• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • অনিশ্চিত

    Tathagata Dasmjumder লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২১ জুন ২০১৬ | ১৫৩ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • কার্যকারণ সম্পর্ক জিনিসটা বেশ মজার। ধোঁয়া দেখলেই আমরা আগুনের অস্তিত্ব বুঝি, ভোরে উঠে রাস্তাঘাট ভিজে দেখলে আমরা আগের রাতের বৃষ্টি হয়েছিল কিনা মনে করার চেষ্টা করি, এ সবই কার্যকারণ সম্পর্কেরই খেলা। এবারে হয়েছে কি যে এই কার্যকারণ সম্পর্কের আইডিয়াটাকে আরেকটু বিস্তৃত করে যদি পদার্থবিদ্যার আঙ্গিনায় নিয়ে আসা যায়, তাহলে কি হবে? লাপ্লাস (যাঁর আবিষ্কৃত নানান সুত্র ও আঙ্কিক পদ্ধতি ছাত্রজীবনে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি করেছে) ঠিক এই কাজটাই করলেন, মোদ্যা কথায় তিনি যা বললেন, তা হল এই, সকল বস্তু ও জীব আদতে পরমাণু (তখনও ধারণা ছিল যে পরমাণু অবিভাজ্য) দিয়ে তৈরী, এবারে যদি কোন দৈত্যের পক্ষে প্রতিটি পরমাণুর অবস্থান, গতি, ভরবেগ জানা থাকে তাহলে দৈত্যটি তার কম্পিউটারসম মস্তিষ্কে নিউটনের বলবিদ্যার সূত্র, মহাকর্ষ আর তড়িথচুম্বকীয় বলের প্রভাবকে গণনা করে যেকোন সময় পরে বিশ্বব্রহ্মান্ডের সকল পরমাণুর অবস্থান জানা যাবে। মানে আপনার আঙুলের নখের আগায় কেরাটিনের অণুর কার্বন পরমাণুটা আজ থেকে কুড়ি কোটি বছর পরে কোথায় থাকবে সেটা ঠিকঠাক করে প্রচুর অঙ্ক কষলে (যেটা কোন দৈত্যই পারবে) বের করে ফেলা যাবে। প্রারম্ভিক অবস্থা জানা থাকলে পরবর্তীকালের সকল ঘটনাবলীর ভবিষ্যতবাণী (অবশ্যই যুক্তির সাহায্যে) করতে পারাকেই গোদাভাবে বলা হয় ডিটারমিনিজম। এবারে পশ্চিমী দর্শনে ফ্রি উইলের ধারণাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ (বাইবেল থেকে এসেছে) এখন যদি সব পরমাণুর গতিপথ আগে থেকেই বলে দেওয়া যায়, সমস্ত মানুষের পরবর্তী পদক্ষেপও আগে থেকেই বলে দেওয়া যাবে তাহলে, ফ্রি উইলের কোন যায়গাই থাকলনা।
    ব্যাপারটা আরেকটু সহজে ব্যাখ্যা করা যাক ধরা যাক, দুটো কাদার তাল পরস্পরের দিকে ছোঁড়া হল, তাহলে কি হবে? মূলত তিনটি ঘটনা ঘটতে পারে,
    এক:-পাথরদুটো ধাক্কা লেগে হয় অনেকগুলো টুকরো হযে যাবে,
    দুই:- চটচটে হলে দুটো একসাথে জুড়ে
    গিয়ে নতুন গতিপথে যাবে
    তিন:- তারা পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেয়ে দুদিকে ছিটকে যাবে।
    এবারে কাদার তালদুটোর চরিত্রট আগে থেকে জানা থাকলে কোন সম্ভাবনাটা বাস্তবায়িত হবে বোঝা যাবে আগে থেকেই। বিশ্বব্রহ্মান্ডের সকল অণু-পরমানুর বিক্রিয়া মাত্রেই যেহেতু এই, তাহলে আপনি কাল কি করবেন, কি খাবেন, দশবছর বাদে আপনি সিইও হবেন কিনা সব অঙ্ক কষে বের করে দেওয়া যাবে যদি যথেষ্ট শক্তিশালী একটি গণকের সন্ধান পাওয়া যায় (দৈত্য)। অর্থাৎ সৃষ্টির আদিকাল থেকেই সবকিছুই আসলে নির্দিষ্ট হয়ে আছে, আপনি আজ দুপুরে লোভে পড়ে দুটো সিঙাড়া খাবেন থেকে পাঁচবছর বাদে স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্প হবে, সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত।

    উনবিংশ শতাব্দী ও বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে এই ডিটারমিনিজম পদার্থবিদ্যার জগতে বেশ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু, বিংশ শতাব্দী সেই ধারণা বিরাট আঘাত হানল। বিজ্ঞানজগতে সেই সময়টাই ওলটপালটের, তার কিছু বছর আগেই বিশেষ ও সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব এনেছেন আইনস্টাইন, তাতে দেখা যাচ্ছে যে স্হান ও সময় এদিটো জিনিস মোটেই স্থির নয়, তাদের সংকোচন প্রসারণ আছে, বক্রতা আছে, ভর এবং গতিবেগ স্থান ও কালকে প্রভাবিত করে। সেই সাথে এল কোয়ান্টাম মেকানিক্স, ক্ষুদ্রতম পদার্থ এবং শক্তিকণাদের ধর্ম নিয়ে যা চর্চা করে, এই দুই ধারাই পরবর্তী একশো বছরের পদার্থবিদ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।
    কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণের বর্ণালীর ব্যাখ্যার জন্য ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টা বা প্যাকেটের ধারণা নিয়ে এসেছিলেন। কিসের প্যাকেট? প্লাস্টিকের না, শক্তির। যেকোন সোর্স থেকে যখন আলো বেরোয়, সেটা আমাদের চোখে কন্টিনিউয়াস হলেও আসলে তা বেরোয় বিচ্ছিন্নভাবে, একটা কণা বেরোল, চারপরে আরেকটা কণা বেরোল, এভাবেই চলতে থাকে। প্রতিটি কণা একটি নির্দিস্ট পরিমাণ শক্তি নিয়ে বেরোয় যা তার কম্পাঙ্কের সাথে সমানুপাতিক। এই কণাই হল শক্তির প্যাকেট বা কোয়ান্টা। পরবর্তিকালে আইনস্টাইন এই কোয়ান্টার ধারণা নিয়েই আবিস্কার করেন ফোটো ইলেকট্রিক এফেক্ট যার জন্য পরবর্তিকালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান (আশ্চর্যজনক হলেও আইনস্টাইন আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জন্য নোবেল পাননি কিন্তু)। তারপর নীলস বোর কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে আরো কয়েকধাপ এগিয়ে দিলেন পরমাণুর গঠন বর্ননা করে (এব্যাপারে অন্য লেখায় বলব কোনদিন)। তারপর নামল ঢল, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ভুতুড়ে ব্যাপারস্যাপার বাস্তবতা সম্পর্কে মানুষের ধারণাটাই পালটে দিল চিরকালের মত।
    ১৯২৩ সালে ল্যুই ডি ব্রগলী বললেন যে আলোর মত যেকোন পদার্থকণাই একাধারে কণা ও তরঙ্গ। এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া ভাল, আমরা তরঙ্গ বলতে যেরকম বুঝি, যেমন ধরা যাক জলে ঢিল ফেললে ঢেউ ওঠে, এটা ঠিক সেরকম তরঙ্গ নয় কিন্তু। এখানে কি হচ্ছে, ত্রিমাত্রিক জগতে জলের অণুগুলোর গতিবেগ ও দিক একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবর্তিত হচ্ছে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের তরঙ্গ কিন্তু সেরকম নয়, কিছু ডাইমেনশনবিহীন জটিল সংখ্যার মান একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর তিনের বেশি মাত্রার জগতে ( যেটি একটি আঙ্কিক প্রকল্প ) পরিবর্তিত হচ্ছে। বলা যেতে পারে এটি একটি সম্ভাব্যতার বা প্রোবাবিলিটির তরঙ্গ। তার মানে কি এই তরঙ্গের আসলে অস্তিত্ত্ব নেই? আছে, পরীক্ষার মাধ্যমে সেটা প্রমাণও করা যায়। আলোকে তরঙ্গ হিসেবে প্রমাণ করার জন্য ডাবল স্লিট এক্সপেরিমেন্টের কথা আমরা স্কুলেই পড়েছি। বিরাট কিছুনা, একটা কার্ডবোর্ডের গায়ে কিছু দূরত্বে যদি দুটো লম্বা ফুটো বা স্লিট বানানো যায়, তাহলে কার্ডবোর্ডের উল্টোদিকের দেওয়ালে আলো অন্ধকারের একটা নকশা তৈরি হয় যেখানে আলো আর অন্ধকারের ব্যান্ড পরপর দেখা যায়। এখানে যেটা হচ্ছে আলো দুটো স্লিটের মধ্যে দিয়ে যাবার পরে দুটো ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, সেই দুটো ভাগ যখন পরস্পর মিলিত হচ্ছে তখন তরঙ্গের শিখরগুলো যেখানে যেখানে সমাপতিত হচ্ছে সেৃানে সেখানে আলোর ব্যান্ড আর যেখানে যেখানে আলোকতরঙ্গের শিখর আর উপত্যাকা সমাপতিত হচ্ছে, সেখানে হচ্ছে অন্ধকারের ব্যান্ড (সাথের ছবিগুলো দেখলে আরেকটু বোঝা যাবে। ১৯২৭ সালে বেল ল্যাবসে ইলেকট্রন কণাদেরকে দিয়ে একই পরীক্ষা করতেও এরকম ব্যান্ডই পাওয়া গেল ( কার্ডবোর্ডের বদলে অবশ্য নিকেলের কেলাস ব্যবহৃত হয়েছিল), অর্থাৎ পদার্থকণারও তরঙ্গধর্ম আছে। সেই তরঙ্গধর্মের আঙ্কিক ব্যাখ্যা যতই অ্যাবস্ট্রাক্ট হোকনা কেন, রিয়েল ওয়ার্ল্ডে সেটা প্রমাণ করা সম্ভব, আর পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণ না হলে কিন্তু বিজ্ঞানের কোন তত্ত্বই দাঁড়ায় না। যাই হোক ফিরে এবারে ফিরে আসা যাক ডিটারমিনিজমে।
    ১৯২৫ সালে এক অর্বাচীন স্বর্ণকেশী জার্মান যুবক পুরোন কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে সরিয়ে নিয়ে আসেন ম্যাট্রিক্স মেকানিক্সের ধারণা। এর আগে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ধারণাটা চলত মূলত দুটি জিনিসের ওপর ভিত্তি করে,
    এক) সমস্ত গতি আসলে কোয়ান্টাইজড
    দুই) ক্লাসিকাল মেকানিক্সের সকল সূত্র মেনে চলে কোয়ান্টারা, কিন্তু কিছু কিছু পথে কোয়ান্টারা যেতে পারেনা।
    নীলস বোর ও আর্নল্ড সমারফিল্ড এই ওল্ড কোয়ান্টাম থিওরীর প্রবর্তক বলা যায়। কিন্তু কাঁরাও জানতেন যে এই ধারণাটি অসম্পূর্ণ, কিন্তু তখন এর চেয়ে ভাল উপায় আর ছিলনা।
    অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করল ১৯২৫ সাল থেকে। সেই জার্মান স্বর্ণকেশী যুবক ক্লাসিকাল মেকানিক্সের গতির ধারণাটাকেই বাতিল করলেন। পরমাণু , ইলেকট্রন এগুলোর গতিপথ ক্লাসিকাল মেকানিক্সের কথামত নির্দিষ্ট গতিপথ মেনে চলেনা, বরং তাদের গতিপথ যেন অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে থাকে, যেন সেই জায়গাটার পুরোটা জুড়েই সেই কণাটি চলছে। ব্যাপারটা এরকম, ধরা যাক একটি ইলেকট্রন একটি ক্রিকেট বল, একটি ঘরের একদিক থেকে আপনি সেটা ছুঁড়লেন, এবারে আমাদের সাধারণ বুদ্ধি কি বলে? আপনি বলটার গতিপথ বরাবর একটা লাইন টানতে পারবেন, তাইতো? কিন্তু ক্রিকেট বলটা যেহেতু ইলেকট্রন, তাই বলটা যেন একটা বড়সড় যায়গার পুরোটা দিয়ে যাবে, আপনি একটা লাইন টেনে বলতেই পারবেননা, যে এই দেখ, এটা ইলেকট্রনের গতিপথ। যেন একটা মেঘ, সেই মেঘটা পুরোটাই ইলেক্ট্রনের সম্ভাব্য গতিপথ। বলটা / ইলেকট্রনটা ছোঁড়া এবং তার শেষ অবস্থানের মধ্যে সেটা কোন সময়ে ঠিক কোন জায়গায় ছিল এবং সেসময়ে তার গতিবেগ কত ছিল এদুটোর একটাও নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। স্বর্ণকেশী জার্মান যুবক এর থেকে আরো একটি সিদ্ধান্তে আসেন, এই যে অনিশ্চয়তা, এটা যেকোন মৌলিক কণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, পদার্থকণার তরঙ্গরূপই এই অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। কোণ পদার্থকণারই বা আলোকের কণারই ভরবেগ ও অবস্থান একসাথে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
    ব্যাপারটা একটু সহজভাবে বোঝানো যাক। সেই স্বর্ণকেশী যুবকই এই এক্সপেরিমেন্টটার কথা বলে গেছেন। ধরা যাক একটি ইলেকট্রনের অবস্থান ও ভরবেগ জানার জন্য একটি ফোটন কণা ছোঁড়া হল, এবারে ফোটনটি যদি উচ্চশক্তিযুক্ত (উচ্চ কমেপাঙ্কের) হয়, তাহলে ফোটনটি ইলেকট্রনে ধাক্কা দিয়ে ফেরত আসার পর সেটির অবস্থান বিচার করে ইলেকট্রনের অবস্থান নির্দিষ্টভাবে জানা সম্ৰব, কিন্তু মুশকিল হল, উচ্চশক্তির ফোটন ইলেক্ট্রনে ধাক্কা খেয়ে ফেরত আসার সময় তার ভরবেগের কিছুটা অংশ তো ইলেকট্রনকে দিয়ে আসবে, তাহলে ভরবেগ তো একেবারেই মাপা যাবেনা, কারণ তা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আবার ফোটনটি যদি কম শক্তিসম্পন্ন হয় তাহলে সেটা ইল্ক্ট্রনের ভরবেগকে পরিবর্তিত করবেনা সেরকমভাবে, তাই ভরবেগ মাপা গেলেও ফোটনটি এমনভাবে স্ক্যাটারড হবে যে অবস্থান জানা সম্ভব হবেনা। অর্থাৎ মৌলিককণাগুলির অবস্থান ও গতিবেগ দুটোর একসাথে জানা সম্ভবই নয়। অনেকেই এখন বলবেন যে এটা তো আমরা ফোটন বা আলো দিয়ে ইলেকট্রনটাকে দেখছি বলেই এই অনিশ্চয়তার জন্ম। তা আসলে নয়, আমরা না দেখলেও ইলেক্ট্রনটির ভরবেগ ও অবস্থান একসাথে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়, কোনরকম মৌলিক কণার ক্ষেত্রেই তা সম্ভব নয়। কোয়ান্টাম বিশ্বের মৌলিক ধর্মই হল এই অনিশ্চয়তা। এর থেকে যেটা বেরিয়ে আসছে যে ল্যাপ্লাসের সেই দৈত্যর পক্ষে কোনভাবেই মহাবিশ্বের সব কণার অবস্থান ও গতিবেগ নির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব নয়, তাই তার পক্ষে কিছু সময় পরে মহাবিশ্বের অবস্থা কি হবে সেটাও বলা সম্ভব নয়। কোন গণকই বলতে পারবেনা যে আপনি আজ ফুটপাথের সিঙ্গারা খাচ্ছেন, কিন্তু পাঁচবছর পরে আপনি অ্যাপেলের সিইও হবেন কিনা কেউ বলতে পারবেনা, বিশ্বব্রহ্মান্ডের মৌলিক অনিশ্চয়তা সেরকম কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতেই দেবেনা। ল্যাপ্লাসকৃত ডিটারমিনিজমের মৃত্যু ঘটল সেই স্বর্ণকেশী জার্মান যুবক হাইজেনবার্গের হাতে।
  • বিভাগ : ব্লগ | ২১ জুন ২০১৬ | ১৫৩ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আরও পড়ুন
ভুল - Tathagata Dasmjumder
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • দ্রি | 11.39.86.48 (*) | ২৫ জুন ২০১৬ ০৬:৫৮55155
  • "একটা অ্যাকসিলারেটিং চার্জড পার্টিক্‌ল একটা পরিবর্তনশীল ম্যাগনেটিক ফিল্ডের জন্ম দেয়"

    এটা জানি। বিও-সাভার ল। ইলেভেন টুয়েলভে ছিল।

    "আর পরিবর্তনশীল ম্যাগনেটিক আর ইলেকট্রিকাল ফিল্ড দুয়ে মিলে তৈরি করে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশান"

    এটা কি ম্যাক্সওয়েলস ইকুয়েশান থেকে ফলো করে? এটা ইলেভেন টুয়েলভে ছিল না। এটা ভালো করে বুঝিনা।

    টানেলিংটা নিয়ে বসব।
  • abcd | 233.223.144.136 (*) | ২৫ জুন ২০১৬ ০৭:০০55158
  • @দ্রি, আপনি ঠিকই ধরেছেন। তবে টানেলিং ব্যাপারটাকে আর একটু সহজে হয়তো বোঝানো যায়। চেষ্টা করে দেখি। ধরুন একটা ১০ ফুট উঁচু দেওয়াল আছে। আপনি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন হাতে একটা বল নিয়ে। বলটাকে ছুঁড়ে ওপারে পাঠাতে হলে তাতে এমন পরিমাণ গতিশক্তি দিতে হবে যাতে সেটা দেওয়ালটা টপকে যেতে পারে। তার চেয়ে কম গতিশক্তি দিলে বলটা দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে আবার আপনার দিকেই ফিরে আসবে, অতটা উঁচুতে উঠবেই না, এবং ওপারে যাবেনা। কিন্তু কোনও ভাবে কি এমনটা করা সম্ভব যাতে আপনি প্রয়োজনীয় গতিশক্তির চেয়ে কমই দিলেন কিন্তু বলটা দেওয়াল ক্রস করে ওপারে চলে গেল? হ্যাঁ, কোয়ান্টাম লেভেলে, মানে মাইক্রো ওয়ার্ল্ডে এটা সম্ভব, যেখানে কোয়ান্টামের সূত্রগুলো খাটে। সেখানে প্রশ্নটা হবে এরকম, একটা ইলেক্ট্রন-কে কি একটা পোটেনশিয়ালের (ইলেক্ট্রিক পোটেনশিয়াল ধরা যেতে পারে) দেওয়াল টপকে ওধারে পাঠানো যাবে, যদি ইলেক্ট্রনটার গতিশক্তি ইলেক্ট্রিক পোটেনশিয়াল-এর চেয়ে কম থাকে? উত্তর হল, হ্যাঁ। এটাই টানেলিং। মানে খানিকটা যেন 'দেওয়াল ভেদ করে' ওপারে চলে গেল টাইপের ব্যাপার।
    এরই একটা উদাহরণ আপনি যা বললেন, ডিকে।
    এবং ওই পশচুলেটগুলোর মধ্যেই আসলে শ্রয়ডিঞ্জারের ডিনামিকাল ইকোয়েশন-এর কথা বলা আছে, তা দিয়ে এর অ্যানালিসিস সম্ভব।
  • dc | 120.227.234.86 (*) | ২৫ জুন ২০১৬ ০৭:০৫55156
  • ওটা তো একটা প্রপার্টি, মানে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভের ডেফিনিশান হলো চেঞ্জিং ইলেকট্রিক ফিল্ড আর চেঞ্জিং ম্যাগনেটিক ফিল্ড যেদুটো পরষ্পরের প্রতি পার্পেন্ডিকুলার। বলা যায় যে ম্যাক্সওয়েলের ওয়েভ ইকুয়েশান এই প্রপার্টিটার একটা ম্যাথামেটিকাল লডেল।
  • দ্রি | 203.171.202.150 (*) | ২৫ জুন ২০১৬ ০৭:০৮55159
  • ইন্টারেস্টিং। কিন্তু কম এনার্জির ইলেকট্রন পোটেনশিয়ালের দেওয়াল টপকে গেল, এটা নিশ্চয়ই খুব কমন নয়। এটার একটা প্রোব্যাবিলিটি থাকবে? হয়ত ১০০ টাতে ১টা? বা তারও কম?
  • abcd | 233.223.151.253 (*) | ২৬ জুন ২০১৬ ০২:২২55160
  • ওই প্রোবাবিলিটি অনেক প্যারামিটারের উপর ডিপেন্ড করে।
    তবে কোয়ান্টামে এরকম অনেক কাউন্টার-ইন্টুইটিভ ফিচার আছে। যেগুলো ক্লাসিকাল জগতে দেখা যায় না। যেকোনো অজানা কোয়ান্টাম স্টেট পারফেক্ট কপি করার মেশিন তৈরী করা অসম্ভব, কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট ইউজ করে অজানা কোয়ান্টাম স্টেট টেলিপোর্টেশন, এমনভাবে দুটো স্পেশিয়ালি সেপারেটেড পজিশনে ক্রিপ্টোগ্রাফিক key তৈরী করা যাতে কেউ ইভসড্রপিং করছে কিনা ধরা পড়ে যায় নিশ্চিতভাবে, র‍্যান্ডাম নাম্বার জেনারেশন (সিউডো র‍্যান্ডাম নয় কিন্তু, একেবারে র‍্যান্ডাম) ইত্যাদি অনেক ঘটনা ঘটানো যাচ্ছে আজকাল কোয়ান্টাম মেকানিক্স ইউজ করে যা ক্লাসিকাল মেকানিক্সের আওতার বাইরেই ছিল বলা যায়।
    কিছু পপুলার লেভেলে লেখা বইও আছে। Nicolas Gisin-এর কোয়ান্টাম চান্স: ননলোকালিটি, টেলিপোর্টেশন অ্যান্ড আদার কোয়ান্টাম মার্ভেলস। এই Gisin সাহেব কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্স/ ইনফরমেশনের একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী।
  • abcd | 233.223.151.253 (*) | ২৬ জুন ২০১৬ ০২:২৪55161
  • বইটা লিব-জেন-এ পাওয়া যাবে।
  • Tathagata Dasmjumder | 37.63.186.163 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৫:১৮55162
  • একটা তুচ্ছ লেখার জন্য এত স্বাদু আলোচনা হল দেখে খুব ভাল লাগল।

    প্রসঙ্গত বলি আপেল ও সিঙ্গারার উদাহরণটা হাল্কাচালে অঙ্ক না জানা পাঠককে বোঝানোর জন্য ব্যবহার করেছি।
  • Tathagata Dasmjumder | 37.63.186.163 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৫:২০55163
  • অনলাইন লেখালিখির একটা বড় সুবিধা এটাই, লেখকের তরফ থেকে ফাঁকি থাকলে পাঠকরা পূরণ করে দেন
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৯:০৪55164
  • এরপর হিমসাগর আম আর মোচার্চপ দেবেন প্লীজ। ঃ-)
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত