• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • গ্রহণ ও যুদ্ধ

    সহস্রলোচন শর্মা
    আলোচনা : বিবিধ | ২১ জুলাই ২০২০ | ৫৮০ বার পঠিত

  • ।। ১ ।।

    সূর্যোদয়ের সাথে সাথে হ্যালিস নদীর (অধুনিক নাম খিজিলিরমা, তুরস্ক) পাড় মুখরিত হয়ে উঠল গগনভেদী রণভেরির তীক্ষ্ণ শব্দে। প্যাঁপ প্যাঁপ প্যাঁআআআআ। ব্যাস, শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। রোজকার মতো সেদিনও হ্যালিস নদীর পাড় কোলাহলমুখর হয়ে উঠল মানুষের চিৎকার আর অস্ত্রের ঝনাৎকারে। গত পাঁচ বছর ধরে চলে আসছে এই যুদ্ধ। রোজ সকালে নিয়ম করে শুরু হয় যুদ্ধ। সন্ধ্যায় সমাপ্তি। গত পাঁচ বছর ধরে চলে আসা এই যুদ্ধে, দু-পক্ষই ছোটোখাটো জয় পেলেও চূড়ান্ত কোনো ফয়সালা হয়নি আজও। কেউ কাউকে হারাতে পারেনি শেষমেশ। এই যুদ্ধ এখন দু-পক্ষের সৈন্যদের কাছে দৈনিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যেন। সকালে যুদ্ধ, বিকালে বিশ্রাম, পরদিন সকালে আবার যুদ্ধ। সৈন্যরাও এই যুদ্ধ নিষ্পত্তির কোনো সহজ সম্ভাবনা দেখছেন না। নিষ্পত্তি হবেই বা কী করে, দু-পক্ষই যে সমান শক্তিশালী রাজ্য—মিডিয়া আর লিডিয়া।

    খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম-অষ্টম শতকে আনাতোলিয়া বা এশিয়া মাইনর অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল একাধিক ছোটো ছোটো রাজ্য। সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রশ্নে প্রায়ই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তেন তাঁরা। ফলে বেশ কিছু প্রাচীন রাজ্যের যেমন অবলুপ্তি ঘটত এই সময়ে, সাথে সাথে জন্ম নিত বেশ কিছু নবীন রাজ্যও। আমাদের আলোচ্য সময়কালে আনাতোলিয়া অঞ্চলে ব্যাবিলন, অ্যাসেরিয়, সিলিসিয়া, মিডিয়া, লিডিয়া, মাইলিটস প্রভৃতি রাজ্যগুলোর প্রবল প্রতাপ বর্তমান ছিল। বর্তমান পশ্চিম ইরানের জাগ্রোস পর্বতমালার রুক্ষ কুর্দিস্থান অঞ্চলে মিডস্‌ নামে দুধর্ষ এক পাহাড়ি উপজাতি ছিল। তাঁদের নিজেদের মধ্যেও বড়ো একটা মিলমিশ ছিল না। আনুমানিক ৭২৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, মিডস্‌ উপজাতি ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে ডায়াসিস নামের এক সর্দারের নেতৃত্বে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মিডসদের নিয়ে ডায়াসিস স্থাপন করলেন মিডিয়া রাজ্য। হ্যামাদন শহরে স্থাপিত হল মিডসদের রাজধানী। ডায়াসিসের নাতি সায়াক্সারিসের আমলে মিডস্‌রা শক্তিশালী এক রাজ্যে পরিণত হয়। সায়াক্সারিসের নেতৃত্বে শুরু হয় মিডসদের রাজ্য বিস্তার। ৬১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলন সম্রাট ন্যাবোপোলাসরের সাথে হাত মিলিয়ে, শক্তিশালী অ্যাসেরিয় সাম্রাজ্যের রাজধানী নিনেভা আক্রমণ করেন সায়াক্সারিস। এই আক্রমণের ফলেই অ্যাসেরিয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। অ্যাসেরিয় সাম্রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চলই ব্যাবিলনের অন্তর্গত হয়। কেবলমাত্র উত্তর দিকের ভান হ্রদ সংলগ্ন উরারটু অঞ্চল মিডসদের দখলে আসে। এই ভান হ্রদকে কেন্দ্র করে তাঁদের সাম্রাজ্য আরও বাড়াতে বাড়াতে হ্যালিস নদীর পূর্ব পাড়ে এসে হাজির হয় সায়াক্সারিসের বাহিনী। হ্যালিস নদীর পশ্চিম পাড়ে লিডিয়া রাজ্য। সায়াক্সারিসের বাহিনী লিডিয়া রাজ্য আক্রমণ করলে, হ্যালিস নদীর পাড়ে শুরু হয় মিডিয়া-লিডিয়া যুদ্ধ।

    খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে পশ্চিম তুরস্কের ইজিয়ান সাগর তীরে গড়ে উঠে লিডিয়া রাজ্য। সারদিস শহরে ছিল লিডিয়ার রাজধানী। পুবদিকে হ্যালিস নদীর পশ্চিম পাড় পর্যন্ত তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করেন লিডিয়া সম্রাট অ্যালেয়াটিস। হ্যালিস নদীর ওপারে তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রস্তুতি নিতে থাকেন অ্যালেয়াটিস। ঠিক এমনই সময়ে হ্যালিস নদীর অপর পাড়ে হাজির হয় সায়াক্সারিসের বাহিনী। তারপরই শুরু হয় মিডিয়া-লিডিয়া যুদ্ধ।

    যুদ্ধ শুরু হল বটে, কিন্তু শেষ হবার নাম নেই। দু-পক্ষই দাঁতে দাঁত চেপে চালিয়ে যাচ্ছেন যুদ্ধ। দু-পক্ষের মনোভাবই ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’। দেখতে দেখতে দিন ঘুরে মাস গেল, মাস ঘুরে বছরে গড়াল, কিন্তু মিডিয়া-লিডিয়া যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণই নেই। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হতে লাগল, কোনো হেলদোল নেই মিডিয়া-লিডিয়া রাজাদের। দেখতে দেখতে পাঁচ-পাঁচটা বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল। ছ-বছর ধরে ক্রমাগত চলতে লাগল যুদ্ধ। না আছে সেই যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ, না আছে কোনো সামাধান বা শান্তির বার্তা। সৈন্যরাও হতাশ নন এতটুকুও। রোজ নতুন উদ্যমে তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়ছেন একে অপরের উপর। চলছে হাড্ডাহাড্ডি রক্তক্ষয়ী লড়াই। মাঝে অবশ্য ব্যাবিলন ও সিলিসিয়ার সম্রাটরা যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন। সন্ধি প্রস্তাব নিয়ে এগিয়েও এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সে সন্ধি প্রস্তাব নাকচ করে দেয় দু-পক্ষই। ফয়সালা যা হবার হবে যুদ্ধের মধ্যে দিয়েই।
    সেদিনও নিয়মমাফিক রণহুংকার দিয়ে একে অপরের উপরে ঝঁপিয়ে পড়েছেন দু-পক্ষই। তখনও তাঁরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি কোন্‌ পরিণতির দিকে আজ এগিয়ে চলেছে এই যুদ্ধ। যুদ্ধ শুরু হবার কিছুক্ষণ পর, দু-পক্ষের সৈন্যরাই বুঝতে পারলেন, আকাশে মেঘ নেই অথচ দিনের আলো কেমন যেন কম কম লাগছে! যেন সন্ধ্যা নেমে এল ধরণিতে। এত তাড়াতাড়ি সন্ধে হবে কী করে? এই তো কিছুক্ষণ আগে শুরু হল যুদ্ধ! হতচকিত সেনারা থমকে যায়। অবাক হয়ে তাঁরা দেখলেন, আকাশে আধখানা সূর্য নেই! আর যত সময় যাচ্ছে, সূর্য ততই ক্ষয়ে যাছে! নেমে আসছে আঁধার।



    লিডিয়া, মিডিয়া, সিসিলিয়া ও ব্যাবিলন রাজ্য। লিডিয়ার পশ্চিম পাড়ে মাইলিটস নগর রাষ্ট্র

    কিংকর্তব্যবিমূঢ় সেনারা পরবর্তী নির্দেশের জন্য সেনাপতির দিকে তাকিয়ে রইলেন। হতবাক সেনাপতি তাকালেন মন্ত্রীর দিকে। মন্ত্রী তাকান রাজার দিকে। রাজা তাকিয়ে পুরোহিতের দিকে। কিছুক্ষণ ভেবে, পুরোহিত নিদান দিলেন—ঘোর অমঙ্গলের লক্ষণ। ক্রুদ্ধ হয়েছেন সূর্যদেব। এ যুদ্ধ তাঁর অভিপ্রেত নয়। এখনই বন্ধ করতে হবে এই যুদ্ধ।

    যুযুধান দু-পক্ষের মধ্যে দ্রুত বার্তা বিনিময় হল। যুদ্ধ বন্ধ করা দরকার। পরিস্থিতি প্রতিকূল বুঝে, দু-পক্ষই রাজি হলেন যুদ্ধ স্থগিত রাখতে। কিন্তু তাও তো সূর্যদেবের রাগ কমেনি এতটুকুও। ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে চলেছেন তিনি। সেনাপতি চেয়ে রইলেন মন্ত্রীর দিকে। মন্ত্রী তাকালেন রাজার দিকে। রাজা তাকালেন পুরোহিতের দিকে। পুরোহিত গম্ভীর হলেন। বেশ খনিকটা ভেবে বললেন, যুদ্ধ স্থগিত রাখলেই হবে না, সন্ধি চুক্তি করতে হবে দু-পক্ষকে। নয়তো রক্ষা নেই এই অমঙ্গলের হাত থেকে। ফের বার্তা বিনিময় হল দু-পক্ষের মধ্যে। সন্ধি চাই, এখনই। রাজি, দু-পক্ষই রাজি সন্ধি প্রস্তাবে। শক্তিশালী ব্যাবিলন সম্রাট যা পারেননি, মুহূর্তের মধ্যে তাই সম্ভব করে দিলেন সূর্য দেবতা। নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ রাখার সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষরিত হল। কিন্তু একি! সুর্যদেব তো সন্তুষ্ট হলেনই না বরং আরও ক্ষয়ে চলেছেন তিনি। ক্ষয়ে ক্ষয়ে এক্কেবারে এক চিলতেতে পরিণত হয়েছেন তিনি। চারিদেকে নেমে আসছে রাতের আঁধার। একি কাণ্ড! এবার কী হবে? মন্ত্রী তাকায় রাজার দিকে। রাজা চেয়ে রইলেন পুরোহিতের দিকে। পুরোহিত আবার ভাবতে বসলেন। এদিকে নিবু নিবু সূর্যদেব ধীরে ধীরে পুরোই হারিয়ে গেলেন। ক্রমেই রাত্রির ঘন আঁধার নেমে এল ধরণিতে। প্রগাঢ় অন্ধকার ছেয়ে ফেলেছে চারিধার। ত্রাস সঞ্চারিত হল চারিদিকে। সূর্য না থাকলে আমাদের হবে কী? আমরা বাঁচব কীভাবে? পুরোহিত নিদান দিলেন, কাগজের চুক্তি যথেষ্ট নয়। আত্মীয়তার চুক্তি করতে হবে সম্রাটদের মধ্যে। পরস্পরের আত্মীয় হতে হবে দুই সম্রাটকে। আত্মীয়! কিন্তু কীভাবে? জিজ্ঞাসা করলেন ত্রস্ত সম্রাট। পুরোহিতের নির্দেশ—সম্রাটদের ছেলে-মেয়ের মধ্যে বিয়ে দিতে হবে।

    মিডিয়ারাজ সায়াক্সারিসের একটাই পুত্র, অ্যাসতায়াজেস। ওদিকে লিডিয়ারাজ অ্যালেয়াটিসের একটাই কন্যা, অ্যারিনেস। পুরোহিতের নিদান শুনে, ভীত সন্ত্রস্ত দুই রাজা তৎক্ষণাৎ রাজি হলেন তাঁদের নিজেদের পুত্র-কন্যাদের মধ্যে বিবাহ দিতে। তাই শুনে আকাশে ফালি হয়ে উঁকি দিলেন সূর্যদেবও। আনন্দে হর্ষধ্বনি দিয়ে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরলেন কিছুক্ষণ আগের বিবদমান দু-পক্ষের সৈন্যরা। রাজারাও আলিঙ্গনাবদ্ধ হলেন। মন্ত্রীরা করমর্দনে ব্যস্ত। সন্তুষ্ট সূর্যদেব ক্রমেই প্রকাশিত হচ্ছেন স্বমহিমায়। মস্ত বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ায় রণাঙ্গন জুড়ে এখন খুশির হাওয়া। সমস্ত তিক্ততা দূর করে, পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হলেন মিডিয়ার রাজপুত্র অ্যাসতায়াজেস ও লিডিয়ার রাজকুমারী অ্যারিনেস।

    * * *

    প্রখ্যাত গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডেটাস (খ্রিঃপূঃ ৪৮৪-৪২৫) তাঁর ন-খণ্ডের ‘হিস্ট্রিস’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডেই বিচিত্র এই যুদ্ধের কথা লিপিবদ্ধ করে গেছেন। হেরোডেটাস লিখেছেন, বিখ্যাত গ্রিক গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ ও দার্শনিক মাইলিটস নগরীর থালিস (খ্রিঃপূঃ ৬২৪-৫৪৫) এই গ্রহণের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন। হেরোডেটাস লিখেছেন, “They were still warring with equal success, when it happened, at an encounter which occurred in the sixth year, that during the battle the day was suddenly turned to night. Thales of Miletus had foretold this loss of daylight to the Ionians, fixing it within the year in which the change did indeed happen.” [vol 1, ch. 74, para 2.] থালিসের এই ভবিষ্যদ্‌বাণীর কথার উল্লেখ পাওয়া যায় গ্রিক জীবনীকার ডাওজিনিস লায়ারটিয়সের রচনাতেও। ডাওজিনিস তাঁর ‘লাইফ অ্যান্ড ওপিনিয়ন অফ এমিনেন্ট ফিলোসোফারস্‌’ গ্রন্থে লিখেছেন, থেলিসের সমসাময়িক কবি ও দার্শনিক, কলোফন নগরীর জেনোফোনিস (খ্রিঃপূঃ ৫৭০-৪৮০) থালিসের সূর্যগহণের পূর্বাভাসের কথা জানতেন। থালিসের এই পূর্বাভাসের ক্ষমতায় বিস্মিত হয়েছিলেন জেনোফোনিস।

    মিডিয়া-লিডিয়া যুদ্ধের এই আশ্চর্য পরিণতি শোনার পর, পাঠক মনে একটা কৌতূহল সঞ্চারিত হতে পারে, কবে ঘটেছিল এমন ঘটনা? এই গ্রহণের সঠিক দিনক্ষণ সম্পর্কে কী বলছে ইতিহাস? সত্যি বলতে কি, ইতিহাস এই ব্যাপারে সম্পূর্ণই নীরব। হেরোডেটাস কিংবা ডাওজিনিসের রচনায় থালিসের এই গ্রহণের উল্লেখ থাকলেও, গ্রহণের নির্দিষ্ট দিনক্ষণের কোনো উল্লেখ নেই তাঁদের রচনায়। সেটা না থাকাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন পরবর্তীকালের গবেষকরা। তাঁরা বলেন, নির্দিষ্ট ভাবে সূর্যগ্রহণের দিনক্ষণ ধার্য করার মতো উপযুক্ত গাণিতিক সূত্রাবলি অনুপস্থিত ছিল সেই সময়ে। তবে সূর্যগ্রহণের রহস্যটাকে সঠিক ভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন থালিস। তাই কোন্‌ বছরে সূর্যগ্রহণ হবে তার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণের উল্লেখ করেননি তিনি। তবে থালিসের সেই অসম্পূর্ণ গণনাকে সম্পূর্ণ করতে উদ্যোগী হলেন আধুনিক জ্যোতির্বিদগণ। হোক না খ্রিস্টপূর্ব ষঠ বা সপ্তম শতকের ঘটনা। অতীত হোক বা ভবিষ্যৎ, যে-কোনো সূর্যগ্রহণের সঠিক দিনক্ষণ গণনা করা কোনো সমস্যাই নয় এখন। জ্যোতির্বিদরা বসলেন লিডিয়া-মিডিয়া যুদ্ধের সেই বিখ্যাত গ্রহণের দিনক্ষণের হিসাব করতে। হিসাব কষে তাঁরা জানালেন, আধুনিক ক্যালেন্ডার অনুসারে, এই গ্রহণ হয়েছিল ৫৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ২৮ মে।

    ।। ২ ।।

    গ্রিস তথা মানবজাতির ইতিহাসে এথেন্স নগরীর অবদান সর্বজন স্বীকৃত। শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সমরবিদ্যায় এথেন্স নগর-রাষ্ট্র ছিল প্রথম সারিতে। এথেন্স ছাড়াও ইজিয়ান সাগর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় শ-তিনেক এমনই নগর ও দ্বীপ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল সেই সময়ে। তাদের মধ্যে মাইলিটস, কোলোফোন, নাইডস, কস, এরাট্রিয়া, বাইজেন্টিয়াম, রোডস, সেমস প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ৪৭৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, গ্রিসের মূল ভূখণ্ড ও ইজিয়ান সাগরের ছিড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে এথেন্স নগরীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ডেলিয়ান লিগ। এদিকে এথেন্সের পাশেই পেলোপনেসিয়া উপদ্বীপে ক্রমেই শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে স্পার্টা। ডেলিয়ান লিগের প্রতিস্পর্ধায় স্পার্টার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে কর্নিথ, মেলস, বোয়েটিয়া, ইলিস প্রভৃতি নগর-রাষ্ট্র। গঠিত হয় পেলোপনেসিয় লিগ, যার অবশ্যম্ভাবী পরিণাম দাঁড়ায় ডেলিয়ান-পেলোপনেসিয় সংঘাত এবং যুদ্ধ। ৪৩১ খ্রিস্টপূর্বে শুরু হয় দীর্ঘস্থায়ী এথেন্স-স্পার্টা যুদ্ধ, ইতিহাসে যা পেলোপনেসিয়ার যুদ্ধ নামে খ্যাত।

    খ্রিস্টপূর্ব ৪১৪। ইতালির সিসিলি দ্বীপের উত্তর অংশ আক্রমণ করে ওই দ্বীপেরই দক্ষিণের নগর-রাষ্ট্র সাইরাকিউজ। ত্রস্ত সিসিলি সাহায্যের আবেদন জানায় ডেলিয়ান লিগের কাছে। এথেন্স তার শক্তিশালী নৌবাহিনী নিয়ে রওনা দেয় সাইরাকিউজ অভিমুখে। সাইরাকিউজ বন্দর থেকে স্থল পথ ধরে সাইরাকিউজ নগরের ভিতরে আক্রমণ শানাতে থাকে এথেন্স। তবে নৌবহরে প্রবল শক্তিশালী এথেন্স কিন্তু স্থলপথে তেমন পারদর্শিতা দেখাতে পারেনি। সাইরাকিউজের স্থলভাগে যত ঢুকছেন তাঁরা, ততই কমছে তাঁদের সামরিক প্রতাপ। প্রচুর ঘাম-রক্ত ঝরিয়েও সাইরাকিউজের সাথে এঁটে উঠতে পারছেন না তাঁরা। এদিকে এথেন্স যুদ্ধে যোগ দিলে, স্পার্টা ও তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলো সাইরাকিউজ নগরের পক্ষে যোগ দেয়। স্পার্টান সেনাপতি গিলিপ্পাসের নেতৃত্বে বিরাট নৌবাহিনী সাইরাকিউজ নগরকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। বছর ভর চলল এথেন্স-সাইরাকিউজ যুদ্ধ। সাইরাকিউজের সাথে বিশেষ সুবিধা করতে পারছে না এথেন্স বাহিনী। এথেন সেনাদের হাল বেশ করুণ তখন। ডেলিয়ান লিগ থেকে পরবর্তী সাহায্য না পেলে এই যুদ্ধ জেতা তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব এখন। তাই যতদিন না পর্যন্ত পিছন থেকে সাহায্য আসছে ততদিন যুদ্ধ না করে, পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেন এথেন্সের সেনানায়ক নিসিয়াস। রণকৌশল হিসেবে ঠিক হল, দিনে নয় রাতের অন্ধকারে, সাইরাকিউজের সেনারা যখন ঘুমে আচ্ছন্ন থাকবে ঠিক সেই সময়ে, নিঃশব্দে পিছু হটবে এথেন্স বাহিনী। আজ পূর্ণিমা। জোছনার নরম আলোয় পথঘাট দেখতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। পরদিন সকালে সাইরাকিউজের সেনারা যখন বিষয়টা বুঝতে পারবে, ততক্ষণে এথেন্স বাহিনী অনেকটা নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে পারবে।



    ডেলিয়ান লিগ ও পেলোপনেসিয়া লিগের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ

    পরিকল্পনা অনুযায়ী সেইদিন সন্ধ্যা নামার পর, নিঃশব্দে পাততাড়ি গুটাতে থাকে এথেন্স বাহিনী। সেনাছাউনি গুটিয়ে, লোকলশকর, অস্ত্রশস্ত্র, অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে ধীরে ধীরে পিছু হটতে শুরু করে এথেন্স বাহিনী। সময় যত গড়িয়েছে সাইরাকিউজ রণক্ষেত্র ছেড়ে ততই পিছিয়ে চলেছে এথেন্স বাহিনীও। আর কিছুদূর যেতে পারলেই নিশ্চিন্ত হবেন তাঁরা। সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল এতক্ষণ, এক্কেবারে পরিকল্পনা আনুযায়ী, নিখুঁত। হঠাৎ, চাঁদের আলোটা যেন কেমন কমে যেতে লাগল। অবাক বিস্ময়ে এথেন্স বাহিনী আকাশে চেয়ে দেখে—চাঁদের অনেকটা অংশই নেই, পুরো গায়েব। কিন্তু তা কী করে সম্ভব? আজ তো পূর্ণিমা। আকাশে তো পুরো চাঁদই থাকার কথা। সন্ধ্যায় তো পুরো চাঁদই দেখেছিল তাঁরা। তাহলে, ব্যাপারটা কী হল? আর যত সময় যাচ্ছে ততই ক্ষয় পেতে থাকছে চাঁদ। চারিদিকে অমাবস্যার আঁধার নেমে আসছে যেন! সবাই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। সৈন্যদল মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগল। সেনাপতি নিসিয়াসের নেতৃত্বে বসল জরুরি মন্ত্রণা সভা। এদিকে ক্ষয়তে ক্ষয়তে ক্রমেই অদৃশ্য হলেন চন্দ্রদেব। নিসিয়াসের সেই সভায় সিদ্ধান্ত হল, দেবতারা আমাদের পশ্চাদপসরণ অনুমোদন করছেন না। তাই তাঁরা চাঁদের আলো কমিয়ে দিয়ে আমাদের যাওয়ার পথ অবরুদ্ধ করতে চাইছেন। পরবর্তী পূর্ণিমা পর্যন্ত আমাদের এখানেই থাকতে হবে। ২৭ দিন পর আবার প্রত্যাবর্তনের কথা ভাবা যেতে পারে। তার আগে কিছুতেই নয়। দেবতাদের ইচ্ছা আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যাই এবং বীরের মতো যুদ্ধ করি। নিশ্চয় এই যুদ্ধের ফল আমাদের অনুকূলেই আসবে। তাই আমাদের উচিত যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যাওয়া এবং অন্তত ২৭ দিন ধরে যুদ্ধ করা।

    এথেন্স বাহিনীর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কিছু পরেই, আকাশে ধীরে ধীরে আবার স্বমহিমায় ফুটে উঠলেন সোমদেব। এতে এথেন্স বাহিনীর মনে নতুন উদ্যম সঞ্চারিত হল। ঈশ্বরের নির্দেশ সঠিক ভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছেন তাঁরা। পিছু হটার সিদ্ধান্ত বাতিল করে রণাঙ্গন অভিমুখে ফিরে চলল এথেন্স বাহিনী। সেই রাতেই আবার নিঃশব্দে যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে এলেন তাঁরা। আবার পাতলেন সেনাছাউনি, রসুই ঘর—ঠিক আগের মতো করেই। দেখে বোঝার উপায় নেই যে একটু আগেই এই স্থানটা ছিল এক্কেবারে ফাঁকা। ভোরের আলো ফোটার আগেই যে যার অবস্থানে চলে গেলেন এথেন্সের সেনারা। সাইরাকিউজের লোকজন তখনও ঘুমে আচ্ছন্ন। তারা জানতেই পারলেন না এথেন্স বাহিনীর পিছু হটা আর ফিরে আসার খবর।

    পরদিন যথারীতি সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হলেন দু-পক্ষ। সাইরাকিউজের হাতে ইতিপূর্বেই নাকাল হওয়া এথেন্স বাহিনী, রাত জাগার ধকল নিতে পারল না সেদিন। ভয়ংকর ভাবে নিগৃহীত হলেন তাঁরা সাইরাকিউজ বাহিনীর হাতে। তবু দেবাদেশ মেনে, ২৭ দিন ধরে সম্মুখসমরের সিদ্ধান্তে অবিচল রইলেন তাঁরা। হায়! যুদ্ধ যদি ঈশ্বরের নির্দেশেই হত, তাহলে হয়তো যুদ্ধ নামক শব্দটাই থাকত না অভিধানে। এদিকে এথেন্স বাহিনীর পিছন থেকে সাহায্য আসার মূল পথটাই বন্ধ করে দেয় স্পার্টা। যার পরিণতিতে সাইরাকিউজ বাহিনীর হাতে নাস্তানাবুদ হয়ে পরাজিত হয় এথেন্স বাহিনী। বন্দি ও হত্যা করা হয় এথেন্সের সেনাপতি নিসিয়াসকে।

    সাইরাকিউজ বাহিনীর হাতে এথেন্সের পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে, গ্রিক তথা পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এইদিন থেকেই এথেন্সের রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্যের শেষ অধ্যায় রচনা শুরু হয়ে যায়। সাইরাকিউজ বাহিনীর হাতে এথেন্সের পরাজয়ের দশ বছর পর, ৪০৪ খ্রিস্টপূর্বে, ইতি পড়ে পেলোপনেসিয়া যুদ্ধের। এই যুদ্ধে এথেন্স ও তার সহযোগীদের নিয়ে গঠিত ডেলিয়ান লিগের পরাজয় ঘটে। উত্থান ঘটে স্পার্টার। ৪১৪ খ্রিস্টপূর্বে সাইরাকিউজ থেকে এথেন্স বাহিনীর পিছু হটার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণতই সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত ছিল। সেদিনের সেই চন্দ্রগ্রহণকে ঈশ্বরের নির্দেশ মনে না করে, পরবর্তী সাহায্য না আসা পর্যন্ত, এথেন্স যদি পিছু হটার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকত, তাহলে পেলোপনেসিয়া যুদ্ধের পরিণতি হয়তো অন্য ভাবে লেখা হত।

    * * *

    প্রখ্যাত এথেনীয় ইতিহাসবিদ ও সেনানায়ক থুসিডাইড্‌স (আনুমানিক খ্রিঃপূঃ ৪৩৫-৪১১) আট খণ্ডে লেখা তাঁর ‘হিস্ট্রি অব পেলোপনেসিয়ান ওয়ার’ গ্রন্থে এই যুদ্ধের নানান মুহূর্ত সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। থুসিডাইড্‌স ছড়াও গ্রিক জীবনীকার প্লুটার্ক (৪৬?-১২০), ইতিহাসবিদ ও নৌসেনানায়ক জ্যেষ্ঠ প্লিনি (২৩?-৭৯) তাঁদের গ্রন্থে ‘সাইরাকিউজ অবরোধ’ এবং এই বিখ্যাত চন্দ্রগ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন। থালিস প্রতিষ্ঠিত আইওনিয়ন বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন আনাক্সাগোরাস (খ্রিঃপূঃ ৫০০-৪২৮)। শিক্ষকের মতো গ্রহণের রহস্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল তাঁর। তাঁর জীবদ্দশাতে এই চন্দ্রগ্রহণের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই গ্রহণ। আধুনিক জ্যোতির্বিদগণ দেখিয়েছেন, আধুনিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সাইরাকিউজের এই গ্রহণ হয়েছিল ৪১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ২৭ আগস্ট। প্লেটো লিখেছেন, আনাক্সাগোরাসই প্রথম এবং সঠিক ভাবে চন্দ্রকলার রহস্য উন্মোচন করেছিলেন। এই চন্দ্রকলা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আনাক্সাগোরাস বলেন, চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। চাঁদ, সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে মাত্র। এই সমস্ত মহাজাগতিক কার্যকলাপকে ঈশ্বরের ইচ্ছা হিসেবে বর্ণনা না করে, প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করতেন তিনি। এই বিধর্মীসুলভ মতবাদের জন্য এথেন্সের মান্যগণ্যরা তাঁর উপর বেজায় ক্ষিপ্ত ছিলেন। যুবসামজকে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করার অভিযোগে আনাক্সাগোরাসের বিচারের দাবি জানাতে থাকেন এথেন্সের সমাজপতিরা। পরিস্থিতি ক্রমেই আনাক্সাগোরাসের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে বুঝে, তাঁর প্রাক্তন ছাত্র ও জননেতা পেরিক্লিস, তাঁকে নিরাপদে এথেন্স ত্যাগের ব্যবস্থা করে দেন। এথেন্স থেকে বিতাড়িত আনাক্সাগোরাস আনাতোলিয়ার (তুরস্কের) ল্যাম্পাকস শহরে তাঁর বাকি জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। আনাক্সাগোরাসকে বিতাড়ন করা ও তাঁর মতবাদকে অস্বীকার করার চরম মাশুল শেষপর্যন্ত গুনতেই হয়েছিল এথেন্সকে।



    (দক্ষিণ) ইতালি, সিসিলি ও সাইরাকিউজ

    গ্রন্থসূত্র:
    (1) ‘Histories’ by Herodotus. Edited by A D Godley.
    (2) ‘The Lives and Opinions of Eminent Philosophers’ by Diogenes Laertius. Translated by C D Yonge
    (3) ‘History of Peloponnesian War’ by Thucydides. Translated by Charles Forster Smith.
    (4) ‘Parallel Lives’ by Plutarch. Edited by Aubrey Stewart and George Long.
  • বিভাগ : আলোচনা | ২১ জুলাই ২০২০ | ৫৮০ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • Mrinal | 2409:4061:2d12:c084::9b09:2f09 | ২৩ জুলাই ২০২০ ১৫:০৫95442
  • Khub valo laglo. Grohon O Juddo golpo ta.

  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত