হোলি রোমান সাম্রাজ্য এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য—দুটিই নিজেদের রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি দাবি করত। কিন্তু পশ্চিমাংশ ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দেই ভেঙে পড়েছিল, যেখানে পূর্বাংশ বা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আরও প্রায় ১,০০০ বছর (১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) টিকে ছিল।
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) এমন এক জায়গায় অবস্থিত ছিল, যাকে প্রাকৃতিকভাবেই একটি দুর্গ বলা যায়।
এটি তিন দিক থেকে পানি দ্বারা বেষ্টিত ছিল, যার ফলে কেবল একদিক থেকে স্থলপথে আক্রমণ করা সম্ভব হতো।
স্থলভাগকে রক্ষা করার জন্য ছিল বিখ্যাত থিওডোসিয়ান দেয়াল (Theodosian Walls), যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করেছে।
সমুদ্রপথে আক্রমণ ঠেকাতে তারা গোল্ডেন হর্ন (একটি সামুদ্রিক প্রণালী) জুড়ে বিশালাকার লোহার শিকল টেনে দিত, যাতে শত্রু জাহাজ ঢুকতে না পারে।
কনস্টান্টিনোপল ছিল সিল্ক রোড (Silk Road) এবং ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্য পথের মিলনস্থল। এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের সমস্ত বাণিজ্য এই শহরের ওপর দিয়ে হতো।
এই বিপুল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণে বাইজেন্টাইনরা সহজেই বিশাল সেনাবাহিনী পরিচালনা করতে পারত, দুর্গের সংস্কার করতে পারত এবং প্রয়োজনে শত্রুদের বিশাল অঙ্কের টাকা (Trubute/ঘুষ) দিয়ে যুদ্ধ এড়িয়ে যেত।
বাইজেন্টাইনদের কাছ ছিল গ্রিক ফায়ার। এটি ছিল এক ধরণের তরল আগুন, যা পানির ওপরেও জ্বলত। সমুদ্র যুদ্ধে শত্রু জাহাজের ওপর এটি স্প্রে করা হতো।
পানি দিয়ে এই আগুন নেভানো যেত না বলে শত্রু নৌবাহিনী এর সামনে পঙ্গু হয়ে পড়ত। এই প্রযুক্তির সূত্রটি বাইজেন্টাইনরা এতটাই গোপন রেখেছিল যে আজ পর্যন্ত এর সঠিক উপাদান কী ছিল তা জানা যায়নি।
পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্য যেখানে স্থানীয় জমিদার বা সামন্ত প্রভুদের কোন্দলে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য সেখানে অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। তাদের কর আদায় ব্যবস্থা ছিল চমৎকার, যার ফলে যুদ্ধের সংকটের সময়েও রাজকোষ কখনো শূন্য হতো না।
বাইজেন্টাইনরা কেবল তরবারি দিয়ে নয়, বুদ্ধি দিয়ে যুদ্ধ জিতত। তাদের একটি সুপরিচিত নীতি ছিল—"শত্রুর শত্রুকে বন্ধু বানানো"। তারা এক বর্বর জাতিকে অন্য বর্বর জাতির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিত। গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এবং বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে তারা অনেক বড় বড় যুদ্ধ ছাড়াই সাম্রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষিত রেখেছিল।
এতসব চমৎকার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ১৪৫৩ সালে অটোমেন তুর্কিদের হাতে এই বিখ্যাত শহর ও সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।