ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি

  • বিজেপির সাময়িক পশ্চাদপসরণ, সংখ্যালঘু-নিপীড়ন চলবে

    সোমনাথ গুহ
    আলোচনা | রাজনীতি | ১০ জুন ২০২২ | ২৮১০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)

  • মহানবী সম্পর্কে অবমাননামূলক মন্তব্যর জন্য বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র নূপুর শর্মাকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই বক্তব্য টুইট করার জন্য দলের দিল্লি শাখার নবীন জিন্দালকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বোঝাই যায় দলে নূপুর যথেষ্ট ওজনদার নেত্রী যে কারণে মূল বক্তব্যটি তাঁর হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে শুধুমাত্র সাসপেন্ড করা হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন কে এই নূপুর শর্মা? আশি নব্বইয়ের দশকে বিজেপির অতি পরিচিত মুখ ছিলেন বিজয়রাজে সিন্ধিয়া, গোয়ালিয়রের রাজমাতা। ১৯৮৭ সালে রাজস্থানে রূপ কানোয়ার যখন তাঁর স্বামীর চিতায় আত্মাহুতি দিয়েছিলেন তখন তিনি তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। সতীদাহ ফিরিয়ে আনার তাঁর এই প্রচেষ্টাকে সারা দেশ ধিক্কার জানিয়েছিল। তাঁর যোগ্য দুই উত্তরসূরি ছিলেন উমা ভারতী ও সাধ্বি রিতাম্ভারা। এঁরা ধর্মীয় বাতাবরণে, ধর্মীয় শিক্ষায় ও ধর্মগুরুদের আশ্রয়ে লালিত পালিত হয়েছেন। এঁদের বেশভূষা ছিল সাবেকি সাধ্বীদের মত, আদবকায়দা আটপৌরে, ভাষা কর্কশ, বিষময়, বেলাগাম ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানোয় এঁদের জুড়ি মেলা ছিল ভার।

    একবিংশ শতাব্দীর বিজেপিতে উপরোক্ত ধরণের নেত্রীরা পিছনে চলে গেছে। এখন তাঁদের পোস্টার গার্ল নূপুর শর্মা, মনিকা অরোরা, সোনালি চিতলকার, প্রেরণা মালহোত্রা। এঁরা উচ্চ শিক্ষিতা। মনিকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সোনালি ও প্রেরণা দিল্লির মিরান্ডা হাউস এবং রামলাল আনন্দ কলেজের অধ্যাপিকা। বিশ বছর আগেও বিজেপিকে মনে করা হতো একটা বানিয়াদের দল, দূরবীন দিয়ে খুঁজেও তাঁরা তাঁদের হয়ে বলার মত কোন বুদ্ধিজীবী পেতেন না। যুগ আমূল পাল্টে গেছে। ২০২০র দিল্লি ‘দাঙ্গা’র একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল এই প্রথম শাসক তাঁর পেটোয়া লোকজনদের দিয়ে একটি তথ্যানুসন্ধান রিপোর্ট তৈরি করে ফেলে। মনিকা, সোনালি ও প্রেরণা ছিল সেই রিপোর্টের কারিগর যাতে তাঁরা সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে, শাহীনবাগ, জামিয়া-জেএনইউতে প্রতিবাদ এবং অবশেষে ‘দাঙ্গা’, পুরোটাকেই একটা আর্বান নকশাল-জিহাদি চক্রান্ত হিসাবে সাব্যস্ত করে। ব্লুমসবেরি থেকে তাঁরা এই রিপোর্টটিকে বই হিসাবে প্রকাশিত করারও চেষ্টা করে। বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অন্যতম গেস্ট অফ অনার ছিলেন এই নূপুর শর্মা।

    তিনি নিজে বই লিখেছেন ‘দিল্লি এন্টি-হিন্দু রায়টস, ২০২০, দ্য ম্যাকাবার ড্যান্স’ যেখানে তিনি একই নকশাল-জিহাদি তত্ত্ব আউরেছেন। তিনি নতুন শতাব্দীর এই নতুন নেতা নেত্রীদের মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল তারকা। নূপুর শর্মা উচ্চ শিক্ষিতা তো বটেই, বিদেশী ডিগ্রির তকমাও তাঁর আছে। আগেকার নেত্রীদের মত ইংরাজি বলতে গিয়ে তাঁকে বারবার ঢোক গিলতে হয় না। হিন্দি ইংরাজি দুটোতেই তিনি তুখোড়। তাঁর বেশভূষা ঝকঝকে, স্মার্ট; ঠাটবাট, আদবকায়দা রীতিমতো চমকপ্রদ। রোজ সন্ধ্যায় তিনি টিভি চ্যানেল আলোকিত করেন। গোদি মিডিয়ার সঞ্চালক/সঞ্চালিকাদের সাহায্যে যে কোন বিতর্কে তিনি বিরোধীদের নাস্তানাবুদ করে দেন, অনায়াসে গালি দিয়ে তাঁদের চুপ করিয়ে দিতে পারেন। ভক্তরা তাঁর ক্ষমতায় অভিভূত, তাঁকে সিংহী, বাঘিনী নামে ভূষিত করেন। দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রত্যেকে তাঁর বাকপটুতা, বাকচাতুর্যে মন্ত্রমুগ্ধ। তাঁরা তাঁর টুইটার নিয়মিত অনুসরণ করেন। এহেন এক নেত্রী যিনি দলের মুখপাত্র বিজেপি তাঁকে নিছকই একজন ‘ফ্রিঞ্জ এলিমেন্ট’, নগণ্য ব্যক্তি, বলে ঝেড়ে ফেলতে চাইছে, বলছে তাঁর বক্তব্য সরকার বা দলের মতামত নয়।

    নূপুর ২৬শে মে একটি টিভি চ্যানেলে বিতর্কিত মন্তব্যটি করেছিলেন। তারপর এক সপ্তাহ কেটে গেছে কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির তরফ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে কানপুরে হিংসা ছড়িয়েছে তবুও নেতারা মৌনব্রত পালন করেছে। আরব ও ইসলামিক দেশ যখন প্রতিবাদে মুখর হয়েছে, ভারতীয় পণ্য বয়কট করা শুরু করেছে, ভারতের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে কড়কানো শুরু করেছে, তখন বিজেপি নড়েচড়ে বসেছে। পত্রপাঠ দু’জনকে বিদায় করে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেছে।

    প্রশ্ন হল বিজেপি কি আদৌ অনুতপ্ত? অন্য ধর্মের সাথে আমার হাজার বিবাদ থাকলেও তাঁদের পয়গম্বরকে অপমান করা যে অপরাধ এই বোধ কি আদৌ বিজেপি নেতৃত্বের আছে? নাকি মুসলিম সমাজকে হেনস্থা ও কোণঠাসা করার যে সীমারেখা যা তাঁরা প্রতিনিয়ত প্রসারিত করছে, নূপুর শর্মার মন্তব্য সেরকমই একটি প্রয়াস? বিশেষ করে ২০১৯ এর পর থেকে তাঁরা একটা করে লক্ষণ-রেখা তৈরি করেছে এবং সেটাকে লঙ্ঘন করেছে, আবার নতুন লক্ষণ-রেখা সৃষ্টি করেছে। বারবার পরীক্ষা করেছে মুসলিম সমাজ কতটা কড়া দাওয়াই সহ্য করতে পারে। সিএএ-এনআরসির বিরুদ্ধে, হিজাব বিতর্কের সময়, মুসলিম সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। কিন্তু প্রবল সরকারি দমন-পীড়ন, বিচিত্র নামধারী হিন্দু সেনাদের সন্ত্রাস এবং উগ্র ধর্মান্ধতায় বুঁদ হয়ে থাকা বিপুল হিন্দু জনতার নিস্তব্ধতা বা নীরব সমর্থন তাঁদের অবস্থা ক্রমশ আরও অসহায় করে তুলছিল। সুতরাং দাওয়াইটা আরও কড়া কর, খোদ পয়গম্বরকে আক্রমণ কর।

    এবারও কিছু বিক্ষোভের পর হয়তো মুসলিমরা ঘরে ফিরে যেতেন, নেহাত আরব দুনিয়া প্রতিবাদে সরব হল বলে বিজেপি দুঃখপ্রকাশ করতে বাধ্য হল। আরেসেস-বিজেপি নেতৃত্ব অনুতপ্ত নন, যদি হতেন তাহলে ঘটনার পরে এতদিন তাঁরা নীরব থাকতেন না। তাঁরা কেউ ঘটনার নিন্দা করেননি। নূপুর শর্মার দুঃখপ্রকাশও লোক-দেখান; তিনি জানিয়ে দিয়েছেন হিন্দু দেবতাকে ক্রমাগত অপদস্থ করার (জ্ঞানব্যাপী মসজিদে খুঁজে পাওয়া কাঠামোটিকে ফোয়ারা বলা তাঁর মতে শিবলিঙ্গকে হেয় করা) কারণেই তিনি পয়গম্বরকে আক্রমণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

    প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকার আরব দেশগুলির ক্ষোভ প্রশমিত করবে, সেটা খুব কঠিন হবে না কারণ নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে তারাও চাইবে না যে এই ঘটনা বেশিদূর গড়াক। সেটা হয়ে যাওয়ার পরেই তাঁরা এই ঘটনার ফয়দা তোলার চেষ্টা করবে। তাঁরা জানেন নূপুরের বহিষ্কার ভক্তদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তাঁরা বলবেন হিন্দু ধর্ম আক্রান্ত, আমাদের দেবতাকে কটু কথা বললে কোনও প্রতিবাদ হয় না অথচ মুসলিমদের ক্ষেত্রে নিন্দার ঝড় ওঠে! তাঁরা এটাও বলবেন আমরা নিজেদের লোককে কী ভাবে শাস্তি দিয়েছি সেটা তো বিশ্ব দেখেছে, এবার কোনও মসজিদের তলায় কী পাওয়া গেছে সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ প্রকাশ করলে, কোনও ‘কটূক্তি’ করলে কিন্তু কেউ পার পাবে না। সেটা পয়গম্বরকে অপমান করার সমতুল্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। অতএব মোহন ভাগবত মিষ্টি কথায় যেটা বলেছেন মসজিদের তলায় শিবলিঙ্গ না পাওয়া গেলেও কিছু যায় আসে না, আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাসটাই সার কথা, সেটাই মসজিদ ভেঙে মন্দির করার রাস্তা সুগম করে দেবে। অত খোঁড়াখুঁড়ি, প্রমাণ ইত্যাদির বাপু আর কোনও দরকার নেই।

    অতএব মসজিদ ভেঙে মন্দির গড়ার কাজ ত্বরান্বিত হবে। ১৯৯১ সালে সংসদে আইন পাস হয়েছিল যে বাবরি মসজিদ ছাড়া দেশের আর কোনও ধর্মস্থানের স্টেটাস পরিবর্তন করা যাবে না। বিজেপি সেই আইনের তোয়াক্কা করে না। তাঁদের গেরুয়াবাহিনীর সামনে মুসলিমরা গুটিয়ে যাবে; দেশজুড়ে শত শত মসজিদ লাইন দিয়ে তাঁদের হাতে শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। জ্ঞানব্যাপীর পর মথুরার শাহি ইদ্গাহ, তারপর কুতুব মিনার, তাজমহল... আরও কত; মধ্যপ্রদেশের কমল মৌলা মসজিদ, কর্ণাটকের বাবা বুদান দরগা, সীরঙ্গপাটনার মসজিদ-ই-আলা, খোদ টিপু সুলতানের প্রাসাদ, সেটাও নাকি হিন্দুদের জমির ওপর নির্মিত হয়েছে। এক কর্ণাটকেই নাকি ১০০০০ ধর্মস্থান আছে যা হিন্দু মন্দির ভেঙে তৈরি হয়েছে।

    এরপর তাঁরা বলবেন নূপুর শর্মাকে যখন শাস্তি দেওয়া হয়েছে তখন কানপুরে যাঁরা ঝামেলা করেছেন তাঁদেরও উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। সেখানকার পুলিশ প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া একদম প্রত্যাশিত। তাঁরা বলেছেন ‘দাঙ্গা’ পূর্ব পরিকল্পিত, পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার সাথে দাঙ্গাকারীদের যোগাযোগ আছে, বিদেশী পয়সা এসেছে, হোয়াটস অ্যাপে চক্রান্ত নিয়ে কথোপকথন হয়েছে, একেবারে ডিটো দিল্লি ‘দাঙ্গা’, ২০২০ নিয়ে সঙ্ঘীদের যা বয়ান ছিল তাই। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা প্রায় সবাই মুসলিম। ইসলামিক দুনিয়ায় হৈ চৈ হওয়ার পরে এক বিজেপি আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এইসব হট্টগোলের মধ্যে টুক করে নূপুর শর্মার বরখাস্ত রদ করে দেওয়া হবে।

    একটা উল্টো সম্ভাবনাও আছে। এক জঙ্গি গোষ্ঠী ফ্রান্সের কার্টুন পত্রিকা চার্লি হেবদোর অফিসে আক্রমণ করে যে ভাবে বারো জনকে হত্যা করেছিল, ঠিক একই ভাবে এখানে যে কোনও উন্মাদ প্রত্যাঘাত করবে না তা কে বলতে পারে? সেটা হলে তা হবে ভয়ঙ্কর! এক মৌলবাদ আরেক মৌলবাদকে পুষ্ট করে। সেটা হলে হিন্দু মৌলবাদীদের দাপট যে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আরেসেস-বিজেপির ক্ষমতা এখন সর্বব্যাপী। প্রায় সব প্রতিষ্ঠান তাঁদের তাঁবেদারে পরিণত হয়েছে। বিরোধীরা মূক। এই ঘটনা নিয়ে তাঁদের কোনও জোরাল প্রতিবাদ নেই। তাই নূপুর শর্মার ঘটনা সাময়িক ভাবে গেরুয়াবাহিনীকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেও, আদপে এই সংকট তাঁদের পক্ষে আরও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করবে।

  • | রেটিং ৫ (১ জন) | বিভাগ : আলোচনা | ১০ জুন ২০২২ | ২৮১০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | 2401:4900:3a24:c3d:9c3e:e2a2:6023:d803 | ১৪ জুন ২০২২ ০০:৩৫508990
  • মহা মুশকিল মাইরি! 
    আমাদের সমস্যা হলো মুসলিম গোঁড়ামির নিন্দে করতে হলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হিন্দুগোঁড়ামির রেফারেন্স টানতেই হবে? পাছে আমাদের কেউ সফট চাড্ডী ভেবে ফেলে! 
    অথচ কোনো হিন্দু গোঁড়ামির নিন্দে করার সময় আমরা কিন্তু ইসলাম গোঁড়ামির তুলনা আনিনা। অদ্ভুত ভন্ড আমরা। এই একপেশে একচক্ষু ধর্মনিরপেক্ষতা এদেশের ক্ষতিই করছে। আমাদের অনেকের এই মানসিকতা বহু হিন্দু জনসাধারনের মনে এই দ্বিচারিতাময় ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি বিরক্তি জাগিয়েছে।
     
     আকলাখের মৃত্যু বা উত্তর প্রদেশে মেয়েটিকে পুড়িয়ে দেবার সময় আমরা তো মুসলিম রেফারেন্স না টেনেই হিন্দুত্ববাদীদের উগ্রতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলাম। এখন মুসলিম উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে উগ্রহিন্দুত্বের রেফারেন্স ছাড়াই সোচ্চার হচ্ছিনা কেন? 
     
    উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা ধর্ম নিয়ে উগ্রতা দেখালে আমরা যারা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস রাখি তারা তীব্রভাবে প্রতিবাদ করি( মূলত এই সোশাল মিডিয়ায়, যদিও তাতে কারো কিছু এসে যায় না, শুধু নিজের কাছে অন্তত ক্লিয়ার থাকা যায়), কিন্তু এই মুহূর্তে সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মোন্মাদদের এই ভয়ানক অরাজকতার বিরুদ্ধে গলা তুলেছেন কি ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে? দুধেল গাই বিশেষনে দাগিয়ে দেওয়া প্রশাসনের এই আপোসী ভূমিকার সমালোচনা করেছেন কি?
    আচ্ছা, নূপুর শর্মার ভিডিওটি দেখেছেন? ঠিক কোথায় ধর্মগুরুকে অপমান করেছেন সেটা খুব স্পেসিফিক্যালি বলতে পারবেন কি? প্লিজ, আপনি বাম না তৃণমূল না কং না বিজেপি সেটা আগে যেন বিবেচ্য না হয়! 
    আপনি ইতিহাসে না খুঁজে দেখলেও গাদা গাদা মুসলিম ধর্ম প্রচারকের ভিডিও থেকে জেনে গেছেন ওটি ইতিহাস। হ্যাঁ, যদি নুপূর বলতেন ধর্মগুরু ৯ বছরের বালিকাকে ধর্ষন করেছেন, তাহলে সেটা ধর্মের অবমাননা হতো। চরম ভাবে প্রতিবাদ করতাম। কিন্তু তা তো দেখলাম না! তার বদলে দেখলাম বাংলার এক মুসলিম ধর্মপ্রচারক ও রাজনৈতিক নেতা ক্যামেরার সামনে হেসে হেসে ব্যাঙ্গ করে বলল শিবের কত বড় লিঙ্গ যে সব মন্দিরেই উঠে যায়! আরেকজন মুসলিম রাজনৈতিক কর্মী মিডিয়াতে চলা প্যানেল ডিসকাশনে বলল আমার চাড্ডী ছোট, আমার বড় লিঙ্গটি ওখান থেকে বেরিয়ে গেলে ওটাও হয়ত শিবলিঙ্গ বলে চালিয়ে দিত! 
    ভারতে তো এই নিয়ে রাস্তাজুড়ে বিক্ষোভ হলো না! 
    এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য মুসলিম ধর্মগুরুকে নিয়ে করলে কী হতো ভাবতে পারছেন? 
     
     এই মূহূর্তে সারা দেশের শিক্ষিত হিন্দু মুসলিম উদার মানুষ যদি গলা তুলে বলতে পারত নুপূর শর্মার মন্তব্য মোটেই ধর্মগুরুকে অপমানকর ছিল না। ওটা ইতিহাস। হজরতের অপমান নয়। যদি ধর্মগুরু অপমানের যে ফলস ইস্যুকে হাইলাইট করে বিশ্বের ও দেশের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে সেটা নিয়ে আলোচনা বেশি করে হতো, তবেই সেটা ধর্মনিরপেক্ষ স্ট্যান্ড হতো।
     
    নাকি আপনারা অনেকে ভাবছেন একপেশে ভাবে চোখ কান বুঝে বিজেপি বিরোধিতাই আপনার কাছে "ধর্মনিরপেক্ষতার" ডেফিনেশন? এটা কিন্তু ডেঞ্জারাস একটা প্রবণতা। এই একপেশে মানসিকতা এদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেটা উপলব্ধি করুন প্লিজ! এদেশে বিজেপি, তৃণমূল, কং, এমনকি বামদলেরাও সাম্প্রদায়িক, সে আপনি মানুন, আর না মানুষ। এরা সবাই ধর্মীয় সুড়সুড়িকে কাজে লাগিয়ে ভোটবাক্স দখল করতে চেয়েছে, চায়। মুখে বড় বড় কথা বললেও পোলারাইজেশন এরা সবাই করেছে, করে। বিজেপি সরাসরি করছে, বাকিরা মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার তত্ত্ব ছড়িয়ে টেবিলের তলায় পোলারাইজেশন চালিয়েছে, চালাচ্ছে। নাহলে ইসলামী সন্ত্রাশের বিরুদ্ধে বলতে কেন আমাদের এত ভয়? ইসলামি সন্ত্রাশ নিয়ে বলতে গেলে কেন হিন্দু সন্ত্রাশের রেফারেন্স টানতে হয়? কেন যখন যার বিরুদ্ধে বলা দরকার স্পষ্ট ও নিরপেক্ষ ভাবে আমরা প্রতিবাদ করতে পারিনা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে!
     
      পরিষ্কার বলছি, প্রতিটি ঘটনার সাম্প্রদায়িক ভন্ডামিগুলো ইন্ডিভিজুয়ালি প্রতিবাদ করতে না শুরু করলে এবং আমরা সাধারণ মানুষেরা আমাদের অবস্থান নিয়ে সচেতন না হলে সত্যিই ধর্মনিরপেক্ষতা নামক ঠুনকো কাঁচের বাটি ভাঙ্গতে আর বেশি দেরী নেই। সেটা হলে সবচেয়ে বিপদ যারা মুক্ত চিন্তার মানুষ, যারা যুক্তিবাদ ও উদারবাদে বিশ্বাস করে, যারা প্রশ্নহীন ভক্তি, অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার বাদ দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ভাবে ইতিহাস, নৃতত্ব, বিজ্ঞান ইত্যাদি যুক্তিবিদ্যার আলোয় সত্যকে জানতে চায়।
     
    Atanu Pragyan - অতনু প্রজ্ঞান
  • দীপ | 2401:4900:3a24:c3d:9c3e:e2a2:6023:d803 | ১৪ জুন ২০২২ ০০:৩৮508991
  • এই কথাগুলো একটু মন দিয়ে শোনা দরকার। অবশ্য সবাইকে চাড্ডি বলে দাগিয়ে দেওয়া খুব সহজ!
  • for Deep | 2405:8100:8000:5ca1::176:ab1f | ১৪ জুন ২০২২ ০৭:৫০508993
  • আপনি বেকার রেগে থাকেন। বিকাশবাবু একটু খেতে ভালবাসেন, উনাকে বিফ খাইয়ে যা বলতে বলবেন তাই বলবে। এখানে উনার লেজুড়রা তাতে লেজ নাড়বে। উনি তো বিজেপির লোকের হয়েও কেস লড়েছে। আসলেই আব্রাহামিক ধর্মের সঙ্গে হিন্দু ধর্মের কোন তুলনা হয়না সে সবাই জানে।
  • r2h | 134.238.18.211 | ১৪ জুন ২০২২ ১০:১০508994
  • আচ্ছা, এখানে তো দীপ ছাড়া আর কারো লেখা দেখছি না, তো দীপ শূকরশাবক টাবক বলে গালটা দিচ্ছেন কাকে?

    দু'পাতা আগে রঞ্জনদার কয়েকটা পোস্ট পড়লাম, কিন্তু রঞ্জনদা এসব গাল খাওয়ার মত কিছু লিখতেই পারে না। ডিসির পোস্টও দেখলাম, তবে ডিসিও একটু লঘু খিল্লি ছাড়া কিছু করবে না আমি শিওর। হুলো বলে একজনের দেখলাম, তিনিও একটু খোঁচাখুঁচি এইসবই করেন।

    তাহলে গালটা কি ঐ যাদের ফেবু স্ক্রিনশট শেয়ার করা হচ্ছে তাদের?
    ওদের দেওয়ালে না দিয়ে এখানে কেন, ওদের দেওয়ালে ওরা পাত্তা দেন না? নাকি ঢুকতেই দেন না?
    এখানে দিলেও কিছু না, তবে যাদের এত কড়া কড়া গাল দেওয়া হচ্ছে তারা যদি জানতেই না পারলো তাহলে আর লাভ কী।

    আরেকটা প্রশ্ন, হিন্দুদের গোশাবকের বদলে মুসলমানদের শূকরশাবক বএন কেন অনেকে? হিন্দুদের কাছে গরু পবিত্র, গো মাতা। কোথাও লেখা টেখা আছে কিনা জানি না তবে ধর্মপ্রান প্র‌্যাকটিসিং হিন্দুরা সেরকম মানেন। ওদিকে মুসলমানদের কাছে শুয়োর অপবিত্র, হারাম।
  • | ১৪ জুন ২০২২ ১৯:৪৭509004
  • হ্যাঁ ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়ন অবশ্যই চলছে চলবে। 
     
     এই যেমন একটা ভাঙা  সমাজের জ্বলন্ত ছবি। (এইবার এর অ্যাপোলজিয়াগুলো আসতে থাকবে জানি)
     
     
     
  • দীপ | 2401:4900:3a2b:dd57:3705:7edc:a22a:c59f | ১৪ জুন ২০২২ ২০:৪৩509007
  • কেউ সমর্থন করেনি, কোনো বিবেকবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি সমর্থন করতে পারেনা। মানুষের উপর অত্যাচার চূড়ান্ত ঘৃণ্য!
    গুজরাট দাঙ্গা যেমন ঘৃণ্য, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার তেমনি চূড়ান্ত ঘৃণ্য! 
    হুসেনের স্টুডিও ভাংচুর যেমন অসভ্যতা, তসলিমাকে তাড়ানোর জন্য দাঙ্গা লাগানো তেমনি অসভ্যতা! 
    কিন্তু তখন গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হয়না! 
    গপ্প লেখা হয় তসলিমার জন্য পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে! তখন অবশ্য নারীরা অমর্যাদা হয়না!
  • সৌরেন্দু ঘোষ | 117.226.246.8 | ১৪ জুন ২০২২ ২২:১৫509008
  • ব্রাহ্মণবাদী দলগুলো হিন্দু তল্লাই দেবে, সিপিমও বাদ যাবে না। বাবাসাহেবএর পথে, সংবিধান বাঁচতে মূলবাসী sc st obc যা দেশের ৯০%, এক জায়গায় আসবে। মুসলিম জনজাতির ৯৫% ওবিসি। ফলে মূল দাবী এখানে উঠবে সংখ্যা যার ক্ষমতা তার। জোট বাঁধো, তৈরী হয়, ধর্মীয় বিভেদ ভুলে এই মনুবাদী শাসন আমরা উপরে ফেলবোই।
  • দীপ | 42.110.147.134 | ১৫ জুন ২০২২ ১৪:০৪509026
  • বিজেপির হিন্দুরাষ্ট্রের গল্প যেমন‌ জানি, দলিত-মুসলিম ঐক্যের গপ্পিবাজিও তেমনি জানা আছে! বজ্জাতিতে দুটোই সমান!
    যোগেন মণ্ডল‌ও এই গপ্প মেরেছিল। তারপর বেগতিক দেখে পাকিস্তান থেকে দৌড় মেরেছিল! 
    আর কে মূলনিবাসী, আর কে নয়- তার মানদণ্ড কি? সুমধুর দিবানিদ্রা ও স্বপ্্ন্? 
     
  • দীপ | 42.110.147.134 | ১৫ জুন ২০২২ ১৪:০৯509027
  • ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করে, তারা প্রত্যেকটা শয়তান! 
    আর আজকের ভারত মনুসংহিতাতেও চলবে না, শরিয়তী আইনেও চলবে না!
    কোনোদিকের ধান্দাবাজি মানা হবেনা!
  • দীপ | 42.110.147.134 | ১৫ জুন ২০২২ ১৪:১৪509028
  • আর বাবাসাহেব uniform civil code চেয়েছিলেন, পূর্বপাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্যাতনের প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। সেগুলো মনে আছে তো? 
    এখন বাবাসাহেবকে বোধহয় বিজেপি বলে দাগিয়ে দেওয়া হবে!
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৭:০৮509227
  • মাননীয় রঞ্জনদা, আমার কোনো কথায় আপনি যদি আঘাত পেয়ে থাকেন, আমি অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত। আপনি আমার বয়োজ্যেষ্ঠ, আপনার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৭:০৮509226
  • মাননীয় রঞ্জনদা, আমার কোনো কথায় আপনি যদি আঘাত পেয়ে থাকেন, আমি অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত। আপনি আমার বয়োজ্যেষ্ঠ, আপনার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৭:০৮509225
  • মাননীয় রঞ্জনদা, আমার কোনো কথায় আপনি যদি আঘাত পেয়ে থাকেন, আমি অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত। আপনি আমার বয়োজ্যেষ্ঠ, আপনার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৭:১৯509228
  • কিন্তু কয়েকটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলা দরকার। ভারতে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল চূড়ান্ত ধান্দাবাজ ও ভণ্ড, কেউ ব্যতিক্রম নয়! 
    বামপন্থীরা কোনো ব্যতিক্রম নয়! কিন্তু তারা নিজেদের বিরাট আদর্শবাদী দেখাতে চায়! তাই স্বাভাবিক ভাবেই তাদের নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ বেশি হবে! ভণ্ড সন্ন্যাসী তেমন সবার কাছে বিদ্রুপের পাত্র, এরাও তাই! 
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৭:২৭509229
  • সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ ও অত্যাচার চূড়ান্ত অন্যায়। উত্তর ও মধ্য ভারতে দলিত-মুসলিমদের উপর অত্যাচার যেমন চূড়ান্ত অন্যায়, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন তেমনি চূড়ান্ত অন্যায়! কিন্তু এই বিষয়ে আলোচনা করতে গেলেই অভিসন্ধি চলে আসে !
     পশ্চিমবঙ্গের মহাবিপ্লবীরা পৃথিবীর সব ব্যাপারে আলোচনা করতে পারেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, তালিবান, ইজরায়েল- সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়! খালি বাংলাদেশের কথা আসলেই সেটা অন্যদেশের ব্যাপার হয়ে যায়! চমৎকার!
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৭:৩৬509230
  • আপনার সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত যে পাঁচশো বছর আগে কে মন্দির-মসজিদ ভেঙেছে, আজকের রাজনীতিতে তা কখনোই বিবেচ্য হতে পারেনা। কিন্তু সেই যুক্তি অনুযায়ী কথায় কথায় মনুসংহিতা নিয়ে আসার‌ও কোনো কারণ নেই। 
    আজকের ভারতে মনুসংহিতা ও অন্যান্য স্মৃতিশাস্ত্রের কোনো গুরুত্ব নেই। এগুলোর মধ্যে যেটুকু ভালো, সেটুকুই রাখতে হবে। বাকিটা নির্দ্বিধায় পরিত্যাগ করতে হবে। 
    আধুনিক ভারত মনুসংহিতা বা শরিয়তী আইন কোনোটাই গ্রহণ করবেনা। আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে, পেছন দিকে নয়!
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৭:৪৮509232
  • ভারতের প্রত্যেকটি দল সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয়। বিজেপি এটা পুরোপুরি খোলাখুলি ভাবে করে, অন্যরা ঘোমটার আড়ালে খেমটা নাচে। সেজন্য‌ই আজ বিজেপি প্রধানশক্তি রূপে উঠে আসে।
    যারা তসলিমার ব‌ই নিষিদ্ধ করে, তসলিমাকে পশ্চচিি
    পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়ায়, আব্বাসের মতো ধর্মমদান্ধদের সঙ্গে জোট বাঁধে; তাদের আমি বিজেপির মতো চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক মনে করি। আর এই নির্লজ্জরা বড়ো বড়ো বুলি কপচে বেড়ায়! পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পদাঘাত করে এদের ভণ্ডামির উপযুক্ত প্রত্যুত্তর দিয়েছে!
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৭:৫৯509235
  • পশ্চিমবঙ্গের মহাবিপ্লবী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা করতে আসলে মাথা ভেঙে দেবেন! বাস্তবে ইদ্রিশ আলী কোম্পানি যখন কলকাতায় তাণ্ডব করছিল, তখন উনি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে র‌ইলেন! উলটে তসলিমাকে তাড়ালেন! 
    সম্ভবত উনি তখন‌ বঙ্কিমের রক্তে সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে গভীর গবেষণায় ব্যস্ত ছিলেন! 
    এখানে একটু প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন কথা বলে রাখি। বঙ্কিমের অসামান্য প্রতিভার মূল্যায়নের ক্ষমতা রামের পাঁঠা, বামের পাঁঠা- কোনো পাঁঠার‌ই নেই! আর পিসির পাঁঠাদের নিয়ে আলোচনা করার কোনো কারণ নেই, তারা অনুপ্পেরনা আর খাওয়া ছাড়া কিছুই জানেনা! পেটে বোম মারলেও কিছুই বেরোবে না!
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৮:৩৯509236
  • তসলিমা তাঁর ব্লগে কলকাতার অভিজ্ঞতা বিস্তারিত ভাবে লিখেছেন। তাঁর লেখা থেকে জানা যায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রসূন মুখার্জি, বিনীত গোয়েল (বর্তমানে এই ব্যক্তিটি মমতার পোষ্য সারমেয়) তাঁর বাড়িতে গিয়ে নরমে-গরমে কলকাতা ছাড়ার হুমকি দিতে থাকেন। তাঁর বাড়িওয়ালাকেও থানায় ডেকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। তারপরের ঘটনা তসলিমা বিস্তারিতভাবে লিখেছেন। এখানে আর লিখছিনা।
     
    সাতের দশকের সিদ্ধার্থশঙ্কর আর রুণুর অসভ্যতার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো পার্থক্য দেখতে পাচ্ছেন? আপনারা সেই দিনগুলো দেখেছেন।
    ঐ উদ্ধত মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর প্রিয় পুলিশ‌ অধিকর্তাদের শাস্তি চাইতে পারবেন?
     
    কোনো সভ্যদেশ হলে ঐ মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর প্রিয় কর্মচারীদের জেলের ভাত খেতে হতো! তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলেই এই অসভ্যতা ও ঔদ্ধত্য সম্ভব!
  • দীপ | 42.110.145.250 | ২১ জুন ২০২২ ১৮:৪৩509237
  • এরপর এদের ভণ্ড বললে কি বিন্দুমাত্র মিথ্যাকথা বলা হয়? 
     
    যাইহোক, অনেক কড়া কথা‌ বলে ফেললাম। আবার ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনি বয়োজ্যেষ্ঠ, ক্ষমা করে দেবেন।
  • দীপ | 42.110.144.173 | ০১ জুলাই ২০২২ ২১:৩২509537
  • মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট আসলে প্যান্ডোরা বাক্স খোলেনি।আরও প্রচুর প্যান্ডোরার বাক্স জমা করেছে।একে একে খুলবে।যে বাম , অতিবাম, নোক্যু ও স্বাধীন বাম্রা সুপ্রীম কোর্টের রায় নিয়ে জয়ধ্বনি দিচ্ছেন তাঁরা মনে রাখুন এবার থেকে যত রাজ্যের ঈশ্বর নিন্দা আইন ভারতবর্ষের পাবলিক ডোমেইন সদম্ভে বিরাজ করবে।

    মহামান্য জজবাবুদের মত মানলে ফিদা হুসেইনের দেশান্তরের জন্য তিনি নিজে দায়ী।সালমান রুশদির ফতোয়ার জন্য দায়ী তিনি।মীরা নায়ার, দীপা মেটাদের ফিল্মের জন্য মহামান্য জজপতিদের বিধানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।গৌরী লংকেশ, কালবার্গী, প্যান্সারেদের হত্যার জন্য দায়ী তাঁরা নিজেরা।

    যদি আরও বৃহৎ প্রেক্ষাপটে দেখা যায় তাহলে জেহাদি বাহিনীর হাতে শার্লি এবদোর শিল্পী থেকে বাংলাদেশ হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুক্তমনা লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীদের মৃত্য বা নির্বাসনের জন্য দায়ী খোদ মুক্তচিন্তকরা।

    একটি সহজ ঐতিহাসিক তথ্যকে মেনে না নিয়ে যাঁরা দাঙ্গা করলেন তাঁদের সহধর্মীদের, খুব স্পষ্ট করে ভারত রাষ্ট্রের মুসলিম ও নাস্তিক শিল্পী ও স্রষ্টাদের ঐতিহাসিক বৌদ্ধিক অবরোধের মুখে ফেললেন সুপ্রিম কোর্টের জজপতিগণ।

    এবার লক্ষণের শক্তিশেল, মাইকেলের মেঘনাদবধ কাব্য, দেবতার জন্ম বা দেবীর মতো ফিল্ম তৈরি করতে গেলে গো বলয়ের গুটখাখেকো, পান চিবুনেওয়ালাদের ভাবাবেগের কথা মাথায় রাখতে হবে।মরু তস্কর ও গরু তস্করদের জন্য সুপবন বহিতেছে।

    এক পঞ্চমাংশ হইবে খেলাফত।বাকিটা হিঁদু রাষ্ট্র।
  • দীপ | 42.110.144.173 | ০১ জুলাই ২০২২ ২১:৩৩509538
  • সম্রাট চক্রবর্তীর লেখা।
    প্যান্ডোরার বাক্স খুলে গেল!
  • দীপ | 42.110.144.208 | ০৩ জুলাই ২০২২ ২১:৫৪509611
  • এই সেই নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধি প্রলেতারিয়েত নেতার জ্বালাময়ী বক্তৃতা! ধর্মনিরপেক্ষ নেতা, কোনো সন্দেহ নেই! 
    অবশ্য এসব নেহাৎ শান্তির সুললিত বাণী! 
    শুধু তসলিমার জন্য পশ্চিমবঙ্গের শান্তি বিঘ্নিত হয়! তাই মহাবিপ্লবীর নির্দেশে প্রসূন মুখার্জি ও বিনীত গোয়েল নামক চামচা তসলিমার বাড়িতে হুমকি দিতে যায়! ইদ্রিশ আলী কোম্পানি গোটা কলকাতা জুড়ে গুণ্ডাগিরি করতে থাকে, রাইটার্সের নির্দেশে লালবাজার নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকে!
    তারপর তসলিমাকে তাড়ানো হয়!
    এরা আবার ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি কপচায়!
    আসলে ধান্দাবাজি তে এরা বিজেপির উল্টোপিঠ মাত্র! সেজন্য‌ই আজ পিসি-ভাইপো পার্টির কাছে ল্যাজেগোবরে একসা হয়!
     
  • হিহিহিহি | 2405:8100:8000:5ca1::87:bf01 | ০৩ জুলাই ২০২২ ২২:৪০509613
  • এ মালের পোস্ট শেয়ার করে আবার বুক থাবড়াচ্ছিস?  ভিডুটা  কত তারিলহের চেক করেছিস?
    অন্য লেখার নীচে উঞ্চবৃত্তি করবি ত টাটকা কিছু আন না গর্দভ
  • হিহিহিহি | 2405:8100:8000:5ca1::8f:8709 | ০৩ জুলাই ২০২২ ২২:৪১509614
  • দীপ | 2402:3a80:196c:241d:12ef:e15f:52d9:7a5 | ০৩ জুলাই ২০২২ ২২:৪৪509615
  • এই ভিডিওটা গত বছর অক্টোবরের। বাংলাদেশের হনুমান ও কোরান নিয়ে নিপীড়িত মানুষের নেতার বক্তব্য! 
    তখন অবশ্য বিবেকবোধ জাগ্রত হয়না! 
     
  • দীপ | 2402:3a80:196c:241d:12ef:e15f:52d9:7a5 | ০৩ জুলাই ২০২২ ২২:৪৫509616
  • অবশ্য সারমেয়কুলের নিজের নামে লেখার সাহস কোনোদিনই হবেনা!
  • হিহিহিহি | 2405:8100:8000:5ca1::88:4537 | ০৩ জুলাই ২০২২ ২২:৫৪509617
  • আর দীপগর্দভেরও নিজে একটা প্রবন্ধ লেখার মুরোদ কোনোদিনই হবে না। অন্যান্য ভদ্রলোক ভদ্রমহিলাদের প্রবন্ধ নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাবি।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন