• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • তাজপুরের এলিয়েন

    Tathagata Dasmjumder লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৬ মার্চ ২০১৭ | ১৬২ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • এক ফেসবুক বন্ধু সদ্য তাজপুর গিয়ে এক অদ্ভুতদর্শন প্রাণী দেখেছিল, তারই কথায় এই লেখার অবতারনা।

    ছোটবেলায় ভ্যাকসিন নিয়েছেন তো? জানেন কি তার সাথে পঁয়তাল্লিশ কোটি বছরের ইতিহাস লুকিয়ে আছে। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবেন না। চলুন আগে একটু তাজপুর ঘুরে আসি।
    একটু এলিট বাঙালী আজকাল আর দীঘা যায়না, একটু ফাঁক পেলেই দীঘার বদলে মন্দারমণি চলে যায়। তারপর আর কি, ফাঁকা বিচ, অনেক মদ, গাড়ির তুমুল গতি সব মিলিয়ে সে এক বিভৎস মজা।
    মন্দারমণি বিচ ধরে দীঘার দিকে এগোতে থাকুন, যাঃ, একটা নদীর মোহনা যে। নদীর ঠিক অপর পারের দিকে ভাল করে তাকান, দেখবেন বিচটা পুরো লাল। না, বালির রঙ নয়, লাল কাঁকড়া, হাজারে হাজারে। নদীর অপর পারের ওই লাল কাঁকড়াওলা বিচটাই হল তাজপুর। ঘুরে আসতে পারেন, বিচে লাল কাঁকড়ার খেলাধূলা দেখতে দেখতে দিব্যি দুটো দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। তবে অসুবিধা একটাই তেমন ভাল হোটেল পাবেননা। মন্দারমণি যদি গোয়া হয়, তাজপুর তাহলে গোপালপুর।
    লাল কাঁকড়া দেখতে দেখতে বিচ ধরে হাঁটছেন, হঠাৎ সামনে একটা ডাবের খোলা দেখতে পেলেন মনে হল কি? কি ভাবছেন? যত্ত ট্যুরিস্ট আসে আর বিচটাকে নোংরা করে রেখে যায়? একবার খোলাটা উল্টে দেখবেন নাকি?
    একি, এতো এলিয়েন, প্রায় এলিয়েন সিনেমাটার মত দেখতে এলিয়েন। অত উত্তেজিত হবেন না, এলিয়েন ঠিকই তবে অন্য গ্রহের না, অন্য সময়ের। আর সেই সময়টা বড় কম না, প্রায় পঁয়তাল্লিশ কোটি বছর।প্রাণীটার নাম? হর্স শু ক্র্যাব।
    নামে যদিও ক্র্যাব, কিন্তু কাঁকড়াদের সাথে তাদের সম্পর্ক বড়ই কম, বরং এদেরকে মাকড়সার জ্ঞাতি গোষ্ঠী বলা যায়। কিন্তু নামটা হর্স শু ক্র্যাব কেন? আরে পিঠের শক্ত খোলাটার দিকে একবার তাকান। অনেকটা ঘোড়ার নালের মত দেখতে না? ওইজন্যই তো এরকম অদ্ভুত নাম।
    আবার পঁয়তাল্লিশ কোটি বছর আগে ফেরা যাক। মিডল প্যালিজোয়িক যুগ, ক্যাম্ব্রিয়ান বিস্ফোরণের পর প্রাণীজগতের মূল গোষ্ঠীগুলো তখন তৈরি হয়ে গেছে, সন্ধীপদ প্রাণীরাও তখন বিভিন্ন ভাগে ভাগ হতে শুরু করেছে। এসময়েই সমুদ্রতীরের কাছাকাছি অগভীর জলে মাকড়সাদের এক জ্ঞাতিগোষ্ঠী বিবর্তিত হয় যার পিঠটা শক্ত খোলায় ঢাকা। তাদের শরীর এতটাই এফিসিয়েন্ট যে পঁয়তাল্লিশ কোটি বছর ধরে খুব সামান্য বাহ্যিক পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রায় একই রূপে টিকে থাকতে সক্ষম হল এরা। তাই এদেরকে বলা হয় জীবন্ত জীবাশ্ম।
    এবারে আরেকটু কাছ থেকে দেখা যাক হাতের প্রাণীটিকে? ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে এদের শরীর মূলত তিনটে ভাগে বিভক্ত। মাথা, ধড় ও পেট। আছে দশটা পা। এদের নাক তথা ফুলকো আছে পায়ের পেছনে। আর সর্বশেষে আছে লেজ যা সম্ভবত উল্টে গেলে সোজা হবার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    এবারে একটা মজার জিনিস বলা যাক, এদের দৃষ্টিশক্তি খুব ক্ষীন, তা সত্ত্বেও এদের চোখগুলোতে রড় ও কোন সেলের আকার যেকোন প্রাণীর চেয়ে বড়, যা এদের অন্ধকারে দেখতে সাহায্য করে।
    এদের খাদ্য হল মূলত ছোট ঝিনুক, লার্ভা, মাছ ইত্যাদি। আর বসন্তকালে ডিম পাড়ার সময় হলে এরা উঠে আসে ডাঙায়। আরো আশ্চর্যজনক হল এরা সম্ভবত মনোগ্যামাস।
    ভাবছেন তো, ভ্যাকসিনের কি হল?
    এদের রক্তে তো হিমোগ্লোবিন থাকেনা, থাকে হিমোসায়ানিন, যেকারনে এরা সত্যিকারের নীলরক্তের প্রাণী (হয়ত অভিজাতও)। কিন্তু এ তো সব সন্ধিপদদেরই বৈশিষ্ট্য, এতে আশ্চর্যের কি আছে? মানুষের রক্তে শ্বেতকণিকা থাকে জানেন তো? যা ব্যাকটেরিয়াদের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। এদের শরীরে তেমনই থাকে অ্যামিবোসাইট। হর্স শু ক্র্যাবের রক্তের এই অ্যামিবোসাইটরা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দেখলেই তাদেরকে চটচটে একটা পদার্থ দিয়ে ঘিরে ফেলে। আর মানুষ অ্যামিবোসাইটকেই ব্যবহার করে ভ্যাকসিন তৈরির সময়। সদ্যপ্রস্তুত করা ভ্যাকসিন বা ওষুধকে এই অ্যামিবোসাইটদের মধ্যে যদি ফেলা হয়, তাহলে এরা সেই ভ্যাকসিন বা ওষুধকে চটচটে পদার্থ দিয়ে ঘিরে ফেলে যদি তা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকারক হয়। যদি না হয়, তাহলে তারা কিছুই করেনা। এই পরীক্ষা না করলে কোন ভ্যাকসিনকেই রাজারে আসতে দেওয়া হয়না। বলা বাহুল্য যে অ্যামিবোসাইট সরাসরি ব্যবহৃত হয়না। অ্যামিবোসাইট থেকে প্রস্তুত লিমুলাস অ্যামিবোসাইট লাইসেট ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে। এই হল গিয়ে ভ্যাকসিনের সাথে পঁয়তাল্লিশ কোটি বছরের সম্পর্ক।
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৬ মার্চ ২০১৭ | ১৬২ বার পঠিত
আরও পড়ুন
ভুল - Tathagata Dasmjumder
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • নির | 212.78.25.37 (*) | ১৭ মার্চ ২০১৭ ০৮:১৫60774
  • ভালো লেগেছে।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন