• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • করোনাভাইরাসের তাণ্ডব, কিসে থামানো যাবে?

    অরিন লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৯ জুলাই ২০২০ | ২৪৮ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • দু হাজার কুড়ির শুরুর থেকে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস অতিমারির তাণ্ডব চলছে। এখন অবধি

    ২০ মিলিয়ন (১৯৮ লক্ষ) লোক আক্রান্ত, ৮ লক্ষের কাছাকাছি মানুষ মারা গেছে (৪% মৃত্যুহার)। এর মধ্যে খোদ ভারতেই সরকারী হিসেব অনুযায়ী ২১ লাখ লোক আক্রান্ত, সাড়ে ৪৩ হাজার মানুষ মারা গেছেন, ছ'মাস বড়জোর অতিক্রান্ত হয়েছে।

    তারই মধ্যে একটি ঝাপসা নকশাও যেন দেখা যাচ্ছে: কয়েকটি দেশে, যেমন নিউজিল্যাণ্ডে কোভিডের প্রকোপ কমে গিয়েছে আর বাড়েনি, আবার কয়েকটি দেশে কোভিডের প্রকোপ সাময়িক কমবার পরে আবার বেড়েছে, যেমন দক্ষিণ কোরিয়া, আবার কিছু দেশে কোভিডের প্রকোপ বেড়েই চলেছে — এর মধ্যে ব্রাজিল, আমেরিকা ও ভারতে বিশেষ করে (চিত্র ১)। শুধু কি তাই? নয় নয় করে মহামারী (নাকি অতিমারি?)’র শুরুর থেকে ছ’টি মাস অতিক্রান্ত, এখনো মানুষের হাতে না আছে ওষুধ, না আছে প্রতিষেধক টিকা। সব মিলিয়ে চিত্রটি জটিল। তাই একটিবার দেখা যাক একদিকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার যে পরিচিত জগৎকে আমরা চিনি আর হঠাৎ করে জনস্বাস্থ্য’র যে ব্যবস্থাটি নিয়ে আমরা অনেকে সচরাচর মাথা ঘামাই না, তার আশু প্রয়োজন, এবং উভয়ের টানাপোড়েনে করোনা এবং আরো অনেক মহামারী/অতিমারি (বিগত/আগত) কে নিয়ন্ত্রণের কোন চাবিকাঠিটি লুকিয়ে । আমার লেখাটিতে আমাদের শরীর, জীবাণুদের অদ্ভুত জগৎ, প্রকৃতি পরিবেশ, আর মহামারীর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও ব্যক্তিস্বাস্থ্যের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করব। আমরা মহামারীকে বড় মাপে বড় ক্যানভাসে দেখব।
    দেখুন মহামারীকে যদি “মারী”র সংজ্ঞায় দেখি (যে বহু মানুষের অল্প সময়ে একত্রে মৃত্যুর কারণ যে, সেই মহামারী), তাহলে মনে হয় মহামারীর সমস্যা নতুন কিছু নয়, বিশেষ করে ভারতের মানুষের কাছে তো নয়ই । আমাদের ইতিহাসে প্রায়ই বহুরূপে মহামারী আত্মপ্রকাশ করেছে, সব সময় যে সে ছোঁয়াচে রোগের রূপ ধরে প্রতিভাত হয়েছে তাও নয়, কখনো সংক্রামক রোগ হয়ে, কখনো প্রাকৃতিক অসুখ রূপে, কখনো মন্বন্তর, কখনো যুদ্ধবিগ্রহ (যদিও সচরাচর যুদ্ধবিগ্রহ , মন্বন্তর, প্রাকৃতিক অসুখ, আর সংক্রামক অসুখকে একই চালচিত্রের তলায় আমরা দেখি না) । হালে ২০১৯-২০ সালের এই মহামারীর বছর দশেক আগে ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যে এমনই একটি মহামারী দেখা দেয়, সেও করোনা ভাইরাসেরই এক রূপ, দেখা গেছিল। সেবারে #### র কিছু বেশী মানুষ মারা গিয়েছিলেন, অন্তত এবারের করোনাভাইরাসের থেকে তার মৃত্যুহার বেশী ছিল, যদিও ভারতে তার রেশ বিশেষ পড়েনি। তার আগে ২০০৮ সালে SARS নামে যে মহামারীটি আত্মপ্রকাশ করে তার হাল হকিকৎ কিছুটা এবারকার মতন ছিল (হঠাৎ করে ফুসফুসের প্রদাহ হয়ে মৃত্যু, যদিও সে অসুখের সংক্রমণ ক্রমপর্যায় অন্যরকমের)। তবে মানুষের মৃত্যুর মিছিল এবারকার মহামারীটির কাছে নেহাৎই সামান্য ৮০০০ এর কাছাকাছি। এহ বাহ্য, বছরের পর বছর ইনফ্লুয়েনজার প্রকোপে বছর সম্বৎসর সারা পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৬,৫০, ০০০ মানুষের প্রাণ যায়।

    শুধু কি তাই? আবার দেখুন শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কবাদের উগ্রপন্থীদের তাণ্ডবে বহু সহস্র মানুষের প্রাণ গিয়েছে, একসঙ্গে হঠাৎ করে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, গৃহহীন হয়েছেন, এও কিন্তু মহামারী! ৮০-৯০ সালের বছরগুলোতে HIV-AIDS সংক্রমণের প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দশকের পর দশক জুড়ে বিশ্ব জুড়ে উষ্ণায়ণের প্রভাবে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন, প্রশান্ত মহাসাগরের টুভালু দ্বীপ থেকে মানুষ শুধু প্রাকৃতিক কারণে উষ্ণায়ণের কারণে সমুদ্রস্তর বেড়ে যাওয়ায় উদ্বাস্তু হয়ে গেলেন (তাঁরা নিউজিল্যাণ্ডে আশ্রয় নিয়েছেন), ঝড় সাইক্লোনের তাণ্ডবে গৃহহীন শুধু নন, কত সহস্র মানুষের প্রাণ গেছে, একেও কিন্তু মহামারীর গোত্রে রাখা যেতে পারে। এমন মহামারীর নিদর্শণ আরো আছে। ১৯৯০ থেকে আজ পর্যন্ত শুধুমাত্র ভারতীয় উপমহাদেশ, এশিয়া জুড়ে গাঙ্গেয় ও মেকং নদীর অববাহিকা, দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পানীয় জলে আরসেনিকের প্রভাবে ৪০ - ৫০ কোটির কাছাকাছি মানুষের জীবন বিপন্ন। এও কিন্তু মহামারীর রূপ নিয়েছে।

    আপনি হয়ত ভাবছেন যে করোনা দিয়ে শুরু করে ধান ভানতে শিবের গীতের মতন এ সব কি, যে সবই এক ব্যাপার ? সব মারণ যেখানে একত্রে বহু মানুষের প্রাণ গেছে, বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তার সবই কি “মহা” “মারী”? যদি সেভাবে বিবেচনা করেন, দেখবেন এই সবকটি ক্ষেত্রেই এদের মধ্যে (এবং এখনো অবধি করোনা ভাইরাসেরও) একটি জায়গায় মিল রয়েছে — কেবলই ব্যক্তি মানুষের চিকিৎসা করে, শুধু ভ্যাকসিন আর ওষুধ দিযে এদের কারোর চিকিৎসা কিন্তু সম্ভব নয় — প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনস্বাস্থ্য, বহু মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, রাষ্ট্রের সমবেত প্রচেষ্টা, এর সঙ্গে ব্যক্তিগত আচার আচরণ সব মিলিয়েই এই সমূহ বিপদের হাত থেকে মুক্তির পথ । শুধু তাই নয়, মানুষ, পশু, প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষজন অরণ্য - সব মিলিয়ে একাকার হয়ে একটি “গ্রহস্বাস্থ্যের” দিক থেকে না ভাবলে কিন্তু এই সমবেত তাৎক্ষণিক বিপদের হাতে থেকে উদ্ধার প্রায় সুদূরপরাহত। এতৎসত্তেও আমরা মানুষ পেরেছি। এই পথেই কিন্তু করোনা (এবারের) এবং অনাগত ভবিষ্যতের মহামারীর হাত থেকেও রক্ষা পাবার পথ আমরা জানি। সেই নিয়েই আলোচনা।

    আমরা আলোচনাটি শুরু করব করোনা ভাইরাসে নিউজিল্যাণ্ডের আপাত সাফল্যের একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা দিয়ে, এবং সেইটির পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য পূর্বাপর সাফল্যের কথা তুলে আনব। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উইলিয়াম হ্যাডন মোটর গাড়ি দুর্ঘটনা কমানোর কাজে একটি ছকের প্রবর্তন করেন হ্যাডন ম্যাট্রিকস নাম দিয়ে, আমরা সেই ম্যাট্রকসটিকে মহামারীর নিয়ন্ত্রণে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তাই নিয়ে আলোচনা করব। পর্যায়ক্রমে শুধু ব্যক্তিস্বাস্থ্যই নয়, বা কেবল জনস্বাস্থ্যই নয়, আসুন দেখি “গ্রহস্বাস্থ্যের”একটি পর্যালোচনা করে কোন পথে শুধু সাম্প্রতিক করোনাভাইরাসের হাত থেকেই নয়, বরং আগামী অন্য অনেক অনাগত মহামারীর হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায় ।


    নিউ জিল্যাণ্ডের করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ

    2002 সাল থেকে নিউজিল্যান্ডে ১৯১৮ ‘র ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ এর সঞ্চিত অভিজ্ঞতা প্রসূত National Influenza Pandemic Plan চালু , এবং প্রায় প্রতি বছরই অজানা ইনফ্লুয়েনজা সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যায়। সেই কারণে নিউ জিল্যাণ্ড সরকার 2020’র প্রথম দিকে, যখন সংক্রমণ এর খবর আসছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন । এতে করে প্রথম থেকেই জনস্বাস্থ্য কে দৃঢ়ভাবে কেন্দ্র করে, ভ্যাকসিন বা ওষুধের অপেক্ষায় না থেকে যাতে সংক্রমনটিকে কমিয়ে আনা যায়, সেইভাবে সরকার পরিকল্পনা করেছিলেন । আমরা এখানে প্রথম থেকেই প্যানডেমিক মডেলিং ওপর অনেকটাই নির্ভর করেছিলাম, তার একটা বড় কারণ মডেলিং এর সাহায্য নিলে খুব বিস্তারিত ভাবে অসুখের প্রকোপ কোথায় কতটা হতে পারে বোঝা যায়, তার সঙ্গে এও বোঝা যায় যে কি কি করলে মহামারীর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যেতে পারে, শুধু বা কেবলমাত্র মহামারীর রোগজনিত তথ্য দিয়ে যে ব্যাপারটি সম্ভব নয় । তবে মডেলিং এর সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা প্রতিনিয়ত কোথায় কি ভাবে রোগ ছড়াচ্ছে তার মাপজোক শুরু করে দিয়েছিলেন।

    করোনাভাইরাস সম্বন্ধে সেই সময়, আজ থেকে মাস ছয়েক আগের কথা, যতটুকু জানা ছিল তার ফলে মডেলিং করে দেখা গিয়েছিল যে যদি আমাদের ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ যেভাবে ভাবা হচ্ছে সেই পরিকল্পনা মতন কাজ না হয় (মার্চ মাস নাগাদ), তাহলে প্রায় ১৪, ৪০০ (সাড়ে ১৪ হাজারের কাছাকাছি) এর ওপর মানুষ এখানে মারা যেতে পারেন, তাছাড়া এত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বেন সব মিলিয়ে দেশের যা স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আমরা সামলাতে পারতাম না । তার ওপরে ওপরে আমাদের দেশের জনসংখ্যা কম হতে পারেন, কিন্তু এখানে বহু বৃদ্ধ বৃদ্ধা, মাওরি, প্রশান্ত দ্বীপপুঞ্জের বহু বাসিন্দা বসবাস করেন, এবং নিউ জিল্যান্ড আক্রান্ত হলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ পূঞ্জে তার সাংঘাতিক প্রভাব পড়তে বাধ্য।

    এই জন্য প্রথম থেকেই নিউজিল্যাণ্ড সরকার তৎপর ছিলেন যাতে অন্তত এখানে করোনাভাইরাস না ছড়াতে পারে। আমাদের প্রথম কেস ২৮ শে ফেব্রুয়ারি ধরা পড়েছিল, সেদিক থেকে দেখলে হয়ত হাতে কিছুটা সময় আমরা পেয়েছিলাম। এছাড়া আরো একটি ব্যাপার আছে, সেটি করোনাভাইরাস সংক্রান্ত । ইনফ্লুয়েঞ্জায় যেমন সময় পাওয়া যায় না, covid ১৯ এর ক্ষেত্রে কিন্তু হাতে ৫-৬ ছদিন পাওয়া যায় সংক্রমণ শুরুর থেকে রোগের লক্ষণ বেরোনোর সময় পর্যন্ত, ফলে খুব দ্রুত যদি লক্ষণ চিহ্নিত করে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া যায়, তাছাড়া অন্যান্য যাঁরা সংক্রমিত হতে পারেন (contact tracing) করে ফেলা যায়, তাহলে কাজ হবে, তাহলে কাজ হবে। তবে সে কাজ খুব দ্রুত করতে হবে। এখানে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে এই সমস্ত যখন হচ্ছে, তখন কিন্তু এ দেশের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এর ক্ষমতা ও কেস ডিটেকশন ক্ষমতাও উভয়েই সীমিত ছিল।

    এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন এবং এখানকার স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকর্তা (Director General of Health Services) অ্যাশলি ব্লমফিল্ড এর নেতৃত্বে জনস্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান ভিত্তিক একটি পরিকল্পনা করা হয়, এর দুটি অংশ | প্রথম দিকে “mitigation”, এর কথা ভাবা হচ্ছিল যাতে করে ইনফেকশন টিকে যতটা সম্ভব “পিছিয়ে” দেয়া যায়, এবং
    দ্বিতীয়ত, “flatten the curve”, ধরুন যতটা কেস বাড়তে পারে, তাকে ততটা বাড়তে না দেয়া।

    মার্চ মাসের সপ্তাহ তিনেক নিউ জিল্যান্ডে টেস্টিং এর হার ও দেশ জুড়ে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের হার অনেকটাই বাড়তে থাকে। তার সঙ্গে
    প্রতিদিন দুপুর ১ টার সময় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিকর্তা নিয়ম করে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করতেন, দিনের পুঙ্খানুপুঙ্খ কতজনের অসুখ ধরা পড়লো, কজন ভর্তি হলেন, ক্লাস্টার হলো কি না, হলে কোথায় ক্লাস্টার ধরা পড়েছে, অনুপুঙ্খিক বর্ণনা দিতেন, প্রশ্ন উত্তর শুনতেন। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষ ও প্রশ্ন পাঠাতে পারতেন।
    সরকারের তরফে প্রতিদিন ওয়েব সাইটের মাধ্যমে সারা দিনে কজন আক্রান্ত হলেন, কোথাও সংক্রমণ হচ্ছে তার সমস্ত কিছু দিয়ে দেয়া হতো। (দেখুন, https://www.health.govt.nz/our-work/diseases-and-conditions/covid-19-novel-coronavirus),
    বার বার করে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা , কাশি বা হাঁচির হাইজিন এগুলো নিয়ে বার বার করে মানুষ কে অবহিত করার মতন জরুরি কাজ গুলো করা হতো
    মার্চের মাঝামাঝি সরকার mitigation strategy থেকে suppression বা elimination, নির্মূল করা হবে, এই strategy অবলম্বন করা হলো। এর অঙ্গ হিসেবে সরকার চার স্তরে সতর্ক বাণী অবলম্বন করলেন (ইং: alert levels) । দেখুন, https://covid19.govt.nz/assets/resources/tables/COVID-19-alert-levels-summary.pdf
    লেভেল ১: নিউ জিল্যান্ডের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে,অন্যত্র হয় নি (এখন যে অবস্থা চলছে ) .
    লেভেল ২: নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর ঝুঁকি রয়েছে, এক বা একাধিক ক্লাস্টার এর সম্ভাবনা রয়েছে।
    লেভেল ৩: অসুখ ছড়াচ্ছে, নতুন ক্লাস্টার হচ্ছে, হবে, এবং কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে, হতে পারে।
    লেভেল ৪ - কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে, নতুন ক্লাস্টার হতে পারে, লাগামছাড়া।

    এখন এই যে নিয়ন্ত্রণ, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এক লেভেল থেকে অন্য লেভেল এ উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া, নামিয়ে নিয়ে আসা , এই সমস্ত কিছু নির্ধারিত হচ্ছে একদিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী, সরকার ও স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একদিকে তথ্য বিশ্লেষণ চলছে অন্য দিকে মডেলিং দুইয়ের সম্মিলিত শক্তিতে দেখা হচ্ছে দেশ জুড়ে কোথায় কতটা ইনফেকশন, কোথায় কোথায় ক্লাস্টার। এরই মধ্যে কন্টাক্ট ট্রেসিং ও পরীক্ষার পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে বিশ্বের প্রথম দশ দেশের কাছাকাছি চলে আসছে। এতেও হয় নি, এর মধ্যে কন্টাক্ট ট্রেসিং ঠিক মতো হচ্ছে কিনা জানতে সরকারের তরফে একটি বিশ্ববিদ্যালয় (Massey University)’র বিশেষজ্ঞ আয়েশা ভিরাল কে দায়িত্ব দেয়া হলো খুঁটিয়ে দেখতে কোথায় কোথায় গলদ, সংসদের সেই সময়ের বিরোধী পক্ষের নেতা সাইমন ব্রিজেস কে শীর্ষে রেখে একটি সংসদীয় দল তৈরী হলো যাঁদের কাজ প্রতিনিয়ত নজর রাখা সরকারের তরফে ও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে ঠিক মতন কাজ হচ্ছে কি না। আয়েশা ভিরাল এবং তাঁর কমিটির সুপারিশক্রমে কন্টাক্ট ট্রেসিং এর কাজকর্ম আরো নিখুঁত করা হলো। সর্বদলীয় সংসদ নিয়ন্ত্রিত কমিটিতে নিয়ম করে ডিরেক্টর জেনেরাল দেখা করতেন, আর প্রাত্যহিক দুপুর ১টায় প্রধান মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিকর্তার সাংবাদিক বৈঠক তো ছিলই। এর পাশাপাশি দেশের সীমান্ত বন্ধ করা হল,

    যে মুহূর্তে দেখা গেলো যে দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর সূত্রপাত, তার কয়েক ঘন্টার মধ্যে সরকার ঘোষণা করলেন যে দেশে লেভেল ৪ বা লক ডাউন। এসব ক্ষেত্রে যা হয়, লক ডাউন ঘোষণা করা হলেও বহু মানুষ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়লেন। যাঁরা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের সঙ্গে যুক্ত, যেমন চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ, অন্যান্য , এঁদের যাতে অসুবিধে না হয়, এঁদের ছেলেমেয়েদের কথা ভেবে প্রথম দিকে শুধু এঁদের ছেলেমেয়েরা যাতে স্কুলে থাকতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হল। মানুষ যাতে নিরাপদে ঘরে যেতে পারে,তার জন্য ৭২ ঘন্টার জন্য সাময়িক ভাবে লক ডাউন শিথিল করা হয়, তার পর অবশ্য দেশ জুড়ে ট্রেন, বাস, বিমান পরিষেবা স্থগিত থাকে।
    সরকারের তরফে বার বার করে সাবধান করা হয় যে এমন ভাবে লক-ডাউন করা চাই যাতে এর আর পুনরাবৃত্তি না করতে হয় (লক ডাউনের পুনরাবৃত্তি হয়নি) । এই কারণে লকডাউনে উপরের স্তর থেকে নীচের স্তরে (চতুর্থ স্তর থেকে তৃতীয় স্তরে, বা তৃতীয় স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে, এমন কি দ্বিতীয় স্তর থেকে প্রথম স্তরে) অবনমনের সময় দীর্ঘ সময় ধরে মডেলিং ও খুঁটিয়ে তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে গেছে।

    সরকারী তরফে নিরন্তর তথ্য বিশ্লেষণ ও মডেলিং এবং ক্রমাগত টেসটিং এর পরিসংখ্যান (মাথাপিছু টেসটিং এর হার বৃদ্ধি) বাড়িয়ে, কনট্যাকট ট্রেসিং এর উন্নতি করে রোগ ধরে, মানুষকে হয় বাড়িতে রেখে বা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। তাছাড়াও চতুর্থ স্তরের লকডাউন ঘোষণার সময় সরকারী তরফে বিভিন্ন ব্যবসায়ে মানুষের যাতে ক্ষতি না হয়, তিন মাসের ভাতা দেবার কথা বলা হয়, এতে করে মানুষের চাকরি যাতে না যায়, বা সাংঘাতিক অর্থনৈতিক দুর্দশায় যাতে না পড়তে হয়, সেইদিকটিও দেখা হয়েছিল।

    এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সক্রিয়ভাবে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। প্রায় সবাই সুশৃঙ্খল ভাবে যতটা পেরেছেন ভিড় এড়িয়েছেন, শপিং মল বন্ধ ছিল, অন্যান্য দোকানপাট খোলার অন্তত ১ সপ্তাহ পরে বার খুলে দেওয়া হয়, বড় বাজারগুলিতে একেক বারে একেক জনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হত, সর্বত্র স্যানিটাইজার পাওয়া যেত।

    লক ডাউন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের তরফে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কথা বিশেষ শোনা যায় নি। এ ব্যাপারটিকে বরং প্রতিযোগিতামূলক খেলার মত করে দেখা হত। নিউ জিল্যাণ্ডে সাধারণ মানুষ নানারকম খেলাধুলো করতে ভালবাসেন, যার জন্য প্রধানমন্ত্রী বলেন আমরা ৫০ লক্ষ মানুষের একটি দল, আমরা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে জিতব, যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, ক্রীড়ামূলক প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে কথাটা বলা হয়।

    আরো একটি ব্যাপার এখানে উল্লেখযোগ্য:লকডাউন চলার সময় প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন একটি কথা প্রায়ই বলতেন, মনে করুন আপনার নিজের করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে, ও আপনার দায়িত্ব যেন আপনার কারণে আর কারো না সংক্রমণ হয়। এই কথাটি উল্লেখযোগ্য এইজন্য যে “অন্যের সংক্রমণ হয়েছে, আমার হতে পারে”, এর বিপরীতধর্মী এই বক্তব্যটি আমার চেনা জানা বহু মানুষকে প্রভাবিত করেছিল। নিউ জিল্যাণ্ডে নয় নয় করে ১২০০+ সংক্রমণ হয়েছে, তবুও কোথাও সংক্রমণজনিত সংঘর্য বা সামাজিক বিভেদমূলক আচরণের কোন খবর পাওয়া যায়নি, উল্টে বহু মানুষ তাঁদের এলাকায় পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করেছেন।
    মোট কথা, ৮ই জুন নিউ জিল্যাণ্ডের করোনামুক্তি এবং এখনো পর্যন্ত করোনার যে প্রত্যাবর্তন হয়নি, এর পিছনে মনে হয় কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে:
    এক, সরকার এবং স্বাস্থ্যদফতর শুরু থেকেই বিজ্ঞান ও পুরোপুরি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রিক চতুর্স্তরিয় পদক্ষেপ নেওয়াতে করোনাভাইরাসের নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষাকৃত দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে বলে মনে হয়।
    দুই, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে এবং স্বাস্থ্য অধিকর্তার যুগ্ম প্রয়াসে, বিশেষ করে তথ্যের ব্যাপারে গোটা দেশে স্বচ্ছ এবং উভয়ে একযোগে বার্তা দেওয়ায় গোটা দেশের মানুষকে করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় সংঘবদ্ধ করা অপেক্ষাকৃত সহজভাবে সম্ভব হয়েছে
    তিন, তথ্য ও মডেলিং-এর নিরন্তর পারস্পরিক বিশ্লেষণ, এবং সরকারী দপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাকেন্দ্র, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, গবেষক সকলে একযোগে কাজ করেছেন, এই ব্যাপারটি বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য
    চার, বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, সরকার ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে সচেতনভাবে নিয়ে করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করার ব্যাপারটি অবশ্যই কাজে দিয়েছে।
    তাছাড়া অতি দ্রুত পরীক্ষা ও কনট্যাকট ট্রেসিং এর ব্যবস্থা করে পরীক্ষা, কনট্যাকট ট্রেসিং ও অসুস্থ মানুষকে আলাদা করে ফেলার কাজটিও নিউজিল্যাণ্ড স্বাস্থ্য দপ্তর খুব দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।


    অনাগত মহামারী নিয়ন্ত্রণে নিউজিল্যাণ্ড যেভাবে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে তার তাৎপর্য

    এই লেখাটির সময় পর্যন্ত নিউজিল্যাণ্ডে করোনাভাইরাস শেষ কেস খুঁজে পাওয়ার পর ৭০ দিন কেটে গেছে, জনসমাজে এখনো আর একজনকেও পাওয়া যায়নি। অবশ্য বাইরের দেশ থেকে যাঁরা দেশে প্রত্যাবর্তন করছেন, বহু নিউজিল্যাণ্ডের নাগরিক যাঁরা অন্যান্য দেশ থেকে এদেশে ফেরৎ আসছেন, তাঁদের দেশে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হচ্ছে (কোন একটি হোটেলে রেখে সরকারী খরচায় তাঁরা ১৪ দিন থাকছেন, এই সময় তাঁদের দুবার পরীক্ষা করা হচ্ছে, একবার তৃতীয় দিনের মাথায়, একবার ১২ দিনের মাথায়, দুবারেই পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলে তাঁদের ১৪ দিনের মাথায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এঁদের মধ্যে কারো কারো (সব মিলিয়ে ২০ জনের মতন) করোনার সংক্রমণ খুঁজে পাওয়া গেছে। এই ব্যাপারটি বাদ দিলে দেশে সেভাবে কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ আর নেই। মানুষ ক্রমাগত তাঁদের পুরনো জীবনযাত্রায় আবার অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।

    অনেকে আমাকে বলেছেন (কোথাও সেভাবে পড়িনি যদিও, কাজেই এ তাঁদের ধারণা ), যে ছোট দেশ, মাত্র ৫০ লক্ষ জনসংখ্যা, তার ওপর দেশটি চারপাশে সমুদ্র দিয়ে ঘেরা, যার জন্য সীমান্ত বন্ধ করে ফেলা সমস্যার নয় কিছু। কাজেই আপনাদের পক্ষে যা সম্ভব হয়েছে, অন্য অনেক দেশের পক্ষেই সম্ভব ছিল না। অনেকে এও বলেছেন, সরকারী তৎপরতায় ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের মতন একটি অসুখকে আপাতত আটকানো গেছে ঠিকই, দেখবেন যেদিন আপনারা সীমান্ত খুলে দেবেন, বা কয়েকদিনের মধ্যেই করোনাভাইরাসের প্রকোপ আবার ফিরে আসবে। হয়ত হবে, কিন্তু শুধু নিউজিল্যাণ্ড বলে নয়, ইউরোপে জারমানী, ইতালি, আয়ারল্যাণ্ড, এশিয়ায় তাইওয়ান, থাইল্যাণ্ড, ভিকটোরিয়া প্রদেশের পুনরাভির্বাব বাদ দিলে অস্ট্রেলিয়ায়, এমন বেশ কয়েকটি দেশেও করোনার প্রকোপ কমে এসেছে (সূত্র : https://www.worldometers.info/coronavirus/#countries)। কাজেই করোনায় ভোগা অবশ্যম্ভাবী নয়, ভ্যাকসিন বা ওষুধের অপ্রাপ্তিতে করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এমন ভাবার কোন কারণ নেই।

    কিন্তু অন্যান্য দেশ বা জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে বিবেচনা করলে এর গুরুত্ব কতটুকু? সেই প্রসঙ্গে লিখতে গেলে কয়েকটি বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয় ।

    প্রথমত,
    ভবিষ্যৎ মহামারীর প্রস্তুতি
    মানুষ ও প্রকৃতি, জনস্বাস্থ্য না গ্রহের স্বাস্থ্য?
    হ্যাডন, গাড়ি দুর্ঘটনা, আর ভবিষ্যৎ মহামারী নিয়ন্ত্রণ
    পরিশিষ্ট
  • বিভাগ : ব্লগ | ২৯ জুলাই ২০২০ | ২৪৮ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত