• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • শিপ অব থিসিয়াস ঃ কিছু ব্যক্তিগত কথা

    মিঠুন ভৌমিক
    বিভাগ : আলোচনা | ১৯ আগস্ট ২০১৩ | ৩৪ বার পঠিত
  • ইদানিং বড় পর্দায় সিনেমা দেখা হয়না। খানিকটা স্থানমাহাত্ম্যে, খানিকটা আলস্যজনিত কারণে, অতএব, আমার চলচ্চিত্র অভিযান চার দেওয়ালের মধ্যেই আপাতত সীমাবদ্ধ। তবুও নানা প্রতিবন্ধকতা (যার অধিকাংশই সাজানো অজুহাত এবং কালের নিয়মে ফিকে হতে হতে একদিন আপশোষে মিশে যাবে) জয় করে অবশেষে দক্ষিণ কলকাতার একটি হলের শক্ত সিটে বসা গেল। একথা সেকথা ও আশপাশের দর্শকদের পপকর্ন-ঠান্ডাপানীয়-গজেন্দ্রগমন শান্ত হয়ে এলে, সিনেমা শুরু হলো।

    ভারতীয় সিনেমা সাবালক হচ্ছে, হয়েছে বা হবে- মোটামুটি এই তিন ধরণের মত পোষণকারীদেরই আমরা চারপাশে দেখি বা তাঁদের কথা গল্পচ্ছলে শুনি। এখন, শিপ অফ থিসিয়াস এই তিন ধরণের দর্শককেই একাধারে আনন্দ দেবে, ও ধাঁধায় ফেলবে। কেন, সেকথা এই লেখার বিষয় নয়। বরং সবাই পারলে অন্তত একবার সিনেমাটা দেখে নিন। ঠকবেন না বলেই মনে হয়।

    তিনটি গল্প, তিনটিই অঙ্গ প্রতিস্থাপনকে কোন না কোনভাবে কেন্দ্র করে, এইটুকু অবশ্য বলাই যায়। যে দ্বন্দ্ব এই সিনেমার প্রতি গল্পে বা শিরোনামে আছে, সেটা বললেও পাঠকের অসুবিধে হওয়ার নয়। এমনিতেই ইন্টারনেটের কল্যাণে আপনারা জানেন শিপ অফ থিসিয়াস নামের ইতিহাস। তো, ছোট করে, এই দ্বন্দ্ব বেশ খানিকটা, বা সবটাই, সত্যকেন্দ্রিক। নিজেকে, নিজের চারপাশের বস্তু বিষয় ও মানুষকে অন্য চোখে দেখার ব্যাকরণ শিপ অফ থিসিয়াস। যে অন্ধ মেয়েটিকে নিয়ে সিনেমা শুরু হয়, যে সন্ন্যাসী সিনেমার মধ্যভাগটা ভরিয়ে রাখেন, যে শেয়ারের কেনাবেচা করা ছেলেটি কাহিনীকে পরিণতির দিকে নিয়ে যান, আসলে যা পরিণতির অভাব, সেইটাই এই সিনেমার নতুনত্ব। ভারতীয় সিনেমায় যা দেখতে আমরা অভ্যস্ত নই। আশ্চর্যের বিষয়, এই তিনটি চরিত্রও তাদের নিজ নিজ জীবনে এমন সব কাজে জড়িয়ে পড়তে থাকে, যাতে তারা অভ্যস্ত তো নয়ই, বরং কোন কোন ক্ষেত্রে অপরিচিতও বলা চলে। নতুন চোখে জীবনকে দেখতে শুরু করার পরে মেয়েটি অন্ধত্বে নতুন সংজ্ঞা পায়। রোজ একটু একটু করে নেই হয়ে যেতে যেতে সন্ন্যাসীটি এবং তার গুণমুগ্ধ বন্ধুগণ নতুন নতুন দ্বন্দ্বের মধ্যে নিজেদের আবিষ্কার করে। যে যুবকের কাছে জীবনের একরকম মানে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত, সেও খুঁজে পেতে শুরু করে অন্য সব নতুনতর মানে।

    কিন্তু আমার তো ব্যক্তিগত কথা লেখার ছিলো। দিবাকর ব্যানার্জির মত পরিচালক শিপ অফ থিসিয়াসের রিভিউ লিখেছেন। তাই এই লেখাকে রিভিউয়ের সড়কপথে উঠতে দেওয়া চলবেনা। তাই টেকনিকালিটির কথা নমো নমো করে এখানেই শেষ হবে। প্রথমেই একটু অভিযোগ। ছবিতে কোথাও কোথাও সম্পাদনা আরো টানটান হলে আরো ভালো লাগত। এ বাদে চিত্রনাট্য নিখুঁত। সিনেম্যাটোগ্রাফি দুর্দান্ত, বিশেষ করে প্রথম দুটো গল্পে কখনো কখনো মনে হচ্ছিলো কোন নামী শিল্পীর আলোকচিত্রের প্রদর্শনীতে এসে বসেছি, সামনে স্লাইডে একের পর এক ছবি আসছে যাচ্ছে।

    গত কয়েকবছরে পৃথিবীর নানা প্রান্তের সিনেমা দুয়েকটা যা দেখেছি, তাতে আমার কাছে সিনেমার জগতের বিভাজনগুলো কেমন থেকেও নেই হয়ে গেছে। একদিকে রুটি-ডাল-তরকারির মত "খোরাকি" সিনেমা, অন্যদিকে জীবনের সমস্ত হাসি-দু:খ-ক্লেদ সমন্বিত বিশ্ব সিনেমা (এই নামটা জুতসই কিনা জানিনা, তবে কি বলতে চাইছি তা চেন্নাই এক্সপ্রেস আর চিলড্রেন অফ হেভেনের তুলনা করলেই পেয়ে যাবেন), কিন্তু তার মধ্যে আছে অজস্র ফিকে-গাঢ় ধূসরের শেড, যেগুলো কোথাও কোথাও খাবার, কোথাও কোথাও মনের আরাম। অবশ্য কেউ কেউ বলবেন খাবারও মনের আরাম, আর তাদের কথাও একেবারে ফ্যালনা নয়।

    তো, কথা হলো, শিপ অফ থিসিয়াস এই দ্বিতীয় শ্রেণীর। এখানে অতি স্পষ্টভাবে পরিচালক একটি ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় নেমেছেন। সেখানে একদল মানুষ অভিনয়ের ছলে তার গল্পের চরিত্রগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে যায়, আরেকদল মানুষ স্রেফ দেখতে দেখতে কোথাও কোথাও নিজেকে শনাক্ত করে ফেলে। ফলত: চরিত্রগুলোর রাগ, দু:খ, হতাশ ও সর্বোপরি দ্বন্দ্বগুলো ও অতি নির্মমভাবে বিঁধতে থাকে তার গায়ে। অবশ্য প্রাপ্তিগুলো ও আসে। ভারি চমৎকার কৌতূকে বেঁধেছেন পরিচালক ছবিটিকে। সংগীত আমার অশিক্ষিত কানে বেশ যথাযথ লাগে। অভিনেতারা আসলেই কেউ অভিনয় করেননি, ঐ জীবনগুলোয় ঢুকে পড়ে কয়েকদিন বাস করে গেছেন। তাই, কোথাও, কাউকেই বেমানান লাগেনা। অন্ধ মেয়েটিকে আমার সহপাঠিনীর মত লাগে, যে একইভাবে দিনান্তে বাড়ির লোকেদের সাথে কথা বলতো। শুধু তফাতের মধ্যে তার ভাষা ছিলো ফারসি। সন্ন্যাসীকে কার মত যেন লাগে, খুব চেনা, কিন্তু মনে করতে পারিনা। তার মৃদু হাসি, শান্ত ও স্নিগ্ধ প্রকৃতি যদিও চিনতে পারিনা। সর্বত্রই বিরক্তি দেখতে ও দেখাতে অভ্যস্ত আমি হয়রান হয়ে যাই তার অসীম ধৈর্য্য দেখে। "খোরাকি" সিনেমা হলে অবাস্তব বলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতাম। কিন্তু পরিচালক আনন্দ গান্ধী সে রাস্তা রাখেননি। অতি কর্কশভাবে বাস্তব এই চরিত্রগুলো। তাদের আঙ্গিক। লিভার সিরোসিসে পঁয়তাল্লিশেই শেষ হয়ে যাওয়া আমার মাসির কথা মনে পড়ে, এবং গল্পটা চলতে চলতে একসময় আমি সেই ক্ষতস্থানে প্রলেপ পাই।

    শেয়ারের খবর রাখা ছেলেটিকেও শনাক্ত করতে পারি। আমার সাথে সে রোজ খায়দায় অফিস যায়, ক্লাসে লেকচার দেয়। আমার চেয়ারের আশেপাশে ওরাই ছড়িয়ে থাকে। রাত হলে নি:শব্দে সে আমার মধ্যে শুয়ে ঘুমোয়। আর তার চেতনা হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকে, একইভাবে। তফাতের মধ্যে শুধু তার সর্বাঙ্গ পক্ষাঘাতগ্রস্ত।

    তাই এই ভীষণ চেনা মানুষগুলোর ভালোমন্দ দুরু দুরু বুকে দেখতে দেখতে একটা গোটা বড়োসড়ো সিনেমা পুরো উপভোগ করে ফেলি। আমার মনে মালগুডি ডেজ, চাঁদমামায় দেখা জাতকের গল্প ও ছবি, প্রিয় বান্ধবীর অ্যাকসেন্ট, প্রিয় বন্ধুর অর্থপিশাচ হয়ে যাওয়া, তিনটি মহাদেশ ও তার মানুষের ভালোমন্দের ছাপ, দারিদ্র্য, দারিদ্র্যকে ছাপিয়ে উঠে মানুষ হওয়া ও না হতে পারার অসহায়তা, আর এ যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির ডিভিডি সংগ্রহের সমস্ত প্রিয় অপ্রিয় স্বল্পপ্রিয় চরিত্র জট পাকিয়ে যায়। যে দ্বন্দ্ব নিয়ে এই সিনেমা তৈরী, আমি সেই দ্বন্দ্বেরই শিকার হই। সিনেমাটা দেখার পরের আমি সিনেমাটা দেখার আগের আমিই আছি কিনা বুঝতে পারিনা। এর উত্তর জানা অবশ্য ততটা জরুরি কিনা জানিনা।

    হাস্যরসের কথাটা না বললে লেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে (যেন অন্যথায় লেখাটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে)। সেই চ্যাপলিনের আমল থেকে হেরা ফেরির পরেশ রাওয়াল হয়ে আজকের শিপ অফ থিসিয়াস, দর্শক এখনও দারিদ্র্য দেখলে হাসেন। একটা লোকের কিডনি চুরি করে কেটে বেচে দেওয়ার পরে সে কিডনিটা না, তার দাম বাবদ অনেক টাকা চায় --- এইটা ভারি হাসির ব্যাপার। সমবেত হাস্যরোলের পাশে বিব্রত আমি খানিকটা সন্দিগ্ধ হয়ে উঠি।
    কেমন মনে হতে থাকে সমস্ত পরিবর্তনই হয়ত সাময়িক নয়।
     

  • বিভাগ : আলোচনা | ১৯ আগস্ট ২০১৩ | ৩৪ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • byaang | 132.178.202.154 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০১:২৫77080
  • কোনো সম্পক্কো নাই, সেটাই বোঝাতে চাইছিলাম। বোঝাতে পারি নি, সে আমারই অক্ষমতা। বলতে চেয়েছিলাম যে একটা রিভিউ পড়ে মনে হয়েছিল এটা ব্যাবেলের মত কিছু বানাতে চেষ্টা করেছে। তাই সেটা ধরে নিয়েই দেখতে গেছিলাম এবং মিল খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু পেলাম না।
  • কল্লোল | 125.242.246.156 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৩:৪৭77081
  • সন্ন্যাসীটি জৈন। জৈনরা তো বৌদ্ধদের মতোই নাস্তিক। তাই না?
  • শ্রী সদা | 127.194.209.37 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৫:০৪77082
  • সিনেমাটা দেখার ইচ্ছে রইলো, সবার লেখা রিভিউগুলো না পড়লে সেটা হত না। যখন হলে এসেছিল কাটিয়ে দিয়েছিলাম আঁতেল সিনেমা ভেবে।
  • siki | 131.243.33.212 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৫:০৬77070
  • দারুণ লিখেছিস টিম।

    প্রথম এপিসোডে, অন্ধ মেয়েটাকে নিয়ে যখন দেখানো হচ্ছে, দেখতে দেখতে মনে হবে, ক্যামেরা যেন অত্যন্ত অপটু হাতে ধরা, কখনও ব্লার হয়ে যাচ্ছে, কখনও রং কম আসছে। ঠিক সিনেম্যাটিক ফটোগ্রাফি বলতে যা বোঝায়, তার পুরোটাই অনুপস্থিত। চোখে অস্বস্তি হয়। তারপর, দেখতে দেখতে ঐ অসঙ্গতিটাই কেমন চোখে বসে যায়। মনে হয়, একটা অন্ধ মেয়ের কাহিনি, তার জীবনে ফোকাস নেই, রং নেই, সেখানে তো এই রকমের ফোটোগ্রাফিই হওয়া উচিত। একটু আবছা, একটু ব্লার, খানিকটা শার্প।

    দর্শক ভাবছে। প্যারালালি ভাবছে। সিনেমা জাস্ট দেখলাম, এন্টারটেনিত হলাম, আর বাইরে এসে ক্যাবাৎ বললাম, সে ধরণের সিনেমা এটা নয়। দর্শককে প্রতি শটে ভাবতে উসকানি দিচ্ছে এই সিনেমাটা।

    সন্ন্যাসীর এপিসোডেও অন্য রকম ব্যাপার। সন্ন্যাসী, কিন্তু নিছক ধর্মকর্ম করা তার কাজ নয়, সেটা কোথাও গোদা গোদা করে বলা থাকে না, দর্শককে মাথা খাটিয়ে বুঝে নিতে হয়। এই এপিসোডে ক্যামেরা অনেক পরিণত, কিন্তু তাও সিনেমার কারণে টিপিকাল হিন্দি সিনেমার সজানো কোর্টরুম চত্বর দেখানোর চেষ্টা করেন না পরিচালক। একেবারে ধূলিধূসরিত নোংরা কোর্টরুমে বসে ট্রায়াল হয় অ্যানিম্যাল ক্রুয়েলটির পক্ষে ও বিপক্ষে।

    তৃতীয় এপিসোডে ঐ রাজস্থানী ছেলেটিকে পছন্দ করার কোনও কারণই থাকতে পারে না, কেমন যেন গোঁয়ার, অল্পবুদ্ধি, তার আদর্শবাদী দিদিমার চোখেও সে অসহ্য, নাতির ওপর স্নেহর থেকেও বিরক্তি ফুটে বেরোয় তাঁর ব্যবহারে, আর সেই বিরক্তির শরিক হয়ে উঠি আমরাও, প্রথম ধাক্কা খাই যখন তর্কের শেষেও সে দিদিমার জন্য বেডপ্যান এনে দেয়, দিদিমাকে হালকা হতে সাহায্য করে। আপাত গোঁয়ার রুক্ষ মানুষটার ভেতরেও যে অন্য রকম একটা সংবেদী মন আছে, এইখান থেকে আমরা একটু একটু করে বুঝতে শিখি।

    শেষদিকে দিদিমার বক্তব্যটিও বড় করুণ, বড় বাস্তব। সফল হতে পারাটাই বড় কথা নয়, তুমি যে চেষ্টা করেছো, এটাই বড় কথা। এটা কতজনে করে ... আমাদের দৈনিক ব্যর্থ সংগ্রামের যেন একটা অন্য মানে খুঁজে পাই এইখানে এসে।

    সিনেমার শেষ সীনের আগে কোনওভাবে বোঝা যায় না যে এই তিনটে কাহিনি, আসলে একটাই কাহিনি। অথচ দর্শক তার আগে বুঝতেও পারে না কেন আলাদা আলাদা তিনটে সিনেমা দেখানো হল একটা সিনেমার নামে। তিনটে গল্পের মাঝে কোনও ব্রেক নেই, নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পরপর ন্যারেটেড হয়ে চলেছে গল্পগুলো।

    এভাবেও যে গল্প বলা যায়, সিনেমার মাধ্যমে, জানলাম।
  • কৃশানু | 213.147.88.10 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৫:১৬77083
  • ব্যাবেল এর সাথে কোনও মিল নাই। আর যে শেষটা নিয়ে ব্যাংদি আর সিকি ( আরো কেউ কেউ?) এত উত্তেজিত, সেটা না থাকলেও সিনেমার কোনও ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না তো!!!
    ও হ্যাঁ, ব্যাবেল এর থেকে হাজার গুণ ভালো সিনেমা এটা (ব্যক্তিগত মত), আর যে রিভিউয়ার এই তুলনাটি করেছেন, তার নাম জানতে ইচ্ছে করছে, তার রিভিউ কখনো পড়া যাবে না।
    ব্যাবেল ইন্টারকানেক্টেড স্টোরি, এটা তা নয়।
    ও হ্যাঁ, এইভাবে মিল খুঁজতে বসলে, বরং কালার ট্রিলজি-র সাথে বেশী মিল পাওয়া যাবে কিন্তু, হেব্বি চাপ!!
  • siki | 127.192.17.81 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৫:১৯77084
  • শেষটা শুধুই শেষ জানানো। জানানো যে, গল্প তিনটে ইন্টারকানেক্টেড। এর বেশি উত্তেজনার কিছু নেই শেষ সিনে।

    না থাকলেও ক্ষতিবৃদ্ধি হত না। উত্তেজিত হই নি। :)
  • কৃশানু | 213.147.88.10 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৫:২৯77085
  • তাইলে ঠিক আছে :-)
  • কল্লোল | 111.63.187.27 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৭:৪২77071
  • সম্ভবতঃ পঞ্চতন্ত্রে (বিষ্ণু শর্মার) এরকম একটা কাহিনী ছিলো। দুজন মানুষের মধ্যে লড়াইয়ে দুজনেই মারা যায়। তাদের মাথা দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায়। এবার এক ঋষি এদের বৌদের কান্না শুনে ওদের বাঁচিয়ে দেন। তাড়াহুড়োয় মাথা ও ধর অদল বদল হয়ে যায়। ক এর মাথা খ এর ধরে, খ এর মাথা ক এর ধরে। এবারে সমস্যা ক এর বৌ ও খ এর বৌ কাকে স্বামী বলে মানবে।
    সমাধান ছিলো - যেহেতু মাথাই প্রধান তাই ক এর মাথাওয়ালা দেহই ক ও খ এর মাথাওয়ালা দেহই খ।
    তর্ক হতেই পারে। এটার ঠিকত্ব নিয়ে। কিন্তু এটাও একটা কৌতুহলোদ্দীপক তর্ক।
    সিনেমাটা আমারও খুব ভালো লেগেছে।
  • byaang | 132.167.224.169 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৭:৫৩77072
  • সিনেমাটা দেখতে যাওয়ার আগে কোথায় যেন একটা রিভিউ পড়েছিলাম। পড়েছিলাম তিনটে আলাদা গল্পের কথা। ফটোগ্রাফার মেয়েটির কথা, সন্ন্যাসী মৈত্রেয়র কথা আর স্টকব্রোকার ছেলেটির কথা। শুধু চমকটা ধরে রাখার জন্য সেই রিভিউয়ের শেষে বলা ছিল না সিনেমাটার শেষটা। রিভিউটা পড়ে থেকেই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল Babelএর কথা। জানতাম কোনো না কোনো ভাবে তিনটে গল্পকে মিলিয়ে দেওয়া হবে কোনো একটা জিনিসকে যোগসূত্র রেখে।
    সিনেমাটা দেখতে বসে সত্যি বলতে কি একেবারেই আকর্ষণ করে নি ফটোগ্রাফার মেয়েটির গল্প। অথচ মুগ্ধ করে রেখেছিল সন্ন্যাসীর ভূমিকায় নীরজ কবি। শরীর এবং মন দুই দিয়েই একাত্ম হয়ে যাওয়া এরকম অভিনেতা এর আগে ভারতীয় সিনেমায় বিশেষ দেখি নি। দ্বিতীয় গল্পটি অব্দি শুধুমাত্রই গোয়েন্দার মন নিয়ে খুঁজে চলেছিলাম সেই কানেক্শনটাকে, যা সিনেমার শেষে মিলিয়ে দেবে সন্ন্যাসী মৈত্রেয়র সাথে ফটোগ্রাফার আলিয়াকে। হঠাৎ একটা নাম শুনে চমকে উঠলাম - চার্বাক। চার্বাক! চার্বাক! ঠিক শুনছি তো ? বম্বেতে বসে বানানো সিনেমার চরিত্রের নাম চার্বাক! এদিকে তখন চার্বাক নামধারী বলে চলেছে যে সে চোদ্দবছর বয়সে বাপমায়ের দেওয়া নাম পাল্টে নিয়ে, নিজে নিজের নাম রাখে চার্বাক। এবার নড়েচড়ে বসতেই হয়। কোন কোন জায়্গায় ব্যাবেল থেকে টুকলি করেছে সেইসব খোঁজার আর উৎসাহ থাকে না। আরো চমক, সন্ন্যাসী নিজের মুখে স্পষ্ট উচ্চারণে বলে সে নাস্তিক! নতুন আঙ্গিকে আরো একবার বুদ্ধের গল্প বলা হয়। নীরজ কবির অভিনয় দেখার জন্য, কিছু অনবদ্য ফ্রেম দেখার জন্য আরো অনেকবার এই সিনেমাটা দেখতে রাজি।
    তৃতীয় গল্পে স্টকব্রোকার ছেলেটি ভারি চেনা, ভারি সাধারণ। এতটাই সাধারণ যে সেই চরিত্রটার নাম জানারও আগ্রহ থাকে না। এরকম কত চেনা লোকই তো আছে। তার দিদিমাটির চরিত্রটিও বেশ যত্ন নিয়ে বানানো, সেই চরিত্রটিও চেনা, কিন্তু অন্যরকম চেনা। অথচ সেই অতি সাধারণ ছেলেটি কী সহজে, একটুও টের না পেতে দিয়ে কখন যে সব্বার থেকে আলাদা হয়ে যায়, খেই রাখতে পারা যায় না। অথচ তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তার ব্যর্থতার ধরণটিও বড় চেনা, সেখানেও কোনো নতুন চমক থাকে না। দেখতে দেখতে মনে হয়, এরকমই তো হয়, এরকমভাবেই তো যারা চেষ্টা করার চেষ্টা করে, তারা হেরে যায়। কিন্তু ঐ হেরে যাওয়াটুকুও দর্শকের সহমর্মিতা দাবী করে। অভিনেতাটিকে চিনি না, কিন্তু এক মুহুর্তের জন্যও মনে হয় না সে অভিনয় করছে বা অভিনয় করার চেষ্টা করেছে বলে।
    এই সিনেমার শেষটুকু যারা রিভিউ লেখার নামে বলে দেবে, তারা প্রত্যেকে অপরাধী। তাদের লেখা অন্য কোনো সিনেমার রিভিউ আর কক্ষনো পড়বেন না।
  • de | 69.185.236.51 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৮:৪৫77073
  • ভারী ভালো লাগলো টিমের লেখা -- দেখতে যাবার তাগিদ হলো!
  • siki | 131.243.33.212 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৮:৫৪77074
  • ইয়েস, সিনেমার সবচেয়ে বড় চমক এই সন্ন্যাসী। তিনি নাস্তিক।
  • সিনফট | 127.194.249.251 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৯:০৬77075
  • টমাস মান মস্তক বিনিময় নামে ঐ গল্প লিখেছিলেন।

    আর ব্যাবেল র সাথে এর কী সম্পক্কো?
  • শ্রাবণী | 127.239.15.117 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৯:১৬77076
  • টিম, ভালো লাগল। আমি দেখিনি, দের মত সিনেমাটা দেখার ইচ্ছে হচ্ছে ।
  • SOT fan | 188.91.253.11 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৯:১৮77077
  • তোমরা সব চমকগুলো আর গল্পটা এখানে লিখে দিলে সেটা খুবই অন্যায় হবে। এখনও অনেক লোকের দেখা বাকি।
  • সিনফট | 127.194.249.251 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ০৯:৪৪77078
  • "ইয়েস, সিনেমার সবচেয়ে বড় চমক এই সন্ন্যাসী। তিনি নাস্তিক। " -
    এইটা যে চমক, সেটা দেখে আমি আরও চমকিত।
  • সায়ন | 59.249.138.168 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৩ ১১:১৩77079
  • সিঁফোর প্রশ্ন আমারও। ব্যাবেলের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?
  • nina | 22.149.39.84 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৩ ০৫:৪৮77087
  • এই লেখাটার সবথেকে ভাল রিভিউঃ

    তিমি বড় হলে ইন্দো হবে ঃ-))))))
  • 0 | 123.21.75.76 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৩ ১২:২৩77086
  • তিমি বড় হ'লে ইন্দো হবে :-)
    ডিঃ- মঃ
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত