• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  রাজনীতি  শনিবারবেলা

  • ভাটপাড়া তথ্যানুসন্ধান - ২

    আমরা এক সচেতন প্রয়াস
    ধারাবাহিক | রাজনীতি | ১৫ আগস্ট ২০২০ | ৮৭৮ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • কাঁকিনাড়ার সাম্প্রদায়িক হিংসা—২০১৮

    ১৮ জুলাই, ২০১৮ তারিখে, অর্থাৎ ভাটপাড়া জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের শিরোনামে আসার আগে, ‘আমরা এক সচেতন প্রয়াস’ এই অঞ্চলে সমীক্ষা শুরু করে। এখানকার সাম্প্রদায়িক হিংসার খুঁটিনাটি জানতে আমরা বহুবার এই অঞ্চলে গেছি। আমাদের দল যখন ৮ নং ওয়ার্ডে প্রবেশ করে তার আগে থেকেই পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত ছিল। আমরা কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের লোকজন, এবং আরও অনেকজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলি। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী এমএলএ অর্জুন সিংহ ভাটপাড়া নির্বাচনক্ষেত্রে শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৮-র সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ‘অগ্নিমানব’-এর ভূমিকা পালন করেছিলেন এই এমএলএ। মাকসুদ আলমের সঙ্গে কথাবার্তায় আমরা এখানকার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিভিন্ন পদ্ধতি এবং প্রবণতার ব্যাপারে কিছুটা জানতে পারি। স্পষ্টতই বোঝা গেল যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয়পাত্র এমএলএ অর্জুন সিংহ এখানকার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির আগুনে ঘি ঢালার কাজটা করে চলেছেন।


    ধ্বংসের খন্ডচিত্র - ১


    কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের সঙ্গে কথাবার্তা

    মাকসুদ আলম: গত কয়েক বছর ধরে রামনবমীর মিছিল হচ্ছে। এর আগে আমরা বছর ১৫ আগে একটা মিছিল দেখতে পেয়েছিলাম। ২০১৭-তে এই মিছিল নিয়ে একটা ঝামেলা হয়। ফলস্বরূপ, এই বছরে শুরু থেকেই তৃণমূল মিছিল পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। প্রিয়াংশু পান্ডেকে অর্জুন সিং পুরো ব্যাপারটা পরিচালনা করার দায়িত্ব দেন। স্থানীয় মুসলিমরা মিছিলের লোকজনের পানীয় জল সরবরাহ করার দায়িত্ব নেন। মিছিল বেশ শান্তিপূর্ণ ভাবেই হচ্ছিল, কিন্তু কিছু সময় পর কয়েকজন লোক পিছন দিক থেকে মিছিলে ঢুকে পড়ে লোকজনকে টোন-টিটকিরি করতে শুরু করে। বিশেষ করে, যখন ওরা একটা গান চালাচ্ছিল, যার মূল বক্তব্য “এই দেশে থাকতে গেলে ফেজটুপি পরা ছাড়তে হবে”, তখন মুসলিমদের মধ্যে ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া শুরু হতে থাকে। মিছিল যেখানে শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে মুসলিমরা জলের বোতল আর ইট ছুঁড়তে শুরু করেন। কিন্তু কাছাকাছি একটা পার্টি অফিস আছে, আর সেখানে অর্জুন সিংহ নিজে উপস্থিত ছিলেন। তাই পরিস্থিতি খুব একটা বাজে জায়গায় যেতে পারেনি। পুরো ব্যাপারটা বছর খানেকের মধ্যে সামাল দেওয়া গেছে।
    ‘আমরা’: মিছিলটা আপনাদের তৃণমূল পার্টি থেকে আয়োজন করা হয়েছিল?
    মাকসুদ আলম: মিছিলে শুধু তৃণমূলের ক্যাডার ছিল—এমনটা নয়। প্রিয়াংশুর নিজের লোকজনও ছিল—ওরা বিজেপি ক্যাডার। ওদের ধান্দাই ছিল ঝামেলা পাকানো।
    ‘আমরা’: হ্যাঁ বাকিরা তো ছিলই। কিন্তু আপনাদের পার্টিই মিছিলটা আয়োজন করেছিল, তাই তো?
    মাকসুদ আলম: হ্যাঁ ।
    ‘আমরা’: কিন্তু রামনবমীর মিছিল কেন? মানে ধর্মীয় মিছিল কেন আপনাদের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হল?
    মাকসুদ আলম: এটার উত্তর আমি দিতে পারব না। পার্টির ওপর মহল থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
    ‘আমরা’: মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্জুন সিংহ, তাই তো?
    মাকসুদ আলম: উনি হলেন আমাদের সর্বেসর্বা নেত্রী, আর ইনি আমাদের বস।

    কিছুক্ষণের জটলা কেটে গেলেও দুই পক্ষের লোকেরাই একে অপরের প্রতি যথেষ্ট ক্ষেপে থাকেন। স্থানীয় প্রশাসন দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করতে থাকেন। আলমবাবু আমাদের জানালেন। উনি আরও বললেন যে সেইদিনকেই কাঁটাপুকুর এলাকায় আর-একটা সংঘর্ষ বাধে। একজন ব্যক্তি খুন হয়েছিল এবং অভিযুক্তের তালিকায় প্রিয়াংশুর নাম ছিল। প্রিয়াংশু হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যান। উনি তৃণমূল পার্টির সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেন না। অনেকে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বিফল হয়েছেন। গোপন সূত্রে জানা গেছে যে প্রিয়াংশু বিপেজির সঙ্গে, বিশেষ করে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। কিন্তু অর্জুন সিংহ, যিনি প্রিয়াংশুকে এই মিছিলের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তাঁর ভূমিকাটা ঠিক স্পষ্ট নয়। আমরা আলমবাবুকে বারংবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও উনি এই ব্যাপারে কোনো উত্তর করেননি।



    ধ্বংসের খন্ডচিত্র - ২


    কাঁটাপুকুর এলাকায় কথাবার্তা
    কাঁকিনাড়া, ওয়ার্ড নং ১৫ (হিন্দু ৬০%, মুসলিম ৪০%)

    আমরা একটি মুসলিম-প্রধান এলাকার স্থানীয় ক্লাবে আলোচনা চালাচ্ছিলাম। আমরা বুঝতে পারছিলাম যে ওনারা এখনও আতঙ্কে রয়েছেন। এখনও অবধি কোনো সংবাদমাধ্যম ওনাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে আসেনি। ওনারা আমাদের একটি বড়ো পুকুর দেখালেন, যার একপাশে মুসলিম জনবসতি, অন্যদিকে হিন্দু জনবসতি। তাঁদের জীবনে এরকম সমস্যা আগে কোনোদিন আসেনি। আগে তাঁরা একসঙ্গে চা খেতেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করতেন। এখন তাঁরা পরস্পরকে এড়িয়ে চলছেন।

    রামনবমীর ঘটনা নিয়ে ওনারা বললেন যে মিছিল শেষ হবার আগেই সমস্যা শুরু হয়। বোতল এবং ইট ছোড়ার ঘটনা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রিয়াংশুর দল এই কাজ করেছে। তৃণমূল থেকে মিটমাট করার চেষ্টা করা হতে থাকল আর প্রিয়াংশু তাঁর দলবল নিয়ে অন্যদিক দিয়ে পালিয়ে গেলেন। তারা ব্রিজের কাছে মৌলানা আবুল কালাম আজাদের মূর্তি ধ্বংস করেছে। ওই অঞ্চলে ভাঙচুর চালানোর পর শেষমেশ তারা কাঁটাপুকুরে এসে পৌঁছায়। ওরা প্রায় ১০০-১৫০ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল। তখন এলাকায় অন্ধকার নেমে আসছে। তিনজন ব্যক্তি গুলিতে আহত হয়েছিলেন এবং একটি ঘোড়াকেও গুলি করা হয়েছিল। একজনের মৃত্যুও হয়েছে। পুরো ঘটনা রাস্তায় সকলের সামনে ঘটে। সবাই এখানে খেটে-খাওয়া মানুষ—দিন আনে, দিন খায়। গুলিতে যে ব্যক্তির মৃত্যু হয় পেশায় তিনি ছিলেন একজন বেলুনবিক্রেতা।

    এই এলাকার লোকদের মতে এখানকার অনেক তৃণমূল নেতাই আসলে বিজেপি মদতপুষ্ট । প্রিয়াংশু আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কিন্তু বিজেপির সঙ্গে তাঁর যে ভালোই যোগাযোগ ছিল, তা সেদিন পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায়। লোকজন জানতে পারে যে প্রিয়াংশু স্থানীয় বিজেপির আশ্রয়ে রয়েছেন। স্থানীয় মুসলিমরা নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন।

    মৃত কুদ্দুস খানের পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা

    কুদ্দুস খান কাঁটাপুকুর ক্লাব রোডে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে ছোট্ট একটা ঝুপড়িতে থাকতেন। তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর। তাঁর বাড়িতে রয়েছে তাঁর তিন মেয়ে ও স্ত্রী। পেশায় তিনি ছিলেন বেলুনবিক্রেতা । স্পষ্টতই তাঁদের আয় ছিল সামান্য এবং পরিবারের মানুষেরা দারুণ অর্থকষ্টে দিন কাটান। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, এলাকায় শান্তিপ্রিয় লোক হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। তিনি জানতেন যে দাঙ্গা হচ্ছে, তবে সেই দাঙ্গা যে সেদিকে ধেয়ে আসবে সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। বিকেলে মেয়েকে ঘরে আনতে গিয়ে হঠাৎই উনি গুলিবিদ্ধ হন। উনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ওনার মৃত্যু হয়। খবর পৌঁছাতেই কুদ্দুসের বড়ো শালা কালবিলম্ব না করে সেখানে উপস্থিত হন, কিন্তু ততক্ষণে পুলিশ মৃতদেহ নিয়ে গেছে।

    আমরা জানতে চেয়েছিলাম কোনো অভিযোগ বা এফআইআর দায়ের হয়েছে কি না। আমাদের একটা কাগজ দেখানো হল, কিন্তু সেটা এফআইআর নয়। সেটা ছিল একটি অভিযোগপত্র, কিন্তু তাতে না ছিল কোনো স্বাক্ষর, না কোনো রিসিট কপির চিহ্ন। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকায় পরিবারটি যথেষ্ট সন্তুষ্ট—পরিবারটিকে দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং কুদ্দুসের স্ত্রী চন্দ্রা খাতুনকে মিউনিসিপালিটিতে একটি স্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়েছে।


    কাঁকিনাড়ায় মৃত ব্যক্তির সন্তানদ্বয়

    কাঁটাপুকুরের অন্য পারে হিন্দু বসতি ঘুরে দেখা

    এলাকায় পৌঁছেই আমরা একটি স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি। কিন্তু তাঁরা কিছুই জানেন না—এই বলে মুখ খুলতে চাইলেন না। ততক্ষণে দুপুর হয়ে গেছে এবং রাস্তা তখনও জনমানবশূন্য। আমরা কয়েকজন অল্পবয়সি ছেলেদের সঙ্গে কথা বললাম। প্রথমে তারা খুনের ব্যাপারে কিছু জানে না বলে আমাদের জানাল। ওরা শুধু বলল যে রামনবমীর মিছিল বেরিয়েছিল এবং মন্দিরের কাছে একটা ঝামেলা হয়েছে। এর বেশি কিছু জানাতে তারা অস্বীকার করল। আমরা খুনের ব্যাপারে বলতে তারা স্বীকার করে। তাদের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হল যেন “মুসলিম মারা গেছে আমাদের কিছু যায়ে আসে না”। পরিষ্কার বোঝা গেল যে রামনবমীর মিছিলের সংঘর্ষ তাদের মনে তেমন কোনো ছাপ ফেলেনি। তারা শুধু বলল, “মুসলিমদের ফেজ টুপি খুলে চলাফেরা করা উচিত”। তাদের মুসলিম-বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে দাবি করলেও তাদের বিজেপি-ঘেঁষা মনোভাব পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল।

    অফিসার-ইন-চার্জ, ভাটপাড়া পুলিশ থানা

    ভাটপাড়া থানার এক অফিসার আমাদের পরিষ্কার জানালেন যে এই বিষয়ে তিনি আমাদের কিছু বলতে পারবেন না, কারণ তা নিয়মবিরুদ্ধ। আমরা বারংবার ওনাকে সংক্ষেপে ব্যাপারটা আমাদের জানাতে আর এলাকায় শান্তি ফেরানোর ব্যাবস্থা করতে অনুরোধ করলেও প্রত্যেকবারই তিনি সে অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমাদের গবেষণা থেকে নিম্নলিখিত তথ্য পাওয়া গেছে। মৃতের পরিবারের তরফ থেকে দায়ের করা এফআইআর নং হচ্ছে ৩৩৬। এখনও অবধি এই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করে চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। ব্যারাকপুর কোর্টে এই মাওলার শুনানি চলছে এবং বিচারের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মূল অভিযুক্ত প্রিয়াংশু পান্ডে, বিক্রম সাহু এবং অন্যরা।

    ওনার মতে, সমস্যার সূত্রপাত হয় মিছিলে ওই গান চালানো নিয়ে। গান চলাকালীন মুসলিমরা অধৈর্য এবং অশান্ত হয়ে উঠতে থাকে। হিন্দুরাও তৈরি ছিল। মিছিল শেষ হবার আগেই মুসলিমরা মিছিলে আক্রমণ করে। হিন্দুরা এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, এবং সঙ্গে সঙ্গেই তারা বোতল, ইট, পাটকেল তুলে পালটা আক্রমণ চালাতে থাকে। কাছাকাছি পুলিশথানা বা পার্টি অফিস না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হতে পারত।

    পরে মুসলিমরা প্রিয়াংশুর বাড়ি লক্ষ করে বোমা ছোড়ে। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ প্রিয়াংশু কাঁটাপুকুর এলাকায় গুলি চালান এবং তাতে একজনের মৃত্যু হয়।

    জগদ্দল পুলিশ থানায়

    প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর অফিসার-ইন-চার্জ সঞ্জীব চক্রবর্তী এসে উপস্থিত হলেন। আমরা কথা বলতে চাইলে উনি প্রত্যাখ্যান করলেন, এমনকি এও জানালেন যে আমাদের এই তথ্য অনুসন্ধানের কাজ নাকি বেআইনি। আমরা তাঁকে জানালাম যে আমরা মানবাধিকার কর্মী হিসাবে বহুদিন ধরে এধরনের কাজ করে যাচ্ছি এবং সংঘর্ষ ও সহাবস্থান নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছি। উত্তরে উনি জানালেন যে আমরা নাকি প্রথম থেকেই আইন ভঙ্গ করে কাজ করে আসছি। আমরা ওনার সঙ্গে কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে বেরিয়ে এলাম। সত্যি বলতে কী, ওঁনার থেকে আমাদের নতুন কিছু জানারও ছিল না।

    প্রিয়াংশু পান্ডে প্রকাশ্য দিবালোকে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। লকডাউনের সময় জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে উনি ত্রাণ বিলিও করেছেন। উনি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি কর্মী এবং আরএসএস-এর একটি পরিচিত মুখ।


    ধ্বংসের খন্ডচিত্র - ৩


    ভিড়ের মাঝে

    আমরা মহ. হালিমের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। প্রথমে আমরা মৃত মহ. হালিমের ভাইপো মহ. কামারুদ্দিনের সঙ্গে কথা বললাম। আমাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া অবধি উনি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন না। আমাদের উদ্দেশ্য জানানোর পর কেউ একজন বলল, “কী হবে এসব করে? দু-মাস তো হয়েই গেছে।” আমরা ওনাকে আমাদের মূল উদ্দেশ্য খুলে বলার পর আলোচনা শুরু হল।

    কামারুদ্দিন: ৩ জুন তিনটে পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। ওরা আকবর আলি আর তাহের হোসেনের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তারপর থেকে গুলি-বোমা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠেছে। মোটরসাইকেলে, টোটোতে, বা পায়ে হেঁটে বাইরে থেকে অনেক লোকজন এসেছিল। সব অচেনা মুখ।
    ৫ থেকে ৭ তারিখ অবধি কিছু হয়নি। আমরা ভাবলাম সমস্যা মিটে গেছে। আমার কাকা মহ. হালিম আগে জুটমিলে কাজ করতেন, এখন রিটায়ার করেছেন। উনি ওখানে বসেছিলেন (বারান্দার দিকে দেখিয়ে)। হঠাৎ বীভৎস একটা আওয়াজ হল আর চারদিক ধোঁওয়ায় ঢেকে গেল। ওরা গোটা দুয়েক বোম ফেলেছিল। একটা আমার কাকার মাথায়, আর-একটা পাশের মহ. মুস্তাকের বাড়িতে। মাথার খুলি ফেটে আমার কাকা সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। কাকি অ্যাপোলো হাসপাতালে ভরতি ছিলেন, এখন ছাড়া পেয়ে বাড়ি এসছেন। প্রায় ৩.৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে—পুরোটাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। কাকার ছোটোছেলে তাবরেজ দৃষ্টি হারিয়েছে (তাবরেজ, তাবরেজের ভাই এবং মায়ের বিস্তারিত কথোপকথন এই রিপোর্টের ‘আক্রান্তদের সাক্ষ্য’ অংশে আলোচিত থাকবে)। দিশা আই হসপিটালে ওর চিকিৎসা হয়েছে—এখন ঠিক আছে। কাকার বড়োছেলে পারভেজ (২২)-কে সরকারের তরফ থেকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। গত মাসে ও জয়েন করেছে আর স্যালারিও পেয়েছে।
    ‘আমরা’: পুলিশের ভূমিকা?
    কামারুদ্দিন: এখন এখানে পুলিশ পোস্টিং হয়েছে। তাদের হাতে অস্ত্রও রয়েছে। কিন্তু তাও বোম পড়েছে।
    ‘আমরা’: কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি?
    কামারুদ্দিন: ৬ জন পুলিশের মধ্যে ৪ জন টহল দিচ্ছিল, একজন ঘুমাচ্ছিল। বাকি একজন একা আর কী করবে?
    ‘আমরা’: যারা বোমা ছুড়ল, তারা কী করে জানল যে বেশির ভাগ পুলিশ বাইরে টহল দিচ্ছে আর বস্তুত একজনই অন ডিউটি আছে?
    এই কথা বলার পর কামারুদ্দিন চুপ করে গেলেন। ইতিমধ্যে এলাকার লোকজন জড়ো হওয়া শুরু হয়ে গেছে এবং আমাদের আলোচনা আর-একজনে সীমাবদ্ধ রইল না। কথা শুনে যা মনে হল, এলাকার লোকজন সেই সময়ে পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপে সন্তুষ্ট।


    ধ্বংসের খন্ডচিত্র - ৪


    দলবদ্ধ আলোচনা

    এবার শুরু হল বিভিন্ন বয়সের ১২-১৪ জনকে নিয়ে এক দলবদ্ধ আলোচনা। মূলত ৩-৪ জন সক্রিয় ভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকজন কথা বলতে চাইছিলেন না। ওনারা বারবার বলছিলেন যে এর আগেও অনেকজন এসছেন কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তখনও অবধি বোমাবাজি বন্ধ হয়নি।

    কামারুদ্দিন: ২৩ তারিখ রাত ১০ টা নাগাদ ওরা কোনার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল লোকজনকে ভয় পাইয়ে এলাকাছাড়া করা। আগুন লাগিয়ে নিজেদেরকে খুব বীরপুরুষ ভাবছিল ওরা।
    জনৈক ব্যক্তি: ছবি তুলবেন না!
    ‘আমরা’: নানা চিন্তা নেই, আমরা ছবি তুলছি না।
    কামারুদ্দিন: পাশাপাশি তিনটে ঘরে ওরা আগুন লাগিয়ে দেয়। তিনটেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যাবতীয় আসবাবপত্র সব গেছে।
    ‘আমরা’: ওনার নাম কী ছিল?
    আর-একজন: আকবর আলি, উনি বাড়ির কর্তা ছিলেন। পিছনের তাহের হোসেনের ঘরটাও ওরা পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। দুটি পরিবারে অন্তত ১৫ জন বাসিন্দা ছিল ।
    কামারুদ্দিন: ২৩ তারিখের পর প্রত্যেকদিনই ওরা গোটা দুয়েক করে বোমা ছোড়ে। আমরা ওদের চিনি না। ওরা কখনও মোটরসাইকেলে আসে, কখনও হেঁটে, কখনও আবার টোটো করে। এসে বলতে থাকে “সব মিয়াঁরা (মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে) ঘর ছেড়ে, এলাকা ছেড়ে চলে যাও। এখানে কাউকে টিকতে দেব না”। কখনও দিনেদুপুরে ১১ টার সময়, কখনও রাতে। ওরা মাস্ক পরে না। তবু আমরা কেউ ওদের চিনতে পারি না—সব বাইরের লোক। তিনটে অচেনা ছেলে এসেছিল, আমরা ভাবলাম মজা করছে। কিন্তু এটা বেশ কয়েকদিন ধরে চলতে থাকল। মাঝে মাঝে দু-একদিন ওরা আসত না। আসল রিপোর্ট আপনারা থানায় পাবেন। পুলিশ কয়েকজনকে পাকড়াও করেছে। পুলিশ ওদের ৭ বার তুলে নিয়ে গেলে ওরা ৯৪ বার (৯৩ বার বলতে চেয়েছিলেন) ফিরে আসে। কখনও দুজন আসে, কখনও তিনজন।
    ‘আমরা’: ওদের এত দাপট হয় কী করে? তিনজনে এসে বোমা ছুড়ে যায়!
    কামারুদ্দিন: ওদের কে কী করবে? স্থানীয় নেতার মদতপুষ্ট ওরা। অনেক অশিক্ষিত লোক আছে, পয়সা পেয়ে কাজ করে। শিক্ষিত লোকে এই কাজ করবে না। “আমাদের নেতা বলেছেন, অতএব আমায় করতেই হবে, আমার নেতা আমার কাছে ভগবান।” এভাবেই চলতে থাকল। মাঝে হয়তো দু-একসপ্তাহ বন্ধ রইল। ২ জুন থেকে এসব কিছু পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। লোকজনও আস্তে আস্তে গা ছেড়ে দিল—এদিক ওদিক বসে গল্প করতে লাগল। ১০ জুন এখানে ৪-৫ জন আর ওদিকে (একটু দূরে নির্দেশ করে) ৪-৫ জন বসেছিল। লোকটার সামনে ওর বাচ্ছাও ছিল। আমি এখানে বসেছিলাম, মুস্তাক ছিল ওখানে। আমি সামনে তাকিয়েছিলাম, কাউকে দেখতে পাইনি। হঠাৎ প্রচণ্ড একটা শব্দ হল। বোমা পড়েছিল আর চারদিক ধোঁওয়ায় ঢেকে গেল। আমি তাড়াতাড়ি ঘরে গেলাম। আওয়াজ শুনে মনে হল যেন একসাথে দশটা বোম পড়েছে। আমি দেড় ঘণ্টা মতন কিছু শুনতে পাইনি। বাইরে এসে দেখলাম আমার কাকি কাকার মৃতদেহ কোলে নিয়ে এইভাবে বসে আছে (ভঙ্গিটা দেখিয়ে)। কাকার মাথার খুলি ফেটে চৌচির!
    দুটো আওয়াজ হয়েছিল, মানে পরপর দুটো বোমা পড়েছিল। আখবার-ই-মশরিখ (একটি উর্দু খবরের কাগজ) খবরটা ছেপেছিল। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় দাঙ্গা লেগে গেল। ২৩ জুন কাঁকিনাড়া বাজারের ৪০ টি দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
    ‘আমরা’: কাদের দোকান? সবার, নাকি শুধু মুসলিমদের?
    কামারুদ্দিন: সবার। হিন্দু হোক কি মুসলিম—ভুগতে তো সাধারণ মানুষকেই হয়।
    ‘আমরা’: আপনারা এই ভগবানের কথা বলছেন, তা ইনি কে?
    কামারুদ্দিন: আন্দাজ করুন।
    এবার সকলে: এখানে সবাই জানে কে দোষী। সামনে লোকসভা ভোট, দল বদলানোটাই গুরুতর ব্যাপার হয়ে উঠেছে।
    জনৈক ব্যক্তি: বাপ-বেটে নে জিনা হারাম কার দিয়া (বাপ-ছেলেতে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে)। (ফিসফিসিয়ে বলে)
    ‘আমরা’: হ্যাঁ, এটাই তো সমস্যা, কিন্তু এককালে তো উনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন!
    বয়স্ক ব্যক্তি ১: হ্যাঁ, দুই সম্প্রদায়ের সমাজবিরোধীদের মধ্যেই জনপ্রিয়। সাধারণ হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে নয়। এখন আমরা পুলিশের উপরই ভরসা করি—ওনারাই আমাদের রাখওয়ালা।
    ‘আমরা’: এখানে তো এখন পুলিশ মোতায়েন আছে।
    প্রায় সকলেই: রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। আমরা ওনাদের থাকতে দিয়েছি। ওনাদের চোখের সামনেই তো বোম ফেলেছে… যান জিজ্ঞেস করুন ওনাদের। শুধু দুজন আছেন এখানে। ওনারা কী করবেন?
    আর-একজন বয়স্ক ব্যক্তি ১: আমরা জানি যে শ্রমিকরা বোমা ফেলেছে। ওরা টাকার জন্য করেছে। যারা টাকা ঢালছে আর বোম বানাচ্ছে, আমি নিশ্চিত তারা অন্য লোক। এই শ্রমিকদের এমন কোনো আদর্শগত কারণ নেই যার জন্য বোম ফেলবে।
    ‘আমরা’: কেউ ক্ষতিপূরণ দিতে আসেননি?
    জনৈক ব্যক্তি: হ্যাঁ, ঘটনাটা ১০ তারিখ ঘটেছিল। ১১ তারিখ তৃণমূলের মদন মিত্র আর জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এসছিলেন।
    ‘আমরা’: বিজেপি থেকে কেউ আসেননি?
    প্রায় সকলেই: এখনও অবধি তৃণমূল ছাড়া কেউ না।
    কামারুদ্দিন: আমার ভাইপো তাবরেজের চোখের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৮০০০০ টাকা খরচ হয়েছে। আমার কাকিমার অপারেশন হয়েছে, তাতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে (টাকার অঙ্ক নিয়ে আর-একজন অল্পবয়সির সঙ্গে সামান্য বচসা)।
    ‘আমরা’: এই খরচ কে বহন করল?
    কামারুদ্দিন: রাজ্য সরকার।
    ‘আমরা’: এই পর্যায়ের সংঘর্ষ এর আগে হয়েছে বলে মনে পড়ে?
    কামারুদ্দিন: কোনোদিনও না। আমি ১৯৮৪ সালে হফ প্যান্ট পরা অবস্থায় এখানে এসেছি। প্রথমে আমরা ভাড়াবাড়িতে থাকতাম, পরে নিজেদের বাড়ি হয়। এখন আমার বয়স ৪২। এই এত বছরে এমনটা আমি আগে কখনও দেখিনি। এখানে প্রতি ১০ টা পরিবারের মধ্যে ৪ টে হিন্দু পরিবার পাবেন। আমরা সবাই একসাথে থাকি।
    একটি নাবালক ছেলে: ধরুন আমি আপনার উপর বোমা ছুড়লাম। এখন, আমি কে সেটা কিন্তু আমায় কেমন দেখতে তা থেকেই বুঝে নেওয়া যায়। যেমন ধরুন এই যে এই চাচা, আপনি দেখেই বুঝে যাবেন যে উনি মুসলিম।
    কামারুদ্দিন: ঠিক তাই। আবার ধরুন এই আপনি বা আমি—আমাদের দেখে কেউ বুঝতে পারবে না আমরা হিন্দু না মুসলিম।
    ‘আমরা’: তাহলে স্থানীয় কারা? স্থানীয় হিন্দুরা কী বলছেন?
    দুজন ব্যক্তি: স্থানীয় কিছু আছে। ওই যে দেখছেন (একটি স্থানীয় হিন্দু বাড়ির দিকে নির্দেশ করে), ওরা রাতে বাড়ি থাকে না।
    ‘আমরা’: ওরা কি ভয় পেয়ে আছেন?
    প্রায় সবাই: না না। ওরা না থাকলেই বোম পড়বে। ওরা থাকলে কোনদিন বোম পড়ে না।
    ‘আমরা’: ওরা কি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত?
    (দু-তিন সেকেন্ড কোনো উত্তর নেই, তারপর)
    একজন উত্তর করলেন: নিশ্চয়ই।
    ‘আমরা’: আপনারা এই ঘটনার পর একে অপরের সাথে কথা বলেছেন?
    ওই লোকটিই: ঘটনার পর থেকে ওরা এখান থেকে চলে গেছে। আর ফেরেনি।
    ‘আমরা’: এখনও?
    কামারুদ্দিন: হ্যাঁ এখনও। আমাদের বাড়িতে আগুন লাগার পর সবাই ওদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিল। এখানে আরও একটি হিন্দু পরিবার আছে—ওটা কিনার সিংহের। উনি এককালে জমিদার ছিলেন।
    ‘আমরা’: মানে হিন্দুদের বাড়িও জ্বালানো হয়েছে?
    বয়স্ক ব্যক্তি ২: না না শুধু মুসলিমদের। তিনটে হিন্দু বাড়ি, আর বাকি সব মুসলিম। ওই জমিদারবাড়িতে ধর্মেন্দ্র সিংহ নামে একজন আছেন। আমরা ওনার সাথে কথা বলতে গেছিলাম। উনি বললেন, ওনার নেতার সাথে কথা বলবেন, তিনি নির্দেশ দিলে তবেই উনি কথা বলতে পারবেন। ২৩ তারিখে আমরা প্রথমে ওনার কাছেই গেছিলাম। আমাদের মনে হয়েছিল স্থানীয় নেতার ব্যাপারটা দেখা উচিত ছিল। উনি আমাদের বললেন যে ওনার নেতার অনুমতি পেলে তবেই উনি কথা বলতে পারবেন। উনি অর্জুন সিংহের বিশ্বস্ত লোক।
    ‘আমরা’: তারপর আর কিছু কথাবার্তা হয়নি?
    বয়স্ক ব্যক্তি ২: কিচ্ছু না।
    (আমরা আশেপাশের হিন্দু বাড়িগুলি দেখতে বেরলাম। কয়েকজন আমাদের সঙ্গে চললেন। সব দরজা বাইরে থেকে তালা লাগানো। আমরা একটি হিন্দু বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম। দেখে পরিত্যক্ত মনে হল।)
    কামারুদ্দিন: ওরা আর ফিরে আসেনি। রাজ্যসরকারের পুলিশবাহিনী মোতায়েনের পর ওদের দেখতে পেয়েছি। পুলিশ নিজেদের তরফ থেকে সমস্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওরা ১ টা নাগাদ এল, আবার ৪০ মিনিট পর এল, তারপর আবার এল এক ঘণ্টা পর।
    পুলিশ আছে বলেই আমরা এখনও এখানে আছি। না হলে ওরা (হিন্দুরা) আমাদের অনেক আগেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য করত।
    ‘আমরা’: হ্যাঁ পুলিশ আসায় আপনারা সুরক্ষা পেয়েছেন—এটা ঠিক। কিন্তু সব হিন্দু বাড়িগুলি বন্ধ দেখলাম। তার মানে কি আপনাদের হিন্দু প্রতিবেশীরাও ভয়ে আছেন? ঠিক যেমন আপনারা ওনাদের ভয়ে পাচ্ছেন?
    দুজন তরুণ: আমরা তো ওদের আক্রমণাত্মক কিছু বলিনি। কিন্তু এটা ঘটনা যে আমাদের উপর ঘটে যাওয়া প্রতিটা আক্রমণের কথাই ওরা জানে। ওরা চলে যাবার পরেই গুণ্ডারা বোম ফেলতে শুরু করে। আমরা দেখেছি, প্রতিবার এমনটাই হয়েছে।

    (ক্রমশঃ)




    থাম্বনেল গ্রাফিক্স: স্মিতা দাশগুপ্ত
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৫ আগস্ট ২০২০ | ৮৭৮ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত