• বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি  বুলবুলভাজা

  • আর এস এস সদর দপ্তরে ‘কামান দাগা’ (অন্তিম পর্ব)

    আমরা এক সচেতন প্রয়াস
    আলোচনা | রাজনীতি | ২২ ডিসেম্বর ২০২০ | ৬৪২ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • পর্ব - ১ | পর্ব - ২
    আর এস এস ঠিক কীরকম? সে সম্পর্কে অনেকরকম কথা প্রচলিত থাকলেও, তার স্বরূপ অনেকেরই অজানা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের রূপ দেখেছে আমরা এক সচেতন প্রয়াস। সে দেখাকে তারা জানাতে চায়, তাদের আকাঙ্ক্ষা আরএসএস সমর্থক বা প্রতিরোধী, সকলেই জানুন সে চেহারা। আগের পর্বে ধরতাই ছিল, এ পর্বে সাক্ষাৎকার, আর কয়েকটি ছবি। আক্ষরিক অর্থেই শিউরে ওঠার মত।

    ৩১ জানুয়ারি, ২০২০। বেলা ১১ টা। ত্রিস্তরের নিরাপত্তা বলতে যা বোঝান হয়, প্রথমেই কার্যত তার সম্মুখীন হই আমরা। তবে সরকারি বাহিনীর অতিরিক্ত নিজস্ব বাহিনীও যে ছিল তা আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। দ্বিতীয় বাঁকের সামনে থেকে সরাসরি দেখতে পাওয়া গেল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আরএসএস-এর প্রধান কার্যালয়। গেটের অনেক আগেই আমাদের দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। প্যারামিলিটারি ফোর্সের দুইজন জওয়ান জানান ভিতরে যাওয়া যাবে না। জানতে চান আমরা কেন এখানে এসেছি। আমরা জানাই আমরা লাইব্রেরিতে যাব, যাব সংগ্রহশালায়। “কিন্তু লাইব্রেরি তো বিকেল ৪ টায় খোলা হবে”, জানানো হয় আমাদের। আমরা অনুরোধ করি, একটু অফিসের সঙ্গে আমাদের কথা বলতে দিন, আমরা বহু দূর থেকে এসেছি ইত্যাদি। অফিস মানে গেটের সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিস। সেখানে মেটাল ডিটেক্টার, স্ক্যানার, ক্যামেরা। সেখানেও একই প্রশ্ন করা হয়। এবার আমরা উদ্দেশ্য হিসাবে জানাই গবেষণার অংশ হিসাবেই লাইব্রেরি এবং সংগ্রহশালা দেখার অভিপ্রায়ের কথা। দায়িত্বে থাকা আদিবাসী মহিলা অফিসার আমাদের পরিচয় জানতে চান, দেখতে চান আধার কার্ড। এবারে একটু ফাঁপরে পড়ি আমরা, আমাদের দুই সদস্যের দলে দ্বিতীয়জন নাম-পরিচয়ে ছিলেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুভুক্ত, আরবি নাম। আমরা দুজনেই কার্ড দেখাতে তৎপর হয়ে উঠি। কার্ড বের করার সময় অন্য এক অফিসার উপস্থিত হন, জাতিতে মারাঠি ব্রাহ্মণ, তিনি কর্কশ স্বরে বলে ওঠেন, যদি গবেষণার উদ্দেশ্য তাহলে সঙ্গে ক্যামেরা কেন? আমরা জানাই আমরা নাগপুরে নতুন, বেড়াতে বেরিয়েছি, তাই; “এই যেমন দীক্ষাভূমি গিয়েছিলাম”। উনি এবার তুলনামূলক স্বাভাবিক গলায় বলেন, “জমা দিয়ে ভিতরে যান”। আমরা জানাই, “আপত্তি নেই, কিন্তু দামি ক্যামেরা আপনাদের জিম্মায় রেখে যেতে পারি, দায়িত্ব আপনাদের”। এই জবাবে কাজ হয়, “ঠিক আছে নিয়ে যান, কিন্তু ক্যামেরা ভিতরে অ্যালাও নয়, আমরা সব নজরে রাখছি”, জানান তিনি। মেন রোড থেকে সিসি ক্যামেরার নজরে যখন আমরা, তখন একথা আমাদের জানাই। কথা না-বাড়িয়ে আমরা এগোতে যাব, মহিলা অফিসার কার্ড-এর কপি জমা রাখতে বলেন। একটা রেজিস্টার্ড খাতা দেওয়া হল। ইতিমধ্যে সেখানে একটি যুব দল উপস্থিত হয়েছে, ফোন এসেছে ভিতর থেকে তাদের নির্বিঘ্নে ভিতরে পৌঁছে দিতে। নিরাপত্তা অফিসটির অন্যরা যেন একটু বেশি ব্যস্ত মনে হল, ব্যস্ত হয়ে উঠলেন সেই মহিলা অফিসারও। আমাদের নিয়ে তাঁদের বাকি কাজগুলো (অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন, কার্ড দেখা ইত্যাদি) দায়সারা গোছের হয়ে উঠল। আমরা বাগানের সামনে উপস্থিত হলাম।

    গলায় গেরুয়া উত্তরীয়ধারী কয়েকজন সেখানে আমাদের থামায়, জানতে চায় লাইব্রেরি তো এখন বন্ধ, যাবেন কোথায়?

    আমরা- আমাদের ট্রেন তো সন্ধেয়, ফিরে যেতে হবে। এত কাছে এসেছি, তাই ডাক্তারজির স্মৃতিধন্য সংগ্রহশালায় একবার যেতে চাই।
    গেরুয়া উত্তরীয়ধারী- আপনারা কারা?
    আমরা- নাগপুরে এসেছি একটি অনুষ্ঠানে। খুব ইচ্ছে ছিল এখানে আসার, লাইব্রেরিতে শুনেছি বই কেনারও অপশন আছে।
    গেরুয়া উত্তরীয়ধারী- তাহলে বিকেলে আসুন। কিন্তু আপনাদের পরিচয়?
    আমরা- জমা দিয়েছি অফিসে। (মহিলা অফিসারের নাম নিয়ে), উনিও তাই জানালেন, লাইব্রেরি বিকেলে খুলবে। বাঃ, আপনাদের বাগান তো বেশ ভালো।
    গেরুয়া উত্তরীয়ধারী- হ্যাঁ, পরিচর্যা করা হয়। কোথা থেকে আসছেন?
    আমরা- মতলোগজি এখানে আছেন শুনেছি, বহুদিন ছিলেন তিনি ওখানে, আমরা আসছি সেই কলকাতা থেকে।
    গেরুয়া উত্তরীয়ধারী- ও আচ্ছা। (আপাদমস্তক নজর করে) একটু এগিয়েই বাঁদিকে সংগ্রহশালা, যান।



    ভেবেছিলাম কলকাতা আর-একটা গেরো হয়ে উঠবে, কিন্তু এক্ষেত্রে তা সহজ এন্ট্রির টোটকা হয়ে উঠল। যাইহোক আমরা এগোতে থাকলাম। আমাদের অল্প পিছনেই তখন সেই যুবদল, যথারীতি বাগান ও গেরুয়া উত্তরীয়ধারীদের মুখোমুখি (পরে অবশ্য বুঝেছিলাম তাঁদের আমাদের মতো প্রশ্নবাণের মুখে পড়তে হয়নি, হওয়ার কথাও অবশ্য নয়)।



    হেডগেওয়ার সংগ্রহশালা

    সংগ্রহশালার রিসেপশনে এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক। ‘লাইব্রেরি এখন বন্ধ—আমাদের উদ্দেশ্য—ডাক্তারজির স্মৃতিধন্য ভবন দেখার ইচ্ছা’ এই পর্ব যখন চলছে, তখনই যুবদলটির প্রবেশ। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আসা বজরং দলের রাজ্য কমিটির সদস্য এরা। এরা সরাসরি তিনতলায় সংগ্রহশালায় যাবার জন্য অগ্রসর হতেই আমরাও পিছু নিলাম।

    সংগ্রহশালাটিতে কী আছে সে তালিকা দেওয়া এই লেখার উদ্দেশ্য নয়, বলা যেতে পারে হিন্দুত্বের ভক্তদের কাছে তা আগ্রহের ও অবশ্যজ্ঞাতব্য একটি বিষয়। বিশাল এই সংগ্রহশালাটি ডা. হেডগেওয়ারের জীবনের বিভিন্ন ‘কীর্তি’-র বিবিধ চিহ্ন, স্মারক, ছবি (ফোটোগ্রাফি ও পেন্টিং) ও ব্যবহৃত দ্রব্যের আধার। ভক্তদের বাইরে গবেষকদের কাছেও তা আগ্রহের বিষয় হতে পারে। ভক্তদের কাছে অবশ্য এটি কাশী-কাবার থেকে কম কিছু নয়। যেমন এই বজরং দলের কর্মকর্তাদের কাছে। সংগ্রহশালার গাইড/কিউরেটর হেডগেওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল, তিনি বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নের সামনে দাঁড়িয়ে বর্ণনা দিচ্ছিলেন। আমরা শুনছিলাম, নোটও নিচ্ছিলাম। ক্যামেরা তা সে মোবাইল ক্যামেরা হোক না কেন, তা থেকে ছবি তোলার অনুমতি নেই। কিন্তু একটা ছবির কাছে গিয়ে আমাদের চোখ আটকে গেল।

    একদল লোক মারছে কাউকে, যাকে মারছে তার গায়ে রক্তের ছাপ। একটু কাছে যেতেই নজরে পড়ল, প্রহৃত ব্যক্তিটি মুসলমান। গাইডকে প্রশ্ন করা হল, এই ছবির ইতিহাস কী?



    গাইড- গোমাতা রক্ষা করতে ডাক্তারজির যুদ্ধের একটি দৃশ্য এটি।
    আমরা- যুদ্ধ, কার সঙ্গে?
    গাইড- (এইটা আবার প্রশ্ন নাকি, এই চোখে তাকিয়ে) কাদের সঙ্গে আবার, মুসলমানদের সঙ্গে!
    আমরা- (কৌতূহলী ছাত্রের মতো) একটু যদি বিশদে বলেন।
    গাইড- ডাক্তারজি গিয়েছিলেন জল সত্যাগ্রহের জন্য... । রাস্তায় দেখলেন একদল মুসলমান জবাই করবে বলে গরু নিয়ে যাচ্ছে। ডাক্তারজি জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় নিয়ে যাচ্ছ, উত্তর আসে জবাই করতে। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেন তিনি, দাম দিয়ে গরুটি কিনে নিতে চান। কিন্তু বদমাশরা রাজি হয় না। তখন উত্তমমধ্যম দেওয়া হয়।
    আমরা- ডাক্তারজি প্রহার করেন?
    গাইড- শুধু তিনি কেন, সঙ্গে উপস্থিত সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরাও।
    আমরা- এই যে রক্তপাত হচ্ছে মুসলমানদের, তার মানে তারা শুধু মার খেয়েছে, প্রতিরোধ করতে পারেনি?
    গাইড- ডাক্তারজির প্রতাপের সামনে বাঘও মূষিকে পরিণত হয়, তো এই মুসলমানরা কোন্‌ ছার।



    এই কথোপকথনের সময় বজরং দলের যুবকেরা খুব উত্তেজিত এবং ডাক্তারজির প্রতি সপ্রশংস হয়ে ওঠে। আমরা বাস্তবিক বাকরুদ্ধ হয়ে যাই, হেগডেওয়ারের জীবনীতে এই ঘটনার উল্লেখ থাকলেও, তা আঁকা ছবি হিসাবে সংগ্রহশালায় থাকতে পারে তা ছিল আমাদের চিন্তার বাইরে। আমরা গাইডকে জিজ্ঞেস করি (যতটা সম্ভব আমাদের উষ্মা, ক্ষোভ প্রকাশ না করে)।



    আমরা- এখানে তো অনেক ছবি আছে, আছে বিভিন্ন স্থান বা সংগঠন থেকে ওঁর প্রাপ্ত উপহার সামগ্রীও। কিন্তু এই ছবি অন্যরকম।
    গাইড- হ্যাঁ হিন্দু শৌর্যের জাগরণ ঘটিয়েছিলেন উনি। ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন ছিল ওঁর। এই ছবি আমাদের শেখায় কী করতে হবে।
    আমরা- ‘গোমাতা’ রক্ষার জন্য সারা দেশে হিন্দু যুবকেরা এখন যা যা করছে, এই ঘটনা, এই ছবি তার প্রেরণা বলতে চাইছেন?
    গাইড- অবশ্যই।
    আমরা- এই ছবি প্রিন্ট নিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায় না?
    গাইড- না। নির্দেশ আছে ছবি তোলা যাবে না।
    আমরা- ছবি তোলার কথা বলছি না। এই ছবি ছাপিয়ে বার্তা দেওয়ার কথা বলতে চাইছি।





    পাশ থেকে বজরং দলের একজন সদস্য বলে ওঠে, সেকুলার আইন আছে। কী করা যাবে। অর্থাৎ কিনা দেশ হিন্দু রাষ্ট্র হলে এসব করা যাবে? মৃদু স্বরে তাদের কাছে জানতে চাই। সম্মতির হাসি দিয়ে এগিয়ে যায় দলটি। আমরা দুজনে ভাগ হয়ে যাই, একজন গাইড সহ দলটিকে নানাবিধ প্রশ্ন করতে থাকে। বিশেষত তারা যখন হেডগেওয়ারের কলকাতা পর্বের ছবিগুলির সামনে। অন্যজন আরএসএস হেডকোয়ার্টারের ‘আইন’ অমান্য করে ছবি তোলে, এবং সঙ্গে সঙ্গে তা হোয়াটসঅ্যাপে আমরা গ্রুপে শেয়ার করে দেয়। বলাবাহুল্য মোবাইল কেড়ে নেওয়ার বা জোর করে ছবিগুলি ডিলিট করার সম্ভাবনা ছিলই। এই ঘৃণ্য ঘটনার ছবি তোলা যাতে আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতার নিরীহ মুসলমানদের রক্তপাত করে ‘শৌর্য’ প্রকাশ করা যায়, তা আমাদের মানবিক কর্তব্য বলেই আমরা মনে করেছি।

    উল্লেখ্য, উক্ত ছবির পিছনের একটা ইতিহাস আছে, যার উল্লেখ গাইড করেছিলেন। নারায়ণ হরি পালকর রচিত, হেডগেওয়ার জীবনচরিত (পৃষ্ঠা-১৯৩-১৯৪) বইয়ে এই রকম একটি ঘটনার উল্লেখ আছে। যদিও তাতে মুসলমানদের মারধরের কথা নেই। উক্ত বইয়ে ‘জঙ্গল সত্যগ্রহ’-তে হেডগেওয়ারের শামিল হওয়ার উল্লেখ আছে। সেখানে যাওয়ার সময়, পুসদের একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

    প্রাতঃকালে নদী থেকে শৌচাদি সমাপ্ত করে ডাক্তারজী ফিরে আসছিলেন, তখন তিনি দুজন মুসলমানকে এক হৃষ্ট-পুষ্ট জোয়ান গরুকে ধরে নিয়ে যেতে দেখলেন। ডাক্তারজী জানতে চাইলেন, ‘গরু কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?’ তাঁরা উত্তর দিন, ‘নিয়ে যাচ্ছি না কোথাও। একটু পরেই এখানে কুরবানি করব।’ ডাক্তারজী ক্রুদ্ধ হলেন, তিনি গরুর দাম জিজ্ঞেস করলেন। ওরা জবাব দিল, ‘বারো টাকায় কিনেছি, কিন্তু আমাদের কসাইয়ের ব্যবসা, তাই এটা আমরা বিক্রি করব না।’ হেডগেওয়ার নাছোড়, আর কসাই গরু দিতে চাইছে না। হেডগেওয়ার গরুর দড়ি নিজের হাতে নিয়ে হুমকি দিতে থাকলেন। কসাই বোঝাতে থাকেন, ‘এখানে গরু কাটা একটা প্রথাগত ব্যাপার, আপনি আমাদের ছেড়ে দিন’। একজন বোঝাবার চেষ্টা করেন, ‘এখানে জঙ্গল সত্যাগ্রহে এসে ফালতু বিষয়ে নাক গলাচ্ছেন কেন?’ হেডগেওয়ার গর্জে ওঠেন, ‘হিন্দুদের পূজ্য গরুকে রক্ষা করা কি ফালতু ব্যাপার? জঙ্গল সত্যগ্রহ করা বা গরুর জন্য সত্যগ্রহ করা আমার কাছে দুটোই সমান’। সঙ্গে থাকা স্বয়ংসেবকরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এক পুলিশ অফিসার এসে দুই পক্ষকে থামাবার চেষ্টা করেন, গ্রেফতার করার হুমকি দেন শেষ পর্যন্ত মুসলমানরা গরু কুরবানি থেকে বিরত হয়। হেডগেওয়ার টাকা দিয়ে গরু কিনে তা স্থানীয় গো-রক্ষণ সংস্থাকে উপহার হিসাবে দিয়ে দেন।

    এরপর আমরা সেই গাইডকেই শ্রীকৃষ্ণ মতলোগের সঙ্গে মোলাকাত করিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই, আমাদের ‘গবেষণা’র কাজে তা জরুরি, তাও জানাই। গাইড জানায় তা সম্ভব নয়। আমরা ‘কলকাতা-পূর্ব পরিচয় (স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি)-গবেষণা’ আওড়াতে থাকি, অনুরোধ করি বারংবার। ইতিমধ্যে বজরং দলটিও চলে গেছে। অবশেষে গাইড ফোন করে, আমাদের বিষয়ে কারও কাছে অনুমতি চায়। অপেক্ষা চলে। প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর আমাদের জানানো হয়, অল্প সময়ের জন্য এই কথোপকথন বরাদ্দ হয়েছে, আমাদের কথা বলতে হবে অন্যের উপস্থিতিতে। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যাই।



    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ


    রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের পূর্বাঞ্চলীয় প্রচারক শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ। ৩১ জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর প্রায় ১ টার সময় তাঁর সঙ্গে আমাদের কথোপকথন। কথোপকথন হয় নাগপুরে আরএসএস-এর হেডকোয়ার্টারে। ১৯৮১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন। ১৯৬২-তে তিনি গৌহাটিতে আরএসএস-এর শাখা শক্তিশালী করার দায়িত্ব পান। প্রায় ১০ বছর মতলোগ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে হিন্দুত্বের প্রসারে যুক্ত থাকেন। তাঁর কথা অনুযায়ী, ‘খ্রিস্টান মিশনারিরা উত্তর-পূর্বকে খ্রিস্টান ল্যান্ড বানাতে চাইছিল। আমাদের কাজ ছিল স্থানীয়দের মধ্যে হিন্দুত্বের প্রসার ঘটানো’। শুরু হয় আমাদের কথোপকথন

    আমরা- আমরা কলকাতা থেকে এসেছি। শুনলাম আপনি কলকাতায় ছিলেন প্রায় বিশ বছর।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- হ্যাঁ ছিলাম।
    আমরা- আপনার বাংলাও বেশ ভালো। আপনার আদি নিবাস কোথায়?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- মহারাষ্ট্র। এই নাগপুরের কাছেই।
    আমরা মানে বিদর্ভে। নাগপুর তো হিন্দুত্ব রাজনীতির কাছে মক্কার মতো। আপনার গর্ব হয় না?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- সারা ভারতই নাগপুর।
    আমরা- হবে, না, হয়ে গেছে?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- (সহাস্যে) হবে, হবেই।
    আমরা- পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন বহু বছর। আরএসএস-এর পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বে থাকাকালীন বিভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছিল নিশ্চয়। রাজ্যের শাসক হিসাবে সিপিএম, তৃণমূল দুটি দলকেই দেখেছেন। আপনার অভিজ্ঞতা যদি শেয়ার করেন।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে সিপিএম অনেক মজবুত সংগঠন ছিল। ওদের আইডিওলজি ছিল হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে। ওদের ক্যাডাররাজ ছিল, আরএসএস-এর কাজ করা তখন মুশকিল ছিল। হিন্দুত্বের কোনো প্রোগ্রাম নিলে বন্ধ করে দেবার চেষ্টা করত।
    আমরা- সিপিএম-এর শাসনের সময়ের কথা বলছেন?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- হ্যাঁ বামফ্রন্ট আমলের কথা।
    আমরা- এখন কীরকম অবস্থা? আপনাদের কাজ করার ক্ষেত্রে?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- এখন তো সিপিএম-এর রাজ নেই। ওদের রাজ চলে যাওয়ার পর ওদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এখন মমতার রাজত্ব, আর মমতার কোনো আইডিওলজি নেই। মমতার পার্টি কোনো ক্যাডার বেসড পার্টি নয়। (হঠাৎ সন্দিগ্ধ চোখে) আপনারা কি পত্রকার (সাংবাদিক)?
    আমরা- না, আমরা ক্ষেত্র গবেষণার সঙ্গে যুক্ত, সংঘর্ষ ও সহাবস্থান নিয়ে কাজ করি।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- এখানে কেন এসেছেন?
    আমরা- আমরা আজ সকালে দীক্ষাভূমি গেছিলাম (যেখানে আম্বেদকার বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন)। এখানেও এসেছিলাম এখানের লাইব্রেরিতে কিছু বই দেখব বলে। আমরা কয়েকটি বই কিনতেও চাই।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- কী বই?
    আমরা- এই যেমন গোলওয়ালকরের তর্জমা করা জি ডি সাভারকারের বই, ‘উই, অর আওয়ার ন্যাশানালিজিম ডিফাইন্ড’। পাব কি সেটা?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- এটি মারাঠি ভাষায় লেখা ছিল, বইটির নাম ‘রাষ্ট্র মীমাংসা’।
    আমরা- বইটি ছিল সংক্ষিপ্ত তর্জমা। সংঘের কর্মীদের কাছে অবশ্য ‘গীতা’তুল্য।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- কলকাতাতেই তো এটি পেয়ে যেতেন।
    আমরা- না পাইনি। ‘রাষ্ট্র মীমাংসা’ কি এখানে পাব?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- দেখুন পাবেন কি না! কোথায় উঠেছেন এখানে?
    আমরা- এক বন্ধুর বাড়িতে। কয়দিন থাকব। আবার এখানে আসার ইচ্ছে আছে। এখন বোধহয় লাইব্রেরি খোলা পাব না।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- না।
    আমরা- আচ্ছা একটা সময় শুনেছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন তাঁর অনেক সঙ্গে আরএসএস-এর মিলত না। উনি নিজের মত চলতেন।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- নরেন্দ্র মোদী তো আরএসএসেরই। উনি প্রচারক ছিলেন। পরে রাজনীতিতে চলে গেছেন।
    আমরা- কোনো কি মতভেদ ছিল?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- না না না। কোনো মতভেদ থাকবে কেন? সংঘের পুরো ব্যাপারটাই সুচিন্তিত, পরিকল্পিত। আপনারা কি সংঘের কাজ সম্বন্ধে জানেন কিছু?
    আমরা- সেভাবে না হলেও বই পড়ে জেনেছি।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- সংঘের মধ্যে যাদের ইচ্ছে থাকে তারা রাজনীতিতে প্রবেশ করে, যারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে চায় তারা শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবেশ করে, যারা মজদুরদের নিয়ে কাজ করতে চাই তারা মজদুর সংঘে ঢোকে।
    আমরা- যেমন ‘বনবাসী কল্যাণ পরিষদ’, যারা আদিবাসীদের মধ্যে কাজ করে।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- হ্যাঁ।
    আমরা- আদিবাসীদের ‘হিন্দু’ হিসাবে গড়ে তুলতে বনবাসী কল্যাণ পরিষদ কী কী কাজ করে?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- ওরা তো হিন্দুই।
    আমরা- তাহলে আবার ‘ধর্মান্তররণ’ করতে হয় কেন?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- ধর্মান্তররণ নয় ঘর ওয়াপসি। খ্রিস্টান থেকে হিন্দু।
    আমরা- এই কাজ তো বিশ্ব হিন্দু পরিষদ করে থাকে। ওরা তো আপনাদেরই অঙ্গ।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- হ্যাঁ।
    আমরা- বজরং দলের অন্ধ্রপ্রদেশের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন কিছুক্ষণ আগে। ওরাও তো আপনাদের অঙ্গ।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- অবশ্যই।
    আমরা- আর যারা সংস্কৃতি রক্ষার জন্য পথে নামে? ১৪ ফেব্রুয়ারি কিছু প্রোগ্রাম আছে দেশের বিভিন্ন স্থানে, যেমন বানর সেনা ইত্যাদি।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- সব খবর জানি না। তবে দেশ ও সংস্কৃতি রক্ষায় যারা আছে আরএসএস তাদের সঙ্গে থাকবে।
    আমরা- সংস্কৃতি মানে কি ধর্ম?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- আমাদের কাছে দুটিই এক।
    আমরা- ওড়িশাতেও বজরং দল আছে। খ্রিস্টান মিশনারিদের রুখতে যারা সামনে, তাই না?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- অবশ্যই।
    আমরা- দারা সিং তাহলে আপনাদের সম্পদ।
    উত্তর না-দিয়ে মুচকি হাসলেন।
    আমরা- বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে চলছে, যেসব আইন নিয়ে আসছে তাতে আপনাদের সহমত আছে?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- সহমত তো আছেই।
    আমরা- এই যে ধরুন এনআরসি-তে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেল, তাঁর মধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু। কেন্দ্র সরকার নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী নিয়ে এল। যার প্রতিবাদে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- এটাতে তো কেন্দ্রীয় সরকার এবং আরএসএস-এর ইনভলভড হওয়ার কথা। হিন্দুদের বিষয় যখন। (পরে একটু সন্দেহের চোখে তাকিয়ে) তবে এইসব রাজনৈতিক বিষয়ে আরএসএস বিবৃতি দেয় না।
    আমরা- মানে এই বিষয়ে আপনাদের কোন বিবৃতি নেই? যাই হোক, একটা কথা, মানুষকে আরও ‘মানুষ’ করার বিষয়ে তো সংঘের একটা রোল ছিল। মানে সমাজ নিয়ে সমাজ-সংস্কৃতি নিয়ে? সেসব নিয়ে কি ট্রেনিং হয়?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- যখন থেকে সংঘ আরম্ভ হয়েছে তখন থেকে হয়। আপনি কি সংঘের কোনো শাখা দেখেছেন, কার্যক্রম দেখেছেন কি?
    আমরা- কার্যক্রম দেখেছি ধানবাদে।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- সংঘ কোথায় কোথায় কী করবে তা কেউ জানে না। আগেও জানত না। তাই জল্পনা-কল্পনা করতে থাকে। এরা প্যারামিলিটারি হতে পারে। ওরা এটা হতে পারে। ওটা হতে পারে। যখন প্রত্যক্ষভাবে সংঘের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন তখন বুঝতে পারবেন সংঘ কী।
    আমরা- যুবকদের সামরিকীকরণ, হাফ প্যান্ট, শারীরিক কসরত—এসব কি আসন্ন সংঘর্ষের প্রস্তুতি?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- হ্যাঁ আমাদের সবসময় সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।
    আমরা- ডাক্তারজিও (হেগরেওয়ার) সেরকমই চেয়েছিলেন। তাই তো?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- উনি তো সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
    আমরা- যেমন উনি ১৯৩০ সালে নাগপুরে মুসলমানদের শবক শিখিয়েছিলেন সংঘের মাধ্যমে, তাই না? স্বেচ্ছাসেবকরা লাঠি হাতে পাহারা দিত।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- ঠিক।
    আমরা- আপনার কথা বলুন, পড়াশোনা ইত্যাদি।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- আমি ১৯৬২-তে প্রচারক সংঘের হিসাবে কাজ করি। আমি নাগপুরের ভিএনআইটি (বিশ্বেশ্বর ন্যাশন্যাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজি) আগে যা ছিল ভিআরসি (বিশ্বেশ্বর রিজিওন্যাল কলেজ), আমি ওখান থেকে গ্র্যাজুয়েশান করেছি। গ্র্যাজুয়েশান করার পর আমি প্রচারক হয়েছি। আমি ইঞ্জিনিয়ার হলেও কোনোদিন কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ করিনি।
    আমরা- আপনার পরিবার নেই?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- পরিবার ছিল, এখন নেই। পরিবারের সবথেকে বড় ছিলাম আমি। কিন্তু আমরা যারা প্রচারক, যেমন নরেন্দ্র মোদী প্রচারক ছিলেন তাঁরা কোনদিন বিয়ে করতে পারেন না। আমিও করিনি।
    আমরা- কিন্তু নরেন্দ্র মোদী তো বিয়ে করেছিলেন।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- খুব কম বয়সে করেছিলেন, উনি তখন জানতেনও না বিয়ে কী জিনিস। আগে এইরকম হত, তাই না? কিন্তু যখন বড় হয়েছেন, বুঝেছেন এই লাইনটা ঠিক নয়, আমাকে সংঘের লাইন নিতে হবে তখন ত্যাগ করেন। তারপর তিনি প্রচারক হয়েছেন। এখানে থেকেছেন। আমিও ছিলাম সে সময়। ফ্যামিলি না-থাকার কারণে কোনো বার্ডেন নেই। টাকা পয়সা কারও জন্য রাখার কোনো দরকার নেই।
    আমরা- তা নেই। আচ্ছা কালচারাল ন্যাশানালিজম মানে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ, এর অধীনে কীভাবে সারা ভারতে সকলকে আনা যায়, ইনভলভড করা যায়?
    উনি প্রসঙ্গান্তরে চলে যান। উত্তর দেন না। আমি আবার রিপিট করি, এবার হিন্দিতে।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- সেই পথেই তো আমরা চলেছি। পথ তো একটাই। আস্তে আস্তে যখন মানুষ বুঝবে তখন আসবে। আমি তো বহুদিন ছিলাম কলকাতায়। ওখানে সিপিএমের কার্যকর্তাদের সঙ্গে বসেছি। তারা বলেছে তারা জানতই না এসব।
    আমরা- তারা কি কনভিন্সড হয়েছিল?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- হ্যাঁ হয়েছিল। তারাও তো ডেডিকেটেড ওয়ার্কার ছিল। তারা বলেছিল তারা এসব জানতই না। আগে যদি জানতে পারতাম তো ভালো হত।
    আমরা- তাঁরা কি রাজ্যস্তরের নেতা?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- রাজ্যস্তরের, জেলাস্তরের। এমনকি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও। তবে তাঁদের নাম বলতে পারব না।
    আমরা- একজনেরও?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- না।
    আমরা- উদ্দেশ্য?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- আমাদের উদ্দেশ্য একটাই।
    আমরা- হিন্দুরাষ্ট্র।
    উত্তরে উনি মৃদু হাসলেন। আমাদের কথা বেশিরভাগ এখন বাংলাতেই হচ্ছিল। আমাদের ওপর নজর রাখা একজন তখন একটু তফাতে দাঁড়িয়েছেন, সম্ভবত বুঝতে না পেরে। আমরা আবার শুরু করলাম।
    আমরা- আপনার কি মনে হয় ভারত একদিন হিন্দুরাষ্ট্র হবে?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- আছেই হিন্দুরাষ্ট্র।
    আমরা- হ্যাঁ ডিফ্যাক্টো। কিন্তু ঘোষণা?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- ঘোষণার আবশ্যকতাই নেই।
    আমরা- সংবিধানের পরিবর্তনের দরকার নেই?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- সংবিধানের পরিবর্তন? এটা যেটা পরিবর্তন হল (নাগরিকত্ব আইন) সেই রকমই হতে পারে। সংবিধানের জন্য মানুষ না মানুষের জন্য সংবিধান?
    আমরা- মানুষের জন্যই সংবিধান। কিন্তু সেই মানুষ তো সকলেই, সব ধর্মের, সব ভাষার।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- আগেই বলেছি আরএসএস ও বিজেপি একই লক্ষ্যে চলছে।
    আমরা- লক্ষ্যটা স্পষ্ট, হিন্দুরাষ্ট্র। তাই তো?
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- অবশ্যই। কিন্তু আপনারা করেনটা কী?
    আমরা- ওই যে বললাম। রিসার্চের কাজ। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ও ভালোবাসা দুটোই বোঝার চেষ্টা করি।
    একজন মাঝবয়সি লোক ইতিমধ্যে আমাদের আলোচনার জায়গায় চলে এসেছেন। মারাঠিতে কিছু জিজ্ঞাসা করলেন শ্রীকৃষ্ণ মতলোগকে, উনি মৃদু স্বরে কিছু বললেন।
    শ্রীকৃষ্ণ মতলোগ- এবার আমায় উঠতে হবে।
    আমরা- ধন্যবাদ, আমাদের সময় দেবার জন্য (শ্রীকৃষ্ণ মতলোগের দিকে তাকিয়ে)।
    মাঝবয়সি লোকটি হিন্দিতে রূঢ় স্বরে আমাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
    মাঝবয়সি লোকটি- বরাদ্দ সময়ের অনেক বেশি আপনারা কথা বলেছেন। আপনারা কিছু রেকর্ড করেছেন কি? ছবি তুলছিলেন দেখলাম।
    আমরা- ওঁকে জিজ্ঞেস করেই ওঁর ছবি নিয়েছি।
    মাঝবয়েসী লোকটি- আপনারা কী জন্য এসেছেন?
    আমরা- আমরা ওনাকে জানিয়েছি, জিজ্ঞেস করে নিন।
    রিসেপশনে গিয়ে সেখানে মোতায়েন ব্যক্তিকে কিছু জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বাংলায় কথাবার্তা হওয়াই কিছুই বুঝতে পারেননি তা বলেন।
    মাঝবয়সি লোকটি- ঠিক আছে, আপনারা যান। ওঁর বিশ্রামের সময় হয়ে গেছে।

    এরপর আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

    (সেইদিন আর-একবার আমরা একটা প্রয়াস চালাই লাইব্রেরি যাওয়ার।সফলও হই। তখন আরও কিছু মানুষ এসেছিলেন লাইব্রেরিতে। কিন্তু আমাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছিল তা আমরা বুঝতে পারি। লাইব্রেরি সংলগ্ন অংশে একজন মোবাইলে কাউকে বলছিলেন, ‘কলকাত্তা সে আয়া’। ইতিপূর্বে প্রাপ্ত তথ্যগুলির সংরক্ষণের জন্য আমরা চলে আসি। গেরুয়া গামছা গলায় একজনকে দেখি আমাদের অনুসরণ করতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু ঘটেনি।)



    প্রচ্ছদ ছবি- টুইটার
    লেখার ভিতরের ছবি- আমরা এক সচেতন প্রয়াস
    পর্ব - ১ | পর্ব - ২
  • বিভাগ : আলোচনা | ২২ ডিসেম্বর ২০২০ | ৬৪২ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • NN Halder | ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ ২১:০০101319
  • কামান দেগে মশা ও মরল না।এই সাক্ষাৎকার নিতে অতদূর যাওয়া ? যে কোনো শাখার মাঠে ৩দিনের ক্যাম্প করা স্বয়মসেবক ও এই একই কথা গুলো বলবে। নতুন কিছু জানা গেলো না। 

  • santosh banerjee | ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১৮:৫৬101334
  • খুব তাৎপর্য পুরনো লেখা !!এই সময়ে যখন সারা ভারত এই সংঘটন টার দৌলতে নিপীড়িত ।..জর্জরিত !!আমরা অনেকে এই আরএসএস সম্পর্কে ভাসা ভাসা জানি।... খুব উপকৃত হবো !!পরিকল্পনা মাফিক ওনারা এগোচ্ছেন ।...মোটেই খাটো করে দেখা যাবে না !!শক্তিমান শত্রু !!!

  • বিপ্লব রহমান | ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ ১২:৪৭101366
  • রীতিমতো নাজি সদর দফতরে হানা! আসলে ধর্ম-বর্ণ-জাত-পাতের বিভাজন একই! 


    হা শিরিরাম! 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে প্রতিক্রিয়া দিন