• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • আম আদমী কথা

    ফরিদা লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ | ৯০ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • 1
    সাফাইঃ
    প্রথমেই সাফাই গেয়ে রাখি রাজনীতি কখনোই আমার কাপের চা ছিল না। আজও নেই। আজ ১০ই ফেব্রুয়ারী ২০১৫ তে আম আদমী পার্টি ধরাশায়ী করেছে কাগজে কলমে তাদের প্রবলতর প্রতিপক্ষকে তখন কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করার তাড়না অনুভব করি, সেখান থেকেই এই প্রবন্ধ শুরু।
    রাজনীতি আমার কাপের চা নয় বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছি যে আমি রাজনৈতিক দলের মিছিলে হাঁটিনি, ভোট চাইতে আসা দলের সবাইকেই দেঁতো হাসি দিয়ে আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যারা রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ ভাবে আছেন বা থাকতে চাইছেন এই লেখার লক্ষ্য তাঁরাই। তাদের বলার চেষ্টা করছি রাজনীতি থেকে দূরত্ব রাখা মানুষ কীভাবে দেখলেন সাম্প্রতিক ঘটনাবলী আর তারা কী ভাবেন সেইসবের একটা সম্যক ধারণা দেওয়া। তাঁরা আমাদের কী ভাবেন আমরা জানি।
    এই লেখা আমরা কী ভাবি সেটা জানানো।
    আরো একটা বিষয় বলে দেওয়া ভালো, দিল্লির ১৪ মাসের ব্যবধানে দু দুটো বিধানসভা ভোট ও এর ঠিক মাঝবরাবর লোকসভা ভোটের স্মৃতি কিছুটা এখনো রয়ে গেছে। সেই সব কথাবার্তা বৈদ্যুতিন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রভাবরহিত কাজেই এইসব কথাবার্তা উদ্ভট লেগে থাকতে পারে কারুর কারুর। আমি অপারগ।

    2
    আম আদমী - গতকাল
    আন্না হাজারে তখন অনশন করছেন – লোকপাল বিলের জন্য। কাগজের হেডলাইনে থাকেন প্রায়শই। তাকে ঘিরে থাকা মানুষজনও ধীরে ধীরে পরিচিত হন। প্রশান্ত ভূষণ, অরবিন্দ কেজরীওয়াল কিরণ বেদী এরা সবাই। দ্বিতীয় ইঊপিএ সরকার এমনিতেই তখন তাদের ক্রমক্ষীয়মান শরিক সংখ্যা নিয়ে বিপর্যস্ত। তার মধ্যে গান্ধী অনুগত আন্না ঝড় তুলে দিলেন রাজনীতি থেকে “ভ্রষ্টাচার” তথা দুর্নীতি মুক্তির কথা তুলে। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল এর পিছনে নাকি বিজেপির হাত রয়েছে। প্রত্যেকদিন এদিকে বেড়ে যাচ্ছে অনশনরত আন্নার পাশে থাকা মানুষের ভিড়। সেই নিয়ে প্রশাসন বিহ্বল। অনশন থেকে আন্নাকে বিরত করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ক্যাবিনেটের বৈঠক বসে। এইসব কিছু মনে থাকে।
    তড়িঘড়ি জোড়াতাড়া দিয়ে বানানো জনলোকপাল বিল দিয়ে আন্নাকে ঠেকানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সম্পুর্ণ রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়া ব্যাতিরেকে মানুষের ভিড় অবাক করেছিল খানিক।
    সেখান থেকেই অরবিন্দ কেজরীওয়াল ঘোষণা করলেন একটি নতুন রাজনৈতিক দল খোলার কথা। আন্না তাতে যোগ দিলেন না। আই আই টির স্নাতক তথা আই আর এস অফিসার অরবিন্দ তার নতুন দল গঠন করে ডাক দিলেন রাজনীতির নর্দমা সাফ করার। বললেন দেশের রাজনীতির পাঁক সাফ করতে গেলে মাঠেই নামতে হবে। প্রতীক পছন্দ করলেন ঝাড়ু। জাতীয় রাজনীতি ততদিনে সবকটা মৌলিক রঙ (হলদে বাদে) নিয়ে বসে আছেন বাকিরা। অরবিন্দ রঙের দিকে গেলেন না। সাদা প্রেক্ষাপটে কালো রঙে আঁকা হল ঝাড়ু।
    আন্না গান্ধী টুপি পড়তেন – অরবিন্দ সেই টুপিতেই পাশে কালো রঙে লিখলেন “ম্যাঁয় হুঁ আম আদমী”।
    নভেম্বর ২০১২। ঘোষণা করলেন দিল্লির বিধানসভা ভোটে নামবে আম আদমী পার্টি। হাতে সময় এক বছর। তার প্রতিপক্ষ শীলা দিক্ষিত ১৫ বছর ধরে দিল্লিতে আসীন। ২০১২ নভেম্বরেই হল দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমস। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খুব ছিল। কিন্তু পুর্ব দিল্লির ভোল বদলে গেল। চওড়া চওড়া রাস্তা আর ফ্লাইওভারে দিল্লি ঝকঝক করছে। মেট্রো চালু হয়ে গেছে। হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে জ্যামে জেরবার দিল্লিবাসী। মেট্রোতে গান শুনতে শুনতে শহরের এপার ওপার যাওয়া হয়েছে জলভাত।
    এমত অবস্থায় এক বছরের মাথায় ভোট। প্রশ্ন একটাই কংগ্রেস কি পারবে ঝাঁ চকচকে দিল্লি বানিয়ে আরো একটা টার্ম নিশ্চিত করতে নাকি প্রতি-স্থিতাবস্তা ভোট নিয়ে আসবে বিজেপিকে?
    ২০১৩ র মার্চে মনে পড়ছে আম আদমী পার্টি খবরে এসেছিল যখন কেজরীওয়াল অনশনে করা শুরু করল বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুলের বিরুদ্ধে।

    3
    ২০১৩ র ভোট – আম আদমী পার্টির পরীক্ষা
    সেই একবছরে কি কি করেছিল নতুন আম আদমী পার্টি? না, আমার জানা নেই। তবে ভোটের ঘোষণা হতে শোনা গেল শীলা দিক্ষিতের ঘরের সীট নয়া দিল্লি থেকেই তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন অরবিন্দ কেজরীওয়াল স্বয়ং। কী স্পর্ধা রে বাবা! এছাড়া আর কোনো প্রতিক্রিয়া থাকার কথাও নয়। দিল্লি তো কেজরীওয়ালের জায়গাই নয়। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো দিল্লি সংলগ্ন স্যাটেলাইট শহরগুলো যেমন গুরগাঁও, নয়ডা, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ কে একত্রে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওন বলা হলেও খোদ দিল্লির লোক এইসব জায়গার মানুষকে অন্য শহর থেকে আসা মাআনুষ বলেই খাতির যত্ন করেন। দিল্লির লোক নিজেকে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনের মানুষ ভাবেন না। তারা দিল্লিবাসী।
    কাজেই গাজিয়াবাদের বাসিন্দা অরবিন্দকে বহিরাগত ট্যাগ দিতে খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
    ভোটের প্রচার শুরু হল। এখানে দেওয়াল লিখন দেখা যায় না। যত্র তত্র দেওয়ালই নেই। এফ এম চ্যানেলে শোনা যায় ভোটের প্রচার – কংগ্রেস দিল্লির উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিয়ে যেতে তাদের ভোট দিতে বলছে আর বিজেপি বলছে দুর্নীতিপরায়ণ কংগ্রেস থেকে দিল্লিকে মুক্ত করার ডাক।
    নাঃ এদের দুজনের কেউই তাদের মুল্যবান রেডিও প্রচারে আম আদমীর নাম নেওয়ার প্রয়োজন দেখান নি। আম আদমী পার্টির প্রচার দেখা গেল অটো রিক্সার পিছনে। তাদের রেডিও প্রচারে শোনা গেল অরবিন্দ কেজরীওয়ালের গলা। ফ্যাঁসফ্যাঁসে – কিন্তু বক্তব্য স্বচ্ছ – বলছে আমরা দিল্লিতে ৭০ টা সীটেই প্রার্থী দিচ্ছি। এরা প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে সৎ। আমি কথা দিচ্ছি আপনারা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন এদের মধ্যে কেউ অসৎ তাহলে তার নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। যদি প্রয়োজন পড়ে সেই সীটেই আম আদমী পার্টির কেউ দাঁড়াবে না। আরও জানা গেল আম আদমী পার্টি ক্ষমতায় এলে পনেরো দিনের মধ্যে জন লোকপাল বিল পাশ করে দেখাবে। বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল ও জলকর মুকুব হবে।
    এদিক ওদিক শোনা গেল পার্টি শুরু করার পর থেকেই নাকি আম আদমী পার্টির লোকজন পাড়ায় পাড়ায় ছোটো মিটিং করতে থাকত। তাদের কাছে শহরের অলিগলির সমস্যার খতিয়ান লিপিবদ্ধ ছিল। ছোটো গ্রুপে মিটিং করে তারা অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের অনেক বেশি কাছে পৌছে গিয়েছিল অল্প সময়েই।
    নির্বাচনী প্রচারের এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই রেডিও প্রচার বলছিল – এইসব জনসংযোগের কথা। বলেছিল তারা নাকি সেবারেই ক্ষমতায় আসছে, নিশ্চিত। ৭০ টার মধ্যে ৪৬ টা পাবেই। এইসব।
    আমরা যারা সরাসরি রাজনীতি করিনা তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম। বলছিলাম আআপ যদি ১৮-১৯ টা পেয়ে যায় তাহলে দিল্লিতে সরকার কে বানাবে? বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়ে ঘোড়া কেনাবেচা শুরু করবে? কিন্তু কেজরীওয়াল শীলার বিরুদ্ধে? বাড়াবাড়ি হল নাকি? এইসব।
    যাই হোক। শীলা দিক্ষিত হারলেন। সেবার তারা ২৮টা সীট পেল। মনে হল তারাও ভাবেনি এতটা হবে। কিন্তু এতে সমীকরণ গেল বিগড়িয়ে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিজেপি এবারে ঘোড়া কেনাবেচার রাস্তায় না গিয়ে সরকার গড়তে চাইল না। খেলা দেখতে উৎসাহী হল। কংগ্রেস সমর্থন দিল – কিন্তু ভাবটা এমন - গদীতে বসলে বুঝবে কত ধানে কত চাল।
    রামলীলা ময়দানে কেজরীওয়ালের শপথ হল ধুমধাম করে – তারপর ঘটনাবহুল ৪৯ দিন। এর মধ্যে দিল্লি দেখল মুখ্যমন্ত্রী ধর্ণায় বসেছেন নিজে। অরাজকতা শুরু হল নাকি? জনলোকপাল পাশ করাতে পারল না আআপ। পদত্যাগ। দিল্লি চলতে থাকল গভঃ জেনেরেলের হাতে।

    4
    উত্তরণের পথ

    ২০১৪। লোকসভা ভোট এল। মোদী ওয়েভ। “আব কি বার মোদী সরকার”। কেজরীওয়াল এবার গঙ্গাস্নান করে মোদীর মুখোমুখি বারানসীতে। জেতার কথা ছিল না। কিন্তু পচা শামুকে পা কাটার ভয় দেখাল তো – মোদী মনোনয়ন দিলেন বদোদরা থেকেও। সেটাই জিত।
    দিল্লির সাতটা লোকসভা সীটের সাতটাই বিজেপির – অ্যাসেম্বলি নির্বাচনের নিরিখে ৭০ টার মধ্যে ৬০ টা বিজেপি। এবার আর পায় কে? দিল্লিতে বিজেপি আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
    লোকসভা ভোটের পর যে কটা রাজ্যে ভোট এল সব জায়গায় রমরম করে ছুটেছে অশ্বমেধের ঘোড়া কাশ্মীর ছাড়া। ঘোড়া পাহাড়ে ঠিক সড়গড় নয়।
    এদিকে দিল্লিতে ভোটের ঘোষণা হল ২০১৫ র শুরুতেই। আমরা সত্যি সত্যি আশা করেছিলাম আগেরবারের বিধানসভা ভোট নিয়ে। কেজরীওয়াল শপথ নেওয়ার পরে মনে হয়েছিল এবার প্রমাণ করুক যোগ্যতা। ওই পদত্যাগ খারাপ লেগেছিল অনেকের, আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতাম। ভোটের ঘোষণা হতেই তাই অনায়াসে ভাবতে থাকলাম বিজেপি হেঁটে হেঁটে জিতে যাবে। হায় আম আদমী পার্টি – তুমি বাস মিস করেছ।
    কংগ্রেস শীলাকে দিল্লি থেকে নির্বাসন দিয়েছে। তারা নির্বাচনে নামল অজয় মাকেনকে সামনে রেখে। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবে তা নিয়ে আমরা কথাবার্তা বলছিলাম। সেই তো জিততে চলেছে। ডাক্তার হর্ষবর্ধন কি কেন্দ্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে আসবেন রাজ্য রাজনীতিতে? নাকি জগদীশ মুখী ? নাকি অন্য কেউ? ইতিমধ্যে কিরণ বেদী এলেন বিজেপিতে আর চারদিনের মাথায় বিজেপি তাকেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলে ঘোষণা করে দিল।
    এদিকে আমাদের এই ভোটে উৎসাহ কমছিল। কাঁহাতক সেই এক গল্প গিলব? এদিকে এফ এম এর প্রচার শুরু হয়েছে – বিজেপি শুরু করল তারা আসাতে নাকি পেট্রলের দাম কমেছে? ইল্লি আর কি! যারা গাড়িতে পেট্রল ভরে তাদের কত শতাংশ এই ঢপটা বিশ্বাস করবে? তাদের কত শতাংশ খবরের কাগজ পড়ে কিম্বা টিভির নিউজ চ্যানেল দেখে?
    যাই হোক, কংগ্রেসের প্রচার শুনলাম দিল্লিকে সেই উন্নয়নের রাস্তায় ফেরত নিয়ে আসার আহ্বান। খারাপ নয়। এছাড়া আর তো কিছু বলার নেই। আম আদমী পার্টির প্রথম দিকের প্রচারে বলছিল আগেরবার আমাদের কিছু সীট কম দিয়েছিলেন আপনারা – ৪৯ দিনের মধ্যে আমরা তো যা বলেছিলাম তার অনেকটাই তো করেছিলাম – না চিঁড়ে ভিজল না এতেও।
    এর মধ্যে কিরণ বেদী এলেন এফ এমের অ্যাডে। বললেন মাননীয় মোদীজি এসে আমাকে বলেছেন দিল্লিকে আপনি চল্লিশ বছর ধরে সেবা করছেন – আরো একটু সেবা চাই। তাই আমি ... এ কী? তার মানে কি ওরা এর মধ্যেই জিতে গিয়েছে নাকি? কিন্তু আর অন্যদিকেও তো কোনো আশার কিরণ নেই?
    এর ঠিক দিন দুয়েক পরেই চমক লাগল। রেডিওতে কেজরীওয়াল বলল – আমরা গতবার আপনাদের জিজ্ঞেস করে অনুমতি নিয়ে ঠিক করেছিলাম সংখ্যালঘু সরকার চালাব। আমরা আপনাদের নিয়ে শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু পদত্যাগ করার আগে আমরা আপনাদের কাছে আর জিজ্ঞেস করিনি। ভুল হয়ে গিয়েছিল।
    ভালো লাগল। সেটা যে ভুল ছিল সেটা আমরা তখন ভেবেছি। সেটা যে ভুল ছিল সেটা আম আদমী পার্টির সবকটা লোক জানত। কিন্তু এই বিবৃতি অনেক হিসেব বদলে দিল।
    এই দিল্লিতে আমি নিজে দেখেছি মানুষজন আয়নার মতো। চট করে আপনার চলন্ত গাড়ির সামনে রঙ সাইড দিয়ে চলে আসা বাইক আরোহীকে চোখ রাঙালে সেই গরম নেবে। তার হাজার দোষ থাকলেও সে মানবে না। আর অন্যদিকে খুব বাজে লম্বা ট্রাফিক জ্যামের মধ্যেও বাম্পার টু বাম্পার ট্রাফিকে আগের চকচকে গাড়ির বাম্পারে আপনার গাড়ি আপনারই দোষে যদি ছুঁয়ে দেয় - নিজের দোষ স্বীকার করে হাত তুলে দিলে সেও “কোই নেহি জী” বলে এগিয়ে যায়।
    সেই বদলে যেতে থাকা মানুষের পালস বুঝেছিল বিজেপি। এবারে মাঠে নামিয়ে দিল তাদের পরীক্ষিত বিশ্বস্ত জুটি মোদী-শাহ কে। তারা এসে গেছে – ব্যস এবারে আম আদমী দুরমুশ হয়ে যাবে – ভাবছি। তখন তাদের এফ এমের অ্যাডের ভাষা বদলে গেল। কিরণ বেদী নয় – মোদী নিজে বলছেন – এবার এমন সরকার দেব – এমন সরকার দেব যা আগে কেউ কখনো ভাবেনি – এমন ইমানদার সরকার আগে কেউ দিল্লিতে দেখেনি!
    তার মানেটা কি? এর আগে যখন বিজেপি এসেছিল দিল্লিতে তারাও চুরি জোচ্চুরি করেছিল? বোধ হয় তাই – কারণ এর পরেই বলতে শুনি (অন্য লোকের গলায়) “চলো চলে মোদী কে সাথ”।
    এবার স্পষ্ট হল। বিজেপি একটা চিহ্ন। পদ্মফুলের মতো – আর তার সব আগাপাশতলা, পুকুরপার থেকে শুরু করে নদীর ধার, স্কুলবাড়ি, বসতজমি, ফলের বাগান সবকিছু ওই একজন – মোদী।
    আর ক্রমশঃ তীব্র হতে থাকে তার ব্যক্তি আক্রমন।
    কংগ্রেস এর এফ এম বিজ্ঞাপন কমে এসেছে ততদিনে। আম আদমী পার্টি এবার আর বলছে না আমরা এবার জিতব – এতগুলো সীট পাব – তারা বলছে ওই ৪৯ দিনে মনে করে দেখুন লোকে ঘুষ চাইতে ভয় পেত, বিদ্যুতের দাম কমেছিল – আমরা চেষ্টা করেছিলাম। আর একটা সুযোগ দিন।
    আর একটা বিজ্ঞাপন ছিল যেখানে রেডিও জকি রাস্তায় সাধারণ লোককে জিজ্ঞেস করছে গাতবার কাকে ভোট দিয়েছিলেন? এবার কাকে? সেই লোকটা বলছে গতবার কংগ্রেস কে দিয়েছিলাম এবার আআপ কে দেবো। তখন প্রশ্ন – কেনো? তখন সে বলছে আআপ এইসব কাজ করবে তাই। গতবার কাকে ভোট দিয়েছিলেন এর উত্তর বদলে যাচ্ছে বদলে যাচ্ছে সেই লোকটা – কিন্তু এবারে আআপ কে ভোট দেব এই কাওরণে সেটা মোটামুটি এক। এটা এত স্বাভাবিক বিজ্ঞাপনের পরে বলা হচ্ছিল – ইহা আম আদমী পার্টির বিজ্ঞাপন।
    তা সেইসব বিজ্ঞাপন আল্প হলেও কম হচ্ছিল সংখ্যায় তার প্রবলতর প্রতিপক্ষের থেকে যদিও।
    ভোট এল। এক্সিট পোল তো বলে দিল আম আদমী পার্টি জিতবে। অল্প চিন্তামুক্ত হলাম।
    রেজাল্ট বের হল। এক্সিট পোল ভুল বলেছিল – বলা উচিত ছিল দিল্লিতে মানুষ জিতবে – গণতন্ত্র জিতবে। গণতন্ত্রের মুখোশ আঁটা একনায়ক নয়। অন্ততঃ এইবার নয়।
    আর আমরা অবাক হলাম আবার – যখন জেতার মার্জিন দেখে অরবিন্দ কেজরীওয়াল বলল – এই এতো মার্জিন বেশ ভয়ের ব্যাপার। ভরসা যোগাল। যখন আমরা এক্ষেত্রে এই জয় মানুষের জয়। মানুষ বিপক্ষকে ছুঁড়ে ফেলেছে টাইপের আস্ফালন নেই। পা এখনো মাটিতে।

    5
    প্রাসঙ্গিকতা – আমাদের রাজ্যের প্রেক্ষিতে

    পশ্চিমবঙ্গ নাকি এত বেশি রাজনৈতিক অচেতন নয়। দিল্লির ভোট প্রচার শেষ হওয়ার দিন তিনেক আগে বামপন্থী নেতা প্রকাশ কারাত ঘোষণা করলেন বাম দলগুলি ১৫ টি আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। বাকী আসনে তারা আম আদমী পার্টিকে সমর্থন করবেন। ভালো কথা। কিন্তু ততদিনে তো প্রত্যেক টিভি চ্যানেল তাদের ওপিনিয়ন পোলে বলতে শুরু করেছে আম আদমী পার্টি এগিয়ে থাকছে তখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী। পরের দিন তৃণমূল নেত্রীও বললেন আম আদমী পার্টির প্রতি তাদের সমর্থনের কথা।
    আমরা যারা রাজনীতির এ বি সি ডি জানিনা – তারা অবধি হাসছি – আর ভাবছি তথাকথিত পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সচেতন মানুষ তাদের নেতা নেত্রীদের এই নাটুকেপনা বরদাস্ত করছেন কি করে?
    সেই ভাবনা থেকেই যা বুঝলাম তা হল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা ব্যাপারটার অর্থ গিয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক দলানুগত্যের সংকীর্ণ গর্তে। সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলার জায়গায় দেখা হচ্ছে দলের রঙ।
    সেই মানুষেরা, (ধরুন আমিও তাই, একময়ে তো ওখাআনেই চিলাম। এখন আমার বন্ধুরা থাকে।) সেই প্রকৃত বর্ণান্ধ – তাদের দলের রংটাই তাদের সাদা বাকি সব কালো।
    আম আদমী পার্টির এই ডেভিড সুলভ গোলিয়থ বধ আমাদের নেতা নেত্রীরা কিভাবে দেখছেন দেখার জন্য গতকাল বাংলা খবরের চ্যানেল দেখছিলাম। সেটা অবশ্য মাঝে মাঝে দেখি – তাতে দেখা যায় রাজনৈতিক সচেতন পশ্চিমবঙ্গে এত বেশি স্থানীয় ইস্যু যে তারা জাতীয় রাজনীতির খবর দেখানর সময়ই পায় না। যেন সারা ভারতবর্ষে আর কোথাও রাজনীতি বলে কিছু হয় না।
    যাই হোক সেই আম আদমী পার্টির জয় কে কিভাবে দেখছে জানার চেষ্টা করে ওই অন্ধের হস্তী দর্শন গল্পটাই মনে হচ্ছিল। বামপন্থী একজন বলছিলেন – বিজেপির এই ঔদ্ধত্য, বিজেপির এই ভুল বিজেপির সেই প্রতারণা মানুষ রুখে দিয়েছে। বিজেপির ভণ্ডামির মুখোশ খুলে গেছে এইসব ব্লাহ ব্লাহ ব্লাহ...।
    তৃণমূলের একজন বলছিলেন – দেখেছ আমরা কবে থেকে বলে আসছি বিজেপিই হল আসল শত্রু। এবার ঠিক হয়েছে – বারবার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান – ভাগ মোদী ভাগ এইবার হবে... ঠিক এই কথাগুলো বোধ হয় নয়। কিন্তু এই ধরণেরই কিছু একটা।
    আর আমার মনে পড়ছিল আম আদমী পার্টির লোকের কথাগুলো – ওরা যখনই মুখ খুলেছে বলেছে আমরা এইসব কাজ করবো। এই কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছিলাম – পারিনি। আর একটা সুযোগ পেলে করে দেখাবো।
    এবারের ভোটের শুরুতে সেই পেট্রলের দাম বিজেপি কমিয়েছে ধরণের বিজ্ঞাপনের ঢপ আমরা বুঝতে পেরেছিলাম সবাই। ভাবছিলাম এই লোপ্পা বল – আম আদমী পার্টি কিছু বলবে – ভোটের আগে চাপানউতোর জমবে ভালো। কোথায় কী? তারা সে রাস্তায় গেলে তো। তাদের মুখে সেই এক কথা। আমরা এই করবো... আর একটা সুযোগ।
    ওবামাকে নিয়ে আদিখ্যেতা, মোদীর দশলাখি স্যুট কত লোপ্পা লোপ্পা বল – আম আদমী সেসব নিয়ে কিছুই বলে না দেখি। তার বদলে শুনি ওরা নাকি পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়িয়ে মোটামুটি সবকটা ভোটারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। ওরা নাকি পাড়াভিত্তিক অ্যাজেন্ডা তৈরি করেছে ।
    এটা কি ওদের রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা? নাকি একটা অন্য মাত্রা – যে মডেলটা পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত রাজনৈতিক সচেতন নেতা নেত্রী মানুষ বুঝতে পারছে না, নাকি বুঝতে চাইছে না।
    আমি শুধু জানি একজন সদ্যপরিচিত কারোর সঙ্গে কথাবার্তা চালানর সময়ে যদি তার মুখে শুধুই তার প্রতিপক্ষের নিন্দেমন্দ গালিগালাজ শুনতে থাকি পরের বার তার ফোন এলে কেটে দিই। সে পাড়াতে এলে রাস্তায় আসি না। সে বাড়ি অবধি এলে বলে পাঠিয়ে দিই আমি বাড়ি নেই।
    রাজনীতির মানুষদের কোন পদক্ষেপ ভালো, কোনটা খারাপ এটা আমরা যারা রাজনীতি জানিনা সেটা বুঝি। সেটা কেউ এসে বুঝিয়ে দিতে গেলে ভাবি – এ ব্যাটা নির্ঘাৎ আমাকে মুখ্যু ভাবে... তার কাছে ঘেঁষি না আর।
    কিন্তু যদি পাড়ায় এসে কেউ বলে এখানকার সুবিধা অসুবিধা কি? আমার পাড়ায় ঢোকার রাস্তার আলোটা বহুদিন খারাপ। সামনের মোড়ের লালবাতি ঘনঘন খারাপ থাকে বেজায় ট্রাফিক জ্যাম – কিছু করা যায়? সেইসব কথায় কেউ উৎসাহ দেখালে ভালো লাগে।
    এদিকে নিজে ক্রিকেট দেখতে বসে গালাগাল কম করি না – ঘরের মধ্যে। কিন্তু বাইরের কাউকে গালাগাল দিতে শুনলে – প্রথমেই মনে হয় লোকটা অশিক্ষিত নাকি?
    আমরা যারা রাজনীতির অ আ ক খ জানিনা তারা কাকে ভোট দিই সচরাচর বলি টলি না। ছা-পোষা মানুষ অফিস যাই আসি। ছেলেপিলে নিয়ে বেড়াতেও যাই। আইপিএল আইসিএল দোল দুর্গোৎসব ক্রিসমাস ঈদ সব পালন করি। ছুটির দিন দুপুরে ঘুমোই।
    ভোট আসে ভোট যায়। যে যার দলের সে তার দলেই তার ভোট দেয়। আমি নিজের ভোট ইচ্ছেমতো দিয়ে ঠিক করে দিই কে সরকার গড়বে, – কে পড়বে।
    আমিই ঠিক করি এক্সিট পোল আর রেজাল্ট এইবার মিলবে নাকি পার্থক্য থাকবে - মনে রাখুন।
  • বিভাগ : ব্লগ | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ | ৯০ বার পঠিত
আরও পড়ুন
বিভাব - Avi Samaddar
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dd | 132.167.137.171 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:৩২68694
  • অ্যাতো ভালো রাজনৈতিক প্রবন্ধো খুব কমই পরিছি বা য়াট অল পড়ি নি। ভাবুন, কোনো লিং নেই,সাহেবদের কোটেশন নেই, নানান জার্গন নেই,আর সব চে ভালো অন্যদের উপদেশ নেই,ঐ বুঝিনা বুঝিনা করেও।

    খুব ভাল্লাগ্লো। এক্ষসেলেন্টো।
  • নেতাই | 132.177.223.156 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:৩১68695
  • হেব্বি
  • | 24.96.167.78 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:২৪68696
  • বড্ড ভাল্লাগলো।
  • Abhyu | 138.192.7.51 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:৪৯68697
  • আমি সাধারণভাবে রাজনৈতিক লেখাপত্র এড়িয়েই যাই। এইটা পড়লাম। খুব ভালো লাগল।
  • ফরিদা | 192.68.51.33 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৫:০৭68698
  • অনেক অনেক থ্যাঙ্কু সব্বাইকে। কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিল কয়েকদিন ধরেই। একটা দুশ্চিন্তাও হচ্ছিল – এই যে ক্রমাগত বিরোধীতার রাজনীতির চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এরা খেলছে এর ফল কি হবে?

    শেষ অবধি সেই দুশ্চিন্তা অমূলক প্রমাণ হওয়াতে ভালো লাগছিল।

    সিকি – হ্যাঁ কমনওয়েলথ গেমস অক্টোবরে হয়েছিল – ছড়িয়েছি।

    দে – হ্যাঁ বুদ্ধবাবুর ক্ষমা চাওয়া নিয়ে মিডিয়াতে খিল্লি হয়েছিল – কিন্তু সেটার পিছনে সিপিএমের ক্যাডারবাহিনীর অবদানও কম নয়। আমি একজন এলসি মেম্বারকে বলতে শুনেছি – বুদ্ধর ভীমরতি হয়েছে !

    এক্ষেত্রে অরবিন্দ কেজরীওয়ালের ক্ষমা চাওয়াটায় তেমন কিছু হয় নি। বরং বিজেপি আর মিডিয়ার একাংশ সেটাকে নৌটঙ্কি বলে দেখানর চেষ্টা করায় খারাপ লেগেছিল আমার মতো রাজনীতি না জানা জনতার।

    এখনো সহজবোধ্যো নীতি, ইতিবাচক কথাবার্তায় কাজ হয় এটা প্রমাণিত হল এইবার। সেটাই দেখানর চেষ্টা করছিলাম।
  • v | 11.39.33.157 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৮:৪৩68680
  • :)
  • সিকি | 166.107.33.66 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৯:০১68681
  • এসো ফরিদা, বুকে এসো।
  • dc | 132.164.155.65 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৯:১৭68682
  • অসাধারন ভাল্লাগলো। অসাধারন। এও মনে হলো, এই লেখা বোধায় বাংলার বাইরে থাকেন এরকম একজনের পক্ষেই লেখা সম্ভব।
  • সিকি | 166.107.33.66 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৯:৪০68683
  • ফরিদা আমাদের গুরুর অতি পুরনো অ্যাসেট। ডিসি বোধ হয় ফরিদার আগের লেখাপত্তর পড়েন নি।

    ফরিদা, একটা ছোট মিসটেক, 2 নং অনুচ্ছেদে, কমনওয়েলথ গেমস ২০১২-র নভেম্বর নয়, ২০১২র অক্টোবরে হয়েছিল।
  • dc | 132.164.155.65 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৯:৪৫68684
  • না এই প্রথম পড়লাম। লেখাটা বহুত ভাল্লাগলো।
  • ঊমেশ | 118.171.128.168 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৯:৫০68685
  • গুরুতে অনেক দিন পরে একটা রাজনৈতিক লেখা, অথচ কোনো তত্ত্ব কচকচানি নেই
    দারুন ভালো লাগলো।

    dc কে, ফরিদা'র সেই IPL এ দাদা'র পুনে'র হয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে খেলার আঁখো দেখা হাল টা পড়ে দেখো।
  • কল্লোল | 125.242.172.117 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৯:৫৪68686
  • গুরু ফরিদাবাদী আমার সেলাম নেবেন।
  • dc | 132.164.155.65 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১০:১০68687
  • উমেশ সেই লেখাটার লিংক পাওয়া যাবে? "আরও পড়ুন"এ ক্লিক করে সেরকম কিছু পেলাম না।
  • de | 24.139.119.173 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১০:১১68688
  • খুব ভালো লিখেছে ফরিদা!

    এখানে না লিখলেও হোতো - তাও ভুল স্বীকার নিয়ে কেজরীর সংবাদমাধ্যম জুড়ে, বিশেষতঃ বাংলা সংবাদমাধ্যম জুড়ে প্রশংসার বন্যা শুনে কেমন একটা খচখচ করছে বলে লিখলাম -

    বাংলায় ভুল-স্বীকার করা তো দূর্বলতার লক্ষণ বলে ধরা হয় - বুদ্ধবাবুর ভুল স্বীকার নিয়ে কম ব্যঙ্গ তো শুনিনি কাগজে কাগজে! হঠাৎ করে সেই কাগজগুলো কেজরীর ভুল স্বীকার নিয়ে এমন ভোল পাল্টে ফেললো কি করে?
  • Tim | 188.91.253.22 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১০:২৬68689
  • ভালো লাগলো ফরিদার লেখা
  • সিকি | 166.107.33.66 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১০:৩৫68691
  • সিপিয়েমের ভুল স্বীকার করার একটা ঐতিহাসিক ইতিহাস আছে যে। শুধু বুদ্ধ ভটচায স্বীকার করলে সেটা চাপা পড়ে না।
  • dc | 132.164.155.65 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১০:৩৬68692
  • উমেশ ধন্যবাদ। ওই লেখাটাও পড়লাম। হঠাত মনে পড়ল, অনেক্দিন ক্রিকেট দেখিনা। আমাদের জেনারেশানের সবাই রিটায়ার করে গেছে, বুড়ো হয়ে গেছি।
  • kiki | 53.230.133.18 (*) | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১১:১৯68693
  • আহা!

    কবি, মন জুড়িয়ে গেল হে। ঃ)
  • . | 127.194.42.235 (*) | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০১:৩৭68700
  • খুব ভলো
  • b | 24.139.196.6 (*) | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:০০68702
  • দিল্লির মানুষ সম্পর্কে ঐ আয়নার উপমাটা এক্কেবারে খাপে খাপ পঞ্চুর বাপ।
  • ranjan roy | 113.242.197.192 (*) | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:৩০68703
  • "এখনো সহজবোধ্যো নীতি, ইতিবাচক কথাবার্তায় কাজ হয় এটা প্রমাণিত হল এইবার। সেটাই দেখানর চেষ্টা করছিলাম।"
    --- অনেক ধন্যবাদ! এই সহজ সত্যটি আকছার ভুলে যাই, হয়ত আত্মবিশ্বাসের অভাব।
  • শিবাংশু | 127.248.141.42 (*) | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৭:৪৮68701
  • কবির রাজনীতি না রাজনীতির কবি ? :-)

    খুব ভালো লাগলো লিংক-হীন রাজনীতির মৌল চর্চা...
  • Nina | 83.193.157.237 (*) | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১২:০৪68699
  • ফরিদা
    তোমাকে সেলাম! পোলিটিক্স টিক টিক এক দম ভাল্লাগেনা এই লেখাটা পড়ে মুগ্ধ
    আকাশ জোড়া লেখা তোমার দিকে তকিয়ে আছে
    সবাই কি লিখতে পারে---
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন