এর বদলে ৬,০০০ হতে পারত। National Institute of Allergy and Infectious Diseaseএর ডিরেক্টর এবং প্রেসিডেন্টের chief medical advisor ডঃ ফাউচি (Dr. Anthony Fauchi) একথা স্বীকার করেছিলেন যে বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং যুক্তিশাস্ত্র মেনে বলা যেতেই পারে যে যদি সোশাল ডিস্টেন্সিং ইত্যাদি উপশন নীতিগুলি কিছুদিন আগে চালু করা যেত তাহলে হয়তো বেশ কিছু জীবন বাঁচানো যেত। এমন কি হতে পারে যে ভারতে প্রশমন নীতি সঠিক সময় প্রয়োগের ফলে মৃতের সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে বহু মাত্রায় কম? ডঃ ফাউচি এ কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে উপশন নীতিগুলি যে ভাইরাস দমনের একমাত্র উপায় তা নয়। উপশন নীতিগুলি প্রধানত প্রয়োগ করা হয়েছিল কিছুটা সময় অর্জন করতে যাতে হাসপাতাল, নার্সিং হোম ইত্যাদি চিকিৎসালয়গুলি অতিমারি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে পারে। ডঃ ফাউচিকে ট্রাম্প সরকার তড়িঘড়ি আড়াল করে দেয় কারণ ট্রাম্পের অপবিজ্ঞান প্রচারের তিনি খোলাখুলি বিরোধিতা করেন। অ্যামেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) ডঃ ফাউচিকে মুক্ত করেছেন। ট্রাম্পের অপবিজ্ঞান প্রচারের মধ্যে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা নিয়ে মিথ্যে প্রচারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ডঃ ফাউচি। ট্রাম্প এবং ট্রাম্প-অনুগামীদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মিথ্যে প্রচার কোভিড-১৯ কাহিনীর একটি কলঙ্কময় অধ্যায়। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কথা পরের পর্বে।

  • বিভাগ : আলোচনা | ০২ এপ্রিল ২০২১ | ৫৪৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অনিন্দিতা | 160.202.36.48 | ০২ এপ্রিল ২০২১ ১৯:১৬104410
  • রক্তপিপাসু প্রকৃতি , রক্তাক্ত নখদন্ত ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার প্রসঙ্গে ঘোরতর আপত্তি জানাচ্ছি। তথাকথিত মানবসভ্যতার এনথ্রোপোসেন্ট্রিক অর্থাৎ মনুষ্যকেন্দ্রিক গতিপথ আজকের পরিবেশ সমস্যার কারণ  এ বিষয়ে বিজ্ঞানী থেকে অর্থনীতিবিদ কারোরই আর দ্বিমত নেই।   অবিচারে প্রকৃতিকে শোষণ ও  ধ্বংস করেছে মানুষ।যথেচ্ছভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও প্রকৃতির হনন আজও অব্যাহত। কোভিড কি সে কথা বলে নি? নাকি আমরা বুঝি নি এখনো? রক্তাক্ত নখদন্ত প্রকৃতির না আমাদের? 

  • Ranjan Roy | ০২ এপ্রিল ২০২১ ২০:৩২104413
  • অনিন্দিতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত। এই ধরণের বিশেষণের সিরিয়াস বিষয়ের প্রবন্ধটির মান রক্ষা করেনি।

  • Raja Bhattacharyya | ০২ এপ্রিল ২০২১ ২২:৫১104417
  • অনিন্দিতা টেনিসনের বিখ্যাত লাইন যেখানে কবি প্রকৃতিকে রক্তপিপাসু বলেছিলেন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে। লাইনটা আমার নয়। পরের লাইন আমার। সেটাও একটা প্রশ্ন। "নাকি বিজ্ঞান প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি সত্ত্বেও মানবিকতার মাপকাঠিতে মানব সভ্যতা আজও সেই প্রস্তরযুগেই পড়ে রয়েছে?" 


    তাছাড়া বিজ্ঞান প্রকৃতির ​​​​​​​বিরুদ্ধেই ​​​​​​​লড়ে। কখনো ​​​​​​​হারে ​​​​​​​কখনও ​​​​​​​জেতে। ​​​​​​​বিজ্ঞানের ​​​​​​​কাজই ​​​​​​​তাই। ​​​​​​​এনভিরনমেন্টালিজমও বিজ্ঞান। ​​​​​​​প্রকৃতিকে ​​​​​​​বশে ​​​​​​​আনাও এনভিরনমেন্টালিজম​​​​​​। প্রকৃতিকে রক্তপিপাসু বলার মধ্যে কোনো ভুল নেই। প্রকৃতি তার নিজের খেয়ালে চলে। লেখাটা হার্ড সাইন্স। বিজ্ঞান আর অপবিজ্ঞানের চিরন্তন যুদ্ধের কথা। এর মধ্যে এনভায়রনমেন্টাল এক্টিভিজম এনে বিভ্রান্ত করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনি। এনভায়রনমেন্টালইজম নিয়ে আলাদা করে লেখাই যায়। অন্য কেউ লিখতে পারেন। 

  • Ranjan Roy | ০৩ এপ্রিল ২০২১ ০৪:২৫104425
  • লেখাটি আবার পড়লাম। খুঁটিয়ে।


    আমার আগের মন্তব্যটি প্রত্যাহার করলাম --- লেখকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনাপূর্বক।

  • দেবকুমার হালদার | 103.211.20.32 | ০৫ এপ্রিল ২০২১ ১৮:৫০104499
  • পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

Pandemic, Covid 19, Coronavirus, One year of pandemic, Pandemic second surge, Pandemic COvid 19, corona pandemic
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন