• বুলবুলভাজা  খ্যাঁটন  হেঁশেলে হুঁশিয়ার  খাই দাই ঘুরি ফিরি

  • ডিডি-র কিচাইন–৩

    ডিডি
    খ্যাঁটন | হেঁশেলে হুঁশিয়ার | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ | ১০৪৯ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • শরৎ চাটুজ্জের শ্রীকান্ত রেঙ্গুনের রাস্তায়, খুঁজছেন, বাঙালি কিধার হ্যায়? দেখে শেষে ল্যাজ খান, বাঙালিকে চিনে যান। বাঙালির নয়, ছি-ছি, মৎসের ল্যাজা সেটি, হাতে থলি বাজারের, তাতেই প্রমাণ ঢের—বাঙালিকে দুনিয়ায়, মাছ দিয়ে চেনা যায়। এইবার যদি চাও, চিংড়ি-পুলাও তাও রেঁধে ফেল, ভয় কী?, এই নাও রেসিপি, পড়বে না আর ঢিঢি, হেঁশেলে যে হুঁশিয়ার স্বয়ং হাজির ডিডি


    শ্রীকান্ত বর্মায় গিয়ে খুবই আতান্তরে পড়েছেন। চেনা জানা কেউ নেই? বঙ্গালি কৈ হ্যায়? তো কিধার হ্যায়? শেষে শ্রীকান্ত বাঙালি খুঁজতে গেলেন বাজারে, চোখে পড়ল বাজার সেরে বাড়ি ফেরার পথে এক লুঙ্গি পরা ভদ্রলোক, শ্রীকান্ত দৌড়ে তার কাছে গিয়ে বললেন, “ওঃ, আপনি বাঙালি? বাঁচালেন।” ভদ্রলোক তো অবাক, আমার বাঙালিত্ব কী করে টের পেলেন? তারপর নিজেরই বাজারের থলি, যেখান থেকে একটি পুরুষ্টু মাছের ল্যাজ পতাকার মতন হাওয়ায় দুলছে, সেদিকে দৃষ্টি পড়তেই অট্টহাসি। (যথেষ্ট প্যারাফ্রেজিত)। তো বাঙালি চিনবার সহজ উপায় হচ্ছে মাছ দেখে চিনুন। তা সে শরৎকালেও যা ছিল এখনও সেরকমই আছে। যদিও নয়া প্রজন্মের ছেলেপুলেদের বেশ ক-জনা আর বিশুদ্ধ ম্যাভেরিক সমাজসেবী দু-একজন মাছ খান না। তাঁরা এক্সেপশন।

    বাঙালি বিয়েশাদিতে তো সবাই সাজেন, এমনকি বিশাল বপুর রুই বা কাতলা মাছও আলতা মেখে, নথ-টথ পরে তত্ত্বে হাজিরা দেয়। কনে সাজাবার যেমন লোক পাওয়া যায় সেরকম মাছ সাজাবার লোকও হাজির। সব থেকে অবাক লাগে স্বজন মারা গেলে পাঁজি দেখে এগারো দিন বা কমবেশি নিরামিষ খেয়ে শোক পালন করে আবার সেই আচার মেনেই শোক ভঙ্গ করা হয়। সেও মাছ খেয়ে, অনুষ্ঠানের নামই মৎসমুখী। রণে বা ব্যাকরণে, আনন্দসভায় বা শোকভঙ্গে—সবেতেই মাছ চাই। বাঙালির এত বড়ো আইকন আর কী আছে?

    মেছো বাঙালির ইতিহস খুঁজতে গেলে একটা বড়ো মুশকিল হয়। উদাহরণ আর কী দিবেন? সেই চর্যাপদের “মোইলি মচ্ছা নলিতা গচ্ছা” থেকে শুরু করে মধ্যযুগ? অল্প কয়টি আকরগ্রন্থই তো রয়েছে। খান দশেক মঙ্গলকাব্য, কয়েকটি রামায়ণ, চৈতন্যের উপর কিছু লেখা। তার মধ্যে খাওয়াদাওয়ার উল্লেখ আছে সে তো আরও কম। হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র। তার জন্য বারবার একই লেখা দিতে হয়।

    বা বলতে হয় ওই যে ঈশ্বরী পাটনী? মনে আছে তো? তিনি যে বলেছিলেন, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে”—উটি আদতে টাইপো। অধুনাতম পুথিতে পষ্টো লেখা আছে ওনার যাঞ্চা ছিল ওনার সন্তান ‘যেন থাকে মাছেভাতে’। স্রেফ গুল বা সাধুভাষায় যাকে বলে পোস্ট ট্রুথ। কিন্তু এ ছাড়া উপায়ই বা কী বলুন? নতুন সংবাদ আর কোথায় পাব?

    বাঙালির কত ব্রতকথা, স্ত্রী-আচার, ছড়া—সবতেই মাছে মাছাক্কার। এই নিয়ে লেখাও প্রচুর। বাহুল্যবোধে আবার সেগুলি লিখলাম না।

    তবে মহাভারতের রোহিত মুনির গল্পটাই সব থেকে প্রফুল্লকর। সরস্বতী নদীর ধারের বসতি ছেড়ে রোহিতমুনি অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করলে সরস্বতী নদী কেঁদে পড়েন, “ও মুনি, তুমি আমারে ছেড়ে যেওনি। আমি তোমায় বড়ো বড়ো মৎস্য খাওয়াব।” রোহিতমুনিও তৎক্ষণাৎ রাজি। আর ঘাঁটি বদলালেন না। যদি প্রশ্ন করেন, আরে সরস্বতী নদীর ধারে বাঙালি মুনি কোত্থেকে আসবে? বললে হবে? অ্যাত মাছপ্রেমী এক সংসারত্যাগী ব্রহ্মজ্ঞ—সে বাঙালি না হয়ে যায় কোথায়? ব্যাস। অকাট্য প্রমাণ।

    একদা এক প্রবৃদ্ধ (অপিচ দাড়িওয়ালা) দার্শনিক বলেছিলেন আমাদের সকলেরই বুকের মাঝে আছে এক নিজস্ব ইজরায়েল, তো আর-এক তরুণ (কিন্তু বিরলকেশ) চিন্তাবিদ লিখেছিলেন আমাদের সকলেই আছে এক নিজস্ব ফুচকাওয়ালা। সেই মতনই জানবেন আমাদের সকলেরই ছিল এক প্রিয়তম বাজারের থলি এবং একজনই অন্তরতম মাছবিক্রেতা।

    বাবার সাথে সপ্তাহান্তে, যখন সদ্যকিশোর আমি বাজারে যেতাম, তখন সুনীলদার থানে কোন্‌ মাছ আছে, সেই নিয়ে আপাতভাবে সম্পূর্ণ উদাসীন আমার বাবা প্রথমেই পারিবারিক কুশল সবিস্তারে জেনে ও জানিয়ে দেশের কথা শুরু করতেন। দুজনেই সিপিএম, তাই মতের কোনো বিরোধ নেই। “এ দেশের কিস্‌সু হবে না” এরকম সিদ্ধান্তে একমত হয়ে তবেই বাবার হঠাৎই যেন চোখ পড়ত মাছের গাদায়। বাবা সম্পূর্ণ উদাসীন ভাবে বড়ো কাতলাটার দিকে আঙুল তুললে সুনীলদা নিষ্ঠুর গলায় বলেন, গত রোব্বারেই তো তিন কেজি রুইটা নিলেন, এবারে একটু ছোটো মাছ খান। সামান্য খোঁজখবরের পর বাবার বাজারের থলিতে ওঠে পাবদা আর পার্শে। কোন্‌ মাছ কিনবেন সেটায় বাবা আর সুনীলদা একমত হলেই তবে সেটি কেটেকুটে থলিতে ঠাঁই পেত। মাছ কেনা ছিল এক রিচুয়াল। ক্রেতাবিক্রেতা সম্পর্কের অনেক ঊর্ধ্বে। আপনারা ক্যাপিটালিজমের কী বোঝেন মশাই?

    আসলে সময়টাই ছিল অন্যরকম। এখন তো বাবাও আর নেই, সুনীলদাও না। আর আমিও ব্যাঙ্গালোরে। সেও ধরুন প্রায় তিরিশ বছর হতে চলল। তখন সদ্যপ্রবাসী—মাছের দোকানের খোঁজ পেলাম বাড়ি থেকে বেশ দূরে মুস্তাফার দোকান। সেটা তো জাস্ট একটা মাছের দোকান নয়, এক মেছো বাঙালির মিলনমেলা। আহা! এক গলির মধ্যে ছোটো দোকান। সামনে একচিলতে জমিতে তিনটে হতশ্রী টিনের চেয়ার। রোব্বারে সে কী ভিড়! মোস্তাফা তার নিজস্ব বাংলায় সবাইকেই উদাত্ত আহ্বান জানায় “আইসসেন আইসসেন।” সে সবাইকেই চেনে। আপনার সাথেও আলাপ হয়ে যায় বাকি প্রবাসীদের।

    ঘোষালবাবু সিগ্রেট ধরিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “হালদারদার খবর কী মোস্তাফা? কলকাতা থেকে ফিরেছেন?” মোস্তাফা জানায়, “হাঁ জি, এই তো ফোন করে জানালেন ওয়েডনেস ডেতে পঞ্চাশ পিস কাতলা চাই, বড়া পিস।” সেই সময়ে অমনই ছিল ব্যাঙ্গালোর শহরের হাল। মেছোদের জন্য এক আকাল। টেনেটুনে মেজো সাইজের রুইকাতলা পাওয়া যেত, অন্য কোনো বাঙালি নদীর মাছ—হঠাৎ করে, নেহাতই কালেভদ্রে। আর সেটা জুটত ওই মুস্তাফার দোকানেই।

    ইয়েস, এক বাঙালি হোমড়ার সৌজন্যে তার দোকানে ফোন ছিল, জলের কলও। বিজ্ঞানের সে কী বিস্ময়! ভোর ছটায় ঘুম ভাঙিয়ে ফিসফিসিয়ে জানাত মোস্তাফা “পাবদা এসসেচে। শিগ্রি আসসুন।” উদভ্রান্তের মতন ছুটে গিয়ে শেষ যেটুকু পাবদা, হরেদরে এক কেজিও হত না, তাই নিয়ে বাড়ি ফেরা। ওঃ, সে কী বিজয়গৌরব। বন্ধুমহলে সে কী দেমাক!

    তবে পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম অভিজ্ঞতার শিকারও হয়েছিলাম ওখানেই। পৌঁছে দেখি শেষ মৌরলাটুকুও থলিতে ভরছেন একজন। এখনও ভাবলে চোখে জল আসে।

    আর এখন অবশ্য সবই পালটে গেছে। মুস্তাফাও আর নেই। মাছের দোকানেরও অভাব নেই। সব পাড়াতেই ছোটোখাটো একটা-দুটো মিলবে। ব্যাঙ্গালোরের সব থেকে বড়ো মাছের বাজার হচ্ছে হ্যাল (HAL) মার্কেট। উন্মুক্ত নীল আকাশের নীচে গোটা পনেরো স্টল এক ছোটো মাঠে। কোটি কোটি মাছি। পায়ের নীচে শালপাতা ও মাছের আঁশ। বেশ কয়েকটা উৎসুক কুকুর ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। ক্বচিৎ শালপাতা-প্রত্যাশী গোরুও এক-আধটা। দোকানিরা সবাই হুলিয়ে বাংলা বলে এবং ওজনে ঠকায়। মাছ কিনবি কী রে ফাগলা, অ্যামবিয়েন্সেই উদাস হয়ে যাবি।

    প্রবাসের সেই দিনগুলি আর নেই। মাছের দোকানেরও কোনো কমতি নেই। এখন ফোন করলেই বাড়ি পৌঁছে যায় মাছেরা। ভ্যারাইটির শেষ নেই। সব মাছই পাবেন। লিখতে লিখতেই ইন্টারনেটের মাছের দোকানে ঘুরে এলাম তো দেখলাম মেইন স্ট্রিম বনেদি মাছ তো বটেই, ল্যাটা, ফ্যাঁসা, গুলে, চারা ভেটকি, খলসে—এইসবও রয়েছে। অভাব কিছুরই নাই। যেমন চাইবেন কেটেকুটে, পরিষ্কার করে ঝলমলে পলিপ্যাকে সিল করে হাতে তুলে দেবে ডেলিভারি বয়। বাজারের সেই সুখ, সেই উদ্‌বেগ, সেই টানটান উত্তেজনা আর নেই।

    ছবিতে দেখি, এই ঘোর করোনাকালে, কলকাতার বাজারে ইলিশের ঝাঁক আর মানুষের দঙ্গল। আরে ওই ঠেলাঠেলিতে ধুতিলুঙ্গির ঠিক থাকে না, তো মাস্ক আর কে সামলায়? পকেটে থাকলেই যথেষ্ট। সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং-এর বদলে ইলিশ ইন্টিমেসি। সত্যি, বাঙালির উপরে বিশ্বাস ফিরে আসে। মহামারির মুখোমুখি নির্ভীক জনতার হুলোহুলি।

    এইসব আদিখ্যেতা নিয়ে রাগারাগি করেন কেন আপনারা বলুন তো? সেই যে “মন্বন্তরে মরি না আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি।” ছোটোবেলায় তো খুব শিখালেন। সেটা খেয়াল আছে? ভাবসম্প্রসারণ করো রে, ব্যাখ্যা লেখো রে, কবি কী বলিতে চাহিয়াছিলেন সেটার সাতকাহন গুছিয়ে লেখো রে—কত হাঙ্গামা করে দিন কাটল। আর এখন বারবার বারণ করলে লোকে শুনবেই বা কেন? এরপর থেকে ইশকুলে কোন্‌ কবিতাটা পাঠ্য রাখবেন সেই নিয়ে একবার চিন্তাভাবনা করে নেবেন।

    কুতুহলে নেট ঘেঁটে দেখি কতরকমের মাছ আছে দুই বাংলার খালে, বিলে, নদীতে? ওরে বাব্বা, প্রায় আড়াইশো ছাড়িয়ে গেল তো। প্রায় অনেকটাই অচেনা মাছ। কয়েকটি বিলুপ্তির পথে, আবার কিছু প্রায় হারিয়ে যাওয়া মাছের আবার পুনর্জীবনের পালা চলেছে। আর এ তো শুধু স্বাদু জলের মাছ। নোনা জল আর মোহনার মাছ ধরলে আরও বেড়ে যাবে।

    তার সাথে বিদেশি মাছও সহজলভ্য হচ্ছে। হই হই করে বাজারে ও হেঁশেলে ঢুকে পড়ছে ম্যাকারেল, আর বাসা, আর মাহি মাহি। ভাজা মাজা করে ফাসক্লাস খাওয়া চলে।

    রান্নাতেও হঠাৎ করে বাজার ছেয়ে ফেলে ডাবচিংড়ি। কবির ভাষায় বলতে করে ইচ্ছে হয়ে ছিলি মনের মাঝারে। হঠাৎ করে একেবারে হইচই ফেলে বাজার মাত করে ফেলল। সে কী, আপনি এখনও ডাবচিংড়ি ‘ট্রাই করেননি’? ‘না’ শুনলে সবাই কেমন করে জানি তাকায়। ঠিক তাচ্ছিল্য নয়, কিন্তু কেমন অস্বস্তি হয়। কিছুদিন আগেই, অমনভাবেই নলেনগুড়ের আইসক্রিম কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাঙলির জীভাত্মা।

    ছোটোবেলায় যখন কেউ জিজ্ঞেস করত কলকাতায় ভালো বাঙালি রেস্টুরেন্ট কোথায় তো বলতে হত পুরীতে। শ্যালদা বা আপিসপাড়ায় পাইস হোটেল ছাড়া বাঙালি রান্নার একটাই জায়গা ছিল, সেটা এলিয়ট রোডে সুরুচিতে। আর কোত্থাও নেই। আর এখন দেখুন, কতরকমের বাঙালি খাওয়ার দোকান যে পথেঘাটে। কুচো চিংড়ি দিয়ে কচুর লতি, মাছের ডিমের বড়া, বকফুল ভাজা মায় ঝালমুড়ি আর কাচের গেলাসে চা—সব পাবেন এয়ার কন্ডিশন্ড ঘরে বসেই। একেবারে গভীর থেকে গভীরতর অন্তরঙ্গ বাঙালিয়ানা, একেবারে ঝকঝকে প্যাকেজে।

    তপনমোহনবাবুর স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন ইলিশ স্নবারির কথা। বাগবাজার ঘাট থেকে সদ্য তোলা ইলিশ নিয়ে প্রতিবেশীকে দিতে গেলে তিনি নারাজ হন, ‘বাবুঘাটের মাছ ছাড়া আমরা ইলিশ খেতে পারিনে, শক্ত লাগে’। সেরকম দেখছি ইলিশ নিয়েও খুব জাতপাতের হাঙ্গামা। সবচে সেরা বরিশালের ইলিশ। সে নাকি এমনই নরমসরম যে রাঁধবার দরকারই হয় না। কটমট করে তাকালেই দিব্যি সুস্বাদু হয়ে যায়। আর যা দাম, হাতে দস্তানা না পরে ছোঁয়াই যায় না। তবে সেরা ইলিশ খেতে হলে নাকি ক্যালিফোর্নিয়া যেতে হয়, বাংলাদেশের সেরাতম ইলিশ ডলারে বিককিরি হয়ে চলে যায় সেই সাগরপারে।

    তা এত মাছামাছির পর এই মাসের রেসিপিটাও তো মাছেরই হওয়ার কথা? তাই তো? কিন্তু আমি ভেবে দেখলাম বাঙালি মতে মাছের নতুন কোনো রেসিপি নেই। হয়ই না। ঝাল, ঝোল, কালিয়া—সে আপনি যে নামেই ডাকুন না কেন, দেখবেন হরেদরে মালমশলা একই। যুগ যুগ ধরে। তাও আবার খেয়েদেয়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিটি বলবেন, “আরে মাছ ভালো হলে আর রান্নার ভালোই বা কী আর মন্দই বা কী? মাছ তার স্বগুণেই রান্নাকে এসপার উসপার করে দেবে”, বলে জুলজুল করে আর-এক পিসের দিকে তাকিয়ে থাকবে।

    বরং চিংড়ির পুলাও খান।

    না। না, না। জাস্ট চিংড়ির পুলাও বললে ঠিক ইম্প্যাক্টটা আসছে না। এই ভাবে বলতে পারেন ‘প্রণবাটারি পিলাফ: একটি পোস্ট কলোনিয়াল প্রয়াস ও প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের প্যারালেলোগ্রাম’। হ্যাঁ, এটা জমবে।

    আর-একটা কথা, যারা ভুঁড়িকে ভয় পান, কোলেস্টরলের নামে ভিরমি খান—এই রান্না তাদের জন্য নয়। সেরকম ভীতু রান্না আমি জানিও না, খাইও না।

    দেখুন, চিংড়ি সে আপনি কুঁচোও নিতে পারেন। কিন্তু অত হাঙ্গামা কি আপনাদের সইবে? বরং এই ছোটো সাইজের চিংড়ি নিন। একেবারে কুঁচো না।

    (১) বাসমতী চালের ভাত বানিয়ে গরম অবস্থাতেই দিন ঢেলে মাখন (মাখুম), নুন, গোলমরিচ আর কিছুটা দুধ। মাখনটা দেবেন কিন্তু বুক ফুলিয়ে, রাজার মতন।
    (২) আর সর্ষে ফোড়োন দিয়ে দিন রসুনকুচি আর চিংড়ি। অল্প নেড়েচেড়ে দিন ওই ভাতের মধ্যে ঢেলে।
    (৩) এইবারে ফয়েল দিয়ে ঢেকে মিনিট দশেক ওভেনে বেক করুন।

    ব্যাস ব্যাস, খেল খতম। এবারে খান।

    ** আচ্ছা, এই যে আমি গান্ডেপিন্ডে রেসিপি দিয়ে যাচ্ছি তো যাচ্ছিই, আপনারা কি এতই অলস যে একটাও ট্রাই করেননি? নাকি এতই নিষ্ঠুর যে কেমন লাগল সেটাও জানাবেন না বলে স্থির করেছেন?




    গ্রাফিক্স: সায়ন কর ভৌমিক
  • বিভাগ : খ্যাঁটন | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ | ১০৪৯ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সম্বিৎ | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ১৩:৪৮100881
  • প্রথমটা ট্রায়াল বল ছিল। দ্বিতীয়তে কানায় লেগে থার্ডম্যানে দু রান। কিন্তু এই তিন নম্বর বল থেকে শেহবাগ ফুল ফর্মে।

  • | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ১৪:০৮100886
  • জ্জিয়োহ ডিডি। 


    হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাগের পর্বের ঐ অলু পটলের দমটা তো আমি  করি। আপনি দেবার আগে থেকেই করি। হেঁ হেঁ। 

  • kk | 97.91.195.43 | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ২১:১১100897
  • তাহলে কি ঐ রোহিত মুনির নামেই রুই মাছ?

  • r2h | 73.106.235.66 | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:৪১100905
  • সে কোনকালে কবি লিখেছিলেন 'মাছের বাজার হলো সারা যাবো যাদবপুর'।

  • | 2601:247:4280:d10:341c:b74c:42d9:9463 | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ০৫:০৩100906
  • সর্ষেও কি হাত খুলে দেব? তুমি ক্যালিফোর্নিয়াকে টেনে খেলিও না,সবচে ভালো ইলিশ শিকাগোতে পাওয়া যায়:-) 

  • dd | 49.207.197.26 | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ০৯:১৪100916
  • @বৌমা, আরে সর্ষে তো ফোড়োন মাত্র। উটি উদাসীন ভাবে এক চা চামোচই যথেষ্ট।

    @কেকে। মুনির নামে মাছ না মাছের নামে মুনি? এ প্রশ্নের উত্তর আমার তো জানা নেই। তবে এ টুকু বলতে পারি ফেলুদার ভাইএর জন্মের আগের থেকেই তোপশে মাছ ছিলো।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন