• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • ব্যাংক ও শিল্পে ঋণ - লুটমারের পাঁচালি

    শিবাংশু দে
    আলোচনা : বিবিধ | ০২ মে ২০২০ | ৩৩০৩ বার পঠিত

  • ব্যাপারটা একেবারেই জটিল নয়।
    ব্যাংক যখন কোনও শিল্পে ঋণ দেয়, তখন সেই সংস্থার সম্পদের একটা ছোটো অংশকে জামানত হিসেবে চিহ্নিত করে। সেটা অতিরিক্ত সুরক্ষা। মূল জামানত থাকে ঋণের টাকায় যে সম্পদ সৃষ্টি করা হয়, সেটি। যেমন ওয়র্কিং ক্যাপিটাল দিলে জামানত কাঁচা মাল ও তৈরি বস্তুর উপর থাকে। টার্ম লোন দিলে যন্ত্রপাতির উপর। কোন ঋণে কতো জামানত হওয়া উচিত বা তার অন্যান্য জরুরি শর্তাবলী বিষয়ে নির্দেশগুলি রিজার্ভ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রক থেকে স্থির করা হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির সিদ্ধান্ত, যাকে 'ব্যাংকার্স ডিসক্রিশন' বলা হয়, তার সীমারেখাগুলি খুবই ছোটো। রিজার্ভ ব্যাংক, সেবি, কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক দিশানির্দেশ (যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ প্রণোদিত) ইত্যাদি দিয়ে ঘেরা একটা ছোটো ক্ষেত্রের মধ্যে থেকে ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

    যখন কর্পোরেট ঋণের প্রস্তাবগুলি পরীক্ষা করা হয়, তখন ব্যাংকার ঋণীর সবরকমের উপার্জন ও সম্পদের উৎসগুলিকে একসঙ্গে বিচার করে। কারণ সেটাই বিধি। সরকারিভাবে ঋণী হয়তো ঐ সম্পদের একটা ছোটো অংশকে ঋণের জামানত হিসেবে রাখবেন। যদিও দেশের আইন অনুযায়ী ঋণ খেলাপের ক্ষেত্রে ঋণীর সব সম্পত্তিকেই বাজেয়াপ্ত করার আইন রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী গোষ্ঠীরা সেটা মানেন না । নানা রকম আইনের ফাঁক দেখিয়ে জাল কেটে বেরিয়ে যেতে চাইবেন। উদাহরণ, কিংফিশার।

    ঋণ অনাদায়ী হয়, যখন ঋণীরা ঋণ থেকে পাওয়া পুঁজিটি নিয়ে ফাটকা খেলেন বা তা অন্য ব্যবসায়ে লাগিয়ে দেন। আমাদের দেশের পশ্চিম প্রান্তে একটি রাজ্য রয়েছে। যেখান থেকে আসা বণিকরা সরকার নির্বিশেষে এদেশের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। অতীতে সব বৃহৎ অর্থনৈতিক কেলেংকারিই তাঁদের মগজের জোরে হয়েছিলো। এই তালিকাতেও তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফাটকাবাজি তাঁদের রক্তে রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিকে তাঁরা এককথায় কিনে রাখেন। প্রতি নির্বাচনের সময় যেসব লক্ষকোটি টাকা বেআইনি হাতবদল হয়, তার রাশটি তাঁদের হাতেই থাকে। যে দলই সরকারে আসুন না কেন, এই সব বণিক তাঁদের থেকে শাইলকের ভাগের মাংস উঁচু সুদসহ উসুল করে নেন। ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণও সেই ভাগের মাংস।
    কর্পোরেট ঋণ যে মুহূর্ত থেকে অনাদায়ী হতে শুরু করে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যাংকগুলি ব্যবস্থা নেবার চেষ্টা করে। রিজার্ভ ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি নীতিনির্দেশক সংস্থাকে জানায়। কারণ ব্যাংকের আইনগত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা খুব সীমাবদ্ধ। আদালত বা ট্রাইব্যুনালে গিয়ে নিষ্ফল আর্জি জানানো ছাড়া বিশেষ কিছু করার নেই। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই সব গোষ্ঠীর মালিক রাজনৈতিক ভাবে এতোই ক্ষমতাশালী হয় যে ব্যাংকের অনুরোধ-উপরোধের কেয়ারই করে না। তাদের দাঁড়াবার জায়গা, 'ক্যা কর লেগা? উঠাকে ফেক দেঙ্গে' জাতীয় আকাশছোঁয়া 'আত্মবিশ্বাস'। ঘটনা প্রমাণ করে, তাদের আত্মবিশ্বাস অমূলক নয়।

    আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইন অনুযায়ী একটা সময়ের পর অনাদায়ী ঋণগুলিকে ব্যাংকের সচল খাতা থেকে বার করে দিতে হয়। এই ঋণগুলির জন্য ব্যাংককে তাদের লভ্যাংশের একটা বড়ো অংশ আলাদা করে রাখা প্রয়োজন। যাকে প্রভিজন বলে। যেটা দেশের লোকের টাকা। ঘটনা হলো, প্রভিজন করার পর অনন্তকাল ধরে মামলা চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইনের ফাঁকে ডাকাতদের কিছুই হয়না। উল্টে নির্দেশ আসে ঐ সব কোম্পানিকে রিফাইনান্স করা হোক নয়তো ব্যাংকের পুরো টাকাই ডুবে যাবে। অনেক সময় চাপের মুখে ব্যাংকগুলিকে তাও করতে হয়। জেনেশুনে আবার বিপুল ক্ষতি। সামান্য ক্ষেত্রে দুর্ভাগা কোম্পানিগুলি (যাদের প্রভাব কম) অনাদায়ী ঋণের খুব ছোটো একটা ফেরত দেয়। যেমন হাজার কোটি টাকা ঋণে আশি কোটি বা এই জাতীয়। ব্যাংকও সোনামুখ করে সেটা নিয়ে নেয়। বাকিটা মায়ের ভোগে।

    বেশ কিছুদিন হলো রিজার্ভ ব্যাংকের আত্মনিয়ন্ত্রণ ষড়যন্ত্র করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলি এখন সম্পূর্ণত রাজনৈতিক স্বার্থপ্রণোদিত। উর্জিত প্যাটেলের মতো 'অতি প্রভাবশালী' লোককেও রীতিমতো পলায়ন করতে হয়। রাষ্ট্রীয়কৃত ব্যাংকগুলি প্রথম থেকেই সরকার নিয়ন্ত্রিত। আগে ছিলোনা, কিন্তু কিছুদিন হলো এসবিআইয়ের ক্ষেত্রেও এই নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ এদেশের সম্পূর্ণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মালিক কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। যাবতীয় ব্যাংকিং বিষয়ক সিদ্ধান্ত তাঁরাই নিয়ে থাকেন। অনাদায়ী ঋণের ক্ষেত্রে কী করতে হবে সে বিষয়টিও তার বাইরে নয়। কিছু মূর্খ বা অতিচালাক লোকজন যথারীতি প্রচার করার চেষ্টা করেন সরকারের এতে কোনও দায়িত্ব নেই। ঘটনা হলো এই বিপুল অনাদায়ী ঋণের পুরোটাই দেশের লোকের লক্ষ্মীর ভাঁড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফেরতের কোনও আশা নেই। বড়ো জোর নিয়মরক্ষার জন্য অতি ছোটো একটা ভগ্নাংশ শেয়ালের কুমির বাচ্চার বারবার মতো দেখানো হবে। নিতান্ত অর্থহীন গা বাঁচানো ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ সর্ষের মধ্যেই ভূত।

  • বিভাগ : আলোচনা | ০২ মে ২০২০ | ৩৩০৩ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1 | 2
  • শিবাংশু | 172.68.146.217 | ১৫ মে ২০২০ ১৩:০৮93347
  • @S,

    আপনি সংক্ষেপে প্রুডেনশিয়াল নর্মের অ্যাসেটস ক্ল্যাসিফিকেশন এবং ইনকাম রেকগনিশন বিষয়ে লিখেছেন। ব্যাপারটা গত দুই দশকে জটিলতর হয়ে গেছে। মোরেটোরিয়াম বিষয়ে বিশেষ আশাবাদী হবার কারণ নেই। নব্বই দিন বা একশো আশি দিন যাই হোক না কেন, মূল ব্যাপারটা বদলাচ্ছে না। এই রিপোর্টেই লিখছে স্ট্যান্ডার্ড অ্যাসেট হলেও তাদের উপর দশ প্রতি শত প্রভিজনিং করতে হবে।
    "With the objective of ensuring that banks maintain sufficient buffers and remain adequately provisioned to meet future challenges, they will have to maintain higher provision of 10 per cent on all such accounts under the standstill, spread over two quarters, i.e., March, 2020 and June, 2020।"
    আমাদের মির জুমলা ও শক্তিহীন দাসানুদাস দুজনে মিলে রেপো আর সি আর আর অ্যাডজাস্টেড আট-ন লক্ষ কোটি টাকা 'করিব করিব বিশ লাখ করোড়ের' মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এই টাকাটা পড়ে আছে ব্যাংকের কাছে। টাকার সাপ্লাই রয়েছে। নেবার লোক নেই। এই বিপুল 'মৃত' টাকার ভার ব্যাংকগুলি বেশি দিন বহন করতে পারবে না। তার উপর অত্যন্ত সাময়িক কৃত্রিম 'ফিল গুড' ক্রেডিট পরিস্থিতির রূপকথা তাসের ঘরের মতো ধ্বসে পড়বে সেপ্টেমবরেই। ভক্তশ্রীর দল দুহাত তুলে 'আপাতকালীন, আপাতকালীন' কীর্তন করবে। মানুষের পকেটে টাকা না থাকলে উৎপাদন করে কী হবে?
  • করোনা

  • পাতা : 1 | 2
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত