• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  রাজনীতি  শনিবারবেলা

  • ভাটপাড়া তথ্যানুসন্ধান - ৩

    আমরা এক সচেতন প্রয়াস
    ধারাবাহিক | রাজনীতি | ২৩ আগস্ট ২০২০ | ১২৩৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • হাসিনা বানু এবং আজিম মিয়াঁ

    ২০১৯-এর ১১ আগস্ট জগদ্দল স্টেশনের ১ নং প্ল্যাটফর্মে আমরা এই বয়স্ক দম্পতিকে দেখতে পাই। দাঙ্গার জন্য তাঁরা তাঁদের ভাড়াবাড়ি থেকে উৎখাত হয়েছেন। বাড়ির মালিক কুন্দন শাউ একরকম দাঙ্গার সুযোগ নিয়ে ওনাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অশীতিপর আজিম মিয়াঁ একজন রিকশা চালক। ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। ওনাদের সঙ্গে আমাদের কথোপকথনের একটি সারসংক্ষেপ নীচে দেওয়া হল।

    আজিম মিয়াঁ এবং হাসিনা বানু: দাঙ্গাকারীদের ধমকানিতে আমরা এখানে পালিয়ে এসছি। ওরা আমাদের বোমার ভয় দেখিয়েছিল। জগদ্দল থানায় গেছিলাম—কোনো ডায়রি নেয়নি। আমরা গত একমাস ধরে আমরা ওনাদের (পুলিশের) হাতেপায়ে ধরেছি।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টির সুপারিশের পর গত মঙ্গলবার ওনারা এখানে এসেছিলেন। আমাদের ছবি তুলেছেন। পুলিশ ওদের আমাদের ভাড়ার ঘরটা খুলে দিতে বলে, কিন্তু ওরা শোনেনি । বাড়িওয়ালা পুলিশকে বলেছে আমরা নাকি খারাপ লোক। ৪২ বছর ধরে আমরা এখানে আছি, কেউ কোনোদিন কোনো আপত্তি জানায়নি। আর আজ হঠাৎ করে আমরা খারাপ লোক হয়ে গেলাম।

    পুলিশ ওদেরকে বলেছিল দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করতে থানায় আসতে, কিন্তু ওরা রাজি হয়নি। পুলিশ ওদেরকে ঠিকঠাক কাগজপত্র দেখাতে বলেছিল, ওদের দাবি আমরা নাকি বেআইনি ভাবে আছি। বাড়িওয়ালি জানান যে ওনার স্বামী এখন হাওড়ায় কাজে আছেন, তাই এখন কিছু দেখাতে পারবেন না। তাই ঠিক হল রোববার দেখা করা হবে কারণ ওইদিন বাড়িওয়ালা বাড়ি থাকেন। আমাদের যেমন বলা হয়েছিল সেই অনুযায়ী আমরা সকাল ১১ টায় হাজির হলাম, কিন্তু ওরা ২ টো অবধি আসেনি। আমরা পুলিশকে বললাম “আমরা স্নান-খাওয়া না করে যে সময়ে বলা হয়েছে ঠিক সেই সময়েই এসছি, ওনাদের একটু বলুন। একটু ডাকুন ওনাদের, একটা সমঝোতার ব্যাবস্থা করুন।” পুলিশ ওদের ডেকে কাগজ দেখাতে বললে ওনারা কিছু কাগজপত্র দেখান। পুলিশ বলল, “এগুলো জাল কাগজ, এসব দেখাবেন না।” পুলিশ ওনাদের তিনদিনের মধ্যে কোর্টের কাগজ দেখাতে নির্দেশ দিল। আমরা দুই বুড়োবুড়ি এদিক-সেদিক ঘুরে, সবার হাতেপায়ে ধরে সাহায্য চাইলাম—পাড়া, প্রতিবেশী, বন্ধু, শত্রু—সবার কাছে। কিন্তু সবাই খালি হাতে ফিরিয়ে দিল। (এই কথা বলতে বলতে হাসিনা বানু হাঁপিয়ে উঠলেন এবং প্রায় কেঁদে ফেললেন)।

    ‘আমরা’: আর তারপর?
    আজিম মিয়াঁ: আমাদের একজন জানাল যে ওরা কোর্ট পেপার পেয়ে গেছে। “তোমাদের আর কিছু করার নেই”—একথাও বলল।
    ‘আমরা’: সেই থেকে আপনারা জগদ্দল স্টেশনে আছেন?
    হাসিনা বানু: হাঁ বেটা, কাঁহা যাঁয়ে? (হ্যাঁ বাবা, কোথায় যাব?)
    ‘আমরা’: আপনাদের ছেলেমেয়েরা?
    হাসিনা বানু: ওদের নিজেদেরই অবস্থা ভালো নয়। পয়সাকড়ি নেই, আর নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। গরিব বাবা-মার জন্য জায়গা নেই ওদের ঘরে।
    ‘আমরা’: এই দাঙ্গার আগে কখনও কোনোরকম সমস্যা হয়েছে?
    হাসিনা বানু: একদিনও নয়। আমাদের নিজের ছেলেমেয়েরা আমাদের দেখে না, কিন্তু এরা কখনও অবহেলা করেনি।
    ‘আমরা’: এরা কারা?
    হাসিনা বানু: আমাদের প্রতিবেশীরা। হিন্দু প্রতিবেশীরা। কিন্তু এইবার তারা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল।
    আজিম মিয়াঁ: ইয়ে রাজনীতি কি কারণ হুয়া (এসব রাজনীতির জন্য)। বিজেপি বনাম তৃণমূল মানে হিন্দু বনাম মুসলিম। আমরা মাঝখান থেকে ফুটবল হয়ে গেলাম।
    ‘আমরা’: মানে আপনি বলছেন পুরোটাই রাজনীতি, ধর্মের কোনো ব্যাপার নেই?
    আজিম মিয়াঁ: কিচ্ছু না। আমার গাঁটের ব্যাথা আছে। আমাদের কে দেখবে?
    হাসিনা বানু: ওনাকে ওষুধ নিতে হাসপাতাল যেতে হয়। আমাদের ঘরবাড়ি, রুজিরোজগার—সব গেল।
    ‘আমরা’: স্থানীয় প্রশাসন কিছু সাহায্য করেনি?
    হাসিনা বানু: না, আপনাদের মতন কিছু মানুষ কিছু অর্থ সাহায্য করেছেন। সামনে ইদ-উল ফিতর আসছে। কী করে পালন করব জানি না।

    এই দম্পতি মিডিয়া কভারেজ পেয়েছেন। সমাজকর্মীরা উল্লিখিত ১ নং প্ল্যাটফর্মে শীঘ্রই পৌঁছায়। কিন্তু তাঁদের দুরবস্থা ঘোচেনি। এই বৃদ্ধ দম্পতির সাম্প্রতিকতম পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। কয়েক মাস পর পুলিশের তত্ত্বাবধানে ওনাদের জগদ্দলের বাবু কোয়ার্টার সংলগ্ন ললিতা হাই স্কুলের একটি ৮/৮ ঘরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছবি তোলাতুলি সব শেষ, ওনারা আবার যে কে সেই অবস্থায় রয়ে গেলেন।

    তথ্যকাহিনি

    জগদ্দল বড়ো মসজিদের সংলগ্ন একটি ছোটো জামাকাপড়ের দোকান আছে, যার মালিক মহ. আইয়ুব। দাঙ্গাকারীরা সেই দোকান থেকে প্রায় ২৪০০০ টাকা মূল্যের জিনিস লুটপাট করেছে। ঠিক তার উলটোদিকের আগরওয়ালদের জামাকাপড়ের বড়ো দোকানটা কিন্তু অক্ষত রয়েছে।

    ইরফান কমিউনিকেশন সেন্টারকে বিজেপি পার্টি অফিসে রূপান্তরিত করা হয়েছে। মানিক পির এলাকার মহ. জাভেদের বাড়ি দখল করে বিজেপি পার্টি অফিস বানিয়েছে।
    হিন্দু সম্প্রদায়ের আহত বা নিহত ব্যক্তিদের পরিজনরা জানান যে মুসলিম দুষ্কৃতকারীরা পুলিশ সেজে এসছিল। ওনারা সেই দুষ্কৃতকারীদের চপ্পল দেখে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেন।

    আর-একটি কথোপকথন

    ২০১৯-এর ১১ আগস্ট আমরা স্টেশনের রাস্তা ধরে ঘোষপাড়া রোড দিয়ে টিন গুদাম বস্তিতে উপস্থিত হলাম। নতুন পুলিশথানার কাছে আমরা আমাদের দলের আর-একজন সদস্যের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। জয়চন বিবি নামে এক মাঝবয়সি মহিলা সিগারেট আর পায়রা বিক্রি করছিলেন। তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন “আপনারা কি তথ্য সংগ্রহ করতে এসছেন?”

    ‘আমরা’: একথা জিজ্ঞেস করছেন কেন? আপনি কি আমাদের কিছু জানাতে চান?
    জয়চন বিবি: ওরা সব লুট করে নিয়ে গেছে। আর কিচ্ছু নেই।
    ‘আমরা’: কী হয়েছিল?
    জয়চন বিবি: আমার বউমা বাড়িতে একা ছিল। ও ভয়ে পালাল আর ওরা সব লুট করে নিল।
    ‘আমরা’: এসব কবে হল?
    জয়চন বিবি: ইলেকশনের পরের দিন (আসলে নির্বাচনি ফলাফল বেরনোর পরের দিন, ২৪/৫/২০১৯)।
    ‘আমরা’: এসব কে বা কারা করেছে জানেন?
    জয়চন বিবি: আমি ছিলাম না। আমার বউমা ভয়ে পালিয়েছিল। এখনও অবধি কিছুই মেরামত হয়নি।
    (এমন সময় একজন ভদ্রলোক এসে ওনার ছেলে বলে পরিচয় দিলেন এবং এফআইআর-এর একটা কপি আমাদের দেখালেন।)
    ‘আমরা’: আপনারা থাকতেন কোথায়?
    জয়চন বিবি: আসুন, আমি দেখাচ্ছি।
    ‘আমরা’: লুটপাটের সময় আপনাদের কী কী খোয়া গেছে?
    জয়চন বিবি: রাতে হয়েছিল। ফ্রিজ, টিভি আর যত বাক্স ছিল সব গেছে।

    যেতে যেতে কপিল যাদব বলে একজনের সঙ্গে দেখা হল। লোকটি একজন গো-পালক, সঙ্গে গোরুর পাল, সেগুলো এদিক ওদিক চরে বেড়াচ্ছে। ওনার একটি বাছুর মারা গেছে বোমায়।

    কপিল যাদব: দেখুন, এই গোরুগুলো আমাদের সন্তানের মতন। বুঝলেন? এখন, এই যে গোরু মারা গেল, এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
    রজক: সরকার থেকে কিছু করেনি?
    কপিল যাদব: সরকার আর কতটা করতে পারে? ৫০০০ টাকা নিয়ে আমি কী করব?
    রজক: ওই ঘটনার পর কেউ আসেনি আপনাদের কাছে?
    কপিল যাদব: হ্যাঁ, অর্জুন সিংহ আর ওনার ছেলে পবন সিংহ দুজনেই এসছিলেন।
    রজক: আপনি পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন?
    কপিল যাদব: কী হবে? অর্জুন সিংহ তো আমায় বললেন পুলিশে জানাতে। কিন্তু অভিযোগ করে আর ৫০০০ টাকা নিয়ে আমি আমার নাম খারাপ করতে চাই না। আমি আমার ব্যবস্থা করে নেব।
    ‘আমরা’: রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কেউ আসেনি?
    কপিল যাদব: না, সরকার থেকে কেউ আসেনি।
    ‘আমরা’: ক-টা গোরু মারা গেছে?
    কপিল যাদব: দুটো গোরু, দুটো বাছুর।
    ‘আমরা’: ঘটনাটা কবে ঘটেছে?
    কপিল যাদব: ২১ তারিখ। জানেন তো ১৯ তারিখ এখানে নির্বাচন ছিল (বিধানসভা উপনির্বাচন)। তারপর হয়েছে। সকালে সবার চোখের সামনে হয়েছে দিনের আলোয়। তখন ৮.৩০ টা বাজছিল।
    ‘আমরা’: আপনি অভিযোগ নথিভুক্ত কেন করলেন না?
    কপিল যাদব: কী হবে? ওরা তো অভিযোগ নেয়ই না। উলটে আমাদের উপর চড়াও হয়ে আমাদেরকেই থানায় নিয়ে গিয়ে হয়রান করে।

    টিন গুদাম এলাকা পরিদর্শন

    আমরা জুটমিল শ্রমিকদের টিন গুদাম বস্তিতে পৌঁছালাম। সাম্প্রদায়িক হিংসায় এই বস্তি বাজে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে পাটের একটা বড়ো গুদাম ছিল, যেটার ছাদটা ছিল টিন দিয়ে তৈরি। সেখান থেকেই এই এলাকার নাম হয়েছে টিন গুদাম। আমরা দেখলাম যে APDR-এর সদস্যরা দাঙ্গায় আক্রান্ত পরিবারগুলির একটা তালিকা বানাচ্ছে, আমাদের দলের কয়েকজন সদস্যও তাতে যোগ দিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রছাত্রীদের বইখাতা কিনে দেওয়া যাতে তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবার লেখাপড়া চালু করতে পারে। পরের দিন ইদ থাকার দরুন স্থানীয় ছেলেরা একটি জায়গাকে ভালো করে সাজাচ্ছিল। যেখানে তাজিয়া রাখা রয়েছে, সেখানেই দেখলাম জয় শ্রী রাম কাট আউটও রাখা রয়েছে। লোকের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলে বুঝতে পারলাম যে এখানকার মানুষজন স্পষ্টতই সহাবস্থান করেন। সেখান থেকে আমরা গিয়ে পৌঁছালাম কাঁকিনাড়া জুট মিল সংলগ্ন বস্তিতে। আমাদের বুঝতে হবে, জুটমিলের কোয়ার্টার সংলগ্ন খালি জমি দখল করে মানুষজন এইসমস্ত বস্তি তৈরি করেছে।

    আমরা টিন গুদামের বাসিন্দা সায়েদা খাতুনের সঙ্গে দেখা করলাম। উনি পেশায় কাগজকুড়ানি। ওনার স্বল্প আয় থেকে মেয়ের বিয়ের জন্য যা উনি জমিয়েছিলেন, দুষ্কৃতকারীরা সব লুট করে নিয়েছে। ১৯ জুন ২০১৯-এর রাতে ওই ঘটনা ঘটে। এর ঠিক দুদিন পর, ২১ তারিখ দুষ্কৃতকারীরা আবার ফিরে আসে, আর এইবার তারা ওনার ঘরের টিভি, ইলেকট্রিক পাখা প্রভৃতি লুট করে নিয়ে যায়। দরিদ্র সায়েদা খাতুন ওই ঘটনার পর আর বাড়ি ফেরেননি।

    আমাদের কাছে আরও খবর এল যে একটি নিষিদ্ধ পল্লীও তৈরি হয়েছে এলাকায়। আমাদের দলের সদস্য এবং স্থানীয় কর্মী বিজয় রজক জানালেন, “আসলে পরের দিকে জুট মিল থেকে সেভাবে টাকা আসত না। মালিকরা শ্রমিকদের শোষণ করতে শুরু করলেন। এমনকি আমরা দেখেছি কোনো শ্রমিক মিলের মধ্যে মারা গেলে ওনারা তাঁর মৃতদেহ মিলের বাইরে এনে ফেলে দিতেন, যাতে তাঁর পরিবারের লোকেরা ক্ষতিপূরণ দাবি না করতে পারে। ওনারা অবসরপ্রাপ্ত লোকেদের দিয়েও স্বল্প বেতনে কাজ করাচ্ছেন। শ্রমিক বিক্ষোভও তাই আজ একটি বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দর্মা লাইন পরিদর্শন

    দাঙ্গা-আক্রান্ত বস্তিগুলির মধ্যে দর্মা লাইনের মুসলিম বস্তি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানকার ৩২ টি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি লুট করে ধ্বংস করেছে দাঙ্গাকারীরা। এই রিপোর্টের শেষ অনুচ্ছেদে দুজন যুবকের বিবরণ অনুযায়ী লুঠতরাজের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

    ৫ নং রেলওয়ে সাইডিং-এর ২৪ নং বাড়ি

    এখানে ৩২ টি ঘরে ২৪ টি হিন্দু পরিবারের বাস। দর্মা লাইন এবং টিন গুদামের মতোই একই ভাবে এখানেও ধ্বংসলীলা চালানো হয়। এটি ভাটপাড়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এবং মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। হিন্দু মানেই বিজেপি ভোটার—এই সহজ অঙ্ক অনুসরণ করে তৃণমূল নেতা মদন মিত্র এবং তাঁর গুণ্ডারা ওদের নিশানা করেছিলেন। আমরা জানতে পারি, তৃণমূল কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের নেতৃত্বে হিন্দু ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং লুটপাট করা হয়েছিল।

    প্রায় ১৫ জন ছাত্রছাত্রী তাদের বইপত্র হারিয়েছে। আর্থিক দুরবস্থা সত্ত্বেও নিশা মাহাতো নামে এক ছাত্রী ব্যারাকপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভরতির সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু দাঙ্গার কারণে দর্মা লাইনের তমন্না পারভিনের মতোই এই মেয়েটিরও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। পরিবারদুটি তাদের ক্ষয়ক্ষতির যে বিবরণ দিয়েছে, তা এখানে তুলে ধরা হল।

    অমর শাউ ভাটপাড়া রিলায়েন্স জুটমিল থেকে অবসর নেবার পর প্রায় ২ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। অবসরের পর উনি ২৪ নং বাড়ির সামনে তাঁর চায়ের দোকান খোলেন। ইলেকট্রিকের কাজ জানায় উনি সেই সূত্রে অতিরিক্ত কিছু আয় করতে পারতেন। “কিন্তু এই দাঙ্গা আমায় ভিখারি বানিয়ে দিল”—উনি বললেন ।

    অমর শাউ আরও বললেন:
    “আমার ছোটোমেয়ে মিনাকুমারী শাউ-এর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। তাই আমি ব্যাংক থেকে একলাখ টাকা তুলেছিলাম। দাঙ্গাকারীরা সেই পুরো টাকা লুট করেছে, সব সোনার গয়না চুরি করেছে, ছট পূজার বাসনপত্র চুরি করেছে, আর রোজকার ব্যবহারের বাসনপত্রও চুরি করেছে। এমনকি ইলেকট্রিক পাখাটাও নিয়ে গেছে—ওটা আমার মেরামত করে খদ্দেরকে ফেরত দেবার কথা ছিল। আমার চায়ের দোকানটা পর্যন্ত লুট করেছে।”

    উনি একটু থামেলন এবং আমরা জিজ্ঞেস করলাম কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কি না।

    “আমি সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের সাহায্য পেয়েছিলাম। ওনারা আমায় ৩০০০ টাকা দিলেছিলেন। রাজ্য সরকার থেকে আমরা ২.৫ লাখ টাকা পেলাম। সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা গরিব শ্রমিক। আমাদের রাজনীতির সঙ্গে কোনো যোগ নেই। আমরা খুব ভয়ে ভয়ে আছি। আমার স্ত্রী ২০১৯-এর ২১ মে হার্টফেল করে মারা যান। এখন আমার মেয়ের বিয়ের একমাত্র উপায় চায়ের দোকান বিক্রি করা।”

    ২৪ নং বাড়ির ঠিক উলটো দিকে ধর্মেন্দ্রপ্রসাদের মোবাইল ফোনের দোকানও লুট করা হয়েছে।

    কিন্তু টিন গুদাম, দর্মা লাইন, এবং ২৪ নং বাড়িতে লুটের প্রেক্ষিত কী ছিল? আমরা জানতে পারি যে এর পিছনে এমন কিছু কারণ রয়েছে, যার শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত, আর রয়েছে ইন্ধন জোগানোর ঘটনা। ভাটপাড়া বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং তৃণমূলের যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অর্জুন সিংহের ছেলে পবন সিংহের বিরুদ্ধে মদন মিত্রকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়। অর্জুন সিংহ ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজয়ী হওয়ার ফলে, তাঁকে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। আর তার ফলেই ভাটপাড়া বিধানসভায় বিধায়কের আসনটি খালি হয়। মদন মিত্রের কাছে এটা ছিল ‘ওয়াটারলুর যুদ্ধ’র সমান। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার বাঁচানোর জন্য এই নির্বাচন তাঁকে জিততেই হত। এদিকে পবন সিংহকেও তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বজায় রাখতে হত। শেষপর্যন্ত, অর্জুন সিংহকে প্রমাণ করতে হত যে উনি ভাটপাড়ার ‘আল্টিমেট হিরো’। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির লক্ষ্য ছিল হিন্দু ভোটগুলি একত্রিত করা। তৃণমূল বুঝতে পেরেছিল যে এই যুদ্ধে তারা হেরে গেছে, তাই তারা নিজেদের মুসলিমদের ত্রাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করছিল। স্পষ্টতই, এটা ছিল অর্জুন সিংহের অস্ত্র এবং পেশি-শক্তি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে পালটা আক্রমণের এক প্রচেষ্টা। ২০১৮-তেও পঞ্চায়েত নির্বাচন জেতার জন্য তৃণমূল ওনাকে ব্যবহার করেছিল। ভাটপাড়ার গরিব, প্রান্তিক মানুষদের কাছে এই যুদ্ধের বোড়ে হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

    সক্রিয় কর্মী বিজয় রজকের সঙ্গে কথোপকথন এবং পরিদর্শন

    রজক: জন্মসূত্রে হিন্দু হলেও আমি কাঁকিনাড়া মসজিদে আমার মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে নামাজ পড়েছি। পরে আমার দারুণ হাসি পেয়েছিল। আমি ওই ধরনের রীতিনীতি গম্ভীরভাবে পালন করতে পারিনি। জানেনই তো, ছেলেছোকরার দল! আমরা কাছকাছি একজায়গায় ব্যায়াম করতাম। এই মসজিদের (জুট মিলের লাগোয়া মসজিদ) মৌলবি আমায় খুব ভালোবাসতেন। মসজিদের জমির গাছের কাঁঠাল আমায় খেতে দিতেন। সম্পর্কটা এমনই ছিল।
    ‘আমরা’: পরিস্থিতি কবে থেকে বদলাতে শুরু করল?
    রজক: দেখুন, এই দাঙ্গা কিন্তু হিন্দু-মুসলিমের ব্যাপার নয়, পুরোটাই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের পরিণতি।
    ‘আমরা’: এখানে রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত আসছে কোত্থেকে?
    রজক: জানেনই তো, স্থানীয় গুণ্ডাদের সঙ্গে মিল মালিকদের বোঝাপড়া একটা আছে। এই গুণ্ডারা শ্রমিকদের কাজ দেয় আর শ্রমিক-মালিক দু-তরফ থেকেই টাকা খায়। মালিকরা কম পয়সায় শ্রমিক পায় আর শ্রমিকরা কাজ পায়। ব্যাস সবাই খুশি। অনেক টাকা তোলাবাজি হয়, তাই জন্যই এখানে এত গুণ্ডা। ওরা আসলে মধ্যস্বত্বভোগী।

    ছোটোবেলা থেকে এখানে থাকার দরুন রজক বাবু এই এলাকার অনেক কিছু জানেন। এখানে দুটো বড়ো মাঠ আছে। একটা হচ্ছে টিন গুদামের মাঠ, আর-একটা পানি ট্যাঙ্কির মাঠ। আমাদের একটা মাঠ দেখিয়ে উনি বলেন, “এখানে খুঁজলে আপনারা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য বোমাও পেতে পারেন।” পরে আমরা এমন একজনের সঙ্গে বলি যিনি নিজেকে একজন পেশাদার বোমাবাজ বলে মনে করেন। তিনি অনেক কথাই বললেন। (এই রিপোর্টে সেই সাক্ষাৎকার যোগ করা হয়েছে)।

    আমরা বিভিন্ন মানুষজনের সঙ্গে দেখা করব বলে বিজয় রজকের সঙ্গে হাঁটছিলাম এবং আলোচনা চালাচ্ছিলাম। মাঝেমধ্যে স্থানীয় মানুষরা আমাদের আলোচনায় যোগ দিচ্ছিলেন। যেমন, জুট মিল ইউনিয়নের বিষয়ে কথা হচ্ছিল। বন্ধ ট্রেড ইউনিয়ন অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ঠিকাকর্মী রাম কুমার জানালেন, এই ট্রেড ইউনিয়নগুলি কোনোদিনই শাসকদলের অধীনে ছিল না। বিজয় বলে চললেন, এমনটাই হয়ে আসছে। এমনকি বাম জামানায়ও তাই-ই ছিল। ক্ষমতায় থাকাকালীন বাম দলগুলো কখনো-সখনো ইউনিয়ন দখল করলেও, সেটা দখলই ছিল, কখনোই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে পরিবর্তিত হয়নি। রাম কুমার বললেন, “তবে বাস্তবে কোনো ইউনিয়ন, কেউই আমাদের স্বার্থে কোনো লড়াই করেনি। সব দিক থেকে আমরা শুধু বঞ্চিতই হয়েছি।”

    আমরা হেঁটে চললাম; একটা দোকানে চা খেতে দাঁড়ালাম। বিজয় আমাদের এখানকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বলেই চলেছেন। এখানে চাওয়ালা এবং আরও অনেকে তাতে অংশগ্রহণ করলেন। বিজয় বলেন, “বিজেপির স্থানীয় লোকজনের মধ্যে একটা সুপ্ত ঘৃণা রয়েছে কারণ অর্জুন সিংহ বিজেপিতে যোগদান করেছেন। মালিক থেকে শ্রমিক সবাই এই সিদ্ধান্তে বিরক্ত। আমি লোকজনকে সরাসরি বলতে শুনেছি—‘ওনাকে কেন নিচ্ছেন? উনি সব শেষ করে দেবেন।’ এর জবাবে বিজেপি বলেছিল, “উনি আগে যা করেছেন এখন আর তা করতে পারবেন না। বিজেপি ওঁকে সামলাতে জানে।” এবার ওই চাওয়ালা বললেন, “কিছুই পালটায়নি। এখন ভাটপাড়া মানেই দাঙ্গা, বোমা আর আগুন।”

    ‘আমরা’: ভাটপাড়ার এই বদনাম আপনার খারাপ লাগে, তাই না?
    চাওয়ালা: লাগবে না? আমাদের লজ্জা লাগে। এমনকি আমাদের যেসব আত্মীয়স্বজন পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জায়গায় থাকে, তারা আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করে, বলে, “ভাটপাড়া, না ভ্যাটপাড়া—বোমার ভ্যাট!”
    ‘আমরা’: দাঙ্গার আগে সব ধর্মের মানুষ আপনার দোকানে আসতেন। এখন কিছু পালটেছে বলে মনে হয়?
    চাওয়ালা: ভাঙছে, ভাঙছে, আর ভাঙছে, ওরা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের ভাগ করে দিল। বিজয়বাবুই ভালো বলতে পারবেন।

    বিজয় রজক ধর্মের ভিত্তিতে ভাগাভাগির উপর জোর দিলেন। উনি বলেন, তৃণমূল আর বিজেপি দুই দলই ধর্মের ভিত্তিতে সমর্থন খুঁজছে। তৃণমূল মানে মুসলিম আর বিজেপি মানে হিন্দু—এটাই হল এখানকার রাজনীতির অঙ্ক। এটা সামাজিক বিভেদকে আরও প্রকট করছে। কেউ হিন্দু হলে তাকে বিজেপি করতেই হবে, আর মুসলিম হলে তৃণমূল। না হলে টিকতে পারবে না। তৃণমূল পুরো ভুলভাবে পুলিশকে ব্যবহার করছে। পুলিশ স্থানীয় হিন্দুদের উপর অত্যাচার করছে—এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। “দর্মা লাইনে আপনারা দেখতে পাবেন যে তেল নিয়ে যাওয়ার টিন দিয়ে ওরা বাড়ি বানাচ্ছে। অমন ঘরে কেউ থাকতে পারে না। যদি করতেই হয় তাহলে ঠিক করে করুক! আসলে ওরা এই অশান্ত পরিস্থিতিটাই বজায় রাখতে চায়।”

    ‘আমরা’: আমাদের একটা কথা বলুন, এখানে কীরকম অস্ত্রশস্ত্র আছে?
    রজক: সংঘর্ষের সময় বারবার বোমা পড়ায় আমার বাড়ির বাইরের একদিকের পাঁচিল ভেঙে গেছে। বিজেপি দুটো বোম ফেললে তৃণমূল অন্তত আটটা ফেলবে। আমাদের বাড়িতেই হয়েছে। আমি জানি ওরা স্রেফ গুণ্ডা কিন্তু আমাদের বাড়ির লোকরা ওদের মধ্যেও হিন্দু-মুসলিম খুঁজতে ব্যস্ত। আমি ভোর ৪ টে – ৫ টা অবধি সংঘর্ষ চলতে দেখেছি। রাস্তার ঠিক যে জায়গায় দাঙ্গা হচ্ছে পুলিশ জেনে-বুঝে অন্য জায়গায় টহল দিচ্ছে। পুলিশের উপর কারও ভরসা নেই। সবাই কাকাকে বলছে কিছু করার জন্য। আমাদেরই কিছু করতে হবে (সমস্যা সমাধানের জন্য)। আমি ওদের বোঝাতে চেষ্টা করলাম, এসবের দরকার নেই। কিন্তু ওদের বয়স অল্প, ওরা আমার কথা শোনে না। ওরা অস্ত্র সংগ্রহ করছে। আমি একটা বাড়িতে গেলাম, ওদের বাড়িতে কোনো পুরুষমানুষ নেই। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোমাদের ভয় লাগে না? মহিলাটি বলল যে বাড়ির ছাদে কয়েকটা বোমা রাখা আছে। ওরা সামনের দরজা ভেঙে ঢুকতে চাইলে বাধা দিতে পারবে।
    ‘আমরা’: ‘ওরা’! এই ‘ওদের’ এরা কীভাবে দেখছেন? হিন্দু আর মুসলমান হিসেবে? নাকি গুন্ডা হিসেবে?
    রজক: এরা কিন্তু হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদটাই দেখছেন। আর এটা রাতারাতি হয়নি। অর্জুন সিংহ মুসলিম গুণ্ডাদের যথেষ্টই ব্যবহার করতেন। তৃণমূল করার সময় ওনার মুসলিমপ্রীতি এতটাই বেশি ছিল যে ওনাকে সবাই অর্জুন খান বলে ডাকত। ৮ নং ওয়ার্ড মুসলিম এলাকা। এই এলাকাটা সাধারণ হিন্দুরা এড়িয়েই চলে। আমি আপনাকে বলতে পারি, এখানে প্রচণ্ড রকমের বেআইনি কাজকর্ম চলে, এখানে বাচ্চারাও বোমাবাজি করে। পৌরসভা নির্বাচন নির্ভর করে কে ৮ নং ওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ করছে তার উপর। কিন্তু বিধানসভা বা লোকসভায় এদের উপর অতটা নির্ভর করার ব্যাপার নেই। মাঝে মাঝে মিডিয়াকে দেখানোর জন্য পুলিশ দেখায় যে গুণ্ডারা আত্মসমর্পণ করেছে। কে করছে আত্মসমর্পণ? এরা আত্মসমর্পণ করে আবার ফিরে আসে আর একই কাজ শুরু করে দেয়। অর্জুন সিংহকে টিকিট দিলে এসব কিছুই হত না। স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা অর্জুন সিংহকে পছন্দ করে না। স্থানীয় বিজেপির লোকজন চিঠি পর্যন্ত লিখেছিল ওনাকে টিকিট না দেবার আর্জি জানিয়ে। সত্যি বলতে কি, তৃণমূল বেশ কিছুদিন ধরে মুসলিম তাস খেলে আসছিল, কিন্তু মোদী আরও বড়ো খেলা খেলে দিলেন—হিন্দু তাস।
    ‘আমরা’: এই অঞ্চলে বরাবর ঝামেলা লেগেই থাকে। আগে তৃণমূল-সিপিআইএম-এর মধ্যে হত, মনে আছে? তখনও কি একইরকম অবস্থা ছিল? এরকমই বোমাবাজি চলত?
    রজক: আগে অনেক ছোটো ছোটো আর এলাকাভিত্তিক ঝামেলা হত। সিপিআইএম চাইলে লোকাল কমিটির মাধ্যমে এইসব ঝামেলা সামলে নিতে পারত। তৃণমূলের সেই মেশিনারি বা লোকবল নেই।
    ‘আমরা’: বাঙালি হিন্দুরা কাকে ভোট দিয়েছেন?
    রজক: বহু লোক এখানে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। ফ্যাক্টরি থেকে তোলাবাজি করেই হোক বা বিভিন্ন বেআইনি জিনিস থেকে—এখানে কালো টাকার অভাব নেই। এইসব দুর্নীতিগ্রস্ত লোকেদের অর্জুন সিংহকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। উনি বিজেপিতে যোগ না দিলে এমনকি বহু মুসলিমও ওনার দলে যোগ দিতেন। অর্জুন সিংহ খুশি মনে এইসব গুণ্ডাদের সঙ্গে ভাগ-বাঁটওয়ারা করে নিতেন আর সকলকেই কিছু না কিছু বখরা দিতেন। কিন্তু বিজেপি আর হিন্দুত্বের আদর্শ আসার পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। এখানে ঝামেলা করার লোকের অভাব নেই। অনেকের মনে হল মুসলিমরা বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু ওরা তো অনেকদিন আগে থেকেই বাড়াবাড়ি করছিল, সমস্যা হচ্ছে এবার হিন্দুরাও বাড়াবাড়ি শুরু করল ।

    আমরা চায়ের দোকান ছেড়ে এগোতে থাকলাম। আমরা সেইসব বাড়ির দিকে চললাম যাদের পরিবারের লোকজন নিহত হয়েছেন। বিজয় রজকের সঙ্গে কথাবার্তা চলতে থাকল। উনি বললেন যে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এখনও সম্পূর্ণ থামেনি। একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার জন্যই তা থামানো যায়নি। কোনো মসজিদে বোম পড়লে সঙ্গে সঙ্গে কাছের মন্দিরেও হামলা শুরু হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যেভাবে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ তৈরি হয়েছে তা রাতারাতি কাটবে না। এলাকা দখল এখনও জারি আছে। তৃণমূল পেশাদার গুণ্ডা আর প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে এলাকা দখল করছে। এটা স্পষ্টতই আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লড়াই। বিজেপির রাজনীতি আমরা জানি। ওরা দাঙ্গাবাজ। কিন্তু তৃণমূলও যে এই একই রাজনীতি করতে পারে, অধিকাংশ মানুষই সেটা বুঝতে পারছে না।

    বিভিন্ন এলাকা দিয়ে যাবার সময় আমরা পতাকা দেখে বুঝতে পারছিলাম সেগুলো কোন্‌ সম্প্রদায় অধ্যুষিত অঞ্চল। যেমন, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় কোনো পতাকা নেই, কিন্তু হিন্দুপ্রধান এলাকায় গেরুয়া পতাকা টাঙানো রয়েছে। এই ধরনের পতাকার বিস্তার আমাদের পরিষ্কার বুঝিয়ে দিতে থাকল যে আমরা কোন্‌ এলাকা দিয়ে যাচ্ছি।


    (ক্রমশঃ)




    থাম্বনেল গ্রাফিক্স: স্মিতা দাশগুপ্ত
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৩ আগস্ট ২০২০ | ১২৩৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৩ আগস্ট ২০২০ ১৯:২১96578
  • এটা পড়ছি নিয়মিত।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন