• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • Qurentine আর আমি / ২ #ছাদ

    Rumela Saha
    অন্যান্য | ২৮ জুলাই ২০২০ | ১৯৫ বার পঠিত



  • প্রত্যেকটা ছাদের একটা নিজস্ব গল্প আছে। ছাদের ও একাল সেকাল আছে। আগেকার বাড়ির ছাদ গুলো হতো সেই সংসারের মত একান্নবর্তী। বিশাল বিশাল ছাদ।তাতে কত সুখ দুঃখের গল্প। সকালে কাঁচা জামাকাপড় শুকোনোর কাজ করতো ছাদগুলো। দুপুরের রোদে আম, কুল, বড়ি, কাসুন্দি, আমসত্ত্ব, আচার সহ আরো কত কি শুকানোর কাজ ছিল তার। বেলা গড়িয়ে বিকেল পড়লে বাড়ির মেয়েরা শুকনো জিনিস ঘরে তোলার আছিলায় গল্পের আসর বসাত ছাদে। এটা তখন মেয়েদের নিজস্ব আড্ডার জায়গা।প্রত্যেক ছাদে চিলেকোঠা থাকতো না,কিন্তু যে ছাদে চিলাকোঠা থাকতো সেগুলো ইতিহাস তৈরি করতো। মেয়েদের আড্ডা সঙ্গে বাচ্চাকাচ্চাদের এক্কাদোক্কা খেলা, কুমির ডাঙা সহ বিভিন্ন খেলার আসর বসতো ছাদে। সন্ধ্যা-শাঁখের আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে একটু ফাঁকা হত ছাদ গুলো কিন্তু বেশিক্ষণ এর জন্য নয় । বাড়ির সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত কিশোরেরা সেই সময়টাতে ছাদে আসত তাদের নিভৃতে যাপনের জন্য। প্রথম সিগারেট, প্রথম নারীর স্পর্শ, নিষিদ্ধ বই, চিলেকোঠা গুলো সাক্ষী হত প্রথম অনেক কিছুর। আর একটু রাত হলে অফিস ফেরত গত-যৌবন বাড়ির কর্তাদের দৈনন্দিন রুজি-রোজগারের টানাপোড়েনের হাত থেকে অখন্ড অবসর দিত এই ছাদ। এরইমধ্যে দুম করে যখন লোডশেডিং হত, তখন বাড়ির সবাই ছাদে উঠে আসতো। এবাড়ি-ওবাড়ি-সে বাড়ির ছাদে কত গল্প, হাসাহাসি, মনের আদান-প্রদান চলত। তারাগুলো মিটিমিটি হাসতো।
    তারপর রাত নামলে রূপকথার ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী আর রাজপুত্র রাজকন্যার প্রথম দেখা হওয়ার সব গল্পগুলো এই ছাদের কার্নিশে পা দুলিয়ে খুনসুটি করতো। ভূত-পেত্নী দৈত্য-শাকচুন্নি ও থাকতো কিন্তু সেতো বাঙালি ভূত, তারা ভূতের রাজার মতো বর দিতে জানে। ভয় হয়তো দেখায় মাঝে মাঝে কিন্তু অনিষ্ট করে না।মধ্যরাতে তারায় ভরা আকাশ আর ছাদগুলো নিজেদের মধ্যে ফিসফিসিয়ে কত কথা বলতো। ছাদের সারাদিনের গল্পগুলো বন্ধু আকাশকে উজাড় করে জানাতো। ভোর শুরু হতো গানের রেওয়াজ অথবা ডন বৈঠকে। তখন ছাদগুলো বাঙালি বাড়ির নিত্যদিনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অবলম্বন ছিল।
    এখন নিউক্লিয়াস ফ্যামিলি আর প্রোমোটারদের কল্যানে ছাদগুলো সব পায়রার খোপের মতো ছোট্ট ছোট্ট। সারাটা দিন শূন্যতা মাখা হাহাকার নিয়ে সে সূর্যের তাপে পুড়তে থাকে। রাতে প্রত্যেকটা ছাদে একখণ্ড জমাট বাঁধা অন্ধকার বোবা হয়ে অতীতের কথা ভাবে।সেখানে প্রাণোচ্ছ্বল হাসি নেই, বাচ্চাদের খেলা নেই, যৌবনের প্রগার প্রেম নেই, বার্ধক্যের প্রশান্তি নেই।শুধু একাকীত্ব আর অপেক্ষা নিয়ে প্রায় অলক্ষ্যে ছাদগুলো এখনো রয়ে গেছে। আম জাম কাঁঠাল গাছগুলো ছাদের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে কাতুকুতু দেয় না। তারাগুলোর দূষণের স্তর ভেদ করে পুরনো বন্ধুর সাথে মনের কথা বলতে পারেনা। একমাত্র চাঁদ ওঠে। সেই আগের মতন তার জোছনা দিয়ে ছাদ গুলোকে ধুইয়ে দিয়ে যায়। বৃষ্টি আসে। সেও তার চিরন্তন বন্ধুকে আগের মতোই ভরসা দিয়ে যায়। নিঃসঙ্গ ছাদ বোঝে প্রকৃতি কিন্তু তার কথা রেখেছে।
    ইদানিং ছোট্ট ছাদগুলো আগের মত না হলেও অনেক বেশি কর্মব্যস্ত হয়েছে। বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত তার বুকে মানুষেরা চলাফেরা করে। দূষণের স্তর কমাতে তারারাও আগের মতন ঝকমকিয়ে ছাদের সাথে গল্প করে। শহরের মানুষ এতটা আকাশ দেখতে অভ্যস্ত নয়, তারা হঠাৎ ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবে শেষ কবে এতটা আকাশ দেখেছিল। আকাশের দিকে তাকাতে হলে মাথা উঁচু করে তাকাতে হয় । মানুষ উচ্চতাকে মাপতে শিখে ভাবে সে শিকল পরাতে পেরেছে। ছাদ জানে তার উচ্চতা অন্তহীন, আকাশকে সে যে বড্ড কাছ থেকে দেখেছে।
  • বিভাগ : অন্যান্য | ২৮ জুলাই ২০২০ | ১৯৫ বার পঠিত
আরও পড়ুন
ক্ষমা - Rumela Saha
আরও পড়ুন
আয়না - ন্যাড়া
আরও পড়ুন
যুদ্ধ - Swapan Majhi
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • করোনা

  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত