• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • বৃত্ত

    Tathagata Dasmjumder ফলো করুন
    ব্লগ | ০৫ অক্টোবর ২০১৬ | ৫৭ বার পঠিত

  • ১)
    এখন
    সকাল থেকেই বাড়িটায় হুলুস্থুলু, কি না কাজের লোক হার চুরি করে ধরা পড়েছে।
    "গত দুবছর ধরে তোকে খেতে পরতে দিচ্ছি, কাজ করতেও শিখিয়েছি, তার এই প্রতিদান?"
    ঘোষগিন্নীর গলাটা প্রায় পাড়ার মুখ থেকে শোনা যাচ্ছিল।
    "আসলে বৌদি, ছেলেটার অপারেশন করতে হবে, তোমাকে তো বলেছি, ডাক্তার বলেছে প্রায় একলাখ টাকা লাগবে, কিছুতেই জোগাড় করতে পারছিলামনা। আজ বাথরুমে বারটা পড়ে থাকতে দেখো ঈমান নড়ে গেছিল"
    "ঈমান? তুই কি মুসলমান নাকিরে? তোর নাম তো জয়া, ও, বুঝতে পেরেছি, সেজন্যই তো নেমকহারামী করলি"
    "আমি করতে চাইনি বৌদি, ছেলেটার কথা ভেবেই..."
    কথাটা শেষ হবার আগের ঠাঁই করে একটা থাপ্পড়,
    "ছেলে, আগে বল তুই মুসলমান কিনা"
    "হ্যাঁ বউদি, আমার আসল নাম আমিনা, কিন্তু এই নাম বললে তো কেউ কাজে রাখবেনা, তাই"
    ঘোষগিন্নী কপালে চোখ তুলে বললেন-
    "হে ভগবান, বাড়িতে গোপাল আছে, গোপালকে তোর রান্নার ভোগ দিতাম যে"
    বলে আরো দুঘা বসিয়ে দিলেন।
    এবারে ঘোষবাবু একটু নড়েচড়ে বসলেন, এবারে তাঁর হস্তক্ষেপ করার সময় এসেছে।
    "শোন, বেশি মারধর কোরনা, এদের আজকাল ইউনিয়ন টিউনিয়ন আছে, বাড়িতে এসে ঝামেলা করলে মুশকিলে পড়তে হবে, পুলিশে খবর দাও, দুঘা পড়লেই চুরি করার কথা জন্মের মত ভুলে যাবে"
    "না, দাদাবাবু, আমাকে মারুন কাটুন যাই করুন পুলিশে দেবেন না, বাড়িতে ছেলেকে দেখার কেউ নেই"
    "কেন, তোর স্বামী নেই?"
    "না, দুবছর আগে মারা গেছে, হিঁদু সাজার জন্য সিঁদুর পরি"
    ২)
    তিন বছর আগে
    অফিসে বড্ড চাপ, একে ক্লায়েন্টের তাড়া, তার ওপর আবার ডাউনসাইজিংএর ঠেলায় লোকজন কম, দুজনের কাজ একজনকে করতে হচ্ছে। এই রিয়্যাকটরটার ডিজাইন আজ শেষ করতেই হবে, নাহলে চাকরী নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে, শালা আজও বেরোতে বেরোতে আটটা বাজবে। এইজন্য শালা মারোয়াড়ি কোম্পানীতে কাজ করতে নেই, এত্ত চাপ, কিন্তু মাইনের সময় ফক্কা। কিন্তু চাকরীর বাজারের যা অবস্থা, তাতে এছাড়া কোন উপায়ও নেই। এইসব ভাবতে ভাবতে কাজ করছিলেন ঘোষবাবু, হঠাৎ আগরওয়ালের ফোন এল।
    "রিয়্যাকটর রেডি হে?"
    "হ্যাঁ স্যার, বস হো হি গয়া হে। সির্ফ এক নজল ফেল হো রাহা হে কম্প্রেসমে, দো ঘন্টা লাগেগা"
    "দো ঘন্টা নেহি মিলেগা, আপকা রিকুইজিশন রেডি হে না?"
    "সব রেডি হে, সিরফ ডেটাশিটমে উও নজলকা ফিল্ড ভরনা হে, ব্যস"
    "রিকুইজিশন ছোড় দিজিয়ে, নজলকো ক্যালকুলেট করনেকা জরুরত নেহি, আপলোড এক্সপেরিয়েন্স সে কর দিজিয়ে"
    " ইয়ে তো আনএথিকাল হোগা"
    "খাক আনএথিকাল, সব চলতা হে, নজল ফেল নেহি হোগা, আভি ছোড়িয়ে রিকুইজিশন"
    ঘোষবাবু আগরওয়ালের কথাটা মেনে নিতেও পারছেন না, আবার না করে উপায়ও নেই। আগরওয়াল জিএম হবার পর থেকে লোকজনকে এইসব আনএথিকাল কাজ করতে প্রায়ই বাধ্য করে, না মানলে চাকরী নট। এই বাজারে চাকরী গেলে পথে বসতে হবে, ছেলেটার পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বেসরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের যা খরচা।
    কাজটা করেই ফেললেন ঘোষবাবু। শুধু একটাই কথা খচখচ করতে থাকল মনের মধ্যে
    "ফেটে যাবেনা তো?"
    ৩)
    দুবছর আগে
    আজমল আজ খুব খুশি, ঠিকাদার পুজোয় বোনাস দিয়েছে। ছেলেটাকে ঈদে কিছু কিনে দিতে পারেনি। পুজোয় অন্তত নতুন জামা দিতে পারবে, যদিও মৌলভী সাহেব বলেন যে হিঁদুদের উৎসবে সামিল না হতে, কিন্তু ছোট ছেলে ওসব মানে না কি? পুজো মানে তার কাছেও নতুন জামা।
    বোনাসের টাকায় ছেলেটার জামা, বিবির জন্য শাড়ি সবই হয়ে যাবে। সাথে ঘরের চালটাও সারাবে, সারা বর্ষায় জল পড়েছে। শালা, কেন যে কারখানার জন্য জমি দিতে গেল, চাষটা থাকলে আজ পরব টরবে ঠিকাদারের মুখ চেয়ে থাকতে হতনা। বড্ড ভুল হয়েছিল সেদিন, টাকা যা পেয়েছিল তা তো আগের ধার শোধ করতেই চলে গেছিল, ফলে এই ঠিকাদারের হাত ধরে কারখানা তৈরির কাজে যোগদান।
    টাকাটা প্যান্টের পকেটে গুঁজে হাঁটা দিল আজমল, আজকে ওই বড় ট্যাঙ্কিটার হাইড্রো হবে, শেষ হলেই আজকের মত ছুটি।
    ভাল করে পরীক্ষা করার পর জল ভরা হল রিয়্যাকটরটায়, ক্রমে প্রেশার বাড়ছে, দুকেজি, তিনকেজি..............পনের কেজি......, প্রেশার গেজ যখন তিরিশের ঘরে পৌঁছবে পৌঁছবে করছে, ঠিক সেইসময় গুলি ফাটার মত আওয়াজ। আজমল শুধু আওয়াজটাই শুনেছিল, তারপর বুকে একটা প্রচন্ড ব্যথা, তারপর....অন্ধকার।
    হাইড্রো ফেল হয়েছে, হাইড্রো ফেল হয়েছে, এই চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যেই সবাই আজমলের রক্তেভেজা দেহটা দেখতে পেল।
    চার)
    এখন
    "তোর স্বামী কিকরে মারা গেছিল? চুরি করে মার খেয়ে নাকি?"
    "তওবা, তওবা, আল্লার নেক বান্দা ছিল, চুরি করার কথা ভাবতেও পারতনা। কারখানা তৈরির কাজ করতে গিয়ে ট্যাঙ্কি ফেটে মারা গেছিল"
    ট্যাঙ্কি ফাটার কথা শুনে ঘোষবাবু ভাবছিলেন যে নিশ্চয় হাইড্রো করতে গিয়ে হয়েছে।
    "কোথাকার কারখানা রে?"
    "আমাদের গেরামে, বড়জোরার কাছেই, ওই যে খাবার তেল কারখানাটা হয়েছে না, ওখানে"
    থমকে গেলেন ঘোষবাবু, ওই কারখানার কাজ তো তিনিই করেছিলেন, মনে পড়ে গেল দুবছর আগের সেই ঘটনাটার কথা, এখন তিনি এক মালটিন্যাশনালে কাজ করেন, কারখানাটা তৈরি হওয়ার আগেই এখানে জয়েন করেছিলেন।
    নজলটা কি সত্যিই ফেটে গেছিল নাকি?
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৫ অক্টোবর ২০১৬ | ৫৭ বার পঠিত
আরও পড়ুন
ভুল - Tathagata Dasmjumder
আরও পড়ুন
ক্ষমা - Rumela Saha
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • বিপ্লব রহমান | 129.30.38.199 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৬ ১১:১৭58859
  • লেখাটায় বেশ নাটকীয়তা আছে। চলুক
  • সোমেন বসু | 113.44.157.81 (*) | ১১ অক্টোবর ২০১৬ ০১:০৮58860
  • চলবে তো? চালাতে হবে কিন্তু...
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত